সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০১৬

কামাল রাহমান'এর গল্প | শুয়োর

আশ্বিন-কার্তিকের ঢিলেঢালা পূর্ণিমার ছেঁড়াফাটা আলো ছড়ানো আকাশে মাঝে মাঝে সাদা মেঘের দল এত জোরে ছুটে চলে যে চাঁদটাকে মনে হয় গতি পাওয়া এক সাদা চাকতি। অকারণের কোনো অবহেলায় কেউ যেন ওটাকে ছুঁড়ে দিয়েছে অশান্ত আকাশের খোলা জানালা দিয়ে। একটু পর এক টুকরো বড় মেঘের আড়ালে ঢুকে যায় অনিচ্ছায় ছুটে চলা ক্লান্ত ঐ চাঁদ। তখন কিছুটা অন্ধকার নেমে এলে নড়ে ওঠে ভৌতিক একটা ছায়া। খুব ধীরে সামনে এগোয় ওটা। গাঢ় অন্ধকার পেরিয়ে সামনের দিকে গড়িয়ে যায় সে কালো একটা ভালুকের মতো। মিশমিশে ঐ কালো ছায়াটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে মাঝে মাঝে। ছিটিয়ে যায় টুকরো টুকরো হয়ে। কয়লাকালো অন্ধকারের ভেতর মিশমিশে কালোর এক মাখামাখি অন্তরঙ্গতা। ছায়াটার একটা অংশ নিশ্চল হয়ে পড়ে থাকে কিছুক্ষণ।


বিচ্ছিন্ন ঐ কালো ছায়াটা এক সৈনিকের। আাকস্মিক অসুস্থতা অসহায় এক জন্তুতে পরিণত করেছে ওকে। মাটি ও কাদার মধ্যে শুয়ে আছে সে এখন প্রায় অচেতন হয়ে।

সকালের পরিকল্পনাটা মনে পড়ে ওর। সন্ধ্যার পর কানসোনা বিল সাঁতরে পেরোনোর কথা ওদের। ঐ বিলের পেছন দিক থেকে তীরে উঠে পাঞ্জাবি শিবিরের একেবারে কাছাকাছি চলে যাবে ওরা। এদিক থেকেও যে আক্রমণ হতে পাতে পারে এটা ভাবনায় নেই ওদের। প্রাকৃতিক সুরক্ষা রয়েছে ভেবে প্রায় প্রহরাহীন এদিকটা। মধ্যরাতে কাছাকাছি কোথাও পৌঁছে কিছুটা বিশ্রাম ও শক্তি সঞ্চয় করে নেবে ওরা। তারপর রাত দুটোয় গ্র্যানেড দিয়ে শুরু করবে আক্রমণ। ওদের ছোট্ট একটা দল প্রহরীদের দিকে গুলি ছুঁড়বে চারটে এলএমজি থেকে। ব্রাশ ফায়ার। মাত্র একবার। তারপর ঝাঁকে ঝাঁকে গ্র্যানেড ছুঁড়ে সরে আসবে ওরা। সময় মাত্র দু’মিনিট। অপারেশনের পর পাঞ্জাবি শিবিরের ডান দিক দিয়ে খুব দ্রুত ফিরে আসবে ওদের সবাই। আক্রমণ শেষ হওয়ার পর নিরাপদে ফিরে আসার জন্য একটা কৌশল নেয় ওরা। পাঞ্জাবি শিবিরের সামনের দিক থেকে ওদের ছোট্ট একটা দল অসংখ্য পটকা ফোটাবে। ঘুম থেকে উঠে বাঞ্চোতেরা যেন মনে করে সম্মুখযুদ্ধে আক্রান্ত হয়েছে। এভাবে ওদের ব্যস্ত রেখে কিছুক্ষণ পর মূল দলের সঙ্গে এসে মিলিত হবে ওরা।

উত্তেজনায় বারবার কেঁপে ওঠে ওর শরীর। খুব বেশি দূর এগোয়নি এখনও ওরা। বড় একটা কালো পিঁপড়ে মনে হয় দলটাকে। একটু পরে মনে হয় কালো একটা ছায়া ঝুলে রয়েছে ওর চোখের সামনে। ভেজা মাটিতে অসহায়ভাবে শুয়ে রয়েছে সে এখন। ঘাড় উঁচু করে দেখে ওদের। অপারেশন শেষ করে ওকে নিয়ে ফিরে যাবে ওরা। ওপর্যন্ত টিকে থাকবে কিনা ভাবে সে। গ্র্যানেডের বোঝা ওর পিঠে। সামনে পড়ে রয়েছে ছোট্ট স্টেনগানটা। মনে হয় সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে সে। চিৎ হয়ে শুয়ে মেঘে ভাসা আকাশটা একটু দেখার ইচ্ছে হয়। তা আর হয়ে ওঠে না। অনেকটা সময় অচল হয়ে থাকায় রক্ত চলাচল ধীর হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে পুরো শরীরে। এখান থেকে সরে পড়া দরকার। পুরোপুরি চেতনা হারিয়ে ফেললে এক মহাবিপদ ঘনিয়ে আসবে। শরীর ও মনের সবটুকু শক্তি সঞ্চয় করে সে জীবনের জন্য। হাত ও পায়ে ভর দিয়ে উঠে বসে। হাঁপাতে থাকে একটা জন্তুর মতো। দাঁড়াতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পিছিয়ে আবার বিলের ধারে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবে। স্টেনগানটা ঝুলিয়ে নেয় কাঁধে। গ্র্যানেডের বোঝার সঙ্গে ওটা নিতে যেয়ে বেশ বেগ পেতে হয়। হামাগুড়ি দিয়ে, বসে, আবার কখনো দাঁড়িয়ে দু’এক পা হেঁটে বড় রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছে যায় সে। তারপর খাল পেরিয়ে শুয়ে পড়ে রাস্তার ঢালে। খুব বেশি ঝুঁকির এ কাজটা। মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেরিয়ে এলে জোছনায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে চারদিক। এভাবে শুয়ে থাকলে টহল দলের চোখ এড়াতে পারবে না সে। করুণ চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে রাস্তার দিকে। দু’মানুষ সমান উঁচু ঐ উৎরাইটা মনে হয় বিশাল এক পর্বতের দুর্গম ঢাল। ওটা বেয়ে উপরে ওঠা, তারপর হামাগুড়ি দিয়ে রাস্তা পেরোনো, আবার ওপাশের ঢাল গড়িয়ে নিচে নামার সময় শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখতে পারবে কিনা ভেবে পায় না। নিজের সামর্থ্যরে প্রতি আর কোনো বিশ্বাস নেই। পাঞ্জাবিদের টহল গাড়িগুলো হেড লাইট নিভিয়ে খুব সাবধানে চলাফেরা করে। সামনে কোনো শত্রু রয়েছে মনে হলে হঠাৎ তীব্র আলো ফেলে হকচকিয়ে দেয় ওদের। তারপর শত শত বুলেট ছুঁড়ে ঝাঁঝরা করে ফেলে। এরকম অনেক ঘটনা শুনেছে সে।

নিজেকে টেনে একটা আম গাছের নিচে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়। বিশাল ঐ গাছটার গুড়ির বেড় প্রায় এক হাতি সমান। ভুতুরে ছায়া ফেলে এখন ওটা দাঁড়িয়ে রয়েছে রহস্য ছড়ানো এই জ্যোৎøা রাতের অলৌকিক কুহেলীতে। সময়টা স্বাভাবিক হলে এর নিচে এসে দাঁড়াতে সাহস হত না। অথচ এখন মনে হয় এটাই এক নিশ্চিত নিরাপত্তা!

অনেক দূরে দুটো আলোর বিন্দু এক জোড়া টর্চের মতো দপ করে জ্বলে আবার নিভে যায়। এগিয়ে আসছে টহল গাড়ি। খুব সুবিধের হবে না এখন এখানে লুকিয়ে থাকা। ওদের গতির সঙ্গে নিজের অবস্থান পরিবর্তন করে আড়াল ঠিক রাখতে পারবে না সে। ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। পরিণতি নিয়ে ভাবার কোনো অর্থ হয় না।

খুব তাড়াতাড়ি গাছে উঠে পাতার আড়ালে চলে যাওয়া সম্ভব হলে ঝুঁকি এড়ানো যায় কিছুটা। গাছের একটা শাখা রাস্তার ঢাল বরাবর নেমে মাটি থেকে প্রায় ফুট দশেক উপরে ঝুলে রয়েছে। কোমড়ের বেল্ট খুলে স্টেনগানের সঙ্গে বেঁধে উপরে ছুঁড়ে দেয় সে। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করে ঐ ডালে আটকাতে পারে সে ওটা। দ্রুত উপরে উঠে যায়। মোটা দুটো ডালের খাঁজে নামিয়ে রাখে গ্র্যানেডের বোঝা। এটুকু সাফল্যে আত্মবিশ্বাস ফিরে আসে ওর। শক্তি সঞ্চয় করে বুকের ভেতর।

যে যুদ্ধটা শুরু করেছে ওরা ক’মাস আগে এখন ওটার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ সে। ওখান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সমুদ্রের একটা ঢেউ যেমন দলছুট হতে পারে না। এই যে এখানে একা পড়ে রয়েছে এখন তাতে কিছুই তো থেমে নেই। যুদ্ধ চলছে নিজস্ব নিয়মে। সে থেমে গেলে অন্যজন এসে নিয়ে নেবে ওর অবস্থান। পুরো জাতির যুদ্ধ এটা। ওর সঙ্গী দলটা ঠিক ঠিক সময়ে পাঞ্জাবি শিবিরে আক্রমণ করবে। আর ওরাও ঘুম থেকে উঠে জড়িয়ে পড়বে ঐ যুদ্ধে। দুঃখ হয় এখন যে সাময়িক এই অসুস্থতাটার জন্য ওকে দূরে থাকতে হচ্ছে এটা থেকে। এসব ভাবতে ভাবতে একটা পরিকল্পনা করে সে। টহল গাড়িতে দুটো গ্র্যানেড ছুঁড়ে দেবে। যদিও আত্মঘাতী কিন্তু এটা করা বা না করা প্রায় একই রকম। বরং যুদ্ধটায় অংশ নিতে পারছে ভেবে অনুপ্রেরণা পায়। সুবিধেজনক একটা অবস্থানের জন্য গাছের গুড়ির কাছাকাছি মোটা একটা ডালের দিকে এগিয়ে যায় সে। মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেরিয়ে আসায় আলোর আভাস পাওয়া যায় কিছুটা। গাছটার মূল কাণ্ডের ভেতর বেশ বড় একটা খোড়ল রয়েছে মনে হয়। মোটা একটা ডালের আড়াল নিয়ে গ্র্যানেডের থলেটা ওখানে রেখে বসে থাকে প্রস্তুত হয়ে।

কাছাকাছি এগিয়ে আসে গাড়িটা। একটু পরে বোঝে সে যে তিনটে গাড়ির বহর ওটা। মনে মনে ঠিক করে যে প্রথম গাড়িটায় গ্র্যানেড ছুঁড়বে না। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টায় পর পর দুটো গ্র্যানেড ছুঁড়ে দেবে। শরীর এত দুর্বল যে ঠিকভাবে গ্র্যানেড ছোঁড়া হয়তো সম্ভব হবে না। গাছের নিচ দিয়ে গাড়িগুলো যাওয়ার সময় টুপ করে গাড়ির ভেতর ফেলে দেবে ওদুটো। তারপর যা হওয়ার হবে।

প্রথম গাড়িটা পেরিয়ে যায় ওকে। ঝাঁপসা আলোয় দেখে যে ওটা খালি। দ্বিতীয়টা এখন ঠিক ওর পায়ের নিচে। হাত কাঁপে। বুক ধুকপুক করে ওঠে। নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাঁত দিয়ে গ্র্যানেডের পিন খোলে। হাতের কাঁপুনীতে ওটা ফেটে যায় কিনা ভেবে ভয় পায়। বাঁহাতে ওটার পিন চেপে ধরে ডান হাত দিয়ে আর একটা গ্র্যানেডের পিন খোলে। দ্বিতীয় গাড়িটা এগিয়ে গেছে। তৃতীয় গাড়িটা ঠিক গাছের নিচে। ডান হাতের গ্র্যানেডটা ছুঁড়ে দেয় দ্বিতীয় গাড়িতে। ভেতরে পড়েছে। এক দুই তিন গোনে। বা হাতের গ্র্যানেডটা তৃতীয় গাড়িতে ফেলে সঙ্গে সঙ্গে গাছের আড়াল নেয়।

বিস্ফোরণের শব্দে মনে হয় জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল সে। দ্বিতীয় গ্র্যানেডটা তিন চার সেকেন্ড পরে ফাটার কথা। ওটার কোনো শব্দ শুনতে পায়নি সে। চারদিকে অনবরত গুলি ছুঁড়ে চলেছে পাঞ্জাবি সৈন্যরা। ভাবতে পারেনি ওরা যে গাছের উপর থেকে কেউ গ্র্যানেড ছুঁড়ে দেবে। ভেবেছে যে রাস্তার পাশে ওৎ পেতে থাকা কোনো এম্বুশের ভেতর পড়েছে। গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে সঙ্গে সঙ্গে কল্পিত শত্র“র উদ্দেশ্যে শত শত গুলি ছুঁড়তে থাকে। কোনো প্রতিউত্তর না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে আহত ও নিহতদের সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করে। এরিমধ্যে আরো দু’গাড়ি সৈন্য এসে পৌঁছে ওখানে। যুদ্ধ না করেও এত সৈন্য হতাহত হওয়ায় রাগে ফেটে পড়ে ওরা। সামনে আর না এগিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরে যায় ওদের শিবিরে।

সফল একটা অপারেশনের উত্তেজনায় ওর অসুস্থতা মনে হয় কেটে গেছে অনেকটা। চোখের খুব কাছে ঘড়ি নিয়ে দেখে দুটো বাজার চার মিনিট বাকি। তাহলে আর চার মিনিট পর ওদের পরিকল্পিত আক্রমণটা শুরু হতে যাচ্ছে! হঠাৎ মাথা ঘুরে ওঠে। বমি বমি লাগে। আবার ভয় হয় যে ওদের আক্রমণ শুরু হওয়া পর্যন্ত চেতনা থাকবে কিনা! চোখ বন্ধ করে গাছের খোড়লে শরীর এলিয়ে দেয়।

এভাবে কেটে যায় প্রায় দশ মিনিট। আক্রমণ শুরু হয়নি এখনো! ভাবনায় পড়ে সে। এটা তো হতে পারে না। একেবারে ঘড়ির কাঁটায় কাঁটায় সব শেষ করার কথা। এমন কি হতে পারে যে ওর এই অনির্ধারিত আক্রমণের ফলে পাঞ্জাবি শিবিরের সবাই সজাগ হয়ে পড়েছে। আর ওদের আক্রমণ পরিকল্পনাটা বাতিল করে দিয়েছে গ্র“প কমান্ডার। আরো দশ মিনিট পরও গোলাগুলির কোনো শব্দ না পেয়ে নিশ্চিত হয় যে আক্রমণটা আর হচ্ছে না। শরীর শিথিল করে দেয়। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে অথবা ঘুমিয়ে পড়ে কিছুক্ষণের জন্য।

তীব্র একটা ব্যথার অনুভূতি নিয়ে আংশিক চেতনা ফিরে পায় সে। প্রথমে বুঝতে পারেনি ব্যথার উৎসটা কোথায়। পরে মনে হয় ওর নাকের ভেতর একটা পিঁপড়ে ঢুকেছে। বুঝতে পারে না সে যে বেঁচে আছে কিনা! পিঁপড়েটা মেরে ফেলা এখন প্রথম কাজ। অথচ শরীরের কোনো একটা অংশও নড়াতে পারে না। জোরে শ্বাস ফেলে যে ঝেরে ফেলবে ওটা ঐ শক্তিও নেই এখন!

গুটি গুটি পায়ে আরো এগিয়ে আসে পিঁপড়েটা। প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে নাকের ফুটোয়। হাঁচি আসতে চাইছে একটা প্রবল বেগে। অথচ শক্তিতে কুলোয় না। বুঝতে পারে সে যে হাঁচির সঙ্গে পিঁপড়েটা যেমন বেরিয়ে যাবে তেমনি অবসাদও কেটে যাবে। শরীরের এই নিষ্ক্রিয়তা কোনোভাবে মেনে নিতে পারে না সে। মনে মনে ভাবে, হার মানছে কি সে এই যুদ্ধটায়।

আরো এগিয়ে আসতে থাকে পিঁপড়েটা। একেবারে মস্তিষ্কে যেয়ে পৌঁছোবে যেন মনে হয়। প্রচণ্ড ব্যথায় থরথর করে কাঁপে সে। জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। তীব্র ঐ ব্যথাটা আবার চেতনার জগতে ঠেলে দেয় ওকে। অসহায়ের মতো সহ্য করে ওটা। অদ্ভুত এক সমান্তরাল ভাবনা খেলা করে ওর মাথায়। অর্ধচেতন এই শরীরটাই যেন ওর প্রিয় জন্মভূমি। বিভিন্ন সুরঙ্গ পথে কালো পিঁপড়েরা ঢুকে বারবার অচেতন করে রাখে এটাকে। তীব্র হাঁচিতে পিঁপড়ের দঙ্গল ছুঁড়ে ফেলে সে কখনো কখনো।

আবার হয়তো চেতনা হারাতে বসেছে সে এখন। নাকের ফুটো বেয়ে এক ঝাঁক বড় পিঁপড়ে এগোচ্ছে মস্তিষ্কের দিকে। একটু পর পিঁপড়েগুলোকে আর পিঁপড়ে মনে হয় না। দল বেঁধে এক পাল কালো শুয়োর যেন এগিয়ে আসছে। শরীরের সব স্নায়ূ টানটান হয়ে উঠে তীব্র এক বিবমিষায়।

অতপর হাঁচিটা দেয় সে। প্রচণ্ড ভূমিকম্পে জেগে ওঠে গাঢ় সবুজ একটা দেশ। অসংখ্য জলধারা পায়ে নূপুর বেঁধে নেচে নেচে নেমে যায় কোথাও। অনেক কান্নার সুর এসে মিশে ওখানে। জলকল্লোলের ঐ সুর ও ছন্দটা ধরার চেষ্টা করে সে প্রাণপণে। চোখ মেলে দেখার চেষ্টা করে কোথায় যেয়ে মিশেছে অবিরাম ঐ জলের সুকরুণ ধারাটা। আকাশ থেকে সরে যায় কালো মেঘের ঐ ছায়াটা। দ্রুত ছুটে চলে ধূসর মেঘের তরুণ সৈন্যদল। চাঁদটা আবার ছুটতে শুরু করে নতুন কোনো অজানায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন