বুধবার, ১৭ জুন, ২০১৫

কামাল রাহমানের গল্প : ডাইনোসোর

বলতে গেলে প্রায় শৈশব থেকে পোকামাকড়ের সঙ্গে বসবাস করে নেটি। সমারসেটের উত্তরে একটা প্রজাপতি খামার আছে ওর বাবার। ওখানেই বড় হয়েছে সে প্রজাপতি ও পোকামাকড়ের সঙ্গে। নিজের পড়াশোনাও এই লেপিডোপটেরা প্রজাতির উপর। সাউদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রজেক্টে কাজ করতে যেয়ে অভিনব এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় নেটি। বলা যায় এক আবিষ্কারের খুব কাছাকছি পৌঁছে গেছে সে।


ওদের খামার থেকে ক’মাইল দূরে ডরচেস্টারে রয়েছে ডাইনোসোর মিউজিয়াম। নেটির পড়াশোনার এক পর্যায়ে ডাইনোসোরের ডিএনএ নিয়ে গবেষণা করতে যেয়ে পরিচয় নিকের সঙ্গে। একত্রবাস করছে ওরা গত আট বছর ধরে। মিউজিয়ামের কিউরেটর এখন নিক। নেটি আছে আণুবীক্ষণিক সব প্রাণীদের নিয়ে। নেটিকে প্রস্তাব দেয় একদিন নিক--

‘পোকামাকড় ছেড়ে আসো না একটা ডাইনোসোর জন্ম দেয়ার চেষ্টা করি, নেটি।’

‘কোথায়, আমার ভেতর?’ রগড় করে নেটি।

হো হো করে হেসে উঠে নিক।

‘না, পোকামাকড়ের ভেতর।’

‘ঠিক আছে, ডাইনোসোর ধারণ করতে পারে এমন কোনো পোকার সন্ধান পেলে জানাব নিশ্চয়।’

ডাইনোসোরের ডিএনএ সূত্র নিয়ে গবেষণা করতে যেয়ে ওদের জীবাশ্ম ও এক প্রজাতির গিরগিটির দেহ-কোষ পর্যবেক্ষণ করে এক বিস্ময়-ঘোরের ভেতর ঢুকে পড়ে নিক। বিষয়টাতে সাহায্য করতে পারে নেটি। কিন্তু পোকামাকড়ের ঘরগেরস্থালির বাইরে বেরিয়ে আসতে চাইছে না সে কোনোভাবে। অবশেষে একটা আপোষ করে ওরা। নেটির যে গবেষণাটা চলছে এখন তাতে সাহায্য করবে নিক। ওটা শেষ হলে দুজনে মিলে কাজ করবে ডাইনোসোরের উপর।

হঠাৎ একটা নতুন কাজ হাতে গছিয়ে দেয় নেটির অধ্যাপক। চৈনিক বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এক আশ্চর্য আবিষ্কার করেছে। প্রায় পনের মিমি দৈর্ঘের নতুন এক প্রজাতির বোলতার সন্ধান পেয়েছে ওরা। ডিম সংরক্ষণ করে ওরা বাসার বাইরের দিকে পিঁপড়ের মৃতদেহ ভর্তি করে রেখে। এই স্বভাবটা অন্য কোনো প্রজাতির পোকামাকড়ের ভেতর আছে কিনা এখনো জানা যায়নি। মরা পিঁপড়েগুলো কখনো খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে না ওরা। শিকারী পোকাদের ভয় দেখিয়ে দূরে সরিয়ে রাখার জন্য এ কাজটা করে। প্রাণীদের এ স্বভাব শত শত বছর আগের অ্যাজট্যাক ও অন্যান্য মেসো-অ্যামেরিকান মানুষের ভেতর লক্ষ্য করা গেছিল। দেবতাদের প্রতি উৎসর্গ করা অপরাপর গোত্রের মানুষের মাথার হাজার হাজার খুলি নগর প্রাচীরের বাইরে স্তুপ করে রাখত ওরা। শত্র“র জন্য ভয়ের কারণ হত ওসব। পোকামাকড়ের ভেতর এমন কোনো প্রজাতির সন্ধান আর পাওয়া যায়নি যারা ডিম সংরক্ষণ করে অন্য প্রাণীর মৃতদেহ দিয়ে সুরক্ষাবর্ম সৃষ্টি করে। ঐ গোত্রের পুরুষ বোলতাগুলো নিরীহ। ফুলের রেণু ও মধু খেয়ে বেঁচে থাকে। কিন্তু মেয়ে বোলতাগুলো ওদের চেয়েও আকারে বড় মাকড় শিকার করে বাচ্চাদের খাওয়ানোর জন্য। এদের বাসা বানানোটাও অদ্ভূত। ফাঁপা চোঙের মতো ডাল-পালার খোলে মেয়ে-পোকাগুলো একটা করে ডিম ও শিকার করা মাকড় পর পর সাজিয়ে রাখে যেন জন্মানোর পর বাচ্চারা খেতে পারে ওগুলো। খোলের বাইরের দিক দুটো মৃত পিঁপড়ের শরীর দিয়ে খুব ভালোভাবে বন্ধ করে দেয়।

চৈনিকদের নতুন এই আবিষ্কার রীতিমতো ভাবিয়ে তোলে নেটিকে। মানুষ ছাড়া অন্য কোনো প্রাণীর ভেতর এমনটা দেখা যায়নি। পোকামাকড়ের ভেতর এটা কল্পনাতীত। বিষয়টা নিয়ে খুব বেশি দূর এগোতে পারে না সে। চীনদেশীয়রা বৈজ্ঞানিক তথ্য খুব বেশি আদান প্রদান করে না। আবার ফিরে আসে সে সমারসেটের পোকামাকড়ের জগতে। কিন্তু মাথায় থেকে যায় ঐ ভাবনাটা। তেলাপোকার একটা ডিমের ভেতর ষোলটা প্রকোষ্ঠে ষোলটা ভ্রুণ কীভাবে সাজানো থাকে, ওগুলো থেকে বাচ্চা ফুটে সব কয়টাই বেঁচে থাকে কীভাবে, আর এই লক্ষ লক্ষ বছর এত প্রতিকূলতার ভেতরও টিকে আছে ওরা কীভাবে, তা নিয়ে গভীর গবেষণায় মগ্ন হয়ে পড়ে। বিষয়টা নিয়ে উঠে পড়ে লেগে যাওয়ার কারণ সম্প্রতি সমারসেটের জীববৈচিত্রে কিছুটা পরিবর্তন প্রকৃতি-বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলেছে। সমারসেটের ওর্নিথোলোজিক্যাল সোসাইটির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে স্টার্লিং পাখির সংখ্যা কিছুটা কমে গেছে। এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে এক প্রজাতির পতঙ্গের জন্মহার কমে যাওয়া। আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে ঐ পোকাদের শূককীট পূর্ণবয়স্ক হওয়ার আগেই মরে যাচ্ছে। বিষয়টা ভীষণভাবে ভাবিয়ে তুলেছে নেটিকে। ও জানে দক্ষিণ এশিয়ায় কয়েক প্রজাতির পোকা ধান চাষের ভীষণ ক্ষতি করে। ওদের দমন করতে যেয়ে ঐ দেশের দরিদ্র কৃষকেরা বিষ প্রয়োগ করে শত শত প্রজাতির অন্যান্য পোকাও নিধন করে চলেছে। ফলে ব্যাং, সাপ, পাখি প্রভৃতির জীবনচক্রটাই ধ্বংস হতে চলেছে। যে-সব পাখি অন্যান্য পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে ওদের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এনে যদি ক্ষতিকর পোকাদের খাওয়ানো যায় তাহলে পৃথিবীকে বিষিয়ে তোলার হাত থেকে রক্ষা ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণ কিছুটা হলেও সম্ভব হতে পারে। নেটির আগ্রহের আতিশয্য লক্ষ্য করে বিষয়টাতে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে নিক। স্টার্লিং পাখির বাচ্চাগুলোকে ওদের বাবা-মায়ের সংগ্রহ করে আনা পোকামাকড় খেতে না দিয়ে অন্য প্রজাতির পোকা খাইয়ে দেখা গেছে বড় হয়ে ওরা ঐ প্রজাতির পোকার সন্ধানই করে। তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার পাখিদের খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এনে এ কাজটা করা যাবে না কেন?

এসব গবেষণা করতে যেয়ে অধৈর্য হয়ে উঠেছে নিক। ওর ডাইনোসোর গবেষণা মাথা থেকে উধাও হতে চলেছে। শেষ পর্যন্ত ওরা সিদ্ধান্ত নেয় কয়েক বছর ঐ গিরগিটি ও তেলাপোকা নিয়ে গবেষণা করবে। ওটার শুক্রাণু শত শত পুরুষ তেলাপোকার জননেন্দ্রে মেখে ছেড়ে দেয় মেয়ে তেলাপোকাদের সঙ্গে মেশার জন্য। ওদের মধ্যে যে যুগল খুব তাড়াতাড়ি জুটি বাঁধে ওদের ডিম সংগ্রহ করে বাচ্চা ফোটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে। গান্ধি পোকা ও অন্যান্য দুর্গন্ধ পোকামাকড়ের উপর কাজ করতে যেয়ে নেটির ঘ্রাণশক্তি যথেষ্ট সহনীয় হয়ে এলেও নিকের কাছে বিষয়টা ভীষণ বাজে মনে হয়। তবুও কাজটা শেষ করে ওরা একসঙ্গে। অবশেষে কিছুটা সাফল্য আসে একদিন। তেলাপোকার একটা ডিম থেকে ষোলটার বদলে বেরিয়ে আসে একটা মাত্র বাচ্চা। দেখতে ওটা অবশ্য ডাইনোসোরের মতোই। ওটাকে বাঁচিয়ে রাখার সব চেষ্টা করে ওরা। কিছুদিনের মধ্যে দুটো করে চারটে পাখাও গজায় ওটার। ওটাকে আর ডাইনোসোর মনে হয় না তখন। ছোটখাটো একটা মাইক্রোরেপ্টর গুইয়ের মতো দেখায়। কয়েক হপ্তা পেরিয়ে যাওয়ার পরও শরীরের তুলনায় ওটার পাখা চারটে আর বড় হয় না। ওরা ভাবে রাসায়নিক বিক্রিয়ার গিরগিটির ডিএনএ জোরালো ভুমিকা রাখায় হয়তো এমন হয়েছে। দ্বিতীয় আরেকটা মাইক্রোরেপ্টর জন্ম দেয়ার জন্য অসংখ্যবার চেষ্টা করেও আর সফল হয় না ওরা। একা একা নতুন এই প্রাণীটাও বা আর বাঁচবে ক’দিন। এটাকে ক্লোন করার কথা ভাবে ওরা।

বিয়ে করার জন্য এদিকে অস্থির হয়ে উঠেছে নিক। পরিবার গড়ার বয়স পেরিয়ে যেতে শুরু করেছে ওদের। রাতের পর রাত ওরা মিলিত হয় নিরোধ ছাড়া। নিকের ধারণা ভবিষ্যত বংশধর এলে বিয়েটা নিশ্চয় সেরে নেবে নেটি। কিছুতেই কিছু হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্টিফিক জার্নালে দক্ষিণ এশিয়ার একটা নিবন্ধ পড়ে কিছুটা ভাবনায় পড়ে নেটি। নিককে জিজ্ঞেস করে স্টার্লিং পাখির গবেষণাটা ওখানে যেয়ে চালানো যায় কিনা। স্টার্লিং জাতের একটা পাখি ঝাঁকে ঝাঁকে ওড়ে নাকি ওখানের আকাশে। ধান খেতের মাজরা পোকা দমন করতে যেয়ে জমিতে যে বিষ ছড়াচ্ছে ওরা তাতে মাছ পাখি কীট পতঙ্গ সাপ ব্যাং সব বিলুপ্ত হতে বসেছে। ওদের ধারণাই নেই যে প্রাণীদের জীবনচক্রটা যদি নষ্ট হয়ে যায় একদিন ওরাও উৎখাত হয়ে যাবে ওখান থেকে। তাৎক্ষণিক প্রয়োজনটাই বড় ওদের কাছে। অনেক প্রজাতির পাখি আছে ওখানে। অসাধারণ এক জীব-বৈচিত্র রয়েছে ওদের। কোনো একটা পাখির খাদ্যাভাসে পরিবর্তন এনে যদি মাজরা পোকা খাওয়ানো যায় তাহলে এটার একটা ভালো সমাধান হতে পারে। অনেক বুঝিয়ে নিককে রাজি করায় অন্তত কিছুদিনের জন্য ওখানে যেতে। জায়গাটা সম্পর্কে যা শুনেছে নিক তাতে কোনো সুস্থ মানুষের ওদিকে যাওয়ার প্রতি আগ্রহ থাকার কথা না।

দেশটার বিমান বন্দরে নেমেই ওদের মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার অবস্থা। মনেই হয় না ওরা একুশ শতকে এবং পৃথিবীর উপরিতলে বাস করে। একটা ইঁদুরের গর্তের ভেতর ঢুকে পড়েছে মনে হয়। পুরো দেশ একটা কালো ধোঁয়ার সুড়ঙের ভেতর। সভ্যতার কোনো চিহ্ন আছে কিনা বোঝা যায় না। পোকামাকড়েরা যেমন যে যেদিকে খুশি ছুটে বেড়ায় ওখানের মানুষগুলোও তাই। নিক বলে, আমার তো এখন পোকামাকড় বাদ দিয়ে এদের নিয়েই গবেষণা করতে ইচ্ছে হচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের একটা কৃষিপ্রধান জেলায় এসে পৌঁছে ওরা। ওখানকার ধান খেতে হাজার হাজার চড়–ই দেখে উৎসাহ বোধ করে নেটি। এই পাখিদের খাদ্যাভাসে যদি পরিবর্তন আনা যায় তাহলে সত্যি একটা ভালো কাজ হতে পারে। ক্ষতিকর পোকাদের জীবনচক্র নিয়ে স্থানীয় বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করে কাটায় কিছুদিন। কিন্তু চড়–য়ের খাদ্যাভ্যাস জেনে কিছুটা হতাশ হয়। স্টার্লিং পাখিদের মতো বিচিত্র সব খাবার খায় না ওরা। এমনকি কোনো পোকাই নাকি খায় না। বরং কৃষকের ধান খেয়ে ফেলে। ওদের সংখ্যাই বরং কমানো দরকার। নিক বলে, এত বুদ্ধিমান মানুষ যদি চাল থেকে গম, গম থেকে আলু, এভাবে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে টিকে থাকতে পারে তাহলে এই পাখিদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা যাবে না কেন! এটা বেশ উৎসাহিত করে নেটিকে। কিন্তু চড়–য়ের বাসস্থান জেনে একটু অবাক হয় সে। ওরা বাসা বাঁধে না। মানুষের ঘরবাড়ির চালে বাস করে। ‘মানুষের সঙ্গে থেকে মানুষেরই ক্ষতি করে!’ কৌতুক করে বলে নিক, ‘স্বভাবটা মনে হয় এখানের মানুষজনের কাছ থেকেই পেয়েছে।’ নেটি বলে, ‘তাহলে তো ভালোই, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনাটা সম্ভব হতেও পারে।’

প্রকল্পের শুরুতে কয়েক হাজার চড়–য়ের ডিম সংগ্রহ করে ইনকিউবেটরের ভেতর বাচ্চা ফোটায় ওরা। শুকনো মাজরা পোকা ও চালের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে দিয়ে আশ্চর্য সাফল্য পায়। শেষ দিকে শুধু মাজরা পোকার গুঁড়ো খাওয়ায় ওদের। বাচ্চারা বড় হয়ে উড়তে শিখলে ওদের পর্যবেক্ষণ করতে যেয়ে কিছুটা অবাক হয় নেটি। ধান খেতে যেয়ে পোকা না খেয়ে ওদের বাপ-চাচাদের সঙ্গে ধান খাওয়া শুরু করে ওরা। দেশীয় বিজ্ঞানীরা অবশ্য হতাশ হয় না ততটা। ওরা বলে, ‘সাত কাটা না দিলে কচুর কুটকুটানি যায় না। ওটা তো একটা ‘বৃক্ষ’ মাত্র। আর চড়–ই একটা পাখি। অনেক প্রজন্ম লাগবে ওদের অভ্যাস বদলাতে। আমাদের হাতে টাকা পয়সা দিয়ে যান। পোকা খাইয়ে ওদের স্বভাব আমরাই বদলে ফেলব।’ কথাটা মনে ধরে নিকের। তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে চায় সে এই ইঁদুরের জগত থেকে। এদেশে বেশ অনেকদিন থেকে এদের ভাষা ও অনেক প্রবাদ-প্রচলনও শিখে ফেলেছে নেটি। বাচ্চাদের বইয়ে ছোট্ট একটা পদ্য শুনে একটু অবাক হয় সে। ‘শালিক বলে চড়াই, তীরটা দেখে ডরাই।’ তাহলে এদেশের পাখিগুলোও কি নিরাপদ বোধ করে না এখানে? আকাশের মুক্ত পাখিই যদি এটা না করে তাহলে মানুষ নিরাপদ থাকবে কীভাবে?

এদিকে এক আশ্চর্য ঘটনা, গত অনেক বছরেও যা পারেনি ওরা, ওটাই ঘটে গেছে। নিক ও নেটির বিয়েটা এবার করে ফেলা যায়। এদেশের আবহাওয়াও বড় বেশি উৎপাদনশীল। এটা উদযাপনের জন্য পরের হপ্তায়ই পাততাড়ি গুটিয়ে সমারসেটের উদার আকাশের জন্য উড়াল দেয় নিক ও নেটি।

দেশে ফিরে এসে আরো এক অবাক কাণ্ড পাথর করে তোলে ওদের। গবেষণাগারের ভল্টের ভেতর সুরক্ষিত কাচের জারে রাখা মাইক্রোরেপ্টরের মমিটা উধাও। একেবারে শূন্যে মিলিয়ে গেছে যেন ওটা। ভল্টের তালা অক্ষত, জারটাও ঠিক ঠিকভাবে বন্ধ, অথচ ভেতরের গুইটি নেই!

নিক বলে, ‘আছে আছে। ওটা বেরিয়ে আসবে একদিন তোমার ভেতর থেকে।’

ঠোঁটের হাসিটুকু চিরদিনের জন্য অম্লান রাখতে চেয়ে নিকের ঠোঁটে ঠোঁট না ছুঁইয়ে আঙুল চেপে ধরে নেটি!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন