শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

সাঈফ ইবনে রফিক'এর গল্প : পৌত্তলিকতা

শেলাইমেশিন চালানোর ফাঁকে ফাঁকে দুর্গা শাড়ি বিতানের পুতুলটার দিকে তাকায় নূরু খলিফা। নিজের জৈব মেশিনটা সয়ংক্রিয়ভাবেই নড়াচড়া শুরু করে। রাস্তার এপাড়ে নূরু খলিফার রহমানিয়া টেইলার্স, ওপারে ঘোষবাড়ির দুর্গা শাড়ি বিতান। অসাম্প্রদায়িক বাজারের আদর্শ উদাহরণ। শান্তিপূর্ণ অবস্থানের কারণে এই এলাকার রাম-রহিম-জনরা পরষ্পরের বিশ্বস্ত বন্ধু। পুজার ঢাকের সময় মাইকের ভলিউম কমিয়ে আজান দেয়া হয়, আবার আজানের সময় বন্ধ থাকে পুজোর ঢাক।

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল। তবে দুর্গা শাড়ি বিতানের নতুন পুতুলটাই যেন সব উল্টেপাল্টে দিল। চল্লিশোর্ধ নূরু খলিফার দোকানের উল্টোপাশে তার দিকেই মুখ করে দাঁড়িয়ে থাকে পুতুলটা। অসম্ভব মায়াবী চোখ, ফর্সা হাত-পা, দেবীর মতো মুখ, চিকনি-চামেলি ফিগার, গায়ে জড়ানো লেটেস্ট ফ্যাশনের শাড়ি। কয়দিন পরপর শাড়ি পাল্টায় ঠিকই, তবে সৌন্দর্য বদলায় না। পুতুলকে ঘিরেই শুরু হয় নূরুর ফ্যান্টাসি। রগরগে এক নিজস্ব জগত। 

হঠাৎ একদিন ওপারের দুর্গা শাড়ি বিতান বন্ধ। শার্টার উঠছে না। পুতুলটা দেখতে না পেরে নিজের ভেতরে হাহাকার করছে নূরুর। চোখ-কান খুলতেই নূরু মিয়া জানতে পারলো, গোটা ঘোষবাড়ি উধাও হয়ে গেছে, রাতের আঁধারেই ইন্ডিয়া চলে গেছে ৪১ জনের ওই বিশাল যৌথপরিবার। এলাকার মাতবর তালুকদার সাহেব দাবি করছে, দোকান বাড়িঘর সে কিনে নিয়েছে। মাতবরের দাবি অস্বীকার করছে ঘোষবাড়ির প্রভাবশালী প্রতিবেশী খানবাড়ির লোকজন। তাদের কাছেই নাকি সব বিক্রি করেছে ঘোষরা। এ নিয়ে উত্তেজনা। দুর্গা শাড়ি বিতানের সামনে দুপক্ষের মহড়া। কে দখল নেবে, এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক ভেস্তে যাচ্ছে, শালিস ভেঙে যাচ্ছে। 

দুপুরের দিকে হঠাৎ দুর্গা শাড়ি বিতানের তালা ভেঙে ঢুকে পড়লো তালুকদার বাড়ির লোকজন। হামলা চালালো খানরা। দুপক্ষের গোলাগুলির মধ্যেই পুতুলটার দিকে বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে নূরু খলিফা। দুনিয়া উল্টে যাক, তার ভেতরে কামজাত প্রেমের জোয়ার। হট্টগোলের মধ্যে দৌড়ে পুতুলটাকে তুলে নিজের দোকানে নিয়ে আসল নূরু। ভেতর থেকেই ঝাঁপ বন্ধ করলো। জায়গামতো ছিদ্র করে ঢুকিয়ে দিলো নিজস্ব জৈব মেশিন। উত্তেজনায় তরল কিছু পতনের পর যখন শরীর অবশ হয়ে এলো নূরু মিয়ার, তখনই একধরনের অপরাধবোধ জন্ম নিলো। কৈশোরে হস্তমৈথুনের পর যে ধরনের অপরাধবোধ তাকে গ্রাস করতো, সেই ধরনের ফিলিংস। তবে এবার আরও গর্হিত পাপ, নূরু মিয়া পুতুলটিকে প্রাণময় নারী কল্পনা করেছিল। এতো পৌত্তলিকতা! মনে মনে আৎকে উঠলো নূরু মিয়া। বাইরে দুর্গা শাড়ি বিতানের দখল নিয়ে যুদ্ধ চলছে, ভেতর থেকে শাটার বন্ধ রহমানিয়া টেইলার্সের মধ্যে বইছে অনুশোচনার ঝড়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন