বুধবার, ২১ জুন, ২০১৭

সুমী সিকানদার'এর গল্প : কোন চিরকুট নেই

''বলেন আপনারা । এটা কি জিনাতের যাবার সময় হলো ! বলেন আপনারা।'' 
এই বলতে বলতে চোখ মোছেন দুলাভাই। তিনি মাইক্রোফোনে জিনাত স্মরণে কিছু বলতে উঠে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছিলেন। বাড়ির সবার শোকে নির্বাক অবস্থা। কেউ যেন জীবন যাপনকরছে না। সব থেমে গেছে। মাত্র ২৬তম বসন্তেই জিনাত চলে গেছে অচেনা আচরনে। জীব্নের সব স্রোত সরল নয়। কিছু সরল কিছু বাঁকা স্রোত নিরবে আছড়ে পড়ে নিন্দাগ্রস্থজোৎস্নায়।

দুলাভাই মিজানুর রহমান দায়িত্ব নিয়ে জিনাতের পক্ষে সবার কাছে মাফ চাইলেন। ''আপনারা আমাদের জিনাত কে আল্লাহর ওয়াস্তে মাফ করে দিয়েন , তার ভুল ত্রুটি কিছু যদি হয়েথাকে। যদি কারো পাওনা দেনা থাকে তবে আমাকে দয়া করে জানাবেন '' এইটুকু কথাতেই দুলাভাই এর কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেছে। কে কে যেন তাকে মাইকের সামনে থেকে সরিয়ে নিয়েগেলো। কে কয়টা গুনাহ করেছে তা কি মানুষের হিসেব আছে? তাহলে এক জীবনের জন্য কয়টা গুনাহের জন্য মাফ চায় মানুষ ?

সারা ড্রইংরুমে এবং অন্যান্য রুমের মেঝেতে সাদা সাদা চাদর বিছানো। মাঝখানে ধূপকাঠি দাঁড়িয়ে জ্বলছে সাদাচালের দানাকে ভরসা করে। সাদা চাদরের এক দৃঢ় ব্রততী শক্তি আছে।এই রঙের অপ্রতিরোধ্যতায় অন্য রঙ্গের স্তুপীকৃত কোলাহল ম্লান হয়ে যায় । সাদা শুদ্ধতা এবং মৌনতার প্রতীক। ধারণে মন শুচিপূর্ণ হয়। যেন এখনই তার কিছু পাপ ধুয়ে যাবে কিম্বাএই মাত্র সে তার খুব গোপন অন্যায় কথাটি বলে ফেলবে যার অপরাধ বোধ এতটা বছর ধরে তাকে ধরে কুরে কুরে খাচ্ছে বোবা ঘুণপোকার মত।

মাত্র মিলাদ শেষ ধীরে ধীরে লোক সমাগম কমছে। ছোটছোট ভাগে লোকজন কথা বলছেন কেউ চোখ মুছছেন। নিচু গলায় কেউ কেউ আড়ং থেকে নতুন কেনা পোষাক নিয়ে গল্পকরে ফেলছেন। গহনা কোথা থেকে কিনবেন সেটা নিয়ে চিন্তিত। কেউ ফেসবুকের নোটিফিকেশনটা একঝলক দেখে নিচ্ছেন। সেলফিতে কটা লাইক পড়লো।

মৃত্যু বাড়ি কোন এক সুযোগে বিনা অনুমতিতে উৎসব বাড়ি হয়েছে ।গুচ্ছের খাবারের বক্স আর প্যকেট এসে ডাইনিং টেবিলেই ভীড় করছে। আজ তাদের বাড়িতে চুলা ধরবে না। কিন্তুযত খাদ্যের আয়োজন লুকিয়ে রাখা যাচ্ছে না ।তাতে একে এক আনন্দ উৎসবের বাড়ি বলেই মনে হচ্ছে।

ক্ষিদে লাগলে যে চুপচাপ কেউ খাবে তাও নয়। প্লেট গ্লাস নামিয়ে ম্যাট বিছিয়ে টেবিল লাগাচ্ছে জিনাতের বড় বোন জারা। তার শশুরবাড়ির লোকজন এসেছেন। সদ্য হারানো আদরেরপুতুল বোনের জন্য কান্না বাদ দিয়ে রেখে সে খাবার বাড়ছে। তাকে যে সম্মান করে শশুড়বাড়ির সকলেই এসেছেন। চড়া দামে কেনা কড়া সম্পর্ক। এ সম্পর্কের চরিত্র আর পাল্টাবে না।

দূরে বয়স্ক ফুপুর কোলে হাতপা নাড়ছে জিনাতের ছয়মাসের মেয়ে । এই মেয়ে রেখেই এক দিনের প্রবল জ্বরে ব্রেইন হ্যমারেজে চলে গেলো জিনাত। কাউকে কিছু বলে যায়নি কারোসাথে শেষ দেখা হয়নি। মেয়েকে দেখতে চাইবার সময়টুকুও সে পায়নি। সৃষ্টিকর্তা কাউকে কাউকে সামান্য সুখের কৃপাটুকুও করেন না। এ বড় আবদ্ধতার ইঙ্গিত। অথচ তাঁর নির্ধারিতইশারায় আমরা চলি প্রতিমূহুর্ত, সারাজীবন।

সোনিয়া এক কোনায় চুপ করে বসে আছে । তার হাতে সাদা কাগজ, তাতে কি কি আয়াত কতবার পড়বে পড়বে তার নির্দেশিকা টাইপ করা আছে। কিন্তু তার এই মূহুর্তে কোন আয়াতমনে পড়ছেনা। আজকাল মিলাদের আত্মমগ্নতা হারিয়েছে মাইকের ঝাঁঝালো বয়ানে। কান্নার সুরে সুরে অনেক কিছুই শোনা যাচ্ছে স্পিকারের ছোটছোট জানালা দিয়ে। সোনিয়ার এসবকিছুই কানে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না। বন্ধুকে কাছে ফের টেনে নেবার নিদারুণ ব্যকুলতায় সে ভগ্ন। মৃত্যু এক লোলুপ আর্তনাদ।

মনে মনে সে ছোটবেলায় শেখা হামদ-নাত গাইছে। ''সে যে আমার কমলিওয়ালা কমলিওয়ালা।'' এখন তো গানের সময় না , তবু মনে গান আসছে কেন? 
স্যার একটা ভাঙ্গাচোরা বাইক নিয়ে আসতেন। প্রায় দিনই একই ছিটপ্রিন্টের শার্ট থাকতো আর গলায় সাদা মাফলার। শীত গ্রীষ্ম সারাবছর কেন গলায় মাফলার তাই নিয়ে সে আরজিনাতের সে কি হাসাহাসি। স্যরের সামনে মেঝেতে হাঁটুমুড়ে বসে সে আর জিনাত দুই বেনী মাথা নেড়ে নেড়ে গাইতো। সুরে গাইলেই স্যার কিরকম খুশী হয়ে যেতেন পকেট থেকেবিদেশী টফি বের করে দিতেন। সাদাসিধে টফির মোড়কটা খুললেই এক তাজা সুঘ্রাণ বের হতো । তারা খুলে দেখেই রেখে দিতো পরে খাবে বলে। যত বার মোড়ক খুলতো ততোবার একঅচেনা ঘ্রাণ জাপ্টে ধরতো। এখন সেই টফির কথা ভাবতে গিয়ে খাট্টামিঠা ঘ্রাণটাও গায়ের কাছে এসে ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে কিন্তু বাল্য বন্ধু জিনাতের গায়ের কোন ঘ্রাণ আর সে পাচ্ছেনা।

বন্ধুর মুখের আদলে নিজের চোখ রাখে । স্লো মোশন যেন একা একাই । জিনাত কাপড়ে ব্লক করছে , জিনাত কুরুশের গ্লাস কভার বানাচ্ছে।, নোট করছে রাত জেগে জেগে ।সকালেসব বন্ধুদের ফটোকপি জমা দিয়ে শেষে সারারাতের ঘুম ক্লাসে পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছে। জিনাত বাংলা ছায়াছবি দেখে ফোঁস ফোঁস কাঁদছে। তুখোর ছাত্রী জিনাত তাদের প্রিয়মুখ তাদেরনির্ধারিত কাঠের বেঞ্চের জায়গাটা ফাঁকা করে বিনা তর্কে চলে গেছে। কোথাও কিছু শোনা যায় না। দু’কানে শুধু নদীর ঢেউ ভাঙ্গনের আওয়াজ পরের দৃশ্যের আবহ টানে ধীরে ধীরেমিলিয়ে যায় । 

দুই বন্ধু ছাড়া আর কেউ জানতো না জিনাতের সমস্যাটা। এমন কি জিনাতের হাসবেন্ডও না। সেদিন উদভ্রান্তের মতই জিনাত ছুটে এসেছিলো । না ঘুমানো ক্লান্ত চোখ দেখে সোনিয়াতখন কিছুই বলতে দেয়নি। ‘’তোর দু’চখে ঘুম। এখন শুধু ঘুমাবি।‘’ 

ক্লাস থেকে ফিরে দেখে জিনাত সেই আগের মতো। মন দিয়ে মায়ের শাড়িতে এপ্লিক করছে। কি কারণে এসেছিলো যেন সে ভুলেই গেছে।

জিনাতের দুলাভাই জেনে বুঝে চুড়ান্ত সর্বনাশ করছিলেন। জিনাতের সঙ্গে প্রেম আবার তার বড় বোনের সাথে সুখের পায়রা ওড়া সংসার। হাত তালি দিলেই পায়রারা একজায়গাথেকে একটু দূরে উড়ে যেত । আবার খানিকবাদে খোপের কাছে ফিরে আসতো বকবক করতে করতে। ছাতে ছিলো পায়রার দশ ঘর। এখানেই জিনাতের মন পরে থাকতো। মিজানছাতে খাবার দিতে এলেই জিনাত লুকিয়ে চলে আসতো। ডুবন্ত সূর্যের দিকে চেয়ে চেয়ে গল্প হতো। গান হতো। সাঁওতাল নাচ নেচে দেখিয়েছিলো একদিন। ছাতের বাগানের ফুলেরাসাক্ষ্যি দিতো হেসে হেসে। জিনাত চোরবালির ডুবে যাচ্ছিলো ততোটাই যতটা সে টের পায়নি তখন।

আজ যখন দুলাভাই মাই্ক্রোফোনে জিনাতের জন্য টান করে লম্বা দোয়া পড়ছিলো তখন একবার মনে হলো সে সব বলে দেয়। বন্ধুর ভেজা চোখ তাকে বলতে দেয়নি। 

অনেক বুঝাতো সোনিয়ারা , তুই বিয়ে করে ফেল। দুলাভাই তাহলে আর সাহস পাবেনা। কিন্তু জিনাত বিয়েতে রাজি ছিলোনা। সে ভয় পেতো । প্রতারণা হবে ভাবতো।

দুলাভাই মাঝে রাতে জিনাতের টোকা দেয়া শুরু করলো। একদিন দুই দিন। ক্রমশঃ সময় বাড়তে লাগলো। বোন জেগে যাবে এই ভয় পেয়ে দরজা খুলে দিয়েই জিনাতের ভুল শুরু।দিনের পর দিন মাসের পর মাস। দুলাভাই পশুত্বের চরম প্রমাণ দিতে থাকলো। বোনের সামনে সাধু আর মাঝরাতে ঘরে টোকা । স্পর্শে ছিলোনা কোন স্পর্শক।

সোনিয়া তোমার তোবারক, বলে দুইটা বিরিয়ানির প্যাকেট তার দিকে এগিয়ে দেয় জিনাতের বোন জারা। হু হু করে কাঁদতে থাকে সোনিয়াকে ধরে। 
‘’জিনাত নেই, তোমরা কি আর আসবে না? আমি যে একা হয়ে গেলাম।‘’
কাঁদতে কাঁদতে বসে পড়েন মেঝেতেই। তার যে জিনাতের সবটুকু জানতে বড্ড দেরী হয়ে গেছে।স্বামীর ড্রয়ারে কন্ডোম দেখে সেদিন জারা পাথর হয়ে গেছিলো। কজুগ্যাল লাইফে সে স্বামীকে কন্ডোম নিতে রাজী করাতে পারে নি।

জিনাত এক সময় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।এক মাসের মধ্যেই প্রস্তাব আসা সম্মন্ধে রাজি হয় সে। খুব সামান্য আয়োজনেই বিয়ে করে। পাত্র ব্যাংকার মোটামোটি ভাল পরিবার । পাত্র কেদেখেনা পর্যন্ত। যা আছে কপালে। সোনিয়া কে বলে, ‘’সুখী হয়ে যাবো দেখিস। তবু আপা শান্তিতে থাকুক। সারাজীবন তার সুখ দেখিনি।‘’

সুখে সত্যিই ছিলো। সব ভুলে থাকার জন্য দ্রুত বাচ্চা নিলো সে। তার বর দিনার কিছুটা অবাক। ‘’এত তাড়াতাড়ি ! আমাকে তো সময়ই দেবেনা আর । ‘’ খুব প্রাণখোলা মানুষ সে।

পরের দিন নিজেই আবার খুশী হয়ে সোনিয়া- মুনাদের ফোন করে জানাচ্ছে ‘’সোনিয়া আসেন আসেন বাসায়। আপনাদেরকে তো খালা বানানোর জন্য আপনাদের বান্ধবী রেডি।‘’ 

কী দারুন খুশী সে ছিলো। মুনা কেঁদে ফেলে শুনে । জিনাত সুখী হবে রে। দিনারভাই কী ভালো মানুষ। তারা বিকেলেই গেল সারা বিকেল আড্ডা দিলো শপিং করলো। রাতে সবাই মিলেবাইরে খেলো। অনেক অনেক দিন পর তিন বন্ধু নিজেরা নিজেদের চোখের কিনারায় কোন জলের অবগাহন দেখলো না।

বিয়ের পর বোনের বাড়িয়ে খুব কম যেত এবং একা একেবারেই যেতোনা। শুধু ফোনে খবর নিতো। এক দিন সকাল সকাল গেছে একটা জরুরী কাগজ ফেলে এসেছে। সে ভুলেইগেছিলো আপা দেশে গেছে তার মেয়ে নিয়ে। 

এই সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করেছিলো মিজান। জিনাত প্রথমে কাকুতি মিনতি। পরে পায়ে ধরলো।
‘’ মিজান ভাই । আমি প্রেগনেন্ট আমাকে ছেড়ে দাও। তোমাকে ভালবেসে ছিলাম, আমার পাপ হয়েছে মেনে নিয়েছি। এখন তো তুমি ভাল আছো । আমাকে যেতে দাও এখন।‘’
মিজানের কানে কোন কথা যাচ্ছে না। সে টান দিয়ে জিনাতের কামিজ উঠিয়ে ফেলেছে। 

‘’এখন যেতে হবে। আমার শরীর ভাল নেই ছেড়ে দাও।‘’ জিনাত কাঁদতে থাকে...
মিজান বিছানায় শুইয়ে থাবা দিয়ে ব্রা সরিয়ে ফেলেছে বেশী সময় তার হাতে নেই। উন্মাদনায় স্তনের একাংশ কামড় দিয়ে ধরে সে। কামনা নয় কামড়। দাগ বসাতে থাকে গলায় বুকে । 
জিনাত আর বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করে না। পারেনা আসলে । ক্লান্ত তার সম্পূর্ণ শরীর থেকে সভ্যতার, শালীনতার কাপড় সরিয়ে দিয়েছে মিজান। 

সেদিনের ঘটনা কিছুই জানায়নি সে কাউকে । শুধু চেয়েছে তার সন্তান সুস্থ থাকুক। প্রায় পুরো প্রেগনেন্সি টাইম সে কেমন চুপচাপ হয়ে গেছিলো। দিনার তাকে বুকের ভেতর নিয়েরাখতে চাইলে সে ঝর ঝর কাঁদতো। জলের উপরে হেলে থাকা গাছের চেয়ে গাছের ছায়ারাই টলটল ভাসে। তারা জলের সঙ্গদোষেই চঞ্চল। সারাবেলা আলোড়িত। জল ছাড়া কেউ তাটের পায় না।

‘ তোমার কি শরীর খারাপ লাগে? আমি বলেছিলাম এখনই বেবী নিও না। তুমি আন্ডারওয়েট গো । আমার কথা তো শুনলে না। ‘ দিনার অপরাধীর মত করে বলতে থাকে। তার বিপদআশংকা হচ্ছে ক’দিন হলো । জিনাত কে নিয়ে খারাপ খারাপ স্বপ্ন দেখছে।

সৌজন্য কথা শেষ করে সোনিয়ার কাছে আসে মুনা, এখন তারা যাবে। মাইকে অনেক সূরা তেলাওয়াতের আওয়াজ হচ্ছে। সব কিছুর অর্থ জানে না । শুধু বিষন্নতা ছেয়ে রাখে। জিনাতস্বাধীন থেকেও স্বাধীন ছিলোনা। মন তাকে স্ফূর্তি দেয়নি।মনে আনন্দ না থাকলে মাটি খুঁড়ে কি লাভ।

বাচ্চা এসে কোটিটাকার আনন্দে রেখেছিলো বাবা-মাকে। কিন্তু তা যেন হাওয়াই মিঠাই। মুখ দিতেই মিলিয়ে গেছিলো। সেদিন অফিস থেকে ফিরে দুই বন্ধুকে ফোন করে ডেকে নেয়জিনাত। সেদিন বলে দেয় দুলাভাই মিজানের শেষ ব্যবহার। 
কিছুতেই আর ঘুম আসছেনা সেদিনের পর থেকে।নিজেকে ঘৃণা করছিলো সে । দিনারকে আর বোনকে একসাথে ঠকিয়েছে এই ভেবে প্রচুর কাঁদলো সে সন্ধ্যাটায়। কোলে ছয়মাসেরমেয়ে দিয়েও তাকে থামানো যাচ্ছিলো না। অনেক কষ্টে সেদিন জিনাতকে ঘুম পাড়িয়ে সে রাতে রয়ে গেলো সোনিয়া। 

দুলাভাই মিজান জিনাতকেই পড়াতে আসতো। দারুণ চৌকস ছেলে মিজান কথায় সাঙ্ঘাতিক পটু। মিঠে মিঠে ছোট্ট ছোট্ট চিরকুট লিখতো, খাতায় রেখে দিতো কবিতার পংতি, ময়ূরপালক। তার সাথে প্রেমের অভিনয় করতে করতেই হঠাৎ বড়বোন কে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। জিনাত নিজেকে সরাতে পারেনি সেই বয়সে। অনেক চেষ্টা করেও সে বোন কে বলতেপারেনি । সব একা সহ্য করেছে। এতদিনের নিভৃত আঘাত তাকে একটু একটু করে মৃত্যুর পথ দেখিয়েছে। নইলে এক রাতের জ্বরে আর যাই হোক তার মত শক্ত মেয়ের এভাবে চলেযাবার কথা না। 

জিনাত কি এমন জীবন চেয়েছিলো? জীবন তো কবিতার লাইন নয় যাকে ইচ্ছে মত অদলবদল করা যায়। তার চলে যাওয়ার নেপথ্য যোগসাজশের কোন ছায়া নেই। কোন সন্দেহ নেই।আলগোছে তাকে কে যেন সবার মাঝখান থেকে তুলে নিয়ে গেলো নির্ধারিত সময়ের আগে আগে। এখন আর কোথাও কোন মামলা হবে না। কোন চিরকুট নেই।

1 টি মন্তব্য: