শনিবার, ১০ মার্চ, ২০১৮

সুইজারল্যান্ডের গল্প : এ্যাগনেস

মূল গল্প : ফ্লর জ্যাগেঃ
অনুবাদ: রোখসানা চৌধুরী

এ্যাগনেস আমাকে ছেড়ে গেছে বছর পাঁচেক হল। আজ ছিল গুড ফ্রাইডের দিন। আমি চার্চে গিয়েছিলাম আর যাজকের আলখেল্লার দিকে তাকিয়েছিলাম। বছরে একবারই আমি চার্চে যেতাম। আমি আশা করছিলাম যে সেই আলখেল্লা আমার দৃষ্টিভেদ করবে, ঢেকে দেবে চোখজোড়া। হায় গুড ফ্রাইডে, আমি যদি সত্যিকারভাবে কালো জাদুতে সম্মোহিত হতে পারতাম। আমি ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, ঐসব উজ্জ্বল গোলাপি আলখেল্লার ভিতর কি লুকিয়েছিল। আমার কাছে এইসব উন্মাদনার কোন ব্যাখ্যা ছিল না। আমি আসলে বলতে চাই আমার কাছে এই সব ধর্মীয় গণপ্রার্থনাসঙ্গীতের কোনো অর্থ নেই। ক্রুসিফিকেশন, আমার কাছে অন্তত দেহ থেকে মুক্ত, আত্মা থেকে মুক্ত এমনকি কোন ভাবমূর্তি থেকে মুক্ত একটি ভাবনা ছিল। সব কিছুই আমার কাছে অন্তসারশূন্য। তবুও সবকিছু বাদ দিয়ে আমি ঐসব দিনগুলোতে ঈশ্বরের কৃপায় পুরোপুরি ধর্মপ্রাণ হয়ে গেলাম। একদম যাজকদের মত। আমি যখন দাঁড়িয়ে থাকতাম, কেউ না থাকলে তখন আপনাআপনি নতজানু হয়ে হাঁটু গেড়ে বসতাম আর কপাল মাটিতে ঠেকাতাম। আমি একাই থাকতাম। যথেষ্ট উপার্জন করতাম। গীর্জার গম্বুজের ওপর দুটো বাতি ছিল। একটি বাতির ওপর ছায়া পড়ত। তাই আলোর রেখা ভেঙেচুুরে প্রতিফলিত হত। আরেকটি বাতির আলো ছিল তীব্র, শীতল আর কর্কশ। 

আমি জানি যীশুর মুকুট কতটা কাঁটায় ঘেরা থাকে। যৌতুকের গহনার মত।
আমি ঘোলাটে চোখে আলখেল্লার দিকে তাকিয়েছিলাম। কফিনের ছোট্ট দরোজাটি নির্জলা সত্য হিসেবে সামনে ছিল, আমি জ¦লজ¦লে চোখে তা দেখছিলাম এবং একসময় চাবি দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হল। ঐ দিন থেকে আমি ধর্মপ্রাণ হয়ে যাই। আমি উপবাস করতাম, মৌনতা পালন করতাম ধ্যানীর মত, কখনো আর্তনাদ করে কান্না করতাম। কখনো কখনো আমি চলে যেতাম গ্রীসের ঐতিহ্যবাহী গীর্জায়, সেখানকার মূর্তিগুলোকে পূজা দিতে। আমি সেখানে যে মোমবাতিগুলো জ্বালাতাম, সেগুলো ছিল মধুর মত হলুদ রঙের, নোংরা, বিবর্ণ। বিবর্ণ সূর্যের মত, স্মৃতির মত। দুর্বল, ভঙ্গুর আত্মার মত--যা অবশেষে নরকে নিক্ষিপ্ত হয়, যেখান থেকে তার আগমন ঘটেছে। সেই আত্মা আর কখনো বের হতে পারে না। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তা পুড়তে থাকে, জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপরে-নিচে চতুর্দিকে পুড়িয়ে দিতে থাকে। আমি রঙিন মোমবাতি পছন্দ করতাম না, আমার অরুচি জন্মেছিল রঙিন মোমবাতির প্রতি। এইসব মোমবাতি ক্রিসমাসকে মনে করিয়ে দিত এবং মনে করিয়ে দিত সেই মুর্হুমুহূ হাততালি, সবাই হেসে উঠছিলো যখন সবগুলো আকাশি আর গোলাপি মোমবাতিগুলো এক ফুঁয়ে নেভাতে পেরেছিলাম।

এ্যাগনেসের সাথে আমার দেখা হয়েছিল তার দ্বাদশ জন্মবার্ষিকীতে। সে তার মোমবাতিগুলো নেভাতে অস্বীকার করছিল। তখন থেকেই আমরা অবিচ্ছেদ্য হয়ে পড়েছিলাম। এটা এক ধরনের অসুখের মতোই ছিল। তার বয়স আঠারো হবার পর আমরা একসাথে থাকতে শুরু করি। ভালোবাসার টানে সে মাকে ছেড়ে আসে। আমাকে অবশ্য কাউকে ছাড়তে হয়নি। আমরা তার মাকে তখনই আমাদের সাথে একত্রে থাকতে আমন্ত্রণ জানাই। তার মা আমাকে বলেছিল ‘আমি যা করতাম তুমি তা আমার চাইতে ভালভাবে করতে পেরেছ।’-- কিন্তু পিছন ফিরতে না ফিরতেই আমি শুনতে পেয়েছিলাম তিনি তার মেয়েকে বলছেন ‘বিয়ে করলে একজন পুরুষকে করো।’-- ছোট্ট এই কথাটি জিকির হতে লাগল যেন, প্রার্থনাসঙ্গীতের মতো পেয়ে বসল আমাকে। আমি ঘর পরিষ্কার করতাম, আমার প্রেমিকা ঘুমিয়ে থাকত। আমি তার কাছে যেতে যেতে রাত হতো, যখন সে গভীর ঘুমে অচেতন। বিছানায় সে অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করেছিল। আমাদের প্রেমোন্মাদ অস্তিত্ব ভালোবাসার পথেই অগ্রসর হত। কিন্তু ঠিক মধ্যরাতে আমার ছোট্ট বাবুই এ্যাগনেস ক্ষিপ্ত হয়ে উঠত, আর সঙ্গমের ক্ষেত্রে সে সর্বদা উদ্যোগী হয়ে আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ত। আমি তার চেয়ে মাত্র কয়েক বছরেরই বড় ছিলাম। মিলিত হবার মূহূর্তগুলো আমি কানায় কানায় ভরে রাখতে চাইতাম। আমি তার জন্য উপহার নিতাম, ফুল নিতাম। সে কখনো উপহারগুলো ব্যবহার করতনা। ফুল ছুঁড়ে ফেলে দিত। ভালোবাসার কথাগুলোকে সে বিদ্রুপের হাসি হেসে উড়িয়ে দিত। আমারও আগে, সে তার এক স্কুলের বন্ধুর প্রেমে পড়েছিল। 

সে তাকে স্কুলশেষে নিয়মিত তুলে নিত। কিন্তু কিছুদিন পরেই সে তাকে ছেড়ে আসে। স্কুলের বন্ধুটি ভীষণরকম অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তার এতটা শক্তি ছিলনা এ্যাগনেসের তীব্র উন্মাদনা আর বেপরোয়া ভাবকে মোকাবেলা করবার। আমি একদিন দেখেছিলাম স্কুল মাঠের ভিতর দিয়ে মেয়েটির চুল ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যেতে। অতিরিক্ত ভাবাবেগ আর উন্মাদনা সমাধানহীনভাবে সম্পর্কটিকে ডুবিয়ে দেয়। যখন এ্যাগনেসের তেইশ বছর হলো, আমি আর তার মা-দুজন মিলে তাকে বধূবেশে সাজিয়ে দিলাম। নববধূর গাউনটি ধীরে বেদীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বেদির দিকে। এ্যাগনেস আমার দিকে তাকালো এবং অস্বস্তিতে অপ্রস্তুত আমাকে দেখতে পেলো। সে তার পুরুষটির জন্য উন্মাদ ছিল। বেদীর সামনে সেই পুরুষটি হাঁটু গেড়ে বসে তার পাণিপ্রার্থনা করল। 

আমি দু’বার সম্মতি প্রদানসূচক শব্দোচ্চারণ শুনতে পেলাম। এ্যাগনেস আমাকে বিয়ের আগে বলেছিল ‘আমাকে যেতে দাও, নয়তো তোমাকে খুন করব।’-- ‘আমাকে যেতে দাও’ এই বাক্য আমাকে যতখানি বিচলিত করেছে ঠিক ততোখানি আনন্দে মন ভরে গিয়েছিল ‘তোমাকে খুন করব’--এটা শুনে। আমি যখন তার পোশাক ডিজাইন করতাম মনে হতো তার শরীরে আমি ট্যাটু এঁকে দিচ্ছি। ডিজাইন শীটগুলো যেন তার মসৃণ ত্বক। যখন সে আমাকে ছেড়ে চলে যায় তখন আমি এক ধরনের নিবৃত্তি লাভ করি। এই মুক্তির স্বাদ কেবল তারাই অনুভব করতে পারবে যারা কেবল বেপরোয়া উদ্দামতার ভেতর বসবাস করেছে। এ্যাগনেসবিহীন ঘরদোর আমার কাছে শূন্য, পরিত্যক্ত, বিধ্বস্ত বলে মনে হলো। তার উপস্থিতি ম্লান হতে না হতে দ্বিগুণভাবে ফিরে আসতে লাগল। এ্যাগনেসের মা আর আমি কার্ড খেলতাম। তার মা আমাকে তার সাথে ঘুমানোর জন্য পীড়াপীড়ি করত। কারণ হিসেবে সে জানাতো, এ্যাগনেসও তার সাথেই ঘুমাতো। কিন্তু কে শোনে কার কথা? আমি তার কাছে অনুনয় করতাম এ্যাগনেসের বিষয়ে কোনো কথা না বলতে। এরপর নিজেকে যথেষ্ট পরিমাণে সংযত রেখে তাকে দরজার দিকে ঠেলে দিতাম। বৃদ্ধা মহিলাটি হলের মাঝখানে উবু হয়ে বসে হাঁপাত। তবে সে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে বাধ্য হয়েছিল যে, আমি শুধু তাকে কার্ড খেলার সময়টুকু দেব। তবুও এটাই যথেষ্ট ছিলনা তাকে সহ্য করার জন্য। তার প্ররোচনাতেই কি তার কন্যাটি বিবাহে করতে প্ররোচিত হয়েছিল না? 

এখনো আমি অফিস ফেরার পথে মার্কেটগুলোতে ঘুরতে থাকি আর অতি সূক্ষ্মভাবে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করতে থাকি। পারফিউমের বোতল, গহনাপত্র, ক্যামেরা। আমার ইচ্ছা হতো এ্যাগনেসের জন্য ওগুলো চুরি করতে। প্রতিবার সেই রকম অঙ্গভঙ্গি করতাম, কিছু বুদ্ধিও বের করে ফেলতাম। কিন্তু শেষমেষ কিছু অর্কিড কিনে বাড়ি ফিরতাম। যেগুলো কিছু ছিল হল্যান্ডের, কিছু দক্ষিণ আমেরিকার । আমি সেগুলোকে দেখেছি মেডিটারনিয়ানে, জলজ ভেজা স্যাঁৎসেতে পরিবেশে বেড়ে উঠতে। কতগুলো ছিল সাদা, বেগুনী ছিদ্রওয়ালা, কতগুলো ফ্যাকাশে গোলাপিও ছিল, ভয়ংকর অভিব্যক্তিযুক্ত, হলুদ বর্ণেরগুলো ছিল তিক্ত, ঝাঁঝালোÑএগুলো দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তরতাজা থাকত, কোনোরকম যতœ বা ভেজা পরিবেশ ছাড়াই। সেগুলো রাতের বেলা ফুটতো, দিনের কোলাহলকে এড়াবার জন্য। যখন এগুলো শুকিয়ে কঙ্কাল হয়ে যেত তখন এগুলোকে রোগা ছোট রাতের পাখির মত দেখাত। তখন ওগুলো আমার দিকে তাকিয়ে থাকত। আমিও ওগুলোর দিকে। 

আমি একদিন এ্যাগনেসের স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেলাম। এ্যাগনেস বাগানেই ছিল। আমি বলতে ভুলেই গেছি যে, এ্যাগনেসের স্বামীর অসাধারণ সুন্দর ছোট একটি বাড়ি ছিল শহরে। নববিবাহিত দম্পতির জন্য সেটি ছিল ছোটখাট একটি সা¤্রাজ্যের মতই। একটি বাগানের গায়ে আর একটি বাগান গড়ে উঠেছে-- এরকম অসংখ্য বাগান। সে তাকে ডেকচেয়ারে ঘুমন্ত অবস্থায় পেল, একটি কবিতার বই তার কোলে রাখা। সে না জানালেও, তার স্বামী না জানলেও আমি জানতাম সেটি রবার্ট ফ্রস্টের কবিতার বই। কারণ বইটি আমিই তাকে দিয়েছিলাম। সে তাকে জাগাবার চেষ্টা করল, ‘এ্যাগনেস, এ্যাগনেস’--বলে নাম ধরে ডাকল। কিন্তু তাকে জাগানো গেলো না। একটা অদ্ভুত রহস্যজনক নীরবতায় ছেয়ে গেলো সবকিছু। সেই নীরবতা নৃশংসতার পর্যায়ে পড়ে, যা তীব্র গন্ধের প্রতিও ইন্দ্রিয়কে বোধশক্তিহীন করে তোলে। মফস্বল শহরগুলো সম্পর্কে আমার জানা ছিল, শীতকালে চমৎকার কুয়াশার শবাচ্ছাদনে ঢাকা পড়ে যেতো চারদিক। সেই ধরনের কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছিল অন্তর-বাহির। এ্যাগনেস, সাড়া দেয়নি আর। তার হাত থেকে খসে পড়েছিল বইটি। আঙ্গুলে ছিল আঙটি-যা আমিই দিয়েছিলাম তাকে। অথচ আমি ছিলাম একা। 

আমি কল্পনা করতে পারি একজন মানুষ কতটা শোকে-দুঃখে কাতর হতে পারে। চমৎকার সেই বাগানে তার পাশে কেবল সে নিজেই ছিল। আমি তাকে বুঝতে পারি। আমি বুঝতে পারি একজন মানুষ কখন এতটা হতাশ হতে পারে। আমি কিছুটা বিরক্তিবোধও করলাম। আমিই একমাত্র যে তাকে সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিলাম। আমিও কি তাকে একইভাবে ভালোবাসিনি, ততো বেশি? বরং তারও আগে থেকে। আমরা দুজনই তাকে সত্যিকারভাবে ভালোবাসতাম। তবে সে আমাকে বলেছিল ‘সত্যিকারভাবে’ কথাটি অযথা, বাহুল্য প্রয়োগে। লোকে অতিরিক্ত কথা বলতে পছন্দ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত না সবকিছু চলে যায়। আমি শান্ত ছিলাম। সে বলল, এটা ছিল স্বাভাবিক মৃত্যু। আমি তাকে কৌতুহল চেপে রেখে প্রশ্ন করলাম, ‘কেন?’ শেষের দিকে সে আর সহজ ছিল না। আমি তার কথা আর শুনছিলাম না। আমি প্রশান্ত ছিলাম। লোকটা যেভাবে বলছিল তাতে আমার মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছিল আমি কোনো দুঃখবোধ করছিলাম না। সেই দুঃখবোধ--যা একদিন ছিল। এটা কখনো ফেরানো যাবেনা, কখনো আর দেখাও মিলবে না। বাড়িতে, ঘরের ভিতর দুঃখেরা ফেরত আসছিল। যেন আর্শীবাদ গৃহীত হল আমার বাড়িতে। যদিও বাড়িটি আগের মতোই একলা ছিল ভাঙনের চিহ্নস্বরূপ। আমি আবার মানুষটির কথা শুনছিলাম। সে যখন ‘সুখ’ শব্দটি ব্যবহার করছিল তখন তার বেদনাবোধকে যেন সে পরিহাস করছিল। তার কাছে অবশ্য তুলনামূলকভাবে সুখী মুহূর্তগুলোই বেশি ছিল। স্বাভাবিক মৃত্যু বলতে আসলে ঠিক কী বোঝায়? শোকের জন্য এটাই কি যথেষ্ট নয়, যে সে মৃত। সুখের কথা ভাবতে ভাবতে দ্বিগুণ হারে সে শোকে আপতিত হচ্ছিল। সে চেষ্টা করছিল তার যাবতীয় সুখের স্মৃতি আর শোকের বোঝা আমার ওপর চাপিয়ে দিতে। এর ভেতর দিয়ে সে নিজে আত্মতৃপ্তি পাবার চেষ্টা করছিল। সে সফল হয়েছিল। সে (এ্যাগনেস) হয়তো আমাকে মেরেই ফেলতো যদি সে দেখতো আমি তাকে তৃপ্ত করতে পারিনি যিনি কি না তার স্বামী। এটা ছিল দ্বৈরথ দ্বন্দ্বযুদ্ধের মত। আমি তাকে উপহার দিয়েছিলাম বিয়ের পোশাক আর আংটি। আমি কিছুই চাইতে পারিনি। কিন্তু তার স্বামী আংটিটি নেবে বলল। আর আমার যেন মনে হল সে তার জীবনটাই নিয়ে নিল, আরো অন্য সবকিছুর মত। কিন্তু তার স্বামীটি আর কিছু শুনছিল না। এখন সে সমাধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যা ছিল বাগানের কাছাকাছিই। তবে আমি যাইনি। আমার কাছে এসব বস্তুগত নিদর্শনের কোনো মূল্য ছিলনা।


অনুবাদক পরিচিতি
রোখসানা চৌধুরী

পিএইচডি গবেষক, প্রাবন্ধিক-সমালোচক)
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলাো
বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর
বাংলাদেশ, ঢাকা।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন