বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই, ২০১৭

গল্পপাঠ ।। শ্রাবণ ১৪২৪।। জুলাই-আগস্ট ২০১৭।। সংখ্যা ৫৪

দেশে এখন শ্রাবণ| 
'শ্রাবণ মাস' মানেই আকাশ জোড়া মেঘ আর বর্ষার তুমুল আয়োজন| শ্রাবণ মানেই এখানে লাগামহীন বৃষ্টি নামে যখন-তখন! ...সুযোগ পেলেই বাঙালি এসময় ঘরের আরামদায়ক 'কোণ'টি খোঁজে| সঙ্গীর সাথে লাগাতার গল্পে মুখর হতে চেয়ে কিংবা প্রিয় কোনো গল্প-পাঠে একলা একাই বিভোর হবে ~ সে ভাবনা থেকে!
যদিও "গল্পপাঠ" -এর এ সংখ্যাটি বর্ষা'র থিমে হয়নি; তবু 'শ্রাবণ' এর সাথে কোথাও যেন ভীষণভাবে 'গল্প' জড়িয়ে যায়| কারণটা বোধহয় সেই ঘন বর্ষণ| বিরামহীন বর্ষায়, টিনের ঘরের ছিদ্র দিয়ে কোথাও চুঁইয়ে চুঁইয়ে জল পড়ে; আবার অন্য কোথাও সেই টিনের চালেই বর্ষার রিমঝিম ছন্দ আনে!
সে যেখানে যেমনই হোক, মোটকথা সবখানেই কিছু না কিছু গল্প থাকে| অবশ্য নিজের গল্প না থাকলেও চলে; প্রিয় লেখকের গল্পে তখন ডুবতে ইচ্ছে করে| 
প্রিয় পাঠক, আপনি দেশে-বিদেশে যেখানেই থাকুন, এমন শ্রাবণ-দিনে একরাশ ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের গল্পে মেতে উঠুন| আর মেতে উঠতে, "গল্পপাঠ" পড়ুন!
প্রচ্ছদের দৃশ্যটি সাতক্ষীরার ধুলিহর গ্রামের| এটি সেখানকার বৃষ্টি-ধোয়া কোনো এক শ্রাবণ-সন্ধ্যা| ছবিটি তুলেছেন জান্নাত আফজা ঊষা|

-- জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা
সম্পাদক. গল্পপাঠ।। শ্রাবণ সংখ্যা।


অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়'এর গল্প : জলচোর

বাংলাদেশে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, হাসান আজিজুল হক, শহীদুল জহিরের তুল্য কথাসাহিত্যিক নেই। এরা শুধু তাদের নিজস্ব লেখালেখির ক্ষেত্রেই নয়-- ব্যক্তিজীবনে ও বুদ্ধিবৃত্তিক অন্যান্য ক্ষেত্রেও এক ধরনের স্ট্যান্ডার্ড রক্ষা করে চলেছেন। কোথাও কোনো আপোষ এরা করেননি, অসততা করেননি বলেই এদের লেখালেখিও আপোষহীন ও সৎ। 
জীবিতকালে এই ধারায় হাসান আজিজুল হক শেষ ব্যক্তি।
হাসান আজিজুল হক জনগণের বুদ্ধিজীবি লেখক। তিনি এই মৌলবাদী জঙ্গীদের কিরিচের নিচেও অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে, মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে কথা বলতে ভয় পাননি।
তাঁর আগুন পাখি অসামান্য উপন্যাস। দেশভাগের সমষ্টিগত বেদনা তিনি এই উপন্যাসে মহাকাব্যিক ভঙ্গিতে লিখেছেন। এবং সত্যি বলতে কি এই দেশভাগের যে সমষ্টিগত বিষাদ আমাদেরকে অনন্ত বিষাদের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে, তা যেকোনো কালের মহৎ লেখার উৎস, কিন্তু বাংলাদেশের লেখকরা যখন এই বিষাদকে সচেতনভাবেই এড়িয়ে চলছেন, ভয়াবহ বিস্মরণে ষড়যন্ত্রের অংশ করে তুলছেন, তখন হাসান একাই তাঁর বিশাল কাঁধে সে বেদনার ভার বহন করে চলেছেন। তিনি বিস্মরণকে তাড়িয়ে জন্মজন্মান্তরে স্মৃতিকে পৌঁছে দেওয়ার লড়াইটি অব্যাহত রেখেছেন। সাবিত্রী উপাখ্যানও বিশ্বমানের লেখা। আর তাঁর গল্পসমূহ চিরকাল বিশ্বসাহিত্যে বাংলা সাহিত্যের শক্তিশালী প্রতিনিধি হিসেবে পরিগণিত হবে। তিনি মহাকালের কণ্ঠস্বর। গল্পপাঠের অন্যতম শুভানুধ্যায়ী মাহমুদ হাসান পারভেজ নিচের গল্পটি পাঠিয়েছেন--


এই অফিসের জানালা আছে। বন্ধ। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এর সবটাই। বাইরের আলো নেই। সব এল,ই,ডি ল্যাম্প। এই হলো কুসুমের অফিস। সেক্সপিয়র বুক কোম্পানি। অফিসে বই আনা নিষেধ। নিউজ পেপারও বারণ। কিন্তু ইন্টারনেটে সব দেখা যায়। বস টের পায় না কোথাও না কোথাও জানালা আছেই। উইন্ডোজ-টেন। গুগল সার্চ করলেই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড। অনন্ত আকাশ। নদী পাহাড় সমুদ্রেরও অতীত তা। অফিস চায় না চম্পা জানালা খুলুক। একদিন সে খুলতে গিয়েছিল, সকলে হা হা করে উঠেছিল, না না না না। একদম না। এসি রয়েছে। বাইরের বাতাসে ঘর তেতে যাবে। 


অমর মিত্রের উপন্যাস ঃ কুমারী মেঘের দেশ


কমলকুমার মজুমদার স্মৃতি
 বহমান বাঙালিত্বকে রূপময়তায় চিত্রায়িত করেছেন, শহুরে জীবনে থেকে খুঁটিয়ে দেখেছেন কৌম জীবন, তার আখ্যান লিখেছেন অপরিচিত জগতের অন্যরকম জীবন ও জীবিকার ছোঁয়ায়, যা অন্তিমে হয়ে উঠেছে ধ্রুপদী। তা কি ভাষার গুণে, না দেখার অনন্যতায়? কমলকুমারের জীবদ্দশায় পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছিল দুটি মাত্র উপন্যাস আর দুটি গল্প সংকলন। বিচিত্র জীবন ও আশ্চর্য সব জীবিকা গ্রহণের অন্তে তিনি কিন্তু মনোনিবেশ করেছিলেন কাহিনিবিন্যাসে, যা হয়ে উঠেছে শেষপর্যন্ত লেখকরূপেই তাঁর প্রধান পরিচয়।সমতট পত্রিকায় ১৯৭২ সালে কথাসাহিত্যিক কমলকুমার মজুমদারের এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছিল। বিস্তারিত>>
কমলকুমার মজুমদার প্রণীত--

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়ের কয়েকটি গল্পের ভূমিকা
লিখেছেন : স্বপ্নময় চক্রবর্তী

সাম্প্রদায়িকতা এই উপমহাদেশের গভীরতর অসুখ। ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা গরু খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপরে নির্যাতন চালাচ্ছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে সংখ্যালঘু হিন্দু-বৌদ্ধদের নির্যাতন করছে। আর পাকিস্তানে সংখ্যালঘু বলা যায় নাই হয়ে গেছে। এই ঘৃণা বিদ্বেষ হিংসা সন্ত্রাস অনিরাময়যোগ্য হয়ে উঠেছে। ভারতের পটভূমিকায় সাম্প্রদায়িক পরিস্থিতি নিয়ে স্বপ্নময় চক্রবর্তীর এই গল্পটি আমাদেরকে নতুন করে সম্প্রীতির দিশা দেবে। পড়ুুুুন--


মূল : সেলমা লাগার্লফ
অনুবাদ : আলম খোরশেদ
সাহিত্যের জন্য প্রথম নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত নারী, সেলমা লাগার্লফ-এর জন্ম ১৮৫৮ সালে সুইডেনের পশ্চিমাঞ্চলে। ১৯০৯ সালে তিনি সুইডিশ একাডেমির ভাষায়, ”তাঁর লেখার উন্নত আদর্শবোধ, কল্পনাপ্রতিভা এবং আত্মিক শক্তির” জন্য নোবেল সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৪০ সালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিস্তারিত>>


মূল: ফারিবা ভাফি
অনুবাদ : ফজল হাসান

‘আমার মা, কাঁচের আড়ালে’ গল্পটি ফারিবা ভাফির ইংরেজিতে ‘মাই মাদার, বিহাইন্ড দ্য গ্লাস’ গল্পের অনুবাদ । গল্পটি মোহাম্মদ মেহদি খোররামি এবং শৌলে ভাতানাবাদি অনূদিত এবং সম্পাদিত ‘এ ফীস্ট ইন দ্য মিরর: স্টোরিজ ফ্রম কন্টেম্পোরারী ইরানিয়ান উইম্যান’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে । বিস্তারিত>>


সাদাত হাসান মান্টোর লেখা : কেন লিখি

মেহেদী উল্লাহ'র গল্প : 
---------------------------------------------
অসুখের কথা শুনলে শুরুতেই অনেকে ভাবে, আমার বুঝি স্বল্প মাত্রার জ্বর, হাঁচি, কাশি,সর্দি, পেটব্যথা, মাথাব্যথা ইত্যাদি। কিন্তু অসুখী শুনলেই তাদের ভুল ভাঙত, অসুখটা আমার অন্তরে। আর এতে আমার কোনো হাত নাই। বিস্তারিত>>


সাধারণত গল্পের আলোচনায় গল্পটিকে চারপাশ থেকে দেখা হয়| আলোচনা করতে গিয়ে, আলোচক গল্পটিকে আদ্যোপান্ত চিরে চিরে দ্যাখেন| গল্পের উপরে সার্চলাইটের মতো পাওয়ারফুল কোনো আলো রেখে|
...মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প "ছেলেমানুষি"র ক্ষেত্রে, এমদাদ রহমান আলোচনার সে বৈশিষ্ট্যে পুরোপুরি না গিয়েও কেমন আশ্চর্যজনক এক বিশ্লেষণ করলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা এবং দৃষ্টিভঙ্গিকে~ তা পাঠক, পড়েই দেখুন -------


অপরাহ্ণ সুসমিতো'র গল্প : এক ভাসান জীবন
পানিতে ভাসে কচুরিপানা| ভাসে শ্যাঁওলা| নৌকাও ভাসে| আর নৌকায় ভাসা যে জীবন, সেও তো ভেসেই চলে! সেখানেও কত গল্প থাকে....|
পড়ুন "এক ভাসান জীবন"|
লিখেছেন অপরাহ্ণ সুসমিতো|

গ্রামের প্রাইমারি স্কুলের মতো লম্বা টানা ভাড়া ঘরগুলোর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কালো ময়লা জলের নালাটা লাফ দিয়ে পার হওয়ার মুহূর্তে চারপাশের ছাড়া ছাড়া টিম টিম করে জ্বলতে থাকা হলদেটে আলোর বাতিগুলো নিভে যায়। আলকাতরার মতো কালো কাদায় পড়তে পড়তে নিজেকে সামলে নেয় রাজিয়া। বিস্তারিত>>

সন্তান বাড়ি ফিরবে- সে অপেক্ষা'র কল্পনায় রং লাগিয়ে গল্প-রাস্তায় হাঁটা যায় অনেক| 'অপেক্ষা' যদি হয় নিতান্তই রংহীন, তারও হয়তো কল্পনা থাকে! বাস্তবতা কিংবা পরাবাস্তবতা কিংবা উভয়ের মাঝে দোদুল্যমান কিছু চরিত্র খুঁজে ফিরতে পড়ুন গল্প "পলায়নপর"| গল্পকার নাহার মনিকা--------
চীনের অন্যতম গল্পকার ও ঔপন্যাসিক মো ইয়ান ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। লু শুন, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ, উইলিইয়াম ফকনার, জেমস জয়েস, প্রমুখ বিশ্বখ্যাত কথসাহিত্যিকদের ঘরানার লেখক মো ইয়ান। ২০১২ খ্রিস্টাব্দে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর বিখ্যাত বই :  Red Sorghum Clan,The Republic of Wine,
Life and Death Are Wearing Me Out

মো ইয়ান
অনুবাদ: মূর্তালা রামাত ও শারমিন শিমুল


কোলেট্টি- ১৮৭৩ সালে ফ্রান্সে জন্মগ্রহণ করেন। বিংশ শতকের প্রথম দিকে ফ্রান্সের অন্যতম সেরা লেখিকা তিনি। লিখেছেন পঞ্চাশটির মতো বই। ফ্রান্সের লা মনডে পত্রিকার জরিপে বিশ শতকের সেরা ১০০টি উপন্যাসের ভেতর তার “দ্যা টেনড্রিলস অব দ্যা ভাইন” বইটি রয়েছে। ইংরেজিতে তার লেখা খুব কমই অনুবাদ হয়েছে। তবে ইংরেজী ভাষাভাষীদের কাছে তিনি তার “গিগি” নভেলাটির জন্য সুপরিচিত। তার লেখার মূলে রয়েছে নারীবাদ এবং নারী সচেতনতা। শব্দ, বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ, ঘ্রাণ, রঙ- ব্যবহার করে তিনি ভালোবাসার আনন্দ এবং বেদনার সাবলীল বর্ণনায় পাঠকের অনুভ’তিকে সহজে জাগিয়ে তুলতে পারতেন। ১৯৫৪ সালে এই লেখিকা মৃত্যুবরণ করেন।
মূল : কোলেট্টি
অনুবাদ : শারমিন শিমুল


বোধিসত্ব ভট্টাচার্যের গল্প : কুয়ো
রাত এগারোটা বাজতে না বাজতেই লোডশেডিং। গত কয়েকদিন ধরে এটা শুরু হয়েছে। কে একটা অলিখিত নিয়ম তৈরি করে দিয়েছে, সাড়ে দশটার পর পরই গোটা পাড়ার সমস্ত বাড়ি এবং দোকানপাটের আলো নিভে যাবে। কয়েকটা গ্যারাজ এবং ক্লাবের ছাদও আছে। সেখানেও থাকবে না আলো। বিস্তারিত>>

নিদেনপক্ষে চার পাঁচটি চেয়ারে ধাক্কা খেয়ে ফুটবলটি একবার সামনের টেবিলে সেকেন্ডখানেক বিরতি নিয়ে পড়লো গিয়ে ঠিক মাঝখানের চেয়ারটিতে। জামিলের মনটা তখনই খারাপ হয়ে গেলো। এই ফুটবল কী তার পিছু ছাড়বে না আজীবন। কতো আশা নিয়ে সে দুপুর থেকে বসে আছে এখানে।নিত্য অভাবের সংসারে তিষ্ঠানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেতন যাই হোক, আপাতত সহোদরা শাহানার একটা সামান্য আয়ের ব্যবস্থা না করলে বাপ, মা ছোট ভাই সহ ছয় জনের সং সারটার টিকে থাকাই দায় হয়েছে। বিস্তারিত>>



দুপুর থেকেই মেঘ ছিল সেদিন। মেঘের সাথে ছিল ঠাণ্ডা বাতাস। আশেপাশে কোথাও বৃষ্টি হয়েছিল নিশ্চয়ই। জ্যৈষ্ঠ মাসের ভ্যাপসা গরম, রোদের তাপ একটানা চলছিল দু-সপ্তাহ ধরে। তারমধ্যে এইটুকু ছায়া, এইটুকু জলজ বাতাসই বা কম কি? 
বুবুন বলেছিল একবার, ‘ছাতা নিয়ে নে দিদি, আজ ঠিক বৃষ্টি হবে দেখিস।’ বিস্তারিত>>


সহস্র মুহূর্ত হুহু করে গড়িয়ে যাচ্ছে দেয়ালের গায়ে। টেবিলের ওপাশের রিভলভিং চেয়ারটি ডিপ অলিভ ফোমে মুড়ানো। দারুণ অভিজাত! অথচ রাজার মত একা। প্রিন্টারে ছেপে আসা কাগজের আধা খানা বেরিয়ে আছে। হয়ত প্রসব মুহূর্তে ভোক্তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গিয়েছিল। রিসেপশনের ছেলেটি বলেছিল,ডাক্তার সাহেব রাউন্ডে বেরিয়েছেন। আমাকে তাঁর চেম্বারে অপেক্ষা করতে হবে। বিস্তারিত>>
জংগলঘেরা কবরস্থানে ঠাঁয় দাঁড়ানো ডালিম গাছটায় একটা মাত্র ডালিম তেরো বছর যাবৎ পেকে টনটন করলেও কালের ঝাপটায় বোঁটা থেকে কেন খসে পড়ছে না এবং ফাঁটলের রসালো দানায় পাখিদেরও কেন ভ্রক্ষেপ নাই, ভাবতে ভাবতে কফিল সাধু হঠাৎ টের পায় একটা শুকনো ডালিমপাতা চক্কর দিয়ে এসে আটকে পড়েছে তার চুলে। চুল বলতে চিরুনি করা রুচির বিন্যাস নয়, ভাটার মৌসুমে মজা পুকুর থেকে ডাঙায় তোলা পানাকচুর তাজা শেকড়ও নয়। বিস্তারিত >>

লীনা চোখ বন্ধ রেখে পাশের বালিশটা হাতড়াবে। কিংবা চোখ খুলতে না খুলতেই তার হাত চলে যাবে সাদা কাভারটায়। তারপর বালিশ ছাড়া অন্য কিছুর স্পর্শ না পেয়ে মাথাটা সামান্য তুলে চমকে তাকাবে সেদিকে; দেখবে বিছানায় আমি নেই। আমি কী করে হুইল চেয়ার পর্যন্ত পৌঁছলাম, সেটা নিয়ে মুহূর্তে উতলা হয়ে উঠবে। আসলে রাতে ঘুমানোর আগেই আমি ক্র্যাচটা মাথার কাছে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলাম। হুইল চেয়ারটা করিডোরে থাকে, এনে না দিলে আমার পক্ষে সেটাতে চড়ে বসা সম্ভব না, লীনা জানে। বিস্তারিত>>


সাদা মলাট করে মন ভাল লাগছে। বেশ কিছু বইয়ের চকচক ঢেকে দিলাম মলাট দিয়ে, কত্ত খুঁজে খুঁজে যে বইগুলো কিনলাম । কিছু মেলায় পেয়েছি । এই মেলাটা আবার হয় সাধুপুরে । এটা কুষ্টিয়ার একটা গ্রাম। বছরে একদিনের মেলা সারাদিন থেকে সারারাত চলে। সাথে সাথে খাঁচার ভিতর অচিন পাখি চলতে থাকে সাধু- সমাজিদের কন্ঠে। সাথে তামাক, হুক্কা, বিড়ি ,তাড়ি। বিস্তারিত>>


ফের রক্তাক্ত ফ্রান্স। হেডলাইনটা চোখে পড়তেই মুখ ব্যাজার করলেন ধীমান । এই এক ফ্যাশন হয়েছে মিডিয়ার – সন্ত্রাস আর সন্ত্রাস । ধুত্তোর । আগে টেকনোলজি ছিল না, ভূ- ভারতের বাইরে সুলুক সন্ধানে সময় লাগতো । এখন ভূমিকম্প ,আগুন বন্যা , বিক্ষুব্ধ মিছিল যাই হোক –ড্রয়িং রুমের মধ্যে দিয়ে তা পার করাবে সেকেন্ডের মধ্যে। এরই নাম গ্লোবালাইজেসন । জাপানে সুনামি । তুমি পরমুহূর্তেই জলের তলায়। নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্প । বিস্তারিত>>

সৈয়দ ওয়ালী উল্লাহর গল্প : কেরায়া
মোহছেনা ঝর্না
অমর মিত্র
এ সময়ের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক ও বিজ্ঞানী দীপেন ভট্টাচার্যের একটি গল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন লেখক, শিক্ষক ও চলচ্চিত্রকার অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে মূল গল্পটিও পড়ুন>>

গল্প নিয়ে আলোচনা--

প্রবাসী বাঙালির চোখ নাকি তিনটা| তৃতীয় সে চোখটি - সদা জাগ্রত এক কল্পনার চোখ! যে চোখে প্রবাসের 'ছোট্ট এক লেক' দেখতে গিয়েও চোখ ঝাপসা হয়ে বাড়ির পাশের ইছামতি কিংবা কপোতাক্ষকে মনে পড়ে যায়| সদা বিভ্রমে থাকা সে চোখে-মনে একাকার হয় শরতের মেঘ, বসন্ত-বাতাস! এমন কি, বেগুন আলুর ঝোল কিংবা ভাপা ইলিশও বাদ যায় না| বিস্তারিত>>


ছুটির লেখা
জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা
''এমন খ্যাস খ্যাস করে পিঠ চুলকাবেন না তো সবার সামনে! দেখতে পঁচা লাগে|'' তুবড়ানো 'কপাল-কপোল-থুতনি'তে একগাল হাসি নিয়ে উত্তর দিতেন, ''কী করি বুনডি, বড্ড ঘামাচি হইছে যে!''
চার কি পাঁচ বছর বয়সী আমি তড়িত উত্তর দিতাম, "ফ্যান এর নীচে ঘুমাবেন, ঘামাচি হবে না|" এরপর 'চমত্কার বুড়ি' তাঁর উপর-নিচের পাতলা দু'ঠোঁটে, দিগন্ত বিস্তৃত হাসি হাসতে হাসতে বলতেন, "ওরে বুনডি, আমরা গরিব যে! ফ্যান পাতাম কুথায়?" এ কথা শুনে চিন্তায় পড়ে যেতাম| বিস্তারিত>>



অন্য আয়নায় দেখা --
নিজের কথা নিজে বলাই আত্মকথা| তবে অন্তর্দৃষ্টি প্রখর হলে, কোনো কোনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে অন্যের বলাও 'আত্মকথা' হয়ে যায়| ...পাঠক পড়লেই বুঝবেন, 'কখন' এবং 'কেন' এমন হয়| পড়ুন ফারহান আরিফ নাফি'র অন্যরকম এক আত্মকথা "আমার ভিতরে বাহিরে"| পুত্রের 'ভিতর-বাহির' দেখেছেন এবং লিখেছেন পিতা মোঃ জাকির হোসেন। বিস্তারিত >> 
কাগজ কলম আর চায়ের মগ। এই মগটি মন্টুর বৌদির কাছ থেকে চেয়ে চিন্তে আনা। কে জানে এটা মগের প্রত্যাবর্তন নাকী সৌজন্য সফর। মন্টুর বৌদির দাদা ঠার্কুদা তো বেশিদিন হয়নি ওপারে গেলো। যাই হোক, মগটির গায়ে হাড় দিয়ে করা কাছিমের কারুকাজ দেখে রান্নাঘরের সেলফে রাখতে দেয়নি ভাবি। আব্বাস পাঁচ নাম্বার চুমুক দিয়ে সাবধানে ভেতরটা দেখে নেয়, আরামসে আরো দশ চুমুক দেয়া যাবে, তবু সামনের চেয়ারটায় এসে বসলো না সে। বিস্তারিত>>

ধারাবাহিক  আত্মস্মৃতি--
নাজের লেখা থেকে টিফিনের আলুভাজার কথা মনে হ’ল। একজন বলেছিল প্রত্যেক বাসার আলুভাজা আলাদা আলাদা। কথাটা সত্যি। শুধু ‘গোঁফ’ নয়, আলুভাজা দিয়েও মানুষকে যায় চেনা। ভোরবেলা আয়েশা বুবু এসে আমাদের বাসায় আলুভাজা আর সিদ্ধ আটার নরম তুলতুলে রুটি বানাত।  বিস্তারিত >>

গল্পপাঠ ।। শ্রাবণ ১৪২৪।। জুলাই-আগস্ট ২০১৭।। সংখ্যা ৫৪
সম্পাদক : জান্নাতুল ফেরদৌস নৌজুলা
প্রকাশক : মৌসুমী কাদের

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন