শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

এম. ওয়াই. সল্টিকভের গল্প : এক কলুর বলদ ও দুই নির্বোধ আমলা

অনুবাদ: নাহার তৃণা 

কোন এক কালে এক দেশে দুজন নির্বোধ সরকারি আমলা বাস করতো। একদিন ঘুম ভেঙে আচানক তারা নিজেদের জনমানবহীন নির্জন এক দ্বীপে দেখতে পেলো। যেন কেউ যাদুর গালিচায় সেখানে উড়িয়ে নিয়ে ফেলেছে তাদের। 

দুজনে সারাজীবন সরকারি চাকরিতে নথিপত্র সামলানোর কাজ করেছে। তাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা, আহার বিহার প্রায় সবকিছুই সেখানে। ওই জগতের বাইরে দুনিয়ার আর কোন খোঁজখবর রাখতো না তারা, আর কিছুর সাথেই সম্পর্ক ছিল না তাদের। তারা শুধু একটা কথাই জানতো তা হলো – ‘আপনার সর্বোচ্চ সেবাই আমার জীবনের সার্থকতা।’

কিন্তু একদিন তাদের দপ্তরটা বন্ধ হয়ে গেলে দুজনকে চাকরি থেক অব্যাহতি দেয়া হয়। অগত্যা মুক্ত জীবন কাটাতে দুজনে সেন্ট পিটার্সবার্গের পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটে চলে গেলো, যেখানে তাদের নিজ নিজ বাড়ি, বাবুর্চি এবং পেনশনের ব্যবস্থা আছে। 

নির্জন দ্বীপে জেগে ওঠার পর তারা নিজেদের একই চাদরের নীচে আবিষ্কার করলো। প্রথমে তারা বুঝতেই পারলো না ঘটনা কী হয়েছে। শুরুতে দুজনে এমনভাবে আলাপ করছিল যেন কিছুই ঘটেনি। 

প্রথমজন বলছিল, “গত রাতে কী এক আজব স্বপ্ন দেখলাম জনাব। মনে হচ্ছিল যেন আমি কোন এক জনমানবহীন দ্বীপে বসে আছি”। 
কথাটা বলার সাথে সাথে সে লাফ দিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। 
সাথে সাথে অন্য আমলাও লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। 

আরে এ কী কাণ্ড! এসবের মানে কী? আমরা কোথায় এসেছি?”, চিৎকার করে উঠলো অন্যজন। 
এরপর তারা দুজন দুজনকে ভালোভাবে দেখে শুনে স্পর্শ করে নিশ্চিত হয়ে নিলো, এটা স্বপ্ন নয়। 

বাস্তবতা সম্পর্কে নিশ্চিত হবার পর তারা দুজনেই ভীষণভাবে মুষড়ে পড়লো। 

তাদের সামনে দীর্ঘ বিস্তৃত মহাসাগর, পেছনে এক টুকরো দ্বীপ, তার ওপাশে আবার সীমাহীন সমুদ্রের জলরাশি। দেখেশুনে দুজনে হতাশ হয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো। চাকরি হারাবার পর এই প্রথম তারা আকুল হয়ে কাঁদলো। 

এরপর তারা পরস্পরের দিকে তাকালো এবং খেয়াল করলো যে তারা দুজনই রাত্রি পোষাকে, আর তাদের গলায় যার যার পদবী ব্যাজ অদ্ভুতভাবে ঝুলে আছে। 

“আমাদের সত্যিই এখন কফি খাওয়া দরকার”, বেখেয়ালে বলে ফেললো একজন। বলার পরপরই নিজেদের এই অদ্ভুত পরিস্থিতির কথা মনে পড়ায় ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো সে। ধরা গলায় বলতে লাগলো – “এখন আমরা কী করবো, কোথায় যাবো? যদি এই মুসিবত নিয়ে কোন রিপোর্ট করি তাতেই বা কী লাভ হবে?” 

অন্যজন বললো, “কাঁদবেন না জনাব। একটা কাজ করা যাক, আপনি পূর্বদিকে চলে যান, আমি পশ্চিমে। সন্ধ্যার মধ্যে আমরা এখানে ফিরে আসবো। মনে হয় এর মধ্যে কিছু একটা পেয়ে যাবো।” 

তারা কোনটা পূর্ব এবং কোনটা পশ্চিম দিক সেটা বোঝার চেষ্টা করলো। তখনি তাদের দপ্তর প্রধানের একটা পরমর্শের কথা মনে পড়ে গেল। তিনি একবার তাদের বলেছিলেন - “যদি তুমি জানতে চাও কোনটা পূর্ব দিক, তাহলে তোমার মুখটা উত্তরদিকে ফেরাবে এবং তখন তোমার ডানদিকটা হবে পূর্ব”। 

কিন্তু যখন তারা উত্তর দিকে ফিরতে চাইল, সেটা কোনদিক তা ঠিক ঠাহর হলো না তাদের। ডানে-বামে, সামনে পেছনে তাকিয়ে কোনদিক যে উত্তর সেটা বের করার কোন পথ পেলো না। তাদের সারাজীবনের চাকরির অভিজ্ঞতা খাটিয়েও উত্তরদিক নির্ণয় করতে ব্যর্থ হলো দুজনে। 

তখন অপেক্ষাকৃত বুদ্ধিমান জন বললো, “ জনাব, এমন করলে সবচেয়ে ভালো হয় আপনি ডানদিকে যান, আমি যাই বামদিকে”। যে বলেছে সে শুধু দপ্তরের নথিপত্র সংরক্ষণের কাজই করেনি, সেই বিভাগে হাতের লেখা বিষয়ে শিক্ষকতাও করেছিল। তাই তার বুদ্ধির ধার একটু বেশী। 

যেমন কথা তেমন কাজ। ডানদিক বরাবর একজন আমলা রওনা দিলো। কিছুদূর গিয়ে সে একটা বনের সন্ধান পেলো। সেই বনে অনেক ফলজ বৃক্ষ। নানান জাতের ফল ফলাদি ডালে ডালে ঝুলে আছে থরে থরে। তার ইচ্ছে হলো একটা আপেল পেড়ে খাবে। কিন্তু গাছের ডালটা এত উপরে যে হাতের নাগাল পাওয়া গেলো না। তাকে গাছ বেয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হলো। গাছে ওঠার চেষ্টা করতে গিয়ে কাজের কাজ তো কিছু হলোই না, মাঝখানে তার শার্টটাই ছিঁড়ে গেলো। 

আপেল খেতে ব্যর্থ হয়ে কিছুদূর যাবার পর সে একটা ছোটো জলধারার মধ্যে হুমড়ি খেয়ে পড়লো। পড়েই দেখলো সেখানে কিলবিল করছে অসংখ্য মাছ। 

সে ভাবলো এই মাছগুলো যদি পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটে পাওয়া যেত তাহলে কী দারুণ ব্যাপারই না হতো। তারপর সে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে পড়লো এবং দেখলো নানান জাতের বনমোরগ, তিতির, খরগোশ চরে বেড়াচ্ছে। 

কী ভাগ্য! চারদিকে কত খাবার জিনিস! আবিষ্কারের আনন্দে সে চিৎকার করে উঠলো, তাতে তার খিদেও যেন অনেক বেশী বেড়ে গেল। 

কিন্তু এত খাবারের একটাও সরাসরি ভক্ষণযোগ্য নয়। চাইলে গপাগপ মুখেও দেয়া যাবে না। তাই সারাদিন ঘুরে ফিরে তাকে খালি হাতেই নির্ধারিত জায়গায় ফিরতে হলো। 

সে দেখলো অন্যজনও শূন্য হাতে তার জন্য অপেক্ষা করছে। তাকে দেখেই উৎফুল্ল হয়ে জিজ্ঞেস করলো, “কেমন দেখলেন জনাব? কিছু কী পেলেন?” 

“নাহ খাওয়ার মতো কিস্যু পেলাম না। মস্কো গেজেটের পুরোনো একটা সংখ্যা বাদে আর কিছুই কপালে জুটেনি।” 

নিরুপায় দুজনে বিষন্ন মনে ঘুমিয়ে নেবার জন্য শুয়ে পড়লো। কিন্তু তাদের ক্ষুধার্ত পেট কিছুতে স্বস্তি দিচ্ছিল না। তাছাড়া তাদের ঘুম পালালো আরো যেসব দুশ্চিন্তায় তার একটা হলো, ‘আমাদের পেনশনগুলো কার ভোগে যাচ্ছে এখন?,” মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো, চোখ বন্ধ করতে চাইলেও সারাদিন ঘুরে যেসব ফলমূল মাছ- মুরগী-খরগোশ দেখেছে, সেগুলো ক্ষুধার্ত চোখের সামনে নেচে বেড়াতে লাগলো। 

বিরস গলায় একজন বললো, “মানবজাতির খাদ্যের মূল উৎসগুলোর কিছু যে আকাশে উড়ে বেড়ায়, কিছু পানিতে সাঁতার কাটে, কিছু আবার গাছে ধরে, এটা কী আপনি আগে জানতেন, জনাব?” 

“সত্যি বলতে কী- আমি নিজেও ভাবতাম যে আমাদের ব্রেকফাস্ট রোলগুলো টেবিলে যেভাবে সাজানো থাকে, সেভাবেই বুঝি তৈরি অবস্হায় দুনিয়াতে নেমে আসে।” অকপট স্বীকারোক্তি দিলো অন্য আমলাটি। 

“এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি আমরা যদি একটা তিতির পাখির মাংস খেতে চাই, তাহলে ওটাকে ধরতে হবে, জবাই করতে হবে, পালক ছাড়াতে হবে, তারপর রান্না করতে হবে। কিন্তু আমাদের পক্ষে সেটা কীভাবে সম্ভব?” 

“তাই তো, কীভাবে অত জটিল কাজ করবো আমরা?” সায় দিলো অন্যজন। 

এরপর দুজনে চুপ হয়ে গেলো এবং ঘুমোতে চেষ্টা করলো। কিন্তু খিদের ঠ্যালায় দুজনের ঘুম বহুক্ষণ আগেই পালিয়েছে। তাদের ক্লান্ত-বিষন্ন চিত্তের সামনে ঝাঁকে ঝাঁকে তিতির, হাঁস আর শুকরের পাল ভাসতে থাকলো। সেগুলো দারুণ রসালো মজাদার করে রান্না করা এবং তাতে জলপাইয়ের আচার ইত্যাদি যুক্ত হয়ে আরো লোভনীয় হয়ে উঠছিল। 

“আমার মনে হয় আমি এখন আমার বুট জোড়াও চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে পারি”। নীরবতা ভেঙে বলে উঠলো এক আমলা। 

“হাতের গ্লাভস দুটো খেতে আরো ভালো লাগতো, বিশেষ করে যদি সেগুলো নরোম চামড়া দিয়ে তৈরী হয়” অন্য আমলা বললো। 

এরপর দুই আমলা পরস্পরের দিকে চোখ ফেরালো। দুজন দুজনের দিকে অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে থাকলো। তাদের চাহনিতে কেমন একটা ক্রুর শয়তানী ছায়া, তাদের দাঁত কিড়মিড় করছিল, বুকের ভেতর থেকে একটা ভোতা গর্জন বের হয়ে আসছিল। দুজনে হামাগুড়ি দিয়ে পরস্পরের দিকে এগিয়ে গেলো এবং হঠাৎ করে ভয়ানক হিংস্রতার সাথে চিৎকার করে উঠে দুজন দুজনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। তাদের হিংস্র চিৎকার-হুংকারে চারপাশ কেঁপে উঠলো। দুজনে হাতাহাতি করতে করতে জামাকাপড় ছিঁড়েখুঁড়ে ফেললো। হাতের লেখা বিভাগের ভূতপূর্ব শিক্ষকটি তার সহকর্মীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গলায় একটা মোক্ষম কামড় বসাতে গিয়ে তার গলায় ঝোলানো পদবী ব্যাজটা কোৎ করে গিলে ফেললো। ঘটনা আরো খারাপ দিকে মোড় নিতে যাচ্ছিল কিন্তু রক্তপাতের দৃশ্যে দুজনের মধ্যে চেতনা ফিরে এলো। 

দুজন একসঙ্গে চেঁচিয়ে উঠে বললো, “মরার কপাল!! এসব কী ঘটছে? আমরা কী পাগল হয়ে গেছি? আমরা তো আসলে দুজন দুজনকে খেয়ে ফেলতে চাইনি। কী অভিশাপে আমরা এমন অলুক্ষণে একটা জায়গায় এসে পড়লাম। কোন শয়তান আমাদের নিয়ে খেলছে?” 

“এই অসহ্য পরিস্হিতি ভুলে থাকার জন্য মজাদার গালগপ্পো শুরু করা উচিত আমাদের। নইলে এখানে কেবল রক্তারক্তি আর খুনোখুনির কাণ্ড ঘটতে থাকবে”, দুজনের একজন বললো। 

“আপনি শুরু করুন” বললো অন্যজন। 

“আপনি কী জানেন কেন সূর্য আগে উদিত হয় এবং পরে অস্ত যায়? কেন এটা উল্টো হলো না? 

“কী যে অদ্ভুত কথা বলেন আপনি জনাব, আপনি আগে ঘুম থেকে ‌ওঠেন, তারপর অফিসে যান এবং কাজ করেন। তারপর রাতে এসে ঘুমিয়ে পড়েন।” 

“কিন্তু এর উল্টোটা কেন ঘটে না। যেমন একজন প্রথমে ঘুমোতে যাবে, তারপর নানারকম স্বপ্ন দেখবে, এরপর জেগে উঠবে।” 

“হ্যাঁ সেরকমও ঘটতে পারতো। কিন্তু আমি যখন চাকরিতে ছিলাম তখন সবসময় এরকমটাই ভাবতাম। জেগে উঠে প্রথমে ভাবতাম এখন ভোর হলো, এরপর দিন শুরু হবে, তারপর খাবারের সময় হবে এবং অবশেষে ঘুমের সময় আসবে।” 

‘খাবার’ শব্দটি উচ্চারিত হবার সাথে সাথে সারাদিনের ঘটনা তাদের মনে পড়ে গেলো এবং দুজনই খাদ্যবিষয়ক ভাবনায় উদাস হলো। সুতরাং আলাপ আর এগোলো না, ওখানেই থেমে গেলো। 

কিছুক্ষণ পর একজন আমলা বললো, “এক ডাক্তার একবার আমাকে বলেছিল যে মানুষ নিজের শরীরের রস দিয়েই দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে” 

“এর মানে কী?” 

“মানে খুব সোজা। দেখেন, একজন মানুষের শরীরের রস থেকে অন্য রস তৈরী হয়, সেই রস গিলে হজম হলে আবারো নতুন রস তৈরী হয়, এভাবে চলতে চলতে এক সময় সব রসই হজম করে ফেলা যায়” 
“তারপর কী ঘটে?” 
“তারপর আর কী, সেগুলোকে খাবার হিসেবে আবার গলঃধরণ করতে হবে” 
“কী ভয়ঙ্কর!” 

যে কোন বিষয়ই আলাপ করা হোক না কেন, দেখা যায় ঘুরে ফিরে তা বার বার খাবারের আলোচনায় চলে আসে, যেটা তাদের খিদেকে ক্রমশ বাড়িয়ে তোলে। তাই দুজনে সিদ্ধান্ত নিলো খাবারের আলোচনা বাদ। নিজেদের ভুলিয়ে রাখতে মস্কো গেজেটের পুরোনো সংখ্যাটা খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করলো। 

(মস্কো গেজেটে প্রকাশিত সংবাদ)- নগরপাল আয়োজিত সান্ধ্যভোজ: 

ভোজে একশ' মানুষ বসতে পারে সেভাবে টেবিল সাজানো ছিল। প্রত্যাশার বাইরে ছিল এর জাঁকজমক। দুর্গমতম প্রদেশগুলো থেকে দেবতাদের তুষ্ট করার নিমিত্তে মূল্যবান উপহার হিসেবে যেসব খাদ্য ভোজসভায় উপস্হিত করা হয়েছিল তা হলো- সাকসেনার বিশাল সামুদ্রিক মাছ আর ককেশীয় জঙ্গলের রূপালী তিতিরের সাথে শীতকালের দুর্লভ স্ট্রবেরির অভূতপূর্ব সম্মিলনে…. 

“বদের হাড্ডি সব! খবরের কী ছিরি! দোহাই লাগে জনাব, দয়া করে পড়া বন্ধ করুন। পড়বার মতো আর কিছু খুঁজে পেলেন না আপনি!" গাঢ় হতাশাভরা কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো অন্য আমলাটি। সহকর্মীর হাত থেকে কাগজখানা প্রায় ছোঁ মেরে কেড়ে নিয়ে অন্য কিছু পড়া শুরু করলো সে: 

আমাদের তুলার সংবাদদাতা জানাচ্ছে যে, গতকাল উপা'তে বিশাল এক সামুদ্রিক মাছের সন্ধান পাওয়া গেছে (এমন একটি ঘটনা ইতিপূর্বে ঘটেছে কিনা সেটি স্হানীয় আদি বাসীরাও মনে করতে ব্যর্থ হন এবং আরো উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হচ্ছে, মাছটি যার হাতে ধরা পড়ে পুলিশের সেই প্রাক্তন ক্যাপ্টেন তাদের পরিচিত)। 

ক্লাবের সান্ধ্যভোজ উপলক্ষ্যে মাছটিকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। সান্ধ্যভোজের মূল আর্কষণটিকে একটি বিশাল কাঠের থালায় ভিনেগার জারিত আচার দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা হয়। মাছের মুখটিতে ঠেসে দেয়া হয়েছিল একগুচ্ছ পার্সলে পাতা। ডাক্তার পি- যিনি ভোজের টোস্ট মাস্টার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, তিনি খেয়াল রাখছিলেন উপস্হিত সবার ভাগেই যেন একটুকরো মাছ পড়ে। বিচিত্র সব মশলার মিশেলে মাছের ঝোলটি হয়ে উঠেছিল অতি উপাদেয়...... 

"অসহ্য! আপনি এসব কী পড়ছেন জনাব? বরং আমাকে পড়বার অনুমতি দেয়া হোক, বুঝতে পারছি, পড়ার বিষয় নির্বাচনে আপনি খুব একটা যত্নবান নন" প্রথম আমলাকে বাধা দিয়ে দ্বিতীয় জন সযত্নে সংবাদপত্রটা নিয়ে আবার পড়া শুরু করে: 

একদম আদির মূল রেসিপি অনুসরণ করে নতুন এক ধরনের মাছের স্যুপ আবিস্কৃত হয়েছে, যা ভিয়াটকার প্রাচীনতম বাসিন্দাদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। স্যুপটি তৈরি করতে একটি জীবন্ত কড মাছ(লোটার ভ্যালগারিস)নিয়ে রড দিয়ে ততক্ষণ পিটানো হয় যতক্ষণ না মাছের লিভার ক্রোধে ফুলেফেঁপে ওঠে…..। 

অদ্ভুত ব্যাপার। পড়ার জন্য যে খবরেই তারা চোখ রাখছিল তা কোন না কোনভাবে খাওয়ার সাথেই জড়িত। পড়তে পড়তে আমলা দুজনের মাথা হতাশায় নুয়ে আসে। এ নিয়ে তাদের নিজস্ব ভাবনাগুলোও ছিল মারাত্মক। বীফস্টেক বা অন্যান্য খাদ্য ভাবনা থেকে তারা যতই নিজেদের মন ঘোরানোর চেষ্টা করুক না কেন সবই বৃথা যাচ্ছিল। যে ভাবনাটা ভুলে থাকার চেষ্টায় তারা নিজেদের ব্যস্ত রেখেছিল, সেটাই ঘুরে ফিরে এসে তাদের মাথায় যন্ত্রণা সৃষ্টি করছিল। 

হাতের লেখা শিক্ষাদানে জড়িত আমলাটি হঠাৎই এক উদ্দীপনায় চনমনিয়ে ওঠে। "বুদ্ধি পেয়েছি আমি" আনন্দে সে প্রায় কেঁদেই ফেলে আর কী! "এটা করলে কেমন হয় জনাব? আমরা যদি একজন কৃষককে খুঁজে বের করি, কী বলেন আপনি?" 

" বলেন কী ভাই! একজন কৃষক? কি ধরনের কৃষকের কথা বলছেন?" 
"কেন একজন সাধারণ সাদামাটা কৃষক, আর দশজন কৃষকের মতোই একজন কৃষক। যে কিনা আমাদের জন্য সকালের নাস্তা বলা মাত্রই হাজির করবে, এছাড়াও আমাদের জন্য তিতির পাখি আর মাছ ধরে আনবে।" 
"হুম! বুঝলাম। কিন্তু সেরকম একজন কৃষক কোত্থেকে আনবো, এখানে যদি কোনো কৃষক না থাকে?" 

"একজন কৃষক কেন পাওয়া যাবে না এখানে?" সব জায়গাতেই তাদের বসবাস। তাদের সন্ধান করাটাই এখন আমাদের করণীয়। আমি নিশ্চিত, এখানেই কোথাও কাজে ফাঁকি দেবার ধান্ধায় কোন কৃষক ঘাপটি দিয়ে আছে।" 

এই ভাবনা আমলা দুজনকে এতটাই আহ্লাদিত করে যে তারা তখনি কৃষকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। বহুক্ষণ তারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল শূন্য হয়ে দ্বীপটিতে ঘুরে বেড়ায়, অবশেষে কালো রুটি আর মেষের শরীরের এঁটে থাকা ঘন একটা গন্ধ তাদের নাকে পৌঁছে বুঝিয়ে দেয় তারা সঠিক পথেই এগোচ্ছে। 

সেখানে পৌঁছে তারা দেখতে পায়,গাছের তলায় বড়সড় শরীরের এক কৃষক মাথার নীচে হাত রেখে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। তাকে দেখে তারা নিশ্চিত হয় যে, এই ব্যাটা কতর্ব্যকাজে ফাঁকি দেবার জন্য নির্বোধের মতো এই দ্বীপে পেলিয়ে এসেছে। সীমাহীন ক্রোধে তাদের সর্বশরীর জ্বলে উঠলো । 

"কী সুখে এখানে পড়ে ঘুমাচ্ছো তুমি কুড়ের হদ্দ কোথাকার!" কৃষকের উপর তারা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। "দুজন সরকারি আমলা যে খিদের জ্বালায় মরতে বসেছে, সেটা তোমার কাছে কোন ব্যাপার নয়! ওঠো, কাজে লেগে পড়ো জলদি।" 

কৃষক ঘুম ভেঙে তাকিয়ে দেখলো, তার সামনে দুজন পুরোদস্তুর ভদ্রলোক দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমেই তার মাথায় পালানোর চিন্তা এলো, কিন্তু আমলা দুজন সে পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভাগ্যের হাতেই সে নিজেকে ছেড়ে দেয়। যার মাশুল তাকে কড়ায় গণ্ডায় দিতে হয়। 

প্রথমেই সে গাছে উঠে আমলা দুজনের জন্য বেছে বেছে ডজন খানেক আপেল পেড়ে আনে। নিজের জন্য পঁচাটা রেখে দেয়। তারপর মাটি কুপিয়ে বেশ কিছু আলু বের করার পর দুটো কাঠের টুকরো একটার সাথে আরেকটা ঘষে আগুন জ্বালবার ব্যবস্হা করে। নিজের চুল দিয়ে সে একটি ফাঁদ তৈরি করেছিল, যা দিয়ে সে আমলাদের জন্য তিতির পাখি ধরে। এরই মধ্যে তীব্র শিখায় জ্বলে ওঠা আগুনে কৃষক বেশ কয়েক পদের রান্না করে, যা দেখেশুনে আমলা দুজনের মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়, এসব খাবারের কিছু ভাগ এই আলসেটা কে না দিলে কী আসে যায়। কৃষকের কর্মযজ্ঞ দেখে আমলা দুজন মনে মনে ব্যাপক আনন্দিত হয়ে ওঠে। 

ইতিমধ্যে তারা ভুলে বসে আছে যে, আগের দিনই তারা খিদের যন্ত্রণায় প্রায় মরতে বসেছিল, এবং এখন তাদের ভাবনাটা হলো: "সরকারি আমলা হওয়া একটা উত্তম ব্যাপার। আমলাদের সাথে কখনও কোন খারাপ ঘটতে পারে না।" 

" ...তা মশাইরা কী খুশি হয়েছেন?" আলসে কৃষকটা জানতে চাইলো। 

"তা হয়েছি বটে, আমরা তোমার পরিশ্রমের প্রশংসাই করছি হে কৃষক।" 

"এখন কী আমাকে খানিক বিশ্রামের অনুমতি দেয়া যায়?" 

"নিশ্চয়ই। যাও খানিক বিশ্রাম নিয়ে নাও, তবে তার আগে একটা শক্ত দড়ি তৈরি করে আনো।" 

কৃষক বনের শণ, পাতার ডাটা ইত্যাদি জড়ো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখে, পরে সেগুলো পিটিয়ে, ভেঙেচুরে বেশ শক্তপক্ত দড়ি তৈরি করে। 

দড়িখানা নিয়ে আমলা দুজন কৃষককে গাছের সাথে আচ্ছা করে বেঁধে ফেললো যাতে সে পালিয়ে যেতে না পারে। তারপর দুজনে সুখ নিদ্রায় ডুব দিলো। 

এভাবে দিনের পর দিন কাটতে লাগলো। কৃষক রান্নাবান্নার কাজে এতটাই দক্ষ হয়ে উঠলো যে খালি হাতেও সে আমলা দুজনের জন্য স্যুপ তৈরি করে ফেলতো। 

কৃষকের যত্ন আত্তি আর হাতের রান্না খেয়ে খেয়ে দুজনের শরীর গোলগাল হতে শুরু করে, তাদের মনও আনন্দে ভরে থাকতো। আনন্দিত চিত্তে তারা ভাবতো এক কানাকড়ি খরচা না করেও এখানে তারা কেমন দিব্যি আছে, ওদিকে সেন্ট পিটর্সবার্গে তাদের পেনশনের টাকাগুলোও জমা হচ্ছে। 

একদিন প্রাঃতরাশের পর একজন অন্যজনকে জিজ্ঞেস করলো, "আপনার মতামত কী জনাব?" 'টাওয়ার অফ বাবল' এর গল্পটিকে কী আপনি সত্যি মনে করেন? আপনার কী মনে হয় না ওটা নিছকই একটা রূপকথা মাত্র?" 

"না জনাব, আমার তো মনে হয় সত্যিই তেমন কিছু ঘটেছিল। পৃথিবীতে এতগুলো ভিন্ন ভাষার অস্তিত্বের জন্য আর কী ব্যাখ্যা থাকতে পারে?" 

"তাহলে তো বন্যাও নিশ্চিতভাবেই ঘটেছিল?" 

"অবশ্যই, নইলে আপনি কীভাবে মহাপ্রলয় পরবর্তী প্রাণীদের অস্তিত্ব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করবেন? তাছাড়াও, মস্কো গেজেট বলেছে------" 

মস্কো গেজেটের পুরোনো সংখ্যায় খবরটার সন্ধানে তারা দুজন ছায়ায় বসে বসে প্রথম থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত পুরো পত্রিকাটাই পড়ে ফেললো। 

তারা মস্কো, তুলা, পেনজা এবং রিয়াজানের নানা উৎসব উদযাপনের বর্ণনাগুলো পড়ে গেলো এবং আশ্চর্যজনক, সেখানে যথেষ্টভাবে পরিবেশিত খাবারের বিবরণ থাকা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে কোনো অস্বস্তি বোধ তৈরি হলো না। 

কিন্তু তাদের জীবন এখানে এভাবে কতদিন কাটবে সেটা জানার কোন উপায় ছিল না। কিছুদিন পর দ্বীপের জীবনটা তাদের বিরক্ত লাগতে শুরু করলো। মাঝে মাঝে তারা সেন্ট পিটর্সবার্গে তাদের বাবুর্চির কথা, ফেলে আসা জীবনটার কথা ভাবতো, এমনকি গোপনে তারা কয়েক ফোঁটা চোখের জলও ফেলতো। 

"আমি ভাবতে চেষ্টা করছি পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটটি এখন দেখতে কেমন হয়েছে।" একদিন এক আমলা প্রসঙ্গটা তুললো। 

"ওহ! ওসব কথা আমাকে মনে করিয়ে দেবেন না জনাব। বাড়ির কথা ভাবতে গেলে আমি শুকিয়ে কাঠি হয়ে যাবো।" 

"অবশ্য এখানে তো বেশ আছি। এই জায়গাটি খুঁজে পাওয়া তো সত্যিই কোন দোষের নয়। তবে কথা হলো একটা ভেড়া তো সবসময় তার পালের সাথে থাকার জন্য হন্যে হয়ে থাকে। তাছাড়া আমাদের সরকারি উর্দির জন্য এটা একটু অপমানজনক।" 

"ঠিক বলেছেন জনাব। চতুর্থ শ্রেণীর উর্দিটা কোন ফেলনা ব্যাপার নয়। এর সোনালী কারুকাজের বহর যে কারো মাথা ঘুরিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট।” 

এরপর তারা পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটে ফিরে যাওয়ার পথ বাতলে দেবার জন্য কৃষকের পেছনে উঠে পড়ে লাগলো, আর আশ্চর্যের ব্যাপার হলো কৃষকের জানা ছিল পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটটি কোথায়। সে একবার ওখানে বিয়ার এবং মীড (এক জাতীয় কম অ্যালকোহলের পানীয়) খেয়েছিল কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার ছিলো যে সবকিছু তার দাড়ি বেয়ে গড়িয়ে পড়ে যাচ্ছিল, মুখে কিছুই যাচ্ছিল না। 

আমলা দুজন আনন্দ চিত্তে ঘোষণা দেয় “আরে, আমরা হলাম সেই পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটের অফিসার।” 

"আর আমি সেই লোকদের একজন, ঝুলন্ত দড়ির মাচানের উপর বসে যে দালানের বাইরে দেয়াল রঙ করতো, আমি তাদেরই একজন। ছাদে যে মাছির মতো হামাগুড়ি দিতো, ওটাই হচ্ছি আমি”। উত্তর দেয় কৃষক। 

কৃষক গভীরভাবে ভাবতে লাগলো কীভাবে এই অফিসারদের আনন্দের জন্য সুব্যবস্থা করা যায়, যারা তার প্রতি এমন উদার আচরণ করছে, তার অলসতা নিয়ে কোন ভ্রুকুটি পর্যন্ত করেনি। সে তাদের জন্য একটা জাহাজ নির্মাণ করলো। ওটা আসলে ঠিক জাহাজ নয়, কিন্তু এমন একটি নৌযান যেটা দুই অফিসারকে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটে নিয়ে যাবে। 

“ঐ বেটা নচ্ছার! সাবধান কিন্তু! আমাদের ডুবিয়ে মারিস না আবার!!”, ঢেউয়ের দোলায় টালমাটাল নৌকায় পা দেয়া মাত্রই দুজনে চেঁচিয়ে কৃষককে বকাঝকা শুরু করলো। 

“ভয় নেই মশাই, আমরা কৃষকরা এতে অভ্যস্ত”। নৌকা ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে নিতে কৃষক তাদের আশ্বস্ত করলো। সে দুজনের জন্য আরামদায়ক আসনের ব্যবস্থা করে রেখেছিল, সেখানে দুজন বাবু হয়ে বসে পড়লো। কৃষক দাঁড় বাওয়া শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নৌযানটা নিয়ে গভীর সমুদ্রে পৌঁছে যায়। 

পুরো যাত্রাপথে দুই আমলা কেমন ভীত ছিল, দুলুনিতে দুজন কেমন অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, আর কেমনভাবে কৃষককে তার অলসতার জন্য গালিগালাজ করে যাচ্ছিল তা বর্ণনাতীত। কিন্তু কৃষক চুপচাপ দাঁড় বেয়ে গেলো এবং আমলাদের হেরিং মাছ রান্না করে খাওয়ালো। অবশেষে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তারা তীরের দেখা পেলো এবং ক্যাথেরিন খালের কাছে এসে পৌছালো। 

আমলা দুজন যখন দেখতে পেলো তাদের নৌযান পডিয়াচেস্কায়া স্ট্রিটের কাছে নোঙর করেছে, তাদের আনন্দ আর ধরে না। তাদের বাবুর্চির সাথেও দেখা হলো দুজনের। একে অন্যকে দেখে ব্যাপক খুশিতে আত্মহারা হলো। দুজনের হৃষ্টপুষ্ট স্বাস্হ্য আর হাস্যজ্বল মুখ দেখে বাবুর্চির বুঝে নিতে কষ্ট হলো না যে তার অফিসারেরা এতদিন বহাল তবিয়তেই ছিলো। এরপর আমলা দুজনে কফি এবং রোল দিয়ে নাস্তা সেরে ইউনিফর্ম পরে পেনশন অফিসের দিকে রওনা দিলো। ওখান থেকে তারা যে পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করলো সেটা ভাষায় প্রকাশ করা প্রায় অসম্ভব। 

তবে জাতে মাতাল তালে ঠিক ওই দুই নির্বোধ আমলা কিন্তু আলসে কৃষকটাকে মোটেও ভোলেনি। কৃষকের জন্য তারা এক গ্লাস হুইস্কি আর পাঁচ টাকার আস্ত একটি নোট পাঠিয়েছিল! 

সামান্য সেবার বিনিময়ে অফিসারদের কাছ থেকে এমন উদার মূল্যবান উপঢৌকন পেয়ে কৃষকটাও বর্তে গিয়েছিল। 



লেখক পরিচিতি : 
মিখাইল ইয়েভগ্রাফোভিচ সালটিকভ শ্চড্রিন/ Mikhail Yevgrafovich Saltykov-Shchedrin, (জন্ম:২৭ জানুয়ারী ১৮২৬- মৃত্যু: ১০ মে ১৮৮৯) উনিশ শতকের রাশিয়ার প্রথম সারির স্যাটায়ার/ব্যাঙ্গ লেখক। তিনি জীবনের অধিকাংশ সময় বিভিন্ন স্তরের সরকারী চাকরিতে নিয়োজিত ছিলেন। কবি নিকোলাই নেক্রাসভের মৃত্যুর পর তিনি সেসময়ের সুপরিচিত রাশিয়ান ম্যাগাজিন ‘Otechestvenniye Zapiski’ এর সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। ১৮৮৪ সালে সরকারি নিষেধাজ্ঞার আগ পর্যন্ত সে দায়িত্বেই নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর বহুল পঠিত সুবিখ্যাত উপন্যাস ‘দ্য গোলোভলিয়ভ ফ্যামিলি’ ১৮৭৬ সালে প্রকাশিত হয়। 





অনুবাদক
নাহার তৃণা
মার্কিন দেশে বাস করেন

গল্পকার। অনুবাদক। 

২টি মন্তব্য:

  1. দারুণ গল্প। ঝরঝরে অনুবাদ। এগ্গাদা লাবিউ

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. তোমার মন্তব্যে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত হলেম বন্ধুদি! লাবিউ টুউউউউ :)

      মুছুন