রবিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

উম্মে মুসলিমা'র গল্প : স্লিভলেস

আমি উচ্চারণ করতাম বাসোনা । কিন্তু ওর মা বলতো, না বাস্না। মানে সোন্দর ঘিরান। ওর দাদির দেয়া নাম। হয়তো শিক্ষিত মানুষ হলে নাম রাখতো সুবাসিনী। তো বাসনাকে নিয়ে ওর মা আমার বাসায় আসে সেই যখন আমার মেয়ে রিমির বয়স চার। বাসনার তখন তিন-টিন। অথবা চারও হতে পারে। ওজনে-উচ্চতায় আমার রিমির অর্ধেক। বাসনার মাকে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ পেলাম। একটা সংস্থায় বেশ ভালো মাইনের চাকরি আমার। টুর-ফুর দেদার। রিমিকে দেখে রাখার লোক নেই।
রিমির বাবা সাংবাদিক। তার কাজের কোন টাইমটেবিল নেই। আমারই এক ছোটবেলাকার বন্ধুর গড়া ডে-কেয়ার সেন্টারে রাখতে হতো রিমিকে। কিন্তু সেটা আমার অফিস থেকে একেবারে উল্টোদিকে। সকালে ওর বাবা ওকে রেখে আসতো, বিকেলে অফিস থেকে ফেরার পথে আমি নিয়ে আসতাম। বাসায় ফিরে আমি চিৎপাত। ইচ্ছে হতো না রান্নাবান্না-ঘরকন্নার। স্বামী ফিরতো রাত দুপুরে। তার তো টেবিলে খাবার চায়। ‘ধুত্তোরি, চাকরির নিকুচি করি’ বলে একটা সিদ্ধান্ত নিতেই যাচ্ছিলাম। তখন দেবদূতের মতো বাসনার মা আর বাসনা হাজির। ওরা আমাদের গ্রামেরই। নিজের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো আমার এক চাচা ওদের দিয়ে গেল। দিয়েই লাপাত্তা। 

রিমি ঘরেই খেলার সাথি পেয়ে গেল। রান্নাবান্নার বিরক্তিকর একঘেঁয়েমি থেকে মুক্ত হলাম। বাসনার মার রান্না তরকারিতে আমার ছোটবেলার স্বাদ-গন্ধ পেয়ে আমি যত উচ্ছ্বসিত হই আমার স্বামী ততটাই অরুচিময় মুখভঙ্গী করে গিলতে থাকে। বুঝি। এ হচ্ছে সাংস্কৃতিক দূরত্ব। ওর এক দূরসম্পর্কের বোন এসে কিছুদিন ছিল আমাদের বাসায়। তার রান্না খেয়ে আমি বাথরুমে গিয়ে কাদঁতাম আর কদিনেই মাসুমের ভুড়ির লক্ষণ দেখা দিয়েছিল। আমি না পেরে একদিন বলেওছিলাম--

‘আসলে বিয়েটা একই অঞ্চলের ছেলেমেয়েদের মধ্যেই হওয়া উচিৎ। খাওয়া-দাওয়ার সংস্কৃতিটাকে কোন অংশেই খাটো করে দেখা ঠিক না’

‘আজকাল আর এক অঞ্চল! এশিয়ানরা বিয়ে করছে আফ্রিকান, আমেরিকানরা বিয়ে করছে এশিয়ান, যেখানে বিয়ে আন্ত-মহাদেশীয় হয়ে যাচ্ছে সেখানে তুমি পড়ে আছ অঞ্চল নিয়ে’

‘এইজন্যেই তো ওদের মধ্যে এতো ডিভোর্স’।

‘খাপ খাইয়ে নিতে পারে প্রকৃত শিক্ষিতরাই’।

‘বেশি জ্ঞান দিও না’।

এখন দক্ষিণাঞ্চলের বাসনার মার রান্না খেয়ে পূর্বাঞ্চলের মাসুম কতদিন শিক্ষিত থাকতে পারে তা অবশ্য দেখার বিষয়।

বারান্দার খেলাঘরে বসে রিমির কেবল হুকুম-- বাসনা, যা কিচেন থেকে তরকারির খোসা নিয়ে আয়। যা এবার আটা গুলে দুধ বানা। খেলনা পাতিল গুছিয়ে রাখ। বাসনা প্রতিবাদহীন সব কাজ করে চলে। আবার একটু দেরি হলে রিমির বকাঝকা--এত সময় লাগলে আমার রান্না কখন হবে? মা-বাবা না খেয়েই তো অফিস চলে যাবে। আমার মায়া লাগে, ভয়ও লাগে। আমার মেয়েটা কি শোষকদের পক্ষের হয়ে বড় হয়ে উঠছে? নাকি আমাদের আচরণই নকল করছে। বাসনার মাকে আমরা যেভাবে হুকুম করি রিমিও বাসনার সাথে সেভাবেই অভিনয় করছে। কিন্তু রান্নাবাটি খেলতে গিয়ে রিমি যখন মিছিমিছি বাসনার কপালে জলপট্টি দেয় তখন মনটা নরম হয়ে আসে। নাহ্, মেয়েটা আমার মানবিকই হবে। কিন্তু বাসনা তো রিমির পুরোন কাপড় পরেই বড় হয়। ঈদে-পার্বণে নতুন জামা পেলেও তা রিমির জামার দামের চেয়ে অনেক কম। মাসুম অবশ্য এ ব্যাপারে বেশ হৃদয়বান। একমাত্র খাওয়ার বিষয়টা ছাড়া বাসনা আর বাসনার মায়ের প্রতি সে উদার।

বাসনার এসএসসি। রিমির এ লেভেল। রিমি বিছানায় উপুড় হয়ে ল্যাপটপ নিয়ে থাকে। বাসনা ওর ঘর গুছিয়ে দেয়। একসাথে বড় হলেও ওরা কিন্তু একে অন্যের ঘনিষ্ট নয়। রিমি তার লেখাপড়া, বন্ধু বান্ধব, মুভি, কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত। বাসনার সাথে কথা হয়--

‘বাসনা, এই নে, তোর জন্যে আনলাম’।

‘ওমা! কী সুন্দর গো আপু দুলদুটো। তুমি একদিন প’রে আমাকে দিও’।

‘আরে দূর! ওসব দুলটুল আমার ভাল্লাগে না। তোর লম্বা চুল, কানে দুল --ভারি মানাবে’।

আমিও চুল ছোট করে কেটে রাখি। মাসুমের ভারি আপত্তি। মেয়েদের নাকি লম্বাচুলে মেয়েলি দেখায়। বেটা বেটা মেয়েদের ওর ভাললাগে না। একবার পারলারের মেয়েরা আমার চুল বেশি ছোট করে দিয়েছিল। আমিতো ক্লিপ-্টলিপ দিয়ে মাসুমের সামনে ঘুরি। জানি খুলে দিলেই একচোট রাগারাগি করবে। একটু বড় হোক তখন দেখলে চোখে লাগবে না। আরে বাবা আমি তো আগাগোড়াই এরকম। কই, বিয়ের আগে দুবছর প্রেম করেছ, তখনতো কিছু বলোনি। বউ হয়ে আসার পরে কতো নিষেধাজ্ঞা। মনে আছে তখনও রিমি হয়নি। রাতের একটা অনুষ্ঠানে আমি স্লিভলেস ব্লাউজ পরে যাবো ঠিক করেছিলাম। পরে-টরে রেডি। মাসুমের জমে থাকা রাগ বিস্ফোরিত হলো।

‘শরীর দেখানো কোন স্টাইল হতে পারে না’।

‘কিন্তু আমি তো আগাগোড়াই ফ্যাশন সচেতন তুমি জান’।

‘আমার ভাললাগাকে তোমার দাম দিতে হবে’।

‘নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে?’

‘ঐসব ফ্যাশনেই অনেককিছু বিসর্জন হয়ে যায়’।

‘তোমাকে অনেক আধুনিক ভাবতাম’।

‘আধুনিকতা আর বেলেল্লাপনা এক না’।

‘আমার ভেতর বেলেল্লাপনা দেখ তুমি?’

‘না, কিন্তু কেউ তোমার বগল বের করা হাতদুটো গিলবে আমি তা চাইনে’।

আমি সে অনুষ্ঠানে আর গেলাম না। মাসুমও জোর করেনি। কিন্তু কেন জানি আর কোনদিন স্লিভলেস পরতে ইচ্ছে হয়নি। কিংবা মনে হয়েছে মাসুমই বোধহয় সঠিক। রিমি কিন্তু অনেক ফ্যাশনেবল কাপড়চোপড় পরে। মাসুম মেয়েকে বলে--

‘বাহ্ ড্রেসটাতে তোকে ভারি মানিয়েছে তো মা’।

রিমি ‘হু হু বাবা দেখতে হবে তো কার মেয়ে’ বলে মায়ের দিকে আঙুল তোলে। 

বাসনার মায়ের জোরাজুরিতে বাসনার বিয়ে দিতে হলো। মাট্রিক পাশ করে গেলে নাকি মেয়ের আর বিয়ে হবে না--এ আশঙ্কায় বাসনারই এক দূরসম্পর্কের মামাতো ভায়ের সাথে বাসনার বিয়ে হলো। আমি আর মাসুম যাবতীয় খরচ বহন করলাম। রিমি নিজে গিয়ে বাসনার জন্য বিয়ের কেনাকাটা করলো। গ্রামে বিয়ে দিয়ে এসে বাসনার মা ঝিম ধরে থাকে। মেয়ের জন্য খারাপ লাগতেই পারে। মা মেয়ের মোবাইল আছে। রিমিরই দুটো পুরোনো সেটে সিম ভরে দিয়েছি আমি। বাসনার মা মেয়ের ফোন পেয়ে কান্নাকাটি করে। আমি কিছু বলি না। মেয়েকে দূরে রেখে মায়ের কেমন লাগে শুধু তা পর্যবেক্ষণ করি। কারণ আমাকেও একদিন এ পর্যায়ে পৌছতে হবে। রিমিরও তো বিয়ে হবে। ওহ্্ মেয়েকে ছেড়ে থাকবো কীভাবে? তারপরেও সবসময় বাসনার মার ঘ্যানর ঘ্যানর শুনে মাসুম বিরক্ত। 

‘আরে বাবা, মেয়েদের বিয়ে তো দিতেই হবে। তোমাদেরই আত্মীয়ের সাথে বিয়ে দিয়েছ। এত কান্নাকাটির কী আছে?’

‘একবার জামাইসহ বাসনাকে আসতে বলতে হয়’-- বললাম নিচু গলায়। 

‘তা বললেই তো পারে। সবসময় প্যানপ্যানানি বিচ্ছিরি লাগে’।

‘প্যানপ্যান করলো কোথায়? তোমার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলে আমার খারাপ লাগবে না?’ --স্বজনপ্রীতি। বুঝলো মাসুম। 

‘বলে দাও কদিন বেড়িয়ে যাবে। বেড়িয়ে যাওয়ার পরে যেন আর এরকম না করে’।

জামাই সাথে করে বাসনা এলো। এসেই আমার গলা জড়িয়ে ধরে কান্না। রিমি তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাসনাকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটা তখনও কাঁদছে। শার্ট আর স্কার্ট পরা রিমির দিকে কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলো জামাইটা। রিমি তার ঘরে চলে গেল। ওর মা জামাইয়ের খাতির-যত্নে অস্থির হয়ে পড়লো। বাসনা কাপড়চোপড় না খুলেই রিমির আলমারি খুলে সব কাপড় মেঝেতে ফেলে গুছাতে বসলো। ওর বইপত্র ঝেড়ে মুছে ঘরটা একঘন্টার মধ্যে মিউজিয়াম বানিয়ে দিল। বাসনা যাওয়ার পর একদিন কোনরকমে গুছিয়েছিল রিমি। ঢুকে দেখলাম ঘরটা ঝকঝক করছে। 

‘নিজের ঘর নিজে গুছিয়ে রাখ না রিমি। ও কি আর মাসে মাসে এসে তোমার ঘর গুছিয়ে দিয়ে যাবে?’

‘ওতেই আমার চলে যায় মা’।

‘আমরা তোমাদের বয়সে রোজ পুরো বাসা গুছাতাম। একেক বোন একেকদিন। আর তোমরা নিজেরটারই যত্ন নাও না’।

‘জ্ঞান দিও না মা, আমার মাথা ধরেছে’।

বুঝলাম বাসনার বরের অদ্ভূত দৃষ্টি দেখে রিমি ভেতরে ভেতরে ক্ষেপে আছে। 

‘কীরে সুখী হয়েছিস?’-- বাসনা ঘর গুছিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় রিমির জিজ্ঞাসা। 

‘হাজবেন্ড ভালো?’--বলে এই প্রথম গভীরভাবে বাসনার দিকে তাকালো রিমি। রিমির গায়ের রঙ বেশ পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু মুখটা ম্লান। চোখের নিচে জাগরণের ক্লান্তি। 

‘হ্যাঁ, ভালোই তো’।

‘এসএসসিটা দিবি না?’

‘ওরা চাই না’।

‘ও’।

আমি বেশ চিন্তিত বাসনাকে নিয়ে। ওর মুখ দেখে আমার ভালো লাগেনি। জামাই কালামকে বললাম মাসখানেকের জন্যে বাসনাকে রেখে যেতে। সে শুনলো। মাসুম কালামকে একটা গার্মেন্ট-এ ঢুকিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিলে সে খুশীমনে বাড়ি গেল। আমি পরদিনই আমাদের এলাকায় একটা সৌন্দর্যসেবাকেন্দ্রে বাসনাকে ভর্তি করিয়ে দিলাম। একটা প্রশিক্ষণ থাকলে মেয়েটা ভবিষ্যতে কিছু করে খেতে পারবে। বাসনার মাও যেন স্বস্তি পেল খানিক। রিমিতো আনন্দে বাসনাকে জড়িয়ে ধরলো।

বাসনা প্রশিক্ষণ শেষ করে একটা বিউটি পারলারে চাকরি নিল। কালামকেও গার্মেন্ট ফ্যাক্টরিতে চাকরি পাইয়ে দিল মাসুম। মাসদুয়েক পরে ওরা একটা বাসা ভাড়া করে উঠে গেল। আমি সাধ্যমতো ওদের সংসার গুছিয়ে দিলাম। 

‘বাসনাকে রিমির চেয়েও এ্যাকটিভ মনে হয়’--মাসুম আক্ষেপের সুরে বললো। 

‘হবে না? তোমার মেয়েকে তো বাসনাই নুলো করে দিয়েছে। কীভাবে যে সংসার করবে মেয়েটা’

‘কেন সংসার করার পূর্বলক্ষণ টের পাচ্ছ নাকি?’

‘বন্ধু-বান্ধব তো আছেই’।

‘বিশেষ?’

‘কে জানে? থাকলে আশ্চর্যের কী?’ 


বাসনা ওর মাকে নিয়ে গেছে কয়েকদিন ওর বাসায়। বাসনার মা ওখানে গিয়ে স্বস্তি পায় না। তার নাকি দম আটকে আসে। তবুও মেয়ের বাসা বলে কথা। 

‘কালামডা এট্টা হাড়কেপ্পন’।

‘কেন তোমাকে ভালোমন্দ খেতে দেয় না? বাসনা নিজেও তো রোজগার করে’।

‘রুজগার করলি হবে কী? মাস পড়লি মাইনেডা ছোঁ মাইরি কাইড়ি নেয়’।

‘বাসনা দেয় কেন?’

‘স্বামীর ভাত খাতি হলি স্বামীর মতো চলতি হবে’।

‘ও তো আর স্বামীর ভাত খায় না’।

‘তা না খালি কী হবে? স্বামীর ঘর তো করতি হয়’।

আমি তো আর বলতে পারিনা-- কী দরকার স্বামীর ঘর করা? কিন্তু বাসনাকে স্বনির্ভর করার যে গোপন বাসনা আমার ছিল সে গুড়ে বালি। যাক। যেভাবে পারুক থাকুক। তার ওপরে বাচ্চা এসেছে পেটে। আমরাই বাচ্চার মুখ চেয়ে ইচ্ছে থাকলেও সংসার ত্যাগ করতে পারি না। পরের বাড়িতে মানুষ হওয়া বাসনার সে শক্তি কোথায়? 

এবার বাসনা এল অন্য চেহারায়। কালো মোটা বোরকা, মাথায় আঁটো করে কালো কাপড় বাঁধা। তার ওপরে ওড়নার ঘোমটা। পেট বোঝা যাচ্ছে। গরমে ঘেমে একসা। আমি দ্রুত ফ্যান ছেড়ে দিলাম। বললাম ওসব ছেড়ে একটু গায়ে বাতাস লাগা। সে একবার কালামের দিকে তাকিয়ে ওড়না সরাতে গিয়েও সরালো না। জিনস-ফতুয়া পরা রিমি ছুটে এসে ওকে জড়িয়ে ধরে বললো--

‘ওয়াও! কঙগ্রাচুলেশনস বাসনা। কিন্তু শরীরের এ অবস্থায় এতো জবড়জঙ হতে কে বলেছে? খুলে ফেল সব’।

‘আহা থাক না। ওকে ওর মতো চলতে দাও’--আমার কথায় কালামের মুখ উজ্জ্বল হলো। 

অনেককিছু রান্না করেছিল বাসনার মা। কিন্তু বাসনা তেমন কিছুই খেতে পারলো না। বুঝলাম গরমে ওর রুচি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবু যাওয়ার সময় টিফিন ক্যারিয়ারে খাবার দিয়ে দিলাম। 


রিমি অনার্স শেষ করেছে। যে মেয়ে বেলা বারোটার আগে ঘুম থেকে উঠতো না সে একটা সেলফোন কোম্পানিতে ভালো বেতনে চাকরিও পেয়েছে। মাসুম বলে-- মেয়েটা আমার চৌকস। আমি বলি-- ঘরে তো কুটে ভেঙে দুটো করে না। চাকরির ধকল সইবে তো? বাবাকে কিছু না বললেও ক্লাসমেট কুশলের সাথে ওর দীর্ঘ চার বছরের সম্পর্কের কথা আমাকে ও জানিয়েছিল। ইদানিং বাইরে পড়তে যাওয়া নিয়ে খুব ব্যস্ত। স্কলারশিপের চেষ্টা করছে, জিআরই দিচ্ছে। ইউএসএতে একটা মোটামুটি স্কলারশিপ নাকি জোগাড়ও করে ফেলেছে। সেদিন রাতে খাবার টেবিলে মাসুমই তুললো প্রসঙ্গ--

‘তোমার মায়ের কাছে শুনেছি। আমরা চাচ্ছি বাইরে যাওয়ার আগে বিয়েটা সেরে ফেল’।

‘বিয়ে? কার সাথে?’--যেন আকাশ থেকে পড়লো রিমি।

আমি বললাম-- ‘কেন, কুশল’।

‘কুশলের সাথে তো আমার কবেই ব্রেকআপ হয়ে গেছে’।

‘এতোদিনের সম্পর্ক..’!

‘মা, ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে কারো সাথে সম্পর্ক চিরস্থায়ী করার শিক্ষা আমার নেই’।

আমরা চেয়ে ছিলাম ওর দিকে। কী হয়েছিল জিজ্ঞাসা করলে যদি আবার ওর ব্যক্তিত্বে আঘাত লাগে তা ভেবে কেবল চেয়েই থাকলাম। যদি দয়া করে বলে।

‘যাত্রা’য় একটা স্লিভলেস জামা আমার পছন্দ হয়েছিল। ও সেটা কিনতে আগ্রহ দেখায়নি’-- বলে মোবাইল বেজে উঠলে রিমি কথা বলার জন্য এঁটো হাতেই উঠে গিয়ে তার ঘরের দরজা দড়াম করে লাগিয়ে দিল। 



লেখক পরিচিতি
উম্মে মুসলিমা
আলমডাঙ্গা। কুষ্টিয়া।
পড়াশুনা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
পেশা : সরকারি চাকরি।
কবি। গল্পকার। 
গল্পগ্রন্থ : আকো আছে। আলো নেই।

২টি মন্তব্য: