শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৫

রাশেদ রহমানের গল্প : গণিকাপ্রণাম

কান্দাপট্টিতে ভীষণ হইচই পড়ে গেছে। তা, হইচই পড়ারই কথা। বেশ্যাবাড়ির কেউ বাপের জন্মে কোনোদিন এ ধরনের ঘটনা দেখেনি, শোনেওনি কোনোদিন। শরৎচন্দ্রের কোনো গল্প-উপন্যাসে বিভাবতীর উঠোনে এইমাত্র যে-ঘটনা ঘটলো, এ-ধরনের কোনো ঘটনার উল্লেখ থাকলেও থাকতে পারে, আমার জানা নেই। কোথাও আমার চোখে পড়েনি। শরৎচন্দ্রে না-থাকলে অন্য আর কোথাও থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও পাঠক, আপনারা যারা দেশ-দুনিয়ার শেষ খবর রাখেন, তাদের কারো ঘটে এ-ধরনের ঘটনা-কাহিনী সঞ্চিত থাকলে দয়া করে আমাকে তা দান করবেন। আমি একটি গল্প-সৃজনে মনস্থির করেছি, আপনাদের দানকৃত আখ্যান-অবলম্বনে গল্প লিখতে চেষ্টা করবো। বাকিটুকু গুরুর কৃপা...।

বিভাবতীর ঘরের সামনে মানকচুর পাতার মতো একচিলতে উঠোন। উঠোনের মাঝখানে বকুলগাছ। গোড়া বাঁধানো। এখানে সবসময়ই দু’চারজন গণিকা বসে থাকে। খদ্দেরের সাথে গল্পগুজব করে। ঘটনা যখন ঘটে, তখনো দুই গণিকা ছিল। ওরাই পাড়ায় রাষ্ট্র করেছে, কে এক পাগল এসেছে বকুলতলা; এসেই প্রণাম করেছে বিভামাসীকে; এখন মা-মা করে কী যেন বলছে লোকটি, ঠিকমতো বোঝা যায় না। তবে লোকটি পাগল হলে কী হবে, দেখতে ভারী সুন্দর; সুপুরুষ। লেখাপড়া জানা লোক...।

দেখো কাণ্ড! দিব্যি সুস্থ একজন মানুষ বেশ্যাবাড়ি ঢুকে পাগল হয়ে গেল? না, অরুণ দা’ আসলে পাগল হননি। পাগল হওয়ার কোনো আশঙ্কাও নেই। আপনারা যারা আগে থেকে অরুণদা’কে চেনেন, তারা তো জানেনই লোকটি কী রকম? মুচি-মেথর-বেশ্যা; লোকে যাদের ঘৃণা করে, অন্তজ শ্রেণীর মানুষ অরুণদা’র কাছে তারাই প্রকৃত মানুষ। বারবণিতাদের প্রণাম করা, মা ডাকা তার নতুন নয়, সেই শৈশবে প্রথম গণিকাদর্শনেই অরুণদা’ অভয়াকে প্রণাম করেছেন, মা ডেকেছেন; সেই গল্প বলবো পরে। তখন সবার ভুল ভাঙবে। কিন্তু আমাদের শহরের কান্দাপট্টিতে, গণিকাপল্লী গড়ে ওঠার একশ’ বছরের ইতিহাসে কোথাও লেখা নেই, কেউ কোনোদিন শুনেনি, দেখেনি কোনো খদ্দের বেশ্যাবাড়ি ঢুকে কোনো বেশ্যাকে প্রণাম করে, মা বলে। এখন অরুণদা’র বিভাবতীকে প্রণাম করা দেখে, তাকে মা ডাকা শুনে গণিকারা তাকে পাগল ঠাওরাতেই পারে। এতে দোষ ধরার কিছু নেই...।

‘মা, এক বুড়ি বেশ্যা এই জারজ আধুনিক সভ্যতার মূল মাতামহী।
জারজ, কারণ-অফিসিয়ালি এই সভ্যতার পিতামহ ঈশ্বর নন।
আর এই পৌত্রটি ভারী ভরে ও সেয়ানা, তার চোখে তার মাতামহী
অতি নিন্দিত, ঘৃণিত, বর্জিত এক প্রাণী...।’

অরুণদা’র কথার অর্থ, এখানে কেউ ধরতে পারবে কার সাধ্য। সত্যি কথা বলতে কী, আমিও অরুণদা’র সব কথার অর্থ করতে পারি না। তার অনেক বন্ধু, তাকে না-বুঝে এড়িয়ে চলে। অরুণদা’কে বোঝে ভাল কমল; কবি অর্ঘ কমল। অরুণদা’র কত কবিতা যে কমলের মুখস্থ তার কোনো লেখাজোকা নেই। ওর সঙ্গে দেখা হলেই, শোনা যাবে; ওর কণ্ঠ থেকে ভেসে আসছে ‘জন্ম ও যোনির ঘাস ঢেকে দেয় নক্ষত্রের মুখ/ শূন্যতাকে শুষে নেয় শেকড় ছড়িয়ে...।’ যাই হোক, এখন, উৎসুক গণিকারা অরুণদা’কে ঘিরে আছে। তার কথা বুঝুক বা না-বুঝুক। লোকটি ফেরারি-টেরারি হতে পারে, বিভামাসীকে প্রণাম করে ভজাতে চাইছে, ভাবছে কেউ-কেউ...।

বিভাবতী ধমক দিলো গণিকাদের। ‘এই তরা এহন যা। বাবার আমার চোখ-মুখ কেমন শুকাইয়া গেছে। আগে জলটল কিছু মুখে দিক...।’

গণিকাদের আক্কেলগুড়ম! বিভামাসী কখনো মাগী-ছাগী ছাড়া কথা বলে না। আজ হলো কী? পাগল-মার্কা লোকটাকে বাবা বলছে...।

তুমি কুচবিহার থেকে পালালে কেন, মা? পৃথিবীর কত জায়গায় তোমাকে খুঁজেছি...।

কোথায় কান্দাপট্টি আর কোথায় কুচবিহার! তাছাড়া বিভাবতী কুচবিহার ছিলই বা কবে? আগের জন্মে ছিল কিনা তা সে জানে না। সবাই পূর্বজন্মের কথা মনে করতে পারে না। বিভাবতীও পারছে না। কিন্তু লোকটিকে এখন কী বলবে সে! সে তো কোনোদিন কুচবিহার ছিল না। পালানোর প্রশ্ন উঠছে কেন? লোকটি তাকে প্রণাম করেছে, মা ডাকছে...।

বিভাবতী প্রসঙ্গ এড়িয়ে বললো, ‘তুমি বসো বাবা। ঘরে বেল আছে। শরবত বানাইয়া দেই। বকুলতলা বইয়াই খাও। কারেন্ট নাই। ঘরে খুব গরম...।’

ঘরে ঢোকে বিভাবতী। অরুণদা’ বোঝেন মহিলা প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল, তারপরও আর কিছু বললেন না। কবিতা আবৃত্তি শুরু করলেন-

‘হেমন্ত আর শীতে আমরা গ্রামের দিকে চলে যাই
গ্রীষ্ম আর বর্ষা আমরা শহরের গলিতে কাটাই
বসন্তে সারা অরণ্যে জ্বলে ওঠে আগুন আমাদের
মনে পড়ে না শহরে, অরণ্যে আর গ্রামে কীভাবে
বেড়ে উঠেছে আমাদের সন্তান, আমাদের মনে
পড়ে না কী জন্যে আমরা পৃথিবীতে এসেছিলাম...।’

একমনে কবিতা আবৃত্তি করছেন অরুণদা। কুচবিহার শহরের গণিকালয়ে প্রৌঢ়া গণিকা বিভাবতীর সামনে তরুণ বয়সে যে-রকম করতেন! আজ এই বুড়ো বয়সে, বাংলাদেশে এসে যেন সেই হারিয়ে যাওয়া বিভাবতীকে খুঁজে পেয়েছেন। এখন আর অরুণদা’র অন্য কোনো খেয়াল নেই। আমি যে তাকে পথ দেখিয়ে এখানে নিয়ে এলাম, তার পাশেই বসে আছি এখন, এ-খেয়ালও নেই তার। ঠিক আছে। অরুণদা কবিতা আবৃত্তি করতে থাকুন এই সুযোগে আমরা তার পরিচয়টা জেনে নিই...।

অরুণদা, মানে কবি অরুণেশ ঘোষ; কুচবিহার শহরের পাশেই হাওয়ার গাড়ি গ্রামে তার বসতভিটা। পূর্বপুরুষের জন্ম আমাদের গোপালপুরের জাঙ্গালিয়া গ্রামে। বৈরান নদী ঘেঁষে গ্রাম জাঙ্গালিয়া আপনাদের অনেকের কাছেই গ্রামটি পরিচিত। হ্যাঁ, কবুল করছি এই গ্রামের এককালের ‘রাজা’ শ্রীকান্ত তরফদারের কল্যাণেই গ্রামটি আপনাদের কাছেও যেমন, তেমনি দূর-দূরান্তের মানুষের কাছেও সুপরিচিত। শ্রীকান্ত তরফদার অরুণদা’র মা শান্তিসুধার মাতামহ। অরুণদার শৈশবের বহুদিন কেটেছে জাঙ্গালিয়ায়, তরফদারবাড়ি। শ্রীকান্ত তরফদারের সাথেই শৈশবে অরুণদা’র গণিকাদর্শন ঘটে সেই গল্প আমরা অরুণদার মুখেই শুনবো, একটু পরে...।

সত্যি বলতে কি, কবি অরুণেশ ঘোষকে আমি চিনতাম না। পরিচয় করিয়ে দিয়েছে কমল। পৃথিবীর তাবৎ ভিন্নজাতের মানুষ যাদের চাল-চলন, কথাবার্তা, জীবনাচরণ সমাজের আর দশটি মানুষের মতো গতানুগতিক নয়; হাটের ভীড়ের মধ্যে দেখলেও যাদের সহজেই আলাদাভাবে চেনা যায়; মনে-মনে বলা যায়, ওই যে যাচ্ছে লোকটি লোকটি বলতে পারে ‘পুণ্যের পথ নয়, পাপের পথই জীবন্ত পথ’ তারা কমলের পরিচিত। একসাথে মদ্যপানের সম্পর্ক তাদের সঙ্গে। র্যাঁবো, বোদলেয়ার থেকে শুরু করে শৈলেশ্বর, অরুণেশ সবার বাড়িতে অবাধ যাতায়াত অর্ঘ কমলের...।

দুপুরবেলা। বাইরে করাতের দাঁতের মতো ধারালো রোদ। কোথাও যাওয়ার জো নেই। আমি ঘরে শুয়ে-শুয়ে ‘শব ও সন্ন্যাসী’র কবিতা পড়ছিলাম ।

‘জয়পুর থেকে আমার চিঠি যায়
তুমি ডাকপিয়নের কাছ থেকে হাত বাড়িয়ে নিয়েছ সেই চিঠি
আমি ভাবতে পারি, তোমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে...
আমার হাত ধরে সেই ছেলেবেলায় যেখানটায় এসেছিলে
সেইখানেই থেকে গেলে চিরটা দিন
আমি তো কত দেশ ঘুরে বেড়ালাম কত সরাইখানায়
আকণ্ঠ মদ্যপানের পর আমার স্বপ্নহীন ঘুম
শেষ হয়ে গেল
এক সরাইখানা থেকে আরেক সরাইখানায় হেঁটে যাবার পথে
আমার সঙ্গে আলাপ হল বেশ্যাদের...
মা আমার, চিঠি শুঁকে দ্যাখো তুমি সেই গন্ধ
সেই পুরনো গন্ধ যা তোমারই, তোমার গর্ভের...।’

কবিতা পড়তে-পড়তে একটু তন্দ্রার মতো এসেছিল। তখনই বাইরে গলার আওয়াজ। জলদগম্ভীরকণ্ঠ। ‘সুমিত বাড়ি আছ...?’

ডাক শুনে আমার তন্দ্রা কেটে গেল। এত রোদের মধ্যে কে এলো! আমি ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলাম। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, কাঁধে খদ্দেরের ব্যাগ; সৌম্যদর্শন এক প্রৌঢ় দাঁড়িয়ে আছেন। লোকটিকে কোথায় দেখেছি...?

আপনি...?

আমি অরুণেশ, অরুণেশ ঘোষ...।

আপনি অরুণেশ ঘোষ? অরুণদা...!

পা ছুঁয়ে সালাম করলাম অরুণদা’কে। দাদা আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন...।

এখন কোত্থেকে এলেন...?

জাঙ্গালিয়া...।

কুচবিহার থেকে কবে এসেছেন...?

দিন-তিনেক হলো...।

খবর দেননি কেন? কমলের সাথে যোগাযোগ হয়েছে...?

তোমার বোধহয় ক’দিন ধরে কমলের সাথে যোগাযোগ নেই। ফোন-টোন করনি। এসেই ওকে ফোন করেছি। ওর ফোন বন্ধ। দেখ, এখনো ওর বন্ধ। তোমার নম্বর জানা থাকলে তোমাকে ফোন করতাম...।

ফোন বন্ধ রেখে পানকৌড়ির মতো ডুব মারা কমলের স্বভাব। মাঝে-মধ্যেই কোথায় যে ও ডুব মারে, কে জানে...!

কাপড়-চোপড় পরে রেডি হও। জরুরি কাজে এসেছি। বিভাবতীকে খুঁজতে যাবো, তোমাদের কান্দাপট্টিতে...।

বিভাবতী...!

তুমি চিনবে না। গণিকা। আমার তরুণ বয়সে কুচবিহার থেকে হারিয়ে গেছে...।

বলেন কী? আপনার তরুণ বয়সে যে-মহিলা নিখোঁজ হয়েছে, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে? তাও আবার আমাদের কান্দাপট্টিতে...?

আমার মন বলছে, মাসিমা তোমাদের এখানেই আছে...।

থাকলে ভাল। আপনি এখন বিশ্রাম নিন। বিকেলে যাওয়া যাবে। এই দুপুরবেলা...?

গণিকালয়ে যাবো, সময় বেছে-বেছে যেতে হবে...?

কিন্তু...।

বুঝেছি। তুমি ভয় পাচ্ছ। কেউ দেখে ফেলবে কবি-কথাকার সুমিত জহির বেশ্যাবাড়ি ঢুকলো সেই টেনশন করছ! ধিক তোমাকে। গল্প-কবিতা লিখছ, কিন্তু তুমি এখনো মানুষ চিনতে পারনি পবিত্র মাটি তোমার অচেনা। পৃথিবীতে মুচি-মেথর ডোম, মাতাল-পাগল-গণিকা; ওরাই প্রকৃত মানুষ ওরা কোনো ভান করে না; কারো সাথে প্রতারণা করে না। সমাজের ভদ্রবেশী টাকাওয়ালা মানুষগুলোই জোচ্চর। শুনে রেখো সুমিত গণিকালয়ের মাটির চেয়ে পবিত্র মাটি পৃথিবীতে আর কোথাও নেই। একটু সুখ-শান্তির খোঁজে মানুষ যেখানে মাথাকুটে মরে সেই মাটি তো গয়া-কাশী-মক্কা-মদিনার মাটির মতো পবিত্র। তুমি গাল্পিক গল্প খুঁজে বেড়াও, তোমাদের কান্দাপট্টিতে যতগুলো মেয়ে আছে, প্রত্যেকের ঘরে দু’চার রাত কাটাও; দেখবে কত গল্প আছে ওদের জীবনে তোমার একজীবনে ওদের গল্প লিখে শেষ করতে পারবে না...।

আমি বিমূঢ়ের মতো অরুণদার কথা শুনছি। জীবন-জগৎ যে এ-রকম হতে পারে, কোনো মানুষ তথাকথিত নিচুস্তরের মানুষদের নিয়ে এভাবে ভাবতে পারে, তাদের সম্মান দেখিয়ে কথা বলতে পারে, এটা আমার কল্পনার মধ্যেও ছিল না...।

অরুণদা আবার বলতে শুরু করলেন তোমার এখন বয়স কত? তিরিশ পার করেছ। এই বয়সেও তুমি বেশ্যাবাড়ি যেতে ভয় পাচ্ছ! তোমার তো লেখক-জীবনই বৃথা। পাঁচবছর বয়সে আমার প্রথম গণিকাদর্শন ঘটে...।

তাই নাকি? বলেন কী...!

তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না? চলো, হাঁটতে-হাঁটতে সেই গল্প তোমাকে শোনাই...।

অরুণদার যে শৈশবেই গণিকাদর্শন ঘটে, তার মুখেই যে আমরা সেই গল্প শুনবো তা আমি আগেই বলেছি। পাঠক, চলুন, আমরা অরুণদা’র মুখেই তার গণিকাদর্শনের গল্প শুনি...।

শোনো সুমিত, তোমরা হয়তো কিছুটা জান। ছিটেফোঁটা পড়েছ কোথাও-কোথাও। জাঙ্গালিয়ার জোতদার শ্রীকান্ত তরফদার ছিলেন আমার তালুই, মানে আমার মায়ের মাতামহ। গাঁয়ের সবচে’ ধনাঢ্য ব্যক্তি। সেই আমলে বাড়িতে পাকা ঘর। বাড়ির সামনে ঘাট-বাঁধা বিশাল পুকুর। পুকুরের ওপারে প্রাচীন কালীমন্দির। বাড়িতে পূজা-অর্চনা লেগেই থাকে...।

দেখতে কেমন ছিলেন শ্রীকান্ত তরফদার? তালুই লোকটি ছিলেন, যাকে বলে সুপুরুষ। দীর্ঘকায়, বৃষস্কন্ধ, মেদহীন; ঝকঝকে দাঁত। হাসলে তাঁকে শিশুর মতো সরল মনে হতো। বয়সের দুস্তর ব্যবধান সত্তেও কীভাবে যেন এই লোকটির সঙ্গে ৫ বছরের পুঁচকে ছেলে অরুণেশের বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল? আসলে, বন্ধুত্ব হতে বয়স কোনো বাধা নয় কী বলো সুমিত?

শ্রীকান্ত তরফদারের একটি মাত্র মেয়ে ছিল সুহাসিনী, আমার দিদিমা। সুহাসিনীর বিয়ে হয়েছিল পাশের গ্রাম নন্দনপুর। অকালবৈধব্য ঘটে দিদিমার। তখন, স্বামীর বাড়ি আর তার থাকা হয়নি। আমার মাসহ দু’টি মেয়ে নিয়ে দিদিমা বাবার বাড়ি চলে আসে, চিরতরে। আমার মামাবাড়ি বলতে শ্রীকান্ত তরফদারের বাড়িকেই বুঝতাম। কুচবিহার থেকে মা-বাবাসহ আমরা এসে উঠতাম দিদিমার ঘরে। আমার শৈশবের বহুদিন কেটেছে এ-বাড়িতে...।

তরুণ বয়সে বিপত্নীক হন শ্রীকান্ত তরফদার। তখনকার দিনে ধর্ণাঢ্য বিপত্নীকদের কোনো আত্মীয়া বা বাড়ির দাসী-বাঁদীর সাথে যৌনসম্পর্ক থাকতো। কিন্তু শ্রীকান্ত তরফদারের তা ছিলো না। তাঁর নৈতিকতাবোধ ছিল অত্যন্ত প্রখর। তবে, বাড়ির, গ্রামের সবাই বলতো গোপালপুর বাজারে তাঁর একটি সুন্দরী রক্ষিতা আছে।

কথাটি আমিও শুনতাম। শ্রীকান্ত তরফদার আমার প্রৌঢ় বন্ধু বলে নিজে নিজে বোঝার চেষ্টা করতাম, লোকে যে বলে; শ্রীকান্ত তরফদারের রক্ষিতা আছে; রক্ষিতা কী জিনিস? রক্ষিতা কাকে বলে?

রক্ষিতা কাকে বলে, অচিরেই যে টের পাবো তা আমার মাথায় ছিল না...।

একটা দুধসাদা ঘোড়া ছিল শ্রীকান্ত তরফদারের। সেই ঘোড়ায় চেপে রোজ সন্ধ্যায় গোপালপুর বাজারে যেতেন তিনি। আমি যতদিন ওই বাড়িতে থাকতাম, ছিলাম তার নিত্যসঙ্গী। শ্রীকান্ত তরফদার কেন যে তার পুতিটিকে এতটা ভালোবাসতেন, তা আমার জানা ছিল না। আমারও ভাল লাগতো তাঁকে, তাঁর সঙ্গ...।

গোপালপুর বাজার তখন পাটের ব্যবসায়ের জন্য প্রসিদ্ধ। বৈরান নদীর তীরে বাজার। নদী ঘেঁষেই পাটের আড়ৎ। নদীর ঘাটে সারি-সারি পাট বোঝাই নৌকা। দরদাম শেষে কুলিরা আড়তে পাট তোলে...।

বাজারে লালমোহন সাহার বড়ো গদি। এখানেই শ্রীকান্ত তরফদারের আড্ডা...।

তখন ১৯৪৬ সাল। সময়টা ছিল ভয়াবহ। আড্ডার প্রধান আলোচনা ছিল এখন কী হবে? দাঙ্গা যে সবখানে ছড়িয়ে পড়ছে। বরিশাল, নোয়াখালি, ময়মনসিংহ....।

কতক্ষণ...?

বড়োকত্তা ভাবতাছেন কিছু? এই দ্যাশে আর থাকন যাবো না। সক্কলে কইতাছে আগুন তো ঘরের চালে লাগলো বইলা...।

গলা কাঁপে লালমোহন সা’র।

শ্রীকান্ত তরফদার নির্বিকার। একসময় মুখ খোলেন। ‘লাগুক। আগুন ঘরে লাগুক। চৌদ্দপুরুষের ভিটা ছাইড়া আমি কোথাও যামু না...।’

এইসব কথাবার্তার ফাঁকেই একসময় শ্রীকান্ত তরফদার আমাকে গদির কর্মচারীদের জিম্মায় রেখে কেটে পড়তেন আমি টেরই পেতাম না। এখানে খুঁজি, ওখানে খুঁজি। কোথাও নেই। কী কাণ্ড! কোথায় গেলেন মিছা...?

আমরা বাড়ির ছেলে-ছোকরারা শ্রীকান্ত তরফদারকে ‘মিছা’ বলে ডাকতাম। কেন তাঁকে মিছা ডাকতাম এই গল্পে সে ব্যাখ্যা অপ্রয়োজনীয়। আমরা মূলগল্পে ফিরে যাই...।

আমার ছটফটানি দেখে গদির কর্মচারীরা বলতো, ‘খোকা বইসো। বড়োকত্তা এখনই আইবো। ধলাঘোষের চমচম আইনা দেই। চমচম খাও...।’

সুমিত, তোমাকে বলে রাখি আমি তখনই অকালপক্ক ছিলাম, পাঁচবছর বয়সেই। উদাহরণ দিলে অনেক দেয়া যাবে সেদিকে যাচ্ছি না। একদিন আমি তক্কে-তক্কে থাকলাম, কোথায় যান মিছা?

লালমোহন সা’র গদি ছেড়ে পাশের গলিতে ঢুকলেন মিছা। সামান্য এগিয়ে, বাঁ-দিকে মোড় নিয়ে আরো একটা গলি। চাপা, সরু। গলির দু’পাশে লাগালাগি সারি-সারি ঘর। কোনোটা টিনের চৌয়ারী, কোনোটা দো’চালা। সব ঘরের সামনে গুচ্ছগুচ্ছ মেয়ে ফুলের মতো। মিছা ধুতির কোঁচা মুঠো করে দ্রুতপায়ে হাঁটছেন। গলায় গুনগুন গান। কী আশ্চর্য! তাকে তো কোনোদিন সুর ভাজতে দেখিনি...।

আমি নিঃশব্দ পায়ে তার পিছু নিয়েছি। অবশ্য এটাও বুঝে ফেলেছি, মিছা যেভাবে যাচ্ছেন পেছন ফিরে তাকাবার ফুরসত তার নেই...।

গলিপথ পেছনে রেখে, গোলাপ-গাঁদা-স্থলপদ্মের ছোট্ট বাগানওয়ালা সুদৃশ্য একটি কাঠের বাড়ির সামনে দাঁড়ালেন মিছা। অদূরেই নদী। মিছা বাড়ির গেট খুলে ভেতরে ঢুকলেন। সিঁড়ি বেয়ে বারান্দায় উঠে ডাক দিলেন অভয়, অভয়...।

ঘরের ভেতর থেকে রিনরিনে গলার আওয়াজ এলো ‘দরজা খোলাই আছে। আইসেন...।’

মিছা স্বল্পালোকিত, সুসজ্জিত সেই ঘরে ঢুকলেন তার পেছনে যে আমি সে সম্পর্কে তখনও তিনি অচেতন। কীসের মোহে যে ছোটে মানুষ...!

দেয়াল-জোড়া আয়নার সামনে বসে প্রসাধনে ব্যস্ত এক পরমাসুন্দরী। এই মহিলাই তবে শ্রীকান্ত তরফদারের রক্ষিতা! আয়নার ভেতর দিয়েই সে এক ঘর্মাক্ত, বিস্মিত, হতচকিত বালককে দেখে। মুখ ফিরিয়ে বলে, ‘কারে সঙ্গে নিয়া আইছেন বড়োকর্তা...?’

মিছাও তখন পেছনে তাকান। দেখেন, আমি। স্তম্ভিত। নির্বাক। ঘরের ভেতরে তখন এমনই নিস্তব্ধতা যে সেই রূপবতীর হাত থেকে হাতির দাঁতের চিরুনি খসে পড়ে...।

আমার মতো অকালপক্ক, হাড়বজ্জাত পুতিটির ওপর মিছা কখনো ক্রোধ প্রকাশ করেননি হাজার অন্যায় করার পরও। আজও করবেন না, এটা আমার বিশ্বাস ছিল। ফলে গেল আমার বিশ্বাস। অনেকক্ষণ পর মিছা হেসে বললেন, ‘আমার পুতি। মেজো নাতনির পোলা...।’

রমণী হাত বাড়িয়ে দিলেন। ‘আসো বাবা, কাছে আসো। আমি তোমার আর একটা মা...।’

বুঝলে সুমিত, এভাবেই আমার প্রথম গণিকাদর্শন। মিছার রক্ষিতা অভয়াকে আমি ‘ছোট মা’ ডাকতাম। সে কবিতা লিখতো। তার একটা বাঁধানো কবিতার খাতা আমার কাছে এখনো আছে। শুনবে তার কবিতা ।

‘আমি এক অভাগিনী মৃত্যু নাহি মোর
আমি এক বিষধর, বিষে জ্বর-জ্বর
এই বিষ বেঁটে দিই পুরুষে-পুরুষে
কী ছিলাম কী হইলাম কপালের দোষে...।’

কথক সুমিত আবার ঢুকলো গল্পে...।


এতক্ষণ মন্ত্রমুগ্ধের মতো অরুণদার প্রথম গণিকাদর্শনের গল্প শুনছিলাম...।

আমরা হাঁটছিলাম আকুরটাকুরের ভেতরের রাস্তা দিয়ে। এ-রাস্তায় প্রচুর গাছপালা। বকুলগাছ, নিমগাছ, বহেড়াগাছ...। রোদ কম। হাঁটতে-হাঁটতে কখন কান্দাপট্টির সামনে, চৌরাস্তার মোড়ে এসে পড়েছি, টেরই পাইনি। গল্প শোনায় মগ্ন ছিলাম বলেই পথ এত দ্রুত সরেছে। টের পেলাম অরুণদার কথায়। দাদা বললেন, ‘সুমিত আমরা এসে পড়েছি...।’

তাই তো! আপনি বুঝলেন কী করে...?

পবিত্র মাটির গন্ধ পাচ্ছি ।

‘এ যেন আমাদের ছোট শহরের
বেঁটেখাটো আর দাড়িওয়ালা ঈশ্বরের সঠিক নির্দেশ
এক গাঁ থেকে আরেক গাঁয়ে
পালিয়ে না-বেড়িয়ে সোজা চলে আয় আমার এখানে।
এই ভাঙা বাড়ি, নেশুড়ে আর বেশ্যাদের আস্তানায়...।’

বুঝলে সুমিত, বেশ্যাবাড়ির কাছাকাছি গেলেই, আমি বুঝতে পারি মা আমাকে ডাকছে, তাড়াতাড়ি যেতে হবে...।

আমরা, এখন, আবার বিভাবতীর ঘরের সামনে। বকুলগাছের বাঁধানো গোড়ায় বসে আছি। গল্প নিজে-নিজেই সৃজিত হোক...।

বিভাবতী একগ্লাস বেলের শরবত দিল অরুণদার হাতে। ‘খাও বাবা। শরবতটুক খাও। গা-গতর জুড়াইয়া যাবো...।’

শরবতের গ্লাস গাছের গোড়ায় রেখে দিয়ে অরুণদা চড়া মেজাজে বললেন, ‘আমি শরবত খাই না। শরবত খেতে এখানে আসিনি। আমাকে মদ দেন...।’

অরুণদা যখন কেবল হাফপ্যান্ট ছেড়ে পাজামা পরছেন, কেবল গোঁফের রেখা ফুটে উঠছে, সেই তখন থেকেই মদ ধরেছেন। সকালে খালি পেটেই তরল-আগুন পেটে চালান করেন। চলে রাতে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত। সেই লোকটি খাবেন শরবত! শরবতের গ্লাস দেখেই তার মেজাজ চড়ে গেছে। তিনি ভুলে গেছেন, এটা কুচবিহার না। এটা টাঙ্গাইল শহরের কান্দাপট্টি। তিনি এখানে বিভাবতীতে খুঁজতে এসেছেন, মেজাজ দেখানো ঠিক না...।

অরুণদা’র কথা শুনে বিভাবতীর শরীরে বিদ্যুৎ-শক খাওয়ার মতো ঝাঁকুনি খেল। আর কী আশ্চর্য! শরীরে ঝাঁকুনি খাওয়ার পর থেকেই সে তার পূর্বজন্মের সব ঘটনা দেখতে লাগলো চোখের সামনে...।

কুচবিহার শহরের বাঁ-পাশ ঘেঁষে গণিকাপল্লী। পল্লীর উল্টোদিকে রাস্তার ওপারে বিশাল এক পুকুর। পুকুরের ওপর বিভাবতীর দোকান। কাঠের পাটাতন-পাতা। বিভাবতী আগে গণিকাবৃত্তি করেছে। এখন বয়সের ভারে ন্যূব্জ। গণিকাবৃত্তি করে না। দোকানে ভাত-রুটি-চা বিক্রি করে। রাতে বেচে মদ...।

একদিন, গা-ঝলসানো দুপুর; ১৬-১৭ বছর বয়সী অরুণেশ, কেবল গোঁফের রেখা উঠেছে ঢুকলো বিভাবতীর দোকানে। রোদে শরীর পুড়ে কালো হয়ে গেছে। অরুণেশকে দেখে মায়া হলো বিভাবতীর। বললো, ‘বইসো বাবা, বইসো। শরবত বানাইয়া দেই, শরবত খাও...।’

অরুণেশ রাগী চোখে বললো, ‘আমি শরবত খাই না। মদ দেন...।’

অরুণেশের কথা শুনে বিভাবতী হতবাক। ছেলে বলে কী...?

আমি বেশ্যা হইতে পারি বাবা, কিন্তু আমার একটা নীতি আছে। দিনে মদ বেচি না। ওই যে ভাটিখানা, ওইখানে যাও, মদ পাইবা। অরা দিনরাইত মদ বেচে...।

বিভাবতীর নীতিবাক্য শুনে অরুণেশের রাগ আরো চড়ে গেল। সে বললো, ‘আপনার আর কী-কী নীতি আছে, শুনি...?’

বিভাবতী শান্ত, ধীরস্থির। মুখে চিকচিকে হাসি। সে বললো, ‘সে-সব শুইনা আর কী করবা? আমি যখন ঘরে লোক নিতাম, তাদের স্বামীরূপে সেবা দিতাম...।’

স্বামীরূপে! টাকা নিতেন না...?

নিতাম। সেটা তো এক-দু’ঘন্টা কিংবা এক-দু’রাত্রির সেবার বিনিময়ে...।

আপনি দেখছি গণিকাশ্রেষ্ঠা, সততার পরাকাষ্ঠা সেই হাজার বছর আগের নগরবেশ্যা বিন্দুমতীর আধুনিক সংস্করণ...!

বিন্দুমতী কে, বাবা...?

অরুণেশের রাগ তখন কিছুটা পড়েছে। শরবত খেয়েছে একচুমুক। কী আর করা? বিন্দুমতীর গল্পও শোনালো বিভাবতীকে। পাঠক, গল্পটি আপনারাও শুনুন...।

সম্রাট অশোকের একবার মনে হলো তিনি পাটলিপুত্র শহরের লোকদের সততার পরীক্ষা নেবেন। তিনি ঘোষণা করলেন এ শহরের যে-লোকটি নিজেকে সৎ মনে করে তাকে গঙ্গার পাড়ে দাঁড়িয়ে বলতে হবে গঙ্গা তুমি উজান বও। লোকটি সত্যি-সত্যি সৎ হলে গঙ্গা উজানে বইবে, না-হলে যেরকম ভাটিতে বইছে, সেভাবেই বয়ে যাবে...।

দেশের সব সাধু-সন্ত, সওদাগর-ব্যবসায়ী, কুলবধূ-কুমারীকন্যা সবাই এসে বললো গঙ্গা উজান বও...।

গঙ্গা উজান বইলো না।

তারপর জোর করে ধরে আনা হলো নগরবেশ্যা বিন্দুমতীকে। বিন্দু ভগবানের নাম স্মরণ করে কাঁপা-কাঁপা গলায় বললো গঙ্গা তুমি উজান বও...।

কী আশ্চর্য! গঙ্গা উজান বইতে শুরু করলো...।

হ্যাঁ, সেই অরুণই তো এই লোক যে বিন্দুমতীর গল্প শুনিয়েছিল! বিভাবতী আর্তনাদ করে বললো, ‘বাবা তুমি কে? বলো বাবা, তুমি কে...?’

ততক্ষণে অরুণদারও স্থির বিশ্বাস জন্মেছে এই রমণীই কুচবিহার থেকে হারিয়ে যাওয়া বিভাবতী। অরুণদা জিজ্ঞেস করলেন আগে বলুন, আপনি কি কুচবিহারের বিভাবতী নন?

হ্যাঁ বাবা, আমি সেই অভাগিনী...।

পালালেন কেন?

ছেলেকে একটার পর একটা চিঠি লেখতাম। তোমার মতোই এক ছেলে আমার হয়ে চিঠি লেইখা দিত। কিন্তু ছেলের উত্তর আসলো না কোনোদিন। ছেলের চিঠি না-পাইয়া, দ্যাশটাই আমার কাছে নরক হইয়া উঠছিল, বাবা। কিন্তু, তুমি কে? তোমারে দেইখা যে আমার মনে হইতাছে তোমারে আমি কতকাল ধইরা চিনি...।

চিনবেন না কেন? আমি যে আপনার সেই ছেলে, অরুণেশ। আমিই আপনাকে চিঠি লিখে দিতাম...।

অরুণেশ! বাবা, তুমি অরুণেশ...?


‘মা

আমাদের আর কোনো দুঃখ নেই; কোন শোক ।

দু’জনেই মরে পড়ে থাকবো, দুজনেই

দুই দেশের দুই রকম রাস্তার পাশে

একই রকমভাবে...।’


লেখক পরিচিতি:
রাশেদ রহমান
মূলত গল্পকার। কোনো কিছু দেখা ও দেখানোর দৃষ্টি তার গভীর ও ভিন্ন। কবিতা ও উপন্যাস লেখেন। জন্ম ১৯৬৭ সালে, টাঙ্গাইলে। থাকেনও সেখানে। অনেকটা নিভৃত্তে, রাজধানীর চাকচিক্যের বাইরে। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশুনা করেছেন। স্থানীয় একটি সাপ্তাহিকের বার্তা সম্পাদক। ‘উতঙ্ক’ নামক সাহিত্যের ছোটকাগজ সম্পাদনা করেন। ‘গণিকাপ্রণাম’ গল্পটি তার প্রকাশিতব্য ‘গণিকাপ্রণাম’ গল্পগ্রন্থের নাম গল্প।

গল্পগ্রন্থ : আগুনঘেরা নদী (১৯৯৭), সুন্দর পাপ ও বিলাসভূমি (২০০০), একদিন শুকনো নদীতে (২০০৩), অন্ধকারে বৃষ্টির গান (২০০৫), ঈশ্বরের চোখে জল (২০০৭), জাদুর আয়না (২০০৯), দেশে আর্মি নামলে যে গল্পের জন্ম হয় (২০১১), তৌরাতের সাপ (২০১২), শত্রু কিংবা শত্রু সম্পত্তি (২০১৪)। কাব্যগ্রন্থ : কুমারী নদীর কবিতা (২০০৮), দ্রৌপদীর শাড়ির আগুন (২০১০), ঈশ্বরের খাদ্য ও জননীর কবিতা (২০১৩)। উপন্যাস : স্বপ্ন কিংবা স্বপ্নের ছায়া (২০০৬)।

যোগাযোগের ঠিকানা: গ্রাম ও ডাকঘর- রসুলপুর, উপজেলা ও জেলা- টাঙ্গাইল।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন