সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

আর্জেন্টিনার গল্প : ছাড়পত্র

মূলঃ লুইজা ভেলেনজুয়েলা

অনুবাদঃ ফজল হাসান


বেচারা জুয়ান । সেদিন সে পাহারাদারের হাতে ধরা পড়েছে । ঘূর্ণাক্ষরেও সে বুঝতে পারেনি যে, একসময় তার কাছে যা সৌভাগ্য বলে মনে হয়েছিল, আসলে তা ছিল ভাগ্যের নির্মম পরিহাস । কারোর জীবনে এধরনের ঘটনা শুধু অসতর্ক মুহূর্তে ঘটতে পারে এবং একজনের জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছে। এখানে তার কথাই বলা হচ্ছে ।


জুয়ানচিতোর দিনকাল বেশ আনন্দেই কেটে যাচ্ছিল । কিন্তু সে যখন গোপন সূত্রে মারিয়ানার প্যারিসের ঠিকানা পেয়েছে, তখন থেকেই একটা পীড়াদায়ক অনুভূতি তাকে সম্পূর্ণ অভিভূত করে তোলে এবং তার জীবনে ছন্দপতন ডেকে আনে । তার বিশ্বাস, মারিয়ানা এখনও তাকে ভুলে যায়নি । ঠান্ডা মাথায় দ্বিতীয়বার চিন্তা করার ফুরসুৎ না দিয়ে সে তার ডেস্কের সামনে বসে এবং একটা চিঠি লেখে – বিশেষ চিঠি । পরবর্তীতে সেই চিঠি তাকে দিনের বেলা কাজে অমনোযোগী করে তোলে এবং রাতের বেলা নিদ্রা হরণ করে । (সে মারিয়ানার কাছে পাঠানো সেই চিঠিতে কি লিখেছিল ? সেই চিঠিতে গোপনীয় বা স্পর্শকাতর কোনো কিছু কি লেখা ছিল ?)

জুয়ান জানতো, চিঠি নিয়ে হয়তো কোনো ঝামেলা হবে না । তার মতে, লেখা ছিল নিখুঁত এবং কোনো ক্ষতিকর বিষয় ছিল না, এমনকি কোনোধরনের হুমকিরও চিহ্ন ছিল না । কিন্তু বাদবাকি ? সে জানে, কর্তৃপক্ষ তার চিঠি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে, ঘ্রাণ শুঁকবে, হাতের স্পর্শে বোঝার চেষ্টা করবে, প্রতিটি বাক্য মনোযোগ দিয়ে পড়বে, যতিচিহ্ন দেখবে, এমনকি কোনো দাগ বা চিহ্ন থাকলে সে-টাও যাচাই করবে । তার আরো জানা আছে, ছাড়পত্রের মাধ্যমে চিঠিপত্র এক হাত থেকে অন্য হাতে চালাচালি হবে এবং মাত্র গুটিকয়েক চিঠি সেই জটিল প্রক্রিয়ায় পাশ করবে । তারপর ছাড়পত্র পাওয়া সেসব চিঠি পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে । প্রেরকের কাছ থেকে প্রাপকের কাছে চিঠি পৌঁছুতে সাধারণতঃ কয়েক মাস সময় লাগে । তবে জটিলতা দেখা দিলে অনেক সময় বছরও লেগে যায় । আবার প্রেরক অথবা প্রাপক সম্পর্কে কোনোধরনের সন্দেহ দেখা দিলে আরো দীর্ঘ সময় লাগে । এ কারণেই জুয়ানের মন এত বেশি ভারাক্রান্ত । সে ভাবে, তার ভুলের জন্য প্যারিসে হয়তো মারিয়ানার কোনো অঘটন ঘটতে পারে । সে আশা করে, মারিয়ানা এবং অন্য সবাই যেন নিরাপদে এবং নির্ভার থাকে । তার স্বপ্ন ছিল একদিন সে সেই শহরে বসবাস করবে । কিন্তু সে জানে, সেন্সরশীপ অফিসের গোয়েন্দারা সারা পৃথিবীতে গোয়েন্দাগিরির জাল বিস্তার করে রেখেছে এবং দেশ-বিদেশে ওড়াওড়ির জন্য তাদের সস্তায় বিমানের টিকেট দেওয়া হয় । সুতরাং প্যারিসের অলিতে-গলিতে গিয়ে মারিয়ানাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা কোনো বিষয়ই না ।

অতএব গোয়েন্দাদের টেক্কা দিতে হবে এবং অন্য লোকজন যা করে, জুয়ানকেও তাই করতে হবে । গোয়েন্দাগিরির পদ্ধতিকে ধূলিসাৎ করতে এবং সমস্যাকে বাঁধা দিতে হলে অবশ্যই তাকে আসল পথ খুঁজে বের করতে হবে ।

পরিকল্পনা অনুযায়ী জুয়ান ছাড়পত্র অনুমোদকের চাকুরীর জন্য দরখাস্ত করে । অন্য আর দশজনের মতো ধরাবাঁধা নিয়ম অনুযায়ী, কিংবা বেকারদের মতো তার চাকুরীর প্রয়োজন, আসলে তা নয় । নিজের চিঠি হস্তক্ষেপ করার জন্য সে চাকুরীতে দরখাস্ত করেছে । যাহোক, খুব অল্প সময়ের মধ্যে সে চাকুরী লাভ করে । কেননা সেই সময় প্রতিদিন অসংখ্য ছাড়পত্র প্রদানের জন্য বেশি করে অনুমোদকের প্রয়োজন পড়েছিল । তাই নির্বাচকদের কাছে চারিত্রিক সনদ জরুরী বিষয় হিসেবে দেখা দেয়নি ।

‘ডাইরেক্টরেট অফ সেন্সরশীপ’-এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যুরো অফিসের একাধিক কর্মচারীর গোপন বাসনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল । কিন্তু তাদের কঠোর হওয়ার কোনো উপায় ছিল না । কিন্তু কেন ? উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানতো যে, নিজেদের প্রেরিত চিঠি খুঁজে পাওয়া এসব হতভাগ্য কর্মচারীদের জন্য ভীষণ কষ্টকর কাজ । তবে কোনো ভাবে যদি তারা কেউ তাদের চিঠি খুঁজে পায়, তাহলে এত চিঠির ভীড়ে একটা কিংবা দু’টো চিঠি ফসকে গেলে কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না । এসব কারণে জুয়ান সেন্সরশীপ ব্যুরো অফিসে চাকুরী লাভ করতে সক্ষম হয় ।

বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় অফিস বিল্ডিংয়ে যেন আলোকিত পরিবেশ । চারপাশের স্বচ্ছ কাঁচের ওপর সূর্য্যের আলো এসে ঠিকরে পড়েছে । তবে বাইরে থেকে সেই কাল্পনিক পরিবেশ এবং ভেতরের অনাড়ম্বর বাস্তব পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । ধীরে ধীরে জুয়ান ভেতরের পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছে, যা তার কাজের জন্য আবশ্যক । এছাড়া মারিয়ানাকে লেখা চিঠি খুঁজে পাওয়ার মতো জ্ঞান সে ইতিমধ্যে অর্জণ করেছে । এই অর্জণ তার মানসিক দুশ্চিন্তাকে প্রশমিত করতে পেরেছে । তবে চাকুরীর প্রথম মাসে সে মোটেও চিন্তিত ছিল না । কেননা তাকে ‘কে’ সেকশনে কাজ দিয়েছিল । সেখানে তার কাজ ছিল যত্ব সহকারে এনভেলাপ খোলা এবং কোথাও কোনো বিস্ফোরক আছে কি না, তা তন্ন তন্ন করে দেখা ।

ঘটনা সত্যি যে, তৃতীয় দিনে প্রবল বাতাসের তোড়ে একজন সহকর্মীর হাত থেকে একটা চিঠি উড়ে দূরে চলে গিয়েছল এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই সহকর্মীর চোখেমুখে ভয় এবং আতঙ্কের কালো ছায়া ছড়িয়ে পড়েছিল । তবে ব্যুরো প্রধানের বক্তব্য ছিল, ঘটনার জন্য সম্পূ্র্ণ দায়ী সেই কর্মচারী । কেননা সে কাজে অমনোযোগী ছিল এবং রীতিমতো অবহেলা করেছে । যাহোক, যদিও পরবর্তী সময়ে হয়তো কাজে কারোর তেমন মন বসবে না, তবুও জুয়ান এবং অন্য কর্মচারীদের স্বাভাবিক ভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে । কাজ শেষের মুহূর্তে একজন কর্মচারী বিপজ্জনক কাজ করার জন্য অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দাবী করে । কিন্তু দাবী আদায়ের জন্য তার সঙ্গে জুয়ান হাত মেলায়নি । এই হাত না মেলানোর জন্য সে অনেক চিন্তা-ভাবনা করে । পরে সে কর্মকর্তাদের অনুরোধ করে তারা যেন তাকে পদোন্নতি দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দেয় ।

বড় কর্মকর্তার কক্ষ থেকে বেরোনোর সময় জুয়ান ভাবে, মানুষের জীবনে একবারের কোনো ঘটনা কিছুতেই অভ্যাসে পরিনত হয় না । যাহোক, জুয়ানকে পদোন্নতি দিয়ে ‘জে’ সেকশনে বদলি করা হয়। সেই সেকশনের কাজ ছিল চিঠি খুলে বিষাক্ত কোনো দ্রব্য আছে কি না, তা যাচাই করা । তার মনে হয়, সে গন্তব্যের দিকে আরেক ধাপ এগিয়েছে । তাই জুয়ান সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কখনই সে অফিসের কোনো আন্দোলনে শরীক হবে না ।

জুয়ান নিজের বুদ্ধিমত্তাকে ধন্যবাদ দেয় । খুব অল্প সময়ের মধ্যে সে একের পর এক পদোন্নতি লাভ করে এবং একসময় ‘ই’ সেকশনে এসে পৌঁছে । এই ‘ই’ সেকশনের কাজ খুবই চমকপ্রদ । কেননা এখানে চিঠি পড়ে বিশ্লেষণ করতে হয় । সেই সেকশনে সে মনের গোপন আশাকে পরিস্ফুট করে তোলে । মারিয়ানাকে চিঠি লেখার পর থেকে এই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে বিভিন্ন অফিস ঘুরে চিঠিটা ইতিমধ্যে ‘ই’ সেকশনে এসে পৌঁছার কথা ।

দিনে দিনে জুয়ান কাজের ভেতর এতই নিমগ্ন হয়ে যায় যে, তার মনে পড়ে না কেন সে এই সেন্সরশীপ ব্যুরো অফিসে চাকুরী নিয়েছে । তার দিন চলে যেতে থাকে এবং সে আজেবাজে চিঠিগুলো বাতিল কাগজের ঝুড়িতে জমা করতে থাকে । কোনো কোনোদিন সে আপত্তিকর চিঠির সন্ধান পায় । কিন্তু একদিন সে এমন একটা চিঠি পায়, যাতে লেখা ছিল ‘অস্থির আবহাওয়া’ কিংবা ‘আকাশচুম্বী মূল্য’ । সেই চিঠি পড়ে সে অনায়াসে চিহ্নিত করতে পেরেছে যে, কেউ একজন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছে ।

প্রবল আগ্রহ এবং উৎসাহ-উদ্দীপনা একের পর এক উন্নতির সিঁড়ি পার করে জুয়ানকে এতোটা ওপরে তুলে এনেছে । তবে কেউ জানে না, তার এই পদোন্নতির জন্য সে আদৌ সুখী কি না । ‘বি’ সেকশনে প্রতিদিন তার কাছে যতগুলো চিঠি আসে, সংখ্যায় তা রীতিমতো নগণ্য । কেননা এখানে আসার আগে সবগুলো বাঁধা পেরিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা না । যাহোক, তাকে সব চিঠি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হয়, এমনকি গভীর মনোযোগ দিয়ে অতিক্ষুদ্র বিষয়গুলোও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয় । রাতে সে যখন বাসায় ফিরে আসে, তখন ক্লান্তি-অবসাদের ভারী চাদর তার সমস্ত দেহ-মন জড়িয়ে রাখে । তার কাছে খাবার গরম করে খাওয়া বিরাট কষ্টের কাজ হয়ে দাঁড়ায় । তাই অনেক সময় রাতের বেলা সে সামান্য ফল-মূল খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । তবে সারাদিন পূর্ণাঙ্গ ভাবে দায়িত্ব পালন করার জন্য একধরনের সুখানুভূতি তার মনে স্বস্তি এনে দেয় । একসময় তার স্বর্গীয় মা শুধু তাকে নিয়ে ভাবতো এবং সঠিক পথে চলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতো । মা বলতো, যদিও কথাটা হয়তো সত্যি নয়, লোলা ফোন করেছিল । ও বলেছে, অন্য মেয়েদের সঙ্গে ক্যাফেতে আছে এবং ওরা তোর অনুপস্থিতির শূন্যতা খুব গভীর ভাবে উপলব্ধি করছে । তাই তোর জন্য অপেক্ষা করছে । কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয় কোনো কাজ করার জন্য জুয়ান মোটেও উৎসাহ অনুভব করে না । যেকোনো ধরনের অসাবধানতা কিংবা বাঁধা-বিপত্তি হয়তো তার কাজে সমস্যা হয়ে দেখা দিতে পারে । হয়তো বিচক্ষণ বুদ্ধি এবং পঞ্চেন্দ্রিয়ের অনুভূতি তার কার্য ক্ষমতাকে কমিয়ে দিতে পারে । কিন্তু নিঁখুত ছাড়পত্র অনুমোদক হিসাবে সে চায় সর্বদা মনোযোগী হতে এবং তার বুদ্ধি তীক্ষ্ণ থাকুক । সে একজন আদর্শ দেশপ্রেমিক কর্মচারী, আত্মকৃচ্ছ্র এবং মহোত্তম ।

একসময় জুয়ানের মনে দোষী চিঠির ঝুড়ি একধরনের সান্ত্বনা এবং আত্মতৃপ্তি এনে দেয় । কেননা চিঠির অত্যন্ত ক্ষুদ্র জিনিসও তার চোখকে ফাঁকি দিতে পারে না । এমন এক সময় আসে, যখন সে নিজের কাজের জন্য আত্মগরিমা অনুভব করতে শুরু করে । মারিয়ানার কাছে লেখা সেই চিঠি যেদিন তার হাতে এসে পৌঁছে, সেদিন তার মনে হয় অবশেষে সে মনের মতো কাজ করার সুযোগ পেয়েছে । কোনো অনুশোচনা ছাড়াই সে সেই চিঠি দোষী চিঠির ঝুড়িতে চালান করে দেয় ।

সঙ্গত কারণে একদিন প্রত্যুষে ফাঁসিতে ঝুলানোর হাত থেকে জুয়ান নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি । নিজের কাজের প্রতি আত্মত্যাগের আরো একটি শিকার ।



লেখক পরিচিতিঃ লাতিন আমেরিকার ‘বুম’ সাহিত্যের উত্থানের পরবর্তী সময়ে, অর্থাৎ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে, যে কয়জন উল্লেখযোগ্য লেখকের আবির্ভাব ঘটেছে, তাদের মধ্যে আর্জেন্টিনার প্রথিতযশা ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সাংবাদিক এবং চিত্রনাট্যকার লুইজা ভ্যালেনজুয়েলা । তার জন্ম বুয়েন্স আয়ার্সে, ১৯৩৮ সালের ২৬ নভেম্বর । বাবা ছিলেন ডাক্তার, কিন্তু মা (লুইজা মারসেদেস লেভিনসন্) ছিলেন আর্জেন্টিনার একজন বিশিষ্ট লেখিকা । তিনি ইউনিভার্সিটি অফ বুয়েন্স আয়ার্স থেকে ব্যাচেলার অফ আর্টস্ ডিগ্রী লাভ করেন । মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি স্থানীয় ম্যাগাজিনের জন্য লেখা শুরু করেন । ১৯৬৬ সালে স্পেনিশ ভাষায় তার প্রথম উপন্যাস (ইংরেজিতে ‘ক্ল্যারা’) প্রকাশিত হয় । ইংরেজিতে অনূদিত উপন্যাসের রয়েছে ‘দ্য লিজার্ডস্ টেইল’ (১৯৮৩), ‘হি হু সার্চেজ’ (১৯৮৬), ‘বেডসাইড ম্যানার্স’ (১৯৯৫) । তার প্রথম ছোটগল্প ১৯৫৭ সালে ‘ফিসিওন’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। প্রথম উপন্যাসের শিরোনামে ‘ক্ল্যারা’ (১৯৭৬), ‘স্ট্রেঞ্জ থিংক্স হ্যাপেন্ হিয়ার’ (১৯৭৯), ‘ওপেন ডোর’ (১৯৮৮), ‘দ্য সেন্সরস্’ (১৯৯২) এবং ‘সিমেট্রিস’ (১৯৯৮) তার উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প সংকলন । একসময় তিনি আর্জেন্টিনার বিখ্যাত লেখক হোর্হে লুইস বোর্হেসের সঙ্গে জাতীয় গ্রন্থাগারে চাকুরী করেন ।

লুইজা ভ্যালেনজুয়েলার অনেক গ্রন্থ বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে । এছাড়া তার লেখা সাহিত্য আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং অষ্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । সাহিত্য কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক পুরস্কার ছাড়াও তিনি আমেরিকার ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অফ নক্স থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন । তিনি শব্দ এবং ভাষা নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসেন । তার লেখায় মধ্যে জাদুবিদ্যার উপস্থিতি বিশেষ ভাবে লক্ষণীয় । তিনি তার বেশিরভাগ লেখায় বিদ্রুপ এবং বোধশক্তি মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি এবং অবিচার তুলে ধরেছেন । তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে স্বদেশী আরেক প্রখ্যাত লেখক হুলিও কোর্তাসার মন্তব্য করে বলেছেন, ‘(তার) গ্রন্থাবলী আমাদের সময়ের কথা বলে, কিন্তু বেশির ভাগ রচনাই আমাদের ভবিষ্যত ঘিরে; চলার পথে আলোক-বর্তিকা, চিরন্তন ভালোবাসা এবং সত্যিকার স্বাধীনতা মিশে আছে তার গ্রন্থসমূহের প্রতিটি পাতায় ।’ বর্তমানে তিনি নিউ ইয়র্কে ‘ক্রিয়েটিভ রাইটিং’-এ শিক্ষকতা করেন ।

‘ছাড়পত্র’ গল্পটি স্পেনিশ ভাষায় প্রথম ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত হয় । গল্পটি এমন এক অস্থির সময়ের পটভূমি, যখন আর্জেন্টিনায় প্রচন্ড আন্দোলন, বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক উৎপীড়ন ও অস্থিরতা বিদ্যমান ছিল । গল্পের প্রধান চরিত্র জুয়ান । সে একটি বিশেষ চিঠি লেখে এবং পরবর্তীতে ঘটনাক্রমে সেই চিঠি তার জীবনে ধ্বংস ডেকে আনে । কেননা সরকারের দৃষ্টিতে সেই চিঠি ছিল আপত্তিকর । তাই চিঠির জন্য তাকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয়েছিল । যাহোক, গল্পের মাধ্যমে লেখিকা দু’টো বিষয় তুলে ধরেছেন । প্রথমতঃ সব কাজে সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক এবং দ্বিতীয়তঃ কাউকে বিশ্বাস করা ঠিক না, এমনকি নিজেকেও না ।



গল্পসূত্রঃ ‘ছাড়পত্র’ লুইজা ভ্যালেনজুয়েলার ইংরেজিতে অনূদিত ‘দ্য সেন্সরস্’ গল্পের অনুবাদ । স্প্যানিশ ভাষা থেকে গল্পটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন ফ্রাঙ্ক থমাস স্মিথ । গল্পটি ২০০০ সালে ‘সাউদার্ণ ক্রশ রিভিউ’ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয় । পরবর্তীতে গল্পটি লেখিকার একই শিরোনামের (‘দ্য সেন্সরস্’) ছোটগল্প সংকলনে অন্তর্ভূক্ত করা হয় ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন