শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৫

মহীবুল আজিজ এর অনুগল্প - বিষয়: অর্থনৈতিক


কনকর্ড টাওয়ারে ওরা যখন শপিং করতে যায় , যেহেতু ওরা তিনজনই, বাচ্চাটাও থাকে ওদের সঙ্গে। কিন্তু দোকানিদের মুখ চাওয়াচাওয়ি তাদের অস্বস্বিতে ফেলে দেয়।মনে হয় যেন আলেচনার উপলক্ষ তারাই। অনেক সময় এমন হয় ভুলে দুই পায়ে দুই রকম জুতো কিংবা শার্টের বুতোম উপরÑনীচ করে লাগানো। দেখা গেল তেমন কোন প্রমাদই লক্ষ্যনীয় নয়। তবু দোকানিরা বুঝি তাদেরকেই লক্ষ্য করে চলে।বাধ্য হয়ে জিজ্ঞেস করতে হয় , ভাই কিছু মনে করবেন না, মনে হ”্ছে আপনারা আমাদের নিয়েই কিছু আলাপ করছেন। কোন সমস্যা হয়নিতো! একজন--
দু’জন খনিকটা থতমত খায় , আরে না , কি বলেন ,কি হবে! তবু ধন্দ কাটেনা। শেষে একজন তাদের চমকে দিয়ে প্রশ্ন করে, ভাইসাব, কিছু মনে করবেন না,কোলের বাচ্চাটা কি আপনাদেরই?বলে কি ব্যাটা,আমাদের বাচ্চা তো আমাদেরই। অবশ্যই আমাদের। হ্যাঁ , বাচ্চাটা আমাদেরই, কেন কি হয়েছে? আমতা আমতা করে দোকানি , না , মানে আপনাদের বাচ্চাটা খুব সুন্দর। রোজ দুপুরবেলা একজন ভিক্ষুক এখানে ভিক্ষা করতে আসে, কোলে কিন্তু আপনাদের বাচ্চাটাই থাকে।ভয়ঙ্কর অগৌরব ও অমর্যাদাকব পরিস্থিতি। শেষে কেঁচো খুড়তে সাপ। বাচ্চাটা তাদেরই।তারা দুজনেই কর্মজীবী। বাচ্চা থাকে বুয়ার জিম্মায়। তো বুয়া সে বাচ্চাকে ভাড়া দেয় একজন ভিক্ষুকের কাছে। তাদের তিন বছর বয়সী বাচ্চা এরই মধ্যে অর্থনৈতিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে এবং দেশের অনেক লোক তাকে চেনে। অন্তত কনকর্ড টাওয়ারের লোকেরা তো বটেই।জিজ্ঞাসাবাদের পরিণাম– বুয়া লাপাত্তা।তাতে দুজনকে পালা করে ছুটি নিতে হয় এবং আবার ছুটতে হয় নতুন বুয়ার তালাশে।


নতুন বুয়া কাজে যোগ দেয়। তারা আর কনকর্ড টাওয়ারে যায় না।টাওয়ারের অবশ্য অভাব নেই দেশে।আর মানসিক ভীতি বলে কথা।হঠাৎ হঠাৎ তারা ঝটিকা – সফর চালায়। দুপুরে খাওয়ার নাম করে একদিন স্বামী কিংবা একদিন স্ত্রী।
তবে যানজটের যে দীর্ঘ পরিক্রমা তাতে ঝটিকা সফর পরিণত হয় ধীর যাত্রায়। ফলে বলা মুশকিল,নতুন বুয়া-ও কি আগেরজনের মতই বাচ্চাকে অর্থনৈতিক বিষয়ে পরিণত করে ফেলেছে কিনা। আর যখনই তারা কোথাও শপিং করতে যায় মনে হয় দোকানিদের আলোচনার কেন্দ্র তারাই।অথচ তারা হয়ত তখন রাজনীতি,সমাজনীতি ইত্যাদি বিষয়েই মগ্ন। কিংবা হয়ত বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট নিয়ে মশগুল।

1 টি মন্তব্য: