রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০১৩

পাল্প:২০

দুপুর মিত্র
এমন একটা বাড়ি যার এক মাইলের মধ্যে কারও কোনও বাড়ি নেই, সেই বাড়িতেই থাকতে হবে কয়েকটা দিন।
চারপাশে গাছ আর গাছ। দিনের বেলাতেও মনে হয় এখানে রাত হয়ে আছে।
তবে বাড়িটাতে ঢুকেই বেশ অবাক হলাম, এত বড় বাড়ি আর এক মাইল জুড়ে কেবল বাগান আর বাগান।
এই বাড়িটা এত পরিস্কার করে রাখা অথচ কেউ থাকে না। একজন মাত্র কেয়ারটেকার আছে।সে এত বড় বাড়িটাকে সামলায় কিভাবে? আর সে থাকেই বা কিভাবে?
একেতো এক বড় বাড়ি, তারপর আবার এক মাইল জুড়ে অন্য কোনও বাড়ি নেই, কেবল বাগান আর বাগান। তারপর কেয়ারটেকার একা থাকেন।
লোকটাকে দেখে কেমন একটু অন্যরকমই মনে হল। স্বাভাবিক কোনও মানুষের মত মনে না হলেও খারাপ বা ক্ষতিকর মনে হল না।
যাই হোক,বাড়িতে ঢুকতেই উনি সবকিছু দেখিয়ে দিলেন। কোথায় আমার লাগেজ রাখতে হবে। কোথায় গোসলখানা। কোথায় ঘুমাব। গোসলটোসল সেরে একটু বিছানায় শরীরটা গড়িয়ে নিচ্ছি। কেমন যেন তন্দ্রা এসে গেল। চোখ মেলে বাইরে তাকাতেই দেখি চারপাশ অন্ধকার। আর করুন সুরে একটানা ঝিঝি ডেকে যাচ্ছে। এই অন্ধকারের ভেতর বাড়ানে ফুটে উঠেছিল জোনাকির আলোয়।
জোনাকি জ্বললে এত আলো হয় তা আমি আগে কখনও দেখিনি। সেই আলোয় কুয়াশা ভেসে উঠেছে।এরই মাঝে এই বিশ্বভুবনে আমি একা। বেশ ভালই লাগছিল। রবীন্দ্র সংগীত শুনতে ইচ্ছে হচ্ছিল। কেয়ারটেকার আমি জেগেছি বুঝেই বলল- ভিতরে খাবার রেডি হয়ে আছে। আমি হাত-মুখ ধুয়ে কিছু খাবার খেয়ে নিলাম। ক্ষিদেটা আসলেই বেশি লেগেছিল। এতক্ষণ টের পাইনি।
খেয়ে দেয়ে বাড়িটা কিছুক্ষণ ঘুরে দেখলাম। একা একা কি করব কিছু ভেবে পাচ্ছিলাম না। এরই মাঝে কেয়ারটেকার এল। তার সাথে কিছুক্ষণ আলাপ হল।
সে বলল- এই বাড়িটা যার সে এখন দেশের বাইরে থাকে। বাড়ির মালিক মহিলা। এই বাড়িতেই তার হাজবেন্ড আগুনে পুড়ে মারা যান। এই বাড়িটা তার হাজবেন্ডের অনেক প্রিয় ছিল। এরপর থেকে এখানে কেউ থাকে না। কিন্তু হাজবেন্ডের স্মৃতি জড়িয়ে থাকার কারণে এই বাড়িটার প্রতি তার আলাদা যত্ন।এই বাড়িটার এদিক সেদিক উনি করতে দেন না।কিন্তু অনেকে বলেন, এই বাড়িটা আসলে সেই মহিলার যিনি এখন দেশের বাইরে থাকেন। হাজবেন্ড সেই মহিলাকে এই বাড়িতে হত্যা করে। সেই মহিলা আসলে দেশের বাইরে নয়, জীবিতই নেই।
রাতে খেয়ে দেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু বার বার এসব কথা মনে হচ্ছিল। ভাবতে ভাতে কখন ঘুমিয়ে পড়ি টের পাইনি।
রাতে বাথ রুম পাওয়ায় জেগে যাই। তখন আমি একজন নারী আর পুরুষের হাসি মুখে কথা বলতে শুনি।যে বাড়িতে সারাদিন আমি কাইকে দেখলাম না, যে বাড়িটা একা, যে বাড়িটার এক মাইলের মধ্যে কেই থাকে না, সেই বাড়িটাতে এত রাতে কে? আমি বিদ্যুত জ্বালানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। এক পর্যায়ে টের পেলাম আমি আমার শোবার ঘর থেকে বের হতে পারছি না।


----------------------------------------------------------------------------------------------------

লেখক পরিচিতি
দুপুর মিত্র

লেখক। গল্পকার। ব্লগার। সাংবাদিক।
কবিতার বই : ত্রিকোনমিতি।
গল্পের বই : চৌকাঠ, দশভূজা।



------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন