সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

গল্পপাঠ ভাদ্র ১৪২১ সংখ্যা

গল্পপাঠ গল্পের ওয়েব ম্যাগাজিন। আমরা এখানে যেমন পড়াতে চাই বাংলা ভাষা ও বিশ্বসাহিত্যের কালোর্ত্তীর্ণ গল্প, যেসব গল্প বদলে দিয়েছিল আমাদের মননশীলতা, সমাজ ও সাহিত্যকে। পড়াতে চাই সমকালিন গল্পকারদের সেরা গল্পটিকে আবার নতুন গল্পকারদের গল্প যাদের লেখায় আছে সম্ভাবনার প্রতিশ্রূতি। পড়ুন তিন ঘরানার একগুচ্ছ গল্প।

জাকির তালুকদার, আনোয়ার শাহাদাত, আহমাদ মোস্তফা কামাল ও শাহীন আখতার ইতোমধ্যে গল্পকার হিসেবে বাংলাদেশে লম্বা দৌড়ে অবস্থান নিয়েছেন এবং সবচেয়ে যেটা লক্ষ্যণীয় যে তাদের গল্প নির্মাণ শৈলীর মধ্যে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। ভাবনার দিক থেকে স্বচ্ছ। ভাবনার দিক থেকে সংশয় ও অসততা নিয়ে ভালো গল্পকার হওয়া অসম্ভব।
পাপড়ি রহমানের গল্পে গ্রাম জীবন, প্রান্তিক মানুষের আখ্যান-ভাষা, লোকগান সরল সুন্দরভাবে বর্ণিত হয়। তার আখ্যানে চরিত্রের সঙ্গে গল্পকার প্রবলভাবে উপস্থিত থাকেন। ফলে পাপড়ি রহমানের গল্প সর্বতোভাবে তার গল্পই হয়ে ওঠে।  নাহার মণিকার গল্প বলেন দূর থেকে। তার চরিত্ররা নিজেদের মত করে ক্রিয়া করে। শান্ত, সৌম্য ও নিভৃত গল্পের কম্পোজিশন। 
কামাল রহমান লিখছেন দীর্ঘদিন ধরে। অনুবাদেও তিনি সিদ্ধহস্ত। তিনি কমিটেড গল্পকার। এবং কবি। ফলে কামাল রহমানের গল্প কমিটেড গল্পকারদের কথা মনে পড়িয়ে দেবে। 
শামিম আহমেদ লেখার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। ভারতীয় পুরাণ-দর্শন-ইতিহাস-ঐতিহ্যের তিনি মুগ্ধপাঠক। একই সঙ্গে আরবের ইতিহাস-ধর্ম-সংস্কৃতি বিষয়েও সুপণ্ডিত। তিনি কোনো না কোনোভাবে সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজের উত্তরাধীকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। তিনি সংশয়হীনভাবে দীর্ঘজীবী হবেন কথাসাহিত্যে।  
রাখাল রাহা বাংলাদেশের পারফেকশনিস্ট গল্পকার। তিনি শুধু নিজেই লেখেন না--লেখালেখিকে একটি শিক্ষণ-প্রক্রিয়ার মধ্যেও নিতে চান। 

সতীনাথ ভাদুড়ী বাংলা সাহিত্যের শক্তিমান কথাকার, যার লেখা সাহিত্য সমালোচকদের কাছে প্রশংসিত কিন্তু পাঠক সমাজে তেমন জনপ্রিয় নয়। তাঁর দুটি উপন্যাস 'জাগরী' আর 'ঢোঁড়াই চরিত মানস' শিক্ষিত বাঙালির বেশিরভাগ
জানেন, কিন্তু তিনি তাঁর সাতটি গল্পগ্রন্থের বাষট্টিটি গল্পের জন্যেও সম্ভবত অধিকতর স্মরণীয় হতে পারতেন। গল্পপাঠের বর্তমান সংখ্যায় জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং খোরশেদ আলমের দুটি প্রবন্ধে সতীনাথ ভাদুড়ীর নতুন করে স্বরুপ সন্ধানের চেষ্টা করা হয়েছে। সতীনাথ ভাদুড়ীর গল্প গণনায়ক নতুন করে পাঠকদের সামনে উপস্থাপন করা হলো।

অনুবাদ গল্প
আধুনিক চৈনিক কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিক্রিত উপন্যাস ‘নাইন ডাইরিজ’এর লেখক ইউ ডাফু । তিনি ছিলেন একাধারে একজন প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক, গল্পকার এবং কবি । তিনি জেজিয়াং প্রদেশের ফুইয়াংয়ে ১৮৯৬ সালে ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণকারি নাইজেরিয়ার কবি  , ঔপন্যাসিক, গল্পকার বেন ওকরি। ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর “Tales of Freedom”, যেখানে লেখক হাইকু আর গল্পকে মিশিয়েছেন, এবং লেখালেখির এই বর্গকে নাম দিচ্ছেন “stoku”; এবং জেরোম কে জেরোম, পুরো নাম জেরোম ক্লাপকা জেরোম, জন্ম ১৮৫৯ সালে; ইংল্যান্ডে। তাঁর গল্প আর বিদ্রূপাত্মক রচনাগুলির রয়েছে বিতর্কিত আর বিখ্যাত হবার খ্যাতি। রে ব্র্যাডবেরি'র একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী অনুবাদ করে পাঠিয়েছেন মুহিত হাসান।

লেখালেখির টিপস নিয়ে গল্পপাঠে নিয়মিত লিখছেন সাজেদা হক। এ সংখ্যায় তিনি লিখেছেন গল্পের অন্যতম ক্রাফট  টুইস্ট বিষয়টি নিয়ে ২টি লেখা।  একজন গল্পকারের  প্রধান শক্তিটিই হল গল্পের মধ্যে টুইস্ট বা প্যাঁচ কষাণো। একে চক্রান্তও বলা যেতে পারে।  এই কৌশলটি প্রয়োগ করে তিনি পাঠককে নানাবিধ ফাঁদে ফেলেন। পাঠককে নিয়ে খেলেন। এমন কিছু উন্মোচন করেন গল্পকার যা পাঠক কখনো ভাবতেই পারেন না। এটা গল্পের ম্যাজিক।  
সাজেদা হক--
অনুবাদ :  এমদাদ রহমান

গল্প

একসময়ে এসেন্সিয়াল সার্ভিস হিসেবে ডাক বিভাগের কদর ছিল সবার কাছে। পোষ্টমাস্টার, ডাক পিয়ন বা ডাক হরকরার কর্মনিষ্ঠা, সততার কারনে শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতিতে তাদের উপস্থিতি ছিল প্রবলভাবে। রবীন্দ্রনাথের পোস্টমাস্টারের রতন নামের মেয়েটির অভিমান আমাদের এ পৃথিবীতে কে কাহার--এই মৌলিক প্রশ্নটির মধ্যে ফেলে দেয়। অমর মিত্র লিখেছেন মোহরগঞ্জের জিনিয়া ফুল নামের গল্পটি। এখানেও রতন অন্যভাবে ধরা দিয়েছে। আনিসুল হক রবীন্দ্রনাথের পোস্টমাস্টারের নৈতিক চরিত্রের সাথে বর্তমান পোষ্টমাস্টারের চরিত্রের একটা নতুন ভাষ্য লিখতে চেষ্টা করেছেন। এর মধ্যে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে মোমিনুল আজম গ্রামীণ পোষ্ট অফিসের চিত্র বিনির্মাণ করেছেন । এ সংখ্যায় প্রকাশিত হল মেহেদী উল্লাহ'র পোস্টমাস্টার গল্পটি। মেহেদী তার গল্পে পোষ্ট অফিস নিয়ে সামগ্রিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি মতামত দাড় করিয়েছেন। পড়ুন পোস্টমাস্টার নিয়ে ভিন্নস্বাদের পাঁচটি গল্প-
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প : পোস্টমাস্টার 

রবীন্দ্রনাঠ ও রোলিং-- দুজনে দুসময়ে দু' ভাষায় দুটো গল্প লেখেন। রবীন্দ্রনাথের পোস্টমাস্টার গল্পের রতন আর রোংলিএর এ মাদার ইন ম্যানভিল গল্পের জেরী চরিত্রের  মধ্যে একটি আশ্চর্য মিল রয়েছে। সে বিষয়টি মোজাফফর হোসেন অসামান্য একটি আলোচনা লিখেছেন। দুজনের গল্পের সুরই এক রকম। এই বিবেচনায় পোস্ট মাস্টার বিষয়ক গল্পে প্রবন্ধটি অন্তর্ভূক্ত হল। আশা করছি লেখাটি ভালো লাগবে।
মোজাফফর হোসেন : রবীন্দ্রনাথ ও রোলিং: আলাদা হয়েও অভিন্ন


কবির লেখা গল্প 
কবিদের গদ্য সুন্দর। কিন্তু কবিতা ভাব-প্রধান বলেই তার মধ্যে বর্ণনাত্মক হয় না সাধারণত। কিন্তু গল্পের মধ্যে চরিত্র, প্লট, দ্বন্দ্ব-সংঘাত, সাসপেন্স, ক্লাইমেক্সের মধ্যে দিয়ে একটি আখ্যান বর্ণিত হয়। গল্পকার সর্বদা যৌক্তিক থাকার চেষ্টা করেন। ফলে কবির সঙ্গে গল্পকারের মৌলিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। কবি জীবনানান্দ দাশের গল্প তাঁর কবিতারই সম্প্রসারিত রূপ বলে মনে হয়। তাঁর একটি গল্পের ইংরেজি অনুবাদ করেছেন কবি-প্রবন্ধকার কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। 
কবি তারাপদ রায় নিটোল গল্প লেখেন ছোটো ছোটো স্বাদু বাক্যে। অসামান্য তাঁর গদ্য। কাজল শাহনেওয়াজ কবিতার পাশাপাশি নিয়মিত গল্পও লেখেন। তিনি তার কবি- স্বভাবহেতু আখ্যানের চেয়ে মাঝে মাঝে বাক্য ও শব্দের মধ্যে চমক আনার চেষ্টা করেন গল্পে।  কবি রাজু আলাউদ্দিন বিদেশী সাহিত্যের সমজদার অনুবাদক। তিনি গল্পকার হিসেবেও নিটোল গল্প লিখতে পারঙ্গম। গল্পের ফোকাস বিন্দুতে আখ্যানকে অসাধারণভাবে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম। নিয়মিত গল্প লিখলে গল্পকার হিসেবেও তিনি ঋদ্ধি পাবেন। এমদাদ রহমানের গল্প ধীরে ধীরে কবিতার কাছ থেকে দুরত্ব রাখতে চেষ্টা করছে। আশা করছি কবিদের গল্পগুলো পাঠকের ভালো লাগবে। 

কথাসাহিত্যের অন্দরমহলের খোঁজে
গঠনমুলক সাহিত্যের আলোচনা থেকে উপকৃত হয় পাঠক লেখক সকলেই। আমরা চাই গল্প পড়ার পাশাপাশি খুলে দেখতে গল্পের অন্দরমহল। সে প্রচেষ্ঠা অব্যাহত আছে গল্পপাঠের প্রতিটি সংখ্যায়। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের সাহিত্য নিয়ে সমৃদ্ধ আলোচনা করেছেন ইমতিয়ার শামীম। কিঙ্কর আহসান তার পড়ার ভুবন নিয়ে হাজির হয়েছেন, বিপুল দাস তার নিজের গল্প নিয়ে কথা বলেছেন গল্পপাঠে।
ইমতিয়ার শামীম : শ্যামলের কিছু শ্যামলিমা

বিপুল দাসের নিজের গল্প নিয়ে নিজের কথা

কিঙ্কর আহসান : শৈশব-কৈশোরের বই-এ কাব্যিক ফ্যান্টাসি জগতঃ আমার একটি দীর্ঘশ্বাস


স্মরণ


নবারুণ ভট্টাচার্য

নবারুণ ভট্টাচার্য গল্পের দিক থেকে চমক তৈরী করে নিজেকে বিশিষ্ট করে তুলেছিলেন। তাঁর ব্যক্তিগত জীবনও ছিল গতানুগতিক লেখক জীবনের বাইরে। তাঁর বাবা বিজন ভট্টাচার্য ছিলেন নাট্যকার-অভিনেতা হিসেবে স্বনামধন্য। মা মহাশ্বেতা দেবী কথাশিল্পী ও সমাজকর্মী হিসেবে কিংবদন্তীতুল্য প্রভাবশালী। মা ও ছেলের মধ্যে ছিল যোজন যোজন দূরত্ব। নবারুণের মৃত্যুর পর মহাশ্বেতা দেবী ও নবারুণের ছেলে তথাগত ভট্টাচার্য দুটি লেখায় এই বিষয় নিয়ে লিখেছেন। লেখকের মনোসমীক্ষণ বুঝতে এ দুটি লেখা গুরুত্বপূর্ণ।
নবারুণ ভট্টাচার্যের সাহিত্য-কর্ম নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা প্রকাশিত হল। আগামী সংখ্যায় প্রতি-আলোচনা প্রকাশের প্রচেষ্টা থাকবে।


1 টি মন্তব্য:

  1. Hat's off to Galpo Path - purono o notuner ei combination r kono e-magazine-e nei. Osongkhyo opothito bhalo galpo porhar sujog kore debar jonye ogadh kritojnota...

    Srabani Dasgupta.

    উত্তরমুছুন