মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০১৯

সাগরিকা রায়'এর গল্প : চুনো মাছের ঝাল

গাড়ির ঝাপসা জলে ভেজা কাচের ভেতর থেকে ওদের দেখল মলিন। বেশ কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে রাস্তার ধারের ড্রেনের ভেতরে নেমে পড়েছে। খুব হইচই চলছে । উৎসবের আবহ পুরো। কারণটা হল,এই মুহূর্তে বৃষ্টির জলে ড্রেন টইটম্বুর। এই আশ্বিনেও বৃষ্টি ঝাঁক বেঁধে আসছে । তিতলি ঝড়ের নামে একটা নিম্নচাপ সৃষ্টি,আর তার থেকে ফের মেঘলা দিন,ঝড়ো বাতাস। নীট ফল বৃষ্টি। পৃথিবী থই থই। মলিন চুপচাপ দেখছিল বাচ্চাগুলোকে। চুনো মাছ পেয়েছে ড্রেন থেকে। হয়তো রোজ মাছ খেতে পায়না ওরা ! মলিন স্টিয়ারিঙ্গের ওপরে মুখ চেপে ধরে দেখছিল বৃষ্টির অঝোর ধারায় কত আনন্দ ঝরে পড়ছে বাচ্চাদের হাসির শব্দের মত। বৃষ্টি নিশ্চয় চুনো মাছ ভালবাসে ! মলিন ছেলেবেলায় এরকম স্বাধীনতা পেয়েছে। ও কতবার ড্রেনে নেমে চুনো ধরেছে। মাছ ধরতে গিয়ে একবার ড্রেনেই একটা বাচ্চার লাশ পেয়েছিল ও ! কে যেন বলেছিল ওটা সদ্যজাত বাচ্চার লাশ ! উফ ! পচে গিয়ে কী দুর্গন্ধ ! মানুষ মরে গিয়ে পচে দুর্গন্ধ হয় ঠিক কুকুর বেড়াল মরে ,পচে যে দুর্গন্ধ হয়,তেমনই। একই রকম ! এটা সেই ছেলেবেলাতেই বুঝে গিয়েছিল মলিন। ধুস,ছেলেবেলায় অমন অভিজ্ঞতা ভাল নয়। কেমন ভয় পেয়েছিল বাচ্চার লাশটা তোলার পরে ! জ্বর এসে গিয়েছিল সেদিন। শিবমন্দিরের পেছনের দিকে একটা কেশো বুড়ি ওকে ঝেড়ে দিয়েছিল। একটু গুড় নিয়ে গিয়েছিল মলিনের মা। ঝাড়ফুঁকে নাকি গুড় লাগে। এখোগুঁড়। বলেছিল বুড়িটা – নজর লেগেচে। খারাপ আত্মার নজর । মলিনের মা বাচ্চার লাশ তোলার ঘটনাটা ফিসফিসিয়ে বলাতে বুড়ি একটা চোখ ছোট করে বলেছিল-বাচ্চাটা নজর দিয়েচে ! ওকে কদিন আঁশ খাওয়াস না। 

আজ বৃষ্টির মধ্যে জনার্দন স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে করতে হুড়মুড় করে পেছনের কথা সামনে চলে এল। এসব মনেই ছিল না। ওই বাচ্চারা ড্রেনে নামতেই গাড়ির ভেতরে বসে সব চলে এল সামনে । এতদিন পরে মানুষ পচা গন্ধটা ফের আরেকবার টের পেল মলিন। 

তিনটে মহিলা ছুটে আসছিল হাতে প্ল্যাস্টিকের সস্তা ঝুরি নিয়ে। মলিন ঘাড় উঁচু করে। এরা বাচ্চাদের মায়েরা। বাচ্চারা মাছ পেয়েছে শুনে ঝুড়ি নিয়ে ছুটে এসেছে। হাই মাই শব্দের সঙ্গে চলছে যার যার বাচ্চার থেকে মাছ সংগ্রহ। আজ ওদের বস্তির ঘরে গরগরে করে চুনোর ঝাল হবে ঠিক। মোটা চালের ভাতে ঝাল চুনো নিয়ে গরাস গরাস...! কিন্তু কাল রোদ উঠে গেলে ফের বাচ্চারা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষে করবে –দুদিন খাইনি বলে। জানে মলিন। দেখেছে তো ! ওই বাচ্চাদের কাজ দিলে ভাল কাজ পাওয়া যায়। একটু পুড়কি দিতে হবে শুধু। ভাল খাওয়া,ভাল থাকার লোভ দেখালে ভগবানের বাপ রাস্তায় নেমে আসে ,তো এরা ! 

হালকা চালে শিস দিল মলিন। মন ভাল থাকলে ও শিস দেয়। গাড়ি থেকে নেমে দাঁড়াল। এখন বৃষ্টিটা ধরেছে। আকাশে মেঘের দাপট খুব একটা হামলে পড়া টাইপের নয়। কাল রোদ উঠে যাবে হয়তো। আর তাহলেই বাচ্চাগুলোর জীবনে মেঘ নেমে আসবে। এই বৃষ্টির দিনে ওদের জীবন একটু রোদের ছোঁয়া পায়। কিন্তু মলিন ওদের রোজ চুনোর ঝাল খেতে দেওয়ার সিওরিটি দেবে। কাল রোদ উঠুক। 

গাড়িটা ধীর লয়ে রাস্তায় নামে। জনার্দন স্যার খুশি হবেন মলিনের কর্মকৃতিত্বে। অনেক পয়সা বাঁচিয়ে দিচ্ছে মলিন। খুশু না হওয়ার কারণ তো নেই ! এর সঙ্গে অনেক বেশি কাজ পাবেন স্যার ! তো ? 

[২] 

রুহি আলমারি খুলে মলিনের দেওয়া টাকা গুছিয়ে রাখল। আজ খুব হাওয়া দিচ্ছে। সারাদিন বৃষ্টির পরে রাতে ঝোড়ো হাওয়া দেখে চিন্তিত মুখে বারান্দায় দাঁড়ায় মলিন- কী হবে মনে হয় ? কাল পরশু...রোদ উঠবে ? 

রুহি আলমারির চাবি আলনায় ঝুলিয়ে রাখা পুরনো প্যান্টের পকেটের ভেতরে লুকিয়ে রাখতে রাখতে মলিনের গলা শুনতে পায়। অন্ধকার বারান্দায় মলিনকে দেখা যাচ্ছে না। রুহি ওয়েদার-বার্তা দিতে পারল না। কিন্তু মলিনের রোদের চাহিদার কারণও বুঝতে পারল না। ও অনেক কিছুই বুঝতে পারেনা। বুঝতে চায়না। বাজি কারখানার মালিকের হাতের লোক মলিন। সবই চলে আইনকে কাঁচকলা দেখিয়ে। রুহি কেবল রাতে মলিনের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করে। মলিন এসে পকেট থেকে গুচ্ছের টাকা বের করে রুহিকে রাখতে দেয়। মাসের শেষে ব্যাঙ্কে যায় সেই টাকা। একটা ফ্ল্যাট কিনবে বলে টাকা জমাচ্ছে মলিন। এই পর্যন্তই রুহির জানা। বাকিটা জানবে কেন বোঝে না ও। 

খেতে বসার আগে মলিন বাথরুমে গিয়েছিল। ফিরে আসার সময় মাঠের প্যান্ডেলের আলো দেখে বারান্দায় দাঁড়াল। এক সপ্তাহ পরে আজকের দিনে সপ্তমী। বাজি কারখানায় প্রচুর কাজ। অথচ প্যান্ডেলের জন্য ওভার টাইম খাটতে বাজি কারখানার কাজ ছেড়ে স্টাফেরা চলে যাচ্ছে নর্থ কলকাতায়। মেট্রোতে ভিড় কি এমনিই হয় ? মলিন বিরক্ত । এই লোকগুলো চলে গেল বলে কারখানায় লোকের আকাল এখন ! জনার্দন স্যার বলেই খালাস। কিন্তু মলিন লোক পাবে কোথায় এই পুজোর বাজারে ? বারান্দায় প্যান্ডেলের আলো এসে পড়েছে। তেড়ছা আলোর চৌখুপির মধ্যে মলিন একটা বেড়ালের ডাক শুনতে পাচ্ছিল । পাশের বাড়ির গোবিন্দর বেড়াল নিশ্চয় ! মাছ চোর একটা ! সেদিনও রুহির সামনে থেকে মাছ নিয়ে পালিয়েছে ! 

খেতে বসে আড় ট্যাংরার পাতলা ঝোল দেখে ক্ষেপে গেল মলিন। রুহি অবাক হয়ে মলিনের মুখের দিকে তাকিয়েছিল। মাছ মলিনের কেনা। বাজার মলিনই করে থাকে। পাতলা করে ঝোলও মলিনের অর্ডারে করা। তো ? 

মলিন বিরক্তি মিশিয়ে ভাত নেড়েচেড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে উঠে পড়ল। নদীর মাছ ভালবাসে মলিন। কিন্তু আজ হঠাৎ কী হল বুঝতে পারল না রুহি। নিজের খাবার খেয়ে ভেবে নিল ডিমের পোচ করে দেবে মলিনকে। কিছুই খেলনা। রাতে খিদে পাবে। 

মলিন খুশি হওয়ার বদলে উলটে দাঁত খিচিয়ে উঠল-বিরক্ত কর না। দেখছ,ফোনে কথা বলছি ! 

রুহি অন্ধকার ঘরে শুয়ে বিমর্ষ হয়ে থাকে। মলিনের ব্যবহার হঠাৎ করেই পালটে গেছে যেন ! আসলে মাথায় চাপ থাকলে মলিন পালটে যায় প্রানেশদার মত। রুহিদের বাগবাজারের বাড়ির পাশেই ছিল প্রাণেশদার ভাড়া বাসা । সারা সপ্তাহ বৌদি আর ছেলে মেয়েকে মারধোর করা ছিল প্রাণেশদার সাংবিধানিক রাইট। মেরে ধরে ঘর থেকে বাইরে বের করে দিয়ে চৌধুরী মেডিসিনের কর্মচারী প্রাণেশ সরকার কাজে বেরিয়ে যেত। যাওয়ার আগে মনে করে ঘরে তালা মেরে দিত। সারাটাদিন বৌ আর তিন ছেলে মেয়ে বাড়িওলার বারান্দায় বসে থাকতো। প্রাণেশ রাতে এসে তালা খুলে দিলে ওরা ঘরে ঢুকতো। তখন খিদেয় কাতর বাচ্চারা কান্নাকাটি করছে। রুহিরা দেখেছে, সকালের ভেপে ওঠা ভাতে জল ঢেলে বাচ্চাদের খেতে দিয়েছে বউদি। কিন্তু রোববারের ছবিটা অন্যরকম। সেদিন সাত সকালে প্রাণেশদা খাসির মাংস নিয়ে এসেছে। সঙ্গে অনেকটা চর্বি। রুহিরা ছড়া কাটতো- মুসুরির ডাল/চর্বির বড়া/খাবে কারা/ প্রাণেশদারা! সেদিন প্রাণেশদার বাসায় সাজো সাজো রব। মাংসে মশলা মাখতে মাখতে বউদির আদুরে গলা- মাংস এনেছ, লেবু আননি ? প্রাণেশদা ঘর ঝাঁট দিতে দিতে জবাব দেয়-জন্তি, লেবু আছে, ব্যাগে দেখ। জয়ন্তি ব্যাগ খুলে লেবু বের করে জোরে শ্বাস নেয়-গন্ধরাজ? 

প্রাণেশদা সেদিন বাচ্চাদের টেনে নিয়ে কলতলায় যায়। সাবান মাখিয়ে স্নান করিয়ে দেয়। 

পরেরদিন ভোর হয় বাচ্চাদের চিলচিৎকারে। বেদম মার খাচ্ছে ওরা প্রাণেশদার হাতে। ফের সেই একই দৃশ্য। আসলে চাকরির জায়গায় সম্মান ছিলনা। কাজের চাপ ছিল প্রবল। সেই জন্যই হয়তো...!একটা ছুটির দিন প্রাণেশদা নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করতো ! কিন্তু মলিন কাজের চাপ বেশ সামলে নিয়েছে এতদিন। এখন দুদিন ধরেই খানিকটা অসহিষ্ণু দেখাচ্ছে যেন ! একবার উঠে উঁকি দিয়ে মলিনকে দেখল রুহি। অন্ধকার বারান্দায় পায়চারি করছে মলিন। ছায়াটা ঘুরে বেড়াচ্ছে ! স্পষ্ট করে মুখ ,হাত,পা দেখা যাচ্ছেনা ! গা ছমছম করে উঠল রুহির। ঠিক চেনা মানুষ নয় যেন। প্রেত প্রেত ভাব মলিনের মধ্যে ! বাবারে ! রুহির বড্ড ভূতের ভয়। ও তাড়াতাড়ি করে বারান্দার আলো জ্বেলে দেয়। মলিন বিরক্তি নিয়ে ঘুরে তাকাল-দশমিনিট শান্তি দেবে না ? 

ভোর না হতেই উঠে পড়েছে মলিন। আজ রোদ উঠেছে। তিতলি না ফিতলি চলে গেছে উড়ে। বাঁচিয়েছে মলিনকে। মলিন ঝটপট জিনসের প্যান্টে পা গলিয়ে নিল। সাদা কালোর স্ট্রাইপের ভি গলা টি পরে নিল। চুলে চিরুনি দিতে দিতে টিং টিং। দুবার মেসেজ এল মানে জনা ব্যাটা। লোকটা কি ঘুমোয় না ? বসে আছে কখন ভোর হবে আর কখন মলিনকে ফোন করে অর্ডার দেবে। চাকরির জায়গায় এত চাপ সহ্য হয়না মাকালী ! কিন্তু রাগ দেখাতে সেই রুহি ছাড়া কেউ নেই। ফোনে 

বিনয়ের অবতার মলিন –হ্যাঁ স্যার,যাচ্ছি স্যার,নিশ্চয় স্যার,হয়ে যাবে,আমি আছি স্যার- ইত্যাকার বাক্যের মালা সাজিয়ে সুইচ অফ করে আয়নায় নিজেকে দেখল। জনার্দনের আবদার দেখ। আজকের মধ্যে কম করে দশজন লোক চাই। কালীপুজোর আগে বাজি পটকার আড়ত বানিয়ে না ফেললে ঝামেলি ! প্রচুর লোকসান খেতে হবে ! 

গাড়িটা স্যারের। মলিন স্যারের ড্রাইভার। গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল মলিন। গতকালের ছবিটা মনের ভেতরে পাক খাচ্ছে। চুনো ধরছিল ওরা। অনেকগুলো বাচ্চা ছিল। এরাও চুনো। এই চুনোদের একটু শিখিয়ে দিলেই দারুণ কাজ করে। কারখানায় আছে এমন শিশুশ্রমিক। বাইরে থেকে কিছুটি বুঝতে না দিলেই হল ! যারা আইন বানায়,তারা কি খেতে দেয় ওদের ? এসব বলে নিজের মনকে বেশ আরাম দেওয়া যায়। 

মলিন বস্তির ভেতরে ঢুকলনা। বাইরে থেকে বাপ মা গুলোর সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছে। কাজ আছে। বাচ্চারা কি করবে ? পার ডে টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে। বাজি কারখানায় কাজ। চকোলেট,কালী পটকা,দোদমা বানাতে হবে। সোজা কাজ। করছে তো বাচ্চারা। আর এরা এমন কিছু ছোট নয় যে পারবে না। ছোট্ট ছেলেরাও বাজি বানাতে ওস্তাদ। বাড়িতে টাকা আসছে ! 

-কারখানার লাইসেন্স আছে ? কেউ একজন মাতব্বরি করে। 

-ছাড়ো তো লাইসেন্স ! এক নেশাখোর বাপ হাত তুলে বাতাস সরালো- কোন শালার লাইসেন্স আছে ? কাজ হচ্ছে না ? 

মলিন বুঝে ফেলল কাজ হচ্ছে ! পকেট থেকে টাকা বের করল মলিন-কারা আসছে ? নাম লিখতে হবে। অ্যডভান্স দিতে হবে। 

কাজ হল খুব দ্রুত। মোট বারজন ছেলেকে পাওয়া গেল। তবে মলিন এদের বিশ্বাস করেনা। টাকা আজই ফুঁকে দেবে। তাওয়া গরম থাকতে থাকতে রুটি সেঁকে নিতে হয়। মলিন ঠিকানা দিয়ে দিল। বেশি দূরে নয়।জনার্দনের কারখানায় কাজ করেছে এমন কয়েকজনকে পাওয়া গেল ওখানেই। বাবার থেকে ছেলে,ছেলের থেকে তার ছেলে করে কাজ শিখেছে এরা। বয়স হয়েছে বলে কাজ নেই। হাত কাঁপে,চোখের নজর নেই,এমন অবস্থায় কাজ থাকেনা বলে এরা এখন বেকার। 

জুটে গেল বেশ কিছু কর্মচারী। জনার্দন স্যার খবর পেয়ে খুশি। আজই মোটা পল্টুকে দিয়ে চুনোদের কাজে নামিয়ে দিতে হবে। 

ভোরেই ফোন। জনার্দন স্যার আরেকটা কারখানা খুলতে চলেছেন। আগের কারখানায় আগুন লেগেছিল বলে সেটা বন্ধ করে দিয়েছিল পুলিশ। এবারে সেই কারখানার অপোজিটের জমিতে ফের নতুন কারখানা হচ্ছে এক বৃদ্ধার বাড়ির ভেতরটা ভাড়া নিয়ে। স্টাফ অনেক আছে।এদের পারিশ্রমিকও কম। লাভে লাভ। 

মলিন বিছানায় শুয়েই শিস দিল- টুইইই ! রুহি চা বানাতে বানাতে শিস শুনতে পেল। শিস মানেই মলিনের মন ভাল আছে। চা নিয়ে আসতে আসতে শুনতে পেল মলিন ডাকছে- রুহি,বাজারে যাব। আজ ছোট মাছ খাব। চুনো। চুনোর ঝাল। গরম ভাতে গরগরে ঝাল ঝাল চুনো...যেন আগুন লেগে যায় , এমন রাঁধবে ! কালী পটকার মত। 

রুহি ভাবল,লোকটা বাজি কারখানা নিয়ে ভেবে ভেবে আগুন ছাড়া কিচ্ছু ভাবতেই পারেনা। তবে, টাকা কামাই করতে জানে ! খুব বুদ্ধি ওর। এবারে রুহিকে রূপোর সেট দেবে কাকলি জুয়েলার্স থেকে। লকেটে সূক্ষ্ম কাজ করা কুলো। তবে রুহি ভেবেছে লকেটে গণেশ থাকলেই ভাল। আজকাল কতরকম দেখা যায়। সেদিন দেখেছে পতলের বৌদির গলায় একটা রূপোর মাছ ! সেটাও খারাপ নয়। তবে গলায় মাছ ঝুলিয়ে কি পুজোর কাজ করা যাবে ? আঁশটে গন্ধ ছাড়বে না ? তাছাড়া,আরেকটা ব্যাপারও আছে। মাছ ঝুলিয়ে রাখলে মেছোভূত ধরে বলে শুনেছে ও। এসব মানে না।কিন্তু ভয় তো হয়! 

মলিন শুয়ে শুয়ে পা নাচাচ্ছিল। ড্রেন থেকে গন্ধ আসছে। পচা গন্ধ। অনেকদিন পরে ছেলেবেলার বাচ্চার লাশটার গন্ধ পেল ও। ইহ, জানালাটা খুলে রাখে কেন রুহি ? এদিকেই তো বিশ্রি ড্রেনটা !ড্রেনেই থাকে চুনোমাছ ! ইঃ! ওগুলোর গা দিয়ে ড্রেনের গন্ধ বের হবে নাকি ? মলিন পাশ ফিরে শুতে গিয়ে থমকে গেল। রুহি চুনো মাছ ভাজছে। এক প্লেট নিয়ে এলে হুইস্কির বোতলটা বের করতে পারে মলিন। রুহিও খাক একটু। মজ্জা হি মজ্জা। কচকচে ভাজা মাছে অল্প কামড় বসাতেই অদ্ভুত গন্ধটা পেল মলিন।ও থমকে যেতে রুহি ভ্রু তুলল-কী ? 

-খেয়ে দেখ তো ! কেমন বাজির মশলার গন্ধ...! 

-হুম,হতে পারে।বাজি কারখানার সব আবর্জনা পেছনের ড্রেনে গিয়েই জমা হয় ! মাছ কি ওই ড্রেন থেকেই ধরেছে কিনা দেখ ! যা দিনকাল ! সব ঠগ ! রুহি বিরক্তিতে ঠোঁট কুঁচকে কথা বলছিল-এখন সিগারেট-বিড়ি খেওনা।পেটে বাজি ফাটবে। বলেই হাসতে থাকে রুহি। 

গোবিন্দর লোভী বেড়ালটা ডাকছিল। ম্যাঁও, ম্যাঁও ! মলিন হেসে ফেলে।শালা হুলো, আঁশটে গন্ধ পেয়েছে ! মলিনের মত।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন