মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

মাজহারউল মান্নান এর গল্প প্রেম


বাংলার বিল্বমঙ্গল ভট্টাচার্য স্যারের পুরো নামটা অনেকেরই ছিলো অজানা। তিনি পরিচিত ছিলেন তার সংক্ষিপ্ত নাম বিএমবি বলে। বিএমবি শব্দটা উচ্চারণ করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠতো ফর্সা দীর্ঘকায় সুদর্শন একজন মধ্য বয়স্ক মানুষ। মাথাভর্তি ব্যাকব্রাশ করা সাদাকালো চুল। পরনে শান্তিপুরি ধুতি। খন্দরের গিলেকরা লম্বা পাঞ্জাবির পকেটে ধুতির কোচ। কাধে খন্দরের ভাজকরা চাদর। পাঞ্জাবির বুকপকেটে চেন লাগানো ঘড়ি। চোখে রোলগোল্ডের চশমা। পায়ে দামি চপ্পল ।
এমন একজন মানুষ সাধারণত রাশভারি হওয়ারই কথা। কিন্তু বিএমবি স্যার মোটেও তেমন ছিলেন না। তার মুখভর্তি যেমন থাকতো সুগন্ধি মেশানো পানের রস তেমনি তার পড়ানোর ভঙ্গিও ছিলো সরস। ফলে তার ক্লাসে ছাত্রছাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকতো। তবে তিনি যে সব বিষয় বলে ক্লাস জমিয়ে তুলতেন তার কমই ছিলো পাঠসংশ্লিষ্ট । 
এটা ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ের কথা। সে সময় দেশের উত্তরাঞ্চলে একমাত্র অনার্স টিচিং কলেজ ছিলো কারমাইকেল। কলেজের বেশিরভাগ ক্লাস হতো মূল বিল্ডিংএ । সাবসিডিয়ারি বাংলা ক্লাশ হতো অন্নদামোহন হলের ঠিক পাশের বড় রুমটাতে। আমরা যারা বাংলা অনার্সের ছাত্র তারা এই ক্লাসে যেতাম শুধু বিএমবি স্যারের টানে। তো সেই বিএমবি স্যারের ক্লাসেই ঘটনার সূত্রপাত।
মিলি বসেছিলো মেয়েদের বেঞ্চের প্রথম সারির শেষ মাথায় । দেয়াল ঘেষে। ছেলেদের বেঞ্চ থেকে মুখোমুখি ওকে দেখা যায়। তখন মেয়েরা বসতো আলাদা হয়ে। ডায়াসের পুব পাশে। স্যারদের পেছনে পেছনে এসে ক্লাসে ঢুকতো। ক্লাস শেষে আবার স্যারদের সাথে বেরিয়ে যেতো। এখনকার মতো শিক্ষকের কিংবা দোস্ত ফ্রেন্ড বলে সম্বোধন করে কথা বলা ছিলো অকল্পনীয়।
শহরের গোমস্তাপাড়ার বনেদী ঠিকাদার মাসুদ সাহেবের মেয়ে মিলি। মিলিরা দুই বোন। মিলি আর লিলি। মিলি বড়। লিলি ছোট। দু’জনই বেশ ফর্সা কিন্তু দু'বোনের চেহারায় মিল সামান্যই। মিলির স্বাস্থ্য ভালো। দেখতে লিলির চেয়ে সুন্দর। লিলির চেহারা রোগা রোগা কিন্তু ধারালো। একবার তাকালে দ্বিতীয় বার তাকাতে ইচ্ছে করে। দু'বোন একই ক্লাসে পড়ে। কিন্তু এক বেঞ্চে বসে না। প্রতি দিন কলেজে আসে এক রিকসায়। কোনো কোনো দিন কচ্ছপের মতো একটা ভোকস ওয়াগনে করে আসে। ড্রাইভার কলেজের সামনে ওদের নামিয়ে দিয়ে চলে যায়। সে সময় সারা শহরে ব্যাক্তিগত গাড়ি ছিলো হাতে গোনা। তার মধ্যে মিলিদের এই গাড়িটা একটা।
স্যার পড়াচ্ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। চিত্রার উর্বশী। নহ মাতা নহ কন্যা নহ বধূ সুন্দরী রূপসী...। কথা বলছিলেন অ্যাসথেটিক বিউটি নিয়ে।
সহসা মিলি দাড়িয়ে বললো, স্যার আমার একটা কমপ্লেন আছে। গোটা ক্লাসে তখন পিনপতন স্তব্ধতা। সকলের উৎসুক দৃষ্টি মিলির দিকে।
সেই মুহুর্তে স্যার ছিলেন বিশুদ্ধ সৌন্দর্যের জগতে। বাধা পেয়ে চমকে উঠলেন। বই বন্ধ করে ঘাড় ফিরিয়ে মিলির দিকে জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে তাকালেন।
কী কমপ্লেন?
ওই যে ওই ছেলেটা স্যার, ও সব সময় আমার দিকে তাকিয়ে থাকে। আঙ্গুল দিয়ে মাহমুদকে দেখিয়ে দিলো মিলি।
মাহমুদ আমাদের বন্ধু তবে ঘনিষ্ঠ নয়। আমরা চার বন্ধু। পাস কোর্সের আশফাক, ইকোনমিক্সের আকরাম, জেনারেল হিস্ট্রির মাসুদ আর বাংলার আমি। আশফাক তখন ছাত্রসংসদের নতুন নির্বাচিত জিএস। ওকে ঘিরেই আমাদের বন্ধুবৃত্ত। শুধু অনার্স ক্লাসে যে যার মতো আলাদা। সাবসিডিয়ারি ক্লাস থেকে শুরু করে ধনাদা'র ক্যান্টিনের আডডা পর্যন্ত আমরা ক'জন সারাক্ষণ একসাথে ।
মাহমুদ আমাদের সেই রকম বন্ধু নয়। ও মাঝেমধ্যেই এসে আমাদের আডডায় যোগ দেয়। পকেট ভারী থাকার কারণে ক্যান্টিনের খাবার বিলটা না বলতেই আগেভাগে শোধ করে দেয়। চাপাচাপি করতে হয় না। তো মাহমুদ ছিলো আমাদের সেই টাইপের বন্ধু।
নিসবেতগঞ্জের এক সম্পন্ন পরিবারের একমাত্র ছেলে মাহমুদ। শহরের বোনের বাসা থেকে কলেজ করে। কথা কম বলে। আমাদের মতো উচ্ছ্বাসপ্রবণ নয়। কারও সাতে পাচে নেই। পোশাকপাতিতে বেশ কেতাদুরস্ত। হাটে ঠিক হেনা স্যারের মতো। সেই যে পলিটিক্যাল সায়েন্সের আবু হেনা মোহাম্মদ মোহসিন স্যার। লম্বাচওড়া জবরদস্ত চেহারার মানুষটি, হাটতেন একটু ঝুঁকে। মাহমুদ শুধু তার মতো করে হাটতোই না, ইংরেজিতে কথা বলারও চেষ্টা করতো তারই মতো করে। মোটকথা, হেনা স্যারের একনিষ্ঠ ফলোয়ার ছিলো সে।
সেই মাহমুদের বিরুদ্ধে মিলির এ হেন অভিযোগে আমরাও হকচকিয়ে গেলাম। কিন্তু আমাদের সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে স্যার মিলিকে লক্ষ করে বললেন, শোনো মিলি, এই যে তুমি সুন্দর করে সেজে এসেছে, বলো দেখি কী জন্যে? কেউ যদি তোমার এই সৌন্দর্য না-ই দেখে তাহলে এসবের কী অর্থ হয় বলো? তাছাড়া তুমি সুন্দর বলেই তো সে তাকিয়ে থাকে। এটাকে কি অপরাধ হিসেবে না নিলে হয় না? 
কে একজন মাথা নিচু করে নাকি সুরে গেয়ে উঠলো, তুমি সুন্দর তাই চেয়ে ….
গোটা ক্লাসে হাসির হুল্লোড় পড়ে গেল। স্যার মৃদু ধমক দিলেন কিন্তু তাতে কেনো কাজ হলো না। মিলির তখন অন্য রকম অবস্থা। লজ্জায় ক্ষোভে কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়েই ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেল সে।
এই ঘটনার পর মাসখানেক কেটে গেছে। আমরা সবাই প্রায় ভুলেই গিয়েছি বিষয়টা। মাহমুদকে যে আগের মতো আর দেখা যায় না সেটা আমরা কেউই লক্ষ করিনি। মাঝে মধ্যে অবশ্য দেখা গেছে লাইব্রেরির রিডিং রুমের এক কোণায় চুপচাপ বসে আছে। বইটই কিছু পড়ছে না।
আমরাও ঠিক এই সময় ব্যস্ত হয়ে পড়লাম সদ্য নির্বাচিত সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠান নিয়ে। কলেজ ছুটির পরও দীর্ঘক্ষণ রিহার্সেল করি। তারপর রওনা হই শহরের পশ্চিম প্রান্তে কেরানি পাড়ার লজিং বাড়ির উদ্দেশে। কোনো কোনো দিন রিহার্সেল করতে বেলা ডুবে যায়।
একদিন বেলাবেলি রিহার্সেল শেষ করে শহরের দিকে রওনা দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঠিক এই সময় মেয়েদের কমনরুমের আয়া এসে আশফাককে বললো, ভাই, আপা আপনাকে ডাকে।
কোন আপা?
মিলি আপা।
কোথায়?
ওই যে। আয়া কমনরুমের দিকে তাকায়।
মেয়েদের কমনরুম ছিলো তখন প্রিন্সিপালস্যারের চেম্বারের ঠিক সামনে পূব পাশে। দুই পাশে বড় বড় দেবদারু গাছ। মাঝখানে একতলা বিল্ডিং। সামনে ছোট্ট একটা ফুলের বাগান। তারও সামনে সবুজ চত্বরে অনেকগুলো বিলাতি ঝাউয়ের গাছ। আমরা দেখলাম কমনরুমের বারান্দায় বেশ ক'জন মেয়ের সাথে মিলি দাডিয়ে।
ডেকেছিলো আশফাককে। গেলাম আমরা চারজনই। ওদের সামনে যেতেই মিলিই প্রথমে কথা বলে উঠলো।
আশফাক ভাই, আপনার সাথে কথা আছে।
এদের সামনে বলা যাবে না? আশফাক আমাদের দিকে তাকালো।
না, আপনাকেই বলতে চাই।
আমরা চলে যেতে উদ্যত হতেই ইংরেজির অঞ্জলি বাদ সাধলো।
কেন মিলি, ওরাও থাক না। সবার সামনেই বল। এর মধ্যে আর লুকাছাপার কী আছে।
তারপরও আমরা চলে যাচ্ছি দেখে মিলি বারান্দা থেকে নেমে আমাদের কাছে এলো। বললো, সরি ভাই, আমি ঠিক না বুঝেই কথাটা বলে ফেলেছি। আপনারাও থাকেন। আসলে বিষয়টা আপনাদের সবারই জানা দরকার। আফটার অল ও তো আপনাদেরই বন্ধু।
মনের মধ্যে অসন্তোষ চাপা দিয়ে আমরা থেকে গেলাম।
মিলি হাত ব্যাগ থেকে পোস্ট অফিসের খাম সমেত একটা চিঠি বের করে আশফাকের দিকে এগিয়ে দিলো। বললো, দ্যাখেন আপনাদের বন্ধুর কাজ। বিএমবি স্যার যে অকারণ রসিকতা করেন এখন দ্যাখেন তো এসব কী?
চিঠিটা হাতে নিয়ে একটুখানি চোখ বুলিয়ে আমাদের দিকে তাকালো আশফাক । 
দ্যাখো, মাহমুদ গাধার কাণ্ডটা দ্যাখো। 
কী করেছে মাহমুদ? আমরা তিনজনই উৎসুক হয়ে তাকাই আশফাকের দিকে।
প্রেমপত্র দিয়েছে মিলিকে। আরে তুই কোথায় আর মিলি কোথায়, সে কথাটা একবারও ভেবে দেখবি না। আহাম্মকটাকে থাপড়ানো দরকার। ক্ষুব্ধ কণ্ঠ আশফাকের। 
সাথে সাথেই মিলি বলে ওঠে, না না আশফাক ভাই, তেমন কিছু করার দরকার নেই, ওকে একটুখানি বুঝিয়ে বলবেন, ও যেন আর এ ধরণের কিছু না করে। 
মিলির পেছন থেকে ঝাঁঝালো কণ্ঠে বলে বাংলার স্বাতী, তুই জানিস না মিলি, সব গেয়ো ছেলে আসলে এরকমই, হ্যাংলামোপনাই এদের স্বভাব। 
আকরাম মুখ অন্ধকার করে তাকায় আমার দিকে। আমরা খুব অপমানিত বোধ করি। 
মিলি বলে, ও ভাবে বলছিস কেন স্বাতী? সবাই তো আর ওর মতো নয়। 
যা বাবা, যার জন্যে চুরি করি সেই বলে চোর। হতাশা ব্যক্ত করে স্বাতী। বলে, দেখিস একদিন এই ছেলেই আরও কতোটা বাড়াবাড়ি করে।
মিলিদের ভোকস ওয়াগনটা এসেছে অনেকক্ষণ। ড্রাইভার মাঝেমধ্যে হর্ন দিয়ে তার অসহিষ্ণুতা জানান দিচ্ছে। 
আশফাক মিলিকে আশ্বস্ত করে বলে, ঠিক আছে মিলি, তুমি আর মন খারাপ কোরো না, আমরা বিষয়টা দেখবো, আশা করি এমনটা আর হবে না। বেলা ডুবতে বসেছে, তোমরা এখন যাও।
এ ঘটনার ঠিক দুই দিনের মাথায় আমরা মাহমুদকে নিয়ে একান্তে বসলাম। নরম গরম মিলিয়ে অনেক কথাই বলা হলো ওকে। ওর জন্যে আমরাও যে অপমানিত হচ্ছি সে কথাও ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া হলো।
আশফাক শেষ কথাটা বললো, যে কথাটা সে বলে এসেছিলো মিলিকে, আশা করি মাহমুদ, এমনটা আর নিশ্চয় ঘটবে না।
আমাদের এত সব কথার জবাবে একটা কথাও বললো না মাহমুদ। তার মধ্যে কোনো ভাবান্তর লক্ষ করা গেল না। সে আগের মতোই চলাফেরা করতে লাগলো। বাংলা ক্লাসে গেলে আগের মতো আর মিলির দিকে তাকায় না। ফাকা কোনো বেঞ্চে একা একা বসে থাকে। স্যার কোনো কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয় না। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকে। কমনরুম কিংবা ক্যান্টিনেও খুব একটা যায় না। কখনো কখনো লাইব্রেরির রিডিং রুমের এক কোণায় বসে পুরনো ইংরেজি সাময়িকী নেড়ে চেড়ে দেখে। তবে পোশাকপাতি চলাফেরায় কোনো পরিবর্তন হয় না।
আমরা ভাবলাম ভালোই হলো। এ যাত্রা মাহমুদের ঘোড়া রোগ কেটে গেছে। কিন্তু আমাদের ভাবনায় যে কতোটা ভুল ছিলো বুঝলাম মাস দেড়েক পরে এক বিকেলে।
কলেজ ছুটি হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। ক্যাম্পাস প্রায় ফাকা। কলেজ মসজিদের মিনারের নিচে পড়ে গেছে সূর্য। আকাশ অস্তগামী সূর্যের আভায় লাল।
আমরা ছিলাম ক্যান্টিনে। হঠাৎ কে যেন এসে বললো, মেয়েদের কমনরুমের সামনে গোলমাল হচ্ছে। শোনা মাত্রই আমরা চারজনই গেলাম একসাথে । আমাদের পরপরই অবশ্য এলো ম্যাগাজিন সেক্রেটারি ফিলোসফির আফজাল ।
,,,,,,,,,,,,,,,,করছে। কাছে যেতেই দেখা গেল সবার সামনে দাড়িয়ে মিলি। মিলি একটা স্যান্ডেল হাতে নিয়ে চিৎকার করছে। বলছে, মনে রেখো, এবার শুধু দেখালাম। ফের যদি এরকম করো তবে সত্যি সত্যি এটার সদ্ব্যবহার করবো, লোফার কোথাকার। 
সামনে ঠায় দাড়িয়ে মাহমুদ। এত ঘটনার মধ্যেও সে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে মিলির দিকে। তার মধ্যে কোনো বিকার নেই। 
আশফাক দ্রুত গিয়ে মিলির সামনে দাড়ায়। বলে, একি কাণ্ড মিলি! একেবারে স্যান্ডেল হাতে নিয়েছো। 
মিলি বলে, দ্যাখেন আশফাক ভাই, বিষয়টা এর আগেও আপনাদের বলেছি, কী ব্যবস্থা নিয়েছেন আপনারা? 
আশফাক বলে, আজ আবার কী হয়েছে বলো দেখি। 
কী হয়েছে শুনবেন, মিলির ক্ষুব্ধ কণ্ঠ, আজ সে সরাসরি এসে আমাকে বলে কী, আমি যে তোমাকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না মিলি। আমি কি এতই অযোগ্য যে তোমার বন্ধুও হতে পারবো না, ইত্যাদি নানা কথা।
স্বাতী ছিলো পেছনে। সে সবাইকে সরিয়ে সামনে এসে বললো, কী, আমি বলিনি সেদিন, এই ছেলে পরে আরও হ্যাংলামো করবে। ফললো তো আমার কথা। মাহমুদের দিকে তাকিয়ে বললো, স্কাউন্ডেল! বামন হয়ে চাদে হাত।
 আশফাক ক্ষুব্ধ কষ্ঠে বলে, তুমি থামো স্বাতী, যথেষ্ট হয়েছে। এই বয়সের ছেলেমেয়ের মধ্যে এ ধরণের ঘটনা এক আধটু ঘটতেই পারে কিন্তু তাই নিয়ে তোমরা যা করলে, দিস ইজ টু মাচ। 
মিলির পাশেই দাড়িয়েছিলো লিলি। সে অনেকটা নিরাসক্ত কষ্ঠে বললো, বিষয়টা নিয়ে খুব বাড়াবাড়ি হচ্ছে আপু। এতোটা না করলেও পারতে। 
আমরা মাহমুদকে সরিয়ে নিয়ে এলাম। অন্নদামোহন হলের সামনের পোর্টিকোর নিচে এসে যখন দাঁড়ালাম তখন সূর্যাস্তের ছায়া আস্তে আস্তে গ্রাস করছে গোটা ক্যাম্পাস। এর মধ্যেই শাল কাঠের খুঁটিগুলোর মাথায় কম পাওয়ারের বিদ্যুৎ বাতিগুলো জ্বলে উঠেছে। 
মাহমুদকে আমরা কিছু বললাম না। কেন জানি ওর প্রতি এক ধরণের সহানুভূতি বোধ করতে লাগলাম। কিন্তু আশফাক ওকে এমনভাবে বকাবকি করলো শুধু মারাটাই বাকি রাখলো। 
মাহমুদের মুখে কোনো কথা নেই। শুধু আমাদের সবার মুখের দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকাতে লাগলো। এক সময় দেখি ওর ভাবলেশহীন চোখ দুটি পানিতে পূর্ণ হয়ে গেছে। 
সেদিকে তাকিয়ে আফজাল বললো, মাহমুদ, নারীর প্রেম কি জীবনে এতই দরকার যে লাজলজ্জা সব ত্যাগ করতে হবে, তুই একেবারে কাঙাল হয়ে গেছিস রে। 
আফজালের কষ্ঠে কী ছিলো জানি না, হঠাৎ দেখি আকরাম ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাদছে। কান্নাভেজা কষ্ঠেই সে মাহমুদের হাত ধরে বলছে, চল তোকে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি। আর কতো অপমান সহ্য করবি? তোর কি গণ্ডারের চামড়া না কি? বলেই সে মাহমুদকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কাদতে লাগলো। সেই কান্না আমাদেরও চোখ ভিজিয়ে তুললো। শেষ পর্যন্ত আশফাকও পকেট থেকে রুমাল বের করে চোখ মুছতে লাগলো। 
মাহমুদ কলেজে আসা বন্ধ করে দিলো।
এর মধ্যেই শুরু হলো সাবসিডিয়ারি ও পাস কোর্সের টেস্ট। মাহমুদ টেস্ট দিলো না। আমরা সব বন্ধুবান্ধব মিলে স্যারদের অনুরোধ করে পরীক্ষা ছাড়াই ওকে অ্যালাউ করে নিলাম। এমনকি টাকাপয়সা যোগাড় করে আমরাই ওর ফরমও ফিলাপ করে দিলাম। কিন্তু সে আর এক দিনের জন্য কলেজে এলো না, পরীক্ষাও দিলো না। আমরা মাহমুদকে হারিয়েই ফেললাম।
ডিগ্রি পরীক্ষার রেজাল্ট বেরোবার আগেই শুনলাম মিলির বিয়ে। বর ইঞ্জিনিয়ার। বাড়ি বরিশাল। ভালো পাত্র পাওয়া গেছে তাই আর রেজাল্টের অপেক্ষা নয়। বিষয়টা আমাদের স্পর্শ করার কথা নয় তারপরও মাহমুদের কথা মনে পড়ায় কেন জানি বুকের ভেতর একটা কষ্টের অনুভূতি খচ খচ করতে লাগলো।
এ সময় আমরা চার বন্ধু প্রায় প্রতিদিন বিকেলে আড্ডা দিতাম মিনার প্রেসে। প্রেসক্লাবের ঠিক উল্টো দিকে স্টেশন রোডের উপরেই ছিলো প্রেসটা। আড্ডার উৎস ছিলো শিখা নামের একটা লিটল ম্যাগাজিন। সম্পাদক ছিলাম আমি। স্বল্পায়ু এই ছোট কাগজটিতে সে সময় পরবর্তী কালের অনেক প্রখ্যাত লেখকের লেখা ছাপা হতো।
যা হোক ফিরে আসি আগের কথায়। সেদিনও বিকেলের দিকে প্রেসে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ স্কুলবয়সী একটা ছেলে এসে বললো, আশফাক ভাই কে?
কেন, কী দরকার? আশফাকই পাল্টা প্রশ্ন করলো ছেলেটাকে।
একটা চিঠি আছে।
কে দিয়েছে?
ঠিকাদার বাড়ির মিলি আপা।
ও ঠিক আছে, দাও দেখি। ছেলেটা কোনো প্রকার দ্বিধা না করে চিঠিটা আশফাকের হতে দিয়ে চলে গেল।
চিঠিটা খুলতে না খুলতেই আমরা একযোগে ঝুঁকে পড়লাম ওতে কী আছে দেখার জন্য ।
গোটা গোটা অক্ষরে মেয়েলি হাতের লেখা। কথা খুব সামান্য। মিলি লিখেছে, আজই তার বিয়ে। কী একটা জরুরি বিষয় জানানো দরকার। হাতে সময় সামান্য। দেরি হলে হয়তো আর বলাই হবে না। তাই পত্র পাওয়া মাত্রই দেখা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। চিঠির ভাষায় অনুরোধের চেয়ে অনুনয় অধিক।
আশফাক বলে বসলো, আমি একা যাবো না।
আকরাম বললো, বড় লোকের বিয়ে বাড়ি, দাওয়াত নাই কিছু না, আমরা কীভাবে যাই? তোমাকে ডেকেছে তুমি যাও। আমাদের জড়াচ্ছো কেন?
আশফাক অনড়। বললো, গেলে চারজনই, না গেলে নাই।
কী আর করা। অগত্যা চারজনই গেলাম। অবশ্য ভেতরে ভেতরে একটা অদম্য কৌতুহল যে আমাদের তাড়া করছিলো সে কথা কেউ কাউকে না বললেও নিজে নিজেটের পাচ্ছিলাম ঠিকই। সামনে গিয়ে নামলাম তখন সুবেশধারী নারীপুরুষে গম গম করছে গোটা বাড়ি।
মিলির কথা বলতেই তদারককারীদের একজন আমাদের বৈঠকখানা ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালো। ঘর তো নয় হলঘর। বিশাল আকারের হলঘরে দুই পাশে দুই সেট দামী সোফা। দুই পাশে আলাদা আলাদা ডিভান। এক পাশে বিরাট শোকেস। দেয়ালে বেশ কিছু দামী পেইন্টিং। এক কোনায় রেকর্ড প্লেয়ারে অনুচ্চ স্নান আলো এসে গোটা ঘরের পরিবেশ করুণ করে তুলেছে। 
আমাদের খবর পেয়েই মিলি এলো। যথারীতি বিয়েপূর্ব কনের সাজ। কপালে হলুদের দাগ। কেন জানি কি মনে করে আমরা একযোগে সবাই দাড়িয়ে পড়লাম। 
আমাদের দাড়ানো দেখে মিলি বললো, একি, আপনারা দাড়ালেন কেন? বসেন। 
আমরা বসে পড়লাম। 
লাগছে। 
মিলি কৃত্রিম কোপ প্রকাশ করে বললো, আশফাক ভাই, বেশি হচ্ছে কিন্তু। 
এ রকম সময় আমি সাধারণত কথাবার্তা বলি না। সেদিন আমার কী হলো, হঠাৎ বলে বসলাম, সত্যি মিলি, আপনাকে অপরূপ দেখাচ্ছে। 
আমার দিকে তাকিয়ে মিলি বললো, কী ব্যাপার, আপনারও দেখি মুখে কথা ফুটেছে। মেয়েদের দিকে চোখ তুলে কখনো তাকাতেও তো দেখিনি আপনাকে, আজ হঠাৎ ৷ 
বুঝলাম আমি বেখেয়ালে একটা স্বভাববিরুদ্ধ কাজ করে ফেলেছি। কাজটা ঠিক হয়নি। লজ্জায় কিছুটা আড়ষ্ট হয়ে গেলাম। মিলি আমাকে আলাদাভাবে মনে রেখেছে দেখে মনে মনে একটু সুখও বোধ করতে লাগলাম। 
মিলি একটা রঙিন খাম আশফাকের হাতে দিয়ে বললো, ভেতরের চিঠিটা পড়ে দ্যাখেন। 
মাহমুদের চিঠি। আবার মাহমুদ আমরা চমকে উঠলাম। 
সংক্ষিপ্ত একটা চিঠি। সামান্য কয় লাইন লেখা। আশফাক চিঠিটা পড়া শেষ করে আমাদের দিকে তাকাতেই আমরা প্রায় একযোগে বলে উঠলাম, আবার কী লিখেছে মাহমুদ? 
কোনো কথাবার্তা না বলে চিঠিটা আমাদের দিকে এগিয়ে দিলো আশফাক ।
কোনো প্রকার সম্বোধন ছাড়াই মাহমুদ লিখেছে, তোমার ভালোবাসা পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনাই যখন থাকলো না তখন এই অর্থহীন জীবনটা বয়ে বেড়ানোর আর কী লাভ। লোকগণনা হচ্ছে। কাজটা প্রায় শেষের দিকে। সেই তালিকা থেকে এই ভালোবাসা বঞ্চিত হতভাগ্যের নামটা যদি ঝরে পড়ে তাতে কারো কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা দেখি না। ভালো থেকো, সুখে থেকো। জনমের মতো বিদায়।
আমরা স্তব্ধ হয়ে বসে থাকলাম। আশফাকই নীরবতা ভাঙলো। মিলির উদ্দেশে বললো, আরে বাদ দাও তো ওই পাগলের কথা। কিছু হবে না। এসব ওর নখরামি। 
আমাদের হতবাক করে দিয়ে মিলি বলে উঠলো, না আশফাক ভাই, আমার কিন্তু মোটেও তা মনে হচ্ছে না। শুধু ভালোবাসা পাওয়ার জন্যে যে মানুষটা কোনো অপমানই গায়ে মাখে না, তার পক্ষে কিছু একটা করে ফেলা কিন্তু অসম্ভব না। সে সময় এটা বুঝতে পারিনি। বুঝলে অন্তত ওভাবে ওকে অপমান করতাম না। আশফাক ভাই, আপনারা আমার হয়ে ওকে বলবেন, মিলি তার ভালোবাসার দোহাই দিয়ে বলেছে, সে যেন কোনো অঘটন না ঘটায়। আর বলবেন, যা কিছু ঘটেছে তার জন্য আমি সরি। পারলে ও যেন আমাকে ক্ষমা করে দেয়। মিলির কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো। 
আমরা উঠলাম। মিলি খেয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলো। আমরা ইংগিতে মাফ চেয়ে বেরিয়ে এলাম। 
সন্ধ্যার আগেই গেলাম মাহমুদের বোনের বাসায়। ওর বোন বললো, সে শহরে আর তেমন একটা আসে না। গ্রামের বাড়িতেই থাকে। লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে। বাপ-মা বিয়েশাদির চেষ্টা দেখছে। 
আমাদের অভিযান ওই পর্যন্তই থেমে গেল।
বছর পাচেক পরের কথা। আমি তখন নতুন একটা কলেজের বাংলার শিক্ষক। অধ্যক্ষ নেই তাই ভারপ্রাপ্ত। ট্রেনে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করি। মাঝখানে দুটাে স্টেশন। খুব বেশি হলে মিনিট বিশেকের পথ। কখনো কখনো অবশ্য আধা ঘণ্টাও লেগে যায়।
থাকি উত্তরের ছোট্ট একটি শহরে। বাসা থেকে স্টেশন পাচ মিনিটের পথ। ষাটের দশকের শেষ দিকের কথা। তখন ট্রেন টাইমলিই চলতো। সঠিক সময় বলতে লোকে রেলওয়ে টাইমই বুঝতো।
একদিন ট্রেনে উঠেই দেখি তিন সিটের সোফায় আগে থেকেই বসে আছেন দুইজন মহিলা। একজন বেশ বয়স্ক। আমাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে অপেক্ষাকৃত কম বয়সের মহিলা এক দিকে সরে গিয়ে বসলেন। ইশারায় সিট দেখিয়ে বললেন, বসেন।
বসতে বসতেই আমার মনে হলো মহিলাকে এর আগে কোথাও দেখেছি। আমি জিজ্ঞেস করবো করবো ভাবছি এর মধ্যেই মহিলা খুব সহজভাবেই বলে বসলেন, আপনি কারমাইকেলে পড়তেন না?
আমি বিস্ময়মিশ্রিত কষ্ঠে বললাম, হ্যা, কিন্তু আপনি?
আমি মিলি। কলেজে আমরা দুই বোন এক সাথে পড়তাম। লিলি মিলি। এখন মনে পড়ছে?
তাই তো। আমি চমকে উঠলাম। এ তো মিলি। আগের চেয়ে চেহারা আর একটু ভারী হয়েছে। কিন্তু মুখের মিষ্টি গড়ন আগের মতোই আছে।
বললাম, কোথেকে?
ঢাকা থেকে ।
সাথের উনি?
ফুপু। একা আসতে হয়, তাই সঙ্গে নিয়ে এসেছি।
আছেন কেমন?
এই আছি আর কি, ভালোই।
মনে পড়লো, বিয়ের বছরখানেক পর মিলির বর সম্পর্কে কী যেন একটা কথা শুনেছিলাম। তখন আমি অনার্স ফাইনাল ইয়ারে। আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এমনই ক্ষতবিক্ষত অন্যদিকে মনোযোগ দেয়ার কোনো উপায়ই ছিলো না।
ট্রেনের অস্বাভাবিক লেট হচ্ছে দেখে জানালা দিয়ে মুখ বের করে পরিচিত একজন পোর্টারকে জিজ্ঞেস করলাম, কী ব্যাপার, ট্রেন এতো দেরি করছে কেন?
ক্সসিং আছে স্যার, আরো লেট হবে। বলতে বলতে সে একটা গোলা হাতে নিয়ে হোম সিগন্যালের দিকে চলে গেল।
কৌতুহল দমন করতে না পেরে খুব সতর্কতার সাথে মিলিকে বললাম, আমরা একসাথে পড়ালেখা করেছি, যদি আদারওয়াইজ না নেন, একটা কথা জিজ্ঞেস করতে চাই।
না না কোনো অসুবিধা নেই, বলেন। দ্বিধাহীন কণ্ঠ মিলির ।
আপনার বিয়ের পর কী সব শুনেছিলাম?
কী শুনেছিলেন?
আমি ভড়কে যাই। বুঝতে পারি এভাবে একজন মহিলার একান্ত ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ ওঠানো ঠিক হয়নি। কিন্তু তখন আর চুপ করে থাকার উপায় নেই।
অপ্রতিভ কণ্ঠে বললাম, আপনার বর সম্পর্কে।
ঠিকই শুনেছিলেন। বাবা ঠিক মতো খোঁজখবর না নিয়েই একটা অমানুষের সাথে আমার জীবনটা জুড়ে দিয়েছিলেন। কপাল ভেবে চেষ্টা করেছিলাম অ্যাডজাস্ট করতে। কিন্তু হলো না।
তারপর?
তারপর আর কি সেপারেশন। ফিরে এলাম রংপুরে।
এখন?
মাস্টারি করি একটা স্কুলে। দিন কয়েকের ছুটি নিয়ে ঢাকা গিয়েছিলাম ভাইয়ের বাসায়। ছুটি শেষ, আগামীকাল স্কুল করতে হবে।
সেদিন ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা লেটে পৌঁছলো গন্তব্য স্টেশনে। এখানে ট্রেন দাঁড়ায় খুব সামান্য সময়। কিন্তু সেদিন গাড়িটা দুই নম্বর লাইনে প্রবেশ করায় বুঝলাম সম্ভবত আর একটা ক্রসিং হবে। 
আমার মাথায় তখন মাহমুদের চিন্তা। বেচারা কোথায় আছে কেমন আছে কিছুই জানি না। অনেক দিন বন্ধুবান্ধবের কোনো খোজখবর রাখা হয় না। 
মাহমুদের সাথে সেই যে ছাড়াছাড়ি হলো আর এক দিনের জন্যও দেখা হয়নি। মিলির সাথে এভাবে দেখা হওয়ার পর শুধুই মনে হতে লাগলো, মাহমুদ কি মিলির এ অবস্থার কথা জানে। জানলে হয়তো খুশিই হবে। 
আবার মনে হয় সে যেভাবে মিলিকে পাগলের মতো ভালোবাসতো, মিলির কী যেন একটা বিষয় খচখচ করতে লাগলো। 
আমি গাড়ি থেকে নামতে যাবো সহসা কী মনে করে ঘুরে দাঁড়ালাম। 
আমাকে দাড়াতে দেখে মিলি জিজ্ঞেস করলো, কিছু বলবেন? 
আমি সাহসে ভর দিয়ে বললাম, আপনি কি এভাবেই থাকবেন? 
এভাবে মানে? 
এই একা একা। 
ও এই কথা, মিলি হেসে ফেললো, বললো, একা আর থাকা হলো কই। 
আমি দারুণ কৌতুহল চাপা দিয়ে বললাম, তা হলে? 
তা হলে আর কি। একবার আমার বাবা ভুল করলেন একটা অমানুষের সাথে আমার জীবনটা জুড়ে দিয়ে, আর একবার আমি ভুল করলাম একটা গাধার সাথে জীবনটা জড়িয়ে। বলেই সে আমার চোখে চোখ রেখে মিট মিট করে হাসতে লাগলো। 
আমার আর তর সইছিলো না। বললাম, সে গাধাটার পরিচয় কি জানতে পারি?
আপনি কিছুই জানেন না?
না তো । 
তাহলে শোনেন, গাধাটা হচ্ছে আপনাদের বন্ধু নাছোড়বান্দা মাহমুদ।
আমার বিস্ময়ের ঘোর না কাটতেই ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠলো। সম্ভবত এখানে আর ক্রসিং হচ্ছে না। আমি তাড়াতাড়ি নেমে পড়লাম। নেমেই মনে হলো, আরে, মিলির কাছ থেকে তো বিদায় নেয়া হলো না। ট্রেনের গতি তখন বেশ বেড়ে গেছে।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন