বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০১৮

ইরানি গল্প : দেয়াল

মূল: শাহলা শাফিক
অনুবাদ: ফজল হাসান

লাউড স্পীকারে কন্ঠস্বর ভেসে আসে, “কমরেডগণ, ‘প্রগতিবিরোধী চক্র নিপাত যাক, বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’, এই শ্লোগান দিয়ে আমরা সভা শেষ করবো এবং তারপর ছত্রভঙ্গ হয়ে নিজেদের মতো চলে যাব ।”


আশেপাশে কোথাও ‘হেজবুল্লাহ’র সমর্থক নেই । প্রতিটি শ্লোগানের পর জনসভায় টানটান উত্তেজনার পারদ উপরে উঠতে থাকে । ভীড়ের মাঝে দাবী আদায়ের চাপা আওয়াজ শোনা যায় । একসময় চোখের পলকে প্রতিবাদকারী লোকজন আলাদা হয়ে ছোট দলে বিভক্ত হয় এবং ফৌজিয়েহ্ চত্বরের আশেপাশের রাস্তায় জটলা বাঁধে ।

জনতার ভীড়ে আমি ফারজানেকে খুঁজে পাই । ভীড় ক্রমশ পাতলা হতে থাকে । আমরাও চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম । তখন আমরা দু’জনে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম । আসলে সেই মুহূর্তে ওখান থেকে চলে আসতে চাচ্ছিলাম না । চতুর্দিকের খোলা হাওয়ায় একধরনের শূন্যতা ছড়িয়ে আছে । শ্লোগানের প্রতিক্রিয়া পরখ করার জন্য আমরা উপস্থিত জনতার মুখের অভিব্যক্তির দিকে আড়চোখে তাকাই । শরৎকালের সূর্য্যটা হুট করে ডুবে যাওয়ার জন্য আকাশ থেকে অন্ধকার নেমে আসে এবং রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়ে । একসময় ফারজানেহ্ বললো, ‘কোন কিছুই হয়নি । চলো, রাস্তা পার হয়ে একটা ক্যাব নিই ।’

ভীড়ের মাঝে অকস্মাৎ দু’জনেই বুঝতে পারি যে, আমরা কোথাও যেতে পারবো না । সামনে-পিছে, এমনকি দু’পাশ থেকে দুই-তিনজনের দল আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে । ওরা চারদিক থেকে এমন ভাবে আসছে যে, আমরা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি আমাদের কোথাও যাবার কোন পথ নেই । সব পথই বন্ধ ।

ফারজানেহ্ বললো, ‘ওরা আমাদের দিকেই আসছে ।’ বলেই সে তার মাথার রুমাল শক্ত করে বাঁধে ।

আমি বললাম, ‘আমাদের শান্ত থাকতে হবে এবং আমরা হাঁটতে থাকবো ।’

লোকজন সবাই একত্রিত হয়েছে । ভীড়ের জন্য আমরা রাস্তা দেখতে পারছি না । ওরা আমাদের সামনে একটা মানব প্রাচীর গড়ে তোলে । আমাদের আশেপাশে দোকানপাটের লোহার পাল্লার দরজা প্রচন্ড শব্দে এক এক করে বন্ধ হয়ে যায় ।

ফারজানেহ্ বললো, ‘ওরা দোকানের ভেতরে আমাদের ঢুকতে দিবে না ।’ বলেই সে তার পেটের উপর হাত রাখে । আমি ভাবলাম, সে হয়তো এক্ষুণি উগরে দিবে ।

চাপা গলায় হইচই করতে করতে এদিক-ওদিক থেকে আসা মানব প্রাচীর ঠিক আমাদের থেকে এক কদম দূরে এসে জড়ো হয় । মনে হয় যেকোন মুহূর্তে মানব প্রাচীর আমাদের উপর ভেঙে পড়তে পারে । লোকজনের বিস্ফারিত চোখের অন্ধকার কোটরে ভয় এবং আতঙ্ক জমে আছে । সেই ভয়ানক দৃষ্টি মেলে ওরা আমাদের দিকে পলকহীন তাকিয়ে থাকে । ওদের মুখ দিয়ে ভাঙা শব্দে অনবরত খিস্তি-খেউড় বের হচ্ছে । কেউ আবার ‘আল্লাহ্ মহান’ বলে চিৎকার করছে । সবার মুখ একসঙ্গে খোলে, আবার একসঙ্গে বন্ধ হয় । মনে হয় যেন একই মুখের গহ্বর থেকে ‘আল্লাহ্ মহান’ আওয়াজ বেরিয়ে আসছে । উত্তেজিত লোকগুলো একবার বজ্রমুষ্টি উপরের দিকে তোলে এবং পুনরায় মুঠো আলগা করে নিচে হাত নামায় । দেখে মনে হয় হাতগুলো মানব প্রাচীর বিদীর্ণ করে আঙটার মতো উর্ত্তীন হচ্ছে এবং পরমুহূর্তে প্রাচীরের ভেতর বিলীন হয়ে যাচ্ছে । মানব প্রাচীরের গায়ে একই সঙ্গে শত শত ফাটল দেখা যায়, আবার পরক্ষণেই সেই ফাটল বন্ধ হয়ে যায় । সেই সময় আবার পুরো মানব প্রাচীর এক হয় । একসময় লোকজনের ভারী নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজে প্রাচীর মড়মড় করে এবং আমাদের আরো নিকটে চলে আসে ।

একসময় আমি বুঝতে পারি পেছন থেকে কেউ একজন আমার মাথার রুমাল ধরে টানছে ।

‘এই যে, আপনি বাজে ভাবে রুমাল পড়েছেন । এভাবে কি কেউ রুমাল পড়ে ! আপনার এই ধরনের রুমাল পড়া আমাদের জন্য রীতিমত লজ্জার বিষয় নয় কী ?’

ফারজানেহ্ আমার কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বললো, ‘আমি অন্তঃসত্ত্বা ।’

আমি আপনমনে বললাম, ‘বেচারা ! পেটের আকৃতি দেখে বলা মুস্কিল । হয়তো প্রথম মাস হবে ।’

ফারজানেহ্ আমাকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে যে, আমার মনে হলো আমি যেন ওর পেটের ভেতর ভয়ার্ত ভ্রুণের হৃদকম্পনের টিকটিক শব্দ শুনতে পাচ্ছি ।

‘ওদের দিকে তাকিও না,’ ফারজানেহ্ ভারী নিঃশ্বাসের সঙ্গে অস্ফুট গলায় বললো ।

ভীড়ের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো আমরা কোন অন্ধকার গর্তের ভেতর ডুবে আছি এবং সেই অন্ধকার আমাদের গোগ্রাসে গিলে খাচ্ছে । আমরা নিচের দিকে তাকিয়ে আছি যেন ক্রমশ গভীর থেকে আরোও গভীরে তলিয়ে যাচ্ছি । সেখানে আলকারার মতো নিকষ কালো অপমান, চিৎকার-চেঁচামেচি, হাসাহাসি এবং হাঁপানোর শব্দের ক্ষরণ হচ্ছে । আমি বুঝতে পেরেছি, কোন ভাবেই এক কদমও এগোতে পারবো না । এগোতে গেলেই হুড়মুড় করে মানব প্রাচীর আমাদের মাথার উপর ভেঙে পড়বে । আমি মনে মনে একটা দৃশ্য কল্পনা করি । লোকগুলোর পায়ের জুতা ফারজানেহর পেটে অনবরত লাথি দিচ্ছে এবং আঙটার মতো তাদের লোভী হাতের চাপে আমার নিজের সারা শরীর নিষ্পেষিত হচ্ছে ।

ফারজানেহর ঘর্মাক্ত হাত আমার কব্জি চেপে ধরে এবং সে আমাকে তার সঙ্গে টেনে নিয়ে যেতে চাইছে । হঠাৎ আমাদের সামনে একটা দরজা খুলে যায় । বাইরের তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচির সঙ্গে দোকানের লোহার দরজা বন্ধ করার শব্দ মিলেমিশে একাকার । আমরা একটা ঘরের ভেতর । সেখানে দু’টি ডেস্ক এবং কয়েকটা চেয়ার পাতা আছে । আসলে ঘরটা ছোটখাটো একটা অফিস । ফারজানেহ প্রথম চেয়ারে বসে । ওর ঘামে ভেজা কপালের একপাশে কয়েকটা সোনালি চুল আটকে আছে । চোখ দু’টি লাল । দোকানের মালিকের দিকে তাকিয়ে সে বললো, ‘ধন্যবাদ, স্যার ।’

আমি ফারজানেহর কথা পুনরাবৃত্তি করে বললাম, ‘সত্যি, অসংখ্য ধন্যবাদ ।’

লোকটি নাদুসনুদুস এবং মধ্যবয়সী । একসময় সে টেলিফোনের রিসিভার তোলে । সে বললো, ‘বিষয়টা আমি দেখবো । লোকগুলো অযথা নিজেদের মধ্যে শত্রুতা করছে । আমি কমিটিকে আসতে বলছি .... ।’

বাইরে থেকে লোকজন তারস্বরে চিৎকার করছে, ‘ওদের বাইরে আসতে দিন । ওদের হাতব্যাগের ভেতর গ্রেনেড আছে ... আল্লাহ্ মহান ... মাথার চুল অনাবৃত রাখা মহিলাদের মরণ হোক ... প্রগতিশীলদের মৃত্যু হোক ... ।’

ফারজানেহ বললো, ‘মহসিনকে আসতে বলি । সে এসে আমাদের নিয়ে যাবে । এটাই ভালো হবে,’ বলেই সে দোকানের মালিকের টেলিফোন ব্যবহার করার জন্য বিনীত অনুরোধ করে ।

কথা শেষ করে ফারজানেহ টেলিফোনের রিসিভার ক্র্যাডেলের উপর রাখে । তখন দোকানের লোকটি বললো, ‘আমি দরজা খুলে দিচ্ছি । নইলে ওরা ধাক্কাধাক্কি করে ছিটকানি খুলবে এবং দরজা ভেঙে ফেলবে ।’

আমি বললাম, ‘মাফ করবেন, স্যার । এই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা ।’

লোকটি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাকায় । বললো, ‘দেখুন .. আ্মার কোন পথ খোলা নেই।’

দরজা খোলার সঙ্গে হুড়মুড় করে বাইরের লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ দোকানের ভেতর প্রবেশ করে । দরজা খোলার খুশিতে ভীড়ের মাঝে কয়েকজন হাততালি দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে । মনে হলো তীব্র আওয়াজ এবং ভারী নিঃশ্বাসের গরম হাওয়া এসে আমাদের মুখের উপর ঝাপটা দিচ্ছে । ফারজানেহর মুঠোর ভেতর আমার হাত কাঁপতে থাকে এবং আমার পা রীতিমত টলতে শুরু করে । শেকলের মতো কয়েকজন আমাদের সামনে হাতে হাত ধরে দেয়াল বানিয়ে লোকজনকে বাঁধা দিচ্ছে । কিন্তু বাঁধভাঙা লোকজনের ঠেলাঠেলিতে যেকোন সময় সেই দেয়াল ভেঙে যেতে পারে । একসময় দোকানের মালিক কন্ঠ্স্বর সপ্তমে তুলে বললো, ‘ভাইসব, আমি কমিটির লোকজনকে আসতে বলেছি । আপনারা শান্ত হোন ।’

হাতে হাত ধরে দেয়াল বানানো লোকগুলোর মাঝে একজন চিৎকার করে বললো, ‘কমিটির লোকজন পথে আছে । আপানারা পেছনে সরে যান ।’

ফারজানেহ্ ফিসফিসিয়ে বললো, ‘আমরাও কিন্তু মানব প্রচীরের অংশ ।’

উত্তেজিত জনগণ এগিয়ে এসে মানব বন্ধন ভেঙে ফেলতে চাইছে । তাদের মুখের ভেতরটা আরো বেশি হা হয়ে যাচ্ছে । প্রথম সারি থেকে একজন এগিয়ে এসে বললো, ‘হাত সরান, ভাইসব, হাত সরান । কমিটির লোকজন এসেছেন ।’

আমি মাথা তুলে তাকিয়ে ভীড়ের মাঝে পরিচিত একজনের মুখ দেখতে পাই । তার নাম বেহরুজ । সে কলেজে আমার সহপাঠী ছিল । সে হাত দিয়ে পেছনের লোকটির হাতের সঙ্গে শক্ত করে ধরে আছে । তার উৎকন্ঠিত গালের টোলে জমে থাকা কয়েক ফোঁটা ঘাম যেন ঈষৎ কেঁপে উঠছে । তার চিন্তিত দৃষ্টি হাত ধরা অন্য লোকগুলোর দিকে স্থির হয়ে আছে ।

কমিটির লোকজন আসার পর উত্তেজিত জনগণ কিছুটা পেছনে সরে দাঁড়ায় । তাদের চোখেমুখে বিরক্তির কালো ছায়া জমে আছে । ওখান থেকে তারা সরে যেতে চায় না । লোকজন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে এবং রাগে-ক্ষোভে হালকা স্বরে গরগর করতে থাকে । লোকগুলোকে দেখে মনে হয় যেন ক্ষুধার্ত বাঘ খাবারের আশায় অপেক্ষা করছে । প্রথম সারি থেকে বেরিয়ে এসে বেহরুজ কমিটির প্রধানকে শুরু থেকে শেষ অবধি ঘটনার পুরোটাই বর্ণনা করে । আসলে আমরা যে শপিংয়ে বেরিয়েছি এবং লোকজন আমাদের ভুল বুঝেছে, সে সাক্ষী হিসাবে বলার জন্য কমিটির সদস্যদের কাছে যেতে প্রস্তুত আছে । ঠিক সেই মুহূর্তে মহসীন এসে কমিটির নেতার কাছে বললো যে, তার স্ত্রী সন্তান-সম্ভাবা এবং তাকে নিয়ে সে ডাক্তারের কাছে যাবে । মহসীনের কথা শুনে কমিটির লোকজন একে অপরের সঙ্গে ফিসফাস করে । অবশেষে তাদের দলনেতা জনগণের দিকে মুখ ফিরিয়ে চিৎকার করে বললো, ‘ভাইসব, আপনারা নিজেদের মতো চলে যান।’

অসন্তুষ্ট মনে লোকজন সরে যেতে থাকে । গরগর করতে করতে তারা একসময় চলে যায় । অনেকে কিছুটা দূরে গিয়ে ইতস্তত: জটলা বেঁধে আমাদের দেখতে থাকে । কয়েকজন আমাদের অনুসরণ করে বাস স্টপেজ পর্য্যন্ত আসে ।

বাস থেকে ফারজানেহ্ এবং মহসীন নেমে যাওয়ার পর আমার সারা শরীরে অদ্ভূত ধরনের ব্যথা এবং ভয় ও আতঙ্ক শুরু হয় । মনে হয় ছোট ছোট খাদগুলো যেন একটা বিশাল গর্তের মুখ ধারণ করে আমার মুখের উপর সমস্ত রাগ-ক্ষোভ এবং ঘৃণা ঝেড়ে দিচ্ছে । সেই সময় অন্ধকারাচ্ছন্ন খাদগুলো চোখের কোটরে পরিণত হচ্ছে এবং সেই চোখ অগ্নিগর্ভ চাহনি তৈরি করছে । এছাড়া হাতগুলো, সেই বেহায়া হাতগুলো, অন্ধের মতো আমার শরীরে হাতড়িয়ে বেড়ায় । অলৌকিক ব্যথা এবং লজ্জা আমাকে ক্রমশ গ্রাস করতে থাকে । আমি সীটের হাতলে মাথা এলিয়ে দিই । প্রচন্ড ঘৃণা এবং ফোঁপানোর জন্য আমার সারা শরীর বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ।

কেউ একজন এসে আমার পাশের সীটে বসে । তার নাম বেহরুজ । বললো, ‘তোমাকে চিনি, তা আমি ওদের জানতে দিতে চাইনি । তা নাহলে আমি তোমার সঙ্গেই আসতাম । তুমি কী ঠিক আছো ?’

বেহরুজের চোখেমুখে গভীর চিন্তার ভাঁজ ফুটে আছে । তার হাত আমার পাশে । আমি বুঝতে পেরেছি, আমাকে উত্ত্যক্ত করার জন্য কিংবা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে সে আমার পাশে হাত রাখেনি । যাহোক, তার হাত দু’টি বিশাল – আন্তরিকতা এবং উষ্ণতায় পরিপূর্ণ । আচমকা তার হাত দু’টি আমি কাছে টেনে এনে আমার হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরি । লজ্জায় সে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায় । আমি চাইলে আমার হাত দু’টি তার কাঁধে রাখতে পারতাম । সেই মুহূর্তে আমি কেমন করে ভাববো যে, সে আমাকে জড়িয়ে ধরবে । আমি তার সহানুভূতিশীল বাহুর মাঝে নিরাপত্তা খুঁজেছি । সে বিভ্রান্ত দৃষ্টি মেলে আমার দিকে তাকায় । একসময় সে আমাকে এড়িয়ে গিয়ে তার নির্দিষ্ট সীটে গিয়ে বসে ।



লেখক পরিচিতি: শাহলা শাফিক ইরানি বংশোদ্ভূত ফরাসি লেখক এবং গবেষক । তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামিক গণজাগরণ এবং অভ্যুথ্থানের পরে ফ্রান্সের অভিবাসী হন এবং সেখানে সমাজবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জণ করেন । তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল পশ্চিমা দেশে মহিলাদের অভিবাসন এবং নতুন পরিবেশে তাদের জীবনযাত্রা ও সামাজিকতা । তিনি ফরাসি ভাষায় দু’টি গবেষণামূলক গ্রন্থ রচনা করেন । পরবর্তীতে তাঁর এই গবেষণার অভিজ্ঞতা তাঁকে লেখালেখির জগতে নিয়ে আসে । তাঁর সাহিত্য কর্মের মূল বিষয় নারীবাদ, অভিবাসন, বর্ণবাদ এবং ইসলামিক পরিবেশে রাজনীতি । তিনি সমান দক্ষতার সঙ্গে ফারসি এবং ফরাসি ভাষায় সাহিত্য রচনা করেন । ফারসি ভাষায় লেখা তাঁর ছোটগল্প ইরানের বিভিন্ন নামীদামী ম্যাগাজিনে, যেমন ‘দ্য আদার হাফ’, ‘পার্সপেক্টিভ’ এবং ‘আফসানেহ্’, প্রকাশিত হয়েছে । তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক অফ সলিডারিটি উইথ ইরানিয়ান উ্যইমেন’ সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা । শাহলা শাফিক বর্তমানে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাস করছেন ।

গল্পসূত্র: ‘দেয়াল’ গল্পটি শাহলা শাফিকের ইংরেজিতে অনূদিত ‘দ্য ওয়াল’ গল্পের অনুবাদ । গল্পটি ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ফ্রাঙ্কলিন লুইস এবং ফারজান ইয়াজদানফার সম্পাদিত এবং ইংরেজিতে অনূদিত ‘ইন এ ভয়েস অফ দেয়ার ঔন্’ ছোটগল্প সংকলন থেকে নেওয়া হয়েছে ।

‘দেয়াল’ গল্পটিতে লেখিকা শাহলা শাফিক ইসলামিক বিপ্লবের সপক্ষে আয়োজিত জনসভায় অপরপক্ষের উত্তেজিত সমর্থকদের আক্রমণে উপস্থিত দু’জন বামপন্থী নারী সমর্থকের কোনঠাসা হওয়ার আতঙ্কিত অভিজ্ঞতার কাহিনী তুলে ধরেছেন । এছাড়া বিপ্লবের পক্ষ এবং বিপক্ষ দলের কাছে বিপ্লবের সংজ্ঞা যে আলাদা, তারই চিত্র প্রকাশ পেয়েছে এই গল্পে ।





অনুবাদক
ফজল হাসান

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন