বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

আবু উবায়দাহ তামিম'র গল্প : নির্জন আচরণে

মজিল নূর অবশেষে তার বউ জামিলাকে বলল, জামিলা তোমার মুরগীটা রান্না করবা আজ? আমার বন্ধু শরীফ আসছে চট্টগ্রাম থেকে। 

জামিলা কলপাড়ে বসে সকালের ঝুটাঅলা থালাবাটি ধুচ্ছিল এতক্ষণ, মজিলের কথা শুনে সে থালাবাটি ধোয়া সাময়িক বন্ধ করে রেখে মজিলের মুখের দিকে চোখ মোটা করে তাকিয়ে থাকল; কেমন যেন পৃথিবী-ঘৃণ্য কোনো অপরাধ করে ফেলেছে মজিল। সে বউয়ের এমন করে তাকিয়ে থাকা দেখে নিজের ভেতরে কিছুটা থতমত খেয়ে আবারও বলল, তোমাকে বলেছিলাম না আমার বন্ধু শরীফের কথা! হ্যাঁ ও আসছে! ফোন করেছিল। মজিলের দ্বিতীয় কথারও কোনো উত্তর দিল না জামিলা। বরং এবার সে মুখটি সামান্য সংকুচিত করে পুনরায় থালাবাটি ধোয়া শুরু করলে মজিল কিছুটা বেকুব বনল। মজিল বুঝতে পারল না এখন কী করবে । সে বাম পা উঠিয়ে ব্যর্থ হওয়ার ভঙ্গিতে মৃদৃ শব্দে পা মাটিতে ফেলল এবং মুখে ‘শিট’ বলার মতো কিছু একটা বলতে বলতে নিজের ঘরের দিকে ঢুকে গেল।

শরীফ মজিলের খুব ভালো বন্ধু। ওরা যদিও বালকবেলার বন্ধু কিংবা একসঙ্গে পড়–য়া বন্ধু নয় তবুও ওদের বন্ধুত্বের ঘনত্বটা এত বেশি যে, যে কেউই দেখলে তার ঈর্ষা করতে পারে। ওরা দুজন দুজনের বন্ধু হয়েছে চার বছর আগে- যখন মজিল বিয়ে করার পরে চট্টগ্রামে গেল একটা কুরিয়ার কোম্পানিতে চাকরী করার জন্য। সেদিন ইন্টারভ্যিউয়ের সময়ই ওদের বন্ধুত্ব হয়ে গেল। মানে সেদিন ইন্টারভ্যিউয়ের পর দুজন একসঙ্গে এ্যালাউড্ হলো বলেই এই বন্ধুত্বের জন্ম হলো, অর্থাৎ সেদিন যদি দুজনের কেউ একজন বাদ পড়ত তাহলে বন্ধুত্ব তো দূরের কথা, হয়ত জীবনে আর দেখাই হতো না তাদের। কী আশ্চর্য্যরে বন্ধুত্ব! যেন খালের উপরে চারপায়া ঘরের দু‘কোনা থেকে দুটো পায়া ভেঙ্গে যাওয়ার পরে, বাকী দু‘কোনার পায়ার উপরে ঘরটি সামান্যভাবে টিকে গেল। আজ সেই দুজন বন্ধুর দেখা হবে বলেই হয়ত সকালটা সুন্দর ছিল । খুব সকালে উঠে মজিল যখন হাওয়া খেতে বাইরে গেল তখন তার ফোনে হঠাৎ করে শরীফের ফোন এলো। অপরিচিত নাম্বার। ধরতে না চেয়েও যখন ফোনটা ধরে ফেলল মজিল। তখন ওপাশ থেকে চার বছর আগেকার বন্ধুর গলার আওয়াজ পেয়ে মজিলের হৃদয়টা বড় উদ্বেল হয়ে উঠল। ‘বন্ধু’ ‘বন্ধু’ সম্বোধনে কত কথা জুড়ে দিল দুজন বন্ধু। কিন্তু সবকথার শেষ হলে শরীফ যখন বলল, বন্ধু দুপুরে তোমার ওখানে খাব কিন্তু; রান্নাবান্না করতে বলো তোমার বউকে!

তখনই মজিলের জানটা কেমন যেন রৌদ্রে শক্ত হওয়া কাগজের মতো খসখস করে উঠল।

মজিল দৃড় গলায় বলল, শরীফ তোমার আসার দরকার নেই। এবং ভুলে যাও আমাদের কোনোদিন বন্ধুত্ব ছিল।

দুজনেই খানিক্ষণ চুপ হয়ে রইল এই কথার পর। আবার যখন হালকা কাশ দেয়ার শব্দ করে শরীফ বলল, হ্যাঁ কথা বলছো না কেন? বন্ধু। মজিল তখন বুঝতে পারল আসলে তার গলা থেকে দৃড় গলায় শরীফকে আসতে নিষেধ করার কোনো কথাই বের হয়নি। মাত্র কথাটি বলার কল্পনা করেছিল মজিল। মজিল মনে মনে ভাবে, শরীফ কি জানে তার এই বন্ধু কোন অবস্থায় আছে? হয়ত জানলে সে নিজে থেকেই আসতে চাইত না। তবুও বন্ধুর কথার সঙ্গে সায় দিয়ে মজিল বলল, এসো বন্ধু এসো এসো। বড্ড খুশি হবো গো।

কৃত্তিম হাসি যুক্ত করে শেষ কথাগুলো বলে ফোন রেখে দেওয়ার পরে মজিলের মুখটা এবং ভেতরের কলিজাটাও যেন বেশ শুকিয়ে গেল। শরীফকে তো আসতে বলেছে কিন্তু খেতে দেবে কী? সেই চট্টগ্রাম থেকে আসছে খুলনা, বহুপথীয় ভ্রমন। আরো শরীফ এখন বড় ব্যাংকের অফিসার হয়ে গেছে। তাকে কি শুধু শাকভাত কিংবা ডালভাতে আপ্যায়ন করা যায়! তাছাড়া বন্ধুর বাড়ি বলে তো একটা ভিন্নকথা থেকে যায়। আর এমনও সময় শরীফ আসতে গেল, যে সময়টা মজিলের পকেট একেবারে পয়সাশূন্য। পথে আসতে আসতে মজিল অবশ্য এই ঝামেলা বিহিত করার এক বুদ্ধি খুঁজে পেয়েছিল- তা হলো জামিলার মুরগীটা জবাই করে দুপুরে রান্না করা, তাহলে ওটা দিয়েই বন্ধুর আপ্যায়ন করা যেত। কিন্তু বাড়িতে ফেরার পরে মজিল মুরগীর ব্যাপারে বলতেই জামিলার মন মেজাজ খারাপ হয়ে গেলে দ্বিতীয় দফায় দুশ্চিন্তায় পড়ল সে।

মজিল একবার ভাবল আবারও সে জামিলার কাছে যাবে। জামিলা যতক্ষণ মুরগী জবাই করতে সম্মত না হবে ততক্ষণ তার পেছনে আঠার মতো লেগেই থাকতে হবে। এতে জামিলা যাচ্ছে না তাই বলে যাক, তবুও যদি শেষ পর্যন্ত মুরগীটা রান্না হয় তাহলে অনেকদিনের পুরোনো বন্ধুর কাছে মজিলের মান সম্মানটা অন্তত বেঁচে যাবে। সেই হিসেব করে ঘর থেকে বেরিয়ে মজিল আবারও জামিলার কাছে গেল। বলল,

- জামিলা অন্তত আজ আমার কথাটা রাখো। বেতন পেলে তোমাকে এর দামটা পুষিয়ে দেব সত্যি।

জামিলা হঠাৎ মৃদু কান্নার সঙ্গে শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ ডলতে ডলতে বলল,

- আম্মা কী বলেছিল তোমার কি মনে আছে? ঐটা আমাদের নিজেদেরই খেতে বারণ করেছিল। সেটা আমি তোমার বন্ধুর জন্যে রান্না করি কিভাবে? বলো।

জামিলার কান্না করতে থাকা কথাগুলো শুনে মজিল চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। এরপর সে কী বলবে জামিলাকে, তা সহসা মাথায় ঢুকল না। বরং মজিলের তখন রাগ উঠল শরীফের উপরে। কী দরকার ছিল এত বড়লোকী হয়ে আসার! কিংবা তোর জায়গায় তুই থাকতিস! আমার বাড়িতে মরতে এলি কেনো? শুধু শুধু তোর জন্যে বউয়ের কাছে আমার অপমান সইতে হচ্ছে। কথাগুলো মনে মনে বলতে থাকল আর ট্রাউজারের পকেটে হাত ঢুকিয়ে হনহন করে বাড়ির উঠোনে পায়চারী করতে থাকল মজিল। যেন কোনো ভাবনাই আসতে চাইল না তার বেল সদৃশ মাথার ভেতরে।


দুই.

সেদিনকে মজিলের শাশুড়ী, অর্থাৎ জামিলার মা মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। আসার সময় কী নেবে কী নেবে ভাবতে ভাবতে বাজারের ভেতরে হুটহাট পেয়ে গেল বড় সাইজের দুটো দেশী মুরগী। দোকানদার সাইকেলে করে দুটো মুরগীই এনেছিল সর্বমোট। জামিলার মা যখন মুরগীর দাম শুনতে গেল, তখন দেখল দোকানদার তার বাপের বাড়ির পুরোনো আত্মীয় হয়ে বসে আছে। এবং সেই আত্মীয়তার সুবাদে খুব কম দামে মুরগী দুটো পেয়ে গেল সে। তারপর সেখান থেকে একটা মুরগী জামিলাদেরকে দিল, আরেকটা নিল নিজের জন্য। আর জামিলার মা যাওয়ার সময় জামিলাকে খুব তাগাদা দিয়ে বলেছিল,

- মুরগীটা খাস না যেন, মাস খানেকের মধ্যি ডিম দেবে কইলাম।

সেই মুরগীটাই এখন রান্নার জন্য জ্বোর দিচ্ছে মজিল। আর জামিলা মায়ের দেওয়া মুরগীটা জবাই করতে পুরো নারাজ হয়ে আছে। কেমন যেন অবস্থাটা এমন যে, এক টুকরো গোশত পেয়ে দুটো কাক কামড়া-কামড়ি করতে যাচ্ছে। কেউই ছেড়ে দিতে চাচ্ছে না তা একে অপরকে।

যেহেতু আজ ভোরে আসার কথা বলেছে শরীফ; সুতরাং তার আসতে আসতে দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে যাওয়ার কথা। ততক্ষণে মজিল এদিকে বাসা ভেঙ্গে দেয়া বলতার মতো ভোঁ ভোঁ করে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর দুপুরে খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে কী করবে তাই ভেবে মরছে। মধ্যবেলার আগে আগে শরীফ আবারও একবার ফোন করল মজিলের কাছে। মজিল ফোনটা ধরার আগে একবার ভাবল, এবার আসতে না হয় নিষেধই করে দেই। সব খুলে মেলে বললে শরীফ আসবে না। অবশেষে ফোনটা ঠিকই ধরল মজিল। কিন্তু কিছুই বলতে পারল না সে। শরীফ বলল,

- আচ্ছা, আমি ভালো দই নিয়ে আসছি। তুই যেনো দই টই কিনিস না। বুঝলি?

মজিল বন্ধুর আগমন নিয়ে কিঞ্চিৎ উচ্ছাস ধরে রেখে বলল, হ্যাঁ হ্যাঁ বন্ধু ঠিকাছে। তাই ই করবো আমি।

ফোনটা রেখে মজিলের মনে হতে লাগল- দুনিয়ার মধ্যে সবচে’ বড় হতভাগা একমাত্র সে নিজেই। নয়তো একটা বন্ধু আসবে তার জন্য সামান্য ভালো কিছু রান্নাও করার সামর্থ্য তার থাকবে না, এ কী দূর্ভাগা ছাড়া আর কারো হয় কখনো?

মজিলের মনে পড়ে যায়, তারও একদিন ভালো চাকরি ছিল। ছিল ভালো একটা বেতনও। একটি বেসরকারী কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের চাকরি সেটা। তবু সেখানের চাকরিটা ছেড়ে দিতে হলো ইচ্ছা করে। অবশ্য এর কারণটা মনে করতে গেলে মজিলের নিজের ভেতরেই কিছুটা লজ্জার আবরণ পড়ে যায়। তারপর যদিও একটা কুুরিয়ার সার্ভিসে চাকরী সে নিয়েছিল, তবে সেখান থেকে আর আগের মতো মোটা অংকের বেতন পেল না। এই ধরা যায়, মাস গেলে ৫ হাজার বা তার থেকে কিছু বেশি টাকা হাতে পায়; যা দিয়ে মজিলদের মতো সন্তানহীন সংসারটা টেনেটুনে কোনো মতে চলে যায়। মানে ব্যাপারটা এমন যে, তিনবেলা খাওয়া দাওয়া জোগাড় করতে গিয়ে বউয়ের কিংবা নিজের জন্যে আর জামা-কাপড় বা ছ্যা-েলের মতো অতি-প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পয়সা অবশিষ্ট থাকে না মজিলের হাতে। সেভাবেই তলা ক্ষয়ে যাওয়া ছ্যা-েল নিয়ে সংসারের কাজ করে যাচ্ছে জামিলা এই দীর্ঘ কয়েকমাস। এতে অবশ্য জামিলার কিছু এসে যায় না। তাকে মজিল ভালোবাসলেই হলো। তবে মজিল যেহেতু অফিসিয়াল মানুষ; প্রতিদিন অফিসে যেতে হলে এবং কলিগদের সঙ্গে মিশতে হলে একটু ফিটফাট থাকার প্রয়োজন পড়ে। সেহেতু তার ছ্যা-েল ক্ষয় হওয়া থেকে বাঁচাতে একটু পা টিপে টিপে সতর্কভাবেই হাটতে হয়। ওদিকে মজিলের বন্ধু শরীফের দিকে তাকালে দেখা যায়, তার ভাগ্যটা কিন্তু অনেক ভালো। কুরিয়ারে যখন মজিল আর সে একসঙ্গে চাকরী করত, তখন হুটহাট একদিন বিয়ে করে বসল শরীফ। অফিসের কেউ জানত না, শুধু লুকিয়ে লুকিয়ে মজিলকে দাওয়াত করে খাইয়েছিল সে। শরীফের ভাগ্যটা যে জড়িয়ে ছিল সেই বিয়েতেই, তা কি কেউ জানত? এমনকি স্বয়ং ঈশ্বরও বোধ’য় জানতেন না। বিয়ের পরপরই শরীফের শশুর শরীফকে ঢুকিয়ে দিল একটি ব্যাংকে। আর সেখান থেকেই শরীফ টাকার পাহাড় গড়ে তুলল হুড়হুড় করে। তখন মজিল তার বন্ধুর ভাগ্যের উপর ঈর্ষা করতে করতে একসময় সেখানকার চাকরিটা ছেড়ে দিল। মানে তার কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের চাকরিটা কেমন যেন স্বাদহীন চানাচুরের মতো লাগতে শুরু করেছিল তখন। আর সেই ভালো না লাগাটাই হয়ে দাঁড়াল আজকের দিনের দীনতার প্রধান কারণ।


তিন.

দুপুরের তাপঅলা সূর্য পঞ্চিমে হেলে পড়ার সঙ্গে জামিলার মুরগী না দেয়ার’ শক্ত মনটাও যেন নরম হয়ে গেল ক্রমে। মজিল তখন নিরূপায় হয়ে ঘরে শুয়েছিল, হঠাৎ পায়ের কাছে জামিলার অস্তিত্ব আবিস্কার করল সে। মজিল উঠে বসতেই জামিলা বলল,

- মুরগীটা জবাই করো। তোমার মন খারাপ দেখে আমারও মন ভলো নেই। জানো?

মজিল খুশিতে মুখ থেকে কোনো কথা বের করতে পারল না। শুধু তার চেহারা থেকে যেন অগ্নিরূপ আনন্দের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকল। তারপর মজিল ধারাল ছুরি বের করে উঠোনে ঘুরে বেড়ানো মুরগীটা ডানাসুদ্ধ হেঁচকা টানে ধরে ফেলল। আর জামিলা মুরগীর দুই পাসহ পুরোটা জ্বোর শক্তি খাটিয়ে ধরলে মজিল ছুরিটা মুরগীর গলায় বসাতে উদ্ধত হলো। তখনি জামিলা ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠে বলতে লাগলো,

- দ্যাখো! দ্যাখো! মুরগীটা কী যেন বলছে! ও বলতে চাইছে- ওকে জবাই না করতে। ও মজিল শুনতে পাচ্ছো তুমি।

জবাই করার মতো এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে জামিলার ন্যাকামো কান্না দেখে মজিলের মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। সে কোনো পাত্তা না দিয়ে মুরগীর নরম গলার পরে রাগে রাগে ছুরি চালিয়ে দিলে ফরফর করে মু-ুটা শরীর থেকে আলাদা হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। তারপর উঠোনের একপাশে রক্ত ছড়িয়ে লাফাতে লাগলো মু-ুহীন মুরগীটা, আরেকপাশে চোখের জলে বুক ভাসাল জামিলা।

অবশেষে সব চরাই-উৎরাই পেরিয়ে সন্ধ্যে নামার আগে আগে রান্না-বান্নার কাজ সমাপ্তি হলো তাদের। এরপর তারা বন্ধু শরীফের আগমনের অপেক্ষা করতে লাগল। শরীফ এখনো তাদের বাসায় পৌঁছাতে পারেনি। ঘরের মধ্যে রাখা গরম মুরগীর গোশতের ঘ্রাণ কড়াইয়ের ফাঁক ফোঁক দিয়ে বেরিয়ে সারা ঘর ধরে মৌমাছির মতো ভুর ভুর করতে লাগল, মাঝে মাঝে তা আবার জামিলা বা মজিলের নাকে গিয়ে হুল ফোটালে তারা শরীফের উপরে একমুঠো বিরক্তি প্রকাশ করে বলে,

- আসতে আর কত দেরী হবে কে জানে! মেজাজটা খারাপ হয়ে যায় বসে থাকতে থাকতে।

শরীফ সেই দুপুরে ফোন করার পরে আর কোনো ফোন করেনি। আর মজিলও ফোন করতে পারেনি তার ফোন ব্যালেন্স না থাকার কারণে। সুতরাং মজিলের ইচ্ছা থাকলেও ফোন ব্যালেন্সের কাছে তার কথা বলার ইচ্ছা বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে মজিল এই ব্যাপারে দৃড় যে, সামান্য দেরী হলেও তার বন্ধু আসবে। মজিল বন্ধুর আগমনের উচ্ছাস দমিয়ে রাখতে পারে না। সে অস্থির হয়ে ওঠে ক্রমশ। তারপর কিছুক্ষণ বাদে শরীফ ফোন করে মজিলের কাছেÑ বলে,

- বন্ধু আজকে আর আসতে পারছি না, আমি খুলনায় আবার আরেক স্যারের বাসায় উঠেছি, স্যারের বউ অনেক জ্বোর করে বের হতে দিল না।

মজিলের মেজাজটা হঠাতই কামারের দীর্ঘক্ষণ আগুনে জ্বালানো কোনো লোহার মতো রূপ ধারণ করল। যার জন্যে এতকষ্ট করে সারাটা দিন গেল, সেই এখন বলছে আসবে না। তবুও মজিল বরাবরের মতোই কিছু বলল না শরীফকে। শান্তভাবেই সে শরীফের উত্তরগুলো দিয়ে গেল। ফোনটা রেখে সে চুপচাপ মাথা নিচু করে যখন বসে রইল; তখন অকস্মাৎ তার মনে হলো- ঘরের ভেতরে সেই গোশতের কড়াই থেকে একটা চিকন স্বরে মুরগীর গলার আওয়াজ এলো। আওয়াজটা ভালোভাবে বুঝতে পারল না মজিল। তার মনে প্রশ্ন জাগল, তাহলে কি মুরগীটা জবাই করার সময় সত্যিই কোনো আওয়াজ শুনেছিল জামিলা? সে চোখ উঠিয়ে তাকায় জামিলার দিকে। জামিলা মজিলের চোখের ভাষা না বুঝেই বলল, তোমার বন্ধু কি আসবে না? এত সুন্দর করে রান্না করলাম মুরগীখান! তাড়াতাড়ি আসতে বলো!

মজিল কোনো উত্তর দিল না। জামিলা আবারও প্রশ্ন ছুঁড়তে থাকল মজিলের দিকে...।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন