শুক্রবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৫

গল্পপাঠ।। অগ্রহায়ণ সংখ্যা।। ১৪২২ বঙ্গাব্দ।। নভেম্বর ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ।। সংখ্যা। ৩৬


গরুর মাংস ফ্রিজে পাওয়া গেছে বলে ভারতে একজন মুসলমান নাগরিককে পিটিয়ে মেরেছে উগ্র হিন্দুরা। আবার বাংলাদেশে লক্ষ্মীপূজার রাতে আতশবাজি ফোটানোর ধুয়া তুলে একজন হিন্দু মহিলার পেটে লাথি মেরেছে একজন মুসলমান। মহিলাটির গর্ভস্থ সন্তান মারা গেছে। তিনি পুনরায় গর্ভধারণ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন।
বাংলাদেশে একের পর এক মুক্তমনা-নাস্তিক-ব্লগারকে হত্যা করে চলেছে মৌলবাদী জঙ্গি গ্রুপ। নাস্তিক-ব্লগারের বই প্রকাশের অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে। মারাত্মক আহত অবস্থায় চাপাতি কোপের শিকার হয়ে বেঁচে আছেন প্রকাশক  আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক-ব্লগার রণদীপম বসু ও কবি তারেক রহীম।
এর মধ্যেই প্যারিস আক্রান্ত হয়েছে। নিহত হয়েছে ১২৯জন নিরীহ মানুষ। চারিদিকে অশুভ হত্যার আখ্যান চলছে।
প্যারিসে সরকার তড়িৎ ব্যবস্থা নিচ্ছে। ভারতে লেখক-বুদ্ধিজীবীরা হিন্দু মৌলবাদী-সরকারের পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ করছেন।
লেখক আনিসুজ্জামান ও হাসান আজিজুল হককে মৌলবাদীরা হত্যার হুমকি দিয়েছে। এই নাস্তিক-ব্লগার-মুক্তমনা লেখকদের বিচারের কার্যকরী কোনও উদ্যোগ সরকার গ্রহণ করছে না।  হত্যার চেয়ে ব্লগ লেখা/মুক্তচিন্তার পক্ষে লেখালেখি করা বেশি অপরাধ বলে সরকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ লেখক-বুদ্ধিজীবি এই ব্যাপারে মুখ বন্ধ করে রেখেছেন। এই উদাসীনতা বা এড়িয়ে থাকাটাও আসলে হত্যাকারীদের অংশ হয়ে যাওয়া। এটা একটি সমষ্টিগত অসুস্থতার লক্ষ্মণ। একজন গল্পকারের জন্য এই ব্যাপারগুলিকে গভীরভাবে অনুধাবন করা দরকার। বোঝা দরকার।

এই সংখ্যার লেখালেখির সূচি--
গল্পপাঠ বিখ্যাত গল্পকারদের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার সিরিজ 'আর্ট অফ ফিকশন'  প্রকাশ করে চলেছে প্রায় প্রতিসংখ্যায়ই।
গল্পকারের গল্পের ভূবন বোঝার জন্য গল্পকার ও পাঠকদের জন্য এই সিরিজ সাক্ষাৎকার অবশ্যপাঠ্য। এ-সংখ্যায় মার্কিন-প্রবাসী বাংলাদেশী গল্পকার আনোয়ার শাহাদাতের দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হল।.....................
বিশেষ আয়োজন হিসেবে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় তর্পণে লিখেছেন- অমর মিত্র, মোমিনুল আজম ও শিমুল মাহমুদ।.......................................
চিরায়ত গল্প :  মধ্যে সত্যজিৎ রায়, আবুল মনসুর আহমেদ, তারাপদ রায়।
উল্লেখযোগ্য রচনা- গল্পকার, নাট্যকার রুমা মোদকের একটি গল্প এবং গল্পটি নিয়ে গল্পকারের সঙ্গে আলাপ।..........................................................................................................
এ সংখ্যায় গল্প লিখেছেন--বিপুল দাস, মঞ্জু সরকার, শামিম আহমেদ, শামসুজ্জামান হীরা, নীহারুল ইসলাম, পাপড়ি রহমান, ঈশা দেবপাল, কৌশিক বাজারী, অর্ক চট্টোপাধ্যায়,  মোজাফফর হোসেন, পিয়াস মজিদ, রূপঙ্কর সরকার,  ইশারাত তানিয়া, তমাল রায়, মেঘ অদিতি, শ্রাবণী দাশগুপ্ত।...............................................................
অনুবাদ গল্প :  কেনিয়ার গল্পকার ন্গুগি ওয়া থিয়োঙ্গ, ভারতের কেরাল ভাষার গল্পকার পল জাকারিয়া, নাইজেরিয়ার ইবো ভাষার আমোস তুতুওলার, ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা, হাইনরিখ ব্যোল ও হোর্হে লুইস বোর্হেস-এর অনুবাদ গল্প প্রকাশ করা হল।
লেখকের বয়স নিয়ে একটি কৌতুহলোদ্দীপক বিতর্ক  লিখেছেন- মৌসুমী কাদের ও চারুলতা হক।
বিশেষ গদ্য লিখেছেন সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত, মোস্তাক আহমাদ দীন, বিনায়ক সেন ও হাসান আওরঙ্গজেব।
এবং, শাহীন আখতারের উপন্যাস 'সখী রঙ্গমালা'র চতুর্থ পর্ব।



তারাপদ রায়ের গল্প : বিশেষজ্ঞ

বিপুল দাসের গল্প : অবিরত ধর্ষণ

মঞ্জু সরকারের গল্প : টাকার উপরে মেয়ে

আনোয়ার শাহাদাতের জন্ম ১৯৬৩ সালের ৩ ডিসেম্বর। জন্মেছেন বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায়। ইউনিয়ন পাদ্রী শিবপুর। গ্রামের নাম রঘুনাথপুর। পড়েছেন বরিশালে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সাংবাদিকতা করতেন দৈনিক আজকের কাগজে। পরে আসে দিন যায় নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকার সম্পাদনা করেছেন। সে সময়ে তিনি মৌলবাদীদের আক্রামণের শিকার হন। দীর্ঘদিন তিনি নিউ ইয়র্কে বাস করছেন। এখানে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশুনা করেন। পরে ব্যবসা ব্যাবস্থাপনা বিষয়ে ডিগ্রী অর্জন করেন। এই প্রবাসজীবনে লিখতে শুরু করেন গল্প। ‘হেলেচাষার জোঁয়াল বৃত্তান্ত’ এবং ‘ক্যানভেসার গল্পকার’ শিরোণামে তাঁর দুটি গল্প গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। আখ্যান ও নির্মাণ শৈলীর দিক থেকে আনোয়ার শাহাদতের গল্প অভূতপূর্ব। বাংলাদেশের সামরিক শাসন নিয়ে একটি ধ্রুপদী উপন্যাস লিখেছেন। নাম-- সাঁজোয়া তলে মুরগা। তাঁর এই তিনটি গ্রন্থই বাংলা কথাসাহিত্যে মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত। দুবছর আগে আনোয়ার শাহাদাত পঞ্চাশ বছরে পড়েন। সে সময়ে গল্পপাঠে একটি বিশেষ আয়োজন করার পরিকল্পনা করে। এরই একটি অংশ হিসেবে আনোয়ার শাহাদাতের এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়।
১. আর্ট অফ ফিকশন : 

সাক্ষাৎকার গ্রহণ : কুলদা রায়


বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কথাশিল্পী। তাঁর লেখা মানবিক, প্রাকৃতিক এবং ঐন্দ্রজালিক। তার মায়াময় লেখার পরতে পরতে আনন্দ, বেদনা এবং অপার সৌন্দর্য।
এ সময়ের প্রখ্যাত কথাশিল্পী অমর মিত্র খুব ব্যস্ত রয়েছেন ছিটমহল নিয়ে মহাউপন্যাসের দ্বিতীয় খণ্ড লেখার কাজে। তিনি বিভূতিভূষণের বিমুগ্ধ পাঠক। বিভূতিপাঠ, বিভূতিভাবনা এবং বিভূতিতর্পন তার কাছে যেন অপার আনন্দের। তিনি তার সকল ব্যস্ততা সরিয়ে গল্পপাঠের জন্য এই লেখাটি করে পাঠিয়েছেন।

এ সময়ের অন্যতম মেধাবী কথাশিল্পী ও গবেষক শিমুল মাহমুদ বিভূতিভূষণের কালজয়ী গল্প মৌরীফুল নিয়ে একটি নিকট বিশ্লেষণ লিখেছেন। মোমিনুল আজম লিখেছেন পুঁইমাচা গল্পটির পাঠপ্রতিক্রিয়া।
এই তিনটি লেখায় বিভূতিভূষণের যেসব গল্প ও উপন্যাসের উল্লেখ রয়েছে সেগুলোর মূল টেক্সট এবং পিডিএফ লিংক দেওয়া হয়েছে। আলোচনা পাশাপাশি মূল লেখাগুলো ও উপন্যাসগুলোও ডাউনলোড করে পড়তে পারেন। এ বিষয়ে বইয়ের হাট, আমার বই এবং গ্রন্থ ডট কমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হল।
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
২. বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যারের গল্প : পুঁই মাচা
৩. মোমিনুল আজম-এর আলোচনা : পুঁই মাচা:সমাজ চিত্রনের গল্প
-----------------------------------------------------------------------------

৪. বিভূতিভূষণের গল্প : মৌরীফুল
৫. শিমুল মাহমুদের গদ্য--
বিভূতিভূষণের মৌরীফুল : লোকসংস্কৃতি এবং পাঠজিজ্ঞাসা

উচ্চ বিত্ত পরিবারের ছেলে পিকু। বয়স মাত্র আট। বাবা মা দাদা ঠাকুরদা হিতেসকাকু, চড়ুই পাখি নিয়ে পিকুর জগত । সবে সে পড়াশুনা করতে শুরু করেছে। মাঝে মাঝে লিখছে ডাইরি। তার ভাষা ব্যাকরণের সীমার বাইরে চলে যায়। কিন্তু আখ্যানের জাদুর কাছে ভাষার শাসন কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। পাঠক সহজেই কমিউনিকেট করতে পারে। আট বছরের বালকের জগত থেকে লেখা এটা কোনো অর্থেই শিশুতোষ গল্প নয়। এটা বড়দেরই গল্প।

সত্যজিত রায়ের গল্প তার চলচ্চিত্রের মত অসামান্য।
সত্যজিৎ রায়-এর গল্প : পিকুর ডাইরি

আবুল মনসুর আহমেদ ছিলেন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং একজন শক্তিমান লেখক। আয়না ও ফুড কনফারেন্স এই দুটি গল্পগ্রন্থে তিনি মুসলিম সমাজের গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, ভণ্ডামিসহ নানা কুসংস্কারের ব্যঙ্গ করেছেন তীক্ষ্ণ দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে। তার অনেক লেখায় সামাজিক অসঙ্গতির চিত্র তুলে ধরেছেন। রিলিফ ওয়ার্ক গল্পটিতে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থারই প্রতিফলন ঘটেছে। ক্ষুধার্ত মানুষকে সেবাদানের আড়ালে স্বার্থানেষী ও তথাকথিত একশ্রেণির সমাজসেবকের ফায়দা লুটিয়ে নেওয়ার ঘটনা এবং অসততা ফুটে উঠেছে। এই অসততা যে আমাদের সমাজে  এখনও বিদ্যমান তা গল্পটি পড়ার পর টের পাওয়া যায়। পড়ুন--
 আবুল মনসুর আহমেদের গল্প :  রিলিফ ওয়ার্ক

শামিম আহমেদের গল্প : কুরবানি
অন্ধকারে ঠিক ভাল করে ঠাহর করা গেল না ছায়ামূর্তিটিকে। রাতের একটা নির্দিষ্ট সময়ে সে এই পথ দিয়ে যায়। প্রায় প্রতিদিনই হিরু ভাবে, মূর্তিটির পিছু নেবে, কিন্তু তার সাহসে কুলোয় না। তার উপর দিন কয়েক আগে শুনেছে, গাছের শুকনো ডাল ভাঙতে গিয়ে লাবলুর বউয়ের তিন-তিনটে দাঁত উপড়ে নিয়ে গেছে জ্বিনে। ভাগ্য ভাল যে, জানে শেষ করে দেয়নি। এ মতো অবস্থায় হিরু যদি বেশি পাকামি করতে যায়, তার ফল যে সুখকর হবে না, এটা ভাল মতোই টের পায় সে। তার উপর আশ্বিনের এই সময়টা ভাল নয়, সবে দুর্গাপূজা শেষ হয়েছে, দিন দুই পরেই কুরবানি; এই সময়ে নিজের জান কুরবান করতে ক জন মানুষ চায়! কিন্তু ছায়ামূর্তিটি তাকে এত টানে কেন! তার দিকে যেন বার বার ইশারা করে বলে, আয় আয়! আমার সঙ্গে চল। তোকে আমি নিয়ে যাব সেই পাহাড়ে যেখানে হজরত ইব্রাহিম নিয়ে গিয়েছিলেন তার কিশোর পুত্র ইসমাইলকে। বিস্তারিত>

শামসুজ্জামান হীরা -র দুটি আয়োজন

১. শামসুজ্জামান হীরা -র গল্প :
অঘ্রানের কুয়াশা
এ-উপাখ্যানটির শুরু একটি বাড়িকে ঘিরে। প্রায় বিঘা তিনেক জায়গা জুড়ে বাড়িটি। বেশ ক’টা ঘর; তার মধ্যে বড়সড় যেটি, ইটের পুরু দেওয়াল, ওপরে টিনের ছাউনি।
 বিস্তারিত >
২. কেনিয়ার গল্পকার  ন্গুগি ওয়া থিয়োঙ্গ’ও'র গল্প : এবং বৃষ্টি এল ঝেঁপে








পাপড়ি রহমান-এর গল্প :
কুরবার আলি ও তার মন পবনের নাও
‘বেবাক পুরানা ভাইঙ্গা-চুইরা ফেলাইয়া নয়া নয়া কত কিসিম যে উঠতাছে! উঠতাছে! উঠতাছেই। উঠতে উঠতে আসমান ঢাইক্যা ফেলাইতেছে। যহন আসমানেও ওডনের আর জায়গা থাকব না, তহন হেরা আর কেমতে উঠবো?’

এই রকম নানান প্রশ্ন মাথার ভেতর পুরে কুরবান আলি ডিউটি করে। সিকিউরিটি গার্ডের নীল-উর্দি পরে সে বসে থাকে। আন্ডার কনস্ট্রাকশন বাড়ির না-গেইট না-খোলা ময়দানের পাহারাদারি করে সে। পাহারাদারি করে না ভেরেন্ডা ভাজে? কুরবার আলি বলে সে ডিউটি করে, সিকিউরিটি কোম্পানির লোকেরাও বলে সে ডিউটি করে। বিস্তারিত>


রুমা মোদক বাংলা সাহিত্যের শিক্ষক। নাট্যকার। অভিনেত্রী। সংসারী মানুষ। থাকেন মফস্বলে। তার পঠন- পাঠনও ঈর্ষণীয়। নানাবিধ ব্যস্ততার মধ্যে নিয়মিত গল্প লিখছেন। তিনি অভিজ্ঞতার ভেতর থেকেই লেখেন। ফলে তার গল্প যেমন সাহিত্যের মান মেনে চলে ঠিক তেমনি সামাজিক ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।
রুমা মোদক গল্পপাঠে এই গল্পটি দিয়েছেন।গল্পটির আখ্যান আপাতভাবে সরল ভ্রমণের অংশ। কিন্তু গল্পটির প্রতিটি পর্বেই ভয়ঙ্কর জটিল বহুরৈখিক গুপ্ত সত্যকে উন্মোচন করে যা কোনো পাঠকের যে কোনো পুর্ব-অনুমানকে মিথ্যে প্রমাণিত করে। এরকম চমকপূর্ণ মহৎ গল্প বাংলা সাহিত্যে  খুব বেশি লেখা হয়নি।গল্পটির কলকব্জা নিয়ে গল্পকার রুমা মোদকের সঙ্গে কুলদা  রায়ের আলাপও পড়ুন।
১. রুমা মোদক-এর গল্প : প্রসঙ্গটি বিব্রতকর

২. রুমা মোদকের গল্প  ‘প্রসঙ্গটি বিব্রতকর’ নিয়ে আলাপ

এ সময়ের শক্তিমান কথাশিল্পী শিমুল মাহমুদের উপন্যাস ‘শীলবাড়ির চিরায়ত কাহিনী’ এবং গল্পগ্রন্থ ইলিশ খাড়ি ও অন্যান্য গল্প (১৯৯৯), মিথ মমি অথবা অনিবার্য মানব (২০০৩), হয়তো আমরা সকলেই অপরাধী (২০০৮) নিয়ে একটি আলোচনা লিখেছেন মাহমুদ পারভেজ।

মাসুদ পারভেজের গদ্য
শিমুল মাহমুদের কথাসাহিত্য : সঙ্কটের নানামুখী বয়ান
মোজাফফর হোসেনের গল্প : সুখ অসুখ

সেদিন টিফিনের ঘণ্টা শেষ হলেও আমরা আর ক্লাসে যাইনি। হাসু বলল, ‘লোটাসের নানা মারা গেছে, ওরা সব ওখানে। চল, ওদের গাছে ডালিম পেকে ফাটি ফাটি, খেয়ে আসি।’ আমি চললাম ওর পিছু পিছু। লোটাস আমাদের খুব কাছের বন্ধু। যাবার পথে অলিলকে সাথে নিলাম। সর্দিজ্বর হওয়ার কারণে আজ ও স্কুলে আসেনি। বাঁশ বাগানের ভেতর দিয়ে প্রাচীর টপকে লোটাসদের বাড়িতে প্রবেশ করলাম। শরীর ভারী হলেও হাসু প্রাচীর টপকানোতে ওস্তাদ। বিস্তারিত>


শাহীন আখতারের ধারাবাহিক উপন্যাস : 
সখী রঙ্গমালা--পর্ব ৪

সখী রঙ্গমালার পশ্চাদভূমি নোয়াখালী অঞ্চলের পালাগান ‘চৌধুরীর লড়াই’। সমতটের নামা-অনামা বহু কবি এ প্রেম ও সমরভিত্তিক গীত গেয়ে গেছেন যুগ যুগ ধরে। নিখাদ জনপ্রিয়তাই ছিল এর মূল চাবিকাঠি। বিপত্তিটা বাধে আমজনতার মহফিল ছেড়ে এটি যখন ছাপাখানা থেকে পুস্তকাকারে বেরোয়, তখন। তত দিনে ব্রিটিশরাজের অশ্লীলতা-নিরোধক ১৮৫৬ সালের ১৪ নম্বর আইন জারি হয়ে গেছে। এ দণ্ডবিধির কোপে পড়ে পালাগানের এক গ্রন্থকর্তা ও প্রকাশককে চল্লিশ চল্লিশ আশি টাকা জরিমানা দিয়ে বেরিয়ে আসতে হয়। পুস্তকের যাবতীয় কপি বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। এর প্রায় ত্রিশ বছর পর, ভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত পালাগানটি ড. দীনেশচন্দ্র সেন পূর্ববঙ্গ গীতিকায় সংকলিত করেন।

তা ছাড়া চৌধুরীর লড়াই কবি-কল্পিত শুদ্ধ পালাগান নয়, খ্রিষ্টীয় অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধের তৎকালীন ভুলুয়ার একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা নোয়াখালী গেজেটিয়ার-এর কাগজের পাত ছাড়াও মানুষের কহন-কথায়, কিংবদন্তির গল্পগাছায় পল্লবিত হয়ে আছে।

অর্থনীতি একটি জটিল বিষয়। নিরেট বাস্তবতার মাপকাঠি নিয়ে চলে। তার মধ্যে কল্পনার স্থান নেই। সাহিত্যের সঙ্গে অর্থনীতিকে মেলানো কঠিন। আবার অর্থনীতির নিয়ামক যখন ক্ষমতার অংশ হয়ে ওঠে তখন ইতিহাসের মধ্যে ক্ষমতার অর্থনীতিটি পূর্ণভাবে লিখিত হয় না। আড়াল করা হয়। তখন সাহিত্য এই গুপ্ত অর্থনীতির জটিল সুত্রকে কে উদ্ধার করার উপায় হয়ে ওঠে। প্রকাশিত হয় জনজীবনের হাহাকারময় ইতিহাসকে। এর উদাহরণ আনন্দমঠ, অশনিসঙ্কেত উপন্যাস।
অর্থনীতির গভীর পাঠ ছাড়া একজন সৎ লেখক হওয়া যায় না।
অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেন এরকমই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে এই লেখাটি করেছেন। লেখাটি যে কোনো লেখক ও পাঠকের জন্য অবশ্য পাঠ্য।
জনজীবনের অর্থনীতি--বিনায়ক সেন

গল্প

বিংশ শতাব্দীর বাংলায় আধুনিকতার বাহন বাংলা সাময়িকী। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় সবুজপত্র প্রথম প্রকাশিত হয় ১৩২১ বঙ্গাব্দের (১৯১৪ সালে) ২৫ বৈশাখ। এ ধরণের একটি সাময়িকী প্রকাশ করার জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রমথ চৌধুরীকে উৎসাহ প্রদান করেছিলেন। নন্দলাল বসু অঙ্কিত একটি সবুজ তালপাতা এর প্রচ্ছদে ব্যবহৃত হতো। সবুজপত্রে কখনও কোনো বিজ্ঞাপন এবং ছবি প্রকাশিত হয়নি। স্বল্পায়ু সত্ত্বেও সবুজপত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর প্রজন্মের বাংলা ভাষা এবং সাহিত্য রীতি গঠনে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে। সবুজপত্রের জন্ম-শতবার্ষিকী উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশিত হল।
মোস্তাক আহমাদ দীন-এর প্রবন্ধ : সবুজ পত্র : শতবর্ষের বিবেচনা

ছুটির লেখা

লেখালেখি করার কি কোনো নির্দিষ্ট বয়স আছে? কেউ কেউ বলেন, ৩০ বছর বয়সটাই হল সেরা সময়। যারা আরেকটু ভাবুক তারা বলেন, ৩০ থেকে ৩৯-- এই ১০ বছরের মধ্যে সেরা লেখালেখি করে বিখ্যাত হয়েছেন পৃথিবীর প্রখ্যাত লেখকগণ। এরপরে আর ভালো লেখার সামর্থ্য থাকে না। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। ৪০/৫০/৭০ বছর বয়সেও অনেকে লিখতে শুরু করেন। কালজয়ী লেখাপত্র করেছেন। ফলে লেখালেখির বয়স ব্যাপার বলে কিছু আছে বলে মনে হয় না।
এই রকম একটি বিতর্ক নিয়ে লেখা করেছেন কানাডাবাসী গল্পকার মৌসুমী কাদের এবং আমেরিকাবাসী চারুলতা হক।


গল্পপাঠ
কথাসাহিত্যের অন্তর্সূত্র
১ অঘ্রান ১৪২২ বঙ্গাব্দ। ১৯ নভেম্বর, ২০১৫ খ্রিস্টাব্দ। সংখ্যা ৩৬।

সম্পাদক : 
এমদাদ রহমান
মোমিনুল আজম

প্রকাশক :
কুলদা রায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন