মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৫

সুইডিশ গল্প : নরকে লিফট

মূল: পার লাগারকভিস্ট

অনুবাদ: মনোজিৎকুমার দাস

[লেখক পরিচিতি: পার লাগারকভিস্ট নোবেল বিজয়ী ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও কবি । তিনি ১৮৯১ সালের ২৩ মে সুইডেনের ভাক্সজো শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পুরো নাম ফেভিয়ান পার লাগারকভিস্ট । তিনি ১৯৫১ সালে তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “ অ্যাগুইশ’ গ্রন্থের জন্যে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯২২ সালে তাঁর প্রথম কবিতাগুচ্ছ ও সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘ পিউপিল’ প্রকাশিত হয়। ‘ দ্য ইটারনাল স্মাইল এন্ড আদার স্টোরিজ ’ তাঁর বিখ্যাত ছোটগল্প সংকলন। কবি হিসাবে সুইডিশ সাহিত্যে তিনি এক বিশেষ ধারার প্রবর্তন করেন। তাঁর বিখ্যাত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘ বারব্বাস’ । নাট্যকার হিসাবে তিনি খ্যাতিমান। ‘দ্য সিভিল ’ তাঁর সাড়াজাগানো নাটক। এছাড়াও ‘দ্য ডোয়ার্ফ’,‘ দ্য ম্যান উইদাউট এ সোল ’.‘ লেট ম্যান লিভ’,‘ দ্য ম্যারেজ ফিস্ট এন্ড আদার স্টোরিজ’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। তিনি ১৯৭৪ সালের ১১ জুলাই ৮৩ বছর বয়সে সুইডেনের স্টকহোমে লোকান্তরিত হন। সুইডিশ ভাষায় লেখা পার লাগারকভিস্ট এর ছোটগল্পের এ্যালান ব্লেয়ারের ইংরেজি ভাষান্তরিত ‘দ্য লিফট দ্যাট ওয়েন্ট ডাউন ইন্টু হেল’ এর বঙ্গানুবাদ করা হল। স্বামীকে অগ্রাহ্যকারী এক নারীর ব্যাভিচারের কাহিনি এ গল্পে বিশেষ অনুষঙ্গে উঠে এসেছে ]



স্মিথ অভিজাত হোটেলের ভেতরের লিফটটি খুলল। সে শহরের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। দামী পাউডারের গন্ধে ভরা পশমের গদি আটা রমণীয় লিফটির চালু হতেই তারা লিফটের নরম সিটে বসে পড়ল। স্মিথ মদে ভেজা মুখটা এগিয়ে নিয়ে নাদুসনুদুস চেহারার ছোটখাটো সুন্দরী মহিলাটির সঙ্গে চুম্বন-বদ্ধ হল। লিফটের নরম সিটে নেশায় চুর হয়ে এখন তারা এক অবর্ণনীয় স্বপ্নিল আমেজে বিভোর! লিফটটি নিচের দিকে নামতে লাগল।

‘ ডার্লিং, এখানকার পরিবেশ স্বর্গীয় আবেশে ভরা ’ মহিলাটি ফিসফিস করে বলল। ‘ তারা ভরা আকাশের মাঝে এক কাব্যিক স্বপ্নিল পরিবেশে আমরা বসে আছি। ভালোবাসা কাকে বলে জানার পরই তুমি এখানকার কাব্যিক পরিবেশটাকে অনুভব করতে পারবে। আচ্ছা স্মিথ, তুমি কি আমাকে সত্যি সত্যি ভালোবাসো ?”

মহিলাটির কথা শেষ হওয়ার পর স্মিথ অনেকক্ষণ ধরে তাকে আদর করতে লাগল। লিফটটি নিচের দিকে নামতে থাকল।

‘ ডার্লিং, তুমি না এলে আমাকে নিরানন্দ অবস্থায় থাকতে হতো !’ স্মিথ বলল। ‘ তুমি হয়তো জান না , আমাকে এক অসহনীয় পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এখানে আসতে হয়েছে। ’ মহিলাটি স্মিথকে বলল। ‘ তাই নাকি।’ ‘আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছি ঠিক সে সময় অরভিড আমাকে জিজ্ঞেস করল যে আমি কোথায় যাচ্ছি। আমি তাকে বললাম- যেখানে ইচ্ছে সেখানে যাব ! অরভিড , আমার স্বামী হয়েছ বলে আমাকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রাখতে পার না। তারপর সে অভিসন্ধিমূলক দৃষ্টিতে আমার জামাকাপড় পরা বিশেষ ভাবে নিরীক্ষণ করতে লাগল। স্মিথ, তুমি কি মনে করো লোকটা ভাল ? তুমি কি ভাবতে পার এ অবস্থায় ওই লোকটার সঙ্গে আমার ঘর করা উচিত? মহিলাটি স্মিথকে জিজ্ঞেস করল। ‘ সব কিছুই তোমাকে মানিয়ে নিতে হবে, প্রিয়তমা।’ মহিলাটির কথা শুনে স্মিথ তাকে বললেন । ‘ তোমাকে আজকের মতো অপূর্ব সুন্দরী আগে কখনো দেখিনি।’

মহিলাটি কৃতজ্ঞতার হাসি হেসে তার গায়ের ফার কোটটা খুলে ফেললে তার গায়ে রইল শুধু মাত্র একটা অন্তর্বাস। অন্তর্বাসের নিজ থেকে গোলগাল সুন্দর স্তনদুটো যেন ফুটে বেরোতে চাইছিল। তারা পরস্পরকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ চুম্বনাবদ্ধ হয়ে থাকল। লিফটটি নিচের দিকে নামতে থাকল।

মহিলাটি আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থায়ই আবারও মুখ খুলল,‘ আমি বাইরে যাবার জন্যে তৈরি হচ্ছি,সে সময় আমার স্বামীটি আমার হাতটা এমন জোরে চেপে ধরলে, যাতে ভেঙে যাওয়ার অবস্থা হল! সে কিন্তু আমার ওই অবস্থা দেখে একটুও সহানুভূতি প্রকাশ করল না। তুমি বুঝতে পারবে না ডার্লিং, লোকটা কতটা নিষ্ঠুর ! আমি তাকে বললাম ---তুমি থাক, আমি চললাম। আমার কথা শুনে লোকটা একটাও কথা বলল না। এক মুহূর্তের জন্যেও আমি ওকে সহ্য করতে পারি না।’ ‘ যত সব তুচ্ছ ব্যাপারস্যাপার নিয়ে ভাবছ!’ স্মিথ মহিলাটির কথার জবাবে বলল। ‘ আমি এক মুহূর্তের জন্যে কোথাও গিয়ে আনন্দে থাকি তা সে মেনে নিতে পারে না। আমার শোচনীয় অবস্থা সম্বন্ধে তোমার কোন ধারণা নেই, ডার্লিং। আমি যেন সারাক্ষণ জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকি।’ মহিলাটি স্মিথের কাছে তার দু:খের কথা বলতে থাকল।

‘ বেচারি! তোমাকে এসব ঝামেলার মাঝেই দিন কাটাতে হবে।’ ’‘ ওহ, আমি কিন্তু সত্যি সত্যি চরম ভোগান্তি শিকার হচ্ছি। এমন ভাবে কেউ কখনো জীবন কাটাতে পারে না! তোমার সঙ্গে দেখা না হলে আমি জানতাম না ভালোবাসা কাকে বলে! ’ মহিলা বলল। ‘ ডার্লিং।” মহিলাটার সঙ্গে আলিঙ্গনাবদ্ধ অবস্থাই স্মিথ হেসে উঠে বলল। লিফটটি নিচে দিকে নামতেই থাকল।

‘ চমৎকার!’ মহিলাটি স্মিথের আলিঙ্গন থেকে মুক্ত হয়ে খুশিতে ডগমগ হয়ে বলল। ‘ তোমার সঙ্গে লিফটে বসে তারা ঝলমলে আকাশের দিকে চেয়ে আমি এখন যেন স্বপ্ন দেখছি! আমি জীবনে এ মুহূর্তে কথা ভুলব না। অরভিড নামের লোকটার কাছ থেকে কখনোই এমন সুখের মুহূর্ত আশা করা পাগলামি। ওর মনের মধ্যে আনন্দের অনুভূতি নেই।’ ‘ প্রিয়তমা, তোমার ওইসব কথাবার্তা এখন অসহ্য লাগছে।’ ‘ হ্যাঁ, এমন আনন্দঘন মুহূর্তে আজেবাজে কথা বলা বা শোনা সত্যি সত্যি অসহ্য! কিন্তু---’ মহিলাটি কথা শেষ না করে স্মিথের গালে একটা চুমু দিয়ে বলল,‘ আজেবাজে কথা আর ভাবার দরকার নেই। এখন এসো এ আনন্দঘন মুহূর্তটাকে উপভোগ করি। ঠিক আছে ডার্লিং। আচ্ছা, সত্যি করে বলতো তুমি কি আমাকে ভালোবাসো?।’ মহিলাটির কথা শেষ হতে না হতেই স্মিথ তাকে জাপটে ধরে তার নরম গোলাপি ঠোঁট-দুটো নিজের ঠোঁট-দুটো মধ্যে নিয়ে চুষতে শুরু করল। লিফটটি নিচের দিকে নামতে থাকল।

‘ এসো আমরা আজ রাতে অন্তরঙ্গ হই। আজ তোমার গহীন গাঙে ডুব দিয়ে আমি হারিয়ে যেতে চাই, তুমি রাজি তো ডার্লিং ? স্মিথ ফিসফিস করে মহিলাটির কানে কানে কথাটা বলে তাকে নিজের কোলের মধ্যে টেনে নিয়ে চোখ বুজল। লিফটটি নিচে দিকে নামতেই থাকল।

লিফটটি আরও আরও নিচের দিকে নামতে থাকায় স্মিথ অকস্মাৎ বিরক্ত হয়ে বলে উঠল,‘ লিফটি থামছে না কেন? তার মুখটা লাল হয়ে উঠতে লাগল। মহিলাটিও বিস্ময় প্রকাশ করল লিফটি না থামায়। সে কী যেন ভেবে বলে উঠল,‘ যাক, লিফটটি না থামলে আমরা দু’জনে যুগ যুগ ধরে আমোদ আহ্লাদ করে যেতে পারব এখানে বসে। কী যে ফুর্তি হবে! ’ ‘ হ্যাঁ ডার্লিং , তোমার আইডিয়াটা খুব সুন্দর কিন্তু! সময়টা উপভোগ করতে থাকলে আমরা বুঝতেই পারব না কীভাবে যুগ যুগ কেটে গেছে। ’ স্মিথ কথা শেষ করে গ্রিলের বাইরে তাকিয়ে অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখতে পেল না। লিফটটি দ্রুত নিচে দিকে নামতে থাকল। গভীর থেকে গভীরে।

‘ চারদিকে অসীম শূন্য ! হায় ঈশ্বর ! লিফটি চলতে থাকতে থাকলে আমরা যুগ যুগ কাল এখানে বসে থাকব। মহিলাটা বলল। এবার তারা দু’জনই অতল গহ্বরের দিকে উঁকি দিয়ে দেখবার চেষ্টা করল। ‘লিফটি নরকে চলছে নাকি।’ স্মিথ বলল। মহিলাটি স্মিথের আলিঙ্গন থেকে নিজেকে মুক্ত করে বলল,‘ ওহ ডার্লিং’ । তারপর আবার সে তাকে জড়িয়ে ধরে বলল, ‘আমি ভয়ে আঁতকে উঠছি। তোমার এখন এমার্জেন্সি ব্রেক টানা উচিত।’

স্মিথ সজোরে এমার্জেন্সি ব্রেকে টান দিল। কিন্তু কোন কাজ হল না। লিফটটি অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে থাকল। ‘ ভয়াবহ ব্যাপার!’ মহিলাটি চিৎকার করে উঠল।‘ আমরা কোথায় পৌঁচ্ছাছি!’ ‘ বড় একটা শয়তান আমাদের পিছু লেগেছে।’ স্মিথ বলে উঠল।‘ এখন আর এ জায়গাটা আমাদের জন্যে নিরাপদ নয়।’ ছোটখাটো নাদুসনুদুস মহিলাটি হতজ্ঞান হয়ে কেঁদে ফেলল। ‘প্রিয়তমা, কাঁদছ কেন? সত্যি সত্যি আমরা বিপদের মাঝে আছি।এখন এখানে চুপটি করে এক অপরকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই। তুমি আমাকে জড়িয়ে ধর। এক সময় লিফটটি কোথায়ও না কোথায়ও থামবে। তখন শয়তানটাকে উচিত শিক্ষা দেব।’ স্মিথ মহিলাটিকে বলল। তারা ভীতসন্ত্রস্ত হয় এক অপরকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকল। ‘ কী ঘটতে যাচ্ছে আমাদের ভেবে দেখা উচিত।’ মহিলাটি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বলল।‘ এখন আমোদ প্রমোদ করার সময় নয়! ’ ‘ এটা শয়তানের কাজ!’ স্মিথ বলে উঠল।

এ অবস্থার মধ্যেও মহিলাটি স্মিথকে গদগদ কণ্ঠে আবারো জিজ্ঞেস করল,‘ তুমি সত্যি সত্যি আমাকে ভালোবাসো তো?’ মহিলাটির আদুরে গলার কথাটা শুনে স্মিথ আরও জোরে তাকে জাপটে ধরে তার গোলাপি গালে শব্দ করে চুমু দিয়ে আবেগ মিশ্রিত কণ্ঠে বলল,‘ ওহ আমার ডার্লিং , তোমায় ভালো না বেসে পারি?’ লিফটটি তখনো নিচের দিকে নামতে থাকল।

অবশেষে এক সময় লিফটটি চোখ ধাঁধানো আলো ঝলমলে জায়গায় পৌঁছাল। জায়গাটা হচ্ছে নরক, নরকের বাসিন্দারা হল শয়তান। একটা শয়তান ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে বলল,‘ শুভসন্ধ্যা’ শয়তানটার পরনে কেতাদুরস্ত লম্বা ঝুলুমওায়লা সান্ধ্যকালীন পোশাক। স্মিথ ও মহিলাটি তাকে দেখে হতবাক! তারা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শয়তানটা সামনে এসে হাজির হয়ে ভয়ে ভয়ে তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘ আমরা এখন কোথায়?’ শয়তানটা তাদেরকে ঘিরে একটা আলোর বৃত্ত তৈরি করলে তার আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল। এক ধরনের শব্দ শোনা গেলে তার বলল,‘ এ শব্দটা কিন্তু মন্দ নয়।’ তারা এক সঙ্গে হড়বড়িয়ে বলল। ‘ আমার মনে হয়, তোমরা এখানে আমোদ আহ্লাদে কাল কাটাতে পারবে। শুধুমাত্র একরাতের জন্যে এখানে এমন একটা পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে আমরা এখানে স্থায়ী ভাবে থাকব না, কেমন?’ শয়তানটা তাদেরকে বলল।

মহিলাটির প্রায় নগ্ন নাদুসনুদুস শরীরটা স্মিথের বুকের মাঝে ! তার সারা শরীরটা ভয়ে কাঁপছে স্মিথ বুঝতে পারল। হলুদাভ উজ্জ্বল আলো চারদিকে। আলোর উজ্জ্বল আভায় তাদের চোখ ধাঁধিয়ে যাবার মতো অবস্থা। চারপাশের সব কিছু যেন অস্পষ্ট। এক ধরনের তীব্র গন্ধ নাকে এসে লাগছে। একটু পরেই তারা বুঝতে পারল যে তারা একটা চারকোণা আকৃতির অন্ধকারে চত্বরে দাঁড়িয়ে আছে। চত্বরটার চারপাশের ঘরগুলোর দরজা দিয়ে শুধুমাত্র ভেতরের আলো বাইরে ঠিকরে পড়েছে। ঘরগুলোর ভেতর থেকে কিছু একটা যেন পোড়ানোর গন্ধ হচ্ছে।

শয়তানটা তাদেরকে জিজ্ঞেস করল,‘ তোমরা কি দু’জন পরস্পরকে ভালোবাসো?’ ‘হ্যাঁ, মনে প্রাণে।’ মহিলাটি তার পটলচেরা চোখ দুটো তুলে জবাব দিল। ‘ এ পথে--’ সে একথাটা বলে তাদেরকে অনুসরণ করতে অনুরোধ করল। তাকে অনুসরণ করে তারা চত্বরটার ষে প্রান্তের অন্ধকারে ঢাকা একটা রাস্তায় এসে হাজির হল। একটা পুরনো ভাঙা হারিকেন নোংরা রাস্তার পাশের দরজায় ঝুলছে। ‘ এদিকে--’ কথাটা বলে দরজাটা খুলে তাদেরকে ভেতরে ঢুকিয়ে এক ফাঁকে সেখান থেকে সে সরে পড়ল। বড় বড় স্তন, রক্তবর্ণ-চোখ, নাকের নিচে এক জোড়া বড় গোঁফওয়ালা একটা মোটাসোটা শয়তানী তাদেরকে স্বাগত জানাল। শয়তানীটা তাদেরকে দেখে হাঁপানি রোগীর মতো শব্দ করে হাসল। মাথার দুটো শিং ও সিল্কের ফিতে দিয়ে বাঁধা দুটো চুলের বেণী।

‘ তোমরা কি মিস্টার স্মিথ আর সেই ছোটখাটো মহিলা ?’ সে জিজ্ঞাসা করল। তোমাদের জন্যে আট নম্বর রুম।’ বিকট চেহারার শয়তানীটা তাদের হাতে বড় একটা চাবি দিয়ে বলল,‘ সামনের সিঁড়ি ধরে এগিয়ে গিয়ে একটা সিঁড়ি পাবে।’ তারা আলোআঁধারি ঘেরা একটা পিচ্ছিল বেশ চওড়া একটা সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় হাজির হল তারা। প্রথমে আট নম্বর রুমটা স্মিথের চোখে পড়ল। তারা দু’জনেই রুমে প্রবেশ করল। ছাতা পড়া বেশ বড় একটা রুম, মাঝখানে নোংরা টেবিল ক্লথে ঢাকা একটা টেবিল । দেয়াল ঘেঁষে চাদর বিছানো একটা খাট। নিরিবিলি পরিবেশে ওখানকার সব কিছুই তাদের কাছে সুন্দর বলে মনে হল। স্মিথ তার গায়ে কোটটা খুলে ফেলল। মহিলাটির গায়ে কোট তো আগেই খোলা ছিল। এবার তারা পরস্পরকে জড়িয়ে চুম্বনাবদ্ধ হল। অপ্রত্যাশিত ভাবে অন্য একটা দরজা দিয়ে একটা লোক রুমটার ভেতরে হাজির হল। তার পোশাক ওয়েটারের মতো। তার গায়ের ডিনার জ্যাকেটটাকে আলোআঁধারি পরিবেশে ভৌতিক বলে মনে হচ্ছিল। সে নীরবে রুমটার ভেতরে হাঁটাহাঁটি করে রুমটা পরিষ্কার করতে লাগল। তার পায়ে কোন শব্দ নেই, তার চলাফেরা যেন যান্ত্রিক,চোখের দৃষ্টি সামনের দিকে। তার মুখটা মরা মানুষের মুখের মতো ফ্যাকাসে। কপালে বুলেটের একটা ক্ষত। এতক্ষণ স্মিথ ও মহিলাটি তাকে মোটেই আমল দেয়নি , তবে সে তাদের কাছাকাছি এলে স্মিথ বলল, ‘ একটু ওয়াইন পেতে পারি না? আধা বোতল হলেই চলবে।’ লোকটা মাথা নাড়িয়ে অদৃশ্য হয়ে গেল।

স্মিথ তার গায়ের জামা ও পরনের প্যান্ট ও আন্ডারওয়ার খুলে ফেলে দিগম্বর হল। মহিলাটি কিন্তু তার গায়ের জামা ,ব্রা ও পরনের প্যান্ট খুলতে ইতস্তত করে বলল,‘ লোকটা তো আবার ফিরে আসছে।’ ‘ ধুত্তোর! এখানে ওদেরকে নজরে আনতে নেই। এখন তোমার জামা , ব্রা আর পরনের প্যান্টটা খুলে ফেলত দেখি। ’ স্মিথ নিজেই মহিলাটির গায়ের জামা ও ব্রা খুলতে খুলতে বলল। মহিলাটি এবার তার পরনের প্যান্টটা খুলে ফেলে ফিসফিস করে বলল,‘ এখানে শুধুমাত্র তুমি আর আমিই আছি। আমরা একটা রোমান্টিক জুটি। এখানকার পরিবেশটা কী সুন্দর কাব্যিক ও রোমান্টিক! আমি জীবনেও মোহনীয় এ ক্ষণটির কথা ভুলব না।’ স্মিথ মহিলাটির সুডোল স্তনের বোঁটায় একের পর এক চুম্বন দিয়ে বলে উঠল,‘ ও আমার প্রাণাধিকা!’ তারপর তারা দীর্ঘক্ষণ চুম্বনাবব্ধ থাকার পর স্মিথ মহিলাটির স্তনদুটো নিয়ে যেন খেলায় মেতে উঠল। সেই লোকটা আবার নি:শব্দ পায়ে ওখানে এসে হাজির হল। যান্ত্রিক ভঙিমায় সে গ্লাসে মদ ভরল। তার মুখটাতে টেবিল ল্যাম্পের আলো পড়ল। লোকটার মুখে কোন বিশেষত্ব নেই, মুখটা আগের মতোই ফ্যাকাসে। কপালের এক অংশে বুলেটের ক্ষত। ‘ হায়, ঈশ্বর! অরভিড! তুমি? তুমি? ’ লোকটিকে দেখে মহিলাটি আর্তনাদ করে উঠল। ‘ হায় ঈশ্বর! অরভিড, তুমি মৃত!’ তার স্বামী অরভিড তাহলে নিজের কপালে নিজেই বুলেটবিদ্ধ করে আত্মহত্যা করেছে। মহিলাটির তা বুঝে উঠতে দেরি হল না। অরভিড নামের লোকটি নিশ্চল ভাবে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখে মুখে ভোগান্তির লেশ মাত্র নেই। তার মুখটা যেন আগের চেয়ে দৃঢ় ও রাশভারী। ‘ হায়! অরভিড তুমি কী করেছ , তুমি কী করলে, কেমন করে এটা করতে পারলে? আমার প্রিয়তম অরভিড, যদি ঘুণাক্ষরেও আমি জানতাম তবে আমি বাড়িতেই থাকতাম। তুমি আমাকে কিছু বলোনি। আমি বাইরে গেল তুমি আত্মহত্যা করবে তা তুমি তোমার মনেই পুষে রেখেছিলে। তুমি এ সম্বন্ধে একটা শব্দও উচ্চারণ করেনি। তাহলে আমি কী করে জানব এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটনা ঘটাবে। হায় ঈশ্বর-----! মহিলাটি এক নি:শ্বাসে কথাগুলো বলে গেল। মহিলার শরীরটা ভয়ে কাঁপতে লাগল। চা পরিবেশনকারী লোকটা মহিলাটিকে নবাগত ভেবে সে তার দিকে তাকিয়ে থাকল। লোকটার দৃষ্টি বরফ শীতল। তার কপালের ক্ষত স্থান থেকে রক্ত বের না হলেও সেখানে একটা গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

‘ ওহ, অসহ্য ! মহিলাটি কপালে বুলেটের দাগটা দেখে চিৎকার করে উঠল। ‘ আমি এখানে থাকব না। চল এখনই এখান থেকে চলে যাই, আমি আর দাঁড়াতে পারছিনা।’ তড়িঘড়ি করে স্মিথ ও মহিলাটি জামা কাপড়, হ্যাট, ফার কোট পরে নিয়ে রুম থেকে বের হয়ে সিঁড়িতে উঠে পড়ল। নিচে সিঁড়িতে পৌঁছালে গোঁফওয়ালা মহিলাটি হেসে মাথার শিং নুয়ে স্বাগত জানাল। তারা সেখান থেকে আগের সেই রাস্তাটিতে ফিরে এসে কিছু সময়ের জন্যে থামল। মহিলাটি মুখে , নাকে ও গায়ে পাউডার মাখল। স্মিথ মহিলাটির কোমর জড়িয়ে ধরলে সে স্মিথের গালে চুমু খেল। তারপর তারা হেঁটে আগের সেই চত্বরটাতে পৌঁছাল।

পালের গোদা শয়তানটা সেখানে হাঁটাহাঁটি করছিল। ‘তোমরা তাড়াতাড়ি করো।’সে দৌড়ে এসে বলল।‘ তা, তোমরা নিশ্চয়ই ওখানে আরামে ছিলে।’ ‘ হায় ঈশ্বর ! কী যাচ্ছেতাই, ভয়াবহ অবস্থা! নরক আর কাকে বলে।’ মহিলাটি লোকটার প্রশ্নে জবাবে বলল। ‘ ও কথা বল না। তোমরা নরকের আগের অবস্থার কথা চিন্তা করতেই পারবে না। আগের দিনে যদি তোমরা আসতে তবে বুঝতে তখন নরকের অবস্থা কেমন নারকীয় ছিল। এখন নরক সম্বন্ধে অভিযোগ করার কিছু নেই। আমরা এখন নরকে সব রকম আমোদ প্রমোদের ব্যবস্থা করেছি। ‘হ্যাঁ, ’ স্মিথ সম্মতি দিয়ে বলল, ‘ তা সত্যি, আমি বলতে পারি জায়গাটা ভাল।’ ‘ বেশ। ’ শয়তানটা বলল,‘ এখন আমরা সবকিছুকে আধুনিকীকরণ করেছি। তোমাদের জন্যেই নরককে সম্পূর্ণরূপে নতুন করে সাজিয়েছি।’ ‘ হ্যাঁ। তা অবশ্যই, তোমরা সময়ের দাবিকে মেনে নিয়েছ।’ স্মিথ বলল। ‘ তবে আজকাল এখানে শুধুমাত্র আত্মাই শাস্তি ভোগ করে থাকে।’ শয়তানটা বলল। ‘ঈশ্বরকে ধন্যবাদ,’ মহিলাটি বলল।

শয়তানটি লিফট পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে খুব ন¤্র কণ্ঠে বলল,‘ গুড ইভিনিং , আবার আসবে।’ কথাটা শেষ করেই গ্রিল বন্ধ করে দিল। লিফটটি উপরের দিকে চলতে লাগল। আবার তারা লিফটটিতে একত্রে বাসা বাধল এবং উভয়ে এক সঙ্গে বলে উঠল, ‘ এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’ মহিলাটি ফিসফিসয়ে বলল,‘ আমি তোমাকে ছাড়া কখনো আর লিফট চড়ব না।’ স্মিথ তাকে কাছে টেনে অনেকক্ষণ ধরে চুমো খেল। ‘ ডার্লিং , তুমি সত্যি সত্যি অপূর্ব সুন্দর! ’ স্মিথ তাকে চুমো দেওয়ার পর সে আনন্দে আপ্লুত হয়ে বলল। ‘অরডিভের কি এ কাজটা করা উচিত হয়েছে। ও কোন কিছুকেই মানিয়ে নিতে পারতো না।’ ‘ঘটনাটা সত্যি সত্যি যাচ্ছেতাই।’ স্মিথ মহিলাটির কথা ধরে বলল। ‘ সে আমাকে বলতে পারত! তখন না হয় আমি বাড়িতে থেকে যেতাম। আমরা না হয় আর এক সন্ধ্যায় বের হতাম।’ ‘ তা অবশ্যই ।’ স্মিথ বলল। ‘ তা অবশ্যই পারতাম।’ ‘ কিন্তু প্রিয়তম, আমাদের আর ওই চিন্তা করা উচিত না।’ মহিলাটি তার গলা জড়িয়ে ধরে ফিস ফিস করে বলল।‘ এখন ওটার পরিসমাপ্তি ঘটেছে, তাই ওটা নিয়ে ভেবে আর কাজ নেই। ‘হ্যাঁ প্রিয়তমা, এখন বিষয়টার সত্যি সত্যি পরিসমাপ্তি ঘটেছে।’কথা বলে সে মহিলাটিকে জাপটে ধরে চুমো খেতে লাগল। লিফটি উপরে উঠতে থাকল।#

মনোজিৎকুমার দাস লাঙ্গলবাঁধ-৭৬১১, শ্রীপুর, মাগুরা। ফোন: ০১৭১১৭০৬১৫৮

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন