বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮

ব্রাজিলের ৩টি গল্প : উঠান এবং অন্যান্য

মূল: অ্যাড্রিয়ানা লিসবোয়া
অনুবাদঃ ফজল হাসান

উঠান

আমার দাদুর বাড়ির সীমানার ভেতর চারটা উঠান ছিল।

বড় ঘরটি ছিল মূল উঠানে, যেখানে গেইট খুলে সদর রাস্তায় যাওয়া যেত। আমরা নিচু দেওয়ালের ওপর দিয়ে তাকিয়ে রাস্তায় ধীর গতিতে চলমান লোকজনের মাথা দেখতাম । কখনো বারান্দায় দাঁড়ালে আমরা দূরের নদী থেকে ভেসে আসা একধরনের সোঁদা ঘ্রাণ পেতাম । সেই গন্ধ ছিল ভেজা কাপড়ের এবং মৃত্তিকার। সামনের খোলা পার্কিং জায়গায় দাদুর ভিউব্লিউ ভেরিয়েন্ট গাড়ি থাকতো ।
বাড়ির বাম দিকে একটা দেওয়াল ছিল, যা পাশের বাগানকে আলাদা করে রেখেছিল । সেখানে অ্যাভোকাডো ফলের গাছ এবং একটা গোপন কুঠির ছিল । গাছ থেকে অ্যাভোকাডো পেড়ে আমরা চারটা দেশলাইয়ের কাঠি দিয়ে পা বানিয়ে গরু বানাতাম । আমি কিছুতেই স্মরণ করতে পারছি না যে, অই গোপন কুঠির কোন কাজে ব্যবহার করা হতো । ওটা ছিল একটা ছোট্ট ঘর, যা প্রায় সব সময়ই বন্ধ থাকতো । তবে আমি স্বপ্নের ভেতর দেখতে পেতাম ।

বাড়ির বাম দিকে আরোও একটা দেওয়াল ছিল এবং সেই দেওয়ালের পেছনে আরেকটা বাগান ছিল । বাগানের সব গাছই ছিল হাইব্রিড, অর্কিডের গ্রীন হাউজ, মোরগ-মুরগী পালার জন্য খোয়াড়, পেয়ারা এবং ডালিম গাছ । এসব গাছপালা ঘর থেকে খানিকটা দূরে বাগানের শেষ প্রান্তে, যা অনাদরে এবং অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে । তবে দাদুর সেই উঠান ছিল নানান বর্ণের এবং চাকচিক্যময় । একবার আমার বোন পেয়ারা গাছ থেকে পড়ে গিয়েছিল এবং মাটির ওপর জেগে থাকা শেকড়ের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পেটে প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছিল । পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল ।

মূল বাগানের ডানদিকে চতুর্থ উঠান, যা প্রায় পরিত্যক্ত। সেখানে একটা দেওয়াল আছে এবং বাগানের একপাশে একটা ছোট্ট গেইট্ আছে । আমরা খেলাচ্ছলে সেই গেইটের ওপর দিয়ে লাফ দিতাম । বাগানে প্রচুর পরিমানে আগাছা, উঁচু গাছপালা এবং কোথাও ছায়াবীথি ছিল । গাছের শেকড়ের কাছে এমন সব উদ্ভট ঘটনা ঘটতো, যা মুখে উচ্চারণ করা যায় না । এছাড়া বাগানের মধ্যে পোকা-মাকড়ের বিভিন্ন ধরনের শব্দ শুনতে পেতাম, কিন্তু কখনই আমরা ওগুলো দেখতে পেতাম না । সময়টা ছিল গরমকাল এবং নিয়ম মাফিক আমাদের স্কুল বন্ধ ছিল । কিন্তু তখন বৃষ্টিও ছিল । সেই বৃষ্টির পানি বাগানের ঘাসে, গাছের নিচে ঝরাপাতার ফাঁকে, পোকায় খাওয়া ফল-ফলাদি এবং মৃত পোকামাকড়ের মাঝে জমে থাকতো । মনে হতো সেই জমে থাকা বৃষ্টির পানি যেন আমাদের চঞ্চল কঁচি পায়ের উপস্থিতির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছে।

দাদুর বাড়ির চৌহদ্দি দেওয়াল দিয়ে ঘেরাও করা ছিল । ছুটি শেষে ফেরার সময় যখন বড়দের ভিড়ের ফাঁকে দ্রুতগামী হালকা জাহাজে উঠতাম, তখন আমি একধরনের বিশেষ অভিজ্ঞতা আমার বুকপকেটে সযত্নে তুলে রাখতাম – কোনো গাইড বই বা নির্দেশিকা হিসেবে নয়, বরং মায়াবী অভিজ্ঞতা এবং গভীর অনুভূতি হিসেবে ।


পুনর্মিলন

দীর্ঘ তিরিশ বছর আমি প্রতীক্ষার প্রহর গোণে অবশেষে ব্রাসিলিয়াতে ফিরে যাই । হয়তো আমার কাছে ব্রাসিলিয়া কোনো পৌরাণিক কাহিনীর মতো শোনায়, যা অর্থহীন শব্দ, যেমন সারি সারি দালান-বাড়ি, স্মৃতিসৌধ এলাকা এবং গিলবার্তো সালাম্যিউ । (সবে মাত্র আমি যখন কথা বলা শুরু করেছি, তখন আমার মা লোকজন দেখিয়ে আমাকে বলতেন যে, গিলবার্তো সালাম্যিউ শপিং মলে গিয়ে আমরা কি করবো ? জবাবে আমি বলতাম, খেলা করবো । হিসি না আসা পর্যন্ত আমি খেলবো । আমার এই তাৎক্ষণিক জবাব মায়ের কাছে রীতিমতো অপ্রত্যাশিত ছিল ।)

হয়তো আমি ক্যাপিবারাসদের১ স্বপ্নে দেখতাম । কিন্তু সেই ছবিতে কি ছিল ? আমার মাথায় ছিল টুপি, আমাকে জড়িয়ে ধরে বাবা পরম স্নেহে আদর করছিলেন এবং পানশালার উল্টো দিক থেকে ভেজা শরীরের বাদামি রঙের প্রাণীরা আমাদের সঙ্গে ভ্রাতৃসূলভ আচরণ করছিল । আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কেউ হয়তো আমার স্বপ্নের ছবি তুলে রেখেছে । ব্রাসিলিয়া আমার কাছে কল্পনার জায়গা । সেখানে অন্ধকারে আমি বোনের সঙ্গে টেলিভিশনে গডস্পেল দেখতাম । ব্রাসিলিয়াতে আমি ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করতাম এবং পরে সারাদিন তার ভয়ে ভীত থাকতাম । ব্রাসিলিয়া একটা কল্পনার শহর, যেখানে স্বপ্নগুলো ছবির মতো করে সাজিয়ে রাখা যায় ।

হোটেলের দশ তলা থেকে জানালা গলিয়ে নিচে তাকালে আমার মাথা ঝিমঝিম করে না । আমি টিভির উঁচু টাওয়ার দেখতে পাই । ব্রাসিলিয়ার অন্যান্য বিখ্যাত জিনিসের মতো এই টিভি টাওয়ারও বিশাল এবং উঁচু । আমি নিজেকে শুধাই, আমার হোটেল কি ব্রাসিলিয়াতে, নাকি টোকিও, নাকি বার্লিনে ? এলিভেটরের ভেতর স্যুটেড-বুটেড ভদ্রলোকজন এবং উঁচু হীল পড়া ভদ্রমহিলারা আমাকে সুপ্রভাত বলে মঙ্গল কামনা করে না । প্রত্যেকে মুঠোফোনে কথা বলায় ব্যস্ত এবং নাস্তার টেবিলের বিশিষ্ট লোকজনের সঙ্গে খোশআলাপে মশগুল থাকে । কেননা জীবন এখানে গতিশীল এবং অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয় । আমার দেশবাসী লোকজন চপ্পল পায়ে হাঁটাহাঁটি করে এবং কন্ঠস্বর উপরে তুলে নিজেদের বাচনভঙ্গিতে কথা বলার সময় অন্যদের মাঝ থেকে অনুচ্চ গলার আওয়াজ শোনা যায় । কেননা জীবন হলো ক্যারিওকাদের২ মতো । স্যুটেড-বুটেড লোকেরা আমার জন্য এলিভেটরের দরজা ধরে রাখে । ক্যারিওকারা তা করে না ।

ব্রাসিলিয়ার কৌতুকঃ ওপর থেকে দৃষ্টি মেললে তৎক্ষণাৎ দেখা যায় মনোমুগ্ধকর রেইনো এনকান্টাডো স্কুল । এই স্কুল দেখলে আমি আমার শৈশবকে স্পর্শ করতে পারি । কিন্তু আমি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে থাকি । আমি জানি না, সেই স্কুল একই রকম আছে কি না । এছাড়া স্থূলকায় বাদামি চুলের ছেলেটি এবং শিক্ষকের তৈরি করা টি-সার্ট নিয়ে আমার ভীষণ ভয় হচ্ছিল । ব্রাসিলিয়া আমাকে এসব প্রশ্নের জবাব দেয়নি । সবকিছুতেই কেমন যেন ফিসফাস । পথচারীদের চলাচলের জন্য রাস্তার পাশে কোনো পথ নেই এবং ক্লান্ত পাখির মতো চোখ প্রসারিত করে তাকিয়ে দেখার মতো কোনো ফাঁকা জায়গা নেই । তারা বলে, উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি । এই প্রাপ্তি আদৌ আমাকে ভাবায় না । ব্রাসিলিয়া যেন খিৃষ্টানদের বিশেষ ধর্মীয় উৎসব এবং একধরনের হালকা দীর্ঘশ্বাস, যা ছোটখাটো এবং মামুলি বিষয় থেকে উৎসারিত । আত্মবিরোধ, নাকি আদর্শ ? যাহোক, সুসঙ্গতির আশা করার চেয়ে বেশি হাস্যকর কিছু নেই, বিশেষ করে ব্রাসিলিয়াতে ।

কিন্তু সারাক্ষণ আমার ভেতরে একটা ভয় কাজ করে । আমার মনে হয় যেকোনো সময় লোকজন শরীরের ওজন হারিয়ে ফেলবে এবং তারা ব্রাসিলিয়ার আকাশে ওড়াউড়ি করবে । আমি যদি আমার সম্মুখে প্রশ্নগুলো তুলে আনি, তাহলে দেখবো উদার ব্রাসিলিয়া আমাকে আরও অনেক বেশি প্রশ্ন করেছিল । ব্রাসিলিয়া আমার কাছে আমাকে ফিরিয়ে দেয়নি । বরং ভিন্ন কিছু দেখিয়েছে (অন্য আমি, অন্য ব্রাসিলিয়া), যা একই ধরনের উদ্ভট কল্পনার মতো । আমার কব্জিতে মিশ্রিত লোহিত রক্ত কণিকার স্পন্দন, সচ্ছিদ্র, বায়বীয়, মধ্য সমতল ভূমির দীর্ঘশ্বাস ।


খাড়াই

বাসে করে পাহাড়ে যাওয়ার মধ্যে একটা আলাদা ব্যাপার-স্যাপার আছে । রাতের বেলা বাসে করে পাহাড়ে যাওয়ার মধ্যে একটা আলাদা ব্যাপার-স্যাপার আছে এবং সে-টা যদি জুলাই মাসে হয়, তুমি যদি জানালার পাশের সীটে বসো, তোমার আশেপাশে কেউ নেই, বাসের ভেতর সুনসান নিরবতা এবং তুমি শুধু নতুন গাড়ীর ইঞ্জিনের গড়গড় শব্দ শুনতে পাও, বাইরে কোথাও কোনো কুয়াশা নেই এবং তোমার হৃদপিন্ডের ভেতর কেউ একজন পিয়ানোতে চপিনের সঙ্গীতের মূর্চ্ছনা তোলে, তাহলে স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে অবশ্যই আলাদা লাগবে । তখন মনে হবে এই পৃথিবীটা মাত্র চব্বিশ ঘন্টা আগে সৃষ্টি হয়েছে ।

কেউ হয়তো তোমাকে বলেছে যে, গতকাল তারা গিয়েছিল এবং ভোর পাঁচটায় ফিরে এসে বিকেল অবধি গাঢ় ঘুমে ডুবেছিল । তারপর ঘুম থেকে জেগে তারা দুপুরের খাবার হিসেবে গরুর মাংস দিয়ে ম্যাকারনি এবং টুকরো করা সসিজ্ খেয়েছে । কেউ হয়তো তোমাকে শিখিয়েছে কিভাবে বলতে হয় কনিচি ওয়া, জাপানী ভাষায় সম্ভাষণ । কেউ হয়তো সহানুভূতির চোখে তোমাকে দেখেছিল, কেউ হয়তো অনুসন্ধিৎসুর দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল (সম্ভবতঃ সাবওয়েতে দাঁড়িয়ে তুমি বই পড়ার সময় দাঁত দিয়ে ঠোঁট চেপে ধরেছিলে), এমনকি স্বল্প দূরত্বের জন্য ট্যাক্সিওয়ালাও তোমার দিকে কটমট করে তাকিয়ে তোমাকে পরখ করেছিল । কেউ হয়তো বাঁকা চোখে তোমার দিকে নজর দিয়েছিল এবং হয়তো সেই চোখে ভয় লুকিয়েছিল । আজই দিনের প্রথম দিকে এসব ঘটনা ঘটেছে ।

এখন তুমি বাসে করে পাহাড়ে যাচ্ছো । তোমার সঙ্গে আছে উদর ভর্তি গরুর মাংসের সঙ্গে ম্যাকারনি এবং সসিজের টুকরো, মেট্রো, একটা বই এবং কনিচি ওয়া । বাসে করে পাহাড়ে যাওয়ার মধ্যে একটা আলাদা ব্যাপার-স্যাপার আছে, বিশেষ করে রাতের বেলা । তারকা বেষ্টিত অন্ধকার আকাশ । আকাশের গায়ে এলোমেলো ভাবে অসংখ্য তারা ঝুলে আছে । জানালার বাইরে আবছা অন্ধকারে গাছপালা পেছন দিকে সরে যেতে থাকে । একসময় তুমি নিচের দিকে তাকিয়ে শহর দেখতে পাও । দালানকোঠার বাতিগুলো যেন অস্পষ্ট অগ্নিবলয় এবং সবচেয়ে ঝলমলে অগ্নিবল, যা অতি উজ্জ্বল, কিন্তু শান্ত-সৌম্য, তাহলো রিও । রাত নয়টার বাসে চেপে তুমি এসব পেছনে ফেলে এসেছ ।

হঠাৎ তুমি এই ভেবে বিস্মিত যে, কত মিটার ওপরে উঠেছ এবং কত কিলোমিটার দূরে চলে এসেছ ? কিন্তু পৃথিবীর বয়স যদি মাত্র চব্বিশ ঘন্টার হয় এবং সবকিছু যদি এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ঘটে, তাহলে এই উচ্চতা এবং দূরত্বে কী-ইবা যায় আসে ?
---------------------------------------------------
দ্রষ্টব্যঃ টিকা দু’টি অনুবাদকের সংযোজনঃ

১ দক্ষিণ আমেরিকার তীক্ষ্ণ দাঁতওয়ালা বাদামি রঙের একধরনের বিশাল উভচর প্রাণী ।

২ রিও ডি জেনিরোতে বসবাসকারী ব্রাজিলের আদিবাসী ।

লেখক পরিচিতিঃ ব্রাজিলের সমকালীন কথাসাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী লেখক অ্যাড্রিয়ানা লিসবোয়া । তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, গল্পকার, শিশু সাহিত্যিক, অনুবাদক এবং জ্যাজ্ সঙ্গীত শিল্পী। তাঁর জন্ম রিও ডি জেনিরোতে, ১৯৭০ সালের ২৫ এপ্রিল । তিনি সঙ্গীতে ব্যাচেলার অফ আর্টস্, ব্রাজিলীয় সাহিত্যে মাষ্টার অফ ফাইন আর্টস্ এবং তুলনামূলক সাহিত্যে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জণ করেন । কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কিছু সময়ের জন্য ফ্রান্সে জ্যাজ্ সঙ্গীত শিল্পী হিসাবে কাজ করেন । পরবর্তীতে তিনি জাপান এবং আমেরিকার বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে ভিজিটিং স্কলার হিসাবে নিয়োজিত ছিলেন । ইংরেজিতে অনূদিত তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘সিম্ফনি ইন হোয়াইট’ (২০১০), ‘হাট অফ ফলেন পার্সিমনস্’ (২০১১) এবং ‘ক্রো ব্লু’ (২০১৩) । এছাড়া ২০০৪ সালে তার অণুগল্পের সংকলন ‘ক্ল্যারিগ্রাফিয়াস’ প্রকাশিত হয়, যা লেখক হিসেবে তাঁকে সুখ্যাতি এনে দেয় । ‘এ টাঙ মেইড অফ স্ক্র্যাপস্’ তার শিশুতোষ গ্রন্থ । পর্তুগীজ ভাষায় প্রকাশিত ‘সিম্ফনি ইন হোয়াইট’ উপন্যাসের জন্য তিনি ২০০৩ সালে ‘হোসে সারামাগো প্রাইজ ফর লিটারেচার’ লাভ করেন । এই পুরস্কার প্রদানের সময় তার সাহিত্যকর্মের প্রশংসা করে নোবেল বিজয়ী লেখক হোসে সারামাগো বলেন, ‘আমাদের মাঝে বর্তমান সময়ের এবং ভবিষ্যতের একজন লেখক উপস্থিত আছেন’ । ২০০৭ সালে বোগোটায় অনুষ্ঠিত ‘হে ফেস্টিভেল’-এ তাকে লাতিন আমেরিকার ৩৯ জন অনূর্ধ্ব ৩৯ বছর বয়সী সেরা লেখকদের তালিকায় নির্বাচন করা হয় । ইতিমধ্যে তার সাহিত্যকর্ম ইংরেজি, ফরাসি, জার্মান, স্পেনিশ এবং আরবী ভাষায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রকাশিত হয়েছে । তিনি জোনাথান সুইফট্, রবার্ট লুইস স্টিভেনসন্, কর্ম্যাক ম্যাককার্থি এবং মার্গারেট অ্যাটউড সহ স্বনামধন্য লেখকদের রচনাদি পর্তুগীজ ভাষায় অনুবাদ করেন । বর্তমানে তিনি সপরিবারে আমেরিকার কলোরেডো রাজ্যের বৌল্ডার শহরে বসবাস করেন ।

গল্পসূত্রঃ ‘উঠান’, ‘পুনর্মিলন’ এবং ‘খাড়াই’ গল্প তিনটি অ্যাড্রিয়ানা লিসবোয়ার ইংরেজিতে অনূদিত যথাক্রমে ‘কোর্টইয়ার্ডস্’ (অনুবাদকঃ থাস লিপস্), ‘রিইউনিয়ন’ (অনুবাদকঃ রেচেল মর্গাণস্টার্ণ-ক্ল্যারেন) এবং ‘অ্যালটিচিউড্’ (অনুবাদকঃ ডায়ান গ্রসক্লাউস হুইটি) গল্পের অনুবাদ । ‘উঠান’ গল্পটি ‘কন্টেমপরারী ব্রাজিলিয়ান শর্ট স্টোরিজ’ (১৫ অক্টোবর ২০১৫ সংখ্যা), ‘পুনর্মিলন’ গল্পটি ‘এক্সচেঞ্জ লিটারেরী’ (শীত সংখ্যা, ২০১৫) এবং ‘খাড়াই’ গল্পটি ‘লিট্রো’ (২৯ এপ্রিল ২০১২ সংখ্যা) ম্যাগাজিন থেকে নেওয়া হয়েছে ।

‘উঠান’ এবং ‘পুনর্মিলন’ গল্প দু’টির মূল বিষয় নস্টালজিয়ার ধূসর চাদরে ঢাকা ফেলে আসা অতীত জীবনের স্মৃতি রোমন্থন, তবে প্রেক্ষাপট এবং অনুভূতি আলাদা । ‘উঠান’ গল্পে লেখিকা শৈশবের স্কুল ছুটির সময় দাদু বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার মধুর স্মৃতি শিশুর দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং ‘পুনর্মিলন’ গল্পে তিরিশ বছর পরে ব্রাসিলিয়া শহরে ফেতর যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন । অন্যদিকে ‘খাড়াই’ গল্পে লেখিকা আপন শহর পেছনে ফেলে আসার যে হৃদয়বিদারক কষ্টের অনুভূতি, তা অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় প্রকাশ করেছেন ।




অনুবাদক
ফজল হাসান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন