বৃহস্পতিবার, ২৪ মে, ২০১৮

ইসরায়েলের গল্প : স্বপ্নের পুষ্টিগুণ বিষয়ে-

এটগার কেরেট 
অনুবাদ: বিষ্ণুপ্রিয়া চৌধুরী 

(লেখক পরিচিতি : এটগার কেরেটের জন্ম ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে। ইসরাইলের এই লেখক ছোটগল্প, গ্রাফিক উপন্যাস ও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখেন। তাঁর বাবা-মা বিশ্বযুদ্ধের সময়ে পোলান্ডে গণহত্যার শিকার হতে গিয়ে অলৌকিকভাবে বেঁচে যান। কেরেট তেল আবিবের একতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ : ছোটো গল্প--পাইপ লাইন (১৯৯২), মিশিং কিসিঞ্জার (১৯৯৪)। কেরেটের গল্প অনেকটা অন্যরকম। প্রত্যহিক জীবনের ভাষা ব্যবহার করেন। স্লাং ও আঞ্চলিক শব্দ ও বাক্যভঙ্গি তার লেখার অন্যতম বৈশিষ্ঠ্য। গল্পগুলো পরাবাস্তববাদী ঘরানার। )
========================================================================

মাঝরাতে ধড়মরিয়ে উঠে দেখলাম, তোমাকে নিয়ে যে স্বপ্নটা দেখছিলাম সেটা চিবিয়ে ফেলছে একটা ভুত. ভীষণ রেগে আমি লাফ দিয়ে নামলাম বিছানা থেকে আর সজোরে একটা ঘুষি লাগালাম ভুতটার নাকে. ওর মুখ থেকে খসে পড়ল স্বপ্নের বাকিটুকু. আমি তাও ব্যাটাকে পেটাতে লাগলাম. এমনকি যখন মালটা ছেতরে গুড়ি মেরে খাটের তলায় ঢুকতে যাচ্ছে তখনো ওর চটকানো ছায়াটাকে আমি পিটিয়েই চলেছি. 

যাইহোক এক সময় ক্লান্ত হয়ে থামলাম. জড়ো করলাম স্বপ্নটার যা পড়ে ছিল. খুব একটা বেশি কিছু বাকি রাখেনি যদিও- শুধু তোমার পরনের ওই কালো পাজামাটা, তোমার অনায়াস সেই হাসিটা আর আমাদের ভেতরের একটা যোগাযোগ জাতীয় কিছু, হয়ত একটা আলিঙ্গন মাত্র. ভুতটা চারপাশের সমস্তটা খেয়েছে শুধু ঐটুকু ন্যাংটো রেখে. আমি শুয়ে থাকলাম পরিত্যক্ত, চুপ. আমার গায়ে আন্ডারওয়ার আর এক পশলা ঘাম মাত্র. ঘন্টার পর ঘন্টা ধৈর্য ধরে ঘুমিয়ে থাকলাম স্বপ্নটা ফিরে পাবার আশায়. কিন্তু এলো শুধু শুন্যতা- শুন্যতার চেয়েও খারাপ- মুখের ভিতর চোয়াতে থাকলো একফোটা শেষ হয়ে যাওয়া কাঠি বরফের আস্বাদ. 

খাটের তলা থেকে ভুতটার মৃদু কান্না ভেসে আসছিল. প্রথমে ভাবলাম হয়ত ব্যাটা ব্যাথায় কাতরাচ্ছে-নাহক ভালই উত্তম মধ্যম দিয়েছিলাম তো. কিন্ত ওই কান্নার ভেতরে একটুও যন্ত্রণা ছিল না. ওর চোখের জল তখন মেঝেময়. আমি চেখে দেখলাম-মিষ্টি! ভুতটা কাঁদছিল আনন্দে! ওর অশ্রু যেন স্বপ্নটার সুস্বাদের প্রমান. সেই স্বাদে তার অশরীরী দেহ তখনও থরথর করছিল. ওই কান্নার ভিতরে আমি শুনতে পেলাম সেই সব দীর্ঘ দীর্ঘ রাত্রি গুলির কথা যখন সে আমার খাটের তলায় বসে খেয়েছে আমার গা গোলানো, একঘেয়ে আর ঘেন্না ভরা স্বপ্নের এটোকাটা. ভুতটার কোনো পথ ছিলনা শোক, শুন্যতা আর ভয়ে চপচপে আমার স্বপ্নের দলা গিলতে থাকা ছাড়া, যাতে আমি ঘুমোতে পারি. ওর গলায় ব্যাথার কাটা গুলো বার বার বিধে গেছে আর আমার ঘুম হয়েছে গভীর, মসৃন. 

অবশেষে আজ ও পেয়েছিল পুরস্কার. টনটনে খিদে মিটেছিল অন্য এক স্বাদে. এই প্রথমবার ওর শরীর জেনেছিল শুন্যতার চেয়ে বেশি. 

রাত প্রায় শেষ. আমার বন্ধুর ছায়াহাত খাটের তলা থেকে বেরিয়ে এসে ঘরের মাঝখানে ইশারা করলো. সেখানে পড়েছিল স্বপ্নের শেষ টুকরো কটা- তোমার পাজামাটা, একটু হাসি, একটা যেন অলৌকিক নেশা ধরানো স্পর্শ- মিলিয়ে যেতে যেতে হাতটা যেন বলল “দেখো বন্ধু, তোমার জন্যও বাকি আছে কিছুটা অপরূপ!”





অনুবাদক পরিচিতি 
বিষ্ণুপ্রিয়া চৌধুরী
অনুবাদক। 
মিশিগানে থাকেন। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন