শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭

গল্পপাঠ।। ফাল্গুন-চৈত্র ১৪২৩।। ফেব্রুয়ারি-মার্চ ২০১৭।। সংখ্যা ৫০

গল্পপাঠের পঞ্চাশতম সংখ্যা প্রকাশিত হলো। বাংলাদেশ, ভারত ও অন্যান্য দেশের বাংলাভাষীদের মধ্যে গল্পপাঠ বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সবাইকে ধন্যবাদ।
এ বছর বইমেলায় দু'খণ্ডে প্রকাশিত 'নির্বাচিত গল্পপাঠ' সম্পর্কে অনেক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে। যাঁদের লেখা প্রকাশিত হয়েছে--তাঁরা খুশি। যাঁদের লেখা প্রকাশিত হয়নি--তাঁদের মন খারাপ।  কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেও মেইল করেছেন। এই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই সঙ্কলনটির ইতিবাচক গুরুত্বকে প্রকাশ করেছে।
কথাসাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী 'নির্বাচিত গল্পপাঠ' বিষয়ে লিখেছেন--'এক অসাধারণ কাজ করেছেন। এই কাজের জন্য বাঙ্গালী এরকম একটা সংকলনের জন্য অপেক্ষা করছিল '।
আগামীতে আবার 'সেরা গল্প ও গল্পভুবন' নিয়ে নির্বাচিত গল্পপাঠের তৃতীয় খণ্ড প্রকাশিত হবে। প্রিয় গল্পকার,   ফুল্ল মনে সেরা লেখাটি লিখুন যা পড়লে একশো বছর পরেও নতুন ও অবশ্যপাঠ্য মনে হবে।

দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প : 
একটি গ্রামের গল্প

দীপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিউনিস্ট ছিলেন। ছিলেন সাংবাদিক। তাঁর লেখা রিপোর্টগুলোও সাহিত্য গুণ  সম্পন্ন। বেশ কিছু সার্থক ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখেছেন।
'একটি গ্রামের গল্প'--নামের এই গল্পটিতে ঠিক একটি গ্রাম নয়--একটি মফস্বল শহরের বিবরণী দিচ্ছেন একটি ছোট ছেলের জবানীতে। উঁকি দিচ্ছে অনেক স্মৃতি। সেভাবে গল্পের মধ্যে উথান-পতন নেই। কিন্তু ছবির মত লিখুঁত বর্ণনা। পাঠক যেন পড়তে পড়তে সিঁড়িঘরের এক কোণে পড়ে থাকা ধুলোর স্তুপটিকেও নিজের চোখে দেখতে পায়--এরকম করেই লখেছেন। সে অর্থে এটা ঠিক গল্প নয়--মেমোয়ার। কিন্তু মনোহর। বিস্তারিত>

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়'এর গল্প : গন্ধরাজ
রেলাইন ছাড়িয়ে কতদূরে ময়ূরাক্ষী ? আরও কত দূরে ?
কাঁকর-ছড়ানো মাটি। অসুর-মুণ্ডের মতো ছোট-বড় টিবি ছড়িয়ে আছে আচক্রবাল। যেন প্রাগৈতিহাসিক কোনও এক রণক্ষেত্রের স্মরণ-চিহ্ন এই মাঠ। কোনও কোনও টিবির ওপরে লক্ষ্মীছাড়া চেহারার এক আধটা খেজুর গাছ দাঁড়িয়ে আছে ত্ৰিভঙ্গ ভঙ্গিতে। হাঁপানি রোগীর গলায় অতিকায় মাদুলির মতো এক একটা হাঁড়ি ঝুলছে কোনও-কোনটাতে। রুক্ষ মাটির যা শ্রী--এক ফোঁটাও রস গড়ায় বলে মনে হয় না। বিস্তারিত>
অমর মিত্র'র গল্প : 
শ্রাবণে ফাগুনে শ্রাবণে 
চম্পাকলির নাম কুসুমকুমারী দিয়েছিল দাদু। কবি জীবনানন্দ দাশের মায়ের নামে নামের এই স্নিগ্ধতা, সুগন্ধ। দাদু নাকি কবিতা লিখতেন। জিজ্ঞেস করলে লজ্জা পান, ও কিছু না। রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ দিবসে জোড়াসাঁকো থেকে তাঁর শবযাত্রায় সঙ্গী হয়েছিলেন একটি স্বর্ণচাঁপা তাঁর পায়ের কাছে রাখবেন বলে। শ্রাবণ মাস ছিল তো। কিন্তু তিনি পারেননি। ঠাকুরদা বলেন, খুব ভীড় আর বিশৃঙ্খলা, রবি ঠাকুরের নাগালই পাননি। আশ্চর্য, সেই স্বর্ণচাঁপা গাছটি রবিবাবুর প্রয়াণের পর শুকিয়ে গিয়েছিল আপনা আপনি। দাদুর কথা শুনে কুসুমের চোখে জল। তারপর কুসুম জন্মালো পঞ্চাশ বছরেরও তিন বছর পরে। বিস্তারিত>


দি-আর্ট-অফ-ফিকশন-
প্যারিস রিভিউকে দেয়া হুলিও কোর্তাসারের সাক্ষাৎকার
অনুবাদ : এমদাদ রহমান

ক্যান্সারাক্রান্ত হুলিও কোর্তাসার মারা যান ঊনসত্তর বছর বয়সে, ১৯৮৪'র ফেব্রুয়ারিতে; মাদ্রিদের এল পাইস পত্রিকা তাঁকে লাতিন আমেরিকার মহত্তম লেখকদের একজন হিসেবে সম্মান জানায়, মৃত্যুর পর দুই দিনেরও বেশি এগার পাতার বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে, সেখানে প্রকাশিত হয় স্মৃতিচারণ, শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং বিদায়ী বার্তা।
যদিও কোর্তাসার ১৯৫১ থেকেই প্যারিসে বসবাস করে আসছেন, সামরিক জান্তা কর্তৃক ১৯৭০-এ চূড়ান্ত নির্বাসনের আগ পর্যন্ত নিয়মিতই তিনি তাঁর নিজের দেশ আর্জেন্টিনায় যাতায়াত করেছেন, এই জান্তা তাঁর গল্পে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। যদি জান্তার পতনের পর আলফানসির গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এলে শেষবারের মতো নিজের দেশে যাবার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। আলফনসির সংস্কৃতিমন্ত্রী তাঁকে কোনওরকম রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা জানানোর ব্যবস্থা করেননি, কারণ- কোর্তাসারের অতিমাত্রায় বামঘেঁষা রাজনৈতিক দর্শন আর লাতিন আমেরিকার মানুষের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি ছিলেন এক অগ্রণী যোদ্ধা।
কিন্তু আর্জেন্টিনা তাঁর লেখককে সত্যিকার নায়কের মর্যাদায় গ্রহণ করেছিল। ফিরে আসার পর বুয়েনস আইরেসে, এক রাতে, ওসভালাদো সোরিয়ানোসার উপন্যাস 'সেখানে আর কোনও বেদনা বা বিস্মৃতি নেই' অবলম্বনে তৈরি ছবি দেখে হলের বাইরে
আসতেই কোর্তাসার আর তাঁর বন্ধুরা দেখলেন এক বিশাল মিছিল আসছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের মিছিল, কিছুক্ষণের মধ্যেই মিছিলের মুখগুলি তাদের সামনে তাদের লেখককে দেখতে পাবার সঙ্গে সঙ্গে তাদের বিক্ষোভ কর্মসূচির রঙ যেন মুহূর্তে বদলে ফেলল, সবকিছুর কেন্দ্রে তখন- কোর্তাসার, প্রিয় লেখক; প্রিয় লেখককে কাছে পেয়ে তারা উল্লসিত, কাছেপিঠের বই-দোকানগুলির কয়েকটি তখনও খোলা, ছাত্ররা হুড়মুড় করে ছুটতে লাগল দোকানগুলির দিকে, অটোগ্রাফ নেবার জন্য তারা নিয়ে আসতে লাগল কোর্তাসারের বইগুলি। নানারকমের মনোহারি জিনিসের সঙ্গে কিছু বইও বিক্রি করেন এমন এক দোকানী দুঃখ প্রকাশ করলেন তার কাছে কোর্তাসারের বইয়ের আর একটিও কপি নেই বলে, তবু তিনিও অটোগ্রাফ নিলেন; ফুয়েন্তেসের উপন্যাসে স্বাক্ষর করলেন হুলিও কোর্তাসার। বিস্তারিত>


বোর্হেসের গল্প : বোর্হেস এবং আমি
অনুবাদ : ফজল হাসান




গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ'এর গল্প : 
''আমি শুধু ফোন করতে এসেছিলাম''
অনুবাদ : অমিতাভ রায়
বর্ষণমুখর বসন্তের বিকেলে ভাড়া করা গাড়ি চালিয়ে মারিয়া দে লা লুস্‌ সেরওয়ানতেস্‌ একা একাই বার্সেলোনায় ফেরার পথে। মোনোগ্রোস মরুভূমিতে গাড়িটা বিগড়ে গেল। সাতাশ বছরের মারিয়া বুদ্ধিমতী এবং সুন্দরী। মেক্সিকোর মেয়ে মারিয়া বছর কয়েক আগেই সংগীতশিল্পী হিসেবে বেশ নাম করেছে। হোটেল রেস্তোরাঁয় ম্যাজিক দেখিয়ে বেড়ানো এক যাদুকরের সঙ্গে ওর বিয়ে হয়। সারাগোসায় কয়েকজন আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ সেরে দিনের শেষে বাড়ি ফিরে স্বামীর সঙ্গে বেরোনোর কথা আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। ঝড়ের চেয়েও জোরে ছুটে যাওয়া গাড়ি-লরিগুলোকে থামানোর ব্যাকুল প্রয়াস ঘণ্টাখানেক ধরে চালানোর পর একটা ভাঙাচোরা-বিধ্বস্ত বাস ওকে করুণা দেখাল। যদিও বাসের ড্রাইভার ওকে আগেভাগেই জানিয়ে দিল যে তারা কিন্তু বেশি দূরে যাচ্ছে না। “এটা কোনও ব্যাপার নয়’,--মারিয়া বলল। ‘আমি শুধু একটা টেলিফোন করতে চাই।” বিস্তারিত>

রমানাথ রায় ও তাঁর সহযাত্রী লেখক বন্ধুরা গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে শাস্ত্রবিরোধী সাহিত্য আন্দোলনের ইস্তাহারে গল্পের ভিতর থেকে কাহিনি বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। গল্পহীন গল্প। আসলে তা ছিল আঙ্গিকের পরীক্ষা নিরীক্ষা। নতুন ভাবে গল্প বলতে এসেছিলেন তাঁরা।
কাহিনি সবর্স্ব গোল গল্পের বিরুদ্ধে তাঁরা কলম ধরেছিলেন।
রমানাথ রায় নিখুঁত বিবরণী দেন।  সরল তাঁর ভাষাভঙ্গী। তিনি আখ্যানের সূত্র বলে যান--পাঠক সেই আখ্যানকে নির্মাণ করে নিতে বাধ্য হন। হে অরণ্যদেব গল্পটি পড়তে গেলে মনে পড়ে যায় সত্যজিৎ রায়ের পিকুর ডাইরি ও হাসান আজিজুল হকের গল্প সারা দুপুর গল্পকে।

রমানাথ রায়ের গল্প : হে অরণ্যদেব
হে অরণ্যদেব গল্পটি নিয়ে কথাসাহিত্যিক অমর মিত্রের আলোচনা

ধারাবাহিক উপন্যাস
অদিতার আঁধার : পর্ব নয়
দীপেন ভট্টাচার্য
আগের পর্বগুলোর লিংক
দুহাজার বছর পরে পৃথিবীতে আলাদা কোনো দেশ নেই। মানুষের মৃত্যু হলে তার কপি-করা মস্তিষ্ক পুনরায় দেহে বসানো হয়। কিন্তু লোহিতক সন্ত্রাসী সংগঠন মনে করে এই পদ্ধতি প্রাকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে। লোহিতক গোষ্ঠীর নেতা অশিরের নির্দেশে দুই আততায়ী - মিরা ও সিলোন - হত্যা করে ডকটর বিনতাকে। তারপর তারা বেতার তরঙ্গ দিয়ে নিষ্ক্রিয় করে দেয় অদিতার প্রতিস্থাপিত মস্তিষ্ক। এই পর্বে বিনতার কপি-করা মস্তিষ্কের স্বপ্ন ও পৃথিবী পরিচালনা কমিটির দুই গোয়েন্দার সঙ্গে অধ্যাপক বিষাণের কথোপকথন। বিস্তারিত > 
দেবাঞ্জন চক্রবর্তী'এর গল্প : পবন ধীবর
পবন ধীবরকে আপনি চেনেন?
যদি না চেনেন, আসুন আজ আপনাদের সঙ্গে তাঁকে আলাপ করিয়ে দিই। কি ভাবছেন? ছদ্মনাম? আজ্ঞে, তা নয়। পবন ধীবর নামে সত্যি একজন মানুষ এই মুহূর্তে এই পৃথিবীতে বাস করছেন। কথা হচ্ছে, পবন ধীবর কে এমন ব্যক্তি, যাঁকে চিনতে হবে? কী করেছেন তিনি ? বিশেষ এমন কোনো না কোনো কাজ করেছেন যার জন্য তাঁর নাম শোনার সৌভাগ্য হতে হবে ? বিস্তারিত>
সাত্যকি হালদার'এর গল্প : একটি গাছের গল্প
সে-সব আশ্চর্য কথা আমাকে শুনিয়েছিল সোভান আলি। বুড়ো সোভান আলি। দূরে আঙুল দেখিয়ে বলেছিল, ওই যে জায়গাটা দেখতেছেন, খানিকটা ঢিবি মতন, ওইখানে ছিল গাছটা। স্বপ্ন-দেখা গাছ। গাছের গোড়ায় ঝোপঝাড়। তার ওই পাশে ছিল জঙ্গল...
কী গাছ ছিল ওটা?
মাদার গাছ। অনেক দিনের পুরোনো মাদার। আমাদের বাপ-ঠাকুর্দারও আগে থেকে ওই গাছ মাঠের মাঝখানে। বিস্তারিত>

শামসুজ্জামান হীরার গল্প : 
খোরশেদের শেষ ইচ্ছা
খুব যে একটা ঘনিষ্ঠতা ছিল তা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে দুজনেই জড়িত ছিলাম। একই ছাত্রসংগঠন করতাম। আমি ছিলাম বরাবরই অগোছালো ¾ ও ছিল পরিপাটি; যেমন বেশভুষায়, তেমনই কথাবার্তা চলন-বলনে। নিপাট সুবোধ যুবক। ছাত্র হিসাবেও যথেষ্ট মেধাবী ও মনোযোগী। সে তো আজকের কথা নয়, তেতাল্লিশ বছর আগেকার কথা। এখনও অনেক স্মৃতি তাজা ঝকঝকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাট চুকাবার পর বহুবছর ওর সঙ্গে আর দেখা নেই। শুনেছিলাম, রাজনীতি ছেড়েছুড়ে চাকরিতে ঢুকে পড়েছে। বেশ সুনামও কুড়িয়েছে প্রশাসন ক্যাডারের ঊর্ধ্বতন একজন আমলা হিসাবে। এ খবরটাও কানে আসে আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর আগে। বিস্তারিত>

তত্ত্বকথা
রংগন চক্রবর্তী
কোনো একটি রাষ্ট্র যখন নিজের স্বার্থে অন্য কোনো একটি ভূখণ্ডকে দখল করে নেয়, এবং সেই দখল করা ভূখণ্ডের মানুষদের ওপর নিজের শাসন চাপিয়ে দিয়ে তাদের শোষণ করে নিজের লাভ বাড়ায়, তখন এই শাসন ব্যবস্থাটাকেই সাম্রাজ্যবাদ (Imperialism) বলা হয়। সাম্রাজ্যবাদ। আমাদের ইতিহাসে এক খুবই পুরোনো অভিজ্ঞতা, নতুন কিছু আদৌ নয়। কলোনিয়ালিজম এই সাম্রাজ্যবাদেরই একটা বিশেষ রূপ। সাম্রাজ্যবাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় দেখা গেছে যে সাম্রাজ্যবাদীরা নিজেরাই অধিকৃত অঞ্চলে এসে বসবাস করে সেখানকার মানুষজন, সংস্কৃতি, জীবনধারার সঙ্গে মিশে যায়। কিন্তু উপনিবেশবাদের ক্ষেত্রে কেন্দ্র এবং উপনিবেশগুলোর মধ্যে ফারাককে যত্ন করে টিকিয়ে রাখা হয়। আইনের চোখেই হোক বা শাসনের প্রাত্যহিক নিয়মের মধ্যে দিয়েই হোক, উপনিবেশবাদের মূল কথাই হল এই অসাম্য : কেন্দ্রের অধিবাসী, ব্যবসায়ী ইত্যাদিদের জন্য এক আইন আর উপনিবেশের মানুষদের জন্য অন্য আইন। বিস্তারিত>
সাদিক হোসেন'এর গল্প : 
মারাদোনার বাম পা
বন্ধুর মাইনে পাঁচ-দশ হাজার টাকা বেশী হলেও মাঝ মাঠে ড্রিবল করে কিছু দূর এগিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু সে যদি তোমার থেকে পাঁচ-দশ গুন বেশী পেয়ে থাকে, তখন? ভাবছ মাঠে নামব না? সেইটে হবার নয়। এসেছ যখন খেলতে তোমাকে হবেই। এখন হিসেব কষে দেখো ক’গোলে হারছ।
মিলন হিসেব কষে দেখল – বউ, ছেলের স্কুল আর অ্যালসেসিয়ানটাকে ধরলে অলরেডি সে তিনখানা গোল খেয়ে গেছে। ম্যাচ জেতা কিংবা ড্র করবার প্রশ্নই নেই। এখন যেভাবেই হোক মানে মানে ইজ্জত নিয়ে কেটে পড়তে পারলেই রক্ষে। কিন্তু কিভাবে? বিস্তারিত> 
সুমী সিকানদার'এর গল্প : কাটাছেঁড়া পাতা
২ /১/৯৪
অফিসে যাচ্ছি । যেতে হচ্ছে বলে না । বাসায় থাকতে ভালোলাগে না। সারাক্ষণ বাচ্চা বাচ্চা করে ঘরে বসে থাকা আমার কাজ না। সন্তান আমার একার না।

যাবার সময় মেয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কি যেন বলে খুব জরুরী । 'পুপুল পুপুল।'
তার জাপানী পুতুলের বোঁচা নাক ভেঙ্গে গেছে তাই এখন মা জোড়া লাগিয়ে দেবে। এত সময় কোথায় ! তোর মা'র নাক তো কবেই ভেঙ্গেছে। বিস্তারিত>
আহমেদ খান হীরক'এর গল্প : 
নার্গিসের কয়েকটি মৃত্যু
নার্গিসের লাশ হাসপাতালের মাথায় রেখে, কাউকে না ডেকে আমি নিচে নেমে আসি। রাত আড়াইটার গার্ড সরু চোখে তাকালে আমি দু'আঙুলে ধূমপানের ইশারা করি। গার্ড শরীরটা আবার ছেড়ে দেয়। আমি ফুটপাতে সিগারেটের দোকান খুঁজি। নেই। ভ্রাম্যমান কেউও নেই। ঢাকা এখন বদলে গেছে। রাত হলে এখানে এখন গ্রামের কবর নেমে আসে।
বসুন্ধরার দিকে এগোতে থাকি। মেঘ মাখা চাঁদ আছে, কিছুটা বাতাস, ফাঁকা রাস্তা। নার্গিসের লাশ পড়ে আছে হাসপাতালে। বেডে। যেন ঘুমাচ্ছে। আমি সিগারেট খুঁজতে খুঁজতে ভাবি নার্গিস সত্যি মারা গিয়েছে তো? বিস্তারিত>
পাঠপ্রতিক্রিয়া
লীনা দিলরুবা'র গদ্য : 
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ডায়েরি

সাহিত্যে ভারতের বঙ্কিম পুরস্কার এবং আকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় গল্প লিখেছেন ৭০টি, উপন্যাস ২১টি এবং লিখেছেন অসংখ্য প্রবন্ধ-নিবন্ধ। একইসাথে লিখে রেখে গেছেন রোজনামচা, যেটি তাঁর মৃত্যর পর বই আকারে প্রকাশিত হয়েছে। নাম -'সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের ডায়েরি।' বই এর ব্যাক কভারে লেখা হয়েছে--'দুঃসাহসী, অকপট, আনপ্রেডিক্টেবল। যা মনে করেছেন তাই লিখেছেন। গোটা বাংলা লেখালেখির জগৎকে ফালাফালা করেছেন। এমনকি বাদ যায়নি নিজেও। শুধু বিতর্কিত নয়, একই সঙ্গে গভীর, মননশীল, বুদ্ধিদীপ্ত। এই আনসেনসেরড ও আনএডিটেড সন্দীপন গুছিয়ে দেওয়া হল টীকাটিপ্পনীসহ।' বিস্তারিত>
বিশ্বদীপ চক্রবর্তী'র গল্প : 
জাপানি সাহেবের মনুমেন্ট
ইয়াসুকি ইওকোনো আমাদের আর পাঁচটা হিরোকো তাকাহাসি নয়
হিরোকো তাকাহাসিদের আমরা দেখেছি। তাদের দিকে তাকিয়ে অনেক সময়েই অকারনে হেসেছি। আমরা তাদের শহীদ মিনারের সামনে সুদৃশ্য জাপানি ছাতা মাথায় গভীর মনোযোগের সাথে গাইডের বুকনি শুনতে শুনতে সোনি হ্যান্ডিক্যামে রেকর্ড করতে দেখে বাসের জানালা থেকে ফুট কেটেছি। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের দক্ষিন গেট দিয়ে লাইন করে ইউইনা সাতোদের সাথে ঢুকতে দেখে মনে মনে নিশ্চিত জেনেছি যে উত্তর গেট দিয়ে ঠিক পঁচিশ মিনিট বাদে দক্ষিণেশ্বর যাবার জন্য সেই দলটা বেরিয়ে আসবে লাইন একটুও না টসকে। বিস্তারিত>


শিপা সুলতানা'র গল্প : সোনাই সাধু
তরে লইয়্যা এমন জাগাত যাইমু সাধু, এমন জাগাত... এমন জাগাত যে যে যে...
এই জায়গায় এসে সাধুর এমন ভাব আসে, এমন ভাব আসে যে, যথাযত জ্ঞান না থাকার দস্তুর আমি এর কোনও বর্ণনা দিতে অক্ষম। এই নিয়ে আমাকে কোনও চাপাচাপিও করা যাবে না।
মায়া করে সোনাভানকে যে সোনাই নিজ নাম মাখিয়ে মাখিয়ে সাধু বলে ডাকে, শুনলে মনে হবে গহীন বনে হারিয়ে যাওয়া সঙ্গীনিকে ডেকে ডেকে আকুল কোনও কাঠুরে। তবে তার থোড়াই কেয়ার করে সোনাভান। বিস্তারিত> 
সোমেন বসুর গল্প : তারায় পাওয়া মানুষ
আকাশ বুঝিবা এক কলঙ্কিনী। বা কলঙ্কিনী বলে না দাগালেও তার কালিমাপ্রীতি তো অবশ্যম্ভাবী। না হলে দেখো না, প্রতিদিন সূর্য পাটে যাওয়ার সময়, তার মুখখানা যে অমন সিঁদুরে ছুপিয়ে দিয়ে চলে যায়, আকাশ তা পাত্তা দিয়েও দেখে? উলটো কিছুক্ষণের মধ্যেই সব ধুয়েমুছে রাত্রির কালোবেশ সযত্নে গায়ে জড়িয়ে নেয়। কালো কী কেবল কলঙ্কের রঙ? বিষাদেরও তো! আবার বিষাদের রঙ সাদাও তো হয়। বিস্তারিত>



পুরো সময়টার মধ্যে একটা পাপ জড়িয়ে আছে। গভীর। স্বচ্ছ। স্থির। নিঃসঙ্গ। রাতের পর রাত কেটে গ্যাছে বোবা সময়ের হাওয়ার বেলুনে। একা একা। নির্ঘুম। এরকম অনেক রাতেই হঠাৎ হঠাৎ পা হড়কে অস্পষ্ট অতলে হারিয়ে যাওয়া অনীকের জন্য নতুন কিছু নয়; কিছুক্ষণ পর পর চোখ খুলে গলার ঘাম মুছতে হয়। একটু স্বপ্ন স্বপ্ন ভাব হয় বটে কিন্তু ওতে স্বপ্নের জাদু-কাব্যটুকু যেন নেই; শুধুই যেন বয়স্ক নিষ্কাম গদ্য । পুকুরের ধার নেই, নেই নেবুর তলও। তাই কাজলা দিদিও নেই; তিনি হারিয়ে গেছে দূরের কোন তুষার-ঝড়ে। বিস্তারিত>
মহুয়া মল্লিক'এর গল্প : 
নদীর মত জীবন
ওর চারপাশে এখন প্রণয়ী বাতাস উলু দিচ্ছে , চন্দ্রভূক পতঙ্গের মত ও এখন মাথাটা উঁচু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ছাদের সেই বেদীর মধ্যে বসে আছে ওর জ্বালা পোড়া ত্বক নিয়ে । আজ ওকে গলা ধাক্কা দিয়ে বার করে দিয়েছি , ওর স্পর্ধা দেখে থমকে গিয়েছিলাম, বুকের কাছে আমার পাঞ্জাবিটা খামচে ধরে ও আজ প্রতিবাদ করতে এসেছিল , নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি আঁচড়ে খামচে ওর নরম কাঁধ আর মরাল গ্রীবার কিছুটা রক্তাত করে দিয়েছি। ও কেমন অভিমানী চোখে আমাকে দেখতে দেখতে খাড়া সিঁড়ি ধরে নিচে নেমে গেল । হয়ত ভাবতেই পারেনি দীর্ঘ সতের বছর ধরে যত্ন নিয়ে যে নির্মাণ আমি করেছিলাম তা এমন অবহেলায় এক লহমায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারি। বিস্তারিত>

ইশরাত তানিয়া'র গল্প : ফাকআপ নাইটস্‌
একটু একটু জল জমে ভেতরের অজানা কিছু ভেসে ওঠে। জানা হয়ে গেলে তারপর নৈঃশব্দ। পুকুরে খালি কলসী ডুগ ডুগ করে ডুবে বুদবুদ ছড়িয়ে কানায় কানায় ভরে উঠলে, একটানে যেভাবে কাঁখে তুলে নেয় গাঁয়ের মেয়ে, ভাবনা থেকে তেমনি নিজেকে তুলে নিল কেউ। ভাবনাগুলো না-ভাবনার মতোই। পঞ্চাশ ওয়াটের যথেষ্ট আলোয় স্নানঘরে একটু আগের পুরুষ গন্ধটি ডলে ডলে মুছে ফেলছে সে আর ভাবছে ভার্জিনিয়া উলফ যে প্রশ্ন ভেবেছিল- ইজ দিস লাইফ? বিস্তারিত>

রুমা মোদক'এর গল্প : 
হরিপদ কেরানীর মেটামরফসিস
বিষয়ের গুরুত্ব বুঝে খুব দ্রুত টাইপ করে দেয়ার পর প্রথমবার চিঠিখানা সংশোধনের জন্য এলে তার মেরুদণ্ডী প্রাণী হবার সাধটির পরিপূর্ণতা পাবার প্রক্রিয়ার দিকে আগায়। এ সাধ তার বহুকালের। তার মানে হরিপদ কেরানীর। তার নামটা অবশ্য হরিপদ না হয়ে রসরাজও হতে পারতো, এবং যথারীতি ফেসবুক সম্পর্কে তার কোনো ধ্যান-ধারণা, জ্ঞান-গম্যি নাও থাকতে পারতো। কেননা, সে বড় হয়েছে অল্পশিক্ষিত অশিক্ষিত শুদ্র পাড়ায় একঘর পুরোহিত ব্রাহ্মণ হিসেবে। পূর্বপুরুষদের কৃত রীতি অনুযায়ী শুদ্ররা তাদের থাকার জায়গাটুকু দিয়েছে তিথি লগ্নে লক্ষ্মী পুজো সরস্বতী পুজো করে দেয়ার স্বার্থে। বিস্তারিত>