বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

রুখসানা কাজলের গল্প : বিষমপদী

গড়াই নদে পা ডুবিয়ে বসেছিল অন্তরা। রোদ খলবল করছে জলে। নতুন অর্গ্যান্ডি শাড়ি ভিজে যাচ্ছে ছোট ছোট ঢেউয়ের আদরে। শাড়ি তুলে প্রায় হাঁটুর কাছে নিয়ে এসেছে তবু অবাধ্য জলের দুরন্ত স্রোত মৃদু উচ্ছ্বাসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছেই। জলের চোখে জল দেখে অন্তরা। বালিকা ভবতারিণী মাটির কলসে জল ভরতে এসেছে নদীতীরে। নকশি শাড়ির আঁচল বিছিয়ে ডান হাতের পাঁচ আঙ্গুলে জলটোকা মেরে মাছেদের ডেকে বলছে, শুনিছিস বে’ হতিছি আমার। চলি যাতিছি কলকেতা । ভবো ভবো করি ডাকলিও কিন্তুক আর দেখা হবি নানে ! ওরা আমার নাম পালটি মিরানিলি করিছে বুঝিছিস জল !


কয়েকটি হাঁস লাল হলুদ পা তুলে ডিগবাজি খাচ্ছে জলে। নীলফুল কচুরির দামে শালিকের কিচিরমিচির। চমকে হাসে অন্তরা। তার কল্পনায় জল বেয়ে বেয়ে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে চলে এসেছে যশোহর। এখানে এসেছিল ভবতারিণী। মৃন্ময়ী হয়ে। সংসার সংসার গন্ধমাখা হাতে সে কি একবারও ছুঁয়েছিল গড়াইয়ের জল?

গড়াইয়ের চরে কুমারখালির হলুদ চেক চাদরে শুয়ে আকাশ দেখছে সুমিত। কাশ ঝোপের ছায়া পড়েছে গৃহস্থের আপন বারান্দার মত। গাঙ শালিকরা জোট বেঁধে ঝগড়া করছে। দূর আকাশে রেখার মত আঁকিবুঁকি কেটে উড়ছে অনেকগুলো চিল। মেরুন রং একটা ডাহুক ভিজে বালুতে আধখানা গা ডুবিয়ে সুমিতের দিকে লাল চোখে চেয়ে দেখছে। বহু বহু বছর আগে একজন দীর্ঘ মানুষ ওদের নিয়ে ছড়া লিখেছিল। পাখি সমাজের ইতিহাসে পালকের অক্ষরে লেখা আছে সে সব কথা। একদিন সেই মানুষটি হিন্দু মুসলিম, ছোট জাত নিচু জাত উঁচু জাতের বিভাজিত চাদর সরিয়ে বসে পড়েছিল আম মানুষের সিঁড়িতে। পদ্মার খর জলে সোনার তরী ভাসিয়ে তিনি দেখেছিলেন জোতদারের গোলায় রাশি রাশি ভারা ভারা ধান দিয়ে গরীব কৃষকের অভাবের কাছে দেওয়া আত্মাহুতিকে। কাঁচাহলুদ জ্যোৎস্নায় শিলাইদহের মাটি ছুঁয়ে ভেবেছিলেন এখানে ইশকুল হোক। অতি সাধারণ পিতাদের মত তিনিও ছেলের বুকের নীচে হাত রেখে সাঁতার শেখাতে শেখাতে হাঁক দিয়ে বলেছিলেন , চন্দ্রবাবু কি হাঁটে যাচ্ছেন? তিন পয়সার জ্যোৎস্না কিনে আনবেন তো। আজ গগন বাউলের গান শুনব মাঝরাত্তিরে। সুমিত অদৃশ্য প্রায় দূরের রবিকুঠির দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসে, ঠাকুর বড় বর্ণিল মানুষ ছিলেন বটে। মহাস্বপ্নবাজ। সুমিতের হাসি দেখে শণবনের ছায়া ভেঙ্গে লম্বা পায়ে বেরিয়ে আসে এক ডাহুকী। কাকে দেখে সে কে জানে!

ছমিরুদ্দিন হাত জালে মাছ ধরছিল। কাছামারা পুরানো লুঙ্গিটা ভিজে লেপটে আছে । মেদহীন কোমর আর সুঠাম দুটি নিতম্ব জলে ভিজে আরো সুস্পষ্ট করে তুলেছে পুরুষ শরীরকে। কোমরে দড়ি দিয়ে বাঁধা টিনের হাঁড়ি হাঁসের মত দুলে দুলে ভাসছে । মাছ পেলেই হাঁড়িতে চালান করে একেক বার দেখে নিচ্ছে চরের মানুষটিকে আবার কিছু দূরে জলের ধারে বসা শ্যামাপানা মেয়েটিকে। কুঠিবাড়ি দেখতে এসে গড়াইয়ের চরে ঘুরতে এসেছে এরা । অভিজ্ঞ চোখে ছমিরুদ্দিন বোঝে দলে দলে যারা আসে তাদের চে এরা একটু আলাদা। অন্যরকম। এরা ঝোপ খুঁজে বসেনি, শণবন বা কোন মহা বৃক্ষের আড়াল খুঁজে নেয়নি। কেউ কারো সঙ্গে কথা বলছে না। তাকিয়েও দেখছে না। অথচ সম্পর্ক যে আছে তা বোঝা যায়। কি যে সে সম্পর্ক ছমিরুদ্দিন যা ভাবে হয়ত তা নয়। মানুষের সম্পর্কের নানা রঙের সুতো কেমন ছোট আর ঝামেলার হয়ে উঠছে দিন দিন। ভাঙছে , ছিঁড়ছে , তালি লাগছে, তালি ছিঁড়ে ঝুলে থাকছে, তাতে নানা রঙের তাপ্পি পড়ছে। কতশত বাহানা, ঢং , নকশা। একবার এক নামী লেখক এসেছিল, সঙ্গে বউ, পরীর মত তিনটি মেয়ে নিয়ে। গাঁয়ের সবার সঙ্গে হাত মিলিয়ে টঙ্গে বসে ঘন দুধের মালাই চা আর কুলফি খেয়ে বাউলদের গান শুনে খুব জমিয়েছিল সেই লেখক। বলে গেছিল আবার আসবে। কয়েক বছর পরে আবার এসেছিল সত্যি কিন্তু সঙ্গে ছিল অল্প বয়সী এক মেয়ে। গাড়ি থেকে নেমে সেই মেয়েই তড়বড়িয়ে বলেছিল আমি উনার স্ত্রী। কেমন আছেন আপনারা? অনেক গল্প শুনেছি আপনাদের। তাই দেখতে আসলাম। এবার আর লেখক মন খুলে গল্প করেনি। তবে সেই মেয়ের মত দেখতে স্ত্রীটি জমিয়ে গান গেয়েছিল বাউলদের সঙ্গে, আমি কোথায় পাবো তারে আমার মনের মানুষ যেরে----। লেখকের গতবারের বউকে ভাবি ডেকেছিল বাউলরা। এবারের বউকে মা জননী ডেকে আশীর্বাদ করেছিল। শামুক গুগলিসহ কতগুলো কুচো চিংড়ি হাঁড়িতে রাখতে রাখতে ছমিরুদ্দিন ভাবে মানুষের সম্পর্কের মত নদীর জলও কমি আসতিছে। তালি তাপ্পির মত চর ভাসতিছে হেথা হোথা। এই জলেই ভাসি আসিছিল লালন ফকির, এই জলের পথেই আসিছিল ঠাকুর। অথচ দেহো মন্ত্রীর বেটা মন্ত্রী নদী ভরাট করি জমিন বানাতিছে । মানুষের জন্যি বসত গড়পি নাকি । হারামজাদার হারামজাদা চালাকি করি লালনের নামি নালি ঠাকুরের নামি বসত গড়পিনি তহন কিডা আর কি কবার আসপিনি কও ত দেহি !

পাঞ্জাবী পরা তিনটে ছেলে মোটর সাইকেল থেকে নেমে দ্রুত ছুটে আসে। অনুষ্ঠান শুরু হতে আরো ঘণ্টা তিনেক লাগবে। মহামান্য অতিথির আসতে দেরি হবে। স্যার কিছু কি লাগবে ? বিদেশীর সঙ্গে কিছু কেরু দিতে বলে সুমিত ওদের আশ্বস্ত করে। ও জানে প্রধান অতিথি জাস্ট টাইমে এলে ভ্যালু কমে যায়। মানুষকে অপেক্ষায় রেখে নিজেদের মহার্ঘ করে তোলার আর্ট জানতে হয়। অই কবিতাটি পড়বেন তো স্যার? সবুজ পাঞ্জাবী পরা নরম যুবকের চোখে এক নতুন আলো। সুমিতের গলায় স্থায়ী বসে গেছে আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুণী উঠল-- ডাহুক দম্পতি চলে গেছিল ছেলেদের দেখে। ওরা চলে যেতেই ফিরে এসেছে ডাহুক। একলা। একা। এক সুরে ডেকে যায় কোয়াক কোয়াক কোয়াক। সুমিতের হঠাৎ মনে হয় আজ অন্য কোন কবিতা পড়লে কেমন হয় ? একেবারে নিজের ? চেনা জানা সুরের বাইরে জীবনের একঘেয়ে গৎ ভেঙ্গে?

ভিজে হাতে জল ছানতে ছানতে অন্তরা ভাবে , রঞ্জনাকে তো সবাই জানে। এবার না হয় অন্তরা খুলে দেবে নিজেকে। নিজের আবেগ অনুভূতির আকুলতা‍য় এবার অন্যমনা এক অন্তরা বাইশে শ্রাবণকে স্মরণ করবে তার নিজের মত করে! পাঁজরের হাড়ে কতকাল ধরে জন্মে আছে অশোক বটের সঙ্গে হিজলের কালোমুখে লাল ক্ষত। একটা আটপৌরে লাল বাড়ি। বাতাসে বাড়ি খেয়ে দুলে যাচ্ছে বাঁশ কাঠের গেট। অপরাজিতার নীলফুল ফুটে আছে গেট জুড়ে। সাঁঝ সন্ধ্যায় দুই পুরুষের পুরানো বাগানটা তছনছ করে গেছে পাড়ার গুণ্ডারা। পোষা পুলিশও এসেছিল। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সম্ভ্রম ভেঙ্গে অন্য ধর্মের ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে রুমকির দিদি। বিষফুল ফোটার মত ভেসে এসেছিল গালিগালাজ, জারজ জারজ । বাপটাকে জুতা মার, মায়েরও প্রশ্রয় ছিল নইলে কি করে মেয়ে পালায়। সবকিছু ফেলে মাঝরাতে পালিয়ে এসেছিল ওরা। তারপর কেবল সংগ্রাম।

নিউমার্কেটে বইয়ের দোকানে কাজ নিয়েছিল হাসান সুলতান। তার মেয়ে রুমকির গলায় কবিতা হয়ে উঠে শঙ্খিনীর মত। মহিলা কলেজে অনার্স পড়তে পড়তে সুমিতের আবৃত্তি সংঘের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। ছ বছরের মাথায় রুমকি দেখে কিভাবে যেন ব্যক্তি সুমিতের দেহমনে সমাজ সংসারেও জড়িয়ে গেছে সে। সুমিতের সঙ্গে চষে বেড়িয়েছে সারা বাংলাদেশ। অনেকেই জানে রুমকি সুমিতের দ্বিতীয় স্ত্রী। রুমকিও তাই ভাবত। কিন্তু ভাবনা তো আর সত্য নয়। সুমিতের স্ত্রী লায়লা আপু। ননগভর্ণমেন্ট এক অফিসের জবরদস্ত এমডি। একটি পালিত সন্তানের পিতামাতা সুমিত লায়লা। যদিও সুযোগ পেলেই নিজের সন্তানহীনতার দুঃখের গল্প করে সুমিত । স্ত্রীর অক্ষমতার দায়ভার তাকে বইতে হচ্ছে । অথচ রুমকিকে দুবার অ্যাবোর্ট করিয়েছে। রুমকির ফ্ল্যাটে একবার চোখ গরম করে বলেছিল, আমি সিঁড়ি হয়েছি বলেই না আজ তুই রুমকি হাসান। নইলে কোথায় থাকতিস তুই?

রুমকি বোঝে লায়লা আপুকে ছাড়তে পারবে না সুমিত। নিশ্চিত অর্থের যোগানদার হাতছাড়া হলে সুমিত ভেসে যাবে। রুমকি তো সাধারণ একজন চাকুরে মাত্র। কতই বা বেতন! সুমিতের সাহচর্যে আছে বলেই না সাধারণের মাঝে অসাধারণ আজকের রুমকি। সুমিতের নামের সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করছে সে। সুমিতই ঠিক করে দেয় রুমকির কবিতা। রেডিও টিভির অনুষ্ঠান। পত্রিকার সাক্ষাৎকার । নিয়ন্ত্রণ করে সাক্ষাতকারের কতটুকু প্রকাশ পাবে অথবা কোনো অনুষ্ঠানে রুমকি কোন কবিতাটি পড়বে । রুমকির আলাদা কোন ইমেজ নেই। পরিচয় নেই। সে শুধু কেবলই সুমিতের লাভিং পার্টনার। সুমিতের সাক্ষাৎকারের সঙ্গে থাকে স্ত্রী লায়লা আর ছেলে রূপকের ছবি। গড়াইয়ের গেরুয়া জলে মুখ দেখা যায় না। এলোমেলো জল ছিটিয়ে রুমকি ভাবে আজ তার আরেক জন্ম হোক। কাদম্বরী, মণিমালা, মৃন্ময়ী, সুরবালা , এলা , লাবণ্য , কেতকী অথবা বিনোদিনী চারুলতা নয় । রুমকি হাসানের। প্লাস্টিকের পুরনো ব্যাগ হাতে পরাজিত দোকান কর্মচারী হাসান সুলতানের মেয়ে সে। ভাঙ্গা বাজারে ফেলে রাখা পোকায় কাটা তরিতরকারির সস্তার অব্যর্থ এক অসহায় মানুষের আত্মজার কাহিনী সে কি আমজনতার সামনে দীপ্ত সাহসে তুলে ধরতে পারবে না?

লায়লা ছুটি নিয়েছে দুদিনের। গেল মাসেই রূপকের ইশকুলের কাছে আলাদা ফ্ল্যাট ভাড়া করেছে। আজ কালকের ভেতর শিফট হয়ে যাবে। সুমিতকে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। সুমিত প্রায় তিনমাস বাসায় আসে না। অবশ্য ফোন করে মাঝে সাঝে। শুনেছে ইদানীং রুমকির সঙ্গেও থাকছে না তেমন। লায়লা বোঝে রুমকি মাটি হতে রাজী হয়নি। অসংখ্য দুর্নামের বোঝা মাথায় নিয়েও রুমকি ছিল কেবল নিজেকে গড়ে নিতে। সুমিতকে চেনে লায়লা। নিজেকে জিরো না করে কেউ সুমিতের সঙ্গে থাকতে পারবে না। পনেরোটি বছর লায়লা ঝুলে ছিল । আর নয়। সুমিতের অফিসের ঠিকানায় ডিভোর্সের কাগজ কুরিয়ার করে নিজেকে খুব হালকা লাগে ওর। ছেলের সঙ্গে কথা বলেছে লায়লা। আট বছরের দীপন জানে মাই সব। বাবা তো গেস্ট মাত্র। কেউ কেউ দীপনকে প্রচুর আদর করে বিস্মিত হয় , সেই ছেলেটা না ? শংকরে ডাস্টবিনে কারা যেন ফেলে গেছিল ফজরের আজানের সময়! কি ভাগ্য ছেলেটার। লায়লাকে দেখলেই তারা থেমে যায়। দীপন কি বোঝে কে জানে। শুধু বোঝে তার জন্মে কোন ঝামেলা আছে। হাসপাতাল নয় ওরা ডাস্টবিনের কথা বলে। দীপন কি তবে যীশুর মত জন্মেছিল অবহেলায় লজ্জায় আত্মীয় শুভেচ্ছা ছাড়া অনাদরের গোয়ালঘরে!

অনুষ্ঠান শেষে কথা ছিল মেহেরপুর যাবে ওরা। যে আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠিত হয়েছিল সেখানে ফুল দেবে। রুমকি আপত্তি করে । রাত বারোটায় শিলাইদহের আমবাগানে কবিগুরুর কুঠির সামনে রুমকি সুমিতের তুমুল ঝগড়ায় বন্ধুরাসহ ঘুমন্ত পাখিরাও হতচকিত হয়। এর আগে রুমকিকে এত দৃঢ় হতে দেখেনি কেউ। শেষ মুহূর্তে সুমিত চেঁচিয়ে জানায় তোর কেরিয়ার আমি ধ্বংস করে দেব শয়তানী । দেখি কে তোকে তেলায়। এই চল ওকে আর আমাদের দরকার নাই।

কুঠিবাড়ির পেছনে টেনিস কোর্টে এসে দাঁড়ায় রুমকি । একা। দুঃখ নয়, বিষাদ বা মন খারাপ কিচ্ছু নয় এক অপার্থিব মুক্তির আনন্দে চিকচিক করে উঠে রুমকির চোখ। টেনিসকোর্টের লোহার বেড়ায় হেলান দিয়ে কুঠি বাড়ির উপরে জানালায় তাকিয়ে নিঃশ্বাস নেয়। বহু বছরের জমানো ঘন নিঃশ্বাস । একটু পরেই স্থানীয় আবৃত্তিকার লতিকা আর শরীফ আসবে। ফিসফিস করে রুমকি, ওক্কে সুমিত চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্টেড। আসছে পনের আগস্ট শোকদিবসে কবিতা পড়তে মুজিবনগরে সে আসছে। লতিকাদের গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেছে । রুমকি হাসান উঠে দাঁড়াতে পারে।

ঝাঁঝরি কাটা জানালায় এক নারীর মুখ ভাসে। সে মুখ বড় শান্ত, মায়াময়, মাটিমন এক তরুণী নারীর। কুঠিবাড়ির দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে ভেজা বাতাস বইছে। সেই বাতাসে শ্বাস নিয়ে সেই নারী বুঝতে চায় নদী কোন নদীর আর্দ্রতা ভাসে এই বাতাসে? কার জন্যে উতল শৈশব গন্ধমাখা এই মাতাল বাতাস? কার নামে অই দুলে উঠছে মধুমঞ্জুরীর ঘেরাটোপে নবীন আমপাতা ঝোপ ? সালংকারা দু হাতে বাম বুক চেপে ধরে সে। নাই সে ভবো আর নাই। সে যে কেবল মৃণালিনী। মৃন্ময়ী নারী। মাধুরী, রথী, রেণুকা, মীরা, শমীন্দ্রনাথের মা। জ্যোৎস্নাধরা এক আলোকময় কবির আনন্দ ছুটি। ক্রমশ তালপুকুরে ঘটি ডুবে যাওয়া জমিদারীর জমজমাটে জমে যাওয়া ঈর্ষা, হিংসায় জারিত এক ভীরু সংসার প্রিয়া। ঝুঁকে আরো ঝুঁকে মৃণালিনী শোনে গাছ, মাটি আর বাতাস মিলে বিষমপদী তেওটা বাজাচ্ছে ধা দেন্‌ তা। তিট কতা। গদি ঘিন ---আমার মুক্তি আলোয় আলোয়, এই আকাশে --

২টি মন্তব্য:

  1. অদ্ভুত সুন্দর লেখা। সম্পর্কের সুতোর মতো ডালপালা বিস্তার করে লেখার অনন্য মুন্সিয়ানা।
    শ্রাবণী দাশগুপ্ত।

    উত্তরমুছুন
  2. ওহ্‍ দিদি। প্রাণ জুড়িয়ে গেল পড়ে। ভাবি, কীভাবে যে এত প্রাণবন্ত লেখো। অসাধারণ !

    উত্তরমুছুন