শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৫

গল্পপাঠ।। শ্রাবণ ১৪২২ বঙ্গাব্দ।। জুলাই ২০১৫ খ্রীস্টাব্দ।। সংখ্যা ৩২

গল্পপাঠে অনেকেই লেখা দিচ্ছেন। লেখা দিতে আগ্রহ বোধ  করছেন। অনেক ভালো লেখার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এর বাইরে আমাদের পর্যবেক্ষণ হল--অনেক গল্পই পরিণত নয়। কোনটি আখ্যানে দূর্বল। আখ্যানে নতুনত্ব থাকলেও গল্পের নানা উপাদান--চরিত্র চিত্রণ, দ্বন্দ্ব, সংঘাত, সাসপেন্স, ক্লাইমেক্স, চমক অনুপস্থিত।  নিরীক্ষাধর্মী হলেও তার মধ্যে গল্পের প্রকৃত স্বাদ পাওয়া যায় না। গল্পকারের নিজস্ব ভাষা তৈরি হচ্ছে না। কোনটির শুরুটাই দুর্বল। গল্প হাঁটতে পারে না। মুখ থুবড়ে পড়ে। ঘটনা গতি পায় না। গল্পকার একটি জায়গায় খাবি খেতে থাকেন। গল্পের বর্ণনা, চরিত্র, আখ্যানের উপর গল্পকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। শেষ কী করে শেষ হয়--সেটা গল্পকার জানা যায় না। ফলে এ গল্পটি সময়ের অপচয় হিসেবে চিহ্নিত হয়।
অনেকে একবার লিখে পু্নর্বার পড়ার, দেখার, পালিশ করার আগ্রহ বোধ করেন না। সবে লিখেই প্রকাশ করতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠেন। ভুল বানান, ভুল শব্দ, ভুল বাক্য, ভুল ভাব, অর্থহীন আখ্যান, অহেতু সংলাপ, কাব্যধর্মী মনোলগ, তরল প্রেম, হাহাকার, যৌনকাতরতা, আবেগের প্রাবাল্য নিয়ে জাজমেন্টাল হয়ে ওঠে গল্পগুলো।  মুশকিল হল দৈনিক পত্রিকাগুলো এইসব অলেখাগুলো ছাপে, টাকা নিয়ে প্রকাশক বই প্রকাশ করে। অনুরোধে বন্ধুরা স্তুতিবাক্যতুল্য রিভিউ লেখে। রীতিমত শুড়িখানার হৈ-হট্টগোলের ব্যাপার হয়ে ওঠে। গল্পে আমরা গল্প পাই না। প্রলাপ শুনি।
এবং যারা লেখেন তারা লেখেন বানানো গল্প। গল্পকার নিজে এই জীবন যাপন  করেনি। নিজেই এই গল্প বিশ্বাস করেন না। এই চরিত্রের সঙ্গে চিন-পরিচয় নেই। পরিবেশ অজানা। বনের বাঁশ শেষ পর্যন্ত বাঁশ-ই থেকে যায়, লাঠি হয়ে কারো মাথা ফাটিয়ে দেয় মাত্র--বাঁশি হয়ে বাজে না। এই চিত্র হতাশাজনক।
গল্প লেখার কাজটি সুতোরমিস্ত্রীর মত। বহু শ্রমে ঘামে মেধায় সময়ে একটু একটু করে নির্মিত হয়। একনিষ্ঠ অধ্যাবসায়, যত্ন, মমত, স্নেহ- প্রেম ও ভালোবাসায় এবং নিরবিচ্ছিন্ন ধৈর্যে গল্প রচিত হয়। গল্পের সঙ্গে জীবন-যাপন করতে হয়। তবেই যে কোনো গল্পই হয়ে ওঠে অমৃতপাঠ। অমৃত ছাড়া এ জীবনে আর চাওয়ার আছে কি?

চিরায়ত গল্প



দীপেন ভট্টাচার্য-এর বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী : 
আমাদের সন্ধ্যেগুলো আরো রঙ্গীন হয়ে উঠছিল। ঘন লাল-কমলা মেঘ সূর্যের ছটাকে এমন ভাবে প্রসারিত করত মনে হত যেন দেবদূতরা সেই আলোচ্ছটা ধরে নেমে আসবে মর্ত্যে। শুধু মর্ত্য বলতে আমরা যা বুঝি তা বদলে যাচ্ছিল। বদলে যাচ্ছিল খুব দ্রুত।

আমাদের শহরের নাম ছিল কাপ্রি। আমি যে রাস্তায় ছিলাম সেই রাস্তার বাড়িগুলো খুব ছিমছাম ছিল। আমাদের শহর, যে শহরে জন্ম নিয়েছিল নামকরা আর্টিস্ট, কারিগর আর বিজ্ঞানীরা, সেই শহর একটা নীল সমুদ্রের পাড়ে গড়ে উঠেছিল।
মাইক্রোফিকশন বা অনুগল্প
ইন্টারনেট জনপ্রিয় হওয়ার ফলে অনেকেই এখন অনুগল্প লিখছেন। বনফুল অসামান্য অনুগল্প লিখেছেন। সেগুলো  চমকে দেওয়ার মতই  প্রকৃত গল্পই। গল্পের আকার-প্রকার ছোট হোক---বড় হোক তাতে কিছু যায় আসে না। গল্পকে গল্প হয়ে উঠতে হবে। একটি কোষ যেমন জীবনের একক--জীবনের একক--তার শ্বাস আছে, আহার আছে, নিদ্রা আছে, চলা আছে, বৃদ্ধি আছে, স্বভাব আছে, বিকাশ আছে, ক্ষয় আছে, মৃত্যু আছে--সৃষ্টিশীলতা আছে, অনুগল্প সেরকম গল্পেরই একক ক্ষুদ্র রূপ। অনুগল্পকারকে গল্পের শৈলী পূর্ণভাবে আয়ত্ব করা ছাড়া উপায় নেই।
এ সংখ্যায় বেশ কিছু অনুগল্প প্রকাশিত হল। জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা অনুগল্প নিয়ে একটি প্রয়োজনীয় লেখা করেছেন। সঙ্গে মোমিনুল আজমের অনুপ্রবন্ধ।

১. ফ্রানয কাফ্কা এর অনুগল্প : একটি ছোট্টোগল্প
২. লিডিয়া ডেভিস এর দুটি অনুগল্প
৩. ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা'র গল্প : জল 

৯. কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের অনুগল্প - যখন তার দেহমাজারে জলস্বভাব আয়ত্ত হয়

১০. মোজাফ্ফর হোসেনের অনুগল্প - সৃষ্টিকর্তা, কবে আসবে তুমি
১১.কুলদা রায়ের অনুগল্প : আলো ও হাওয়ার গল্প

মোমিনুল আজম : অনুগল্প নিয়ে অনুনিবন্ধ
জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা : অনুগল্প নিয়ে অনুকথা


আলাউদ্দিন আল আজাদ একজন শক্তিমান কথাসাহিত্যিক। তার ছোটগল্পে বিন্দুর ভেতরে সিন্ধুর দর্শন পাওয়া যায়। তার গল্পে প্রাচুর্য আমাদের সমীহা জাগায়। তিনি একটি স্বতন্ত্র্য গল্পভাষা তৈরি করতে পেরেছিলেন। ‘বৃষ্টি’ গল্পের পটভূমি খরার সময়ে লেখকের গ্রামে সংঘটিত একটি সামাজিক ঘটনা। ষাট বছর বয়সী এক বৃদ্ধের তৃতীয় পক্ষের বাইশ বছরের স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রথম পক্ষের ছেলের দেহমনের সম্পর্ক চিত্রিত হয়েছে এ গল্পে। এটা খরার সময়ের গল্প, কিন্তু মানব-মানবীর যৌনক্রিয়া ও প্রজনন ক্ষমতার আইডিয়ার সঙ্গে উর্বরতার সূত্রটি প্রতীকীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মানব-মানবীর যৌন তাড়না, অবদমিত মনের ইচ্ছা এবং রহস্যময় পরিস্থিতি যথেষ্ট খোলামেলাভাবে হাজির করেছেন লেখক। বিষয়ের প্রতীকী ব্যঞ্জনা, স্বতন্ত্র গদ্যভাষার ধরণ গল্পটিকে অসামান্য করে তুলেছে।
পড়ুন আলাউদ্দিন আল আজাদের গল্প : বৃষ্টি

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ছোটগল্প সম্পর্কে বলেছিলেন-'সহজ কথা যায় না বলা সহজে'। আর হুমায়ূন সবার মন জয় করেছেন সহজ কথা সহজভাবে বলতে পেরেই। ছোটগল্পের যে তরি রবীন্দ্রনাথের হাতে সচল হয়েছিল, বিগত প্রায় এক দেড়শ বছরে; সে তরির বাঁকবদল ঘটেছে অনেকের হাতে। কিন্তু বাংলা ছোটগল্পকে সম্পূর্ণ নতুন বন্দরে পৌঁছে দেন হুমায়ূন আহমেদ। তিনি গোটা বিশ্বসাহিত্যে সেই লেখক, যাঁর লেখাকে অনেকে আখাদ্য বলে ছুড়ে দিতে পারে, আবার প্রগাঢ় কৌতূহলে হাজার লেখকের ভিড়ে খুঁজে নেয় গভীর ভালোবাসায়। তাই তো তিনি বিশেষ গোষ্ঠীর লেখক নন; বরং তিনি সবার লেখক।
১৯ জুলাই বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিকের মৃত্যু দিবস। গল্পপাঠ এই দিবসটি স্মরণ করে তার একটি বিখ্যাত গল্প প্রকাশ করলো। পড়ুন--
 হুমায়ুন আহমেদের গল্প : আনন্দ বেদনার কাব্য
এ মাসের সেরা গল্প
সাদিক হোসেনের গল্প : ললিপপ লাগিলু
সাদিক হোসেনের গল্পে সমসাময়িক রাজনীতির একটি গভীর পাঠ থাকে। সঙ্গে তীব্র স্যাটায়ার। কিন্তু বুদ্ধিদীপ্ত। ভাষা স্বাদু। গল্পটির শুরু আছে--শেষও আছে। তিনি যেমন গল্পকে গল্পের কাঠামো থেকে অনায়াসে টেনে নিয়ে আসেন--আবার ঠিক একইভাবে যেকোনো পরিপ্রেক্ষিত থেকে গল্পকে গল্পের প্রকৃত কাঠামোতে ফেরত নিয়ে আসেন। তাঁর হাতে যাদু আছে। সাদিক লেখার জন্যই এসেছেন।
এত অসামান্য কথাশিল্পীর জন্য বহুদিন অপেক্ষা করা যায়।

পাপড়ি রহমান-এর গল্প : অন্ধকারে চন্দ্রের দহন
নীহারুল ইসলামের গল্প : সম্পর্ক
শ্রাবণী দাশগুপ্ত'র গল্প : বিদুর
অমিতকুমার বিশ্বাসের গল্প : রবীন্দ্রনাথ
মালেকা পারভীন এর গল্প : আগন্ত্তকের অনুভূতি
সাদিয়া সুলতানা এর গল্প :  ঘর পালানো ঘোর

কথাসাহিত্য নিয়ে কথকতা
রাজু আলাউদ্দিন



গল্প-উপন্যাস কাকে বলে ও কোন বিশেষ ধরনের সমাজে উপন্যাস তৈরি হতে পারে— এমন প্রশ্নের উত্তরে যে সর্বসম্মতি আমাদের অভ্যস্ত হয়ে গেছে তার কারণটা একটু বিদ্ঘুটে। এই প্রশ্নের উত্তরে ধনতন্ত্রে বিশ্বাসী সাহিত্যতত্ত্ববিদরা ও মার্ক্সবাদে বিশ্বাসী সাহিত্যতত্ত্ববিদরা একমত হয়ে গেছেন অনেক দিন, প্রায় মার্ক্স-এর সময় থেকেই। সেই মতৈক্যটা হচ্ছে এই— উপন্যাস তৈরি হয় সেই সমাজে, যে-সমাজে ব্যক্তি প্রধান হয়ে ওঠে। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের কাহিনীই উপন্যাস। সেই বিকাশোন্মুখ ব্যক্তির আকাঙ্ক্ষার বিষয় হতে পারে বেশ বড়সড় এক জমিদারির মালিক হওয়া, সেই কারণে সে তেমন জমিদারির জন্য অপরিহার্য ক্রীতদাস সংগ্রহ করলে করতে পারে।


ছুটির লেখা
মাহমুদা মায়া ময়মনসিংহের মানুষ। এখন থাকেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের  লসএঞ্জেলসে্র । তার দুটি ছেলেমেয়ে। স্বামী ভদ্রলোকটিকে উল্লেখ করেন মাওলানা বলে।
মায়া বিজিনেস করেন। রান্না করেন। ঘর গোছান। বাগান করেন। কবিতা পড়েন। গান শোনেন। শ্লোক আওড়ান। পাখির কিচিরমিচির শুনে তার ঘুম ভাঙ্গে। বৃষ্টি দেখেন। চোখ ভেজান। ফেসবুকে নিয়মিত চোখ রাখেন। বাংলাদেশের মানুষদের চুপচাপ দেখলে ভয়ে আতঁকে উঠেন--কোনো অঘটন ঘটল না তো।
এই টুকরো লেখাগুলোর ভঙ্গিটি সরল। বুদ্ধিদীপ্ত। চমকপূর্ণ। সুন্দর।  হীরক খণ্ডের মত দ্যূতিময়।

মাহমুদা মায়ার টুকরো লেখা : মে, ২০১৫

 ৬ জন নবীন গল্পকারের ৬টি গল্পের সঙ্গে  অপেক্ষাকৃত প্রবীণ গল্পকার আইভি চট্টোপাধ্যায়ের গল্প। 



অনুবাদ গল্প
অনুবাদ : ফজল হাসান
অনুবাদ : মনোজিৎকুমার দাস
অনুবাদ : ইশারাত তানিয়া

অনুবাদ : মনোজিৎকুমার দাস
অনুবাদ : সুদর্শনা রহমান

আর্ট অফ ফিকশন
বরেণ্য কথাসাহিত্যিক অমর মিত্র থাকেন ইন্দ্র বিশ্বাস রোডে, কলকাতায়। বাংলাদেশের সাতক্ষীরায়, ১৯৫১ সালের ৩০ আগস্ট তাঁর জন্ম। অসংখ্য দ্যুতিময় ছোটোগল্প আর উপন্যাসের লেখক তিনি। 'মেলার দিকে ঘর' নামক গল্প দিয়ে তার লেখক জীবনের শুরু। প্রথম গল্পের বিষয় 'ক্ষুধা'। ১৯৭৪ সালে প্রকাশিত হয়। সমাজের নিম্নবর্গীয় লোকেরা দিনে দিনে আরও পতনের দিকে যাচ্ছে, আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে বিত্তশালী ব্যক্তিরা। এরকম সমাজ বাস্তবতা নিয়েই তিনি লিখতে শুরু করলেন। তাঁর মতে, 'আমার মত করে এই পৃথিবীটাকে দেখতে পাচ্ছে কে? আমি বরং লিখেই যাই। আমি বরং আমার ক্ষুদ্র ক্ষমতাটুকু ব্যবহার করে চাষিবাসী বিপন্ন মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করি।'
লিখেছেন দু'হাত ভরে। গল্প। উপন্যাস। প্রথম উপন্যাস 'নদীর মানুষ'। রচনাকাল- ১৯৭৮। এই বছরই বের হয় 'মাঠ ভাঙে কালপুরুষ'। প্রথম গল্প সংকলন। 'স্বদেশযাত্রা' নামক ছোটোগল্পের জন্য ১৯৯৮ সালে পেয়েছেন সর্বভারতীয় 'কথা' পুরষ্কার। তাঁর অনেক গল্পই মঞ্চে অভিনীত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা হল- পিঙ্কি বুলিদামিনী হে। 'পাসিং শো' নামের আরও একটি প্রযোজনা মঞ্চস্থ হবে ২০১৫ সালের নভেম্বরে। ১৯৯৯ সালে লেখেন 'অশ্বচরিত'। এই উপন্যাসখানি ২০০১ সালে বঙ্কিম পুরস্কার লাভ করে। ২০০৬ সালে পেয়েছেন সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার, ধ্রুবপুত্র উপন্যাসের জন্য। ২০১৪ সালে দেশভাগ আর কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন নিয়ে লিখেছেন উপন্যাস 'দশমী দিবসে'। আর এখন লিখছেন ছিটমহলের বেদনা নিয়ে উপন্যাস 'কুমারী মেঘের দেশ চাই'।
এই সময়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই লেখকের সঙ্গে কথা বলেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলামেহেরুন্নেসা মৌ এবং এমদাদ রহমান। 


গল্প লেখার গল্প
গল্প পড়ার সঙ্গে সঙ্গে গল্প লেখার গল্পটি জানার জন্য গল্পপাঠ আয়োজন করেছে এই বিভাগটি। এ সংখ্যায় প্রকাশিত হল শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, হাসান আজিজুল হক ও স্বকৃত নোমানের গল্প লেখার গল্প।
সঙ্গে পড়ুন আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ডাইরি।

এই স্বপ্ন ও জাগরণের দেখা- এ আমার প্রায়ই ঘটে। দুই দেখা গুলিয়ে গিয়ে এক আলো আঁধারির সত্য তৈরি হয়। নানান গল্পে এ জিনিসটি এসে গিয়েছে। আবার কোথাও-বা হারিয়ে ফেলেছি। স্মৃতি গলে বেড়িয়ে গিয়েছে... নিজের গল্প লেখার গল্পটি আমাদেরকে এভাবেই বলেছেন শ্যামল। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়।
তাঁর স্বপ্ন ও জাগরণের দেখা-টি কীভাবে ঘটে, কীভাবে লিখিত হয়- কুবেরের বিষয় আশয়, ঈশ্বরীতলার রূপকথা, জীবন-স্মৃতি, সাক্ষী ডুমুর গাছ, পরী, তেওট তালে কনসার্ট ইত্যাদি।
লেখাটি পাঠের আমন্ত্রণ!


আখতারুজ্জামান ইলিয়া এর ডাইরি

বই নিয়ে আলাপ 
তবে অতি সমান্তরাল এক সরলরৈখিক জীবনচিত্র অঙ্কনেই থেমে থাকেন নি মেঘ অদিতি। তাঁর এই বায়োস্কোপে ধরা পড়েছে সময়, ধরা পড়েছে শূন্যতা। ধরা পড়েছে সময়ের শূন্যতা। 'পরের বসন্ত', 'একা রাই আর তার সন্ধ্যা', 'ইছামতীর কাছে', 'কালো প্রজাপতি অথবা ধ্বংসস্তূপ', 'ভ্রমণে সৃজন, বোধে অলৌকিক', 'সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ' হয়ে 'জার্নি: জিরো টু ইনফিনিটি' পর্যন্ত নানান ঘাত-প্রতিঘাতের উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি অনুসন্ধান করেছেন জীবনের গভীরতম অর্থের। ফলস্বরূপ উঠে এসেছে এক কিমিতিবাদী অর্থহীনতা যা উদ্গীরণ করে এক মাদকতাময় বিষণ্ণতা- যে বিষণ্ণতা থেকে মুক্তির পথ খুঁজে দেয় সুরার মাদকতা। এই বিষণ্ণতাই হল সর্বোচ্চ মূল্যবান সম্পদ, এক চিরন্তনী আকাঙ্ক্ষা। এই বিষণ্ণতার মধ্যেই আমরা খুঁজে পাই জীবনের নেশা- এক বেদনানাশক মহৌষধ। মেঘ অদিতির বায়োস্কোপের শেষ দৃশ্যে একে-অপরের আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয় বেদনা ও মুগ্ধতা।
 মেঘ অদিতি'র গল্পের বই 'সময় শূন্যতার বায়োস্কোপ' নিয়ে আলোচনা


গল্প লেখার টিপস
সাজেদা হক

গল্পের প্লট হল গল্পে সংঘটিত ঘটনার সিকুয়েন্স বা ক্রমপঞ্জিকা। এই ঘটনাগুলো কেন ঘটছে সেটা জানা যায় প্লট থেকে। পাঠককে চরিত্রের গভীরে টেনে নিয়ে প্লট। চরিত্রগুলো কি করছে --কোন কাজ করবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা করতে ইচ্ছে করছে সেটা বুঝতে সাহায্য করে। গল্পের প্লটের মধ্যে দিয়েই গল্পের উপাদানগুলো বসে। গল্পের প্লট সম্পর্কে সাজেদা হক লিখেছেন--
গল্পের প্লটের আদ্যোপান্ত


গল্পপাঠ
কথাসাহিত্যের অন্তর্সূত্র
১ শ্রাবণ১৪২২ বঙ্গাব্দ। ১৮ জুলাই, ২০১৫ খ্রীস্টাব্দ। সংখ্যা ৩২।
সম্পাদক : 
এমদাদ রহমান
মোমিনুল আজম

প্রকাশক : কুলদা রায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন