বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

সুখময় সমাপ্তি

মূলঃ মার্গারেট অ্যাটউড
অনুবাদঃ ফজল হাসান



জন এবং মেরীর সাক্ষাত হয়েছে ।

তারপর কি ঘটেছে ?

কেউ যদি সুখময় সমাপ্তি আশা করে, তাহলে তাকে প্রথম পন্থা, অর্থাৎ ‘ক’, চেষ্টা করতে হবে ।

ক.

জন এবং মেরী একে অপরকে ভালোবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় । তারা উভয়েই সচ্ছল এবং জন ভালো বেতনের চাকুরী করে, যা তাদের কাছে রীতিমতো উৎসাহ-উদ্দীপক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক । তারা একটা সুন্দর বাড়ি খরিদ করে । পরবর্তীতে সেই বাড়ির মূল্য অনেক বেড়ে যায় । এক পর্যায়ে তারা যখন সবকিছু গুছিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনে, তখন তারা দুই সন্তানের পিতা-মাতা এবং বাবা-মা হিসেবে দু’’জনেই সন্তানদের প্রতি গভীর মনোযোগী হয় । ভালো এবং সুন্দর পরিবেশে শিশুরা বড় হতে থাকে । জন এবং মেরীর যৌন জীবন ছিল সুখকর এবং আনন্দদায়ক । তাদের সুহৃদ বন্ধু-বান্ধব ছিল । ছুটির সময় তারা সবাই মিলে এক সঙ্গে বেড়াতে যেত । একসময় জন এবং মেরী কর্মজীবনের ইতি টানে । তাদের দু’’জনের শখের কাজ ছিল । এসব সৌখিন কাজ তাদের মনে দারুণ উৎসাহ যুগিয়েছে । অবশেষে তারা উভয়ে ইহলোক ত্যাগ করে । এখানেই গল্পের সমাপ্তি ।


খ.

জনের প্রেমে পড়েছে মেরী, কিন্তু জন মেরীর প্রেমে পড়েনি । বরং জন নিছক মজা করার জন্য, এমনকি নিজের অহংকারকে সামান্য কবোষ্ণ করার জন্য, স্বার্থপরের মতো কদাচিৎ মেরীর শরীর ব্যবহার করে । সে প্রতি সপ্তাহে দু’বার মেরীর অ্যাপার্টমেন্টে আসে । তখন মেরী তার জন্য রাতের খাবার তৈরি করে । দেখা যায়, মেরীর রান্নার প্রশংসা তো দূরের কথা, বরং জন আহার শেষ করে মেরীর সঙ্গে শরীরী খেলায় ক্লান্ত হয়ে বেঘোরে ঘুমায় । সেই সময় মেরী খাবার টেবিল থেকে এঁটো থালা-বাসন রান্নাঘরে নিয়ে ধুয়ে মুছে সরিয়ে রাখে, যেন ঘুম থেকে জেগে জন ভাবতে না পারে যে সে অগোছালো থাকে । ধোয়া-মোছার কাজ শেষ করে মেরী নিজেকে আকর্ষণীয় এবং রূপবতী করার জন্য ঠোঁটে লিপস্টিক লাগায় এবং জনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে । কিন্তু ঘুম থেকে জেগে জন তার দিকে দৃষ্টিপাত না করেই প্রথমে পায়ে মোজা পড়ে । তারপর একেক করে শর্টস্, প্যান্ট, শার্ট, টাই এবং সবশেষে জুতা পড়ে । যাহোক, পোশাক পড়ার সময় জন এই ধারাবাহিকতা অবলম্বন করে, কিন্তু বিবস্ত্র হওয়ার সময় তার ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ উল্টো । জন কখনই মেরীর পড়নের জামাকাপড় খুলে দেয় না, বরং মেরী নিজের হাতেই খোলে । জনের সঙ্গে যদিও মেরী শরীরী খেলা খুব একটা পছন্দ করে না, তবুও প্রতিবারই সে এমন অঙ্গভঙ্গি করে, যাতে বোঝা যায় যে সে রীতিমত খেলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে । মেরী চায়, জন জানুক যে বিছানায় খেলার সঙ্গী হিসেবে সে মোটেও অনুপযুক্ত নয় । সে আরো ভাবে, জন আত্মতৃপ্তি পেলে তার প্রতি ঝুকবে এবং পরবর্তীতে তাকে বিয়ে করার জন্য আগ্রহী হবে । কিন্তু জন শুভ রাত না বলে জোরে দরোজা বন্ধ করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় । তারপর আবার তিন দিন বাদে সে পুনরায় মেরীর কাছে আসে এবং তারা একই কাজে লিপ্ত হয় ।

মেরী নিজেকে ধিক্কার দেয় । কান্না চোখমুখের জন্য খারাপ, কথাটা সবাই জানে এবং মেরীরও অজানা নয় । কিন্তু সে নিজেকে সংবরণ করতে পারে না । বিষয়টি অফিসের সহকর্মীদের চোখে এড়ায়নি । তার বন্ধু-বান্ধব বলে, আসলে জন একটা লম্পট, ইতর, বদমাশ এবং কোনভাবেই লোকটা মেরীর উপযুক্ত নয় । কিন্তু মেরী বন্ধু-বান্ধবের কথা বিশ্বাস করে না । তার বিশ্বাস, আসলে জনের ভেতর আরেকটা জন লুকিয়ে আছে, যার মন ভালো এবং সুন্দর । যদি আসল জন আরেকটু নিজেকে প্রকাশ করে, তাহলে একদিন হয়তো ভেতরের সেই কল্পিত জন রেশম-গুটির পাতলা আস্তরণ ভেদ করে মথ হয়ে, কিংবা বন্ধ বাক্স থেকে জ্যাক হয়ে, বা খেজুরের অভ্যন্তর থেকে বীচির মতো বেরিয়ে আসবে ।

একদিন অপরাহ্নে জন খাবার নিয়ে অভিযোগ করে । অথচ আগে কখনই সে খাবার নিয়ে কোন অভিযোগ বা মন্তব্য করেনি । জনের এহেন ব্যবহারে মেরী প্রচন্ড কষ্ট পেয়েছে ।

মেরীকে বন্ধুরা বলেছে, তারা জন এবং অন্য এক মহিলাকে একসঙ্গে রেঁস্তোরায় দেখেছে । সেই মহিলার নাম ম্যাডজ্ । তবে ম্যাডজ্ নয়, বরং রেঁস্তোরাই মেরীকে রীতিমত ভাবিয়ে তোলে । কেননা জন কোনদিনই তাকে নিয়ে কোন রেঁস্তোরায় যায়নি । রাগে-দুঃখে মেরী ঘুমের ঔষধ এবং অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জড়ো করে । তারপর সে সবগুলো ঔষধ একসঙ্গে খায় । যাহোক, জনের জন্য সে একটা চিরকুট লিখেছে । তার আশা এবং বিশ্বাস যে, জন সময় মতো এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে, অনুশোচনা করে তার কাছে ক্ষমা চাইবে এবং তারপর তাদের বিয়ে হবে । কিন্তু মেরীর সেই আশা এবং বিশ্বাস ভেস্তে যায় এবং অবশেষে সে মৃত্যুবরণ করে ।

একসময় জন ম্যাডজকে বিয়ে করে এবং অতঃপর সবকিছু পন্থা ‘ক’-এর মতো চলতে থাকে ।


গ.

জন একজন বয়স্ক মানুষ এবং সে মেরীর প্রেমে পড়েছে । মেরীর বয়স মাত্র বাইশ বছর । যাহোক, জনের জন্য তার খুব দুঃখ হয় । তার কারণ হলো জনের মাথার চুল পড়ে যাওয়ার জন্য সে উদ্বিগ্ন । যদিও মেরী জনের প্রেমে পড়েনি, তারপরেও সে জনের সঙ্গে এক বিছানায় ঘুমায় । কাজের জায়গায় তাদের পরিচয় হয়েছে । মেরী অন্য একজনকে ভালোবাসে এবং তার নাম জেমস্ । জেমসেরও বয়স বাইশ বছর এবং সহসা ঘর-সংসার করে থিতু হওয়ার মতো তার মধ্যে কোন ধরনের আলামত নেই ।

উল্টোদিকে জন অনেক আগে থেকেই নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছে এবং সে-টাই তার অস্বস্থির কারণ । জনের চাকুরী স্থিতিশীল এবং সম্মানজনক । এছাড়া চাকুরীতে তার অবস্থান বেশ ভালো জায়গায় । জনের এত সব ইতিবাচক গুণাবলী মেরীকে প্ররোচিত করতে পারেনি, বরং জেমসের প্রতি তার দূর্বলতা । জেমসের একটা মোটর সাইকেল এবং গানের রেকর্ডের বিশাল ভান্ডার আছে, যা রীতিমত অবিশ্বাস্য । মাঝে মাঝে জেমস মোটর সাইকেলে চড়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যায় । তখন সে সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকে । তবে পুরুষদের মতো মহিলাদের স্বাধীনতা একই ধরনের নয় । তাই জেমস্ কোথাও গেলে মেরী বৃহস্পতিবার অপরাহ্ন জনের সঙ্গে সময় কাটায় । কেননা বৃহস্পতিবার সপ্তাহের একমাত্র দিন, যেদিন জন নিয়মমাফিক জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে পারে ।

জন বিবাহিত এবং তার স্ত্রী নাম মেডজ্ । তাদের সংসারে দু’টি সন্তান এবং একটা বাড়ি আছে । মূল্য বাড়ার আগেই তারা বাড়িটি খরিদ করে । এছাড়া অবসর মুহূর্তে নিজেদের ব্যস্ত রাখা এবং আনন্দ উপভগ করার জন্য সখ রয়েছে । সময় ও সুযোগ পেলে জন মেরীর কাছে স্ত্রীর গুণগান করে এবং এ-ও বলে যে, তার জীবনে মেডজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ । সে কোনমতেই স্ত্রীকে ছাড়তে পারবে না । কেননা স্ত্রীর কাছে সে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ । তার বিশ্বাস, প্রতিজ্ঞা সবসময় প্রতিজ্ঞাই এবং কখনই সেই প্রতিজ্ঞা বরখেলাপ করা উচিত নয় । স্ত্রী সম্পর্কে মেরীকে যতটুকু বলা প্রয়োজন, মাঝে মাঝে জন তারচেয়ে বেশি বলে । সেই বাড়তি বলাটুকু মেরীর কাছে রীতিমত বিরক্তিকর এবং অসহ্য লাগে । কিন্তু বুড়ো মানুষের বাড়তি কথা শুনতে শুনতে মেরীর সময় মোটামুটি ভাবে কেটে যায় ।

বলা নেই, কওয়া নেই, জেমস মোটর সাইকেলে চড়ে হঠাৎ একদিন মেরীর অ্যাপার্টমেন্টে এসে উপস্থিত হয় । সেই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য তারা একসময় বিছানায় যায় । পরম আনন্দেই তাদের সময় কেটে যাচ্ছিল, কিন্তু জনের অপ্রত্যাশিত আগমনে ছন্দপতন ঘটে এবং সবকিছু ভেস্তে যায় । বলা বাহূল্য, মেরীর অ্যাপার্টমেন্টের একটা চাবি জনের কাছে ছিল । জন দরোজা খুলে ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই জেমস এবং মেরীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে । সেই সময় ম্যাডজের কথা মনে পড়ার জন্য তার অন্তর জগতে কোন হিংসার আগুন জ্বলে ওঠেনি, কিন্তু হতাশার একখন্ড কালো মেঘ এসে মনের খোলা আকাশ ঢেকে দেয় । যাহোক, সে মধ্য-বয়সী এবং আগামী বছর দুয়েকের মধ্যে মাথার চুল পড়ে গিয়ে ডিমের খোসার মতো টেকো হয়ে যাবে । তারপরেও জেমস এবং মেরীর অন্তরঙ্গ দৃশ্যটা সে সহজ ভাবে মেনে নিতে পারেনি । শিকারে যাওয়ার আগে অনুশীলন করার অজুহাত দেখিয়ে সে একটা বন্দুক কিনে । যদিও তার অজুহাত ছিল নিছক বানোয়াট, তবে আসল কারণ পরে জানা যাবে । জন একসময় সেই বন্দুক দিয়ে জেমস এবং মেরীকে হত্যা করে এবং নিজে আত্মঘাতী হয় ।

স্বামীর মৃত্যুর পরে মেডজ্ একটা নির্দষ্ট সময় শোক পালন করে । তারপর একদিন সে ফ্রেড নামের একজন বিবেকবান লোককে বিয়ে করে । পরবর্তীতে মেডজ্ এবং ফ্রেড পন্থা ‘ক’-এর মতো জীবনযাপন করতে থাকে, তবে ভিন্ন নামে ।


ঘ.

দাম্পত্য জীবনে ফ্রেড এবং ম্যাডজের কোন সমস্যা নেই । তাদের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো এবং মধুর । কখনো যদি কোন উটকো ঝামেলা এসে তাদের মাঝখানে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়, তখন তারা দু’জনে দক্ষতার সঙ্গে নিপুণ হাতে সেই বাঁধা-বিপত্তি দূরে সরিয়ে দিতে পারে । কিন্তু তাদের সুনসান বাড়িটি ছিল সমুদ্রের ধারে । একদিন বিশাল উত্তাল ঢেউ এসে সবকিছু তছনছ করে দেয় এবং হঠাৎ করে তাদের বাড়ির মূল্য কমে যায় । কাহিনীর পরবর্তী ঘটনা হলো, তারা ভেবেছে কেমন করে সমুদ্রে বিশাল ঢেউ উঠেছে এবং কিভাবে সেই ঢেউয়ের তান্ডব থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করেছিল । সেই দূর্ঘটনায় অনেক নিরীহ মানুষ মারা যায়, কিন্তু ধার্মিক ফ্রেড এবং ম্যাডজ্ ঈশ্বরের অসীম কৃপায় রক্ষা পেয়েছে । পরিশেষে তারা উঁচু জায়গায় এসে একে অপরকে দৃঢ় ভাবে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গণ করে । তখন তাদের ভেজা শরীর থেকে টুপটুপ করে পানি ঝরে পড়ছিল । একসময় তারা ঈশ্বরের কাছে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং পন্থা ‘ক’-এর মতো গতানুগতিক জীবন-যাপন করতে থাকে ।


ঙ.

হ্যাঁ, ফ্রেডের মনটা কলুষিত, খারাপ । গল্পের বাকীটুকু হলো ফ্রেডের মৃত্যুর আগ পর্য্যন্ত তারা উভয়ে একজন আরেক জনের প্রতি দয়ালু ছিল এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাবুঝির মাপকাঠিতে সরস ছিল । যাহোক, বিধবা ম্যাডজ্ ‘ক’ পন্থার কাহিনীর মতো সমাপ্তি পর্য্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সেবামূলক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছিল । কেউ যদি চায়, তাহলে সে ‘ম্যাডজ্’, ‘ক্যানসার’, ‘দোষী’ কিংবা ‘হতবিহ্বল’ এবং ‘পাখি পর্যবেক্ষক’ হতে পারে ।


চ.

কেউ যদি মনে করে এটা মধ্যবিত্ত সমাজের রক্ষণশীলতা এবং কায়েমী স্বার্থবাদীদের মনোবৃত্তি, তাহলে অনায়াসে জনকে বিদ্রোহী কিংবা বিপ্লবী এবং ম্যারীকে প্রতিবাদী কন্ঠস্বরের মুখপাত্র বানানো যায় । তাহলে দেখা যাবে ওরা লোকজনদের কোথায় নিয়ে যায় । মনে রাখা দরকার দেশটা কিন্তু কানাডা । তারপরেও যে কেউ প্রথম পন্থা, অর্থাৎ ‘ক’-তে এসে শেষ করতে পারে । তবে এর মাঝে হয়তো প্রবল আবেগের সঙ্গে ঝগড়া-ঝাটি দেখা যেতে পারে, যা বর্তমান সময়ের ধারাবিবরণীর মতো একধরনের উপাখ্যান ।

সবাইকে অবশ্যই এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে । যেভাবেই কেটে ছেঁটে টুকরো করা হোক না কেন, ঘটনার সমাপ্তি কিন্তু একই ভাবে হবে । তবে এসব সমাপ্তি দেখে প্রতারিত হওয়া ঠিক না । কেননা অন্য সবগুলো মেকী । এই মেকীগুলো হয় ইচ্ছাকৃত, যা প্রতারিত করার জন্য বিদ্বেষপূর্ণ গোপন বাসনা, নতুবা নির্ভেজাল অত্যধিক আশাবাদ দ্বারা প্ররোচিত, যদি না সেটা পুরাদস্তুর অনুভূতির হয় ।

যাহোক, একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য পরিণতি এখানে তুলে ধরা হলোঃ

জন এবং মেরী মারা যায় । জন এবং মেরী মারা যায় । জন এবং মেরী মারা যায় ।

সংসার-জীবনের পরিণতির জন্য অনেক পথই খোলা আছে । তবে শুরুটা কিন্তু সবসময় মজাদার, রঙ্গরসে ভরপুর । দাম্পত্য জীবন খাঁটি আনন্দদায়ক । তাই অনেক কিছু মানিয়ে নিতে হয়, যদিও সেগুলো করা বেশ কঠিন ।

গল্পের কাহিনীর বিন্যাস হিসেবে শুধু এটুকুই বলা যায় যে, সে-টা একটা শব্দের পর আরেকটা শব্দ দিয়ে গড়া, কি এবং কি এবং কি ।

এখন চেষ্টা করা প্রয়োজন - কিভাবে এবং কেন ?



লেখক পরিচিতিঃ বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গণে উজ্জ্বল এবং আলোচিত কানাডার কথাসাহিত্যিক, কবি, প্রাবন্ধিক এবং শিশু সাহিত্যিক মার্গারেট অ্যাটউডের (পুরো নাম মার্গারেট এলিনর অ্যাটউড) জন্ম অটোয়া শহরে, ১৯৩৯ সালের ১৮ নভেম্বর । তার শৈশব কেটেছে দক্ষিণ অন্টারিও, কুইবেক এবং টরোন্টোতে । তিনি ইউনিভার্সিটি অফ টরোন্টোর ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে মাষ্টার’স ডিগ্রী অর্জণ করেন । এ পর্য্যন্ত তিনি তিরিশটিরও অধিক উপন্যাস, কাব্যগ্রন্থ এবং মননশীল প্রবন্ধের বই রচনা করেন । তার মধ্যে ‘দ্য এডিবেল ও্যম্যান’ (১৯৬৯), ‘দ্য হ্যান্ডমেইড’স্ টেইল’ (১৯৮৫), ‘অ্যালিয়াস গ্রেস’ (১৯৯৬), ‘দ্য ব্লাইন্ড অ্যাসাসিন’ (২০০০) এবং ‘ম্যাডঅ্যাডাম’ (২০১৪) অন্যতম সফল উপন্যাস । তবে ‘দ্য হ্যান্ডমেইড’স্ টেইল’ বিংশ শতকের উল্লেখ্যযোগ্য নারীবাদী উপন্যাস হিসেবে গণ্য করা হয় । ‘দ্য হ্যান্ডমেইড’স্ টেইল’ উপন্যাসের জন্য তিনি কানাডার গভর্ণর জেনারেল পুরস্কার এবং ‘অ্যালিয়াস গ্রেস’ উপন্যাসের জন্য তিনি কানাডার ‘গিলার প্রাইজ’ লাভ করেন । তার ছোটগল্প সংকলনের মধ্যে রয়েছে ‘ডান্সিং গার্লস্ এন্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৮২), ‘ব্লুবিয়ার্ডস্ এগ্ এন্ড আদার স্টোরিজ’ (১৯৯১) এবং ‘গুড বোনস্ এন্ড সিম্পল মার্ডার’ (১৯৯৪) । এছাড়া ২০১৪ সালে প্রকাশিত হয় তার সর্বশেষ ছোটগল্প সংকলন ‘স্টোন ম্যাট্রেস: নাইন টেইলস্’ । যদিও তার উপন্যাস পাঁচবার ‘ম্যান বুকার’ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল, কিন্তু ২০০০ সালে তিনি ‘দ্য ব্লাইন্ড অ্যাসাসিন’ উপন্যাসের জন্য এই পুরস্কার অর্জণ করেন । এছাড়া তিনি সাহিত্য কর্মের জন্য অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেন । তার সাহিত্যকর্ম বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে । একজন নারীবাদী লেখক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গণে অত্যন্ত পরিচিত । বর্তমানে তিনি সপরিবারে কানাডার টরোন্টো শহরে বসবাস করেন ।

গল্পসূত্রঃ ‘সুখময় সমাপ্তি’ গল্পটি মার্গারেট অ্যাটউডের ইংরেজিতে ‘হ্যাপি এন্ডিংস্’ গল্পের অনুবাদ । গল্পটি লেখকের কানাডার সংস্করন ‘মার্ডার ইন দ্য ডার্ক’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে ।

দাম্পত্য জীবনে প্রেম-ভালোবাসার মাঝে কি ধরনের পরিসমাপ্তি ঘটতে পারে, ‘সুখময় সমাপ্তি’ গল্পের ছয়টি আলাদা পরিচ্ছদে লেখক তারই নিখুঁত চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন । এছাড়া তিনি আটপৌড়ে সংসার-জীবন, সুখ-সমৃদ্ধি এবং শেষ পরিনতির মতো বিষয়গুলোর গভীরতাও অনুসন্ধান করেছেন ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন