রবিবার, ১০ মার্চ, ২০১৯

গল্পপাঠ।। পৌষ-মাঘ ।। ১৪২৫।। জানুয়ারী- ফেব্রুয়ারী ২০১৯।।। সংখ্যা ৬৫

গল্পকার গল্প লেখেন। শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে বয়ান করে যান আখ্যান। কল্পনার আখ্যান। জীবনের আখ্যান। আখ্যান এক অর্থে জীবন আচারের ছবি, যা অতীত হলেও সমসাময়িক। এবং ভবিষ্যতেরও। 

যাপিত সময়ের আচার মানেই অবধারিত কিংবদন্তি। এর সঙ্গে জীবনের ছোটবড় নানান কথা, নানান ঘটনা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, দর্শন, সঙ্গীত, শিল্পকলা, বিজ্ঞান যুক্ত হয়েই মহাকাব্য তৈরী হয়। গল্পকার নিজের একান্ত গল্প বা কল্পনাকে সামগ্রিকতার ছাঁচে ফেলে করে তোলেন নৈব্যর্ক্তিক। তা হয়ে ওঠে সকলের।  বহুস্তরীয়।  
গল্পকার যেখানে গল্পটি শেষ করেন তারপর থেকেই পাঠক সে গল্পটিকে এগিয়ে নিয়ে যান। পুর্ণ করেন। অথবা নতুন নতুন আরো গল্পের সৃষ্টি হয়।

গল্পের এই পর্যায়ে আসতে হলে গল্পকারের কাজ হয় সুতোর মিস্ত্রীর মতো। মোটেই তাড়াহুড়া করেন না তিনি। সৃজন কর্মটি যতক্ষণ না অনন্য হয়ে উঠছে ততক্ষণ গল্পকার সংযোজন--বর্জন প্রকিয়ার মধ্যে যান নির্মমভাবে। এটা ছাড়া মহৎ গল্প পাওয়া যায় না।

আমাদের বাংলা ভাষায় মহৎ গল্প আছে। তাকে পাটাতন করে এ সময় গল্পকে দাঁড়াতে হবে। আর বিদেশি সেরা গল্পগুলোকে আত্মীকরণ করে শক্তি সংগ্রহ করতে হবে বিশ্বসাহিত্যের স্রোতধারায় মিশতে হবে।

গল্পপাঠ প্রতিসংখ্যায়ই চিরায়ত বাংলা গল্প ও বিশ্বসাহিত্যের গল্পের অনুবাদ প্রকাশ করছে। প্রিয় গল্পকার, প্রিয় পাঠক, পড়ুন। লিখুন।

তাড়াহুড়া করবেন না। লিখুন, ভাস্করের মতো আভিজ্ঞতাকে কেটে ছেটে কল্পনার মিশেল দিয়ে লিখুন আপনার সেরা গল্পটি।
*গল্পপাঠের এ সংখ্যা সম্পাদনা ও প্রকাশনার কারিগরী দিকগুলো করেছেন চকোরী মিত্র স্মৃতি ভদ্র।

সম্প্রতি মতি নন্দী প্রয়াত হয়েছেন। তাঁকে স্মরণ করে জয় গোস্বামীর একটি লেখা ও মতি নন্দীর একটি সেরা গল্প প্রকাশ করা হলো।

শ্রদ্ধাঞ্জলি


হাসান আজিজুল হক আমাদের কথা সাহিত্যে কিংবদন্তিতুল্য ধীমান পুরুষ। তাঁর হাতে আমাদের গদ্য সাহিত্য নতুন মাত্রা পেয়েছে। গদ্যের জন্যে যাঁরা ভাষা নির্মাণ করেছেন তিনি তাঁদের পুরোধা। শকুন, আত্মজা ও একটি করবী গাছ, মারী, আমৃত্যু আজীবন, তৃষ্ণা, উত্তর বসন্তে, পরবাসী, শোণিত সেতু, জীবন ঘষে আগুন, জননী, ঘর ঘেরস্থি, খনন-এর মতো অসংখ্য গল্পে এই সত্য উদ্ভাসিত।
কবি ও কথাশিল্পী ইকবাল হাসান হাসান আজিজুল হকের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন ক'বছর আগে। এখনো সাক্ষাৎকারটি প্রাসঙ্গিক।

সাক্ষাৎকারগ্রহণে : ইকবাল হাসান

কেনো লিখি এ প্রশ্নটি একজন লেখকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে জেনে লেখেন। অনেকে লিখতে লিখতে জেনে ফেলেন। প্রকৃত লেখক হওয়ার জন্য এই প্রশ্নের উত্তর জানার বিকল্প নেই।
সম্প্রতি কথাসাহিত্যিক অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, দিব্যেন্দু পালিত, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, মতি নন্দী, আফসার আমেদ, শওকত আলী চলে গেছেন। বিমল কর গেছেন আরো আগে। এঁদের মধ্য থেকে চারজনের 'কেনো লিখি ' প্রকাশ করা হলো।

কিছু কিছু গল্প সময়ের দলিল হয়ে ওঠে, আবার কিছু গল্প সমাজের প্রতিরূপ। কোনো গল্প স্তব্ধ সময়ের, কোনো গল্প তুষার ঢাকা শহরের। এগুলোর মধ্য থেকেই কিছু গল্প এ সময়ের অবশ্য পাঠ হয়ে দাঁড়ায়। পড়ুন এ সময়ের সেরা চারজন কথাসাহিত্যিকের গল্প।
সুবিমল মিশ্র'র গল্প : বাব্বি
আনসারউদ্দিন'এর গল্প :শিল্পী



গল্প বলার আগে গল্পকারকে তৈরি করতে হয় একটি কাঠামো। সেই কাঠামোর কেন্দ্রতে থাকে একটি বিন্দু। বিন্দুটিকে মাঝে রেখেই লেখক চারপাশে রচনা করেন কিছু সিকোয়েন্স, কিছু টেনশন, কনফ্লিক্ট আর ক্লাইম্যাক্স। নির্মোহ হয়ে লেখক সেই কাঠামোকে কেটেছেটে বের করে আনেন একটি শক্তিশালী গল্প। পড়ুন এসময়ের চারজন শক্তিশালী গল্প নির্মাতার গল্প।
সালেহা চৌধুরী'র গল্প : পাহাড়ের বাড়ি

ভাল গল্প হয় অকপট। সেখানে থাকবে না কোনো প্রতিকী। গল্পের থাকবে একটি যুক্তিসংগত ডিন্যুমেন্ট। গল্পের চরিত্রগুলোর ভূমিকা লেখক গল্পের শুরুতেই ঠিক করে নেবেন।যে কোনো অযাচিত চরিত্র ছোটগল্পকে দুর্বল করে দেয়। 
চারজন ভীন্নধারার গল্পকারের চারটি  গল্প পড়ুন--
গল্পকার মুলত নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকে গল্প লেখেন। এতে গল্পটিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে লেখকের আলাদা প্রচেষ্টা করতে হয় না। তবে অভিজ্ঞতাকে গল্পের আকার দেবার আগে গল্পকারকে নির্মম হতে হবে। অভিজ্ঞতা থেকে গল্পের অপ্রয়োজনীয় অংশকে বর্জন করতে দ্বিধা করবেন না গল্পকার। অন্যদিকে গল্পের প্রয়োজনে অভিজ্ঞতার বাইরের কিছু জিনিষও সংযোজন করতে দ্বিধাহীন হবেন। এভাবেই গল্পকারের অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় কিছু শ্রেষ্ঠ গল্প।
তিনজন তরুণ গল্পকারের সঙ্গে একজন প্রবীণ গল্পকারের গল্প পরুন--

সফল গল্পকারের কাজ হলো পাঠকের সামনে অসংখ্য পথের ইঙ্গিত তৈরী করা। যাতে করে পাঠক একটি গল্পের ভিতর খুঁজে পাবে অন্য গল্পের ইঙ্গিত। বা অন্যভাবে বলা যায়, একটি গল্পের ভিতরে লেখক রেখে দেন অন্য গল্পের বীজ। কোনো কোনো লেখক খুব সচেতনভাবেই এটি করে থাকেন।
এ সময়ের চার গল্পকারের গল্প পড়ুন--

গল্পকে সহজ ও সরলভঙ্গীতে বয়ান করা লেখকের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। যেকোন ধরণের ধোঁয়াশা গল্পকে দুর্বল করে দেয়। পাঠকের সাথে তৈরী হয় প্রতিবন্ধকতা। সহজ বয়ানে কঠিন কিছু বলার উপায় লেখককে অবশ্যই আয়ত্ত করতে হবে। গল্পের সাবলীলতা পাঠককে সার্থকভাবে টেনে নিয়ে যায় শেষ অব্দি।
তিনজন তরুণ গল্পকারের সঙ্গে একজন অনতি তরুণের গল্প পড়ুন--
একজন গল্পকার গল্পে তথ্যের ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা করতে হবে গল্পের মতো করে। গল্পে সরাসরি তথ্য প্রদান করা যায় না। দক্ষ গল্পকারের বয়ানে তথ্য থাকে গল্পের আড়ালে। এভাবেই কিছু গল্প হয়ে ওঠে ইতিহাসের বিকল্প পাঠ
এ সময়ের চারজন অন্য ধারার গল্পকারের গল্প পড়ুন।
                           
রঞ্জনা ব্যানার্জী'র গল্প : ভাসান

আমাদের সময়কার তরুণরা লিখছেন প্রচলিত পত্রিকার বাইরে অন্তর্জালের মুক্ত পাতায়। তাদের লেখায় যেমন তারুণ্যের ঝংকার আছে, তেমনি আছে দুর্বল চলনভঙ্গি। সঙ্গে রয়েছে পরিচিতি মানুষের স্তুতি অথবা অপাঠকের নির্মম কষাঘাত। এ দুটোই লেখকের জন্য ক্ষতিকর। একজন লেখক এ ফাঁদগুলো কেটে বেরিয়ে সৎ পাঠকের সমালোচনাটি গ্রহণ করবেন। নিজেকে প্রতিদিনই ভাংচুর করে গল্পের ধ্রুপদী শৈলীটি অর্জনের চেষ্টায় রত থাকবেন। নিজেকে অতিক্রম করবেন। নিজের গল্পকে নিয়ে যাবেন গল্পের বিশ্বমানে। হয়ত এখনই নয়, দীর্ঘদিনের চর্চায় আমরা দেখা পাবো সেই ধীমান লেখকদের।



অনুবাদ গল্প


ভাষান্তর : সাগুফতা শারমীন তানিয়া



গল্পপাঠ ধারাবাহিক
বিশাল মহাকাশযান আন্তারেস চলেছে নতুন পৃথিবীর খোঁজে। সে বহন করছে ২৫ জন কিশোরকিশোরী ও তাদের পিতামাতাদের। তারা পালাচ্ছে এক বিভীষিকাময় নারকীয় সভ্যতা আউরেরগথদের থাবা থেকে বাঁচতে। কিন্তু কাহিনীর প্রটাগিনিস্ট শোগি আবিষ্কার করে যাকে সে এতদিন মা বলে জানত সে যেন তার মা নয়, সে যেন মানুষই নয়। শোগি বিভ্রান্ত। এর মধ্যে আউরেরগথের আক্রমণে আন্তারেস বিপর্যস্ত। কিন্তু শুধু কি শোগির মা'ই মানুষ নয়? নাকি আন্তারেসের সব প্রাপ্তবয়স্করাই ঠিক মানুষ নয়। [পূর্ববর্তী অধ্যায়গুলির লিঙ্ক]

কল্লোল লাহিড়ীর ধারাবাহিক উপন্যাস : 
দ্বিতীয় অধ্যায়
কুমড়ো ফুলের বড়া


ধারাবাহিক উপন্যাস :
একাদশ অধ্যায়
মূল : মার্গারেট মিচেল
অনুবাদ : উৎপল দাশগুপ্ত
বই নিয়ে আলোচনা 
গল্পপাঠ।। পৌষ-মাঘ ।। ১৪২৫।। জানুয়ারী- ফেব্রুয়ারী ২০১৯।।। সংখ্যা ৬৫

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন