শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৫

পৌষ ১৪২১ সংখ্যা

সেরা গল্প ও তার কলকব্জার সন্ধানে


গল্পপাঠ গল্পের সেরা ওয়েব ম্যাগাজিন। গল্পপাঠে চার ধরনের গল্প প্রকাশিত হয়।বাংলা ভাষায় প্রকাশিত সেরা গল্প, প্রবীন গল্পকারদের গল্প, তরুণ গল্পকারদের গল্প এবং অনুবাদ গল্প।
গল্পপাঠ তার পাঠককে শুধু ভালো গল্প পড়ার স্বাদ দিয়েই তৃপ্ত নয়, গল্পের কলকব্জাগুলো খুলে দেখাতে চায় পাঠককে। সে উদ্দেশ্যেই গল্পপাঠে এবার বাংলা ভাষার সেরা কিছু গল্পের কলকব্জা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রবীণ, তরুণ লেখক ও পাঠক। উদ্দেশ্য গল্পের নানা ভূবন দেখা। প্রতিটি আলোচনার সঙ্গে মূল গল্পটিও দেওয়া হয়েছে। গল্পপাঠে এবার গল্পের লেখক, পাঠক, আলোচক একীভূত হয়ে গেছে।

প্রেমেন্দ্র মিত্র তাঁর গল্পের নাম রেখেছিলেন ‘ তেলেনাপোতা আবিষ্কার’। তেলেনাপোতা নামের এক অজগ্রামকে আবিষ্কারের কথা ছিল বলে হয়তো এ নাম। গল্পে একটি পরিবারের কথা আছে। পড়ন্ত অর্থনৈতিক অবস্থার একটি সামন্ত পরিবার বিশাল এক বাড়িতে যারা থাকতেন। সে বাড়িতেই তিন যুবক গিয়েছেন বেড়াতে, যেখানে ছিল জমিদার বংশের মদ্যপ ও উচ্ছৃঙ্খল শেষ সদস্য ও তার শিক্ষিকা অবহেলিত স্ত্রী। ১৯৪১ সালে লেখা প্রেমেন্দ্র মিত্রের  ছোট গল্পটি বাংলা সাহিত্যের একটি সেরা গল্প হিসেবে স্বীকৃত। পড়ুন--

১. প্রেমেন্দ্র মিত্রের গল্প : তেলেনাপোতা আবিষ্কার
২. গল্প নিয়ে আলাপ : শামীম আহমেদ

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় এর ‘ভণ্ডুলমামার বাড়ি’ গল্পটি আসলেই সহজ-সরল কিন্তু ভিন্নমাত্রার এক অতি অদ্ভুত গল্প যেখানে পাঠকের জন্য লেখকের সরাসরি কোন বক্তব্য নেই, নেই কোন দিক নির্দেশনা; যেকোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেন পাঠক। আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-প্রত্যাশা, স্বপ্ন-কল্পনা সবকিছু মিলিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জটিল অনুভূতির সহজ প্রকাশ ঘটিয়ে লেখক অবিনাশবাবুর ভণ্ডুলমামাকে পাঠকের নিজের করে দিয়েছেন।

১. বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় এর ‘ভণ্ডুলমামার বাড়ি’ 
. গল্পটি নিয়ে আলোচনা : জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা
সাতচল্লিশে ব্রিটিশরা ভারত ছেড়েছে, মায়ের বাড়ী আর বাবার বাড়ী বিভক্ত হয়ে গেছে ধর্মের নামে। দেশভাগ আর তার সাথে জন্মস্থান থেকে উৎখাতের তীব্রতা’র সূত্র ধরেই হয়েছিল ঘৃণ্য হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা। মানুষ কতটা 'ধর্মে মানুষ' সেই সত্যটি অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কাফের' গল্পটিতে নিঁখূতভাবে তুলে ধরেছেন।  পড়ুন --  

১. অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প : কাফের
. গল্প নিয়ে আলোচনা : মৌসুমী কাদের

আল মাহমুদ জলবেশ্যা গল্পে ভাসমান বেদে সম্প্রদায়ের ছলাকলায়পূর্ণ জৈবিক আকর্ষনের শিল্পিত উপস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের লোকপুরাণের যে চিরন্তন চরিত্র বেহুলা-লখিন্দর তার নৈতিকতাকে ভেঙ্গে চুড়ে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে অধঃপতনের দিকটি চিহ্নিত করেছেন। আল মাহমুদের লেখনিতে উঠে এসেছে দেহবৃক্ষের কামনা-বাসনার তাড়না, সেখানে শ্রেনী চরিত্র অনুযায়ী ভাষার যাদুময় ব্যবহার, গল্পের শৈল্পিক উপস্থাপনা,  উপমার ব্যঞ্জনা, যা গল্পটিকে বিশ্বসাহিত্যের একটি অনন্য সম্পদে পরিণত করেছে। পড়ুন --

১. আল মাহমুদের গল্প :  জলবেশ্যা
২. গল্পটি নিয়ে আলোচনা : মোমিনুল আজম


গল্পটি অনেক ছোট ছোট ঘটনার বর্ননা। বলা যায় লেখকের বউ, ছেলে-মেয়ের জীবন। তার উপর তার প্রভাব। লেখকের চাকুরী জীবনের কিছু স্মৃতিচারণ। প্রতিবেশী কিংবা অন্যান্য কিছু চিন্তাসহ বেশ কয়ৈকটি ঘটনার বর্নণা রয়েছে। কিন্তু মূল ঘটনা একটিই। বেহালা বাদকের পরী নামানোর ঘটনার বিশ্বাসটা। এই পরী নামানোটাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে গল্পটি। এটাই মূল ঘটনা কারণে এই পরী নামানোকে কেন্ত্র করে বিপিন বাবু অর্থাত বেহালা বাদক নিজের জীবিকা নির্বাহ করেন। পরী নামানোর এই ঘটনাটি তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন এবং অন্যদেরকেও বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করেন। পড়ুন--
. গল্পটি নিয়ে আলাপ :  আলোচক -সাজেদা হকপরী


হারাণ মাঝির অভাবী বিধবা বউটা নিরুপায় হয়ে গলায় দড়ি দিয়েছে।  তখন একটি কাঠের করে দেশে আসছে আমেরিকায় তৈরি হওয়া এক সোনার গাঁধী মূর্তি। বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপ্রধান হাজির। খোলা হল কাঠের বাক্স। দেখা গেল তার ভিতরে শুয়ে আছে সেই বিধবার পচা মড়া। এটা সুবিমলমিশ্রর এন্টি-স্টোরী।পড়ুন--
১. সুবিমল মিশ্র'র গল্প : হারাণ মাঝির বিধবা বৌয়ের মড়া বা সোনার গান্ধীমূর্তি
২. অমর মিত্র--সুবিমলমিশ্র নিয়ে কয়েকটি কথা

গল্পের প্রধান চরিত্র অপর্ণা। তাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে সমস্ত ঘটনা। অপর্ণা, কথক ও অশোক—এই ত্রিভুজ প্রেমের দ্বন্দ্ব ও টানাপোড়েনের কাহিনী এটি। কথক এখানে মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি। ধরা যায় অপর্ণা নিজেও মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। অশোধ ধর্নাঢ্য ঘরের সন্তান। গল্পের বয়ানে ও বিভিন্ন পর্যায় এই সব চরিত্রের নানাভাবে উন্মোচিত হয়েছে।গল্পে কথকের কাছে অপর্ণার উপস্থিতি আবছায়া হয়েই আছে, তবে পরাবাস্তববাদ বলে কথক কখনো স্বপ্ন ও বাস্তবের ভেদরেখা অতিক্রম করে যায়। যার মধ্যদিয়ে বেরিয়ে আসে মধ্যবিত্তের অবদমিত মনের সুস্পষ্ট ছবি। যা এই গল্পকে বাংলাসাহিত্যের অন্যতম সার্থক গল্পের পরিণত করেছে। পড়ুন--
১. বুদ্ধদেব বসুর গল্প : আবছায়া
২. গল্পটি নিয়ে আলাপ : অলাত এহ্সা্‌ন

সেলিনা হোসেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কথা সাহিত্যিক। তাঁর দাঁড় কাক গল্পটিতে একজন মান্নান তার চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সে আপন চিন্তায় বুঁদ হয়ে থাকে। সে বুঝতে পারে তার অস্তিত্ব বলে আর কিছু থাকছে না। লোকে তার আসল নাম ভুলে যাচ্ছে।  স্ত্রীর কথা মতো মান্নান এখন নিবীর্য। তার মনে হয়, তার করুণ পরিণতিতে তার স্ত্রী তার দিকে তাকিয়ে করুণার হাসি হাসছে। এসব অবস্থা থেকে তিতাল্লিশ বছর পুরনো জীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় সে। পড়ুন 
১. সেলিনা হোসেনের গল্প : দাঁড় কাক
২. দাঁড় কাক গল্পটি নিয়ে আলোচনা : মোজাফফর হোসেন

গল্প কেবল পাঠককে মোহাচ্ছন্নের বৃত্তে আটকে রাখা নয়; গল্প বর্তমান সমাজ, সংস্কৃতি আর রাষ্ট্রব্যবস্থার চিত্রকে ভবিষ্যতের কাছে চিত্রিত করে। তাই জাদুবাস্তবতার কতিপয় আইটেমের বাইরে গল্পে ব্যবহৃত তথ্য এবং তার ফলে তত্ত্বগত বিশ্বাস পাঠককে সঠিক নির্দেশনা দেয়। গল্প যখন সময় আর সামাজিক দর্পন তখন লেখক মৌরির মুখ দিয়ে জুঁই, চশমা আর রেশমার পতিতা হওয়ার কাহিনী বর্ণনায় পাঠককে এই সত্যটা জানিয়ে দেন যে আমাদের সমাজে নেহায়েৎ বিপাকে পড়েই মেয়েরা এই পথে পা বাড়ায়। পাঠক ‘পিতৃত্ব’ পড়ে মনস্তাত্ত্বিক দ্ধন্ধ আর আনন্দে তলিয়ে যেতে থাকে।  পড়ুন--
. রাজীব নুরের গল্প :  পিতৃত্ব
২.গল্পটি নিয়ে আলাপ : অনিন্দ্য আসিফ
ছোট গল্প হল প্রেমের আখ্যান, উপন্যাস হল বিবাহ; ছোট গল্প হল ফটো, উপন্যাস হল চলচ্চিত্র। সোলেনামা মদনলালের শান্ত কিন্তু বোরিং অফিস জীবনে স্বাতীর আগমন-সংবাদের ঢেউ তোলার কাহিনী, এ যেন মদনলাল পণ্ডিতের অঘোষিত প্রেম কাহিনী। স্বাতীর সঙ্গে তাঁর পরবর্তী সম্পর্ক আমাদের কল্পনা করে নিতে হবে, কিন্তু শামীম আহমেদ তাঁর নিপুণ শব্দমালায় একটি ফটোর মাঝে স্থান দিয়েছেন অনেক ছোট ছোট পর্যবেক্ষণ যা কিনা ছিল আমাদের একেবারেই অজানা, আর সেই ক্ষুদ্র সতর্ক পর্যবেক্ষণের মাঝে মদনলাল পণ্ডিতের insecure বিচরণ সেই ফটোকে পূর্ণাঙ্গ করেছে। সেই ফটোর বিচিত্র রঙ পাঠককে ভাবিয়েছে, আনন্দ দিয়েছে।১. শামীম আহমেদের গল্প : সোলেনামা
২. গল্পটি নিয়ে আলাপ : দীপেন ভট্টাচার্য

বইমেলার'২০১৫ এর বই নিয়ে আলাপ :
একটি জরুরী বই প্রকাশিত হচ্ছে বইমেলায় : 
বিশ্বসাহিত্যের ১৩ জন প্রখ্যাত গল্পকারের সেরা গল্পের অনুবাদ ও গল্পটির নির্মাণের কলকব্জাকে খুলে খুলে দেখানো হয়েছে এই বইটিতে। আর তা বোঝার জন্য রয়েছে সাহিত্যতত্ত্ব ও সাহিত্য-কোষ। 
লিখেছেন : মোজাফফর হোসেন। এই বইটি গল্পকার ও পাঠকদের জন্য অবশ্যপাঠ্য।
প্রকাশক : অনুপ্রাণন।
বাংলা একাডেমীর মেলায় বইটি পাওয়া যাবে।
বইটি নিয়ে আলোচনা পড়ুন :  কুলদা রায় 

এমদাদ রহমানের আয়োজন
অনুবাদ


গল্প
গল্প হল আমাদের চারিপাশে যা কিছু আছে তাকে সুন্দর করে ব্যাখ্যা করার কৌশল । কোন সত্য ঘটনা, কাল্পনিক চরিত্র সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে বলার নাম গল্প। গল্প হল এক আশ্চর্য জাদু। গল্পকার হল একজন জাদুকর। যে কোন একটা স্থান বা বিষয় সম্মন্ধে প্রথমে সে একটি পরিবেশ সৃষ্টি করে। গল্প বলা শুরু হলে গল্পকার এবং শ্রোতার মধ্যে বিশেষ এক ধরনের সম্মোহনী শক্তি সৃষ্টি হয়, এটিই আসলে জাদু। এমনি কয়েকজন যাদুকরের যাদুময় গল্প ছাপা হল এবারের গল্পপাঠে।


মাদ্রাসা ছেড়ে কলেজে ভর্তি হওয়ায় ছেলের আমূল পরিবর্তনও মেনে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একজন ইমামের ছেলে যাত্রাপালা করবে, তা মেনে নিতে পারেন না। তাছাড়া সৈয়দ বংশের শেষ গৌরবটুকু এখনও তার আছে। তাই তিনি ডাকতে যান। পাছে কেউ দেখে ফেলে, তাই চাদর পেচিয়ে। বংশীয় গৌবর থেকে তা নেমে আসে পিতা-পুত্রের মতো পারিবারি্ক বিষয়ে। কাউকে তিনি চিনে উঠতে পারেন না। যাত্রার দৃশ্য দেখে তার ভেতরেও মিথস্ত্রিয়া হয়। পালাতে চান সন্তানের কাছ থেকে। হৃতপ্রায় বংশ গৌরব, ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থান, আর যুগের অভিঘাতে তৈরি হওয়া মনোস্তাত্তিক ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব উঠে এসেছে এই গল্পে।
রফিকুর রশিদের গল্প : পালাবদল
দীপু প্রগতিশীল সংগঠনের কর্মী। সংগঠনের কপিলার সঙ্গে তার প্রেম। বাঁধসাধে ধর্ম। কি হবে তাদের পরিণতি? দীপু ভাবে, কেন এমন ভাবতে হচ্ছে? প্রশ্নের উত্তর খুঁজে রাষ্ট্র, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজতন্ত্রের স্বপ্নের মধ্যে। তাতে উঠে আসে তার মুক্তিযুদ্ধে গ্রামের চা বিক্রেতার নির্মম পরিণতি, স্বপ্ন ভাঙার কষ্টে পাগল মুক্তিযোদ্ধার কথাবার্তা। দুই ভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রেম, মিলনের জটিলতা, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুক্তিযুদ্ধ, রাষ্ট্র নির্মাণের স্বপ্ন ও প্রশ্নের মতো গাঢ়-গূঢ় বিষয়।দীপংকর গৌতমের গল্প-ব্যারিকেড


একটা গন্ধের অধিশ্বরিক আবিদ হাসান। বাসে হঠাৎ করে এই গন্ধটা তার নাকে আসে। তার ব্যক্তিজীবনের একটি ঘটনা দিয়ে এই গন্ধের শুরু। স্বামী-স্ত্রী’র সম্পর্কে সঙ্গম করলে এই গন্ধ তৈরি হয়। একই ভাবে এই গন্ধ পেয়েছিলেন খালা, কলিগ, বন্ধু, কলিগের স্ত্রীর শরীরেও। প্রত্যেকেই তারা সমাজে সম্রান্ত, সম্মানীয়। শহরময় এই গন্ধ। গন্ধের এই সোনার খাঁচার বব্দি সবাই। ফ্রয়েডিয় ধারার গল্প। এর মধ্যদিয়ে মেট্রমলিটল কালচারকে ধরতে চেয়েছেন। গল্পের ভাষা কখনো উপস্থিত, কখনো কল্পনার আশ্রয়ে আদিষ্ট।
পড়ুন-
মনি হায়দারে গল্প- সোনার খাঁচায় আবিদ হাসান


                                           
অমিতা চক্রবর্ত্তীর গল্প ছোট, অনুগল্প সম। লিখেন চারপাশ-নিত্যনৈমিত্তিক ও পুন:পুনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। গল্পে উঠে আসে আমাদের সাধারণ প্রবণতাগুলো। তিনি বিন্দুর মধ্যে সিন্ধু দেখান। আপাত সাধারণ দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে সমাজ-রাজনীতি-কূটকৌশল-ফোবিয়া-প্রবণতা। গল্পবলার জন্য তিনি প্রতিকের আশ্রয় নেন। আমাদের চারপাশের ক্ষুদ্র প্রাণীগুলেই প্রতীক। অনেকটা ঈর্ষনীয় কায়দা। ২০১২ সালে ম্যান অফ বুকার পুরস্কার জয়ী এলিসা ডেভিস এই ধারায় গল্প লিখেন। পড়ুন-


টাঙ্গাইলের গণিকা পট্টির সর্দানী বিভাবতীকে মা বলে প্রণাম করছেন এক সুস্থ-সবল-ভদ্রলোক। ভারতের কুচবিহারে বিভাবতী নাম্নী এক নারী অরুণেশের মাতামহর রক্ষিতা ছিলেন। কবিতা লিখতেন তিনি। যৌবনে এই গণিকাকে মা বলতেন কবি অরুণেশ ঘোষ। এক অভিমানে কুচবিহার থেকে চলে এসেছেন বিভাবতী। সেই গণিকাকে খুঁজতে কুচবিহার থেকে টাঙ্গাইলে এসেছেন অরুণেশ। অরুণেশ মনে করিয়ে দিচ্ছে সম্রাট অশোকের সময় পাটুলিপুত্রের গণিকা বিন্দুমতীর কথা। মনে পড়ছে কুচবিহারের স্মৃতি। গণিকাদের নিয়ে অনেক লেখা হলেও আবিষ্কার-উপস্থাপন-ইতিহাসের মিশেলে উল্লেখ যোগ্য একটি গল্প।রাশেদ রহমানের গল্প : 
গণিকাপ্রণাম
বান্ধবীর মাঝ বয়সি পিতার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছে এক যুবতী। তার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে সফরসঙ্গী হয়েছে, শারীরিক সম্পর্কেও জড়িয়েছেন তিনি। আঙ্কেল তার পূর্বে পেশা ও সংসারে ফিরে গেলেও মেয়েটি আর পারছেন না। বিয়ের চাপ দিচ্ছেন তিনি। এখন কি করবেন? পরামর্শ চেয়ে দৈনিকের উত্তরদাত্রীর কাছে পত্র লিখেছেন একজন। উপস্থাপনে উঠে আসে ভ্লাদিমির নভোকভ-এর বিখ্যাত উপন্যাস ‘ললিতা’র গল্প, রোবেরতো বোলানিও’র কবিতা। অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠছে বন্ধুত্ব। শেষে ‍উন্মোচিত হয় নিকটতম, অথচ সমস্যা জর্জরিত মানুষের উপাখ্যান। পড়ুন--

মেট্রোপলিটান মানুষ তারা। ছেলেটা ডাক্তারি পাশ করেছে। লেখক হতে চায়। বাঁধ সাধে আছেন বাবা-বড়ভাই। তারা চান, সে শুধু ডাক্তারি করবে। মাথার ভূত দু’টি নামাতে হবে। ভূত-লেখIলেখি আর বিবাহিতা বান্ধবী নিধি। নিধিও চায় তার সিমার স্বামীটাকে ছাড়তে, একই সঙ্গে ভয়ও পায়। ডাক্তারি-লেখালেখি আর বান্ধবির সম্মিলন ঘটাতে হলে চট্টগ্রাম ছেড়ে এক সন্তানের জননী বান্ধবীকে নিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করতে হবে। তার মনে হয়, ‘ ঘাওয়ালা হৃদয়-হৃদপিণ্ড নিয়ে আর যাই হোক লেখালেখি করা যায় না।’ লেখক চেষ্টা করেছেন সেকেন্ড পারসন, ন্যারেটিভ ফর্মে গল্পটি বলতে। গল্প বলার এই ঢং সবচেয়ে উৎকর্ষতা দেখিয়েছেন কার্লোস ফুয়েন্তেসের ‘আউরা’উপন্যাসে।





সাজেদা হকের লেখালেখির টিপস


গল্প

ছুটির লেখা 
কমলা দাসের গল্প : ইকবাল
 অনুবাদ : মনোজিৎ কুমার দাস 

স্বকৃত নোমান

জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা

আমার ছোট্ট মা
দাইফ মোঃ সম্রাট


প্রবন্ধ
 মোজাফফর হোসেন




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন