রবিবার, ২৯ মে, ২০১৬

গল্পপাঠ ।। জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা।। ১৪২৩ বঙ্গাব্দ।। মে।। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ।। সংখ্যা ৪২

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অনুসরণ, অনুকরণ, নকল প্রবণতা ব্যাধির মতো ছড়িয়ে গেছে। কোনওরকম উদ্ধৃতি ছাড়া অন্যের গল্প নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ, অন্যের গল্পের আখ্যান অনুকরণ করে গল্প লিখে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া ইত্যাদি হরহামেশাই ঘটছে। তবে শিল্প-সাহিত্যে অনুসরণ কিংবা অনুকরণ দোষের কিছু নয়। যথাযথ উদ্ধৃতি সহকারে অন্যের অনুকরণে অনেক মৌলিক সাহিত্যের সৃষ্টি হয়েছে আর নামের অনুকরণ তো দোষের পর্যায়ে পড়ে না, যদিও একই নামের গল্প নিয়ে অনেককেই উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায়। গল্পপাঠের এ সংখ্যায় বিখ্যাত লেখকদের একই নামের গল্প নিয়ে বেশ কিছু গল্প প্রকাশ করা হলো, যা পড়ে বোঝা যাবে গল্পের নাম এক হলেও এর আখ্যান কীভাবে ভিন্নতা পেয়েছে।
মোমিনুল আজমের পরিকল্পনায় এই আয়োজনটি করা হয়েছে। এ ছাড়া এই সংখ্যায় জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা, হুমায়ূন কবীর, সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত বিশেষভাবে প্রদায়ন করেছেন। প্রচ্ছদের ছবিটি তুলেছেন মৌসুমী কাদের
গল্পের নাম | | ক্ষুধিত পাষাণ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিলেত যাওয়ার আগে তাঁর মেঝদাদার কর্মস্থল আহমেদাবাদ গিয়েছিলেন। তাঁর বড় ভাই জজিয়তি করতেন, থাকতেন শাহিবাগে, বাদশাহী আমলের রাজবাড়িতে। তাঁর মেঝদাদা অফিসে চলে যাওয়ার পর সমস্ত দিন ভূতে-পাওয়ার-মতো ঘুরে বেড়াতেন তিনি। এখানেই তাঁর মনের মধ্যে প্রথম আভাস দিয়েছিল ক্ষুধিত পাষাণের গল্প। পরে তিনি লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত গল্প এই গল্পটি। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ক্ষুধিত পাষাণের কল্পনা কল্পলোক থেকে আমদানি’। এদিকে প্রখ্যাত লেখক বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়ও একই শিরোনামে একটি গল্প লিখেছেন যার আখ্যান গড়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের ক্ষুধিত পাষাণের কল্প কাহিনীকে নিয়ে। এ-গল্পের শেষের অংশটুকু চমকপ্রদ। রবীন্দ্রনাথের ক্ষুধিত পাষাণ গল্পকে ব্রান্ডিং করে ব্যবসা করার আইডিয়াটা মন্দ নয়।

গল্পের নাম | রস

নরেন্দ্রনাথ মিত্রের 'রস' গল্পটি মোতালেফ-এর জীবিকা খেজুর গাছের রস সংগ্রহ আর তার জীবনের রসে ভরপুর। কাহিনী বর্ণনার রসে টইটুম্বুর একটি গল্প। শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'রস' গল্পে মরিসাসের বিদেশিবাবু প্রস্টেনজি গ্রাম বাংলা থেকে খেজুররস সংগ্রহ করে নিয়ে যায় কলকাতার তাড়িখানায়। গল্পে আখ্যানের চেয়ে গ্রাম-বাংলার বর্ণনা মুখ্য আর জীবন্ত হয়ে উঠেছে। নরেন্দ্রনাথ মিত্রের রস গল্পটি বাংলা সাহিত্যের সেরা গল্পগুলির একটি আর শ্যামলের রস গল্প তাঁর শ্রেষ্ট গল্পগুলির মধ্যে অন্যতম।
গল্পের নাম - ইঁদুর
বুদ্ধদেব গুহের ইঁদুর গল্পটি একটি পরিবারকে ব্যবচ্ছেদ করেছে একটু একটু করে। পরিবারটির অগ্রজ, যিনি কারও পিতা কারও শ্বশুর, কারও পিতামহ- এটা তাঁর গল্প ৷তাঁর বেদনার কথা তিনি একটু একটু করে উন্মোচন করেছেন৷ মানুষের স্বার্থপরতা, ঈর্ষা নিয়ে নিরন্তর অসুখী হয়ে থাকা, পরস্পরকে দংশন...এই গল্প যেন অসংখ্য ইঁদুরেরই গল্প৷ আর সোমেন চন্দের গল্পে ছেঁড়া কাঁথায় পট্টি লাগানোর মতো আমাদের ছিন্নভিন্ন নিম্নমধ্যবিত্ত জীবনের তিক্ততা ও স্থুলতা, ফুটে ওঠেছে । জীবনের সুক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গি, গল্পের কাঠামো নির্মাণ, নির্মাণ শৈলী, ঘরোয়া ও সামাজিক চরিত্র সৃষ্টি এবং গল্পের মুন্সিয়ানা নিয়ে এই দুই গল্প নিঃসন্দেহে বাংলা গল্পের সম্ভারে অনন্য সংযোজন।
গল্পের নাম- চোখ গেল

বনফুল 'চোখ গেল' নামে একটা অনুগল্প লিখেছিলেন । ছোট্ট একটি গল্পের ভালোবাসার আবেদন এতো বেশি যে তা পড়ার পর অনেকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকতে হয়। একই নামে সুবোধ ঘোষেরও একটি গল্প আছে। আধুনিক নরনারীর প্রেম ভালোবাসার কথা বর্ণিত হয়েছে গল্পটিতে। গল্পে অপরাজিতা নামের নায়িকা বিচার বিশ্লেষণ করে তার দুজন পাণিপ্রার্থীর মধ্যে পাথরের চোখ লাগানো অন্ধ একজনকে বিয়ে করেন তার কথার যাদুতে মুগ্ধ হয়ে। জীবন যে শুধু আবেগ দিয়ে চলে না তা সে বুঝতে পারে অল্প দিনেই। গল্পের শেষের রূপকটি পাঠককে জীবনের নতুন একটি উপলব্ধির কথা বলে।

গল্পের নাম - জননী
কলমের ডগায় একজন প্রকৃত জননীর কথা তুলে ধরেছেন বিমল কর, হাসান আজিজুল হক একজন অন্যরকম জননীর কথা বলেছেন আর দেবেশ রায়ের ক্লাসিক গল্পটিতে আছে জননী, জন্মভূমির কথা। তিনরকম জননীর তিনটি গল্প পডুন একসাথে।

গল্পের নাম ইজ্জত

মিলিটারির ছোবল থেকে ইজ্জত বাজাতে আগুনে ঝাঁপ দিয়েছিল হালিমন। প্রাণে বেঁচে যাওয়া হালিমন তারপরেও তার ইজ্জত রক্ষা করেছে সমাজের হায়েনাদের কাছ থেকে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে বানের পানিতে ভাসতে থাকা হালিমন ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বাজারে ঘর নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রিজিয়া রহমানের একটি অসাধারণ গল্প- ইজ্জত। এদিকে- সেলিনা হোসেনের গল্পটি রূপকধর্মী। দু:শ্চরিতা নারীর অপবাদ নিয়ে স্বামীর হাতে নিহত গলাকাটা মালেকা তার মৃত্যুর পর গ্রামের প্রতিটি বাড়ি ঘুরে তাদের ইজ্জত বা বংশ মর্যাদার অনুসন্ধান করে। মিথ্যা অহংকারের ওপর দাঁড়ানো ভঙ্গুর সমাজ ব্যবস্থার একটা চিত্র আছে গল্পটিতে।


কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি প্রবন্ধ

১. জ্যাক দেরিদার নেতি এবং ইতি
২. ‘শেষের রাত্রি’ এবং রবীন্দ্রনাথের ভিন্নতর নারীভাবনা
শুরুতে ছিলেন ছিঁচকে চোর, পরে ড্রাগ পাচারকারী, সমকামীদের বন্ধু। দেশে দেশে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। বন্দি থেকেছেন জেল থেকে জেলে। এক সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই মানুষটির নাম জাঁ জেনে। জেলে থেকেই লিখেছেন অসাধারণ একটি বই- দ্য থিভ'স জার্নাল, যে-বইটি পড়ে জাঁ পল সার্ত্র লিখবেন - সেইন্ট জেনে। এক সময় মুক্তি মিলে জাঁ জেনে'র। লেখেন পাঁচটি উপন্যাস, কয়েকটি নাটক। বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ এই মানুষটিকে নিয়ে এই গদ্য- 
বিপাশা চক্রবর্তী
অমর মিত্রের আয়োজন


সাদিক হোসেনের দিকে ফিরুন
এই সময়ের একজন অসামান্য কথাশিল্পী- সাদিক হোসেন। তিনি লিখতে এসেছেন ব্যাপক পাঠ-অভিজ্ঞতা নিয়ে, জীবনকে নানান দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে, লেখার শৈলীটাকে জেনে, বুঝে। এখানেই তাঁর সঙ্গে অন্য লেখকদের সঙ্গে পার্থক্য। লেখার ক্ষেত্রে নিজের একটি ধরন আবিষ্কার করে নিয়েছেন বলেই তিনি সবার থেকে আলাদা।  
সাদিক হোসেনের সঙ্গে গল্পপাঠের পরিচয় করিয়ে দেন কথাসাহিত্যিক অমর মিত্র। সেই পরিচয়-সূত্রে ২০১৫ সালের ১৬ জুন তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন কুলদা রায়। দীর্ঘ দু'ঘণ্টার আলাপে সাদিকের নিজের লেখালেখি, তার পূর্বসূরি লেখক কমলকুমার মজুমদার, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ, অমর মিত্র, স্বপ্নময় চক্রবর্তী, শহীদুল জহিরের লেখালেখি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। 
নিজের সময়ের লেখক বিনোদ ঘোষাল, শামিম আহমেদের লেখার শক্তি ও দুর্বলতার জায়গাগুলোও চিহ্নিত করেন, কথা বলেন বিশ্বসাহিত্যের নানা বিষয় নিয়ে। এর মধ্যে সাদিক হোসেনের প্রিয় শৈলী ম্যাজিক রিয়েলিজম নিয়ে জানান তার কাজ কর্মের হালচিত্র। এমন কি দুই বাংলার ভাষা নিয়ে যে-কূটতর্ক আছে সে বিষয়েও নিজের তৃতীয় মতটি অকপটে বলতে কুণ্ঠিত নন তিনি।
সে অর্থে এই ফোনালাপকে ঠিক সাক্ষাৎকার বলা যায় না। এটাকে এক ধরনের বৈঠকী আলাপচারিতা বলা যেতে পারে।
এই আলাপচারিতাটি অক্ষর-রূপান্তরে সহযোগিতা করেছেন এমদাদ রহমান এবং সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত।
১. কথাসাহিত্যিক সাদিক হোসেনের সঙ্গে আলাপচারিতা
আমার ইদানীংকালে মনে হচ্ছে একজন লেখককে খুব জোরালোভাবে কিছু কথা বলতে হবে।

ইমতিয়ার শামীমের আয়োজন
এ সময়ের শক্তিশালী কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীমের একটি গল্প প্রকাশিত হল। সঙ্গে বাংলাদেশের ভাষা বিতর্ক নিয়ে লেখা প্রবন্ধটিও প্রকাশিত হল। মান ভাষা, কোলকাতার ভাষা, বাংলাদেশের ভাষা ইত্যাদি নামের নানাবিধ বিতর্ক দেশে কোনো কোনো গোষ্ঠী উস্কে দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি তাঁর দীর্ঘপ্রবন্ধে দেখিয়েছেন বাংলাদেশে ভাষাকে সাম্প্রদায়িকতা করণের যে-আওয়াজ চলছে তার পেছনে পাকিস্তানী জমানার সাম্প্রদায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চলছে। 
মাহবুব লীলেনের প্রিয় বিষয় ভারতীয় পুরান। নিজে গল্প লেখেন উপহাসের ভঙ্গীতে। ভাষা সরস--কিন্তু নিষ্ঠুর। যে কোনো পরিচিত আখ্যানকেই নিমিষে অপরিচিত ও ভয়ঙ্কর করতে তুলতে সক্ষম মাহবুব লীলেন।
এ গল্পটির আখ্যান যাত্রাপালার এক প্রিন্সেসকে নিয়ে। ঠিক প্রিন্সেসকে নিয়ে  নয়--কয়েকজন আমোদপ্রিয় খুনীকে নিয়ে গল্পটি। পড়ুন--


ইকবাল হাসান লিখেছেন প্রিন্সেসকে নিয়ে নয়--সেক্স ওয়ার্কার হতে যাওয়া এক মেয়েকে নিয়ে। 




অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় | অবকাশ

আকাঙ্ক্ষিত একটি সূর্যাস্ত দেখতে চেয়েছিল মানুষ কিংবা হাতে তুলে নিতে চেয়েছিল একটি ফুল, তার যে ছিল শত শত পাপড়ি... একটু অবসর- মুখটি দেখবার। রেখাগুলি দেখে নেবার। সেই যে শঙ্খ লিখেছিলেন- 'বৃষ্টিপ্রতিহত ফুল হাতে নিতে নেই, হাতে নিলে বালকবয়স ঝরে পড়ে।' কিন্তু না। হয়নি কিছুই। না ফুলকে ছোঁয়া না সূর্যাস্ত দেখা... অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায় তার এই লেখায় আমাদের ক্রমশ গ্রেগর সামসা হয়ে ওঠা-কে বিদ্রুপ করেছেন। নিজেকে নিয়ে একা হতে বলেছেন। বলেছেন ভিন্ন ভঙ্গিতে। তাঁর লেখার প্রতিটি শব্দের ভেতর থেকে এই সময়ের এক কিম্ভূত চেহারা যেন আরও একবার দেখা গেল!


এই শতকের শুরুর দিকে উরুগুয়ের নামকরা দৈনিক El País ভোটিং পল খুলে দেশটির লেখক ও সমালোচকদের কাছে জানতে চায়, লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস কোনটি? দৃশ্যত ব্যবধানে প্রধান উপন্যাস হিসেবে উঠে আসে মেক্সিকোর হুয়ান রুলফো(১৯-১৭-১৯৮৬)-এর ‘পেদ্রো পারামো’র নাম। এই ক্ষিণকায় উপন্যাসটিকে হোর্হে লুই বোর্হেস (১৮৯৯-১৯৮৬) বলেছিলেন এটি লাতিন আমেরিকা তো বটেই গোটা বিশ্বেরই উল্লেখযোগ্য গুটিকতক ভালো কাজের একটি। গাব্রিয়েল গারসিয়া মার্কেস (১৯২৭-২০১৪) বলেছিলেন, এই উপন্যাস না পড়া হলে তিনি হয়ত তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস- 'নিঃসঙ্গতার একশো বছর' লিখতে পারতেন না। গুরু বলে মেনে নিয়েছেন আরেক লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্যিক কার্লোস ফুয়েন্তেস(১৯২৮-২০১২)-ও।
ভূমিকা ও অনুবাদ: মোজাফ্ফর হোসেন

শামসুজ্জামান হীরার আয়োজন

অনুবাদ গল্প

মূল: ন্গুগি ওয়া থিয়োঙ্গ’ও
অনুবাদ: শামসুজ্জামান হীরা


গল্পটি একটি মৃত্যুর। নিম্নবিত্ত পরিবারের একমাত্র ছেলেটি গাড়ির নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে। রুমা মোদকে'র গল্পটি আমাদের এই তথ্যটি প্রথমেই দেয়, তারপর মৃত্যু পরবর্তী ঘটনাগুলোকে ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি মুখে বলতে থাকেন তিনি, যেখানে পাঠকের মনে হবে আলাদা আলাদা গল্প পড়ছেন তারা। কিন্তু চূড়ান্ত পর্বে আলাদা আলাদা গল্পগুলো একটি গল্পে পরিণত হয়ে যায়। নানা ভিউ পয়েন্ট থেকে গল্পকে দেখানোর এই কৌশলটাই সাধারণ একটি আখ্যানকে অনন্য করেছে।  

রুমা মোদকের গল্প  | গল্পটি মামুলি স্পিডব্রেকারের


অনুবাদ : শরিফুল ইসলাম 
কেইট শোপেন'র লেখায় নারী অগ্রগণ্য ভূমিকা নিয়েছে। এই গল্পেও দেখা যায় সংসারে মুখ গুঁজে থাকা মাঝবয়েসী এক মায়ের হঠাৎই নারী হয়ে ওঠা, কিছুক্ষণের জন্য সব ভুলে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প 'এ পেয়ার অফ সিল্ক স্টকিংস'।

চারুলতা হকের প্রবন্ধ


মেটামরফোসিস | ফ্রাঞ্জ কাফ্কা  |  অনুবাদ : কবীর চৌধুরী--পিডিএফ

‘নদীর তৃতীয় কূল’ জায়ও গিমারিস রোসার ইংরেজিতে ‘দ্য থার্ড ব্যাঙ্ক অফ দ্য রিভার’ গল্পের অনুবাদ। পর্তুগীজ ভাষা থেকে গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন উইলিয়াম এল গ্রসম্যান । গল্পটি রবার্তো গঞ্জালেস একিভেরিয়ার সম্পাদিত ‘দ্য অক্সফোর্ড বুক অফ ল্যাটিন আমেরিকা’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে । গল্পটিতে বাবার প্রতি ছেলের ভালোবাসা এবং একজন নিরীহ পিতার মানসিক পরিস্থিতির বিয়োগান্তক পরিণতির করুণ কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে ।
জায়ও গিমারিস রোসা
অনুবাদ : ফজল হাসান




বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্যের গদ্য সুষমামণ্ডিত। তার আখ্যান মর্ম ছোঁয়া। 

তাঁর  এই গল্প দুই পিতাকে নিয়ে । একজন অঙ্কের শিক্ষক, আরেকজন প্রাক্তন নকশাল । সময়ের ঢেউয়ের সঙ্গে চলতে চলতে বদলে গিয়েছে তারা । সেই বদলের ছিটে লেগে রয়েছে মাংসহীন গাল এবং পায়ের খড়ি উঠে যাওয়া চামড়ার ডিমে । সবকিছুর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একটি বেলগাছ । সে এখনও নুইয়ে পড়েনি । গল্পের বেলগাছটির দুই পিতা ভিন্নরকম প্রক্রিয়ায় যেন মিশে যেতে থাকেন অতি ধীরে।

একটা প্লাটফর্ম। সেখানে টুকরো কিছু দৃশ্য। দৃশ্যের মাঝে লুকিয়ে থাকে গল্প। স্পষ্ট কিংবা অস্পষ্ট; তবু গল্প। পড়ুন 

একটা নদী আছে কোথাও, দেখা যায় না, তবে আছে। সেই নদীর ধারে, সন্ধ্যার পরে অদ্ভুত এক হাট বসে। সেখানে দুঃখের বেচাকেনা হয়। ঐ নদী যেদিন কেউ দেখতে পায়, সেদিন লেখালেখিতে মগ্ন হওয়া ব্যতীত কোনও উপায় বুঝি আর থাকে না! ... গড়পড়তা কিংবা খুব সাধারণ আর দশটা নারীর মতোই ছিল মায়ার গল্প। অবশ্যম্ভাবী সে নদীটা এসে জল ছিটালো নিটোল জীবনে। কি জানি, হয়তো আদৌ নিটোল ছিল না! ......... পড়ুন দুই প্রতিবেশী দেশের দুই নারীর গল্প; ক্রিকেট, রাজনীতির ছায়ায় আটকে যাওয়া জীবনের গল্প! পড়ুন ইন্দ্রাণী দত্তের অদেখা সে নদীতে পৌঁছানোর গল্প~ 


ইন্দ্রাণী দত্ত




হামীম কামরুল হক



দীপেন ভট্টাচার্য'এর ধারাবাহিক উপন্যাস--  

অদিতার আঁধার | দ্বিতীয় পর্ব









কল্লোল লাহিড়ীর  ধারাবাহিক উপন্যাস
মন্টু অমিতাভ সরকার--পর্ব ২
মর্গের টেবিলে মন্টুর উদোম হওয়া দেহের থেকে রাশীকৃত বুলেট বার করতে গিয়ে ডোমটা দেখেছিল তার ভুরুর পাশে কাটা দাগ। তার ঠোঁটের নিচে একটা ছোট্ট তিল। তার নাভির অসামঞ্জস্যতা। তারও নিচে তাকাতে গিয়ে ডোমটার হিসি পেয়েছিল। আর মন্টু শুয়েছিল পাশ ফিরে। তার শীত করছিলো। নিরাভরণ শরীর থেকে প্রাণের যাবতীয় উষ্ণতা চলে যাবার পর নিজেকে তার কেমন যেন ফ্যাকাশে মনে হচ্ছিলো। হালকা লাগছিলো মাথা। ওপড়ানো খুলিটার ভেতর দিয়ে হাওয়া ঢুকছিলো।

প্রিয় লেখা
সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত আবৃত্তি শিল্পী, অভিনেত্রী এবং গল্পকার। গল্পপাঠে নিয়মিত লেখেন। প্রদায়ক হিসেবে কাজ করেন। ঘুরেছেন বেশ কিছু দেশ। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ সম্পর্কে তাঁর বিপুল আগ্রহ।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর প্রিয় লেখক, প্রিয় মানুষ।প্রিয় রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে বাংলাদেশের মানুষজন কী ভাবেন তা নিয়ে কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার একটি লেখা লিখেছিলেন। লেখাটি সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত গল্পপাঠে দিয়েছেন।
সঙ্গে পড়ুন--
সুদেষ্ণা দাশগুপ্তর অনুগল্প : মাধবীলতা



বই নিয়ে আলাপ
বিকল্প যৌনতার প্রত্যন্ত মহল্লার সযত্ন ছবি : হলদে গোলাপ
সুদীপ বসু

গল্পপাঠ
কথাসাহিত্যের অন্তর্সূত্র
জ্যৈষ্ঠ ১৪২৩ বঙ্গাব্দ। মে ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ। সংখ্যা ৪২।
সম্পাদক : 
এমদাদ রহমান | মোমিনুল আজম | কুলদা রায় 
প্রকাশক  | মৌসুমী কাদের

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন