বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

গল্পপাঠ ǁ ভাদ্র ১৪২৩ সংখ্যা। আগস্ট। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ।। সংখ্যা ৪৫

বাংলাদেশে এ সময়ে পুরুষ লেখকদের চেয়ে নারী লেখকরা ভালো লিখছেন। তাদের লেখা অপেক্ষাকৃত পরিণত। আখ্যান ও শৈলী নির্বাচনে তাদের অস্বাভাবিকতা কম। যথেষ্ট সময় নিয়ে যত্ন দিয়ে মমতা করে লিখছেন। এটা একটা ইতিবাচক ঘটনা। সে তুলনায় অধিকাংশ পুরুষ লেখকদের লেখায় অযত্ন-অবহেলার চিহ্ন বর্তমান। আর লেখার উদ্দেশ্য অসৎ।

গল্পপাঠের এ সংখ্যায় বেশ কয়েকজন নারী গল্পকারের গল্প প্রকাশিত হল। তাদের এই লেখা শুধু মাত্র নারীর জগত, দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্লেষণ থেকে উঠে আসা লেখা বলা ঠিক হবে না। সেগুলি, লিঙ্গ-ভেদে, সার্বিক লেখক সত্তা ও বিশ্ব-বোধের থেকে উৎসারিত এই বাংলার লেখালেখি- গদ্য ও গল্প।

এ সংখ্যায় আরো কয়েকটি লেখা সম্পাদনা চলছে। আশা করা যায় ভাদ্র সংখ্যার সম্পূর্ণ লেখা প্রকাশ হতে আরো দু'চার দিন সময় লাগবে।

গল্পপাঠে এ সংখ্যায় গল্প নির্বাচন করেছেন মোমিনুল আজম, মোজাফফর হোসেন, এমদাদ রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা, তুহিন দাস, সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত।


গল্পপাঠে অনেক লেখা আসছে। সম্পাদকমণ্ডলী তাদের নানা ব্যস্ততার মধ্যে লেখাগুলো পড়ছেন। নির্বাচন করতে রীতিমত হিমসিম খাচ্ছেন। অধিকাংশ লেখাই তাড়াহুড়া করে লেখা। লিখেই  প্রকাশের জন্য পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বহুপাঠের মধ্যে দিয়ে নিজের লেখার সঙ্গে পূর্ণ মোকাবেলা করার বিষয়টি তারা মনেই রাখছেন না।  ফলে গল্পের সারা শরীরে অপূর্ণতার লক্ষ্মণ ফুটে উঠছে। এটা একটা দু:সংবাদ।

গল্পপাঠের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা প্রাপ্ত লেখা নিয়ে একটি পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখেছেন। আশা করা যায়--নবীন লেখক এবং ক্ষেত্র বিশেষে অনেক প্রবীণ লেখা যারা গল্পকার হিসেবেও নাম তালিকাভুক্ত করেছেন তাদের গল্পের দূর্বলতার একটা চেহারা পাবেন।

লেখা প্রকাশের চেয়ে পরিণত লেখা করার দিকে মনোযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলো নবীন লেখকদের কাছে। পড়ুন--
 জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা'র



মোমিনুল আজমের আয়োজন

এই ব-দ্বীপের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক গান, কবিতা। বিখ্যাত শিল্পীদের শিল্পকর্মে তিনি স্থান পেয়েছেন বারবার। তাঁকে উপজীব্য করে দেশে বিদেশে লেখা হয়েছে শত সহস্র বই। সে তুলনায় কথাসাহিত্যে তাঁর উপস্থিতি নগণ্য। কিছু উপন্যাসের নায়ক হয়ে তিনি এলেও ছোটগল্পের আঁটসাঁট গাঁথুনিতে তাকে খুব একটা খুঁজে পাওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধুর শাহাদতের এই শোকের মাসে প্রকাশের জন্য গল্পপাঠ তাঁকে নিয়ে লেখা ছোটগল্পের খোঁজে চষে বেরিয়েছে অন্তর্জাল, কথাসাহিত্যের ভুবন। যা পাওয়া তা তাঁর পাহাড় সমান ব্যক্তিত্বের কাছে নগণ্য তবুও প্রবীণ প্রতিষ্ঠিত গল্পকারের বেশকিছু ছোটগল্প এ সংখ্যার গল্পপাঠে প্রকাশ করা হলো যা বঙ্গবন্ধুর চরিত্র-কর্মের কিছুটা হলেও প্রতিফলিত করবে। গল্পগুলির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ আখতার হুসেন সম্পাদিত কথাপ্রকাশ প্রকাশিত 'জনকের মুখ' গল্পগ্রন্থটির কাছে।

বাংলা সাহিত্যের অনেক বড় এক কথাশিল্পীর নাম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এক ‘পথের পাঁচালী’র জন্যেই তিনি শুধু বাংলা সাহিত্যে নয়, বিশ্ব সাহিত্যের অঙ্গনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। তাঁর গল্পে আমরা যেমন পাই জীবনঘনিষ্ট ছবি তেমনি সমাজের অন্যায় অসঙ্গতি অভাব অনটনের বাস্তব চিত্র ফুটে ওঠে। সই তাঁর ছোট কলেবরের একটি গল্প। এতো অল্প কথায় দুটো পরিবারের চিত্র তুলে ধরার বিস্ময়কর ক্ষমতা তিনি দেখিয়েছেন। বাস্তবধর্মী এ গল্পটিতে সে সময়ের একটি চিত্রও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দক্ষতা সম্ভবত এখানেই যে তিনি মেদহীন গল্পের মাঝেও অনেক কথা বলতে পারেন, অল্প কথায় পরিবেশ পরিস্থিতির একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র তুলে ধরতে পারেন। পডুন-

চিরায়ত গল্প নিয়ে আলোচনা
আলাউদ্দিন আল আজাদের গল্প : বৃষ্টি

অমর মিত্রের আলোচনা : 
বৃষ্টি গল্পের ভেতরের বৃষ্টি

এমদাদ রহমানের আয়োজন
সৈয়দ শামসুল হকের গল্প

আর্ট অফ ফিকশন
গল্পপাঠের এই বিভাগটিতেই মূলত এর প্রকাশ-উদ্দেশ্যটা স্পষ্ট হয়। এখানে কথা বলেন লেখকরা, বলেন তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা, লেখালেখির জটিল সমীকরণের কথা। কথাসাহিত্য বিশেষ করে আখ্যানধর্মী লেখাপত্রের পাঠককে যা সবসময় এগিয়ে রাখে, ঋদ্ধ করে, পরম্পরার সংগে মিলিয়ে দেয়। লেখকের লেখার ভাবনা, লেখক হয়ে ওঠার প্রস্তুতি, পাঠ-বৈচিত্র- এই সব মিলিয়ে সাহিত্যের দেশ-কাল এই আর্ট অভ ফিকশনের সন্ধিতে মিলে পাঠককে সজাগ করে, লেখার শৈলী সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। লেখকের স্মৃতি, কীভাবে লেখা হয়ে যায় তাঁর উল্লেখযোগ্য
বইটি, সাক্ষাৎকার, বইপত্রের ভূমিকা, চিন্তা, মুক্তগদ্য এবং সমালোচনা, পুনঃপাঠ, পুনর্মুদ্রণ - প্রধানত আর্ট অভ ফিকশনের ফোকাস। এই সংখ্যায় আমরা পুনঃপাঠ করব, সৈয়দ হকের গল্পের কলকব্জা থেকে দুইটি মূল্যবান গদ্য, প্রখ্যাত লেখিকা সেলিনা হোসেনের সাক্ষাৎকার।

সৈয়দ শামসুল হকের দুটি গদ্য--
-----------------------------------------------
সেলিনা হোসেনের সাক্ষাৎকার
‘সাহিত্য একজন মানুষকে উদ্দীপ্ত করতে পারে, সেই জায়গা থেকে আমি দেখি’ 
অলাত এহসান
-------------------------------------------
লেখক যখন কথা বলেন লেখক নিয়ে, তাও, আমাদের কাছে মূল্যবান। কারণ, এক্ষেত্রে আমরা অগ্রজ লেখককে নিয়ে ভাবার সুযোগ পাই, তাঁর লেখন-কুশলতার ওপর আলো ফেলা হয়। লেখককে নিয়ে লেখকের লেখার এক শৈল্পিক উদাহরণ সম্ভবত গোর্কি, যিনি তাঁর ডায়রিতে অগ্রজ লেখক কবিদের নিয়ে মতামত লিখে রেখেছেন, স্মৃতির সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে। এই লেখাটি নেয়া হয়েছে, পুনঃপাঠের তাগিদে, সুনীল জানা অনূদিত 'আমার ডাইরি থেকে' বইটি থেকে। ১৯৫৭ সালের সেপ্টেম্বরে বইটি প্রকাশিত হয়েছিল, বুক মারক-এর পরিবেশনায়। প্রকাশক- আনন্দ অধিকারী, কলকাতা।
------------------------------------------------------------------------------------


‘আমি? আমি যদি ঈশ্বর হতাম,’ উত্তর দিয়েছিল অদিতা, ‘আমি যদি ঈশ্বর হতাম আমি আলোর জীব তৈরি করতাম, যে জীবের শক্তির জন্য ঘাস লতা পাতা মাংসের দরকার হয় না, যে জীব সরাসরি নক্ষত্রের বিকিরণ থেকে শক্তি আহরণ করে। সেই মহাবিশ্বে আলোর গতি অসীম না হলেও আমাদের এই হাস্যকর সেকেন্ডে তিন লক্ষ কিলোমিটার হত না। আমার আলোর জীব নক্ষত্র থেকে নক্ষত্রে বিচরণ করত প্রায় আলোর গতিতে, এমন কি এই অসীম ব্রহ্মাণ্ডের একটি গ্যালাক্সি থেকে আর একটি গ্যালাক্সিতেও সে যেতে পারত। মহাবিশ্বে কত কিছুই না দেখার আছে, কত অজানা গ্রহ, কত বিস্ময়কর সভ্যতা, কত নিহারীকা নক্ষত্র। আমি যদি সেসব তৈরিই করি তো আমার সৃষ্ট জীব কেন আটকা পড়ে থাকবে এই ছোট পৃথিবীতে, মহাবিশ্বের এক কোনায়। আমার সৃষ্ট জীব কেমন করে একটা ভাল শৌচাগার বানান যায় সেই চিন্তায় সময় ব্যয় করবে না।’
ধারাবাহিক উপন্যাস
দীপেন ভট্টাচার্য
আগের পর্বগুলো : প্রথম পর্ব,  দ্বিতীয় পর্বতৃতীয় পর্বচতুর্থ পর্ব

নাসরীন জাহান'এর গল্প : একটি দীর্ঘশ্বাসের ডালপালা

কয়েকটি যুবক একটি জ্যোৎস্না রাতে টুলু নামের এক বন্ধুর গ্রামের বাড়িতে চলেছে। পথ অচেনা। তখন বিভৎস দর্শন একটি বৃদ্ধ লোক হেঁটে আসে। এই বৃদ্ধের আগমনের পরই যেন রাতের অচেনা গ্রামটি তার কাছে সহজ হয়ে উঠেছে। কিন্তু গল্পটি কঠিন হয়ে ওঠে--হয়ে ওঠে নিষ্ঠুর।
অসামান্য জাদুর ভাষ্য লিখেছেন কথাসাহিত্যিক নাসরিন জাহান। শহীদুল জহিরের পরে এরকম বিশ্বমানের গল্প বাংলাদেশে খুব বেশি লেখা হয়নি।


শামসুজ্জামান হীরার আয়োজন
শামসুজ্জামান হীরা'র গল্প : ক্ষুধা

অনুবাদ গল্প--
মূল: গী দ্য মোপাসাঁ
অনুবাদ :  শামসুজ্জামান হীরা



জনপ্রিয় মার্কিন কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম ফকনার(১৮৯৭-১৯৬২) সাহিত্যে নোবেল ও পুলিৎজার পুরস্কারসহ পেয়েছেন বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। মার্কেসের মতো বহু বিখ্যাত লেখকদের প্রিয় লেখক ছিলেন তিনি। সাক্ষাৎকার--
প্যারিস রিভিউ'কে উইলিয়াম ফকনার :
 ‘শিল্পীরা হল শয়তান তাড়িত সৃষ্টিসত্তা’
অনুবাদ : মোজাফফর হোসেন

বহু চেষ্টা করেও তুঘলকের একজ্যাক্ট জন্মতিথির খোঁজ পাওয়া যায়নি। প্রায়মারি স্কুলে তার যে জন্মতারিখ দেওয়া রয়েছে তা নির্ভরযোগ্য নয়। কারণ ভোটার কার্ড অনুযায়ী তার বয়স আবার অন্য। বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায়, যেদিন তার বাপ গায়েব হয়ে গেছিল, সেইদিন সে খাতুনমহলে পিঠে চাবুকের দাগ নিয়ে নাচতে থাকা মাধুরী দীক্ষিতের এক-দো-তিন-চার দেখছিল। ‘তেজাব’-এর রিলিজ ডেট ১১ নভেম্বর, ১৯৮৮। সুতরাং ৮৮’সাল নাগাদ তার বয়স ছিল লাগভাগ ১০/১২ বছর।

সাদিক হোসেনের গল্প : তুঘলক

বাংলাভাষায় অনেকেই জাদুবাস্তবাদী গল্প লেখেন বলে দাবী করেন। কিন্তু সত্যি কথা হলো এদের অধিকাংশ গল্পই জাদুবাস্তববাদের শর্ত পূরণ করে না। এদিক থেকে মাহবুব লীলেনের বংশ নামের গল্পটি সার্থক। অন্ধ নয়, ট্যারা চোখের অধিকারী ক্রান্তি নামে একটি মেয়ে চোখের অসুখ সারতে একজন প্রবীণ ডাক্তারের কাছে যায়। তিনি ট্যারা চোখ ভালো করতে পারেন না। কিন্তু ভালো করার বিকল্প পদ্ধতি অবলম্বন করেন। গল্পটি ছোটো, কিন্তু তার প্রাণ অনেক বড়।
গল্পটির আরেকটি শক্তির দিক হলো গল্প বলতে গিয়ে কোনো চরিত্রের প্রতি পক্ষপাত করেননি গল্পকার। প্রচলিত গল্পে বড় চাচাকে ভিলেন বানিয়ে ফেলা হয়। সেটা তিনি করেননি। মেলো ড্রামা থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে প্রকৃত গল্পে তিনি থেকেছেন।
মাহবুব লীলেন শুরু থেকেই গল্পে ঢুকে পড়েন। বাহুল্য বর্ণনায় যান না।


এই গল্পটি একটি প্রেমের গল্প। মূল পাত্রপাত্রী দুজন--ললিতে আর মানিক। দুজনেই অন্তজ শ্রেণীর মানুষ। ললিতে একটি অফিসে ঝাড়ুদারনী। মানিক ময়লা পরিষ্কারক। গল্পে যেরকম হয়--ললিতা কালো হীরে। তার চেহারা আর শরীরের গাঁথুনিতে অফিসের বাঙালিবাবুরা কাঙাল। এর মধ্যে একজন তরুণ কেরানী। সাধারণ প্রচলিত গল্প তরুণ বাঙালি তরুণ কেরানী অন্তজ শ্রেণীর তরুণীকে ফেলে চলে যায়।
উম্মে মুসলিমার তরুণ বাঙালি বাবুটিও ললিতাকে ফেলে গেছে। নতুন একটি বাঙালি তরুণীকে বিয়ে করেছে। তাহলে গল্পটির নতুনত্ব কোথায়?
আছে। নতুনত্ব নিয়ে এসেছে একটি শাড়ি। তরুণ বাঙালি কেরানির নব বিবাহিত স্ত্রী যে শাড়িটি পরেছে, সেই শাড়িটিই ললিতা পরে মানিক মুণ্ডা নামের মেতজর তরুণকে বিয়ে করার পরে।
গল্পটি আসলে ললিতা অথবা মানিক মুণ্ডার নয়। শেষ পর্যন্ত গল্পটি তরুণ বাঙালি কেরানি বেলালের।
এক ধরনের সহজ সরল অসামান্য ভঙ্গিতে উম্মে মুসলিমা লিখেছেন।



অনামিকাস জার্নাল : চাই-ল্যাটে
আগ্রাসনের বিনোদন ও বিনোদনের আগ্রাসন--
সাংস্কৃতিক-গ্রহ ও হ্যালোউইন-দীপাবলী সমূহ
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়



রুখসানা কাজলের গল্প : বিষমপদী

উনিশ শতকের যশোরের ভবতারিণী ওরফে মৃণালিনী, কাদম্বরী, কেতকীর গল্পের সঙ্গে এই একবিংশ শতকের রুমকি, লাওয়া আপার গল্প। প্রায় এক দেড়শো বছরের সময়কে মিলিয়েছেন গল্পকার রুখসানা কাজল অসামান্য এক দক্ষতায়।



ইশরাত তানিয়ার এ গল্পটি সুন্দরবন ঘিরে শ্রমজীবী মানুষের গল্প। গল্পের নিরিখে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের শ্রমজীবী মানুষের শ্রেণী বিশ্লেষণ করেছেন এ কথাও বলা যায়, যেখানে শোষক ও শোষিত--উভয়ের দেখা মেলে। আর আছে বনপল্লবিত মায়াময় প্রকৃতি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে এখনও নারীর জীবনসংগ্রাম পুরুষের নিয়তি ও ভাগ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত যা প্রায়শ অনিশ্চিত গন্তব্যের মুখোমুখি করে, গল্পের শেষে তার ছায়া দেখতে পাওয়া যায়। নির্মাণাধীন রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবন এখন সমস্ত আন্দোলনের কেন্দ্রমুখ হয়ে উঠেছে, সে কারণে গল্পটি সমসাময়িক।

ইশরাত তানিয়ার গল্প : সুন্দরীর রাজ্যে

কথাশিল্পী, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক ইতালো কালভিনোর জন্ম কিউবায় ১৯২৩ সালের অক্টোবরে। পরে ইতালীতে চলে যান তার পরিবার। নব্যবাস্তববাদী ও জাদুবাস্তববাদী  ধারায় লেখেন তিনি। ১৯৮৫ সালে সেপ্টেম্বর মাসে কালভিনো প্রয়াত হন।
বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য অসামান্য গল্প লেখেন। ইতালো কালভিনোর এই জাদুবাস্তববাদী গল্পটিকে ঠিক অনুবাদ নয়--ভাবান্তর করেছেন। 

যে মানুষটি ম্যাডামকে ডেকেছিল
মূল গল্প: ইতালো কালভিনো
ভাষান্তর : বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য

রাগ, শাসন আর রাশভারী চেহারার বিপরীতে বাবা সবার নির্ভরতার প্রতীক। বাবা মানেই আবদার পূরণের স্থল। বাবা কাছে থাকলেই মনে হয় ভয় ডর শূন্য এ পৃথিবী। তাই বাবাকে নিয়ে মানুষের আবেগ অনুভূতির শেষ নেই। স্মৃতি বিস্মৃতির এই জগতে বাবাকে নিয়ে রচিত হয়েছে অনেক কালজয়ী সাহিত্য। মোজাফ্ফর হোসেনের "অন্ধকারে বসে থাকেন বনসাই বাবা" তেমনি একটি গল্প যা পড়তে গিয়ে জাদু ভর করে, শেষ না করে ওঠা সত্যিই কষ্টকর। ভাষা, আবেগ, অনুভূতি দিয়ে বাস্তবতার নিরিখে তিনি রচনা করেছেন একটি মহৎ গল্প যা অবশ্যপাঠ্য।

মোজাফফর হোসেনের গল্প

মূলঃ মার্গারেট অ্যাটউড
অনুবাদঃ ফজল হাসান
‘সুখময় সমাপ্তি’ গল্পটি মার্গারেট অ্যাটউডের ইংরেজিতে ‘হ্যাপি এন্ডিংস্’ গল্পের অনুবাদ । গল্পটি লেখকের কানাডার সংস্করণ ‘মার্ডার ইন দ্য ডার্ক’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে ।
দাম্পত্য জীবনে প্রেম-ভালোবাসার মাঝে কী ধরনের পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে, ‘সুখময় সমাপ্তি’ গল্পের ছয়টি আলাদা পরিচ্ছদে লেখক তারই নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন । এছাড়া তিনি আটপৌড়ে সংসার-জীবন, সুখ-সমৃদ্ধি এবং শেষ পরিণতির মতো বিষয়গুলোর গভীরতাও অনুসন্ধান করেছেন ।

ছুটির লেখা
এক টেবিলের দু’ধারে দুজন বসে লিখছেন। প্রেমে, ডিভোর্সেও, এগিয়ে দিচ্ছেন আশ্রয়ের কাঁধ। প্রকাশক খুঁজে দিচ্ছেন, আমৃত্যু আগলে রাখছেন বন্ধুর লেখা। কলমের বন্ধুতা চারিয়ে যাচ্ছে জীবনে।
শিশির রায়
--------------------
শিপা সুলতানা

বিদ্যুৎলেখা ঘোষ



খালিদ মারুফের গল্প : রেলক্রসিং

খালিদ মারুফ থাকেন ভুতের গলিতে। এই ভুতের গলি  শহীদুল জহিরের গল্পে জ্যান্ত হয়ে গেছে পাঠকের কাছে। খালিদ মারুফ কজন হিরোইনসেবীর গল্প লিখেছেন যা আমাদেরকে আবার সেই ভুতের গলির জ্যান্তপনাকেই ফিরিয়ে নিয়ে যায়। স্মার্ট এই গল্পটি ভবিষ্যৎকালে লেখা।


অনুবাদ গল্প।।
বিম্বিত এগারো নয় দু- হাজার এ
মূল : পাওলো কোয়েলহো
অনুবাদ : বিপ্লব বিশ্বাস

স্মরণ--
লিখেছেন : ইমতিয়ার শামীম