রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬

সুজয় চক্রবর্তী'র গল্প : সম্পর্কের কাটাকুটি

সম্পর্ক তৈরি করাই যায়, কিন্তু সেটাকে টিকিয়ে রাখাটাই মস্ত বড়ো চ্যালেঞ্জ। একটু এদিক ওদিক হলেই সব কাটাকুটি। যেমন কালকের ঘটনাটা।

সিনেমাতে দু-একবার এরকম দৃশ্য দেখেছি। সে ছেলেবেলায়, মায়ের কোলে বসে। উৎপল দত্ত টাইপের কোনও এক ভিলেনের কাছে মদখোর, লাথখোর স্বামী তার অবলা স্ত্রীটিকে নিজেই জোর করে ঠেলে দিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর সেই লোকটাকেই দেখা গেল বাংলার ঠেকে আকন্ঠ মদ গিলে তৃপ্তিতে ঠোঁট মুছতে। মদ খাওয়ার পয়সা জোগাড়ের জন্যই 'ঐ' লোকটা এরকম করতো। কিন্তু এক্ষেত্রে যেটা হয়েছে, পয়সার জন্য হয়নি। একটা পুরোনো রাগ, একটা উচিৎ 'শিক্ষা' দেওয়ার জন্যই কালরাতে গৌরদা তার ঘুমন্ত স্ত্রীর শোওয়ার ঘরে একরকম জোর করেই আমাকে ঢুকিয়ে দিয়ে শিকল তুলে দিয়েছিল।


আমি ধীমান। গৌরদার কলিগ। মাল খাওয়ার সঙ্গীও বলতে পারেন। কাল গৌরদা আর আমি রাত বারোটা পর্যন্ত মদ খেয়েছি। চার্ট হিসেবে ছিল ভেজানো ছোলা, চিপ্স আর মুরগির মাংস। মাংস রান্না করেছিল গৌরদার বউ। কালই সকালে গৌরদার বউ এখানে এসেছে। এখানে বলতে গৌরদার কোয়ার্টারে। এর আগেও এসেছে অনেকবার। কিন্তু আমার সাথে দেখা হয়নি। অনেকদিন পর স্বামী-স্ত্রীতে দেখা হবে বলে গৌরদার বউ ভ্রু-টুরু প্লাক করে বেশ সেজে গুজেই এসেছিল। মদ খাচ্ছিলাম যখন, তখন গৌরদা একবার বললো, " শালা মাগী, আবার ভুরু প্লাক করে এইছে। আমারে বশ করবি ! সে গুড়ে বালি।.....দরকার পড়লিই শালীর আমার কথা মনে পড়ে?" কথাটা শুনে আমার ভ্রু কুচকে গিয়েছিল। যেটুকু শুনেছিলাম, তাতে মনে হয়েছিল মহিলা যখন দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করছে, তখন তুমি কেন বাপু গোঁ ধরে বসে থাকবে! তবে স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপার বলে আমি কিছু বলিনি।

মদ গিলেছি বলে বেতাল হয়ে যাবো, তা আমার কোনও কালেই হয়নি। গৌরদা শিকল তুলে দিল। আমি ঘরে ঢুকেই দেখলাম জিরো পাওয়ারের লাল আলোয় খাটের উপর চিৎ হয়ে শুয়ে আছে বৌদি। ঘুমোচ্ছে কিনা তখনও বোঝা যায়নি, কেননা কপালের কাছে ডানহাতটা মেলে রাখাছিল। আমি দাঁড়িয়েই ছিলাম। রাত আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ যখন মাংসের বাটি আর জলের বোতলটা দিয়ে এসেছিল বৌদি, তখনই ওর মুখটা এক ঝলক দেখেছিলাম।

ঘরে যে কেউ ঢুকেছে, তা টের পেয়ে বৌদি বাঁহাত দিয়ে হাতরাতে হাতরাতে বেড সুইচটা অন করলো। তারপর উঠে বসলো।
---- তুমি এ ঘরে? তোমার দাদা এলো না!
---- আমি আসিনি। গৌরদাই আমাকে জোর করে ঠেলে দরজা দিয়ে দিল। বিশ্বাস করুন, আমি কিছুই বুঝতে পারিনি।
---- বিশ্বাস! না বিশ্বাস আমি আর কাউকেই করি না। তবে তোমার দাদাকে যেটুকু চিনি তুমি যা বললে তাতে না হওয়ার কিছু নেই। .... যাক, একটা কথা বলো তো, তোমার দাদা কি তোমার কাছ থেকে পয়সা-টয়সা কিছু নিয়েছে?
---- না, মানে কি ব্যাপারে?
---- এখনও ব্যাপারটা বুঝলে না!

বৌদির কথাটা শোনার পর ব্যাপারটা আমি ভালো করেই বুঝলাম। কিন্তু সত্যি যেটা সেটাই, গৌরদা আমার কাছ থেকে এক পয়সাও নেয়নি। আমি চুপ করে আছি দেখে বৌদিও চুপ করে ছিল।
বেশ কিছুক্ষণ। তারপর প্রসঙ্গ পালটে বললো, "তোমার নামটা?"
---- ধীমান, ধীমান সান্যাল।
---- এর আগে তো তোমাকে....
----- আমি নতুন জয়েন করেছি।
----- কে কে আছে বাড়িতে?
------ মা,বাবা,বোন।
----- আর কেউ নেই? বিয়ে করোনি?
---- না, আগে বোনের বিয়ে দিয়ে তবেই... ।
----- বা:, শুনে ভালো লাগলো। তোমার কর্তব্যজ্ঞান আছে দেখছি। এই কর্তব্যটাই যদি তোমার দাদারও থাকতো, তাহলে আজ.....
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো বৌদি।

ঘরে একটা চেয়ার রাখা ছিল। সেটাতেই বসলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম বৌদি হঠাৎ মুখে কাপড় দিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করলো। কিছু বুঝে উঠতে পারলাম না, কি করবো? নিজেকে খুব দোষী মনে হল। বাইরে থেকে দরজা দেওয়া। পেছতে না পেরে অগত্যা এগিয়ে গেলাম।

----- "কাঁদবেন না বৌদি, আপনার কোনও ক্ষতি আমি করবো না। " আমার কথাতে দেখলাম আশ্বস্ত হল। বেশ কিছুক্ষণ পর কান্না থামিয়ে চোখ মুছলো আঁচলে।
জানি না পাশের ঘর থেকে বৌদির কান্না শুনেছিল কিনা গৌরদা! বা শুনলেও এতটুকু বিচলিত হয়েছিল কিনা। কিন্তু বৌদির কান্না দেখে ভেতরে ভেতরে যে আমিও কাঁদছিলাম, তা টের পাচ্ছিলাম। কষ্টের সংসার ছিল আমাদের। বহু কষ্টে মানুষ হয়েছি। বৌদিকে দেখে মায়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল আমার। পাশের বাড়ির শোভা পিসির ছেলে ছোটন আর ভাত খাবে না। সেই অর্ধেক খাওয়া ভাত চেয়ে নিয়ে এসেছিল মা। আমি আর বোন খেয়েছিলাম। বাটার মেশানো ছিল তাতে। হাত ধোওয়ার পরে বোন আমার নাকের কাছে ওর ডান হাতটা মেলে ধরে বলেছিল, " দেখ দাদা, মাখনের গন্ধ!" আমিও নাক টেনে শুঁকেছিলাম অনেকক্ষণ। আলুসেদ্ধ ভাতই তো খেতাম রোজ। সেদিন একটু অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল।

কাঁদতে কাঁদতেই বৌদি গৌরদাকে ছাড়া এই তিন বছর সমস্ত শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়িতে কিভাবে দিন কাটাচ্ছে, তার কথা বলতে লাগলো। নিজের মা-বাবাও যেন দিনকে দিন কেমন পর হয়ে যাচ্ছে! যেন সব দোষ তারই! আগে মাসে মাসে কিছু টাকা পাঠাতো গৌরদা। সেই টাকা বাবার হাতে তুলে দিত বৌদি। ইদানীং সেসব একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছিল। তার রেশ টের পাচ্ছিল বৌদি। বেশ খারাপ লেগেছিল সেদিন, যখন বাবা বললো," খাওয়া-পরা চালাবো, তারপর আবার রোগবালাই! আমার কি গাছ আছে নাকি, যে ঝাড়া দিলেই পড়ে! " আজ এখানে বৌদির আসাটা খুব জরুরীই ছিল। কেননা গৌরদার ছেলে বুবাই টাইফয়েডে শয্যাশায়ী। প্রায় একমাস হতে চললো। ফোনে বৌদি গৌরদাকে বলেও ছিল সেকথা, গৌরদা তা কানে তোলেনি। ফোন কেটে দিয়েছিল। অগত্যা নিজেই চলে এসেছে।

গৌরদার ছেলে যখন ক্লাশ টুতে, তখন গৌরদার সাথে এক মহিলার সম্পর্ক হয়। সেই মহিলারও স্বামী-সন্তান সবই আছে। সে সম্পর্ক নাকি এখনও জিইয়ে রেখেছে গৌরদা। আমি তাই ভাবি, গ্রামের বাড়িতে গৌরদা কেন যায় না! বউ-বাচ্চার উপরে তো কোনও টানই দেখি না! তার এই পরকীয়া সম্পর্ক শ্বশুর বাড়ির সবাই-ই জানে। জানে সব পাড়া-প্রতিবেশীরাই। যেদিন পাড়ার সমীরের চায়ের দোকানের সামনে গৌরদাকে ফেলে মারলো জগা-ভোম্বলরা, সেদিন রাতেই হাওয়া হয়ে গিয়েছিল গৌরদা। আর বাড়িমুখো হয়নি। গৌরদার বদ্ধ ধারণা হয়ে গিয়েছিল, জগা-ভোম্বলদের লেলিয়ে দিয়েছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরাই। আর এতে নাকি তার বউয়েরও হাত ছিল।
এসব আমাকে গৌরদা বলেনি। বলেছে বৌদি। গতকাল রাতে।

গৌরদা যে বউ-বাচ্চার উপর এতোটা উদাসীন, আগে কখনও বুঝতে পারিনি। আসলে পরিবারের কথা বললেই, গৌরদা একথা সেকথা বলে এড়িয়ে যেত। আমি আর ঘাঁটাতাম না। তবে মাল খেতে খেতে মাঝেমধ্যে যেটুকু বলতো, তাতে শ্বশুরবাড়ির উপর, বৌদির উপর যে তার রাগ ভীষণ বুঝতে পারতাম। কিন্তু তাই বলে মনমরা হয়ে বসে থাকার পাত্র ছিল না গৌরদা। খাওয়া-দাওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদে কোনও কার্পণ্য করতো না। প্রায়ই লেকটাউনে এক 'মাসি'র বাড়ি যেত। সেখানে যাওয়ার সময় এখান থেকেই মাংস কিনে নিয়ে যেত। দেদার খরচা করতো সেখানে, বুঝতাম। এখন বুঝেছি সেখানে তার কোন 'মাসি' থাকতো!

-----এই মনখারাপের সময়েও ভ্রূ প্লাক করতে হয়েছে, বৌদি! বলেই ফেললাম কথাটা। আর রাখতে পারলাম না ভিতরে।

---"তোমার গৌরদা যে শরীর ছাড়া কিছু বোঝে না, ধীমান। আমি নয় পর, ছেলেটা তো তার নিজের!"

অবাক হয়ে গেলাম। একটা জিনিস বুঝতে পারছিলাম, কতোটা দু:খ-কষ্ট, কতোটা অপমান সহ্য করেও একজন নারী সংসারের বাঁধনকে আগলে রাখেন। গৌরদা চলে আসার পর বৌদি ছেলে কোলে চলে এসেছিল বাপের বাড়িতে। কিন্তু তিল তিল করে জিইয়ে রেখেছিল সম্পর্কটা, যদি কোনও দিনও সেটা অন্যখাতে বয়ে যায়। বিয়ের পর মেয়েদের বাপের বাড়ি থাকাটাও যে লজ্জার, অপমানের ;সেটা বৌদি ছাড়া আর কে ভালো জানবে!

" কেমন মেয়েমানুষ, একটা ব্যাটাছেলেকে বশে রাখতে পারে না!" কথাটা অন্য কেউ বলেনি, বলেছিল তারই ছোট পিসি। কথাটা কানে গেলো যখন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বৌদি বার বার নিজেকে দেখেছে। না কোনও খামতি খুঁজে পাইনি। খুব কষ্ট হয়েছিল কথাটা হজম করত। নারীসত্তা বিদ্রোহ করে বসেছিল নিজের সঙ্গেই। ----"আর এক মুহূর্ত এখানে থাকা যায় না। এরাই আমার আপনজন!" কিন্তু ছেলেটার মুখের দিকে তাকিয়ে বাইরে পা রাখতে পারেনি বৌদি।

একটা পুরুষ মানুষকে বশে রাখার জন্য যা যা দরকার, ভগবান বৌদিকে তার সবই দিয়েছেন। দেখার চোখ ছিল না শুধু গৌরদারই। তবে বৌদি স্বীকার করেছে একটা কথা, " আমার ভুলটা কোথায় বলো তো, যখনই বুঝতে পেরেছিলাম, তখনই যদি রাশটা শক্ত করে বাঁধতে পারতাম, তাহলে হয়তো ও আর আমার ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যেত না। ....আসলে ওকে
আমি বিশ্বাস করেছিলাম, সেটাই আমার মস্ত বড়ো ভুল।

বৌদির নি:সঙ্গ জীবনের সঙ্গে কখন যে একটু একটু করে নিজেকে জড়িয়ে ফেলছিলাম, বুঝতে পারিনি। ওর প্রতি ক্রমশ দুর্বল হয়ে উঠছিলাম আমি। ওর প্রতিটি কথাই আমার সহানুভূতি আদায় করে নিচ্ছিল। কিভাবে একটা মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে নিজের সাথে, নিকটজনের সাথে, সমাজের সাথে, সম্পূর্ণ একা! তার পাশে কেউ নেই। শ্রদ্ধা জন্মাচ্ছিল। তারপর 'আপনি' থেকে 'তুমি' তে যেতে সময় লাগেনি। আপত্তি করেনি বৌদি। তাছাড়া এই অসহায় মানুষটিকে এড়িয়ে যেতে গেলে যে পাথর-কঠিন হৃদয় লাগে, সেটা আমার ছিল না। পারিনি। কখন যে ওকে ভালোবেসে ফেলেছি, নিজেও জানি না। অজান্তেই ওর হাতদুটো ধরে ফেলেছিলাম। তারপর....বালিশে দুটো মাথা এক হতে সম্মতি ছিল দুজনেরই।

রাতের অন্ধকারের বুক চিরে ভোরের আলো ফুটেছে। বৌদির কষ্টের পাঁচালি আমার অভিজ্ঞতার ঝুলি ভরিয়েছে। আমিও গালে হাত দিয়েছি। আমারও কি কোনও কিছুই করার নেই!

মাথা নিচু করে বসেছিল বৌদি। হয়তো লজ্জায়। ওকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি আমি? টাকা দিয়ে? কিন্তু যা ঘটে গেল, তারপরেও কি টাকা দেওয়া যায়? কি ভাববে ও? আমিও কি 'ঐ দলের'? সাহস হল না। ওকে না জানিয়েই বালিশের নিচে হাজার টাকার একটা নোট লুকিয়ে রেখে দিলাম। বৌদিকে বলার ছিল অনেক। কিন্তু সবই তো তার কাছে সান্ত্বনা মনে হবে! দেখি ওর জন্য কি করতে পারি। যোগাযোগটা তো থাকুক।

-----এই ফোন নম্বরটা রাখো। যদি দরকার পড়ে...।
টুকরো কাগজটা ওর দিকে বাড়িয়ে দিলাম। ও হাত বাড়িয়ে নিলও। দরজার দিকে চোখ যেতেই দেখলাম সেটা ভেজানো! তাহলে কি গৌরদাই মাঝরাতে উঠে খুলে দিয়েছ! ইস্ গৌরদা কি কিছু দেখে ফেলেছে! ফেলুক, এতে কি আমিই দায়ী শুধু? গৌরদার ইচ্ছেতেই তো হয়েছে সব। যদি কিছু বলে, আমিও শুনিয়ে দেবো দু'কথা।

দরজা খুলে বেরিয়ে আসতে যাবো। ডাক দিলো বৌদি।
---- একটা কথা ধীমান, বেশ কিছুদিন ধরে কোনও পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। ছেলেটাকে নিয়ে কোথায় যাবো, কি করবো, কিভাবে বাঁচবো! তোমার দাদা আমাকে সেই পথটা দেখিয়ে দিল।....জানো তো ঐ জন্যই ওকে আমি এতো ভালোবাসি!"

কথাগুলো যেন তীরের ফলার মতো বিধঁলো। কি বলতে চায়ছে বৌদি? স্তব্ধ হয়ে গেলাম। শেষ পর্যন্ত কি বৌদিও.....। না, এটা হোক আমি চাই না। কোনও মতেই না। কিন্তু আমি যেটা চাই, সেটা হতে গেলে তো.....
বলেই ফেললাম, "তুমি কি আমার জন্য একটা বছর ওয়েট করতে পারো?"
---- কী বলছো ধীমান! আমার জন্য তুমি...।
---- ঠিকই বলছি, বোনের বিয়ে ঠিক হয়েই আছে, তারপর আর অসুবিধা হবে না।
------ তোমার মা-বাবা, আত্মীয়-স্বজন মেনে নেবেন?
----- আমি এমন কোনও কাজ এখনও করিনি, যাতে মা'বাবার সায় নেই। তারা আমাকে ভরসা করেন।
----- তুমি আমাকে ভালোবাসো ধীমান? সত্যি করে বলো?
----- যদি বিশ্বাস না হয়, এখনই আমার সাথে বেরিয়ে যেতে পারো।

আর কিছু বলার লাগলো না। কিছুক্ষণ আমার দিকেই তাকিয়ে থাকলো বৌদি। তারপর মাথাটা নিচু করে ফেললো।
----- তোমার সঙ্গে আমার আগে দেখা হয়নি কেন!
------ এখন তো হয়েছে, হয়তো এটাই ছিল নিয়তি।
----- জানি না।.... তুমি কি সব ভেবে বলছো ধীমান? আমার বুবাই....
------ তুমি আমি বুবাই--- আমরা একসাথেই থাকবো। একটা বছর ওয়েট করো। আমি একটু গুছিয়ে নিই।
----- ঠিক আছে, আমি অপেক্ষা করবো।
----- একটা কথা...
----- বলো।
----- ঐ লোকটার সাথে আর যোগাযোগ রাখার কি দরকার আছে?
----- যদি তুমি বলো, না নেই।
----- ফোন ক'রো। বুবাই কেমন থাকে জানিও। আর এখন থেকে এটা মনে রেখো, তুমি একলা নও।

বেরিয়ে এলাম। দেখলাম গৌরদা পাশের ঘরে তখনও ঘুমিয়ে আছে। ঘুমন্ত মানুষকে দেখলে মায়া হয়। আমার হল না। বরং ঘেন্না হল। একদলা থুতু ছিটিয়ে চলে এলাম।

একটু আগেই ফোন করেছিল বৌদি।
----- ওয়েট করতে পারলাম না ধীমান, সরি। সম্পর্কটা শুরু হয়েও এগোলো না, কেন জানো? তোমার লুকিয়ে ফেলে রাখা একটা হাজার টাকার নোট।

ফোনটা কেটে দিল বৌদি। ল্যান্ড নাম্বার। নিশ্চিত বুথ থেকে করেছিল। কেন যে ওর কোনও নাম্বার নিয়ে রাখিনি আমি! আমারও যে ওকে কিছু বলার ছিল।




লেখক পরিচিতি
সুজয় চক্রবর্তী
জন্ম:১৯৮০, বনগাঁ মহকুমার প্রতাপগড়ে, মামার বাড়িতে।
বর্তমান আবাস:দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর।
পেশা:শিক্ষকতা
মূলত গল্পকার।তবে অণুগল্পে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন।
প্রকাশিত গ্রন্থ: দুই দুগ্ ণে এক (যৌথ অণুগল্প গ্রন্থ।
ইমেল:sujoy783@gmail.com
সম্পাদনা :"পারক" নামে একটি গল্পের পত্রিকা (১২বছর)।

৬টি মন্তব্য:

  1. সুজয়,
    তোর অনুগল্পের দক্ষতার আঁচ আমি সবসময় অনুভব করি। ইদানিং তোর বড় গল্পও পড়ছি। ভালোও লাগছে। তোর ভাষা একটা নির্দিষ্ট গতি পেয়েছে। এ গল্পে তার আরও একবার প্রমাণ পেলাম।

    উত্তরমুছুন
  2. সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল...তোমাকে ব্যক্তিগত ভাবে জানি বলেই বলছি-- মন থেকে অন্য সব বিষয় দূরে সরিয়ে রাখ গল্পকার বন্ধু, এই লেখাই হোক তোমার জীবনের পথ চলা...ভালো থেকো।

    উত্তরমুছুন