বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট, ২০১৩

একসাথে ৬ টি ফ্লাস ফিকসনন (৩০-৩৬)

দুপুর মিত্র

১ মিনিটে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৬

এই পুকুরে কেউ যান না। যান না মানে এই পুকুরে কেউ গোসল করেন না। কেউ মুখ ধুন না। এমন কি কেউ এই পুকুরের ধরা মাছ পর্যন্ত খান না। কারণ এই পুকুরে মাঝে মাঝেই কেউ কেউ নাকি বিশেষ কিছু দেখেন। বিশেষ কিছু মানে একদিন এই পুকুরে একজন মানুষের মত মাছকে দেখা গেছে। এই খবর পাওয়ার পর পুরো পুকুর জাল ফেলে দেখা গেছে পুকুরে এরকম কোনও কিছু নেই। এর দুই-একদিন পর আবারও সেই রকম একটি মাছের মত মানুষ বা মানুষের মত মাছ দেখা গেছে।
এলাকার মানুষ বিষয়টা একেবারেই সিরিয়াসলি নিচ্ছে। বিষয়টা বোধহয় আসলেই সিরিয়াস। পুরো পুকুরে জাল ফেলে দেখা হল কোনও কিছু মানুষের মত নেই। তারপর আবারও সেখানে মানুষের মত মাছ দেখতে পেলে কেউ কেউ। এ নিয়ে সারা এলাকায় নানা কথা ছড়িয়ে গেল। পুকুরটা সেই জমিদার আমলে গড়া। জমিদার বাবু সেখানে বসে বসে মাছ ধরতেন। একদিন জমিদারের বউ নাকি এই পুকুরেই জমিদারকে ফেলে দিয়ে হত্যা করে আরকেজনকে বিয়ে করে। সেই জমিদারই মাঝে মাঝে পুকুরে ঘুরে বেড়ান। পুকুরের লাল শাপলা পাহাড়া দেন। মাছ ধরতে দেন না। এই পুকুরে নাকি সত্যি সত্যি জমিদার আমলে কেউ মাছ ধরতে পারত না। কারণ এখানে কেবল জমিদারই মাছ ধরবেন। কেউ গোসল করতে পারত না, এমন কি হাত-মুখ পর্যন্ত কেউ এই পুকুরে ধুতে পারত না। একবার নাকি এই পুকুর থেকে বিশাল বড় মাছ ধরে নিয়ে সাহস করে আরেক এলাকার লোক খেয়েছিল। সেই পরিবারের লোকজন সেদিন রাতে বেশ আয়েশ করে মাছ খেলেও সকালে সবাই বাড়িতেই মরে পড়ে থাকে। এরপর থেকে কেউই এই পুকুরের মাছ ধরে খান না। শুধু মাছে ধরা খাওয়া নয়, মাছ ধরেন না পর্যন্ত।

বিষয়টা আসলেই সিরিয়াস। এরকম একটি এলাকায় আজও এই ধরণের একটা পুকুর থাকতে পারে। আর লোকজন সেই পুকুরে গোসল করবেন না, মাছ ধরবেন না, মাছ ধরে খাবেন না, এমন কি হাত-মুখ পর্যন্ত এই পুকুরে ধুবেন না। এটা কি করে সম্ভব? এটা কি করে মেনে নেওয়া যায়? এটা কি করে ভাবা যায়? পৃথিবী যেখানে এত দূর এগিয়ে গেছে, সেখানে কি করে এটা সম্ভব? কি করে মানুষ এটা মনে করে? আসলেই কি পুকুরে জমিদার ঘুড়ে বেড়ান? রাতে পুকুরের এপার থেকে ওপারে ঘুরে দেখেন কেউ মাছ মারছেন কিনা। সাধারণত কেউ এই পুকুরের দিকে যেতে পারত না। কাউকে যেতে দেখলে এলাকার মানুষ যেতে নিষেধ করতেন। তাই একদিন গভীর রাতে পুকুরের দিকে এগুল সোহাগ। সোহাগকে এই এলাকার কেউ চেনেন না। শুধু এ্‌ই এলাকা নয়, আশেপাশের কোনও এলাকার মানুষই তাকে ঠিকমত চেনেন না। নতুন এসেছেন এই এলাকায় তিনি। একেবারেই নতুন। কি একটা কাজে। কিছুদিন থেকে চলে যাবেন। যাই হোক, চারদিকে কুয়াশা পড়ে আছে। কুয়াশায় অন্ধকার কেমন গলে গলে পড়ছে। সোহাগ ধীরে ধীরে পুকুরের দিকে এগুল। পুকুরের পাড়ে এত রাতে এত গভীর রাতে একজন মানুষের মত কাউকে দেখতে পেল। এই ঠাণ্ডা শীতের রাতে এই পুকুরে এখানকার কোনও মানুষ থাকার কথা না। এখানকার না। অন্য কোনও এলাকা থেকেও এত রাতে পুকুরের পাড়ে আসার কথা না। এই মানুষটা তাহলে কে? এটা কি সেই জমিদার? যে জমিদারের কথা লোকজন এত বলে। সোহাগ সেই মানুষটার দিকে টর্চ ফেলল। এটা ছি ঝোপ-ঝাড়। অন্ধকার রাতে এ্‌ই ঝোপ-ঝাড়ের শেপটা এমন হয়ে গিয়েছিল যে এটাকে মানুষের মত মনে হচ্ছিল। হঠাত সে টের পেলে চারপাশে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেছে। কেউ একজন তাকে শক্ত করে ধরে আবার ছেড়ে দিল। সোহাগ একটি শব্দ টের পেল, মানে একটা প্রশ্ন- জমিদারবাবু?

এরপর থেকে সোহাগ এই এলাকার জমিদার বাবু হয়ে ওঠলেন। সোহাগ যে বাড়িতে থাকেন, সেই বাড়ির এক মাইল দূর থেকেই লোকজন সতর্ক হয়ে যায়, এটা জমিদারবাড়ি। এখানে জমিদার বাবু থাকেন। সোহাগকে দেখলে লোকজন মাথা নিচু করে থাকেন। কেউ কিছু বলেন না। দূরে দূরে থাকেন। সোহাগ যে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বের হন, সেই রাস্তা খালি হয়ে যায়। সেই রাস্তায় আর কেউ হাঁটেন না।


৫০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৫

ইদানিং একটা ছায়া আমার পেছন পেছন প্রায়ই ঘুরতে দেখি। ছায়াটা বড় হয়। ছোট হয়। ছায়াটা একবার ডান দিকে যায়। আরেকবার বাম দিকে যায়। ছায়াটা একবার আমাকে ধরে ফেলতে চায়। আর তখনই আমি পেছনের দিকে তাকাই। দেখি কিছু নেই। কেবল আমার ছায়া। ঠিক ছায়া নয়, কি যেন একটা পেছন পেছন আমার সাথে ঘুরে। আমি পিছনে তাকাতেই দেখি সে নেই।

গতরাতেও আমার এরকম হল। মানে এরকম মনে হল। মনে হল কেউ একজন
আমার পেছন পেছন আসছেন। একবার মনে হল এটা আমার সেই বন্ধুটা ক্লাশে সে প্রায়ই সেকেন্ড হত। আমি কেন বারবার ফার্স্ট হই, এটা তার মাথায় ঢুকত না। একদিন বার্ষিক পরীক্ষার আগে আগে সে আমাকে রাস্তায় আটকে মেরেছিল। সেবারও পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলাম। কিন্তু সে হবে কি করে। এখন সে কোথায় থাকে আর আমি কোথায়। তার তো আমাকে খুঁজে পাবার কথাই না। এটা অসম্ভব। কিন্তু মনে হল সে। সে বেশ কিছুদিন ধরে আমার পেছন পেছন ঘুরছে। একটা সময়, একটা সুযোগমত সময় খুঁজছে। যখনই আমি একা কোনও নিরিবিলি রাস্তায় এসে দাঁড়াই, তখনই ছায়াটা একদম আমার কাছে চলে আসে। আর পেছনে তাকাতে দেখেই ছায়া নেই।

কয়েকদিন আগে সেই ছায়াটিকে আমার বান্ধবীর মত মনে হয়েছিল। সে একদিন তাকে বিয়ে করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু আমার মা-বাবা রাজি হবে না বলে না পিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলাম। পরে শুনেছি সেই বান্ধবীর যার সাথে বিয়ে হয়েছে, সেই ছেলেটি নাকি ভালো নয়। মনে হয়েছিল পেছনে পেছনে সেই বান্ধবীটি আসছে। একদিন বাসায় ফিরতেই বিদ্যুত চলে যায়। সমস্ত বাসা অন্ধকার আর অন্ধকার। ঘরের ভিতরে ঢুকে কোনোকিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তখনই মনে হগল কেউ একজন আমার পেছেন, অবিকল সেই বান্ধবী আর আমি সাহস করে পেছনে ফিরে হাত নেড়েচেড়ে বোঝার চেষ্টা করছিলাম, সত্যিই কি সেখানে কেউ। কিন্তু কাউকেই পেলাম না। পাই নি। এখনও পাই না। কিন্তু মনে হয় সে আমার পেছন পেছন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। একটা সুয়োগ খুঁজে। কিসের যেন সুযোগ। সম্ভবত প্রতিশোধ নিতে চায়। কোনও একটা প্রতিশোধ। কিন্তু কিসের প্রতিশোধ, তা আর আমি ভেব পাই না। সম্ভবত সে আমাকে মেরে ফেলতে চায়। কেন যেন মেরে পেলতে চায়।

রাস্তায় হাঁটছিলাম একা একা। মনে মনে ভাবছিলাম আজ যেই হোক না কেন, যেভাবেই হোক না কেন, আমি তাকে ধরবই। এরকম ভেবে ভেবে হাঁটছি, ঠিক তখনই একটা কিছু আমার পেছনে পেছনে হাঁটছে টের পেলাম। পেছনে তাকাতেই দেখলাম সে। আজ সত্যি সত্যি সেই ছায়াটিকে ধরে ফেলেছি। সে এখন আমার সাথেই আছে।
"

"
১০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৪

তারপর কি?

তারপর আমি আমার কাছে ফিরে আসলাম। মানে বাসায় এসে ফেসবুক খুললাম।

ফেসবুকে দুপুর মিত্রকে জিজ্ঞেস করলাম, কেমন আছেন?

দুপুর মিত্র কোনও উত্তর দিলেন না।


"
২০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩৩

ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হচ্ছে। বাচ্চাটা আজ আর ঘরের বাইরে যেতে পারছে না। কোথাও খেলবে, সবাই বৃষ্টির দিনে কাথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে। মারও ভাল লাগছে না। কেমন যেন অলসতা পেয়ে বসেছে শরীরে। বাচ্চা মাকে বলল- মা ভাল লাগছে না। কোথাও খেলার জায়গা নেই। সবাই বাসায়। আমাকে গল্প শুনাও না। মা বাচ্চার কপালে হাত রেখে বলল- আচ্ছা আয় শোন। এই যে আকাশে মেঘের গর্জ শুনছিস এটা কি জানিস? এই যে
বিদ্যুত চমকাচ্ছে এটা কি জানিস?

মা বলর- পৃথিবীর আদিতে ছিল - শিব আর পার্বতী। শিব দেশ-বিদেশ ঘুরে বেড়াত। পাহাড় থেকে পাহাড়ে সে ঘুরে বেড়াত। শিব যখন এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ে যেত, তখন পৃথিবী কেঁপে ওঠত। শিব যখন কোনও পাহাড়ে দাঁড়িয়ে নাচত, তখন পৃথিবীতে ভূমিকম্প হত। পার্বতী শিবের এই উদাস, চঞ্চলতা পছন্দ হত না। শিবের এই সংসারের প্রতি কোনও রকমের নজর না থাকা পার্বতীর ভাল লাগত না। তখন থেকে এখনও পর্যন্ত শিবের এই আচরণের কোনও পরিবর্তন হয় নি। এখনও শিব চঞ্চল, উদাস। আর পার্বতী নিজে নিজে ডুকরে কাঁদে। তাদের মধ্যে প্রায়ই তাই ঝগড়া হয়। এই যে আকাশের গর্জন দেখছিস, এটা শিবের গর্জন আর এই বিদ্যুত চমকাচ্ছে, এটা পার্বতীর কান্না। ওদের মধ্যে যখন ঝগড়া হয়, তখন এই আকাশ গর্জন করে ওঠে, আর বিদ্যুত চমকায়।

বাচ্চাটা মাকে বলে, তাহলে ঝগড়া খুব খরাপ তাই না মা। তুমি যখন বাবার সাথে ঝগড়া কর, তখনও কি এরকম আকাশে গর্জন হয়? বিদ্যুত চমকায়? মা বাচার এই প্রশ্নের কোনও উত্তর দেন না। কেবল একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে উঠেন, কি জানি বাবা।


১ মিনিটে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩২

আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের সামনেই আরেকটি ফ্ল্যাট। মুখোমুখি দরজা। আমি যখন বের হই, তখন যেমন আমাকে মনে হয় ওদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি, আবার ওরা যখন বের হয়, তখন মনে ওরা আমাদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সেই ফ্ল্যাটেই নতুন ভাড়াটে এসেছেন। একদিন দরজা খুলে বের হতেই দেখলাম, অদ্ভুত সুন্দর এক মেয়ে। অনেকদিন এত সুন্দর মেয়ে আমি দেখিনি। পৃথিবীতে এত সুন্দর মেয়ে থাকতে পারে, তাকে দেখলে প্রথম প্রথম তাই মনে হবে। প্রথম দিন এক পলক দেখেই আমি সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করি। আমার মধ্যে কেমন একটা খুশি খুশি ভাব চলে আসে। কোথ্থেকে অনকগুলো আনন্দ এক সাথে পেখম মেলে নাচতে শুরু করে। আমি সেই আনন্দ শরীরে নিয়ে অফিস করি, বাসায় ফিরি। বাসায় ফেরার সময় এখন আরেকবার খেয়াল করলাম, মেয়েটির দর্শন পাওয়া যায় কিনা। না পেলাম না। মনে মনে ভাবলাম, কাল সত্যি যেন মেয়েটাকে আবার দেখি। আমি অফিসে যাওয়ার জন্য বের হবার সময়ই যেন মেয়েটিও ওদের বাসার দরজায় দাঁড়ায়। আরেকবার দেখব মেয়েটিকে। আরেকবার দেখতে চাই মেয়েটিকে। পৃথিবীতে এত সুন্দর মেয়ে থাকতে পারে। আমি সেই সকাল বেলার সৌন্দর্য শরীরের মেখে ঘুমিয়ে পড়লাম। সকাল হল। অফিসে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিলাম আর ভাবলাম এইবার নিশ্চিত আমি মেয়েটিকে দেখতে পাবে। অবশ্যই দেখতে পাব। দেখা যেন হয়। এরকম বিড়বিড় করতে করতে, আমাদের বাসার দরজা খুলেতই দেখলাম ওদের বাসার দরজার সামনে মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে ভেতরে সাহস সঞ্চয় করলাম। মেয়েটাকে ভাল ভাবে দেখব। গতকাল এক পলক দেখেছি। আজ একটু বেশি সময় ধরে দেখব। দেখলাম মেয়েটির সমস্ত শরীর কেমন শীতের রোদের মত নরম। ঠোঁটগুলো কেমন বুষ্টিতে ভেজা গাছের নরম পাতার মত। চোখগুলো কেমন মেঘের আকাশের মত যেন এই মাত্র বৃষ্টি নামবে আর হেসে উঠবে সমস্ত ধানক্ষেত। খুব বেশিক্ষণ তাকাতে পারিনি। যতটুকু দেখেছি, তাতে বারবার মনে হয়েছে, এই মেয়ের সৌন্দর্য এতটুকু দেখে শেষ হয়ে যাবার মত নয়। এইভাবে প্রায় প্রতিদিন আমাদের দেখা হয়, দেখা হয়ে যায় আর আমি ভিতরে ভিতরে ঠিক করতে থাকি, ভিতরে ভিতরে সিদ্ধান্ত নিতে তাকি এই মেয়েটির সাথে কথা বলব। বললেই বা কি। ওরা আমাদের পাশের বাড়িতেই থাকে। পাশের বাড়িতে কে ওঠল, এটা তো জেনে রাখা দরকার। একদিন জানতে হবে মানে এখনই জানব মানে ওদের ঘরের দরজায় টোকা দিলাম সাহস করে। ভেতর থেকে কথা বলে ওঠল- কে? সেই মেয়েটিই বোধহয়। এত সুন্দর করে কে বলে ওঠল, এত সুন্দর গলার কণ্ঠ- এ সেই মেয়েই হবে। দরজা খুলতেই বুঝতে পারলাম, এ সেই মেয়েটিই। আমি অনেকটা অপ্রস্তুত হয়ে গেলাম। নিজেই এসেছি , পাশের বাড়িতে কে থাকে এটা খুঁজ নেবার জন্য অথচ আমিই দেখেন অপ্রস্তুত। না বিষয়টা একদমই স্বাভাবিক না। আমাকে কথা বলতে হবে মানে আমি কথা বললাম সাহস করে। আমি আপনাদের পাশের ফ্ল্যাটেই থাকি। আপনাদের সাথে পরিচয় নেই তো অথচ পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন; তাই খোঁজ নিতে এলাম। মেয়েটি হাসল। এই হাসি নয়, গোধূলি বেলায় রোদের রং যেরকম নরম করে হাসে, সেটা। মেয়েটি বলল- ভিতরে আসুন। আসলে আমাদেরই দোষ। নতুন উঠেছি তো। সবকিছু গোছগাছ করা হয়নি। একদমই সময় পাচ্ছি না। তাই আপনাদের সাথে পরিচিত হওয়াও উঠেনি। বাসায় আমার হাসবেন্ড আছেন। উনাকে ডেকে দিচ্ছি। উনার সাথে কথা বলুন। আমি চা করে নিয়ে আসছি। আমি বললাম - আচ্ছা আর ভিতরে ভিতরে ভাবলাম- এ মেয়ে নয়, এ বউ। বউ এত সুন্দর হতে পারে! যে লোকটা তাকে বিয়ে করেছে, সে আসরে কতই না ভাগ্যবান। লোকটা আসল। আমরা অনেকক্ষণ আলাপ করলাম। লোকটা একসময় দাপুটে সাংবাদিক ছিল। বাংলাদেশের হেন জায়গা নেই যে দাপিয়ে বেড়ায় নি। সড়ক দুর্ঘটনায় এখন এক প্রকার অবশ হয়েই বসে থাকেন বাসায়। অনেক ভাল মানুষ। অনেক জানা-শোনা। মেয়েটি চারু-কলার ছাত্রী ছিল। পড়াশোনা শেষ। মাঝে মাঝে কিছু কাজ করে। আর ছেলেটি স্ক্রিপ্ট লিখে। এই দিয়েই সংসার চলে। এক প্রকার সংসারটা মেয়েটিই ধরে রেখেছে।

কেমন এলেমেলো হয়ে গেল। আমি ঘরে বসে ভাবলাম- কি যেন একটা হয়নি, কোথায় যেন কি একটা হয়নি, কি যেন একটা হওয়ার কথা ছিল কিন্তু হল না। একপ্রকার অস্থির লাগছিল বলা যায়। কিন্তু এই অস্থিরতা কোনও কারণ ছাড়া। কারণ ছাড়াও মানুষ অস্থির হয়ে ওঠে। অকারণে বিচলিত যাকে বলে। পরদিন সকালেও মেয়েটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। সৌজন্যতার খাতিরে বললাম- কেমন আছেন? মেয়েটি বলল- হ্যাঁ আছি, ভাল আছি। আপনি? আমি বললাম - হ্যাঁ ভাল। অফিসে যাচ্ছি। আজ মেয়েটিকে ততটা সুন্দর মনে হল না। যতটা সুন্দর আগে তাকে মনে হয়েছে। এই গতকালও তাকে যতটা সুন্দর মনে হয়েছে, আজ কিন্তু তাকে তা মনে হল না। আমি অফিস করে বাসায় ফিরলাম দেখলাম মেয়েটিও তাদের বাসার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। কয়েকদিন যাবত আবার মনে মনে একটা সন্দেহ দানা বেধে উঠল। আমি যখনই বরে হই, দেখি মেয়েটি ওদের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে, আমি যখনই বাসায় ফিরি দেখি তখনও মেয়েটি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে। মেয়েটি এত দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে কেন? অন্য সময় তো তাকে দেখা যায় না বা আদৌ দেখা যায় কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য আমি একদিন দুপুর বেলায় বাসায় ফিরলাম। দেখি আমি আমাদের বাসার সামনে দাঁড়াতেই মেয়েটি তাদের বাসার সামনের দরজা খুলল এবং বলল- কি ব্যাপার আজ দুপুরে বাসায় চলে এলেন। শরীর খারাপ নাকি? আমি হেসে বললাম না। অফিসে তেমন একটা কাজ নেই। তাই চলে এসেছি। এই প্রথম আমি বুঝতে পারলাম মেয়েটি আমাকে অনুসরণ করে। মেয়েটি আমাকে খেয়াল করে। আমি কখন ঘরে ফিরি। আমি কখন ঘর থেকে বের হই। এতদিন যে তাকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, তা আসলে তার অনুসরণেরই অংশ। সে আমাকে ফলো করে। কি ফলো করে? কেন ফলো করে। সন্দেহ বাড়তেই থাকল এবং আরও বেশি পাকাপোক্ত হতে থাকল সন্দেহ। আমার মনে হল আমার মেয়েটি জিজ্ঞেস করা উচিত, কেন সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু এটা কি করে বলা সম্ভব? ওদের বাসার সামনে ওরা দাড়াবে না তো কে দাঁড়াবে? এটা কি করে বলা যায়? এটা কি বলা যায় আদৌ? না বলা যায় না ? তাহলে কি বলা যায়? কিছুই খুঁজে পেলাম না। কিন্তু এটা ভাল খবর না যে আমার পাশের বাড়ির একজন মেয়ে আমাকে ফলো করে মানে আমি কখন বাড়ি থেক বের হয়, কখন ফিরি, কিভাবে ফিরি। হাতে কি থাকে? সব, সব? কিন্তু ফলো করলেই কি? আমি এমন কি করি যে তাকে ফলো করতে হবে? যার ইচ্ছে ফলো করার, সে করুক। তাতে আমার কি? কিন্তু অন্য কোনও কারণও তো থাকতে পারে? মেয়েটার হাজবেন্ড অসুস্থ। কাজ করে না। বলতে গেলে সংসারটা মেয়েটাই চালায়। তাহরে মেয়েটা কি অন্যকিছু চায়। অন্যকিছু, অন্যকিছু মানে শরীর। সে হয়ত দীর্ঘদিন এমন কিছু পায় না যা সে চায়। সে হয়ত দীর্ঘদিন এমন কিছু পায় না, যা তার পাওয়া উচিত। সে কি একটা সুযোগ খুঁজছে, সে কি একটা বিশেষ সময় খুঁজছে যে এই সময় পেলেই সে আমাকে একটা ইশারা দেবে। বা সে হয়ত ইশারাই দিয়ে গেছে এতদিন, কিন্তু আমি তা টের পাইনি। এটাও হতে পারে। কিন্তু এরকম একটা সুন্দর মেয়ে যদি আমাকে চায়, যদি সে এও বলে যে আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই, তাহলে আমার রাজি হয়ে যাওয়া উচিত। মনে মনে এই সিদ্ধান্ত নিলাম সে যদি সত্যিই আমাকে কিছু দিতে চায় বা পেতে চায় মানে শরীরের স্বাদ আমি তাকে দেব মানে আমিও নেব বা এর বদরে যদি আমাদের বিয়েও করতে হয় তাতে আমরা রাজি। এই সিদ্ধান্ত ভিতরে ভিতরে পাকাপোক্ত করে ফেললাম। আমার মনে হল আমার সিদ্ধান্ত টিক আছে। একদিন অফিস থেকে পিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল, এদিকে বাইরে ঝুম বৃষ্টি। আমি কোনও রকমে বাসায় দরজায় সামনে এসে দাঁড়িয়েছি, অমনি এত রাতে টের পেলাম একটি হাত। পেছনে থাকিয়ে দেখি মেয়েটা। বলে ফেললাম মানে মুখে চলেই এল- এত রাতে। মেয়েটা হাসল। এই হাসি এমন যে সে আমাকে নিশ্চিত চায়। আদ্যোপান্ত চায়। এই বৃষ্টিতে ভেজা ঠাণ্ডা শরীইটা কেমন গরম হয়ে ওঠল। সে আমার ঘরের ভেতরে এখন। আমি তোয়ালে দিয়ে গা মুছে, ফ্রেশ হয়ে সোফায় বসলাম। মেয়েটির সোফায় বসে আছে। একটা ম্যাগাজিন দেখছে। আমি মেয়েটির কাছে ঘেঁষে বসার চেষ্টা করলাম। মেয়েটি কিছু বলছে না। আমার শরীর তার শরীর কিছুটা ছুঁয়েছে। মেয়েটা তখন বলল- আমার হাজবেন্ড দীর্ঘদিন চাকরি-বাকরি পাচ্ছে না। অনেকদিন ধরেই ও ট্রাই করছে। শুনেছি, আপনার অনেক বন্ধু-বান্ধব অনেক ভাল ভাল জায়গায় কাজ করে। ওর জন্য আমি একটা কিছু করে দিতে পারবেন? আমি একটু দূরে সরে বসলাম। প্রচণ্ড গরমে এই বৃষ্টির রাতে যে শরীর কাঁপছিল, সেই শরীরটাই হঠাত করে কেমন শীতল হয়ে এল। আমি মাথা নিচু করে আচ্ছা বলতেই মেয়েটি উঠে ওদের বাসায় যাওয়ার জন্য দাঁড়াল এবং দরজায় বাইরে গিয়ে বলল দেখবেন কিন্তু।


৪০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩১

এক দেশে ছিল দুই বন্ধু। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় এক সাথে শেষ করে এখন তারা দু'জন দুই দিকে চলে গেছে। এদের একজন ছিল খুবই মেধাবী আর পড়ুয়া। বই দিয়ে রাখলে সারাক্ষণ সে বই নিয়েই বসে থাকে। তার জগত বলতে এই শুধু বই আর বই। ও প্রেমেও পড়ে বইয়ের নায়িকাদের। কষ্টও পায় বইয়ের কথায়। আরেকজন ছিল বিপ্লবী। মানে কলেজে এসেছে, সেখানে বিপ্লব। সারাদিন ঘুরবে,সেখানে বিপ্লব। প্রেম করছে, সেখানেও বিপ্লব। বইয়ের প্রতি তার কোনও ভাললাগা ছিল না। পড়ত, তবে বইটা তার ধান-জ্ঞান ছিল না। মানে বইয়ের ভেতরেও সে বিপ্লব খুঁজে বেড়াত। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে সে কখনও বই ধরে দেখেছে কিনা সন্দেহ আছে। আন্দোলন আর আন্দোলন। যেন কালই শুরু হবে বিপ্লব। কালই ভেসে ওবে তার স্বপ্ন। কালই পেয়ে যাবে সে যা চায় প্রাণপণে। আর ওই বন্ধুটিকে বাইরে তেমন দেখা যেত না। ডিপার্টমেন্ট-ক্লাশ-রুম ছাড়া সে তেমন কোথায় বেড়িয়েছে বলে অনেকেই জানে না। আমরা ভাবলাম বই পড়ুয়া ছেলেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবে আর বিপ্লবী ছেলেটি পার্টির হোল টাইম কর্মী হবে। কিন্তু পড়ুয়া ছেলেটিকে বিশ্ববিদ্যালয নিল না। কারণ সে রাজনীতি করে না। কারণ সে রাজনীতি বুঝে না। অ আও বুঝে না। খালি বই আর বই। ওদের ক্লাশে সে সেকেন্ড সে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হল। তাকে নেওয়া হল না। শেষে তার এমন অবস্থা কোথাও চাকরি পাবে, আদৌ তার কোনও চাকরি হবে কিনা বা চাকরি পাবে কিনা এরকম অবস্থার মধ্যে পড়ে গেল সে। কোনও রকমে সরকারি চাকরিতে পরীক্ষা দেবার বয়স পার হবার আগে-ভাগে একটা চাকরি জেটে গেল তার। মফস্বলে পোস্টিং। মফস্বলই তার ভাল লাগে। ঢাকা তার ভাল লাগে না। আর বিপ্লবী ছেলেটি তো বিপ্লব নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু চলতে তো হবে। ঢাকা ছাড়া বড় নেতা হওয়া যায় না। কিছুদিন সে পার্টিতে থেকে দেখা গেল একটি ইন্টারন্যাশনাল এসজিওতে বড় পদে ঢুকে গেল। সেই দুই বন্ধরই আজ দেখা হল হঠাত। কি একটা কাজে পড়ুয়া বন্ধুটি ঢাকায় এসেছে। রাস্তাতেই নিজের গাড়ি করে যাচ্ছিল অফিসে। বিপ্লবী বন্ধুটিও খেয়াল করল পড়ুয়া বন্ধুটির মতো একজন আট নম্বর বাসে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু উঠতে পারছে না। বারবার খেয়াল করে নিশ্চিত হল যে এটা পড়ুয়া বন্ধুটিই। গাড়ি থেক নেমে নাম ধরে ডাকতেই পড়ুয়া বন্ধুটি চিনতে পারল এটা সেই বিপ্লবী বন্ধু। এই ভিড়ের ভেতরে দুইজনে কোলাকুলি করল। পড়ুয়া বন্ধুটি অবশ্য এরকম অবস্থায় কোলাকুলি করতে চায় নি। কিন্তু বিপ্লবী বন্ধুটি যেহেতু নেতা- মানে নেতা সুলভ মানে মানুষকে বুকে টেনে নেওয়াটাই তার বাসনা তাই তারা কোলাকুলি করল।

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- চল।
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- কোথায়?

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- আমার গাড়িতে।
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- না মানে আমি মতিঝিলের দিকে যাব।

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- পথে যেতে যেতে সব কথা হবে। তোকে মতিঝিলে নামিয়ে দিয়ে আমি অফিসে যাব।
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- আচ্ছা, ঠিক আছে।

বিপ্লবী বন্ধুটির অনেক সংকোচ-দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, পূর্বেকার বিপ্লবী কর্মকাণ্ড সবকিছুই অনেক ভয়ে ভয়ে রাখত পড়ুয়া বন্ধুটিকে। সেই ভয় এখনও যায় নি। এই যে নিজের গাড়ি করে সেখানে পৌঁছে দিয়ে আসব। ঢাকা শহরে তারপর আবার নিজের গাড়ি করে পৌঁছে দিয়ে আসবে এর মধ্যে বড় ধরণের একটা নেতৃত্ব সুলভ আচরণ রয়েছে আবার পড়ুয়া বন্ধুটির আশঙ্কাও রয়েছে যে ছেলে সারাক্ষণ বিপ্লব বিপ্লব করে ঘুড়ে বেড়াত তার নিজের গাড়ি, কি করে সম্ভব এসব, নিম্চয়ই এখানে একটা বিপ্লবী চটকদারী আছে; এরকম ভেবে ভয়ে ভয়ে গাড়িতে ওঠল এবং জিজ্ঞেস করল বিপ্লবী বন্ধুটিকে- কি করছিস?

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- আমি একচি এনজিওতে কাজ করি। গুলশানেই অফিস। তোকে নামিয়ে দিয়ে গুলশানে যাব। তোর কি খবর।
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- এই ত আছি। একটা ছোট সরকারি কাজ করি। মফস্বলেই থাকি।

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- বিয়ে করেছিস?
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- করেছি। এক ছেলে। তুই?

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- আমারও এক ছেলে, নাম রেখেছি বিপ্লব।
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- হা হা। এখনও বিপ্লব করছিস?

বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- আমি বুঝি না। সবাই কেন বিপ্লব বলতে গরীবদের সাথে, জেলে-মুচিদের সাথে থাকতে হবে মনে করে। ক্ষেতে-খামারে তাকতে হবে মনে করে। সবখানেই বিপ্লব দরকার আছে। এই ধর আমি এনজিও করি। বাইরের পয়সায় চলি। এর মানে কি এইখানে বিফ্লব করার নাই। একবার ভাব, এদেরকে যদি সংগঠিত করা যায়, বিপ্লব কতদূর এগিয়ে যাবে?
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- হ্যাঁ।

আলাপ করতে করতে মতিঝিলে এসে গেল তারা। পড়ুয়া বন্ধুটিকে নামিয়ে বিপ্লবী বন্ধুটি বলল- কাজ কখন শেষ হবে। সন্ধ্যার দিকে আমি শাহবাগে থাকব। আমাদের সব বিপ্লবী বন্ধুরাই এখন শাহবাগে আসে। সবাই বিভিন্ন কাজ করে। কাজ শেষে সন্ধ্যা বেলায় আমরা আড্ডা দেই। তুই থাকলে ভাল লাগবে।
পড়ুয়া বন্ধুটি বলল- আচ্ছা আসতে পারি দেখা যাক।


"
২০ সেকেন্ডে পড়ুন: ফ্লাস ফিকসন-কিচ্ছা: ৩০

আজ দেখলাম ফার্মগেটে এক কোনায় বসে একটা মেয়ে হাসছে যে শুধু হাসছেই। মানে বুঝলাম না। মেয়েটি এত হাসছে কেন? তার এই হাসি দেখে আমারও হাসি পেল। দেখলাম কিছুক্ষণ পর তার সাথে আরেকটা বুড়ো লোকও হাসিতে যোগ দিল। অল্প কিছুক্ষণ পর দেখলাম একজন মহিলাও তার সাথে হাসছে। ব্যাপারটা খুব ইন্টারেস্টিং মনে হল। বিষয়টা আসলেই কি এটা জানার জন্য আমি ওদের কাছে গেলাম। হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলাম। কি ব্যাপার এখানে আপনারা সবাই এত হাসছেন কেন? আমি যাওয়ার পরপর আরও কয়েকজন সেখানে এসে হাসতে লাগল। মেয়েটা বলল- আমি হাসছি। কারণ আমি সবার হাসি মুখ দেখতে চাই। দিন দিন আমরা কেবল বিষণ্ণ থেকে বিষণ্ণ হয়ে পড়ছি। আমাদের অনেক হাসিমুখ থাকা দরকার। সমাজের সব খানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দরকার এই হাসিমুখ। কিন্তু হাসিমুখ একদমই দেখা যায় না। কিন্তু চুপ করে বসে থাকলে তো চলবে না। কাউকে না কাউকে এর দায়িত্ব নিতে হবে। মাথায় বুদ্ধি এল। একজনের হাসতে দেখলে আরেকজন মানুষ অবশ্যই হাসবে। তাই হাসছি। আপনিও হাসুন।




লেখক পরিচিতি

দুপুর মিত্র

লেখক। গল্পকার। ব্লগার। সাংবাদিক।
কবিতার বই : ত্রিকোনমিতি।
গল্পের বই : চৌকাঠ, দশভূজা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন