শুক্রবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০১৮

গল্পপাঠ।। পৌষ-মাঘ।।১৪২৪।। ডিসেম্বর-জানুয়ারি।। ২০১৮।। সংখ্যা ৫৮

‘নারীর লেখা-নারীদের লেখা’ আলাদা শিরোনামে এবারের সংখ্যাটি বের করবার তাগিদটা কেন হয়েছিল? চারপাশে অনেক মেয়েরাইতো লিখছে, আলাদা করে হঠাৎ নারীদের হাইলাইট করার কি আছে? অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের দেখেছি তারা আলাদাভাবে ‘নারী লেখক’ হিসেবে নিজেদের চিন্থিত করতে নারাজ। উনারা মনে করেন ‘পুরুষের সমপর্যায়ে’ ভাবনার ইচ্ছেটাই আসল। জেন্ডার ডিসক্রিমিনেশন আমরাই তৈরী করি। 
এক্ষেত্রে আমার ব্যক্তিগত মত হল, ভাল মানের লেখাটা লিখে যাওয়াটা যেমন জরুরী, তেমনি কিন্তু এটাও সত্য যে আমরা কেউই রাজনীতির উর্ধ্বে নই। বিশেষ করে 'নারী'তো নয়ই। পুরুষতন্ত্রের ঘেরাটোপে বদ্ধ তাদের জীবন। বিশ্বসাহিত্যে নারীদের লেখায় লক্ষ করার মতন এমন সব টপিক উঠে এসেছে যেগুলো আমি মনে করিনা কোন পুরুষের পক্ষে লেখা সম্ভব। যদি কেউ লিখতে পারেনও, সেটা হবে যাদু। এই লেখাগুলো একেবারে যেন গর্ভজাত, শিশু ভূমিষ্ঠের বেদনা থেকে উৎসারিত। তাহলে নারীলেখকদের  কি আরো বেশী বেশী করেই লিখে যাওয়া উচিত নয়? ঠিক এই উদ্দেশ্যটিকে সামনে রেখেই এবারের গল্পপাঠটি সাজানো। ‘নারীর’ যে স্বকীয়তা তাকেই ছড়িয়ে দেবার চেষ্টা।
আশাপূর্ণা দেবী সাধারণ গৃহিণী থেকে কথাসাহিত্যিক হয়েছেন। সিমন দ্য বোভোয়া ধর্মীয় বিশ্বাস হারিয়ে লেখাটাকে নেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আত্মপরিচয়, সম্পর্কের জটিলতা, পারিপার্শ্বিকতা, যুদ্ধ সবই এসেছে নারীদের লেখায়। এসংখ্যার নারী লেখকদের সাক্ষাতকারগুলো পড়লেই বুঝতে পারবেন কতটা স্বতন্ত্র তারা চিন্তায় এবং কাজে। এসব লেখার কালির রঙ যেন উঠে এসেছে পাজর ছিঁড়ে একেবারে হ্রদয়ের গভীর থেকে। যারা এ সংখ্যায় লিখেছেন বা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। যাদের লেখা আসেনি আগামীতে আসবে বলে আশা করছি। খুব ইচ্ছে হচ্ছে সংখ্যাটি বই আকারে প্রকাশ করবার। এক্ষেত্রে যে কোন সহযোগিতাকেই স্বাগত জানাই। ‘গল্পপাঠ’ দীর্ঘজীবী হোক।

এই সংখ্যাটি পরিকল্পনা ও সম্পাদনা করেছেন মৌসুমী কাদের। গল্পপাঠের ব্যানার ডিজাইন করেছেন মেঘ অদিতি।
কথাসাহিত্যিক আশাপূর্ণা দেবীর প্রথাগত শিক্ষা তাঁর ছিল না। জানতেন শুধু বাংলা ভাষাটি। বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জীবন, সাধারণ মেয়েদের জীবনযাপন ও মনস্তত্ব তাঁর লেখার মূল বিষয়।আটপৌড়ে ভাষায় লেখা উপন্যাস, গল্প ও শিশুসাহিত্য আশাপূর্ণা দেবীকে করেছে অবশ্যপাঠের অন্তর্ভূক্ত।
ঢাকার মেয়ে প্রতিভা বসু শুরুতে ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী। কবি বুদ্ধদেব বসুর গৃহিণী হয়ে লিখেছেন গল্প উপন্যাস, প্রবন্ধ। স্বাদু ও আধুনিক তাঁর লেখা।
নবনীতা দেবসেন রম্য শৈলীতে গল্প উপন্যাস লিখে প্রসিদ্ধি অর্জন করেছেন।
বানী বসু অসামান্য শক্তিশালী আখ্যানকার। গৌতমবুদ্ধের সময়কে নিয়ে তাঁর মৈত্রেয় জাতক উপন্যাসটি চিরায়িত সাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে।
আর একালের এক্টিভিস্ট ও লেখক জয়া মিত্র অর্জন করেছেন অনুবাদ সাহিত্যে অকাদেমি পুরস্কার।
এই পাঁচ কথাসাহিত্যিকের সেরা পাঁচটি গল্প প্রকাশ করা হলো।
একজন নারী কথা-সাহিত্যিক, লেখক ও ঔপন্যাসিক হিসেবে সেলিনা হোসেন বাংলা সাহিত্যে বিপুল ঋদ্ধিতে টিকে আছেন। লেখার বিষয় নির্বাচন, অনন্য সৃষ্টি ও শক্তি দিয়েই তিনি বাংলা সাহিত্যে শক্ত স্থান করে নিয়েছেন।  
 সেলিনা হোসেন-এর দুটি গল্প
সালেহা চৌধুরী'র গল্প  
সালেহা চৌধুরী দীর্ঘদিন প্রবাসে কাটিয়েছেন। লিখছেন বাংলা ভাষায় গল্প। তার আখ্যান, দৃষ্টিভঙ্গি, ভাষা শৈলী অনেক বেশি সুন্দর, সংহত ও পরিণত। মা ও মেয়ে এবং বিদেশ থেকে আগত এক যুবককে নিয়ে লিখেছেন অন্য রকম গল্প। শেষে পাঠককে চমকে দিয়ে বলেন ভিন্ন কোনো গল্পের ইশারা যা পাঠকের কল্পনাতে আসে না।
ধ্রুপদী আধুনিকতার সম্মিলনে অনন্য এই কথাসাহিত্যিক বাংলা সাহিত্যে এক বিস্তীর্ণ ভূমি রচনা করেছেন। গল্পপাঠ নারী সংখ্যায় তাই থাকছে তাকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন। 
লেখক,ঔপন্যাসিক এবং সাহিত্য সম্পাদক 

নাসরীন জাহানের অসামান্য দুটি গল্প 



শাহনাজ মুন্নী এ সময়ের বাংলাদেশের অত্যন্ত শক্তিশালী গল্পকার, কবি ও সাংবাদিক। তাঁর গল্প সকলের চেয়ে আলাদা। ছোট ছোট যাদুকরী আখ্যান, গুটি কয়েক চরিত্র, সুষমামণ্ডিত ভাষা, আর চমক যে কোন গল্পকেই পাঠককে আক্রান্ত করে। পাঠককে নতুন কোনো ভাবনায় ফেলে দেয়।
তাঁর বেশ কয়েকটি গল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। জ্বিনের কান্না, তার প্রথম ছোটগল্পের বই যেটি ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। গল্পগাথা, পানসুন্দরী, আমি আর আমিন যখন আজিমপুরে থাকতাম--আরো কয়েকটি গল্পের বই। গল্পকার, প্রবন্ধকার, সাংবাদিক সাদিয়া মাহজাবীন ইমাম সম্প্রতি ঢাকার দীপনপুরে শাহনাজ মুন্নীর সঙ্গে তাঁর লেখালেখি, লেখালেখির ভাবনা, নারীবাদ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে আড্ডা দিয়েছেন। সেটা নিচে পত্রস্থ হলো। বিস্তারিত >>>
                      শাহনাজ মুন্নী 'র গল্প
সমকালের গল্প
গল্পটি এ সময়ের। সাঁওতালদের নিয়ে। রাষ্ট্রের মদদে সাঁওতালদের ভূমি থেকে উচ্ছেদের কাহিনী। এই নিপীড়ন নির্যাতন সাতচল্লিশের পরেও ঘটেছে। আগামীতেও ঘটবে। মাঝখান থেকে আমরা বারবার ভুলে যাব। ভুলে না যাওয়ার জন্যই এই গল্পটি লেখা হয়েছে। 

সমসাময়িক ঘটনা নিয়ে গল্প লেখা সহজ নয়। 

-দীপেন ভট্টাচার্য
মাদেলিন গোবেইলে’র সাথে 
আলাপচারিতা
সিমন দ্য বোভোয়া (১৯০৮-১৯৮৬) একজন ফরাসি লেখক ও দার্শনিক। তিনি দর্শন, রাজনীতি ও
সামাজিক বিষয়াবলীর উপর প্রবন্ধ, উপন্যাস, জীবনী ও আত্মজীবনী রচনা করেন। বর্তমানে তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত তাঁর অধিবিদ্যামূলক উপন্যাস 'She Came to Stay' এবং 'The Mandarins' এবং ১৯৪৯ সালে লেখা তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ 'The Second Sex'-এর জন্য।  এই সাক্ষাৎকারটি নিয়েছিলেন 'মেদেলিন গোবেইল'। পনের বছর বয়স থেকে তিনি (১৯৫৮) সালে সিমন দ্য বোভোয়াকে চিঠি লিখতে শুরু করেন এবং বোভোয়ার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁরা দুজনে বন্ধু ছিলেন। বিস্তারিত>>
সম্পাদনা-মৌসুমী কাদের
ম্যারি ওলস্টোনক্রাফট (১৭৫৯ -১৭৯৭), জেন অস্টেন (১৭৭৫-১৯১৭), সেলমা ওতিলিয়ানা লভিসিয়া লাগেরলফ (১৮৫৮-১৯৪০), ভার্জিনিয়া উল্‌ফ (১৮৮২-১৯৪১), আগাথা ক্রিস্টি (১৮৯০ -১৯৭৬), পার্ল এস বাক (১৮৯২-১৯৭৩), সিমোন লুসি এর্নেস্তিন মারি বেরত্রাঁ দ্য বোভোয়ার ( ১৯০৮-১৯৮৬), ডোরিস লেসিং (১৯১৯-২০১৩), মায়া এ্যাঞ্জেলু (১৯২৮-২০১৪), এলিস মুনরো (১৯৩১- ), মার্গারেট অ্যাটউড (১৯৩৯ -), টনি মরিসন (১৯৩১- ),সভেতলানা আলেক্সিয়েভিচ (১৯৪৮-) , অরুন্ধতী রায় (১৯৬১-) ও ঝুম্পা লাহিড়ী (১৯৬৭-)। 
অনুবাদ : মোজাফর হোসেন
বিংশ শতকের অন্যতম প্রধান নারীবাদী উপন্যাস দ্য হ্যান্ডমেইড’স টেল-এর রচয়িতা কানাডার কবি, কথাসাহিত্যিক, সাহিত্যসমালোচক ও মানবাধিকারকর্মী মার্গারেট অ্যাট্উড (জ.১৯৩৯)। অ্যাট্উড বর্তমান বিশ্বের জীবিত লেখকদের মধ্যে প্রথম সারির লেখক হিসেবে গণ্য।
গত কয়েকবছর থেকেই সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের জন্য উচ্চারিত হয়ে আসছে তাঁর নাম। বুকার পুরস্কারসহ ইউরোপের নামিদামি সব পুরস্কার ও সম্মাননা তিনি অর্জন করেছেন। বিস্তারিত>>
বিশ্বসাহিত্যের ১০টি সেরা নারীবাদী গল্প
অনুবাদ : ফজল হাসান
গেল কয়েক দশকে ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেও তার শিল্প সাহিত্য সঙ্গীত চলচ্চিত্র থেমে নেই। কথাসাহিত্যের ক্ষেত্রে ইরানের নারী লেখকরাই পুরুষদের টপকে বেস্ট সেলার হচ্ছেন। তাদের লেখা আটপৌড়ে, ব্যক্তিগত আখ্যানে ঋদ্ধ। রোমাঞ্চ, প্রেম যৌনতাকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছেন এই নারী লেখকরা। বিশ্বসাহিত্যে ইরানী নারী লেখকদের উপস্থিতি উজ্জ্বল।। 
এ সংখ্যার বিশেষ আয়োজন
৫ টি ইরানী নারীবাদী গল্প

'ফ্রিদা কালো! আমার মুগ্ধ বিস্ময়! অজানা বেদনার কালো পর্দা সরিয়ে বুক দিয়ে আবাহন করেছেন কন্টকশয্যা। বেদনার পেয়ালায় ঠোঁট ছুঁয়ে ছুঁয়ে আস্তে আস্তে পান করেছেন শিল্পিত হেমলক। ফ্রিদা কালো উন্মোচন করে গেছেন এক অন্য পৃথিবী, যেখানে এ বিশ্বের প্রতিটি নারী, ও প্রতিটি শিল্পী শুনতে পান তাঁর আপন বেদনার অনুরনন'। পড়ুন ফ্রিদা'কে নিয়ে লেখা লুতফুন নাহার লতা'র অসাধারণ রচনা...    
ফ্রিদা কালো ।। বেদনার্ত রঙের সম্রাজ্ঞী
 লুতফুন নাহার লতা
চাইনিজ-আমেরিকান গল্পকার 
অনুবাদ : মোজাফফর হোসেন
চীনা বংশোদ্ভূত আমেরিকান কথাসাহিত্যিক অ্যামি তানের জন্ম ১৯৫২ সালে, আমেরিকার ওকল্যান্ড শহরে। বাবা জন তান ছিলেন ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, পরবর্তীকালে ব্যাপটিস্ট মন্ত্রী হন। তিনি চীনা গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন। প্রথম উপন্যাস ‘দ্য জয় লাক ক্লাব’ এক চীনা পরিবারের গল্পকে উপজীব্য করে লেখা। উপন্যাসটি প্রকাশের পরপরই অ্যামি বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন।
'নারী পাতা মানেই মনে করা হত মেয়েদের ‘রোল ওরিয়েন্টেড’ লেখালেখি, যেমন ‘ঘর সাজানো’, ‘সাজ সজ্জা’ এসব লেখা। সে সব থেকে বেড়িয়ে এসে নারীর ক্ষমতায়নটাকে আলাদাভাবে তুলে ধরবার চেষ্টা করেছি; তবে সেটা ঠিক এনজিওরা যেভাবে ক্ষমতায়নকে বর্ণনা করে ঠিক সেটা নয়; এর মূল উদ্দেশ্যে ছিল সেরিব্রাল উইমেন ক্রিয়েট করা যেখানে মেয়েদের ভাবনা, চিন্তা-চেতনা আরো জোরদার হবে,পরিপুষ্ট হবে। সে লেখা নারী বা পুরুষ যেই লিখুক না কেন, তাঁর সাহিত্য মান থাকতে হবে'। পড়ুন...
সাহিত্য সম্পাদক, চিত্রনাট্যকার, চলচিত্র নির্মাতা
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন-মৌসুমী কাদের
আমেরিকান কথাসাহিত্যিক
ভাষান্তর : কুলদা রায়
আমেরিকান গল্পকার নয় হোল্যান্ডের জন্ম ১৯৬০ সালের ৩ ডিসেম্বর। লেখক সাম মিশেল তার স্বামী। ম্যাসাচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি ও লেখক বিভাগের প্রফেসর। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালিয় থেকে ফাইন আর্টসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী নিয়েছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস বার্ড প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে। এই উপন্যাসেই তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 
অনিন্দিতা গোস্বামীর গল্প : মোচ্ছব

গল্পটি ইলিশ নিয়ে। কিছু বানভাসী নিরন্ন মানুষ, পুলিশ, আর একটি খোকা হোক পাখিকে নিয়ে অসামান্য এই গল্পটি পড়ুন। 
সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমাম'এর গল্প
গোপন ইচ্ছেটা প্রীতম জানত, খরচ শেয়ারে। সাহসটুকু জোগাড় করতে হাজারটা বিষয় ভাবতে হয়েছে। নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় সন্তান প্রথম বেতন দিয়ে কী করে? মুদি দোকানের বাকির খাতা থেকে বাপের নাম কাটায় বা টাকার খামটা মা’এর হাতে দিয়ে সিনেমার দৃশ্যের মতো চোখের পানি ফেলে। সবই করেছি শুধু হাজার পাঁচেক টাকা সরিয়ে। ‘হ্যাঁ’ আর ‘না’ করতে করতে একসময় প্রীতম বলেই বসলো, ধুর শ্যালা ঢ্যামনা, নিজের ভাইবোনদের দেখেও কিছু শিখিসনা। বিস্তারিত>>
রঞ্জনা ব্যানার্জী' র 
জীবন বড়ই বিচিত্র। কখন কোথায় কীভাবে বাঁক নেবে কেউ জানে না। আমার কথাই ধরুন, ঘটনার কোন চরিত্র না হয়েও ঘটনার সাথে জুড়ে গেছি। যে মিথ্যার ভার বইতে না পেরে সে চলে গেল, সেই মিথ্যার সত্য আমি বয়ে বেড়াচ্ছি।
গল্পটা যার তাকে আমি প্রথম দেখি হোটেলের লবিতে। বছর পাঁচেক আগে। সেবার তিন সপ্তাহ্‌’র জন্যে বাচ্চাদের নিয়ে একাই দেশে গিয়েছিলাম। দেশে তখন ঈদের ছুটি। আমরা ভাইবোনেরা বাচ্চাকাচ্চা সমেত কক্সবাজার চলে গিয়েছিলাম। বিস্তারিত>>
নাহার মনিকা'র গল্প
‘অর কাছে কি শুনবেন, আমি কইতাছি, খাড়ান…’, ভেজা লুঙ্গি গুটিয়ে পানি চেপে ছপ ছপ শব্দে সামনে এসে দাঁড়ায় কাসেম। বালুর বস্তা ট্রাকে ওঠানোর কাজ কি আজকে তাড়াতাড়ি শেষ! ঘোমটার কোনা কামড়ে ওর বৌ ততক্ষণে বারান্দার খুটি আঁকড়ে উঠে দাঁড়িয়ে গেছে। ছনে ছাওয়া নীচু বারান্দায় মিলির কোলের ওপর খাতা, হাতে টেপ রেকর্ডার। বিস্তারিত>>
বদরুন নাহার-এর গল্প : মুল্লুক যাত্রা
-এতো দরিয়া!
গুণমনি বুঝতে পারে না কিছু, ঘোরলাগা চোখে তাকিয়ে থাকে। আর মগজে কি-সব শব্দের আনাগোনা। বয়স বেড়েছে। এখন আর এত কথা জোড়া লাগাতে পারে না, খেই হারায়। ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি গহীন আঁধারে, চিকচিক করে জেগে থাকা জল দ্যাখে। বিস্তারিত পড়ুন>>
রুখসানা কাজল গল্প  
দূর্যোধনদাদুর কবিরাজ ঘর আমাদের নিরাময় ফার্মেসির পাশেই । পাশে মানে দোকানসমেত নিরাময় ফার্মেসির এই জায়গাজমি আসলে দূর্যোধনদাদুরই ছিল। ঘটনা হলো,বাপির সাথে মার বিয়ে দিয়ে আমার নানাজান দেখলেন,আরে সব্বোনাশ করিছি কী ! জামাই দেখি ভাদামের মহাসেনাপতি ! আজ নাটক তো কাল সিনেমা । পরশু কবিতা তো তারপর দিন ফুটবল ! এ তিনি কী করলেন !তার সোনার প্রতিমা যে ভেসে গেলো মধুমতির জলে !
রোখসানা চৌধুরী
'ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল' হুমায়ুন আজাদের প্রথম উপন্যাস।প্রবন্ধে নারীবাদী ভাষ্যের ক্ষুরধার লেখক নিজস্ব কথকতার জগতে কতখানি সচেতনতার স্বাক্ষর রেখেছেন এই বিষয়টিই অনুসন্ধান করতে চাওয়া হয়েছে ।তাঁর বারোটি উপন্যাসের মধ্যে মাত্র দুটি উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র নারী।অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারী পার্শ্বচরিত্র রূপে বিদ্যমান, নিরীহ উপস্থাপনায় ম্রিয়মান ।লেখক কি তবে সৃজনের ভূবনে নিজস্ব অভিজ্ঞতার বাইরে যেতে পারেন না?এসব নিয়েই আপাতত তাঁর প্রথম উপন্যাসকে ঘিরে আমাদের এই মুহূর্তের আলোকপাত ।
উম্মে মুসলিমার গল্প 
ভাগ্যিস বাসাটার লাগোয়া পার্কটা ছিল। সকাল-সন্ধ্যে অন্তত দুবার গিয়ে একটু বসা নাহয় বার তিরিশেক চক্কর। ছেলে সেই সকাল নটায় ক্লাসে বেরোয়, চারটায় ফিরে আহ্লাদ করে মায়ের হাতে খাওয়া, ঘন্টাখানেক ফেসবুক তারপর লাইব্রেরি। ফিরতে ফিরতে রাত বারো। ওর বাবার দেশ থেকে স্কাইপে সেই একই বুলি-
‘দেখো, ডায়বেটিস বাড়িও না। বরফ পড়লে হাঁটাহাঁটির দরকার নেই। দুশ্চিন্তা করবে না। আমেরিকার বিশুদ্ধ বাতাসে শরীর এমনিতেই ভালো থাকবে দেখো। বিস্তারিত পড়ুন>>

সাদিয়া সুলতানা'র গল্প 
জালালের শেষকালের সন্তান পামোছা যে এমন একটা দুঃসাহসের কাজ করে ফেলবে তা কেউ ভাবেনি। জালালও ভাবেনি। কিন্তু আজ কাকডাকা ভোরে হিরু, যোগেশ বাড়ি বয়ে এসে পামোছার বাবা হওয়ার পুণ্যে তাকে যে বাহবা দিয়ে গেল, সে কথা তো আর ফেলে দেয়ার নয়। যদিও নিজের ছেলের সাহসিকতার বিষয়টি এই ভর দুপুর পর্যন্ত এখনো প্রশ্নবিদ্ধ জালালের কাছে। নিজের ঔরসজাত পুত্রের গুণের দৌড় তার অজানা নয়। বিস্তারিত>>

তৃষ্ণা বসাকের গল্প 
সকালবেলা ওর নাম ছিল প্রেম, দুপুরে সে-ই হয়ে গেল সমীর, হাওয়া কা ঝোঁকা, আর বিকেলে... আরে ওই যে, শান্ত বিনম্রতার সঙ্গে ফিরছে, হাঁটতে হাঁটতে হঠা ৎ দাঁড়িয়ে পড়ল, মোড়ের মাথায় বজরঙ্গবলীর মূর্তি দেখেছে যে!  ঠোঁট নড়ছে--বিস্তারিত>>
সাগরিকা রায়ের গল্প 
ঘোয়াওওওস !! ট্রাকটা পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেল !
৩১ নং ন্যাশনাল হাইওয়ে ধরে খানিকটা গেলে বাঁ দিকের ঢালু রাস্তাটা সোজা চলে গেছে কলসবাড়ি গ্রামের দিকে । এখানে বেশির ভাগই ক্ষেতমজুর শ্রেণির মানুষ । দু চার ঘর ভদ্রলোক আছেন ।
জমিজমা নিয়ে ভারি ব্যস্ত তাঁরা । ঘটনাচক্রে একটি স্কুল আছে । খুব বেশিদিন হয়নি বয়স । এরই মধ্যে ভিজে ন্যাতা ! এস এস সি দিয়ে সদ্য চাকরি নিয়ে এখানে এসেছি । বিস্তারিত>>

সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত'র গল্প :শাল
সে বার ধানের ফলন বেশ ভালোই হওয়ায় শ্রীবিলাস নিজের পুরনো তূষের চাদরটি ছোট ছেলেকে দিয়ে নিজের জন্য একটি সাদা খদ্দরের চাদর কিনলেন। সকালের কাজকম্মো সেরে সেটি গায়ে দিয়ে যখন রোদ্দুরে পিঠ ঠেকিয়ে বসলেন সেই সাদা চাদরে আলো খেলে গেল।
বিস্তারিত>>

সাগুফতা শারমীন তানিয়া'র গল্প
-“জানো তো, 'অন্যায় অবিচার' সিনেমায় আমার এক রাঙাদাদা মিঠুন চক্রবর্তীর স্যাঙাতদের একজন হয়ে নেচেছিল।”
পোড়া হাতরুটির ফোস্কা ফুটো করে তাতে মিষ্টিকুমড়োর ঘ্যাঁট মাখিয়ে খেতে খেতে বলি আমি।
হঠাৎ করেই। যেন এমন দাদার ছোটভাইকে এ’রকম পোড়া রুটি আর ঘ্যাঁট খেতে দিতে নেই। যাকে উদ্দেশ্য করে বলা, কাচা চাদরটা তারে মেলে দিতে দিতে সেই কাজরীর খোঁপায় লতিয়ে থাকা গামছাটা খুলে এলো। বিস্তারিত>>
ফকফকির সাথে আমার গল্পগুলোর কোন ভাষা নেই। কিন্তু ভাব আছে। আমি কিংবা ফকফকি দুজনেই দুজনের মনের ভাব দিব্যি বুঝে নেই। কোন অসুবিধে হয় না। মুখের ভাষায় নয়,হৃদয়ের ভাবে।
এই ভাব বিনিময়ে আমার যতোটা তাড়া, তার সিকি-আর্ধেকও ফকফকির নেই। কারণ আমার গায়ে গা লাগিয়ে না বসলে আমি এখানে বড় বেমানান নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ি। বোধকরি তাই আমি তার মায়ায় পড়ি। বিস্তারিত>>

প্লেনে উঠে সংকীর্ণ একটুখানি সিটে কোন রকমে বসে পড়ে রেশমী। বসে পড়া ছাড়া কোন উপায় ছিলনা তার। সংকীর্ণ চাপা সীটগুলোর মাথার উপরে হ্যান্ড লাগেজ রাখায় সবাই ব্যস্ত। যে যার জায়গা খুঁজে পেতে মরিয়া। এতটুকুন তর সইছেনা কারো। রেশমী নিজের সীটটি দেখতে পেয়ে নিজেকে কোনমতে প্রবেশ করিয়ে ছেড়ে দেয় নিজেকে। আহ! মনে হয় কয়েক বছর পর যেন বসলো সে।শেষ মুহূর্তে একগাদা ঝামেলা। বিস্তারিত।>
উম্মে হাবিবা সুমি'র গল্প 
দেশভাগ এর বেদনার এক অবশ্যম্ভাবী উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে যাপিত জীবনের একটা ঘটনা নিয়ে এই গল্প। দেশ ভাগ হয়ে গেছে। মানুষ ও পরিবার ভাগ হয়ে গেছে। মানুষ অভ্যস্থ হয়ে গেছে। তবু তার বেদনার রেশ থেকে গেছে। এমনকি খুব সাধারণ মানুষের আত্মপরিচয়ের সঙ্কটের সাথে মিশে আছে সেই বেদনা বোধ। বিস্তারিত পড়ুন>>
ভাসমান বাঙালির দরদী কাহিনীকার 
পৌলোমী সেনগুপ্ত
মানবপ্রকৃতির অবিচ্ছেদ্য, পরিবর্তনহীন রীতিনীতি ও স্বভাব তাঁর লেখায় প্রকাশ পায় বলেই আন্তর্জাতিক তিনি।

অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়'এর প্রবন্ধ  
নেতিকরণ ও মাইক্রো-আক্রমণের দাবাও নির্মাণ

ধারাবাহিক উপন্যাস
যে দিন ভেসে গেছে--তৃতীয় অধ্যায়
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত  
বিস্তারিত পড়ুন>>

 

1 টি মন্তব্য:

  1. সমৃদ্ধ সংখ্যা । মৌসুমী আপা আপনাকে অভিনন্দন বা এমন প্রচলিত কিছু বলছি না। এত শ্রমের কাজ লেখক সময় নিয়ে করতে পারেন সেই বিস্ময়। অনেকদিন উপভোগ করে পড়া যাবে। শুভ কামনা।

    উত্তরমুছুন