বৃহস্পতিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৮

সুদেষ্ণা দাশগুপ্তর গল্প : পাখি

আজ সকালে ঘুম ভাঙতেই অবিনাশের পুরোন পাপ-বোধের অনুভূতিটা ফিরে এল। কাল রাতেও ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুম হয়েছে, তাহলে কি কোন খারাপ স্বপ্ন দেখেছে? বুকচাপা কোনো কষ্ট কি তাড়িয়ে বেড়িয়েছে সারারাত? কষ্টটা আছে অবিনাশের, কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারছে না কি তার কারণ?
মনে পড়ছে না কোনো কথাই। ঘুমের ভেতরের কথা ছেড়ে অবিনাশ ভাবার চেষ্টা করল রাতে কিছু তেল-মশলার খাবার খেয়েছে কি না। উহু, তাও নয়।এমন কি কাল শনিবারও ছিল না যে মদ্যপান করবে। হ্যাঁ, অবিনাশ শনিবার ছাড়া বিশেষ মদ্যপান করে না। তাও পরিমিত, দুই কি বড়োজোর তিন পেগ, তার বেশি কোনমতেই নয়। সহ্য করতে পারে না অবিনাশ, সব কেমন এলোমেলো হয়ে যায়। শোওয়ার পর খাট সমেত বিছানা জোরে জোরে দুলতে থাকে। অবিনাশ শুনেছে যে আর সবার নাকি নেশা করে ঘুম খুব ভাল হয় এমনকি অনেকে না কি শুধু ঘুম হওয়াবার জন্যেই প্রতিসন্ধ্যায় মদ্যপান করে। না আর দেরি করলে চলবে না অবিনাশ নিজেকে তাড়া দেয়। উঠে রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের জল বসায় গ্যাস জ্বেলে। ব্রাশ করতে করতে এসে আবার জল নামিয়ে চা-পাতা ভিজতে দেয়। বুকের ভেতর পাখির ডানা ঝাপটানোটা কিছুতেই থামছে না। যদিও খুব দ্রুত লয়ে যে এমনটা হচ্ছে তা নয় ধীমে তালে, হাঁফ ধরিয়ে একটা যেন কোথাও অপরাধ করে ফেলার কষ্ট। চায়ের বড় কাপটা হাতে নিয়ে অবিনাশ ব্যালকনির খোলা হাওয়ায় এসে দাঁড়ায়। ব্যালকনির মোড়ায় না বসে রেলিং ঘেঁসে দাঁড়িয়ে ওপরে আকাশের দিকে তাকায়।

এই আটশ চোদ্দ বর্গফুটের ফ্ল্যাটটির ব্যালকনিটি অবিনাশের বড় প্রিয় । যদিও এই ফ্ল্যাটটিতে একাত্ম বোধ করে না অবিনাশ। ফ্ল্যাটটি অবিনাশের মা কিনেছিলেন স্কুলে চাকরি করতে করতে। বাবারও কিছু জমানো পুঁজি ছিল হয়ত অবিনাশের মনে নেই। বাবা মারা গেছেন অবিনাশ তখন ছোট। ভাড়া বাড়ি থেকে এই ফ্ল্যাটবাড়িতে এসে উঠেছিল অবিনাশ আর অবিনাশের মা। নিজস্ব একটা ঘরও পেয়েছিল অবিনাশ। তখন ভাল লেগেছিল তবু অবিনাশের মনে হয় এ ফ্ল্যাটটি তার নিজের নয়। যদিও অবিনাশ ছাড়া এই ফ্ল্যাটটির আর কোন দাবীদার নেই। নিজের ওই ঘরটিতেই থাকে অবিনাশ , মায়ের ঘর ওমনিই পড়ে থাকে এই আট বছর মা মারা যাবার পর থেকে। খুব বেশি শোক করেনি অবিনাশ, মা ভুগছিলেন। সামান্য বেসরকারী ফার্মে কাজ করে অবিনাশ নিজেও বিয়ের কথা ভাবেনি আর মাও বেঁচে থাকতে কখনোও বলেননি। 

প্রায় ছুটতে ছুটতে নটা সতেরোর ব্যান্ডেলটা ধরল অবিনাশ, আজ ভেবেছিল আর পাবে না বুঝি। আজকের মতো প্রায়দিনই কিছু খেয়ে বেরোয় না অবিনাশ। ডালহৌসি তে অফিসের নিচে সকাল থেকেই সব ধরণের সকালের জলখাবার পাওয়া যায়। যেদিন যেমন ইচ্ছে হয় কিছু একটা খেয়ে নেয়। এন এস রোডের এই অফিসের নিচে সবসময়ই চলাফেরায় লোকেদের সাথে প্রায় ধাক্কা খেতে হয়। উঁচু এই অফিস বিল্ডিং গুলোর আশেপাশে বহু স্থায়ী-অস্থায়ী দোকান, ছোট থেকে ছোট অফিসঘর। এরকমই একটা সাততলা বাড়ির ছ’তলায় অবিনাশের অফিস। প্রতি তলাতেই বেশকিছু অফিস নিয়ে এই বিল্ডিং। শুধু পুরো দোতলাটি নিয়ে একটি ব্যাংক। রুটি তরকারি খেয়ে অবিনাশ অফিসের সামনের গেটের লিফটে দেখল প্রচুর ভীড় ।বেশিরভাগই ব্যাংকের জন্য। অবিনাশ পাশের গলি দিয়ে অন্য লিফটের দিকে এগোয়। এই গলির রাস্তায় একটা পায়রা মরে পড়ে আছে।

কাকু কোনদিনই অবিনাশদের পাত্তা দিতেন না। বাবা মারা যাবার পর মা চাইতেন যে অবিনাশের তার বাবার বাড়ির দিকের সাথে যোগাযোগ থাকুক। তাই গরমের বা পুজোর ছুটিতে অবিনাশ ক’বার গৌহাটি গেছে। কাকু যে অবজ্ঞা করতেন তা অবিনাশ বুঝতে পারত। অবিনাশের মা সামান্য স্কুলের টিচার আর বাবাও বেঁচে থাকতে কেরানীগিরি করতেন। কাকু ছিলেন আই এ এস অফিসার। কাকুর এসব নিয়ে নিজের দাদা-বৌদির ওপর একটা হেয় ভাব ছিল । কাকুর বাড়িতে খাওয়া-দাওয়ায় বিলিতি কায়দা ছিল। সরকারী বাংলোয় ছিল বেয়ারা, কুক । কাকিমা সকাল সকাল সিল্কের শাড়ি পরে, রিস্টে ঘড়ি বেঁধে আর চামড়ার বাকালস দেওয়া জুতো পরে বাড়ির লনে ঘুরে বেড়াতেন পুতুলের মতো। অবিনাশের তাই মনে হতো যে কাকিমা দম দেওয়া পুতুল। কোন কোন দিন থাকতেন নিজের ইচ্ছে তে যেদিন কাকু ভোর বেলায় বেরিয়ে গেছেন অফিসের কাজে। সেদিন কাকিমার গায়ে থাকত সুতির শাড়ি, ঘাসে খালি পা ডুবিয়ে হাঁটতেন, অবিনাশ কে ডাকতেন, ‘ এসো পায়ে শিশির লাগাও । দেখো কি ঠান্ডা’। গাছের পাখি দেখতে ভালবাসতেন কাকিমা। এমনকি পড়তেন পাখির বই। সলিম আলীর বই দেখেছে কাকিমার হাতে। তখন কাকিমার মুখটা কি সুন্দর দেখাত। অবিনাশের মনে হতো কাকিমা নিজেই একটা বড় সড় চেহারার পাখি। ভিতু পাখি। যদিও চোখ আর শরীরের ভাষা চঞ্চল নয় একেবারেই। বরং অসম্ভব শান্ত। টলটলে দিঘির জলের মতোও নয়। সামনে বসে আছে কাকিমা অথচ অনেক দূর যেন কি দেখছে অবিনাশের চোখে তাকিয়ে। গভীর চাহনিও বলা যাবে না যেন আনমনা। কাকু কাছাকাছি থাকলে কাকিমা হয়ে পড়তেন সঙ্কুচিত। 

কাকু কাকিমার সাথে ইংরিজিতে কথা বলতেন আর তার জবাব কাকিমা যদি কখনও ভুল করে বাংলায় দিতেন তখন কাকু খুব বকাবকি করতেন । ছোট হয়েও অবিনাশের মনে হতো সবার সামনে এভাবে কাকিমাকে বকাটাই তো সবচাইতে বেমানান এই সাহেবি বাড়িতে।আর সবচাইতে যেটা অদ্ভুত তা হচ্ছে কাকু, অবিনাশ এরা মাছ, মাংস এসব খেলেও কাকিমার ভাতের প্লেটে থাকত শুধু সব্জি আর পাশে বড় বোলএ ডাল। ব্যাস আর কিছু না। অবিনাশ চুপ করে থাকতে পারল না একদিন, ‘ কাকিমা তুমি কেন মাংস খাচ্ছো না? আমরা সবাই খাচ্ছি’ । কাকিমা থতমত খেল কিন্তু কোন উত্তর দিল না। কাকুই সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল , ‘ না তোমার কাকিমার ভেজিটেবলস খেতেই ভাল লাগে। মাংস খেলে শরীর খারাপ হয়’। সেবারই অবিনাশ দেখে তখনো খাবার টেবিলে কাকিমার ডালে কাকু কি একটা ওষুধ মিশিয়ে গুলে দিচ্ছে। তাদের সবাইকে লুকিয়ে। আচ্ছা এই জন্যই কি কাকিমার এত ঘুম পায়? খেতে খেতেই যেন শেষের পাতে ঘুম নেমে আসত কাকিমার চোখে। 

তারপরই একদিন সকালে কাকুর অফিস থেকে একজন কেউ এসেছিলেন। ড্র্ইং রুমে বসে কাকুর সাথে কথা বলছিলেন, ব্রেকফাস্ট খেয়ে কাকু তৈরি অফিসের যাওয়ার জন্য। কাকিমা সেদিন দেরি উঠেছিলেন, রাতের পোশাকেই কাকুকে কি বলতে ড্রয়িং রুমে ঢুকে পড়েছিলেন। কাকিমাকে দেখেই কাকু প্রথমে আশ্চর্য হন আর তারপরে সেই অফিসের ভদ্রলোকটিকে বলেন বাইরে গাড়িতে গিয়ে বসতে, উনি যাচ্ছেন। ভদ্রলোক বাইরে যেতেই কাকু যেন কাকিমার ওপর ফেটে পড়লেন রাগে। 

‘নাইটগাউন পরে তুমি অফিসের লোকের সামনে এসেছো? কোনো এটিকেট জানো না তুমি? ইনসেন একটা’। কাকিমা সেদিন কি একটা জবাব দিতে যাচ্ছিলেন কিন্তু কাকু চেঁচিয়ে বলে ওঠেন, ‘ শাট আপ ইউ বীচ’। বলেই বাইরে বেরিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লেন। কাকিমা প্রথমে যেন কেমন বোকার মত তাকালেন এদিক ওদিক অবিনাশদের দিকে তারপর কেমন যেন টলতে টলতে সোফায় আবার বসে পড়েন। মাথাটা নুয়ে যাচ্ছিল। মা তাড়াতাড়ি জল আনতে ছুটলেন আর অবিনাশ কাকিমার হাত ধরে ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলতে থাকে, ‘ কাকিমা আমি তোমায় এখান থেকে নিয়ে যাব।আমি বড় হয়েই তোমায় এখান থেকে নিয়ে যাব কাকিমা, তুমি দেখো। তোমায় কাকু আটকে রাখতে পারবে না এই খাঁচায়’। কাকিমার মুখ থেকে এত পাখির কথা শুনে, বইয়ে পাখির ছবি দেখে অবিনাশের কাকিমাকেও মনে হত পাখি, এক বড় খাঁচায় বদ্ধ। 

অবিনাশ আরেকটু বড় হয়ে মার কাছে শুনেছে যে কাকিমার এক মৃত সন্তান প্রসবের পর থেকেই একটু মানসিক-ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। তার জন্যেই কাকু কাকিমাকে কড়া ওষুধ আর শাসনে বেঁধে রাখতেন। মনে মনে হেসেছে অবিনাশ কারণ কাকুকেই তার প্রথম থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে হত। একজন সরল, প্রকৃতি ভালবাসা আর পাখিপ্রেমী কাকিমাকে একটুও অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি কখনও। শেষ কাকিমা কে দেখেছে কাকুর প্যাঙ্ক্রিয়াস অপারেশনের সময়। গৌহাটি থেকে কলকাতায় এনে কাকুর অপারেশন হয়েছিল। কাকুরই ডিসিশন। উডল্যান্ড হসপিট্যালে সারাদিন চুপ করে বসে থাকতেন কাকিমা। পাথরের মূর্তি এক। অবিনাশ অফিস থেকে আগে বেরিয়ে হসপিটাল গেছে বেশ কদিন। তখনো ভিজিটিং আওয়ার্স শুরু হয়নি, রিসেপশন হলে কাকিমার পাশের চেয়ারে বসে থাকত। চুপচাপ, কেউই কোন কথা বলত না। নিস্তব্ধ কাকিমাকে মনে হত যেন অন্য কোথাও আছেন। পাশে বসেও যেন তিনি নেই। অবিনাশের মনে হত কাকুর ভাষায় অপ্রকৃতিস্থ এই কাকিমার ভাতের প্লেটে ওষুধ লুকিয়ে কে মেখে রাখছে এখন ? কাকিমা নাওয়া-খাওয়া ভুলে কাকুর হসপিটালে দিবা-রাত্র পড়ে আছেন। অপারেশনের পর গৌহাটি ফিরে গেলেন কাকিমা কাকুকে নিয়ে। এই বয়েসে কাকু আর নিতে পারলেন না, যতদিন বেঁচে রইলেন শয্যাশায়ী হয়ে কাকিমার ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে থাকলেন। অবিনাশের মনে হয় কাকিমার আর খাঁচা থেকে মুক্তি হলো না। 

খালি চায়ের কাপ টা ঠক করে প্লেটে রেখে দুবেজী বলে উঠলেন, ‘তুমিই ভাল আছ অবিনাশ। সংসারের ঝামেলা নেই। আমাদের তো নিজের জন্য কোন সময়ই নেই। প্রথম লাইফে বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কাহিল ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, স্কুলে স্কুলে এডমিশন ফর্মের জন্য লাইন দাও, তারপর একটার পর একটা সিঁড়ি ডিঙ্গিয়ে চাকরি তে ঢুকে এবার তো বিয়ে শাদি করে মা-বাবাকে ফুরসত দে। তা হবে না, আমেরিকার প্রজেক্টে কাজ করতে হবে। তার আগে মেয়েরা বিয়ে করবে না। জীবন হেল হয়ে গেল অবিনাশ’।

অফিসের সবাই জানে দুবেজী এগুলো বলে আসলে আত্মপ্রসাদ লাভ করে। দুবেজীর যমজ দুই মেয়ে, পড়াশুনোয় ভাল ছোট থেকেই। ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে দুজনেই কাজ করে আই টি সেক্টরে। চেষ্টা করছে বাইরে যাওয়ার। আর একজন সহকর্মী বলেন, আমেরিকা কি আর কোম্পানিগুলো পাঠাতে পারবে? যারা আছে তাদেরই না ফিরে আসতে হয়’। এরপর দুবেজী তার এক মেয়ের বস কত খারাপ, সেই আলোচনা শুরু করেন – ‘ আরে মেয়েগুলোই মেয়েদের দেখতে পারে না, আমার মেয়ের বস তো মেয়ে কি শয়তানের হাড্ডি কি বলব...’ অবিনাশ ধীরে ধীরে অফিস থেকে বার হয়ে এল। এই মারামারি, কামড়া কামড়ির প্রতিযোগিতায় ক্লান্তি আসে তার। ছটার পরই এই আড্ডাগুলো বসে । আজ আর কেউ অবিনাশকে খেয়াল করল না। রোজ অবিনাশের এসব সাংসারিক কথা শুনতেও ভাল লাগে না। ‘আরে তোমার কিসের তাড়া? কে অপেক্ষা করছে বাড়িতে?’ বলে আটকে রাখে। অবিনাশের মনে হয় সংসার তার নিজের তো একটা আছে। তার নিজের একটা পরিপূর্ণ জগৎ আছে। সেখানে সারাক্ষণ অন্যকে পেছুনে ফেলে এগিয়ে যাবার প্রতিযোগিতা নেই। বেরিয়ে ভাবল আজ ফেরিঘাট দিয়ে না গিয়ে স্ট্র্যান্ডরোড ধরে হেঁটে যাবে হাওড়া স্টেশন। 

ট্রেনে বসতে জায়গা পায় অবিনাশ, জানলা দিয়ে বেশ হাওয়া আসছে। অবিনাশ ঠিক করে নেয় কালকে অফিস যাবে না। খোঁজ নিতে হবে দেশের সবকটি ন্যাশানাল পার্কে। পাখিরালয় গুলিতে। আচ্ছা, পরিযায়ী পাখিরা তো শীতে আসে, আসে দূর থেকে কোনো জলাশয়ের ধারে আবার ফিরে যায় যেখান থেকে এসেছিল। খোঁজ নিতে হবে বার্ড স্যাঙ্কচুয়ারি, ন্যাশানাল পার্ক কোথাও... কোথাও নিশ্চয়ই কোনো ব্যবস্থা থাকবে। ইন্টারনেট ঘেঁটে সব খবর বার করতে হবে। পারলে আজকেই। এবার খানিক স্বস্তি হয় অবিনাশের। অবিনাশ জানে, ফ্ল্যাটের তালা খুললেই তাকে দেখতে হবে বসার ঘরের টেবিলে পড়ে থাকা ওই খামটা। গত দুদিন ধরেই পড়ে আছে টেবিলে। নিচে দারোয়ানের কাছে রাখা ছিল, ক্যুরিয়ারে এসেছে। খামটিতে আছে এক বিশাল এমাউন্টের চেক, হ্যাঁ, তার নিজেরই নামে। পাঠিয়েছেন কাকিমার বোন। কাকিমা মারা গেছেন প্রায় মাস চারেক হলো। গৌহাটিতে কাকিমার বোনও থাকেন, ওনার কাছ থেকেই অবিনাশ কাকিমার মৃত্যু সংবাদ পেয়েছিল। দুদিন আগে সেই ঠিকানা থেকেই এই চেকটি এসেছে, সঙ্গে কাকিমার বোনের একটি চিঠি , তাতে লেখা কাকিমা মারা যাবার আগে চেয়েছিলেন এই টাকা অবিনাশকে দিতে। কাকিমার বোন আর কাকিমার যৌথ ব্যাংক একাউন্ট থেকে এখন কাকিমা বোন এই চেক অবিনাশকে পাঠিয়েছেন। 

ফ্ল্যাটে ঢুকে আজ খামটা আরেকবার খুলে অবিনাশ চেকটায় পরম মমতায় হাত বোলাল। তারপরেই নিজের ঘরে গিয়ে কম্প্যুটার অন করে বসে পড়ে। এই তো অনেক সাইট পাওয়া যাচ্ছে বার্ড স্যাঙ্কচ্যুয়ারির আমাদের দেশেই আছে বেশ কটি। ভারতপুর, জিম করবেট, চিলকা আরো অনেক। এই যে ডোনেট করার লিঙ্কও আছে। ... আপনার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন বিশ্বের পাখিরালয়ের জন্যে...বন্ধু হন পাখির...আপনার দেওয়া অমূল্য রাশিতে পাখি-উন্নয়ন্মূলক শিক্ষা, ফিল্ড স্টাডি, পাখিদের ব্রীডিং, চিকিৎসা, বিপন্ন প্রজাতির পাখিদের উন্মুক্তি, আহত শিকারী-পাখির পুনর্বাসন ... আরো কত কি। অবিনাশ সযত্নে মেইল আইডি, ফোন নাম্বার টুকে রাখে নোটবুকে। পুরো চেক এমাউন্টই অবিনাশ এই পাখিরালয়ে দান করে দেবে। একটা সংস্থাতেই পুরো টাকাটি না দিয়ে ভাগ করে কটিতে দেবে ঠিক করে। আহা! কি শান্তি যে লাগে অবিনাশের, মনে হয় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা উড়ে যাচ্ছে ওর মাথার ওপর দিয়ে। 


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন