শনিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

শামিম আহমেদের গল্প : নকশাবন্দী

আলজিহ্বাতে আলেক শহর, আল্লা বসে রয়েছে।

বাপজি, ধরেন আপনি দোকানে গিয়্যাছেন বউবিবির লেগ্যা একট্যা হার কিনব্যান। তা বেশ জম্পেশ নকশাঅলা একটা হার আপনার পসন্দ হইল। স্যাকরা তার দাম হাঁকল বিশ হাজার। নকশার গুণকীর্তন কইরল খুব। আপনি কিন্যা লয়ে আইলেন।
যাকে বলে বউবিবির দিলখুশ। খুদা না করুক, আপনি একট্যা বড় ফ্যাসাদে পড়্যা ওই হার বিক্রয়ের লেইগ্যা সেই স্যাকরার কাছে আবার গ্যালেন। সে ব্যাটা সুনার দামে মালটো কিনব, নকশার দাম সে দিব না। বুজল্যান কিনা, বিক্রয়ের টাইম স্যাকরা ব্যাটা নকশার সমঝদার, কিনবার টাইম সে সুনা ছাড়া কিসসুবুইজ্যা না। এই দুনিয়াদারিও তাই বাপজি। ওই নকশার মতুন। ব্যাচার টাইম ছ্যাঁচা, কিনব্যার টাইম পুরা মিছা। সুনাটোই শুধু ছ্যাঁচা বাপজি।
নকশার কতা যখন কইছি বাপজি, তকন আপনারে বলি, আমি হইলাম গিয়া ওই নকশাবন্দী দরবেশ। ভীষণ গরিবিয়ানায় থাকি, বিশ্বাস করব্যান কিনা জানি না। ভাবতেছেন, কুনো ধান্দায় গরিবির কতা কইছি। আমরা সে ঘরানার লোক নই জি। মুল্লাদের মতো আমার টাকার উপর লোভ নাই। গরিবি লইয়া বড্ড সুখে আছি। পরের জন্য ভিক্ষা মাঙি, নিজের জন্য কিস্যু চাইনা। এই দুনিয়ায় আল্লা যা পয়দা করেছেন, তার উপর ভেস্যা থেকে বড্ড সুখ পাই। আল্লার মতো দেনেঅলা আর কেহ নাই। তার অঢেল ঐশ্বর্য, তার উপর দিয়া আমার জীবন নৌকা চলে। সেই একট্যা গান ছিল না।“আলজিহ্বাতে আলেক শহর, আল্লা বসে রয়েছে।” আর একট্যা গান, “নৌকা চলে আর চলে না, ওরে সুনার চান্দ, দিনদুনিয়ায় আইলো তুফান কে দিবে আসান!” মানে কী জানেন বাপ? মানে হইল— নৌকার ভিতর পানি ঢুইকল্যা বিপদ, অথচ সেই নৌকার নীচে পানি মানে বেশ আরামে ভেস্যা আছেন। একই পানি, ভিতরে ঢুইকল্যা আপদ, বাহিরে না থাইকলে বিপদ।
আমাদের ঘরানার নাম হইল গিয়ে চিস্তি ঘরানা। আফগানিস্তানে হেরাট শহরের কতা শুন্যাছেন নিশ্চয়ই। ওই যেখানে আমেরিকা বুমা ফেইল্যা কোটি কোটি লোক মাইর‍্যা ফ্যালাইল। ওই শহরের পাশে আর একট্যা ছোট্ট শহর আছে, যার খবর কেউ রাখেনা। নাম হইল গিয়া চিস্ত। ওই শহরে আমাদের ঘরানা তৈয়ার হয়। আবু ইশাক নামের এক মস্ত লোক, তিনিই আমাদের আদি গুরু। খাজা গরিব নওয়াজের নাম তো জানেন আপনারা সক্কলে। তিনিও আমাদের ঘরানার।
তা কতাটা চলছিল নকশা নিয়া। জিকরের কতা না বইল্যা নকশার কতা বলা যাবে না। বেশি কতা বলব না। শুধু একট্যা কতা বললেই চলবে। আমরা চুপচাপ জিকর করি, চ্যাঁচাই না। আমাদের গুরুর গুরু হজরত আবু বকর। তাঁর গুরু দিন দুনিয়ার প্রিয় মোহাম্মদ।
যদি আমাদের নকশা জানতে চান বাপজি, শ্বাসে ব্যাম কইরত্যে হবে আপনাকে। এক নম্বরে। দু নম্বরে আপনাকে পা ফেলতে হবে খুব সাবধানে। আপনার পা, যে পা দিয়ে আপনি হাঁটেন বাপজান। আরও আছে। এগারোটার মইধ্যে দুখান বললাম। জানি না, সবটা শোনানো যাবে কিনা আজ। হাতে ম্যালা টাইম নাই।
আপনাদের সঙ্গে যে কয় দিন আমার দেখা হইল, সে কয় দিন আমি অন্য ঘোরে ছিলাম বাপজান। আমি বুঝি নাই, আপনাদের আমি দাগা দিয়্যাছি। আসলে আপনাদের কপালের ভাঁজে নকশা দেখছিলাম তো, তাই ঘোরের মধ্যে সব কতা বল্যা দিয়্যাছি। আপনারা আমাকে খাতিরযত্ন করব্যান বলে করি নাই।
ওই যে আপনের ছোটো দাদো, যেনার চালের গুদাম ছিল, তাঁকে আমি কিছুই বইলতে চাইনি, কিন্তু তাঁর কপালের নকশা দেখ্যা আমি পেত্থমে থ। তারপর মুখ দিয়া বের হইয়া গেল।আপনার ছোট দাদো আমারে কইল, আমি নাকি খুদার খালাতো ভাই অ্যালাম। কী বেশরা কথা! আল্লা তাকে ক্ষমা করনেঅলা। কিন্তু বিশ্বাস কর‍্যান বাপজান, আপনার ছোটো দাদো খুন হইবেন, তেনার গলার নলি গরু জবাইয়ের ছুরি দিয়া কাইট্যা ফেইলবা এ কথা আমি আগে জানতাম না। সব ওই নকশাতে ল্যাখা ছিল। আমার বলার চব্বিশ ঘণ্টাও কাটে নাই, তার মধ্যে ওই কাণ্ড। নকশার খেল।
আজ বহু বৎসর কেট্যা গেল। আপনার বড় ভাইটোর লেইগ্যা কী কয়েছিলাম আমার সব মনে আছে। তার আগে বাপজি, এগারো খানের তিন নম্বরটা বলি। নিজের শরীলের মধ্যে ঢুকে নিজেরে চেনা খুব জরুরি। ইখান থেকে উখানে যান, গাড়ি-ঘুড়া চইড়্যা, তা বেশ কর‍্যান, কিন্তু নিজের মধ্যে একবারটি যান, ঢুইকা দেখেন ভিতরের দ্যাশটায় কী আছে। চার নম্বরটা বলি, তার পর অন্য কতা বলব। এত আওয়াজ, এত ঢাক-ঢোল, কুনটো বাপজান আসলি আর কুনটা নকলি, বুজা দায়। এইডা আপনারে বুইঝতে হবে। আপনার বড় ভাইজানের কতায় ফিরি। আখের ভুঁইয়ে গুলি খাইয়া মইরল আপনের দোষে, না পুলিশের দোষে সে কতা আমি বলব না। শুদু একটো কতা বাপ, উয়ার নকশা কাটা ছিল সরকারের ঘরে। আর তাইতে উয়ার লাশ আপনারা পাইলেন না। জানাজা হইল না, মাটি হইল না। আপনারে শুদু কইতে পারি উয়ার লাশ দাফন ক্যামনে হইল। সেও আর এক কঠিন নকশা। উয়ারে পুড়াইয়া দিছে। যাতে উয়ার কবরে আজাব না হয়। উয়ার বারজাখ নাই, শবেরাতে উয়ার কবরে লুবান কাঠি নাই। উয়ারে পুড়াইয়া দিয়া যে দু বার খুন কইরল, সে কতা বলতে গেলেই আমাকে ধরে নিয়্যা যাবে জেলখানায়। অরা আমাকে আটকাইতে পারবে না, সে ক্ষ্যামতা আল্লা উয়াদের দ্যায় নাই। আপনার ভাইটোর ডেডবডি খুন কর‍্যাউয়ারা কুন নকশা মুছা ফেলতে চাইল, তা আমি জানি বাপজান। উয়ার শরীলে ছিল নকশার উপর নকশা। আহা কী তার কপালের গড়ন। গুলি খাইয়া যখন পড়্যাছিল তখনও মুনে হইল, এই লাশের কবর হইলে সে আবার বেঁচ্যা উঠবে। কিন্তু এইটা জানত সরকার আর পুলিশ, আর তাই আবার গুম কইর‍্যা তাকে খুন করা হইল।
কিছু ভুলা যাইবে না। সব মুনে করতে হবে আপনাদের। আপনার দাদো আর ভাইজানের কথা আর ভুল্যা যাবেন না। আমরা ভুলি নাই। মুনে রাখা আর মুনে রাখার ব্যামোটো হইল পাঁচ নম্বর আমল। ছয় নম্বর আমল হইল নিজেকে ঠিক রাইখত্যে হবে, আপন গণ্ডি টেন্যা তার বাইরে বের হইলে চলবে না। আর কেরামতি দেখালে আপনার কপালে বহুত খারাবি। তা আমি ক্যানে কেরামতি দেখাইছি এত? উপায় নাই। জানি কেরামতি দেখানো হইল গিয়ে পাপ। আর তার লেইগ্যা আমার কেরামতি আমাকে আজ অনেক নীচুনে নামাইয়া দিছে। আমি তো তেনাদের পায়ের নখুনের সুমান লয় বাপজান, যেনারা অনেক বড় বুজুর্গ। তো তেনাদের কেরামতি আল্লাহ পাক সহ্য করেননি, আর আমি তো কুন ছার। মানা আছে, তাও কত বুজুর্গ-অলি দেয়ালের ভিতর দিয়া ঢুক্যা পড়েন। কুনো কুনো চার দেয়ালের মধ্যে যে সব কাণ্ড-কারখানা চলে বাপজান, তা সহ্য করা খুব কঠিন। উয়ারা যদি জানে, দেয়াল ভেদ কইর‍্যা যে কেউ ঢুক্যা পড়তে পারে, এক টুকুন সাবদান হইবে। রয়ে-সয়ে কাম-কারবার কইরব্যা। আকাশের মদ্যে উড়ত্যা পারে, আর শত্তুরের উপর নজর রাখতে পারে এমন বুজুর্গের অভাব নাই বাপজান। আগুনের মধ্যে হেঁট্যা যেতে পারে এমন কেরামতি বহুত লোক দেখায়। কিন্তু বাপজান, রাস্তায় বুমা পইড়ল্যা তারা আবার বাড়ির বার হয় না। বুজুর্গ-অলি শস্তা কেরামতি দেখায় না। খুদার সম্পত্তি লইয়া উয়ারা ফুটানি মারে। সব মাটি উয়ারা বেচ্যা দিছে, কবর দিবার জাগা নাই। সব পানি উয়ারা শুষ্যা লিছে, খাবার কিম্বা ওজু করবার পানি মেলে না। আগুন উয়াদের খ্যালবার জিনিস, ভাত রাঁধার কিংবা প্যাটের নাদান বাচ্চা স্যাঁকার আগুন নাই। বাতাসকে উয়ারা এমনি খারাব কর‍্যা দিছে যে নিঃশ্বাস লইবার জো নাই। বাকি রইল আকাশ। তাকেও উয়ারা শ্যাস করা দেয়ার লেগে উঁচা উঁচা টাওয়ার বানাইছে। আমার-আপনার উয়ারা আড়ি পাতবে। তাই সাত নম্বরে বলি কি বাপজান, ভালো কর‍্যা চোখ কান খুল্যা রাখেন। আমাদের অনেকগুলান চোখ, উয়াদের চাইতে কয়েক কোটি গুণ বেশি। সজাগ থাকেন। রাতে ঘুমাইবার টাইমে সব ভুল্যা যান। আমল-নামার সময় নিজেকে দেহের বাইরে নিয়্যা যান। এইটা হল আট নম্বর নকশা।
বুজুর্গদের কেরামতির কতা কইছিলাম। এক দেশে বহুকাল পানি নাই। খরার চোটে কুনো ফসল হয় না মাঠে। দেশের মানুষ পিল পিল কর‍্যা মরছ্যে। বাচ্চা-বুড়া কেউ বাদ নাই। এক বুজুর্গ কইলেন, সারা দেশে কী একটুকুনও গম নাই। এক বড়লোকের বাড়িতে চাট্টি গম মিলল। গম ভাঙার কলে সেই গম লইয়া গেলেন বুজুর্গ। গরুতে টানে সেই কল। পাথরে ভাঙে গম। হাড়-গিলগিলে গরু সরাইয়া বুজুর্গ টানলেন সেই কল। বিশ্বাস হইবে না আপনার, এক খাবলা গম থেক্যা রাশি রাশি আটা বের হতে লাগল। আর সেই আটা দিয়্যা ঘর ভরতে লাগল গরিব-বড়লোক সক্কলে।
এই গল্পটা শুইনল্যা আপনাদের মুতুন শিক্ষিত লোক হাসব্যান। তা হাসুন। সে ত আপনার দাদোর লেগে যখন কয়েছিলাম, তখন আপনার দাদোও হেস্যাছিলেন। বড়লোকের অল্প গম থেক্যা কত আটা হয় আপনাদের ধারণা নাই। মজুতদারি কারে বলে জানেন তো? আর কী কইব শিক্ষিত মানুষের সামনে। বরং আমি আমল-নামার নয় ধারাটা কই।
টাইম নাই, আমার হাতে টাইম নাই। এই কতা বলার লোক মেলা পাইবেন। টাইমের থামা নাই, থাবা আছে। টাইমকে থামাইয়া দিত্যা পারে না কেহই। আপনার জ্ঞান-বুদ্ধি হুঁশকে থামাইয়া রাখেন কিছুক্ষণ। আপনার মাথায় ঢুকানো চিন্তা কিছু সময় বাতায় তুল্যা রাখেন। অনেক দিন অনেক কথা বলল্যান, খানিক টাইম এবার চুপ কর‍্যান। বোজবার চেষ্টা করেন বাপজান, অন্যের টাইম কীভাবে কাটে। এইটা নয় নম্বর। দশ নম্বরটা হইল নম্বরের খেলা। কেমন খেলা বুজাবার লেগে আরও একটো কাহিনি শুনতে হবে আপনাদের।
ফরিদ নামের এক পুলাপানকে তার বাপে মরণের কালে কইল, “ফরিদ এই আমার সতেরো খান ঘুড়া আর তুরা তিন ভাই। তুই বড়, রোজগেরে পুলা। তাই ভাগ-বাঁটোয়ারার ভার তুকে দিলাম। হাফ ঘুড়া তুই লিবি, বাকি ঘুড়ার তিনভাগের দু ভাগ দিবি মেজ ভাইকে। আর মোট ন ভাগের এক ভাগ পাবে কোলের ভাই।”
আপনারা সকলে ভাগের কথা চিন্তা কর‍্যা মর‍্যা যাবেন। সতেরোকে হাফ করব্যান কী কর‍্যা? তাও আবার ঘুড়া। গরু হইলে না হয় জবাই কর‍্যা গোস্ত ভাগ হইত। বাকি ভাগগুলান সমান কঠিন বাপজান। ফরিদ নকশাবন্দীর আমল জাননেঅলা লোক। সে খুব সহজেই বাপের হিসাব মুতুন ভাগ কর‍্যা দিল। নম্বর থামাইয়া দিয়া।
ফরিদের নিজের একখান চড়বার ঘুড়া ছিল। সে ওই সতেরখান ঘুড়ার সঙ্গে সেটাকে মিশাইয়া দিল। হিসাবের কারচুপি হইবে না। শ্যাষে বিচার কর‍্যা দেখবেন। এবার ওই আঠারোখান ঘুড়ার নয় খান নিল ফরিদ নিজে। বাকি রইল নয় খান ঘুড়া। তার তিনভাগের দুভাগ, মানে ছয় খান ঘোড়া পাইল মেজ। ইবার হাতে আছে তিনখান ঘুড়া। ছোট পাইল দু খান। মোট ঘুড়ার ন ভাগের এক ভাগ। এখনও একখান ঘুড়া আছে। ওইটা হইল গিয়ে ফরিদের নিজের ঘুড়া, যাতে চেপ্যা সে এসেছিল। আবার সেটাতেই চেপ্যা সে চল্যা গেল। আপনি কইবেন, এ তো গুঁজামিলের অঙ্ক। আমি কইব, না। একটু মুন দিয়্যা ভালো কইরা দেখব্যান, কারও কুনো ক্ষতি হয় নাই। সক্কলে লাভবান হইছে।
এগারো নম্বর আমল-নামার কয়্যা আমার টাইম খতম। অন্যের দিল চিনা খুব সুজা কাজ লয়। নিজের দিলের কারবার না থামাইলে সে রহস্য বুজা যাবে না বাপজান। এইটুকুনই বললাম। ভালো কতা ফ্যানাইতে নাই, উয়ার ধার কম্যা যায়। শ্যাষে একট্যা কতা কয়্যা বিদায় লেব। বাপজানেরা নকশা না বুজল্যা কিসসু হবে না, নকশার ভিতরেও নকশা আছে। আপনার দাদোকে যারা খুন করল, তারাই আবার আপনার বড় ভাইজানের ডেড-বডিটো শ্যাষ করল। আপনাকে, আমাকে যে অরা বন্দী কর‍্যা রেখ্যাছে, সে কতা শুনল্যা আপনি হাসবেন। আপনার চারপাশে যে তালা অর‍্যা ঝুলাইয়া দিছে, আপনি তাহার নকশা জানেন না বল্যা চাবি বানাইতে পারছেন না। আমার এক গুরুর গুরু কী করে তালা খুলে, আপন বন্দীদশা ঘুচাইয়ে বাইরে বেরিয়্যাছিল, শুন্যান। তেনাকে আমাদের মুতুনই অন্যাভাবে বন্দী কর‍্যা রাখছিল এক কারাগারে। তিনি ছিলেন মিস্ত্রি মানুষ। একখান জায়নামাজ তেনার বিবি তেনাকে পাঠাইল। জেলের লোকেদের দয়া হইল, বেচারা নামাজ পড়ার জন্য জায়নামাজ পেয়্যাছে, উয়াকে তা দেয়া হল। তিনিপেতিদিন পাঁচ টাইম নামাজ আদায় কইরত্যে লাগলেন। কয়েক দিন বাদে, তিনি জেল কর্তাকে কইলেন, “আমি গরিব, দুর্ভাগা মানুষ আর আপনাকেও অরা কম মাহিনা দেয়। আমি মিস্ত্রি লোক, আমার যন্ত্রপাতি আর মাল বাড়ি থেকে আনার ব্যবস্থা করা দিল্যা আমি কিছু খেলনা বানাইতে পারি আর সেইগুলান আপনি বাজারে বেইচল্যে হাতে কিছু টাকা আসে, তা থেকে আমাদের দুর্দশা কিছুটা ঘুচব। কারাগারের কর্তা রাজি হইলেন। আর তাতে দুজনের বেশ লাভ হইল। ভালো খাবার জিনিস কিন্যা তারা বেশ শান্তিতে রইল। একদিন কারাগারের লোকরা নিজেদের ঘরে, সেই সময় বন্দী লোকটা পালাইয়া গেল।
বহু বৎসর কেট্যা গেছে। লোকটা যে দোষী নয়, তাও জেনে গেছে সব্বাই। এমন সময় লোকটার সঙ্গে জেলের কর্তার দেখা। লোকটাকে শুদানো হল, সে কেমুন কর‍্যা জেল থেক্যা পালাল। ওই তালা খুলা তো খুব সুজা কাজ লয়। কুন ম্যাজিকে সে বের হইল? লোকটা কইল, সবই নকশার মদ্যে নকশা। আমার বিবি হল তাঁতি। সে অনেক কষ্ট কর‍্যা খুঁজেপেতে বাহির কর‍্যা জেলের তালা বানানো লোকটাকে। তার পর তার কাছ থেক্যা জেন্যা নেয় তালার নকশা। তার পর সে একটা জায়নামাজ বোনে আর সেই জায়নামাজে সেই নকশা এঁকে দেয় এমন জায়গায় যেখানে রোজ আমাকে সেজদা দিতে হয়। আমি নিজে মিস্ত্রি মানুষ, তাই নকশা দেখেই ভাবলাম আরে এতো তালার ভিতরের নকশা। আমি জিনিস বানাবার অজুহাতে আমার হাতিয়ার আনালাম আর গোপনে বানাইয়া ফ্যাললাম ওই তালার চাবি। ও ভাবেই আমি বাঁচলাম অত্যাচার থেক্যা, বন্দীদশা থেক্যা।
তাই আপনাদের কইছি বাপজান, আকাশে উইড়্যা, বা দেয়াল ভেদ কইর‍্যা কিংবা আগুনের মদ্য দিয়া সক্কলে নকশাটা জেন্যা ল্যান, তারপর সেই নকশা দিয়া ঘুচান আপনার বন্দীদশা। তবে বাপজানেরা মুনে রাখব্যান, ওই স্যাকরার কতা। ব্যাচবার সুময় নকশা ছ্যাঁচা, কিনবার সুময় লয়। আলজিহ্বাতে আলেক শহর আল্লা বসে রয়েছে। 
আল্লা আলেক শহরে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন