শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০১৪

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের গল্প : ভারতবর্ষ

‘সঈদুল’ রাখি বলল, ‘ আমাকে চুমু খেয়েছে।’

কিছু নদী আছে, যাতে জোয়ার-ভাটা খেলে না। হেমাঙ্গের মুখ সেই জাতীয়। মনোভাবের, মুখ দূরস্থান, তার মনেও কোনও ছায়া পড়ে না। অনুভব, আবেগ, এ-সব গ্রহণ করার মতো তার মন আছে কিনা, সে নিজেও ভাল বোঝে না। থাকলে, মুখে-চোখে না হোক, অন্তত মনে ধরা দেবে এই যদি হয় পূর্বশর্ত, তাহলে মানতেই হয় যে ও- ব্যাপারে আজও সে প্রামাণ্য নয়।
অনুভব, আবেগ-বিশেষত প্রেম সংক্রান্ত যেগুলো—সেসব সরল জিনিস। কিন্তু-আবেগ সমূহের মধ্যে জটিলতম যেগুলো, যেমন ধরা যাক, জিঘাংসা কি রিরংসা—যে দুটো নাকি মানবিক হয়েও অনেকখানি পাশবিক, একটা প্রমাণ তো রেখে যাবে তারা! একটা দাগ রেখে যাবে! মুখে-চোখে না রাখুক, অন্তত মনে! কিন্তু হেমাঙ্গের ক্ষেত্রে প্রমাণ কই যে তারা ছিল বা আছে? বিশেষত ওই জিঘাংসার ব্যাপারটা। না—না, সেরকম নেই কেউ তার জীবনে, তার জীবনে কখনও দেখা দেবে না সে-যে, খুন হতে পারে , তার মতো মানুষের হাতে। আত্মহত্যা? হ্যাঁ, সেও একটা খুন বটে, আবার ঠিক খুনও নয়। সেই জন্যই তো ফাঁসি হয় না, বা যাবজ্জীবন। প্রকৃত খুন হলে হত নিশ্চয়ই। তাছাড়া, তাই যদি হবে লোকে লিখে যায় কেন যে ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়?’ মানে তো একটাই। আমাকে কেউ খুন করেনি। আমার মৃত্যুর জন্য কেউ খুনী নয়। তাই, রাগ-দুঃখ, আনন্দ-অভিমান থাকে থাক, না-থাকে থাক, শেষমেস অমনিই দাঁড়িয়েছে তার ভাবখানা। জন্ম-প্রতিবন্দী তো হয় অনেকে। হয় না? কালা, বোবা, জড়বুদ্ধি, বগলে-ক্রাচ, অন্ধ, হ্যাঁ জন্মান্ধ... কত রকম তো আছে। জোয়ার-ভাটা নেই, এমন নদী আছে কত।

‘ইনফ্যাক্ট’, প্রায় খবর পড়া গলায় রাখি বলল, আই হ্যাড টু স্লিপ উইথ হিম।’

হেমাঙ্গ চুপ করে আছে। থাকবে জানা ছিল। স্বামীকে ঠিক বুঝতে একটুও ভুল করেনি রাখি। ১৩ পেরিয়ে ১৪য় পড়ল তাদের দাম্পত্য, এ-টুকু না-বোঝার কথাও না। যাদের বলা যায় না, মেয়েরা এ-সব কথা তাদের বলে না। সেই সব স্বামীকে। মৃত্যু পর্যন্ত সে বোঝা বহে নিয়ে যায়। কিন্তু, এক্ষেত্রে তার প্রয়োজন ছিল না। তাই বোঝা নামিয়ে রাখল। যদিও ঝাড়া দুমাস ধরে ভেবেছে। কেননা, ঘটনা তো মাস দু’ই আগের। সেই যেদিন বাবরি। তারপর, আজ, অবশেষে বোঝা নামিয়ে রাখল। যে, যা ছিল অবধারিত, অথচ, অযথা দেরি হচ্ছিল এবং অকারণে, তা ঘটে গেছে।

যা, বলার, তা বলা হয়ে গেছে, অন্তত, মোদ্দা কথা যেটুকু। কিন্তু, শত হলেও, ব্যাপারটা তো সারমেয়ো-সমাজের নিয়মে হয়নি। যে, মেটিং সিজনে এক কুকুরের সঙ্গে দেখা হয়েছিল এক কুকুরির। আর মদ্দাটা ছিল ভারি ষণ্ডা, বাকিগুলো তাই লেজ গুটিয়ে তাকে পথ ছেড়ে দেয়। আর তাই, যা হবার, তা হয়ে গিয়েছে। এরপর এ বিষয়ে আর উচ্চবাচ্য না করলে ব্যাপারটা ফলত তাই দাঁড়ায়। কিন্তু, গর্হিততম কাজ, এমন কি ঠাণ্ডা মাথায় খুন করে এলেও, মানুষ মানুষই থেকে যায়। ফাঁসির দড়ি থেকে যে ঝুলছে, দুলছে, সকলেই জানে, সে একজন মানুষ। সে তুলনায় ৬ ডিসেম্বরের বাবরি ভাঙার দিন যা ঘটে গিয়েছে সে তো কিছুই না। সত্যি বলতে বাবরি মসজিদ যে তখনই ভাঙছে, রাখি জানত না। জানা গেল বিকেল ৭টার খবরে। আর ঘটনা ঘটেছে সেদিন দুপুরে। সঈদের টটি লেনের স্টুডিওয়। অবশ্য সঈদ হয়তো জানত মসজিদ ভাঙার ব্যাপারটা। বিবিসি তো তখন থেকেই দেখিয়েছিল, শাবল গাঁইতি নিয়ে যখন যখন ওরা গম্বুজে উঠে গেছে। সে নিশ্চয়ই দেখেছিল। সে যা জানত সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল রাখি। দোতলায় স্টুডিওয় অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে ছেলে সৌম্যকে বসিয়ে রেখে সে যখন নিচে নেমে এসেছিল, মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ কী ভেবে নিয়ে, কাঁধে হাত রেখেছিল রাখির। গুলি বর্ষণের মতো তার চক্ষুকোটর থেকে বেরিয়ে আসা, কী অনর্গল দৃষ্টিপাত। তার হাত ধরে সেভাবে বেডরুমে ঢুকেছিল সাঈদ, যেভাবে, যুদ্ধের সময় মানুষ আত্মরক্ষার্থে ট্রেঞ্জে ঢোকে। যদিও সেদিন সন্ধ্যাবেলা, ওদের ট্যাক্সিতে তুলে দেবার সময় পর্যন্ত সঈদ কিছুই বলেনি। কিন্তু, মসজিদের প্রথম গম্বুজ তখনই ভেঙে পড়ে। সেদিন শনিবার। দুপুরবেলা। যখন সঈদ বিছানা ভাঙছে। পরে সময় মিলিয়ে দেখেছে রাখি।
রাখি তাই কথা বাড়াল, ‘ইচ্ছা আমার ছিল না মোটেই। কিন্তু, জানো তো, হ্যাউ দিজ থিংস হ্যাপেন। অ্যান্ড ইন্সপাইট অব ইওরসেলফ।’

ঠিক দুমাসের মাথায় আজ আর এক শনিবার। আজও দুপুরবেলা। রাখির মাথা আজ হেমাঙ্গর বুকের কাছে। হেমাঙ্গর রোমবহুল লম্বা হাত তার উন্মুক্ত পিঠের ওপর মেরুদাঁড়ায় প্রারম্ব পর্যন্ত পড়ে আছে।
হেমাঙ্গ এতক্ষণ একটাও কথা বলেনি। কথা বলা দূরে থাক, একটা ভাবনাও তার মনে জাগেনি এখনও। ৬ ডিসেম্বর যখন বাবরি ভাঙা হচ্ছিল, সে ছিল ইন্দোরে। এন টি সি-র বন্ধ কারখানাগুলো নিয়ে লেবার সেক্রেটারি অহল্যা বান্দেকরের সঙ্গে মিটিং—সঙ্গে ওখানকার শ্রমিক নেতা লোকেশ গাউর, প্রকাশ জৈন এরা সব। হঠাৎ খবর এল। সেক্রেটারির এ্য্যান্টি চেম্বারে ‘সোনি’ টিভিতে তারাও বিবিসি-তে দেখল যা দেখার। তখন কি, যা ঘটছে, তার বেশি কিছু, কোনও ভাবনা, তাদের মনে এসেছিল? যা ঘটে যাচ্ছে, তাকে, ফর্ম এবং কন্টেন্টে, সর্বাংশে মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল তখন? বলতে হয় তাই আমরা বলি, ওকে চিনি, ওটা জানি। এমনটা হবে জানতাম। কত ভুল জানি আমরা তা বোঝা যায়, জানার বাইরে যখন কিছু ঘটে যায়, তখন। ওই যে আমার হাতটা, যা এখন রাখির পিঠ জুড়ে আছে, কতদিনের চেনা, তবু আমি কি ওকে চিনি! ওকি, সত্যিই আমার। আমার বুকে যার নিশ্বাস পড়ছে, যে একতরফা, একা-একা ভালবাসে আমাকে, হ্যাঁ, ভালই তো বাসে, ভালবাসায় যে রেখেছে বিশ্বাস, সেও কি আমার খুব চেনা, জানা? আমি তার আবেগ-অনুভবকে চিনি?

‘কী ব্যাপার, তুমি কিছু বলছ না যে!’

কী যে বলা যায়, তা মনে এসে যাবে ভেবেই হেমাঙ্গ এতক্ষণ খাটের পাদদেশে টিভির দিকে তাকিয়ে ছিল। সুশিক্ষিত ওষ্ঠলীলা ও দুই হাতের নিপুণ মুদ্রা সহযোগে বোবা ও কালাদের জন্য টিভিতে খবর বলা হচ্ছে। চৌকো খুপরির মধ্যে বিলম্বিত লয়ে খবর পড়ে যাচ্ছে আর একটি মেয়ে, যদিও শোনা যাচ্ছে না কিছুই। হেমাঙ্গ শুনতে চেয়েছিল! বাবরির ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এক জায়গায় সামিয়ানার নিচে সদ্য প্রতিষ্ঠিত রামলালার বিগ্রহ। পূজা ও ভজন চলছে, তাও দেখাল। ভক্তবৃন্দের লম্বা লাইন। মিলিটারি। জনসভায় লালকৃষ্ণ আদবানি। কিন্তু বিছানা থেকে উঠে রাখি ‘পরে শুনো আবার তো বলবে’ বলে সাউন্ড অফ করে দিয়েছে। কথার জন্য হেমাঙ্গ তাই ঘরজোড়া জিনিসপত্রের দিকে তাকায়। ডাইনিং স্পেসে চলে যায় তার দৃষ্টি, ঘর ছেড়ে। কাঁধে-পতাকা লেনিনের প্রাগ্রসর ছবির দিকে তাকিয়ে থাকে।
‘সৌম্য কোথায়?’

‘ওর তো আজ ছবির লেসন। ওর ওখানে গেছে।’

নামটা উচ্চারণ করল না রাখি। তাই হেমাঙ্গ জানতে চাইল, ‘সঈদের ওখানে?” নইলে তার প্রয়োজন ছিল না।

আদবানির ঠোঁট নড়ছে। মন্দির ওঁহি বানায়েঙ্গে।

‘লোকটার সঙ্গে হিটলারের একটা মিল আছে।’ গণতান্ত্রিক শিল্পী সঙ্ঘের নেতৃস্থানীয় সভ্য সঈদুল ইসলাম একদিন হেমাঙ্গের কাছে জানতে চেয়েছিল, ‘কোথায় বলতো?’

‘দু’জনেই ফ্যাসিস্ট?’

‘না’, সঈদুল বলেছিল, ক্যানভাসের মূল রঙ লালে সবুজে মিশিয়ে ও কিছুটা হরিদ্রাভ করে দিতে দিতে, ‘দু’জনকেই কিডিওকার দেখতে।’

খুব হেসেছিল সেদিন ওরা দু’জনে। একসঙ্গে হো-হো করে। কোথা থেকে কী, হঠাৎ মনে এল হেমাঙ্গের।

‘কোথায় গিয়েছিলে তোমরা?’ সে অবশেষে জানতে চায়।

‘আমরা গিয়েছিলাম? আমরা ‘কোথায়?’ রাখি উঠে বসল, ‘আমি গিয়েছিলাম।’

‘কোন’ হোটেলে?’

‘হোটেলে নয়। টটি লেনে। ওর স্টুডিওয়।’

‘ফোন করেছিল?’

‘না-না। আমি নিজেই চলে গেলাম। তোমার সোয়েটারের উল পাল্টাতে, গিয়েছিলাম নিউ মার্কেটে। কাছেই টটি লেন। ভাবলাম, যাই সৌম্যর সঙ্গে ফরব। বৌ-বাচ্চা ছিল না।’

হঠাৎ অকারণে ফিসফিস করে রাখি বলল,’বহরমপুর গেছে!’ যেন এটাই আসল কথা, যা গোপনতম গোপন।

‘কী করে হল ব্যাপারটা, বল?’

‘ কী করে হল? কী বলছ তুমি? জন্তু-জানোয়ারের মত টেনে নিয়ে গেল!’

উঠে বসে চুল গোটাতে শুরু করল রাখি। উত্তেজনায় এত বড় নিঃশ্বাস নিল সে, যে এতক্ষণ হুকে আটকে-থাকা ব্রেসিয়ার খুলে তার কোলে পড়ে গেল, ‘জাস্ট লাইক আ বুল। কোনও প্রিটেনশান নেই। কৈফিয়ত নেই। একটা কিস পর্যন্ত করেনি, তখনও, জানো?’ শুধু মনে হচ্ছিল যেন ডেস্ট্রয় করতে চাইছে কিছু। আমাকে। শাবল দিয়ে গাইঁতি দিয়ে শুধু ঘা দিচ্ছে আমায়। সর্বত্র। পারলে বোধ হয় ছিঁড়ে ফেলত। বিশেষ করে ভাষা। কি যাচ্ছেতাই জাত তুলে সব কথা। ট্যাক্সিতে তুলে দেওয়া পর্যন্ত একবারও অ্যাপোলোজাইস করল না।’

অনেকক্ষণ চুপচাপ। টিভিতে আজ দুপুরের মতো প্রোগ্রাম শেষ। একটা খিসখিস আওয়াজ হচ্ছিল। এবার হেমাঙ্গ সুইচ অফ করে দেয়।

‘তুমি ওইদিনটা,’ হেমাঙ্গ বলল, ‘না গেলেই পারতে।’

‘বাঃ! আমি কি জানতাম নাকি যে ওইদিনই সত্যি বাবরি ভেঙে ফেলবে। ও কিন্তু জানত, জানো? বিবিসি-তে দেখেও ছিল মনে হয়।’

‘কী করে বুঝলে?’

‘সে আমি বুঝেছি।’ হঠাৎ আবার ফিসফিসিয়ে এল রাখির গলা,’ সে কি রোখ! সে কি আক্রোশ! যেন দাঙ্গায় নেমেছে। পুরো হিন্দু –মুসলমান করে তুলল ব্যাপারটা, বিশ্বাস করো—’ এত বলে হেমাঙ্গর কবজি চেপে ধরে রাখি। তার সর্বাঙ্গ থরথরিয়ে কেঁপে ওঠে, ‘যেন খুনি। যেন খুন করছে!’

‘আবার ফের সৌম্যকে পাঠালে?’

‘ও তো যাবেই। আঁকার নামে পাগল। আর মাস্টারমশাই বলতে অজ্ঞান। ও তো কিছু জানে না।’ রাখি বলল, ‘ওকে বলা যায় না। আটকাবো কি করে?’



সেদিন মধ্য্যরাতে হঠাৎ খুব মেঘ ডাকাডাকি। তাতে ঘুম ভাঙ্গেনি। একটি বজ্রপাতের শব্দে সে ধড়মড়িয়ে বিছানায় বসে।

সে দেখল, রাখি পাশে নেই। এমন অভিজ্ঞতা তার বিবাহিত জীবনে এই প্রথম বালিশের তলা থেকে রেডিয়াম-লাগানো রিস্ট ওয়াচ বের করে সে দেখল, রাত তিনটে।

পাশের ঘরে দিদিমার সঙ্গে সৌম্য ঘুমিয়ে। বাথরুমে নেই। রাখি বারান্দায় নেই। তাদের ফ্ল্যাটের লাগোয়া ৭ তলা পর্যন্ত একটা ব্লক উঠেছে। ৫ তলা অব্দি উঠে কাজ বন্ধ রয়েছে। ৬ তলা পর্যন্ত বিম লেগে গেছে। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে সে দেখল, নিচে ৫ তলায় একটা ছাদে একটা বিমের পাশে রাখি বসে আছে। আকাশ ঝুলে পরছে মেঘে মেঘে।

সিঁড়ি দিয়ে নেমে হেমাঙ্গ ওর পাশে গিয়ে দাঁড়ায়।

হেমাঙ্গ কাঁধে হাত রাখে রাখির। রাতে খোঁপা দেখে ঘুমিয়েছিল। এখন ওর চুল খোলা। খোঁপা ভেঙে চুলের তোড় এখন প্রবল জোলো হাওয়ায় তার পিঠ ভাসিয়ে ফেঁপে উঠছে।

‘কী হয়েছে রাখি?’

উত্তর নেই।

‘কী হয়েছে রাখি?’

‘কিছু না।’

‘নিশ্চয়ই কিছু। বলো আমাকে।’

সে এবার দু’হাতে রাখিকে তুলে দাঁড় করায়।

রাখির পিছনে বিরাট একটা জলার মতো পুকুর। তার পিছনে মাঠ। মাঠ ফুঁড়ে উত্তোলিত ত্রিশূলের মতো একটি বিদ্যুৎ উঠে। কিন্তু, আশ্চর্য, এবার মেঘের ডাক শোনা গেল না। হঠাৎ উঠে দাঁড়াল রাখি। বৃষ্টি শুরু হল বলে? না। দু’হাতে হেমাঙ্গকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘ওগো, এই নিয়ে আমি দু’বার পিড়িয়ড মিস করেছি।’ তার বুকের মধ্যেও ভিজে কবুতরের মতো তিরতির করে সে কেঁপে যাচ্ছে।

‘৬ ডিসেম্বর আমার কোনও প্রোটেকশন ছিল না।’


রাখি কেঁপেই চলেছে। বুকে চেপে ধরে সে কাঁপুনি থামাতে পারে হেমাঙ্গ। তাদের দু’জনকে ঘিরে অঝোরে আবার বৃষ্টি নেমে আসে।


লেখক পরিচিত
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়

জন্ম ২৫ অক্টোবর ১৯৩৩ কলকাতায় | জিজ্ঞেস করলে বলতে পছন্দ করেন ' লেখাপড়া যত্রতত্র' | পেশাগত সূত্রে জড়িত ছিলেন কলকাতা কর্পোরেশনের সঙ্গে | জড়িত একটি জনপ্রিয় বাংলা দৈনিকের সঙ্গেও | ' কোনপ্রকার অভিমন্যুচেতনা,বুহ্যভেদ,রণভূমির হিরো বা গদ্য নির্মানের জন্য আমি কলম ধরিনি | কিছু হবার জন্য বাঁচিনি | লিখিনি | লেখক হতে চাইনি'| বলেন তিনি |'এমন একটা অন্তঃশীল হাসির আবেগ জাগিয়ে রাখেন সন্দীপন ,যা একেবারে তার নিজেশ্য |' তার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে একদা এরকমই মনে হয়েছিল শঙ্খ ঘোষের | ৪০ বছরে লিখেছেন ৭০তি গল্প ,২১টি উপন্যাস এবং অসংখ্য না-কাহিনীমূলক নিবন্ধ | ১৯৯৫ তে পেয়েছেন বঙ্কিম পুরস্কার এবং ২০০২-তে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার |
তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগুলি হল ক্রীতদাস ক্রীতদাসী (১৯৬১), সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বী ও অন্যান্য গল্প (১৯৬৯), এখন আমার কোনো অসুখ নেই (১৯৭৭), হিরোশিমা মাই লাভ (১৯৮৯), কলকাতার দিনরাত্রি (১৯৯৬) ইত্যাদি। তিনি বঙ্কিম পুরস্কার ও সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন