শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১৮

অর্ক চট্টোপাধ্যায়'এর গল্প : শুক্রকীট

গত পাঁচদিন ধরে আমার বাথরুমে মরে পড়ে রয়েছে। 
পোকাটা। 
পড়ে রয়েছে। কমোডের পাশে। প্রস্রাবরত আমি পাঁচ দিনে কুড়িবার দেখেছি। পোকাটাকে।

পড়ে রয়েছে। মরে রয়েছে কি? কমোডের জলে যখন শরীরের জল গিয়ে আলোড়ন তুলছে, আমি আড়চোখে দেখে নিয়েছি।

পোকাটাকে।

ছড়ানো পাগুলো নড়ে উঠছে নাকি? রোজ রাতে মনে হয়, নড়ে উঠছে। পড়ে রয়েছে কিন্তু মরে রয়েছে কি? 

দিনের বেলা বাথরুমে আলো বেশি। চোখ ধাঁধিয়ে যায়। পায়ের নড়াচড়া ঠিক ঠাওর হয়না। তারপর রাত নামে। আলো নরম হয়। হলুদ আলোছায়া। বাথরুমে গিয়ে কমোডের সামনে দাঁড়ালেই চোখ চলে যায়। একাকী মানুষের দৃষ্টি উদ্ভট নানা দৃশ্যপ্রান্তে এসে বাসা করে। উই হয়ে যায়। 

সেদিন রাতে যখন আবার মনে হল, পোকাটার ছড়ানো পাজোড়া নড়ে উঠছে হলুদ আলোর মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে, তখন কমোডের থেকে একটু সরে এসে শরীরের অগাধ জল উগরে দিলাম পোকাটার ওপর। প্রস্রাবস্নাত হল তার শরীর।

তারপর...

পুলিশ দরজা ভেঙে ঢুকবে। 

দেখবে বিরাট বাথরুমের ভেতর কমোডের ঠিক পাশে পা ছড়িয়ে পড়ে আছে লোকটা। 

পড়ে রয়েছে। মরে রয়েছে। মরে কাঠ যাকে বলে। 

ইন্সপেক্টর মোদক মড়াপচা গন্ধে টিকতে না পেরে নাকে রুমাল জড়িয়ে বলবেন:

'একাই থাকতো লোকটা। ডেড ফর এ উইক মনে হচ্ছে। পোকা ধরে গেছে বডিতে। লুকস লাইক হি হ্যাড এ হার্ট অ্যাটাক হোয়াইল পাসিং ইউরিন। জাস্ট লুক অ্যাট হিজ পুওর অর্গ্যান। ইউরিন লেগে ছিল, ব্লাডি ম্যাগটস হ্যাভ ডাইজেস্টেড হিজ অর্গ্যান বিফোর এভরিথিং এলস! কি কান্ড দেখো! কি কান্ড!'

1 টি মন্তব্য: