শনিবার, ৯ আগস্ট, ২০১৪

নবারুণ স্মরণ: বিষণ্নতা, দহন এবং দ্রোহপরিস্থিতি

অর্ক চট্টোপাধ্যায়

"I prefer not to"


নবারুণ ভট্টাচার্যের পুড়ে যাবার দিনে, কলকাতা যখন ইষৎ মলীন হয়ে আসা গ্রীষ্মের আঁচে, শেষমিছিলের উত্তাপ নিচ্ছে, আমি তখন অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় ঋণাত্মক তাপমাত্রার ঋণের কথা ভাবছি...নবারুণের 'নিউক্লিয়ার উইন্টার' এর মধ্যে বসেই তাঁর কাছে আমাদের আর আমাদের সময়ের ঋণের কথা ভাবছি। এই লেখায় সদ্যমৃত নবারুণের স্মৃতিচারণার চাপা বিষন্নতা গিয়ে বিরক্তি ও রাগের সঙ্গে মিশছে তেসরা অগাস্টের আনন্দবাজার সম্পাদকীয় 'দ্রোহাভ্যাস' এর রুচিহীনতা দেখে। স্মৃতিচারণার কি কোনো অধিকার থাকে না? যদি থাকে, তবে সেটা কি অর্জন করতে হয় নাকি এমনিতেই জুটে যায়? স্বঘোষিত অভিভাবকত্ব বোধ করি এভাবেই মাতব্বরের মৌরসীপাট্টা হয়ে ওঠে। একটি প্রতিষ্ঠানকে তুলোধোনা করা লেখকের মৃত্যুতে সেই প্রতিষ্ঠান কি 'বীভৎস মজা'টাই না পায়! 'শাসন করে মূর্খ, চোখ রাঙায় দলবল'।


"habit is a great deadener"

দ্রোহ কি কখনো অভ্যাস হতে পারে? অভ্যাস হয়ে উঠলে তা কি আদৌ আর দ্রোহ থাকে? দ্রোহীরা স্বভাবত দ্রোহাভ্যাসী হতেই পারেন কিন্তু দ্রোহ স্বতস্ফূর্তভাবেই অভ্যাস-বিরুদ্ধ। বুর্জোয়া জীবনের প্র্যত্যহিকতায় অভ্যাস তার পুনরাবৃত্তির রুটিন নিয়ে আমাদের চর্কিপাকে ঘোরাতে থাকে। অভ্যাসের রোজনামচায় যখন নতুন হারিয়ে যায়, বদলের সুর হারিয়ে যায়, ঠিক তখনই দ্রোহাভ্যাসী তাঁর দ্রোহের ব্যতিক্রম দিয়ে অভ্যাসের পূর্ণবৃত্ত ভেঙে দ্যান। দ্রোহ অভ্যাসের পরিচিত আদল ভেঙে নতুন নিয়ে আসে, বদলের দিন এনে দ্যায়। আর ঠিক তখনই "৪+১" হয়, লুব্ধকের দিকে তাকিয়ে মিছিল করে ছায়া কুকুরের দল, হারবার্টের চুল্লী থেকে দুর্বোধ্য বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে আর প্রতিদিনের গড়পড়তা মানুষটা, যে ভয়ে ভয়ে বলে চলতো "আমার কোন ভয় নেই তো", সে হঠাৎ দ্যাখে, সে উড়তে পারছে। "ফ্যাঁৎ ফ্যাঁৎ সাঁই সাঁই" এর মন্ত্রবলে অভ্যাসের মানুষ ভেঙে তখন দ্রোহের ফ্যাতাড়ু তৈরী হয়। আনন্দবাজারী সম্পাদকীয় দিয়ে আমাদের সময়ের সব থেকে বড় পলিটিকাল সিনিক, এনার্কিস্ট, অপটিমিস্ট এবং ফাইটার নবারুণ ভটচাজের দ্রোহকে অভ্যাসে নামিয়ে আনা যায় না। কারণ দ্রোহাভ্যাস আমাদের সময়ের নর্ম নয়, এক্সেপশন। দ্রোহাভ্যাস বলে যদি আদৌ কিছু হয়, তবে সেখানে দ্রোহকে অভ্যাস দিয়ে প্রশমিত না করে দ্রোহ দিয়ে অভ্যাসকে অবিনির্মাণ করতে হবে যাতে অভ্যাস তার গলনাঙ্কে পৌঁছে এক স্বতত পরিবর্তনশীলতার প্রবাহ হয়ে উঠতে পারে। একমাত্র তখনই বাঁদরের ওপর মানুষের বাঁদরামি কিম্বা আমাদের ওপর বাজার-আনন্দের এই মাতব্বরীকে রোধ করা যাবে। তখন আর আনন্দবাজার তাদের থোড়াই-কেয়ার করা নবারুণের মৃত্যুতে তাঁকে বাঁ-হাতে ফুল দেবার দুঃসাহস দেখাবে না; দুঃসাহসই বললাম, কারণ একে স্পর্দ্ধা বলে নবারুণের স্পর্দ্ধাকে অসন্মান করতে পারছি না। সেই bum-হস্তের ফুলের ওপর হিসির কাটাকুটি খেলবে হারবার্টের সাঙ্গপাঙ্গ।

"it is always good to create trouble"


নবারুণের মৃত্যুতে আমাদের সময়ের আরেক 'জাত-বিদ্রোহী' কবীর সুমন জানিয়েছেন যে নবারুণ আছেন ও থাকবেন বিদ্রোহের 'হালাল ঝান্ডা' হয়ে। প্রিয়মানুষের মৃত্যুতে আমরা যদিও সবসময়ই এমন কথা বলে থাকি, নবারুণের ক্ষেত্রে এই কথা, আমার মনে হয়, আরেকটু বিশেষভাবে প্রযোজ্য। নবারুণ হাজির আছেন ও থাকবেন কারণ মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তিনি বড়জোর মানুষ থেকে প্রেত হয়েছেন আর তিনিই তো আমাদের শিখিয়েছেন প্রেত মৃত্যুহীন, প্রেত অবিনশ্বর। মৃত্যুর পরেই তো হয় সেই আসল বিস্ফোরণ যার কুলকিনারা করতে ভিরমি খায় রাষ্ট্রযন্ত্র। হারবার্টের সুইসাইড নোটের "দোবেড়ের চ্যাং দেকবি, দোবেড়ের চ্যাং দেকাব, ক্যাট ব্যাট ওয়াটার ডগ ফিশ" স্পর্দ্ধা থেকে প্রতিস্পর্দ্ধার পথে অপাঠ্য এক পলিটিকাল হায়ারোগ্লিফ হয়ে যায়। অভ্যাসের সুখপাঠ্য দৈনন্দীনকে টুকরো করে দ্যায় নবারুণের প্রেতস্থ ঘটমানতা। '৪+১' গল্পে চারজন বোবা, কালা ও অন্ধ শববাহক একটি বহু আঘাতে জর্জরিত মৃতদেহ নিয়ে ট্রামলাইনের ওপর দিয়ে চলন্ত ট্রামের দিকে এগিয়ে যেতে থাকে আর তাদের বাঁচাতে শেষ মুহূর্তে ট্রাম থামাতে গিয়ে ড্রাইভার ছোটোখাটো একটা অ্যাকসিডেন্ট ঘটিয়ে ফ্যালে। পুলিশ ও প্রশাসনের যাবতীয় অনুসন্ধান স্বত্ত্বেও সেই মরা মানুষটার কোনো পরিচয় মেলে না। আর কালা, বোবা ও অন্ধ হওয়ায়, প্রচুর টর্চারের পরেও, চারজন শববাহকের থেকে কোনো কিছুই জানা যায় না। অপাঠ্যতার মধ্য দিয়ে এমন সব 'অ-রাজনৈতিক' ঘটনাও কীভাবে রাজনৈতিক হয়ে ওঠে, সাবভার্সিভ হয়ে দেখা দ্যায় রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে, এটা আমাদের ভাষায়, আমাদের প্রজন্মে, নবারুণের থেকে স্পষ্ট করে আর কে বুঝেছেন? 'মৃতের সহিত কথোপকথনের' হারবার্ট পোলিটিকাল একটিভিস্ট না হয়েও তাই এক আদ্যপান্ত পোলিটিকাল সাবজেক্ট।

"History repeats...first as tragedy, then as farce"

মৃতেরাই রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে দোবেড়ের চ্যাং দেখানোর ধক রাখে। বেবি কে-র পেট্রল খাওয়া নারীশরীর একদিন মলোটভ ককটেল হয়ে ফেটে পড়ে।হারবার্টের মৃত্যুদহন বিস্ফোরক হয়ে ওঠে, যুগ যুগান্তরের মৃত কুকুরেরা, ছায়াপথে কলকাতার বিদ্রোহী কুকুরদের সংকেত পাঠিয়ে যায়, অন্ধ বেড়ালের মরা চোখ সব্বাইকে দেখে নিতে থাকে, আর যে শবদেহ ও শববাহকেরা প্রাত্যহিকির ঘটনাহীনতাকে চাকতির আচমকা হুজ্জুত দিয়ে চিরে দ্যায় তারাও অজ্ঞেয় মৃত্যুর মত অভ্যাসপ্রিয় শাসকের কাছে অনপনেয় হেঁয়ালি হয়ে থেকে যায়। অতীতের প্রেত ভবিষ্যতে ফেরে, ফিরতে তাকে হয়ই, হবেই, এই বিশ্বাস, এই কনভিকশনেরই আরেক নাম নবারুণ ভট্টাচার্য: এই বিশ্বাস ধর্মকে প্রেততত্ত্ব দিয়ে সাবভার্ট করে। ফেইথ এখানে পলিটিকাল কনভিকশনে বদলে যায়। প্রেত-অতীত যখন তার এক নিজস্ব ভবিষ্যত নিয়ে হাজির হয়, তখন প্ল্যানচেটও রাজনৈতিক হয়ে ওঠে। নবারুণের নৈরাজ্যবাদী বিপ্লবও তেমনই এক হন্টোলজি: 'মৃতের সহিত কথোপকথন'। হন্টিংয়ের এই প্রেত-প্রত্যয়ই নবারুণকে দিয়ে লিখিয়ে ন্যায় এই সব লাইন: "জলে ডুবে কবে মরে গেলেও খোড়োরবি আসতেই পারে। হারবার্টদা ডাকলে তো আসবেই।" যা কিছু মৃত তাকে ফিরিয়ে আনাই নবারুণের পলিটিকাল এথিক্স। নবারুণও তাঁর একের পর এক লেখায়, বিশ্ব চরাচর জুড়ে যুগে যুগে মৃত এবং পুনর্মৃত তাঁর প্রেত-কমরেডদের আহ্বান করেন, স্মরণ করেন চে গেভারার দিনলিপিতে কুকুরের ডাকের ওই প্রান্তিক শব্দ যা হঠাৎ একদিন কসমিক ইভেন্টের আদলে এক কুকুর-বিপ্লবের জন্ম দ্যায়। মসোলিয়াম তাঁর কাছে এমন এক রক্তমাংসের ঐতিহাসিক আর্কাইভ যার কবরের ডালার ফাঁক দিয়ে যেকোনো সময়েই বেরিয়ে আসতে পারে সময়ের রাজনৈতিক প্রেত। মৃতেরা চলে যায় কেবলমাত্র যাতে ফিরে আসতে পারে। লেখক নবারুণ ইতিহাসের ভগ্নস্তূপে খুঁজে বেড়ান সেই সব (অ)বাস্তব প্রত্যাবর্তন-মুহূর্তের পান্ডুলিপি। নির্মাণ করতে থাকেন, অতীত আর ভবিষ্যতের মাঝে, সিনিকাল ব্ল্যাক হিউমারে মোড়া, এক জাদুতোরণ। যিনি একদিন লিখেছিলেন "এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়" তিনি ক্রমশ মৃত্যুর বিয়োজনের মধ্য দিয়েই যুক্তি-বহির্ভূত এক প্রেত বিপ্লবের আয়োজন করতে থাকেন; মৃত্যুকেই তাঁর বদলের হাতিয়ার করে ন্যান। অতীত আর ভবিষ্যতের সীমারেখা ভেঙে যায়, ভেঙে যায় ট্রাজেডি আর ফার্সের মাঝের দেওয়াল। "চলে যাওয়ার দিগন্ত"ই এখানে "ফিরে আসার আকাশ" হয়ে ওঠে। যা মৃত তাই জীবিত, যা 'অদৃশ্য' তাই 'দৃশ্যমান', যা অতীত তাই ভবিষ্যত। "ফ্যাঁৎ ফ্যাঁৎ সাঁই সাঁই" এর জাদুমন্ত্রে উড়ে চলে নবারুণের 'অতন্দ্রবিমান'।


"All the symbols of the carnival idiom are filled with this pathos of change and renewal"


কয়েকবছর আগে ঋত্বিক ঘটক নিয়ে বলতে গিয়ে, পুঁজিবাদ ও গোলকায়নের ক্ষয়ে শীর্ণ হয়ে আসা যে ধরণের 'উদ্বৃত্ত মানুষ' এর অবতারণা করেছিলেন নবারুণ, তিনি নিজেও তো আমাদের সময়ে, তেমনি এক 'পলিটিকালি ইনকারেক্ট', উদ্বৃত্ত মানুষ। উপন্যাস সমগ্রের ভূমিকায় লিখেছিলেন, তাঁর সময়ের ঐতিহাসিক-রাজনৈতিক রদবদলের তিনি "কখনও অংশীদার" কিন্তু "সব সময়েই ভিক্টিম"। নবারুণের এই সব ভিক্টিমরা তাদের প্রান্তিক এবং তথাকথিতভাবে 'অভদ্র' ভাষার অশালীনতাকেই তাদের শ্রেণীযুদ্ধের আর্সেনাল- তাদের 'নুনু-কামান'-বানিয়ে মার্চ করতে করতে উড়ে যায়। বেবি-কে'র মত গুটিকতক উজ্জ্বল ব্যতিক্রম ছাড়া এই অল-মেল ফ্যালিক মিছিল, বৈপ্লবিক বাচনে লিঙ্গ-বিভাজন নিয়ে কিছু জটিল প্রশ্ন রেখে যায়। উদ্বৃত্ত নবারুণের "অস্থির সন্ধান" অবশ্য জারি থাকে, বোবাযুদ্ধের মত, ইতিহাসে ধামাচাপা দ্রোহচিহ্নের খোঁজে ...শপিং মল আর সারি সারি ফ্ল্যাটের নীচে শায়িত ৭০ এর দশকে লুকিয়ে রাখা দামাল বন্দুকের সন্ধান। নবারুণের এই সন্ধান যতটা অবিস্মরণীয় ততটাই সমাপনহীন। তাঁর লুম্পেন-প্রলেতেরিয়েত বাজার অর্থনীতি আর গোলকায়নের মোচ্ছবকে আরেক লো-লাইফ সেলিব্রেশন দিয়ে ভেঙে ফেলতে চায়। সেখানে লয়ের আশঙ্কা এড়িয়ে একপাও এগোনো যায় না। লুব্ধক কিম্বা খেলনানগর ভবিষ্যতকে, সেই ডিসটোপিক ব্ল্যাক হোল থেকে একেবারে অন্যদিকে নিয়ে যেতে পারে না। কিন্তু আসন্ন সেই 'নিউক্লিয়ার উইন্টার' এর বিনাশবীজের ভেতর থেকেই হয়ত সময়ের এক নতুন ফিনিক্স ডানা মেলতে পারে। রিস্ক ছাড়া কি আর সম্ভাবনা মেলে ধরা যায়? নবারুণ এই ঝুঁকির লেখক, 'আজগুবি হঠাৎ' ঘটমানতার ভেতর যে সম্ভাবনা দানা বেঁধে ওঠে তিনি তার লেখক...নেতির মধ্যে উপ্ত জাগরণপ্রস্তুতির লেখক...প্রেত-প্রতিশ্রুতির লেখক...অতীত-আহ্বানের লেখক...একাধারে নির্মীয়মান এবং ক্ষীয়মান, আমাদের ডার্ক, ব্রুডিং ভবিষ্যতের লেখক।


নবারুণ লিখেছেন:

হাজার দুঃখ হাজার কষ্টের মধ্যেও মানুষকে যেভাবে আনন্দের সন্ধান করতে দেখেছি সেটা থেকে আমার মনে হয় আরও বড় সেলিব্রেশনের অপেক্ষায় এই কার্নিভালগুলো আরেঞ্জ করা দরকার। যে সেলিব্রেশনের কথা সম্ভবত লেনিন প্রথম বলেছিলেন।


"Manuscripts don't burn."


আমি নবারুণের সাথে কোনদিন কোন বাক্যালাপ করিনি। প্রেসিডেন্সীর ফার্স্ট ইয়ারে অর্থাৎ ২০০৪ সালে হয়ত এমন খুব কম দিনই হয়েছে যখন ব্যাগে নবারুণের 'হারবার্ট' থাকত না। হার্বার্টের চিলচাদ আর তার অমোঘ মুক্তি আমার মত আমাদের প্রজন্মের অনেককে একছটাক জিওন-আলো দেখিয়েছে। কলকাতা বইমেলায় 'ভাষাবন্ধন' স্টলের বাইরে অনেকবার বসে থাকতে দেখেছি নবারুণকে; স্টলে ঢুকে বই কিনলেও সাহস করে কথা বলা হয়ে ওঠেনি কোনদিন। আমার নবারুণ-আবিষ্কারের এক দশক পর, আজ যখন আমার অতীত আর নবারুণের ভবিষ্যত সমানভাবে প্রেতপ্রাপ্ত, তখন নবারুণের প্রিয় লেখক মিখাইল বুলগাকভ দিয়েই শেষ করি, যেখানে তিনি বলছেন "No documents, no person." এই ডকুমেন্ট কি শুধু আদম-সুমারির আইডেন্টিটি পেপার নাকি? এই ডকুমেন্ট তো মানুষ নামক দ্রোহ-পরিস্থিতির শরীরে মূদ্রিত এক আগুনের বর্ণমালা, যা তাকে বাজার-আনন্দের অভ্যস্ততার বাইরে নিয়ে যায়। ঠিক তখন, ঠিক সেইখানে, একটা শস্তা উদ্বৃত্ত মানুষ, রাস্তার এক কোণে গিয়ে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে আর রাজকীয় ভঙ্গীতে বিড়ি ধরায়। এও তার এক আনন্দ, যার খোঁজ, প্রতিষ্ঠানের পাতি-স্থানে কখনো মিলবে না।


নবারুণ, আপনি ভালো করে পুড়ুন। দহনান্তের কৌতুক এখনো বাকি আছে...ক্যাট ব্যাট ওয়াটার ডগ ফিশ...



.লেখক পরিচিতি
অর্ক চট্টোপাধ্যায় 
কলকাতা শহরের উপকন্ঠে উত্তরপাড়ায় বাস। প্রেসিডেন্সি কলেজ এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএএমএ এবং এম-ফিল। বর্তমানে সিডনিতে গবেষণারত। দশ বছর ধরে গল্প-গদ্য লেখালিখি। নবেন্দু বিকাশ রায়ের সাথে বিগত ৬ বছর ধরে অ্যাশট্রে নামক লিটল ম্যাগের সম্পাদনা। বর্তমানে অনুপম মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ওয়েবজিন বাক-এর 'গল্পনাবিভাগের সম্পাদক। শূন্য দশকের বিভিন্ন লিটল ম্যাগের সাথে যোগাযোগ এবং লেখালিখি। কয়েকটি বন্ধু পত্রিকা: বৈখরী ভাষ্যঅবসরডাঙাঅক্ষরযাত্রা,প্রতিষেধকজার্নি ৯০জকালিমাটিকৌরবনতুন কবিতাঅপর ইত্যাদি।

২টি মন্তব্য:

  1. এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. হে কবিপিতা, আমার কবিগুরু রামপ্রসাদ, আপনিই তো ছিলেন আমার দেখা কি তীক্ষ্ণ ও কি প্রথম প্রতিষ্ঠানবিরোধী। চ'লে তো যেতেই পারতেন কৃষ্ণচন্দ্রের দরবারে। রাস্তা তো খোলাই ছিল। যাননি। ভরতচন্দ্রের মতো একের পর এক লেখায় সে-রাজাকে তেল দিয়ে লিখতেই তো পারতেন নিজের কাব্য। লেখেন নি। এখন নিশ্চই নবারুণবাবুর সাথে ব'সে সেরে নিচ্ছেন দ্রোহ ও প্রেম সংলাপ। আমি জানি, ওঁকে চিনলে একমাত্র আপনিই চিনবেন। নবারুণবাবু, আপনি লিখলেন, কে কোথা থেকে কখন কিভাবে বিস্ফোরণ ঘটাবে, রাষ্ট্রের এখনও ঢের ঢের বাকি আছে তার কুল কিনারা করতে। আর কবিগুরু আপনি লিখলেন, 'এমন ছাপান ছাপাইব মা গো খুঁজে খুঁজে নাহি পাবা'। শুনুন আনন্দবাজার, মোহাভ্যাসে ব্যস্ত আপনারা এ' লেখা পড়বেন না জানি। কিন্তু আপনাদের খোঁচর যদি কেউ থেকে থাকেন এই আকাশজালে, তিনি বা তাঁরা নিশ্চই খবর পৌঁছে দেবেন। 'হিসাব বাকী থাকে যদি দিব না রে তোদের কাছে / ওরে রাজা থাক্‌তে কোটালের দোহাই / কোন্‌ দেশেতে কে দিয়াছে'। ' 'আমায় কি ধন দিবি তোর কি ধন আছে', বিশ্বাস করুন নবারুণ, আমি বিশ্বাস করি আপনি বিশ্বাস করতেন এই পঙক্তিতে। রামপ্রসাদ কিম্বা ফ্যাতাড়ুর চ্যালারা একদিন ঠিক প্রফুল্ল সরকার স্ট্রীটের ঐ শাদা বাড়িটার দেয়ালে দলবল নিয়ে লিখে আসবে, 'এ সংসার ধোঁকার টাটী / ও ভাই আনন্দবাজারে লুটি'... । 'যখন আসবে শমন বাঁধবে কসে, সেই কালী তার মুখে দিব /... আমার ভয় কি তাতে, কালী ব’লে কালেরে কলা দেখাব / ডাকিনী যোগিনী দিয়ে, তরকারী বানায়ে খাব / মুণ্ডমালা কেড়ে নিয়ে অম্বল সম্বরা চড়াব...' এমন স্পর্ধা নবারুণ আপনার আর কবিরঞ্জন রামপ্রাসাদেরই ছিল...
      গত কয়েকদিন প্রচণ্ড রক্তক্ষতপাত হচ্ছে 'দ্রোহাভ্যাস' শীর্ষক আনন্দবাজারীয় অর্বাচীন সম্পাদকীয় পাঠোত্তর কালে। অর্কর লেখাটা পড়তে পড়তে প্রত্যেকটা সেকেন্ডে বুঝতে পারছিলাম, এটা লেখার সময় ওঁর কলম কির'ম গরগর করছিল রাগে। কির'ম গরম হয়ে গিয়েছিল কলমের নিব্‌।

      মুছুন