শুক্রবার, ১০ মার্চ, ২০১৭

মহুয়া মল্লিক'এর গল্প : নদীর মত জীবন

(এক)

ওর চারপাশে এখন প্রণয়ী বাতাস উলু দিচ্ছে , চন্দ্রভূক পতঙ্গের মত ও এখন মাথাটা উঁচু করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। ছাদের সেই বেদীর মধ্যে বসে আছে ওর জ্বালা পোড়া ত্বক নিয়ে । আজ ওকে গলা ধাক্কা দিয়ে বার করে দিয়েছি , ওর স্পর্ধা দেখে থমকে গিয়েছিলাম, বুকের কাছে আমার পাঞ্জাবিটা খামচে ধরে ও আজ প্রতিবাদ করতে এসেছিল , নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারিনি আঁচড়ে খামচে ওর নরম কাঁধ আর মরাল গ্রীবার কিছুটা রক্তাত করে দিয়েছি। ও কেমন অভিমানী চোখে আমাকে দেখতে দেখতে খাড়া সিঁড়ি ধরে নিচে নেমে গেল । হয়ত ভাবতেই পারেনি দীর্ঘ সতের বছর ধরে যত্ন নিয়ে যে নির্মাণ আমি করেছিলাম তা এমন অবহেলায় এক লহমায় ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে পারি ।

“তোমার কফি’ ......আহ এই মেয়েটা যেন জাদু জানে। এই মুহূর্তে ধোঁয়া ওঠা একটা কফি মগ যে আমি চাইছি তা এ মেয়ে ঠিক বুঝেছে। আসলে এই স্বচ্ছতোয়াও তো আমার নির্মাণ , আমার ব্রেন চাইল্ড । বুঝবেইনা বা না কেন কখন আমার কি দরকার ! তাহলে কিসের আমার দম্ভ , কিসের আমার ...... হ্যাঁ ওরা সবাই, মানে এই গ্রামের লোকজন বলে আমি নাকি ব্রেণওয়াশ করি বয়ঃসন্ধির ওম জারিত এই সব কোমল ডানার ঝলমলে তিতলিদের। আবার কেউ কেউ বলে আমার কপিশ তারারন্ধ্রের অতলে লুকিয়ে আছে মায়াচুম্বক , একবার যে চোখে চোখ রেখেছে তলিয়ে গেছে চোরাবালিতে ।

“তিস্তাদির সাথে ওমন করলে কেন ? একটা ফোন করবে ?” কফি মগ থেকে দৃষ্টি প্রসারিত করলাম স্বচ্ছতোয়ার চোখে । সেখানে এক অলীক জ্যোতির বিচ্ছুরণ যা এই মুহূর্তে ওর অতি সাধারণ নাক, চোখ , ঠোঁটকে ও পরম রম্য করে তুলেছে । ওকে কাছে টেনে নিলাম । ও প্রতিবাদ করলোনা । শুধু অস্ফুটে বলে উঠল, “কেন এত কষ্ট দিলে তিস্তাদিকে , সোনা?’ সবার সামনে সোনা জ্যেঠু বললেও আজকাল এই মেয়ে আমাকে সোনা বলছে । ভ্রু কুঁচকে তাকালাম । এক ধাক্কায় ওকে সরিয়ে দিতে দিতে বললাম , “খবরদার কৈফেয়ত চাস না, অজয় সোম কারুকে কৈফেয়ত দেয়নি, দেবেওনা, মাইন্ড ইট’।

আমার ছবিঘরে ঢুকলা্ম। মন অশান্ত থাকলে এইখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাই। এই ঘরটা যেই দেখে বলে অদ্ভূত । ঘরের একটা দেওয়াল সম্পূর্ণ কাঁচের । বাকী তিনটে দেওয়ালে আমার কম বয়সের আঁকা গুলো থরে থরে সাজানো । বেশির ভাগ ছবিই সাদা কাপড়ের উপরে আঁকা । তিস্তাই একদিন পুরনো আলমারি ঘেঁটে সব বার করেছিল । তারপর চাকরিতে জয়েন করার পর, প্রথম মাসের স্যালারি পেয়ে সব ছবি ওই ফ্রেমিং করিয়ে এনেছিল । ছাদের এক কোনায় এই ছবিঘরটা নিজেই রাজমিস্ত্রীর সাথে আলোচনা করে বানিয়ে তুলেছিল । ওরই পচ্ছন্দ করা পর্দা , রকিং চেয়ার, কার্পেটে , এমনকি কোনও জোরালো আলো না, ছাদের মধ্যে বিভিন্ন এঙ্গেল থেকে লাগানো লাল, নীল, সবুজ, হলুদ নরম আলোয় এই ঘরটা সাজানো । ঘরটায় ঢুকলে সর্বত্র ওর গায়ের গন্ধ পাই । একটা বুনো বুনো গন্ধ , অনেক রকম জংলা গাছের পাতা এক সাথে হাতের চেটোয় দললে ছোটবেলায় যেমন গন্ধ পেতাম, ঠিক তেমন গন্ধটা । এই গন্ধটা লুকনোর জন্য তিস্তা পারফিউম ব্যবহার করতে চাইত , আমি বারণ করেছিলাম । আমার নিষেধ অমান্য করার মত সাহস ওর হয়নি , অন্ততঃ এতদিন হয়নি । কিন্তু আজ ......

সব আলো নিভিয়ে দিলাম । কাঁচের দেওয়ালের কাছে এসে দাঁড়ালাম । আজ সারাদিন তিস্তা একবার ও আসেনি , অথচ রবিবার ছুটির দিনগুলো সকাল থেকেই ও এখানে চলে আসে । আজ আসেনি। আবার ফোনটাও সুইচড অফ করে রেখে দিয়েছে । স্বচ্ছতোয়া ওর বাড়ি থেকে ঘুরে এসে জানালো , “তিস্তাদি মুখে সর বেসন মেখে বসে আছে, ইশারাতে কি সব বলল কিচ্ছু বুঝলাম না”। আমি কিন্তু যা বোঝার বুঝে গেছি , বারন করা সত্তেও কলিগ কাবেরীর মেয়ের অন্নপ্রাশনে যাবেই, কাবেরীর পিসতুতো দাদা অধিরাজ ও আসবে। আর তাই ওর যাবার এত আগ্রহ। যাবার আগে ছোট্ট একটা টেক্সট , “ রাগ কোরনা , ফিরে দেখা করে আসব”। তখন থেকেই ফুঁসছিলাম । শান্ত নদীতে বান এলে যেমন ফোঁসে , ঠিক তেমন ভাবে। শুধু লগ গেট গুলো খুলে দেবার অপেক্ষা , দুকুল ভাসিয়ে তছনছ করে দেব আজ।

জানলা থেকে সরে এসে আবার এক এক করে সুইচ গুলো অন করলাম । নরম আলো ষোড়শী কন্যার মত ঝাঁপিয়ে নামলো ঘরে । এগিয়ে গেলাম আমার প্রিয় ছবিটার দিকে । তিস্তা যখন প্রথম শোনে এই ছবিটা আমার প্রাণাধিক প্রিয়, কয়েক পলক থমকে তাকিয়েছিল। সেদিন ওর সাথে এসছিল ওর এক তুতো বৌদি । মেয়েটি একটি স্কুলে বাংলা পড়ায় এবং কবিতা লেখে। তিস্তাই ওকে নিয়ে এসেছিল কবিতাগুলো আমাকে দেখাতে। পরে পড়ব বলে সরিয়ে রেখে, প্রশ্ন করেছিলাম ছবিটা কিসের বলতে পারবে দুজনার কেউ ? এক সাথে ওরা উত্তর দিয়েছিল , “অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট ।‘ ওদের মুর্খামিতে বিশেষ করে ওর ঐ ঝলমলে সাজের বউদির মুর্খামিতে বেশ আমোদ পেলাম । ওর দিকে তাকিয়ে বললাম স্কুলে বাংলা পড়াও, কবিতা লেখো অথচ দেখার চোখ তৈরী হয়নি । পড়তে হবে, অনেক পড়তে হবে । আজকালকার ছেলেমেয়েদের এটাই সমস্যা ছাপার অক্ষরে নিজের নাম দেখার জন্য এত মরিয়া সব্‌, যে পড়াশোনায় মন দেয়না। মেয়েটার মুখটা কালো হয়ে যেতে দেখে অদ্ভূত আনন্দ পেয়েছিলাম। তারপর বললাম ভালো করে দেখো ওটা শেষের কবিতা। মেয়েটা চোখ কুঁচকে অনেকক্ষণ ছবিটা দেখে তারপর বলেছিল , “মাফ করবেন আমি এর মধ্যে লাবণ্য, অমিত বা কেতকী কারুকেই আইডেন্টিফাই করতে পারলাম না’। 

লাবণ্য গড়তে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ কেটীর উগ্রতা গ্রাস করে নিচ্ছে তিস্তাকে একটু একটু করে । দামী বিউটি সেলুন থেকে যেদিন কোমর ছাপানো চুলটা কাঁধ অবধি স্টেপ কেটে হাইলাইট করে অফিস ফেরত বিরিয়ানীর প্যাকেট নিয়ে আমার বাড়িতে নাচতে নাচতে এসেছিল সেদিন ও কষিয়ে একটা থাপ্পড় দিয়েছিলাম । কিন্তু ও গ্রাহ্য করেনি হাসতে হাসতে আমার গলা জড়িয়ে ধরে বলেছিল , “কাবেরী বলল , কি বুড়ি বুড়ি মার্কা সেজে থাকিস , আমাদের এই প্রাইভেট সেক্টর গুলোতে টিকে থাকার মূল মন্ত্র কিন্তু নিজেকে ঝকঝকে গ্ল্যমারাস রাখা’। বলতে ইচ্ছে করেছিল , তোর চাকরিটা অ্যাড এজেন্সিতে নাকি এক্সকট এজেন্সিতে । আমার মুখের কথা মুখেই আটকে গিয়েছিল, সেই বুনো গন্ধটা ঝাপ্টিয়ে নাকে এসে লাগছিল, কথা হারিয়ে গেছিল আমার। আজও যদি সেই গন্ধটা নাকে এসে লাগত আমি কি পারতাম এত নিষ্ঠুর হতে তিরিশ বছরের ছোট মেয়েটির প্রতি ? মাথায় আগুন জ্বলে উঠল, যখন দেখলাম গাঢ় বেগুনী জামদানি, রাজস্থানি কুন্দনের গয়নায় কাবেরীর বাড়ি ফেরত ও, এ বাড়িতে এসেছে । স্বচ্ছতোয়ার সাথে কি একটা জিনিস নিয়ে হাসাহাসি করছে । স্বচ্ছতোয়া একুশ আর ও তেত্রিশ, দেখে মনে হয় যেন দুই সখী । আসলে এই বাড়ির ধর্মই এম্‌ন, একুশ, তেত্রিশ , তেষট্টির সমীকরণ এখানে চলেনা । আমরা সবাই এক ছাদের তলায় এখানে সমবয়সী সমমনস্ক সমগোত্রীয় । আমাকে দেখেই হাতের জিনিসটা লুকনোর চেষ্টা করলো স্বচ্ছতোয়া , কিন্তু গন্ধটা কে লুকোতে পারেনি। তিস্তার গায়ের সেই জংলা গাছের গন্ধটাকে চেপে দিয়ে সারা ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছে বিদেশী সৌরভ । এ সৌরভ আমার খুব চেনা, মেয়ে জামাই গতবার প্যারিস থেকে নিয়ে এসেছিল এই সুগন্ধি । তিস্তার এখন যা ফিনান্সিয়াল অবস্থা , কতদিন বলেছি ছবিঘরের প্যরাপিটটা করিয়ে স্টিলের একটা ঘোরানো সিঁড়ি লাগিয়ে দে । নিজেই তো মই দিয়ে ওই টঙে উঠে রাত্রে শুয়ে থাকিস, কবে কি দুর্ঘটনা ঘটে যায় তার ঠিক নেই । ততবারই ও ওর লোণ , বাবার ট্রিটমেন্ট এইসব বাহানায় হাতখালি বলে এড়িয়ে যায় । আগে কিন্তু ও এমন ছিল না, আজকাল বদলে যাচ্ছে । অথচ নিজের জন্য এতদামি পারফিউম কিনেছে, শাড়িটাও নতুন । বারবার বলেছি তুই সবার থেকে আলাদা, তোকে রং, মেকী সাজ মানায়না। যত সব বন্ধন কেটে এগিয়ে যাবি দেখবি ভিতরের আলোয় তোর সৌন্দর্য উপছে পরছে । আজকাল যত ওর ভিতরের আলো কমে আসছে ও বাইরের এইসব মেকী সাজে বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে। ওই বুনো গন্ধটার ঘূর্ণি যদি সেই মুহূর্তে আমায় ঢেকে দিত , পারতাম কি এত নিষ্ঠুর হতে ?

ছবিঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। আমার বেডরুম সংলগ্ন ছোট্ট স্টাডিতে এলাম। কিছুক্ষণ পায়চারি করে নেমে এলাম মেজেনাইন ফ্লোরে স্বচ্ছতোয়ার ঘরে। এ বাড়ির নিয়ম কোনও ঘরে রাত্রে কেউ লক করে শোবেনা। এই নিয়ম যেমন স্বচ্ছতোয়ার ক্ষেত্রে তেমনই তিস্তা, ঝিলাম এমনকি আমার ক্ষেত্রেও । আলতো হাতের চাপে দরজাটা খুলে গেল। স্বচ্ছতোয়া নিজের ঘরটা বড্ড ছিমছাম করে গুছিয়ে রাখে, একটা সিংগল বেড , একটা পড়ার টেবিল । আর সারা ঘরে ধুনোর গন্ধ । ওকে একপাশে সরিয়ে ওর বেডে নিজের ক্লান্ত শরীরটাকে ছেড়ে দিলাম । ঘুমের মধ্যেও মেয়ে টের পেয়েছে আমি এসেছি , ও জেনেই গেছে তিস্তার সাথে গোলমাল হওয়ার সময় গুলোতে ওর কাছেই আমি আশ্রয় খুঁজি যেমন এতকাল ঝিলাম আমাকে আশ্রয় দিত। মেয়েটা এতদূরে পোস্টিং পেল যে ছুটিছাটা ছাড়া তেমন আসতে ও পারেনা। স্বচ্ছতোয়া গলা জড়িয়ে ঘুমের ঘোরে বুকের মধ্যে মুখ রাখলো । ছবিঘর থেকে মেয়ের এনে দেওয়া কুক্কু ঘড়ি থেকে কোকিলের ডাক জানান দিল ভোর তিনটে বাজে।



(দুই)

কাবেরীর ঊরুর তে মাথা রেখে শুয়ে আছি । স্বচ্ছতোয়া আমার হাতের আঙুল গুলো নিয়ে খেলছে । তিস্তা আজ তিন বছর হলো অধিরাজের সংসার সামলাচ্ছে। দেড় বছরের ছেলে , চাকরি আর সংসারের চাপে ও আর আমার কাছে আসার সময় পায়না । কাবেরীর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলাম । ও সেটা লক্ষ্য করেনি । একসময় বলে উঠলাম , “তাহলে আমি চ্যালেঞ্জ জিতেছি এই বুড়োহাড়েও তাইনা ?” ও কপট রাগে আমার মাথার চুল খামচে ধরল । “তা আর বলতে , এতকাল তুমি তো বয়ঃসন্ধির মেয়ে গুলোর মাথা চিবোতে, আমার মত বুড়োধাড়ি ছত্রিশকে ও রেহাই দিলেনা।‘

মধ্যরাত্রে পায়ে পায়ে ছবিঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। ওরা দু’জন অনেকক্ষণ ঘুমিয়ে পড়েছে । এলোমেলো পায়ে আমার একতলার ঘর থেকে তিন তলার ঘরে ঘুরে বেড়াচ্ছি । সর্বত্র বই আর বই । এই বইর টানে, এবং আমার চোখের অতলে লুকিয়ে থাকা মায়া কুহকের টানে ওরা ঝাঁকে ঝাঁকে নদীর মত , রূপালী জ্যোৎস্নার মত ছুটে আসে । কারুর বাবা মা মুখে অন্ন তুলে দিতে পারেনি , কেউ বা বাড়ির শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে চলে এসেছে । আবার একটা সময় সরে গেছে । কেউ বা দূরে গিয়েও এই মায়া চুম্বকের টান অস্বীকার করে বেশি দিন থাকতে পারেনি । যখন এই গ্রামে থাকতে এসেছিলাম , গ্রামের মুরুব্বি গোছের কেউ কেউ প্রতিবাদ করতে এসেছিল কিন্তু এই সব নদীর মত চিকন শরীরের নারীরা আমার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল ।

পিঠে হাতের স্পর্শ । কাবেরী । সেই কাবেরী, যে তিস্তাকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছিল । কিন্তু তিস্তার বিয়ের দিন আমার চোখে চোখ রেখে নিজেকেই হারিয়ে ফেলল । ওর ভিতরের ধ্বস টা টের পেয়ে বলেছিলাম , “আমি নাকি সবাইকে সম্মোহিত করে ফেলি , সাবধান ।‘ ও চ্যালেঞ্জ করেছিল , পারবেন না, চেষ্টা করে দেখতে পারেন । আমাকে আলাদা ভাবে চেষ্টা করতে হয়নি । অনিন্দ্যর সাথে সেপারেশন শুরু হতেই ও এ বাড়িতে এসে ওঠে ।

“কি এত ভাবছ ? চল শুতে চল । ও এখন তিস্তার ঘরটায় থাকে । এই ঘরে এলেই সেই বুনো গন্ধটা আজও পাই । পাওয়ার কথা না, কাবেরীকে একটা চন্দনের গন্ধ সব সময় ঘিরে থাকে । আসলে চেতনা জুড়ে আজ ও ওই গন্ধটাই রয়ে গেছে । কাবেরী দুহাত প্রসারিত করে আমাকে টেনে নিল , সোনালী ইঞ্চি পারের দুধ সাদা কেরালা কটনের শাড়ি , এলো খোঁপা , প্রসাধনহীন মুখের এই অসামান্যা নদী আমাকে শীতল করে দিচ্ছে । ওর বুকে মুখ ডোবাতে ডোবাতে এই প্রথম টের পেলাম চন্দন গন্ধটা কে দখল করে নিচ্ছে বহুদিনের চেনা বুনো গন্ধটা ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন