বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৫

গল্পপাঠ।। কার্তিক ১৪২২ বঙ্গাব্দ।। অক্টোবর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।। সংখ্যা। ৩৫


মানুষকে তাঁর সমস্ত দুর্বোধ্যতা সহ ধরতে পারা কি একজন গল্পকারের পক্ষে সম্ভব? এই সময়ের ছোটোগল্পগুলি আসলে কী বলছে? এই যে ব্যাপক সামাজিক বৈষম্য, এই যে প্রযুক্তি গড়ে তুলছে ব্যাপক মাত্রার পরিবর্তন, এই যে রাষ্ট্র দিনের পর দিন আরও বেশি শোষক হয়ে উঠছে, এইযে দেশে দেশে এত সামরিক উন্মাদনা... সেখানে একজন গল্পকার কোন পথে হাঁটছেন? কী করতে চাইছেন তিনি? ছোটোগল্পের সীমারেখা কোথায়? কতদূর? লিখতে গিয়ে লেখক কোন সমস্যায় পড়ছেন? পাঠক কি গল্প বা উপন্যাস- থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন ক্রমশ ? আজ তো সব কিছুর বিকল্প বেড়িয়েছে; হাতে হাতে স্মার্টফোন বৈচিত্রের নতুন উৎপাদন তৈরী করেছে! মানুষ কি নির্মিত হয়ে যাচ্ছে? নাকি থেকে যাচ্ছে প্রাকৃত? কোথায় সেই প্রাকৃতজন?

প্রতিমাসে গল্পপাঠ বের করার প্রস্তুতি নেবার কালেই আমরা এই বিষয়গুলি ভাবতে চাই। গল্প নিয়ে যোগাযোগ করতে চাই গল্পকারের সঙ্গে। আমাদের ভেতর অনেক প্রশ্ন, আর সব প্রশ্নই কিন্তু লেখার বা গল্পের শৈলীকে ঘিরে। গল্পের কলকব্জাগুলি হাত দিয়ে নেড়েচেড়ে দেখাই আমাদের ইচ্ছা। কার্তিক সংখ্যাতেও সেই ইচ্ছা নিয়ে আমরা খেলেছি। গল্পকারদের সঙ্গে তাদের গল্প নিয়ে কথা বলেছি। এখানে বলে রাখি- মাসে মাসে শুধু গুচ্ছের গল্প আর উপন্যাস ছাপিয়ে বেড়ানো আমাদের ইচ্ছে নয়, উদ্দেশ্যও নয়। আমরা প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বেড়াই। মনে করি সব প্রশ্নেরই উত্তর লুকিয়ে আছে দি আর্ট অব ফিকশন-এর মধ্যে, যেখানে লেখক-পাঠক রক্তেমাংসে একাকার!

গল্পপাঠের কার্তিক সংখ্যা বেরুচ্ছে এমন একটি সময়ে যখন বাঙালির একটি বড় উৎসব শুরু হয়েছে। উৎসবের আকাঙ্ক্ষা হল মিলন। কিন্তু আমাদের মিলন অসম্ভব! আমরা দেখছি হিংসা, আমাদের মিলনে ছায়ারেখা এঁকে দিয়েছে অসূর । উৎসবে ভয়, প্রসাদ নিয়ে ভয়- অর্থাৎ জীবন বিপন্ন। একদিকে সাম্প্রদায়িকতা, আরেকদিকে দেশে দেশে অস্ত্রের মহড়া, গুলি, সাইবার ক্রাইম, পারমানবিক স্থাপনায় নজরদারি, নিষেধাজ্ঞা, লাশ আর উদ্বাস্তুর দীর্ঘ সারি! আশ্রয়প্রার্থী শিশুর লাশ সমুদ্রকিনারে, শরণার্থীর ঢল। দেশহীন মানুষ। আশ্রয় কোথায়?!

ঠিক এইরকম উদ্বাস্তু সময়ে গল্পপাঠ বের হল। সবাইকে জানাই পাঠের আমন্ত্রণ। পড়ুন। লিখুন।

গল্পপাঠ কার্তিক সংখ্যার জন্য বিশেষ সহযোগিতা করেছেন- মাহমুদ হাসান পারভেজ, ইশরাত তানিয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা, হাসান আওরঙ্গজেব, মেহেরুন্নেসা মৌ এবং অলাত এহসান। তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা।

আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের 
রাগী চোখের স্বপ্ন

'পায়ের পাতা কাদায় একটুখানি গেঁথে যেখানে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে গলার রগ টান টান করে যতোটা পারে উঁচুতে তাকিয়ে গাঢ় ছাই রঙের মেঘ তাড়াতে তমিজের বাপ কালো কুচকুচে হাত দুটো নাড়ছিলো, ঐ জায়গাটা ভালো করে খেয়াল করা দরকার...'- এই খেয়াল করার ব্যাপারটা আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আমাদের বলেন, মানে তিনি দেখতে বলেন। আমরা দেখি 'সংস্কৃতির ভাঙা সেতুর' কারিগরের হাতে বাংলা সাহিত্যের বিশেষ কিছু ল্যান্ডমার্ক- অন্যঘরে অন্যস্বর, দুধভাতে উৎপাত, খোঁয়ারি, জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল, দোজখের ওম, চিলেকোঠার সেপাই। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস আমাদের সাহিত্যের এক সমৃদ্ধ-স্বর। জীবনকে ইতিহাস ও মিথের সঙ্গে অসাধারণ নৈপুণ্যে গাঁথলেন ইলিয়াস, আবার বারে বারে ব্যক্তির রুগ্ন চেহারাটাকে দেখাতে গিয়ে চোখের চশমা খুলে ফেললেন। তাঁর লেখায় মানুষ এল তার রক্ত, পুঁজ আর নিঃসঙ্গতা নিয়ে, গায়ের দগদগে ঘা নিয়ে। শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ ও সমষ্টি এল নায়ক হয়ে তাঁর লেখায়। ক্যান্সার ধরা পড়ায় তাঁর একটি পা কেটে ফেলা হল। তিনি ক্রাচে ভর নিয়েও উঠে দাঁড়ালেন। আরও একটি উপন্যাস লিখতে চাইলেন। তাঁর রাগী চোখ দিয়ে আমাদের ইতিহাসটাকে দেখতে চাইলেন। 
গল্পপাঠ-এর কার্তিক সংখ্যায় আমরা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসকে স্মরণ করছি। ফিরে দেখতে চাইছি তাঁর রাগী চোখের স্বপ্নগুলিকে। এই আয়োজনে আমরা যুক্ত করছি তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গল্প। আছে হাসান আজিজুল হককে লেখা তাঁর কিছু মূল্যবান চিঠি, তাঁর গল্পের কিছু আলোচনা। মূল্যবান কয়েকটি গদ্য। তাঁর ডায়েরি। আছে একটি বিশিষ্ট বিতর্কঃ বাংলা ছোটগল্প কি মরে যাচ্ছে? সঙ্গে থাকল কথাসাহিত্যিক কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের একটি তাৎপর্যপূর্ণ মূল্যায়ন। এবং হামীম কামরুল হকের গবেষণা প্রবন্ধ। 
আমাদের আশা, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের পাঠকরা ফিরে পড়বেন তাঁর লেখাগুলি, নতুন পাঠক পড়বেন আবিষ্কারের আনন্দে আর সারাবিশ্বের পাঠক পড়বেন মুগ্ধ বিস্ময়ে। লেখাগুলি লিঙ্ক আকারে দেয়া হল। পড়ার জন্য লেখার নামের ওপর ক্লিক করুন। 

সঙ্গে পড়ুন : মূল উপন্যাস--রহু চণ্ডালের হাড়
হিল্লোল দত্তের পাঠ প্রতিক্রিয়া : রহু চণ্ডালের হাড়-- হার-মানা হাড়

শহীদুল জহির তাঁর চেনা জগত নিয়েই গল্প লিখেছেন, বেশিরভাগ গল্পেই পুরনো ঢাকার মানুষের আটপৌরে জীবন, এইসব মানুষের ভেতর দিয়েই বাস্তবে-পরাবাস্তবে তিনি বলে গেছেন তাঁর কথাগুলি; কিন্তু তাঁর, বলার ভঙ্গিটা যেন একটু ভিন্ন, আর ভিন্ন বলেই তিনি পাঠকের মনোযোগে বেঁচে থাকেন, তাঁকে নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এখানে শহীদুল জহিরের একটি মূল্যবান সাক্ষাৎকার এবং তাঁকে নিয়ে একটি বিশ্লেষণী লেখা প্রকাশিত হল। 
 সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী :  চঞ্চল আশরাফ ও রনজু রাইম


এ বছরে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন বেলারুশিয়ার স্ফেতলানা আলেকসান্দ্রভনা আলেকসিয়েভিচ। তিনি ঠিক প্রচলিত গল্পকার নন। তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিক। বেলারুশ ভাষায় নয়--লেখেন রুশ ভাষায়। তিনিই প্রথম নারী যিনি সাংবাদিক হয়েও সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের নাম--Voices from Chernobyl, Zinky boys, War's Unwomanly Face,Second-Hand Time, Enchanted with Death। কোনো ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনাকে দেখে এবং কানে শোনার ভিত্তিতে তিনি লেখার পক্ষপা্তী। তিনি নিজেকে কানের মানুষ বলতে পছন্দ করেন--‘অ্যা পারসন অব দ্য ইয়ার’। তিনি বলেন, ৩০ বছর মানুষের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়েছে, মানুষের এমন অনেক কিছুই রুদ্ধ, অকথিত থেকে যায় যা শিল্প (আর্ট) বের করে আনতে পারে না। আমি মানুষের অনুভূতি ও সংগ্রামে আগ্রহী। মানুষের মনের অতলে কী ঘটছে অনুধাবন করতে গিয়ে বুঝতে চেষ্টা করি তাদের কাছে সেসবের কী তাৎপর্য, কিসে তাদের যন্ত্রণা।গল্পপাঠের জন্য নিচের লেখাগুলো করেছেন--সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত, মনোজকুমার দাস এবং অলাত এহসান।

--সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত 
--অলাত এহসান 

অনুবাদ : মনোজকুমার দাস

নরেন্দ্রনাথ মিত্রের গল্পের বিষয় ও কাঠামোগত বিন্যাস বাংলা ছোটগল্পসহ বিশ্ব ছোটগল্পের প্রতিদ্বন্দ্বী। পাঠককে নিমগ্নচিত্তে গল্পপাঠে মুগ্ধতার সাথে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তাঁর লেখনী। জীবনের অতিসাধারণ তুচ্ছ বিষয়ও যে অসাধারণ গল্পের বিষয় হওয়া সম্ভব, তা তাঁর রচনা পাঠেই বোঝা সম্ভব। পড়ুন তাঁর দুটি গল্প ও তাকে নিয়ে দুটি আলোচনা।
নরেন্দ্রনাথ মিত্র এর গল্প - বিকল্প
আশরাফ উদ্দীন আহমদ --নরেন্দ্রনাথ ও তাঁর চিরপরিচিত গল্প

তুহিন ওয়াদুদ

রমাপদ চৌধুরীর 'আজকের গল্প' নামের গল্পটি খুব ছোট। গল্পের ফোকাল পয়েন্ট আরো ছোট। সবে হাটতে শেখা একটি ছোট মেয়ের জন্য বাজার থেকে তিন টাকা বারো আনা দামের এক জোড়া লাল জুতো। কেনার দিনই জুতোর একপাটি হারিয়ে যায়। পাড়ার এক মুঁচির দোকানে সেই পাটিটি পাওয়াও যায়। তবে মুঁচি তার জন্য বারো আনা দাম দাবী করে। এটাকে অন্যায় দাবী মনে করে মেয়েটির বাবা পাটিটি নিয়ে আসে না। বাকি পাটিটিও রাগ করে ছুড়ে ফেলে।
গল্পটি এইখানে শেষ হতে পারত। কিন্তু রমাপদ চৌধুরী এর বাইরে আরেকটি গল্প বলেন। সেটাই হয়তো তার মূলগল্প। এভাবে বাস্তবতার ভেতর থেকে আরেকটি বাস্তবাকে উন্মোচন করেন তিনি। শেষ মুহূর্তে কমিট্মেন্টের গল্প হতে গিয়ে কমিটমেন্ট ভাঙার গল্পই ঠয়ে ওঠে।
গল্পটির বাক্য ছোট ছোট। শব্দ অতি চেনা। ভাষার মধুর। পড়ুন--
রমাপদ চৌধুরীর গল্প : আজকের গল্প

সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোর সাহিত্য সাময়িকী পাতায় আনিসুল হকের একটি গল্প--'পৃথিবীর সবচেয়ে রূপবতী নারী, আপনার জন্য' প্রকাশিত হলে অনলাইনে ব্যাপক অভিযোগ ওঠে--এই গল্পটি মৌলিক গল্পের শর্ত পূরণ করেনি। নোবেল লরিয়েট গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজের বিখ্যাত গল্প 'নিদ্রিতা সুন্দরী ও একটি এ্যারোপ্লেন'--এর অনুকরণে লেখা। আনিসুল হক, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ ও সৈয়দ মুজতবা আলীর উল্লেখিত গল্প তিনটির নিকট বিশ্লেষণ করে সাহিত্যের চুরি কর্মটির স্বরূপ উদ্ঘাটন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যে প্রখ্যাত কিছু চুরির ঘটনাও আলোচিত হল। সঙ্গে মুল তিনটি লেখাও সংযোজিত হয়েছে। পড়ুন--

বিতর্ক
কুলদা রায়

৩. সৈয়দ মুজতবা আলীর গল্প : বেঁচে থাকো সর্দিকাশি


বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধারার লেখক ইমদাদুল হক মিলনের বয়স ষাট বছর হল। তাঁর গল্প নিয়ে একটি আলোচনা  লিখেছেন কবি, প্রবন্ধকার ও গল্পকার মোহাম্মদ নূরুল হক। পড়ুন--

গল্পকারের ডেইলি রুটিন

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক  ভিকটর হুগো, কুর্ট ভনগাট,ই বি হোয়াইট, আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, হারুকি মুরাকামি এবং বাংলা ভাষার কথাসাহিত্যিক  অমর মিত্র, শামসুজ্জামান হীরা, পাপড়ি রহমান, দীপেন ভট্টাচার্য, হামীম কামরুল হক, স্বকৃত নোমান, নীহারুল ইসলামের ডেইলি রুটিন প্রকাশ করা হল। কিভাবে লেখক তাঁর সময়কে লেখার কাজে ফলপ্রসূভাবে ব্যবহার করতে পারেন সে বিষয়ে প্রখ্যাত লেখক হেনরি মিলারের কিছু পরামর্শ যুক্ত করা হল।



পাঠকের লেখা--

দীপেন ভট্টাচার্য এ সময়ের অন্যতম সেরা গল্পকার। তার গল্পে বিজ্ঞান, পুরান, কল্পনা, ইতিহাস, দার্শনিকতার অসামান্য সম্মিলন থাকে। সম্প্রতি গল্পপাঠের জন্য লিখেছেন যাদুকরী ভাষায় নিস্তার মোল্লার মহাভারত গল্পটি। এই গল্পটির কলকব্জা নিয়ে গল্পকারের সঙ্গে কথা বলেছেন কুলদা রায়।

১. দীপেন ভট্টাচার্যের গল্প : নিস্তার মোল্লার মহাভারত

২. দীপেন ভট্টাচার্যের গল্পের কলকব্জা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ

মোজাফ্ফর হোসেনের গল্প : 
গল্পটি নিয়ে গল্পকারের সঙ্গে আলাপ করেছেন কুলদা রায়অনেক আগে নির্মাণাধীন ভবনে লাশ ঝুলে থাকার খবর পড়েছিলাম একটি খবরের কাগজে। সম্ভবত ২০০২ সালের দিকে। ঘটনাটি সেই সময় মনে ততটা দাগ কাটেনি। বছরপাঁচেক পর হঠাৎই মনে পড়ে গেলে আমাকে ভাবিয়ে তুললো। তারপর থেকে নির্মাণাধীন ভবন দেখলেই মনে পড়ে যেত ঐ ঝুলন্ত লাশটির কথা।
মনে হত, আমি ওকে চিনি, ওকে আমি দেখতে পাচ্ছি- এই ভবনেও ঝুলে আছে। লাশটি প্রতিটি নির্মাণাধীন ভবনে ঝুলে থেকে কি যেন বলতে চাচ্ছে। কিন্তু সমস্যা হল, কেউ তাকে দেখতে পাচ্ছে না।
মোজাফ্‌ফর হোসেনের গল্পের কলকব্জা নিয়ে দীর্ঘ আলাপ

হামীম কামরুল হকের গল্প : 
‘যতটুকু আমি বুঝতে পারি’
এই গল্পটি হঠাৎ করেই লিখিছিলাম। হয়তো ব্লগারহত্যার প্রতিক্রিয়া থেকে। এভাবে একের পর এক ব্লগারকে হত্যা করা হচ্ছে, কেন? কাউকে কাউকে বলা হচ্ছে, তাদের চরিত্রে দোষ আছে। তাদের লুচ্চা-বদমাস বলেও প্রচার করার চেষ্টা হয়েছে।-- এখান থেকেই হয়তো বীজটা পাওয়া। আমি খুব পরিকল্পনা করে এই গল্পটা লিখিনি। গল্পটা লিখতে লিখতে এগিয়েছে। এভাবে গল্পটি নিয়ে কুলদা রায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন হামীম কামরুল হক। পড়ুন--

সংলাপ গল্পের একটি প্রধান টুল। এই টুলকে শক্তিশালী গল্পকার আখ্যান বর্ণয়ার অপহার্য করে তোলেন। দূর্বল লেখকের হাতে সলাপ অর্থহীন বাক্যে পরিণত হয় বলে গল্পটির প্রকৃত গল্প হয়ে ওঠার সম্ভাবনাকে খারিজ করে দেয়।
শামসুজ্জান হীরা একাত্তর সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে গল্প লিখছেন। অনুবাদ কর্মেও তার দক্ষতা ঈর্ষণীয়।
কানাগলিতে কানামাছি নামে শামসুজ্জামান হীরার গল্পটিসংলাপ প্রধান। লেখকের বিবরনী কম। গল্পে কথা বলেছেন--করম আলী, মাশকুর নামের দুই ভুবনের বন্ধু। কথা বলছেন---নয়না নামের যুবতী আর তার ফিলিস্টিনি স্বামী। গল্পে আরেকটি চরিত্র আছে। তিনি কথা বলেন না। শুধু পাশ ফিরে শুয়েছেন মাত্র। এই কথাহীন পাশ ফেরাটাই গল্পের সকল কথাকে ছাপিয়ে গেছে। তৈরি করেছে গল্পের শ্রেষ্ঠত্ব।
সংলাপ এবং সংলাপহীনতার একটি অসামান্য দ্বৈরত এই গল্পটি।

২. অনুবাদ গল্প--
সখী রঙ্গমালার পশ্চাদভূমি নোয়াখালী অঞ্চলের পালাগান ‘চৌধুরীর লড়াই’। সমতটের নামা-অনামা বহু কবি এ প্রেম ও সমরভিত্তিক গীত গেয়ে গেছেন যুগ যুগ ধরে। নিখাদ জনপ্রিয়তাই ছিল এর মূল চাবিকাঠি। বিপত্তিটা বাধে আমজনতার মহফিল ছেড়ে এটি যখন ছাপাখানা থেকে পুস্তকাকারে বেরোয়, তখন। তত দিনে ব্রিটিশরাজের অশ্লীলতা-নিরোধক ১৮৫৬ সালের ১৪ নম্বর আইন জারি হয়ে গেছে। এ দণ্ডবিধির কোপে পড়ে পালাগানের এক গ্রন্থকর্তা ও প্রকাশককে চল্লিশ চল্লিশ আশি টাকা জরিমানা দিয়ে বেরিয়ে আসতে হয়। পুস্তকের যাবতীয় কপি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। এর প্রায় ত্রিশ বছর পর, ভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত পালাগানটি ড. দীনেশচন্দ্র সেন পূর্ববঙ্গ গীতিকায় সংকলিত করেন।

তা ছাড়া চৌধুরীর লড়াই কবি-কল্পিত শুদ্ধ পালাগান নয়, খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধের তৎকালীন ভুলুয়ার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা নোয়াখালী গেজেটিয়ার-এর কাগজের পাত ছাড়াও মানুষের কহন-কথায়, কিংবদন্তির গল্পগাছায় পল্লবিত হয়ে আছে।


নবীন গল্পকারের প্রথম গল্প
কুকুর পাউরুটি ও জামরুল গাছের গল্প
হাসান আওরঙ্গজেব
এ গল্পটি লিখেছেন একজন তরুণ গল্পকার। এটাই তার জীবনের প্রথম গল্প। গল্পটি শুরুই হয়েছে একজন অভিমানী মানুষকে নিয়ে। স্ত্রীকে ঘুমন্ত রেখে গৃহত্যাগ করছে। সংগে চলে এসেছে কুকুরটি। কুকুরটি তার পুত্র প্রতীম। আবার সার্বক্ষণিক সঙ্গীও বটে। তারা দুজনে চলে আসে অচেনা একটি গ্রামে। গ্রামটিতে দেখা ইব্রাহীমের পুত্রকন্যাদের সঙ্গে।

একটি জামরুল গাছে ইব্রাহিম গলায় দড়ি দিয়ে মারা গিয়েছিল। গাছটিতে দড়িটি এখনো আছে। এই গল্পের চরিত্র হল পূর্বপুরুষ আর তাদের ব্যর্থতা। আর এ সময়ের ক্রমবর্ধমান মৌলবাদও একটি চরিত্র।

গল্পটি দীর্ঘ। তার ভাষা গতিময়। আর বাক্যের ঘন বুনট। গল্পকার পরিণতভাবেই গল্প বলতে পারেন। তার ভীন্নস্বর আছে। গল্পটিতে আছে একটি বৈশ্বিক হাওয়া। এটাই গল্পটির শক্তি।


দি আর্ট অব ফিকশন সাক্ষাৎকার
স্প্যানিশ ভাষায় মারিও বার্গাস য়োসার এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন রিকার্দো এ সেত্তি ১৯৮৮ সালে। সুজান্নাহ হান্নিওয়েলের ইংরেজি অনুবাদে সাক্ষাৎকারটি লাতিন আমেরিকান রাইটার্স অ্যাট ওয়ার্ক গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। বইটি জর্জ প্লিম্পটনের সম্পাদনায় দ্য মডার্ন লাইব্রেরি, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালে। দীর্ঘ এ সাক্ষাৎকারের প্রথম দিকের কিছু অংশের অনুবাদ এখানে পত্রস্থ হল।

অনুবাদ : রাজু আলাউদ্দিন


মৌসুমী কাদেরের আয়োজন

অনুবাদ গল্প

শ্রদ্ধাঞ্জলি

কয়েকটি গল্প


ছুটির লেখা


গল্পপাঠ
কথাসাহিত্যের অন্তর্সূত্র
১ কার্তিক ১৪২২ বঙ্গাব্দ। ১৮ অক্টোবর, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ। সংখ্যা ৩৫।

সম্পাদক : 
এমদাদ রহমান
মোমিনুল আজম

প্রকাশক :
কুলদা রায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন