বুধবার, ২ জানুয়ারী, ২০১৩

ফ্ল্যাস ফিকসন


দুপুর মিত্র


৩০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৪০

আমরা ডাইনোসর যুগে চলে গিয়েছিলাম। কিছু বিশাল বিশাল ডাইনোসর দেখলাম ঘাস খাচ্ছে। একবার এক অদ্ভুত চিকন সুর শুনতে পেলাম। তারপর বিকট পাখা ঝাপটানোর শব্দ। ওটা ছিল পাখি। ডাইনোসর পাখি। কিছু ডাইনোসর গলা বড় করে গাছের কচি পাতা খাচ্ছিল। ওদের চোখ কেমন শান্ত আর জ্ঞানীদের মত ছিল। ডাইনোসররা আমাদের থেকে এত বড় ছিল যে ওরা আমাদের বুঝতেই পারেনি যে আমরা ওদের দেখতে এসেছি। আমি একটা বড় ও বৃদ্ধ ডাইনোসরের লেজে বসেছিলাম। ও টেরই পায় নি। আমার ওর লেজ ধরে আদর করতে ইচ্ছে হয়েছিল।
এই ডাইনোসরেরাই পৃথিবী শাসন করেছে প্রায় ১৬ কোটি বছর। ওরা পৃথিবীতে এসেছিল ট্রায়াসিক যুগের শেষ দিকে, অর্থাৎ প্রায় ২৩ কোটি বছর আগে পৃথিবীতে বসবাস করতে শুরু করে। আর ওদের শাসনকাল চলে ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষ পর্যন্ত। আমাদের তখন একদম ভয় করেনি। কারণ আমরা যে সময়টায় ডাইনোসর যুগে ছিলাম, তখন ছিল দিনের বেলার সময়। এখানে ছয় মাস দিন থাকে আর রাত থাকে ছয় মাস। রাতের বেলায় ডাইনোসর যুগে গেলে খুবই ভয়ানক ভয়ানক ডাইনোসর দেখতে পাওয়া যায়। রাতের বেলার এই ডাইনোসরগুলো মাংসভোজী। দিনের বেলায় ডাইনোসরগুলি সবই তৃণভোজী থাকে। সে যাই হোক, এখানেই আমাদের সাথে দেখা যায় পাশের বাড়ির এক মেয়ের সাথে। আমি তাকে বললাম, এখানে তোমার কেমন লাগছে। ও বলল- না বোরিং। এখানেও প্রচণ্ড বিরক্ত আর এক ঘেয়েমি লাগছে।


৩০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৯

এলিয়েন কিন্তু আসলেই আছে। যদিও অনেকেই বিশ্বাস করে না, কিন্তু বিজ্ঞানীরা কিন্তু বরাবরাই বলে চলেছেন এলিয়েন থাকার কথা। এই তো কিছু দিন আগেও নাসার বিজ্ঞানীরা বললেন, টাইটানে এ এলিয়েন আছে। নাসার বিজ্ঞানীরা কিন্তু এও বলেছেন পৃথিবীতেই রয়েছে এলিয়েনের অস্তিত্ব। মঙ্গলেও প্রাণ আছে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

বিশ্বাস করেন আর নাই করেন আমার সাথে একদিন এলিয়নের দেখা হয়েছিল।
এদের দেহ কিন্তু আসলেই সরীসৃপদের মতো। এরা আসলেই অতিবুদ্ধিমান। এদের মধ্যে পোষাক-পরিচ্ছদের কোনো বালাই নাই। এরা স্কুলেও যায়। তবে শুধুমাত্র আকৃতিতে লম্বারা স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়।

একদিন অনেক রাতে জানালার দিকে তাকিয়ে দেখি কমলা রঙ্গের একটা সরীসৃপ প্রাণী সদৃশ আভা। তাকাতেই উড়ে উড়ে আমার কাছে আসতে দেখে আমি জানালা বন্ধ করে দেই। তারপর এই আজব জিনিসটি জানালার পাশেই আছে কিনা দেখার জন্য জানালাটি আবার খুলি। তখন চিকন সুরে আমাকে বাংলায় বলে- এই শোন ভয়, পেয়ো না। তোমরা যাকে বলো এলিয়েন আমি কিন্তু তাই। আমি তাকালাম। শরীর থেকে কেমন আগুন গলে গলে পড়ছে। আমাদের যেমন ঘাম ঝড়ে পড়ে, ওদের তেমনি শরীর থেকে ঝড়ে পড়ে আগুন। আমার সাথে এই এলিয়েনের অনেক কথা হল। তারপর অনেক চিন্তিত ভঙ্গিতে আমাকে একটা প্রশ্ন করল- আচ্ছা তোমরা মানুষেরা ঘরের ভিতরে আরেকটি ঘর বানিয়ে কেন মল ত্যাগ করো?


৩০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৮

লোকটা গিরগিটির মত হাসে। গিরগিটর মত করে কথা বলে। গিরগিটির মত তাকিয়ে থাকে।

লোকটা হাঁটলে মনে হয় গিরগিটি হাঁটছে। লোকটা ঘুমালে মনে হয় গিরগিটি ঘুমিয়ে আছে। লোকটা দৌঁড়ালে মনে হয় গিরগিটির মত করে দৌঁড়ায়। লোকটা দাঁড়িয়ে থাকলে মনে হয় গিরগিটির মত করে দাঁড়িয়ে আছে। লোকটা বসে থাকলে মনে হয় গিরগিটির মত করে বসে আছে।

লোকটা গিরগিটির মত করে খায়। লোকটা গিরগিটির মত করে পায়খানায় যায়। লোকটা গিরগিটির মত সেক্স করে।

লোকটা আসলে গিরগিটি।


৩০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৭

কাছিমের মত করে ভুতটা আসল। কাছিমের মত করে গলা বের করে তাকাল। অদ্ভুত করে শব্দ করল সে। এমনভাবে সুদীপ্তের সামনে দাঁড়িয়ে আছে যে কিছুই বলতে পারছে না সে। সে কাঁপছিল আর বিশ্বাস করছিল না। তার কিছু করা উচিত। কিন্তু এটা কি আদৌ ভূত। ভূত বলে কি কিছু আছে? কি অদ্ভুত! ভূতের কি এমন চেহারা হয়? ভূত কি এরকম অদ্বুত করে শব্দ করে।

সুদীপ্ত বলল, তুমি ভূত না।

ভূতটি গলা বাড়িয়ে সুদীপ্তের মুখের সামনে তার মুখ টেনে আনল। লাল টকটকে চোখ দিয়ে তাকাল। আর অদ্ভুত শব্দ করল। ভূতের মুখটা এখন প্রায় সুদীপ্তের মুখের কাছেই। এগুচ্ছে ধীরে ধীরে।

সুদীপ্ত গড়িয়ে গড়িয়ে খাট থেকে পড়ে গেল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন