রবিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৮

গল্পপাঠ।। ভাদ্র-আশ্বিন ।। ১৪২৫।। সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৮।।। সংখ্যা ৬৩

একজন গল্পকার তিনটি ভাষায় লেখেন একটি গল্প। প্রথমে গল্পকার তার নিজের ভাষাটি ব্যবহার করেন। নিজের ভঙ্গী, নিজের অভিজ্ঞান থেকে অর্জিত নানা উপকরণ এবং আরো কিছু। দ্বিতীয়ত তিনি ব্যবহার করেন তার গল্পের চরিত্রের ভাষা, ভঙ্গী এবং চরিত্রের দৃষ্টিভঙ্গী থেকে অর্জিত নানা উপকরণ। এরপরে তিনি ব্যবহার করেন বৈশ্বিক ভাষা। এর মধ্যে দৈনিক সংবাদপত্র, মিডিয়া, বিজ্ঞাপন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ব্লগ এবং টেক্সট মেসেজগুলোর ভাষাটিও চলে আসবে গল্পকারের করোটিতে। এ সময়ের গল্পকার তার নিজের ভূগোলকে অতিক্রম করে যাবে। অতিক্রম করবেন পূর্বসূরীকে। অতিক্রম করবেন নিজেকে। এবং পৌঁছে যাবে ভবিষ্যতের গল্পকারের কাছে।


একজন গল্পকারের গল্পকে গভীরভাবে বুঝতে হলে তাঁর লেখার কৌশলকে আবিষ্কার করা প্রয়োজন। সেটা আবিষ্কারের সঙ্গে যদি পাওয়া যায় গল্পকারের নিজের বক্তব্য তাহলে পাঠকের কাজটি ত্বরাণ্বিত হয়ে ওঠে অনেক বেশি। একজন লেখককে অবশ্যই জানতে হয়--তিনি কেনো লিখছেন। না জানলে তাঁর লেখাটি হয়ে ওঠে লক্ষ্যবিহীন। ক্ষনোবা অর্থহীন-জঞ্জাল। বাংলা সাহিত্যের তিনজন সেরা গল্পকারের নিজের বয়ানে পড়ুন--
কেন লিখি??

পাঁচটি চিরায়ত গল্প
পরকীয়া নিয়ে সতীনাথ ভাদুড়ীর অন্যরকম একটি গল্প পড়ুন--
সতীনাথ ভাদুড়ী'র গল্প--
জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী'র গল্প : 
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়'র দুটি গল্প
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস'এর গল্প : 

এমদাদ রহমানের আয়োজন
কয়েকটি সাক্ষাৎকার


অমর মিত্র'র গল্প :` দুই নারী
এই গল্পটি পড়ে কথাসাহিত্যিক দীপেন ভট্টাচার্য লিখেছেন--
এই গল্পটি অসামান্য। অমরদার পঠনে গল্পটি শোনার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। পৃথিবীর প্রান্তে বসে আছে অন্নদা ও সুন্দরীদাসী, তাদের জন্য ভাবার কেউ নেই, তারা নিজেরাই যেন ভুলে গেছে সূর্যের নিচে তারাও যে পৃথিবীর সন্তান। সেখানে লেখক তাদের প্রাণ দিয়েছেন, ছোট আখ্যানেও তাদের মনুষত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমাদেরই যেন লজ্জা দিয়েছেন, কারণ গল্পশেষে আমরা খুঁজতে চাই সেই অনুভূতিকে যা কিনা বুঝতে দেবে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত বসা দুটি বিস্মৃত নারীকে। আমি যেন সেই অনুভূতিকে খুঁজে পাই যখন দুই নারী ঝাঁপ দেয় 'অভ্রনীল জলে'। তাদের মনুষত্ব প্রাণ পায়, তাদের অন্তরাত্মার মর্যাদা যেন প্রতিষ্ঠিত হই। আমি পাঠকও সুখী হই। আমিও ভাবি -
"আশ্চর্য! কেউ এল না। তখন বেলা শেষের বাতাস আরম্ভ হয়েছিল। গাছেদের ঘুম ভাঙছিল। দুপুরের ঘুম, রৌদ্রের ঘুম, আলস্যের ঘুম আগুনের হাত থেকে বাঁচার ঘুম। সেই শব্দ বয়ে যাচ্ছিল চারদিকে। তা বুঝতে পেরেই খিক খিক করে হেসে উঠেছে সুন্দরীদাসী, একী! একী হলো, ওলো অন্নদা ?"


কবি মৃদুল দাশগুপ্তর গল্প
ভারতবর্ষ
গল্পটি শুরু হয়েছে দেশভাগের সময় থেকে। এর মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নানা উত্থানপতন চলেছে। দাঙ্গা, জাতিগত ঘৃণা, সাম্প্রদায়িকতার উত্থান, যুদ্ধ এই দেশগুলোর মানুষকে সব সময়েই দুঃসময়ের পথযাত্রী করে তুলেছে।
কবি মৃদুল দাশগুপ্ত ভারতবর্ষ গল্পের মধ্যে দিয়ে একজন শেকড়চ্যূত মানুষের আখ্যান লিখেছেন নানা স্তরের সমন্বয়ে।  অসামান্য এই গল্পটি পড়ুন--

‘এলেনপোর বেড়াল’ গল্পটি কথাসাহিত্যিক নাসরীন জাহানের একটি বিখ্যাত গল্প। একজন নববধূর স্বপ্নে একটি কালো বিড়াল তাড়া করে। মাঝেমধ্যে স্বামীর মুখটাও যেন ঠিক বিড়ালটির মতই দেখায়। এই বিড়ালটি কি কবি অ্যাডগার অ্যালান পো’র ছায়া বিড়াল ?
বিস্তারিত জানতে পড়ুন--

নাসরীন জাহানের গল্প :
এলেনপোর বিড়াল


যশোবন্ত অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। আমার মনে হচ্ছিল অনেক ক্ষণ। বড় আর বুড়ো আঙুলের মাঝখানে সরু করে একটা সিগারেট ধরে রেখেছে। আমি কুর্তার পকেট থেকে ভাঁজ করা কাগজ টা বার করে আর এক বার বললাম, মণীষা দিদি বলেছেন আপনার সংগে দেখা করে একটু যেন অস্থির ভাবে হাত নাড়া দিল যশোবন্ত। কাগজটা দেখতে চায়না।
একটি গল্পের জন্ম - অনিতা অগ্নিহোত্রী
বিস্তারিত পড়ুন>>



জয়ন্ত দে'র গল্প : বিষ
এ সময়ের অন্যতম সেরা কথাসাহিত্যিক জয়ন্ত দে লেখেন নির্মেদ আখ্যান। তিনি শুরু করেন খুব শান্ত ভঙ্গিতে। গল্পটিও এগোয় গুটি গুটি পায়ে। এর মধ্যে দিয়েই তিনি ভয়ঙ্কর সব মোচড় দিতে শুরু করেন। একদম শেষ হলে পাঠক বুঝতে পারেন, এবারে শুরু হচ্ছে ভিন একটি গল্প যেটি তিনি লুকিয়ে রেখেছিলেন।
বিস্তারিত পড়ুন--

একেবারে মাপমতো আধখানা জীবন পেরিয়ে রবিবার সকালে দাড়ি কামাচ্ছি। আমি কল্যাণ পালিত, আবিষ্কার করলাম আমি একটি জলহস্তী হয়ে গেছি। বিশাল। শুধু মাংস। ভোঁতা। অফিস সুপার সান্যাল পরামর্শ দিয়েছিল, ‘স্যার, গরম জলে পাঁচ ড্রপ মধু খান রোজ। ছিপছিপে হয়ে যাবেন।’ ফলম? আরও মুটিয়েছি। দোতলার বেশি সিঁড়ি ভাঙতে পারি না। নিচু হয়ে পয়সা কুড়োতে গেলে পেটে আটকায়। রক্ত নেমে মুখ লাল করে দেয়। কপালের দু’পাশের রগ দপদপায়। ব্লাড সুগার, মিষ্টি খাওয়া বারণ। বহুদিন রাস্তায় দাঁড়িয়ে ফুচকা খাইনি। বিস্তারিত পড়ুন>>

কুলদা রায়ের গল্প :হারানো চাঁপার খোঁজে

নতুন বাড়িটার চিলেকোঠাটা বেশ বড়। সেটা মেয়ে বেছে নিয়েছে। সঙ্গে রয়েছে একটা স্টোর রুম। পুরনো বাড়িওয়ালা সেটা পরিস্কার করে দিয়েছে। শুধু রেখে গেছে বড়ো একটা সিন্ধুক। রাজকীয় তার সাজ। এটাও ফেলে ফিতে চেয়েছিল। কিন্তু এন্টিক বলে আমার মেয়ে রেখে দিয়েছে।
বিস্তারিত পড়ুন>>
শাকুর মজিদের গল্প :
 
ফেসবুক
মজিদ সাহেব লেখার কথা বলে রাত জাগেন, কিন্তু লিখেন না কিছু। মাঝে মাঝে কিছু বই পড়েন। বেশির ভাগ সময় ল্যাপটপ আর ফোনে টেপাটিপিতে থাকেন। এখানে কী কী করেন, আমরা জানিনা, তবে অনুমান- তাঁর কিছু ভক্ত আছে যারা তাঁর কোন লেখা পড়ে কি লিখলো সেসব তিনি পড়েন।
বিস্তারিত পড়ুন>>


অনুবাদ-বিশ্বসাহিত্য
একজন স্বাভাবিক মানুষ
মূল গল্প :  অ্যাডাম ও’ফেলন প্রাইস
অনুবাদ : রঞ্জনা ব্যানার্জী
--------------------------------
হারুকি মুরাকামির গল্প  :  শেষ অংশ
অনুবাদ: সাগুফতা শারমীন তানিয়া
-----------------------------------------
অনুবাদ : দুলাল আল মনসুর
--------------------------------
অনুবাদ : সালেহা চৌধুরী
------------------------------
অনুবাদ : আফসানা বেগম

কুমার চক্রবর্তীর  প্রবন্ধ--
হে স্মারকবন্ধুরা :
হেঁটে হেঁটে কাছে আসি, শুনি তব নৈঃশব্দ্যবারতা

শুধু জীবিতের নয়, মৃতের অনুষঙ্গ ও অভিমুখিতায় জড়িয়ে আছে এই বৃক্ষবন্ধুরা। আমাদের জীবনকে যেমন রক্ষা করে চলে তেমনই মৃত্যুতেও ভূমিকাশীল হয় তারা তাদের নিজের দেহের জোগান দিয়ে।
মৃতদেরও ছায়া দেয় তারা, আপন শরীরসহযোগে ঘটায় সমাধিস্থ হতে। আমাদের এইসব নৈঃশব্দ্যিক বন্ধুদের কথা আমরা কি ভাবি? আমরা কি চেষ্টা করি তাদের ভাষা বুঝতে, বা বুঝতে তাদের অনুভবকে? অনেক আগে একটি কবিতায় লিখেছিলাম, ‘মৃত্যুর পরও বৃক্ষরা দাঁড়িয়ে থাকে অনেক দিন।’ বস্তুত তা-ই। বৃক্ষের মৃত্যুক্ষণ হয়তো বোঝা যায় না তাৎক্ষণিক। কিন্তু তাদেরও মৃত্যু ঘটে, আদিম দেবতাদের ক্রোধ এবং আঘাতকে প্রতিহত করে তারা আমাদের রক্ষা করে নিজ মৃত্যুর বিনিময়ে।
সমকালীন গল্পকারদের গল্প

গল্পপাঠে নতুন গল্পকার
সাক্ষাৎকার


অর্ক চট্টোপাধ্যায়এর গল্প : ট্যাচু
সদ্য তাজা এই গল্পটি অর্ক চট্টোপাধ্যায় লিখে পাঠিয়েছেন গল্পপাঠে।
গল্পটি যেন একা লেখেননি অর্ক। অর্কের সঙ্গে যেন লিখেছেন সুবিমল মিশ্র ও মেধা পাঠেকর, আপনি অথবা যে কেউ।  পড়ুন--

গল্পপাঠ ধারাবাহিক
দীপেন ভট্টাচার্যের ধারাবাহিক উপন্যাস
আন্তারেস চতুর্থ পর্ব - 
বিশাল মহাকাশযান আন্তারেস চলেছে নতুন পৃথিবীর খোঁজে। সে বহন করছে ২৫ জন কিশোরকিশোরী ও তাদের পিতামাতাদের। তারা পালাচ্ছে এক বিভীষিকাময় নারকীয় সভ্যতা আউরেরগথদের থাবা থেকে বাঁচতে। কিন্তু কাহিনীর প্রটাগিনিস্ট শোগি আবিষ্কার করে যাকে সে এতদিন মা বলে জানত সে যেন তার মা নয়, সে যেন মানুষই নয়। শোগি বিভ্রান্ত। এর মধ্যে আউরেরগথের আক্রমণে আন্তারেস বিপর্যস্ত। [পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলির লিঙ্ক]


অনামিকাস জার্নাল--চাই-ল্যাটে :
আনসেফ গর্ভপাত জন্মসক্রান্ত মৃত্যুর অন্যতম বড় পরিসংখ্যান। অ্যান্টি-অ্যাবরশনের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরী করিতেই এই স্যাটাইয়ার।
অণ্ড ও গড-ফর্মূলা: বাইসাইকেল ও পবিত্র শুক্রকীট
অনামিকা বন্দ্যোপাধ্যায়
বিস্তারিত পড়ুন>>

ধারাবাহিক উপন্যাস :
যে দিন ভেসে গেছে

নবম অধ্যায়
মূল : মার্গারেট মিচেল
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
বিস্তারিত পড়ুন>>



বই নিয়ে আলাপ ও অন্যান্য
মহাভারতে আত্মহত্যা--
শামিম আহমেদ
মহাভারতকার কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাসদেবের প্রপিতামহ বশিষ্ঠ আত্মহত্যা করবেন বলে লতাপাতা দিয়ে নিজের হাত-পা বেঁধে বর্ষার জলে পূর্ণ এক খরস্রোতায় ঝাঁপ দিলেন। নদী তাঁর সব বন্ধন ছিন্ন করে তাঁকে তীরে ছেড়ে দিল। পাশমুক্ত বশিষ্ঠ সেই নদীর নাম রাখলেন ‘বিপাশা’। বিশ্বামিত্রের চক্রান্তে কল্মাষপাদ রাক্ষস (আসলে তিনি রাজা সৌদাস) বশিষ্ঠের শত পুত্রকে ভক্ষণ করেছে জেনে মুনিপ্রবর আত্মহত্যার ইচ্ছা করলেন। বিস্তারিত পড়ুন>>




লীনা দিলরুবার পাঠ প্রতিক্রিয়া

১৯৬৬ সালে শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় চম্পাহাটি গ্রামে জমি কিনে কোলকাতা থেকে চলে যান। সেখানে বসতবাড়ি বানান। রেল্গাড়িতে ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করেন। ভূমিহীন চাষীদের নিয়ে সমবায় করেন। খাল গভীর করে জল ধরে রেখে ধান চাষ করেন। এই চম্পাহাটিতে থাকতে থাকতে তিনি চাষবাস ও গবাদিপশু পালনে মেতে ওঠেন। ইটখোলা, মাছচাষ, সবজি চাষ, রাস্তা বানানো, খাল কাটা, সাপ ধরা ইত্যাদি কাজের নেশায় জড়িয়ে পড়েন। এই চম্পাহাটির মানুষ, প্রকৃতি নিয়ে তিনি যে ১০-১১ বছরের জীবনকালে ছিলেন সেগুলো নিয়ে ঈশ্বরীতলার রূপোকথা নামে উপন্যাসটি লেখেন। বাংলাভাষায় এই উপন্যাসটি একটি মাস্টারপিস। উপন্যাসটি সম্প্রতি পড়েছেন লীনা দিলরুবা। পড়ুন তাঁর পাঠ প্রতিক্রিয়াটি।


বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য
প্রতিটি নতুন সকালে , পৃথিবীর মতোই , আমাদের শরীরটাও , তার ভিতরে সবে জন্মানো কোষগুলো নিয়ে একেবারে টাটকা লতা হয়ে জেগে ওঠে৷ অন্ধকার আকাশ থেকে টুপ করে বেরিয়ে আসে খোসা ছাড়ানো আলো৷ তখন দেখা যায় , সুন্দর করে সাজানো এই পৃথিবীতে নতুন বাতাসের ঝাপটা গায়ে লাগাতে লাগাতে গাছপালা মাঠঘাট লতাগুল্ম আগেরদিনের মতোই একই ভাবে দাঁড়িয়ে আছে তাদের নিজেদের জায়গায়৷ তাদের মাথার উপর পরিষ্কার একটি রোদ্দুর৷
বই নিয়ে আলোচনা 



পাঠপ্রতিক্রিয়া : 
সাদিয়া সুলতানা
পাঠপ্রতিক্রিয়া : 
রুখসানা কাজল
পাঠপ্রতিক্রিয়া : 

ই-মেইল যোগাযোগ : galpopath@gmail.com

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন