শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৯

অঞ্জন আচার্যের গল্প - যে রাতে তারাটি খসে পড়েছিল


বিদ্যুতের অভিযান যেখানে শেষ সেখান থেকেই শুরু আমার স্বপ্ন
এখন যাকে কাঁটাঝোপ গলা টিপে মেরেছে।
—রাম বসু



ময়রার কারখানার বাসি কড়াইয়ের তলার মতো মুখ করে মাথার ওপর ঝুলে আছে আকাশ। ওখানে মেঘের আড়ালে বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে থাকা জোনাকি পোকার মতো তারাদের মশাল মিছিল জ্বলছে মিটিমিটি। দরিদ্র বিধবার পুরানো মলিন শাড়ি পরে চাঁদটিও হারিকেনের আলো বুকে নিয়ে ধুকছে পাশে বসে। পশ্চিম কোণের একপাশ থেকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রুপার পয়সার মতো অগুন্তি তারার মাঝখান থেকে অকারণে জাম পড়ার মতো করে আলটপকা খসে পড়ে একটি। পড়ন্ত তারা দেখে নাকি মনে মনে চেয়ে নিতে হয় কিছু। ওতে নাকি মনোবাঞ্ছা পূরণ হয়। ওই দেখে সঙ্গে সঙ্গেই ঘড়া ভর্তি সোনার মোহর চেয়ে বসেন অনিল মাস্টার। তিনি জানেন, তার বাপ-ঠাকুর দা জানেন, দেশভাগের আগের বছর হিন্দু-মুসলমানে যে রায়ট লাগে, সে বছরই কোনো এক রাতে গোপনে ইন্ডিয়া চলে যায় নিতাইদের পরিবার। তাদের পতিত বাড়ির পেছনের ঝোপে লুকিয়ে থাকা শেওলাজমা পুকুরটিতে বড় বড় হাড়ি ভর্তি হীরা-মানিক-জহরত ডুব মেরে আছে; গ্রামের কমবেশি সবাই সে-কথা শুনে শুনে বড় হয়েছে। সাহস করে সেই পুকুরে ডুব দেয় না কেউ। ওই পুকুরে নাকি নাগিনী আছে, পা ডুবালেই প্যাঁচিয়ে টেনে নিয়ে যায় অতলে। যে ক’জন পা বাড়িয়েছে, পরের দিন সকালে ফুলে ঢোল হওয়া শরীর ভাসতে দেখা গেছে তাদের। সেই ভয়ে অগত্যা কপালে আঙুল ঠুকে মা জগদ্বাত্রীর নাম জপতে জপতে অনিল বড়াল বলে ওঠেন— “আমার সাধ পূরণ করো মাগো। এক ঘটি ধন পেলেই চলবে। এ আর এমন কি! তোমার কাছে সে তো নস্যি! দিব্যি করছি, তোমায় আমি সোনার নোলক গড়িয়ে দেবো। জয় মা জগদ্বাত্রীর জয়।”

অন্ধকারের চাদর মুড়িয়ে অনিল মাস্টার ফিরছিলেন বাড়ির দিকে। টার্চ লাইটের সরু নলের আলো ফেলে আঁধার কেটে চলছিলেন তিনি। সন্ধ্যার দিকে খানিকটা বৃষ্টি হবো হবো করছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হলো না। কেমন যেন নতুন বউয়ের মতো অভিমানি মুখ করা আবহাওয়া ঘুরপাক খাচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে। একটা বোটকা হাওয়া চক্কর খাচ্ছে বাতাসে। আজ ছিল হাটের দিন। প্রতি রোববারই আমডাঙা বাজারে হাট বসে। সেখান থেকেই ফেরা হচ্ছিল অনিলের। হাতে হাঁপানির ওষুধ। শ্বাস তো নয়; যেন আমপাতার বাঁশি বাজিয়ে চলছে বিকাল থেকে পুষ্প রানী। ছেলে সুনীল গিয়ে মায়ের এ হাপের টানের খবর দিয়ে এসেছিল স্কুলে গিয়ে— মা বলেছে, বাড়ি ফেরার পথে যেন লতিফ কাকার দোকান থেকে পথ্য আনা হয়। 

হাটের দিন লতিফ মাস্টারের ডিসেপেন্সারিতে বসে একটু খুশগল্প করতে ভালোই লাগে অনিলের। কত শত মানুষের দেখা মেলে হাটে। দূরের গ্রাম, আরো দূরের গ্রাম থেকেও হাঁটা পথে, নৌকায় চড়ে, গাড়িতে ঝুলে মালপত্তর নিয়ে হাজির হয় ঠিকঠাক সবাই। সকালের পর থেকেই হৈহুল্লোর চলে। বিকালের পর থেকে মরে যেতে থাকে মানুষের আওয়াজ। সন্ধ্যার পর কোলাহল দখল করে নেয় নৈঃশব্দ্য। তখন হাট বসে নীরবতার। এখানে ওখানে ছড়িয়ে থাকা শাকের পাতা, শুকনো খড়, কাঁচা গোবর, পোকায় খাওয়া আলু, ভাঙা পটল, ছাগলের গুটিগুটি মল— এমন কত কিছু যে চোখে পড়ে অনিলের; ভালোই লাগে। এই হদ্দগ্রামে ভৈরব নদের পাড়ের নলডাঙা বাজারে মানুষ আসে; একটা ছুতোতে তো অন্তত আসে। এই মরার গাঁয়ে তবুও মানুষ আসুক। 

নলডাঙা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক অনিল। বলা চলে খিচুরি শিক্ষক। সেখানকার অংক-বিজ্ঞান পড়ায় লতিফ মন্ডল। তবে মাঝে মধ্যে সবই পড়াতে হয় অনিলের মতো। কোনো বিষয়েই বিশেষজ্ঞ হতে হয় না। একরকম দিন পার করে দিলেই হলো। স্কুল শেষে বিকেল বেলায় দোকান খোলে বসেন লতিফ। গত পাঁচ বছর ধরে এই তার কাজ। বাড়ি যেতে ভালো লাগে না। ভালো লাগার কারণও কিছু নেই।

লতিফের দোকানে ওষুধপত্তর বলতে আছে কিছু জ্বর-ঠান্ডা-কাশির সিরাপ, মাথা ব্যাথা, পেটের ব্যামো, কৃমির কিছু বড়ি আর আছে দুটি কোম্পানির কনডমের লম্বা প্যাকেট। লাল ও কালো রঙের প্যাকেট দুটি দোল খায় তার ঘাড়ের পেছনে। এছাড়া বাদবাকি যা দেখা যায়, তার সবই ভুয়া। কাঠের রেকের ওপর ধুলোর স্তরে ডুবে থাকা বাক্সগুলো কেবলই লোক দেখানো। খালি বাক্স দিয়ে সাজানো ছোট বেড়ার ঘরটিকে মনে হয় মালপত্তরে ঢাসা। এই রোববারেই কিছুটা বিক্রি হয় শেফালি ফার্মেসিতে। পাশের গ্রামের নিবারণ শীল এসে হাত ইশারায় একটা কনডম চেয়ে নিলো এই মাত্র। খবরের কাগজে মুড়িয়ে সেটি যখন নীরবে নিবারণের হাতে তুলে দিচ্ছিল লতিফ, কেন জানি সেই মুহূর্তে তার মৃত স্ত্রী শেফালির কথা মনে পড়ে যায়। নিবারণ আজ রাতে তার বৌকে সোহাগ করবে। অথচ গত পাঁচ-পাঁচটি বছর হলো লতিফ মাস্টারের শরীরে রাতের বিছানায় কোনো নারী ছায়াও মাড়ায়নি। সন্তান-সন্ততিও নেই ঘরে। বাঁজা মেয়েলোক বলে কম গালি হজম করতে হয়নি শেফালিকে। মুখ বুজে সব সহ্য করত, আর রাতে বসে বসে কাঁদতো বিছানায় আড় কাৎ হয়ে। মা হওয়ার বড়ো আকুতি ছিল ওর। কত ওঝা-বদ্যি, হাকিম-কবিরাজ বেটে খাওয়ানো হলো, কোনো কিছুতেই কিছু হলো না। এমনকি ঢাকা শহরে গিয়ে সরকারি ডাক্তারও দেখানো হয়েছে। সমস্যা আর কারো নয়; খোদ লতিফের। শেফালি পুরোপুরি সুস্থ। কিন্তু এ কথা মুখ ফুটে বলবে কি— স্বামীর জাত যায় না তাতে! তাই তো পাড়াপড়শির লতানোপাতানো যা কথা— তা শেফালিকেই কানে ঢোকাতে হয়। শেফালির সমস্যা ধরা পড়লে না হয় কথা ছিল। আরেকটা বিয়ে করে নিতে পারতো লতিফ। শেফালির তো তা করার সুযোগ নেই; তার পক্ষে সম্ভবও না। ফলে যা তাকে দিয়ে সম্ভব তা-ই করে বসে একদিন। বাড়ির পেছনের আমগাছের ডালে শাড়ি পেঁচিয়ে ঝুলে পড়ে সে। বছর পাঁচেক হয়ে গেল সেই ঝুলনযাত্রার ইতিবৃত্ত। বছর দুইএক আগে লতিফের মা ছেলেকে পীড়াপীড়ি করে আবার বিয়ে করে নতুন বউ ঘরে আনতে। পাত্রীও মোটামুটি ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সরদার কবিরাজের মেয়ে ফাতেমা সেই বিয়েতে রাজিও ছিল। কিন্তু সব মিলিয়ে হলো না। নাকি হতে দেয়নি লতিফ? দেবেই-বা কেন? ফাতেমাও যদি পোয়াতি হতে না পারে তবে কলঙ্ক রটবে; ধরা পড়ে যাবে লতিফের অক্ষমতা।

এখন বাজার প্রায় জনশূন্য। তারাভরা আকাশের দিকে নির্বিকার তাকিয়ে অতীতের এইসব অ্যালবাম ঘাটছিল লতিফ। হঠাৎ একটি তারা খসে পড়তে দেখে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এ যেন বহুদিন গুমোট থাকা দীর্ঘশ্বাস!

লতিফের জীবন মানেই বাড়ি, স্কুলের মাস্টারি আর এই ওষুধের দোকান। ঘরে বৃদ্ধ মা আছেন, আর আছে এক মাথা খারাপ বোন লুৎফা। লুৎফার এমনিতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। দিব্যি থাকে। বাড়ির সব কাজ একহাতে করে সে। কেবল গরমের দিন এলেই উল্টাপাল্টা হয়ে যায় সব কিছু। বলা নেই কওয়া নেই কোনো একদিন হয়ত লাফ দিয়ে উঠানে পা মেলে আকাশে ফাঁটল ধরিয়ে কাঁদতে বসে যাবে। অবাধ্য গরুর মতো দড়ি দিয়ে বেঁধেও তাকে টেনে ঘরে নেয়ার সাধ্যি নেই কারো। পুরো গ্রামের মানুষের কাছে তো বটেই, গ্রামের পাশের গ্রাম জলডাঙা, তারপরের গ্রাম হাতিভাঙা এবং তারপরের শম্ভুগঞ্জ পর্যন্ত সেই খবর কারো কানে পৌঁছাতে বাকি নেই যে লুৎফা পাগল। দেখতে শুনতে দিব্যা ভারতীর বোন বলে চালিয়ে দেওয়া যেতে পারে। মুখখানা জামবাটির মতো গোল। বুকের ডাইসটাও তেমনই। শরীরের গাঁথুনি টানটান। আর তাই তো সুযোগ পেলেই লুৎফার স্নানঘরে চোখ ডুবিয়ে রাখে পাশের বাড়ির মাসুম কমিশনারের কুলাঙ্গার ছেলে সুরুজ আলী। 

লুৎফার চেয়ে সুরুজ বছর তিনেকের বড় হলেও একই সঙ্গে খেলতো তারা। একদিন দুপুরে নিতাইদের বাড়ির পিছনের পুকুরের পাশের ভূতুড়ে জঙ্গলে চড়ুইভাতি খেলছিল দুজনে। লুৎফার বয়স তখন কতই-বা, এগারো বারো হবে হয়ত। কী মনে করে একসময় সুরুজ লুঙ্গিটা তুলে তার কালো কুচকুচে শিশ্নটি নাড়িয়ে নাড়িয়ে লুৎফাকে দেখিয়ে বলে ওঠে— ক’ তো লুৎফা এইডা কী? 

এতক্ষণ গোপনে সুরুজ যে সেটি তা দিয়ে যাচ্ছিল— সেদিকে খেয়ালই করেনি লুৎফা। ওটা দেখে ভয়ে চোখ রসগোল্লা হয়ে গেল তার। নিজের হাতের তালুতে চেপে ধরে নিজেরই মুখ। সুরুজের টাক মাথার উত্তুঙ্গ পুরুষাঙ্গটি দেখে ভ্যাঁ করে কেঁদে সব ফেলে দৌড় দেয় লুৎফা। এমন পুরুষ্টু লিঙ্গ এর আগে দেখেনি সে। ওর ধারণা ছিল, শিশ্ন মানেই ছোট্ট ফুলদানির আকারের নুনুর মতো একটা কিছু। লজ্জায় নাকি ভয়ে লুৎফা সেদিন কেঁদেছিল, তা সে-ই ভালো বলতে পারবে। কারো জানার সাধ্যি রইল না। সেদিনের পর থেকে সুরুজের সাথে তার যম্মের আড়ি। কথা বলা বন্ধ, খেলা তো দূরের কথা। দেখলেই নিজেকে আড়াল করে রাখে। সেই ঘটনার কথা আজো কাউকে বলেনি লুৎফা। ওদিকে এর শোধ নিতে চায় সুরুজ। এত সুযোগ থাকতেও লুৎফাকে জোর করে কিছু একটা করতে পারেনি সে। এ যেন তার পৌরুষে ঘা খেয়েছে। শুনেছে পাশের গ্রামের জলডাঙা বাজারের পাশের মাজারে এক ল্যাংটা ফকির বসে। ওই ফকির নাকি বাণ মারতে পারে যে কাউকেই। লুৎফার মাথার চুল একদিন কেড়ে নিয়ে ওই ফকিরের কাছে যায় সুরুজ। বলে— ছেঁকা দিয়ে প্রেমিকা তার নতুন নাগরের সঙ্গে প্রেম করে। তাই ওই খানকি-মাগীকে বাণ মারতে হবে। 

ফকির কিছু টাকা পয়সা নিয়ে, নাক-মুখ দিয়ে হুম-হাম শব্দ করে লুৎফার চুলটাকে মুঠোবন্দি করে ছুঁড়ে মারে। এর মাসখানিক পর থেকে ধরা পড়ে লুৎফার ওই রোগটা। বক কিসে মারা গেল তা কেবল ঝড়ই বলতে পারবে। 

লুৎফার চিকিৎসা সবই চলছে কম বেশি। অভাবী সংসারে এর বেশি কিছু করা আর সম্ভবও না লতিফের একার পক্ষে। বোনের কনভারসন ডিজঅর্ডার ধরা পড়েছে, মানে হিস্টিরিয়া। কিন্তু ভালো করে সেই সাধ্যি নেই শহরের বড় বড় ডাক্তারেরও। কেবল ঘুমের ওষুধ দেয়। খেয়ে খেয়ে পড়ে পড়ে ঘুমায় লুৎফা। সারাদিন ঘুমানোর পর সে আজ এই সাঁঝের বেলায় উঠানের এক কোণে চুল মেলে বসে আছে একা। ঘর থেকে এক ছড়া আলো তার গায়ে পড়েছে মৃদু। দূর থেকে অন্ধকার গায়ে মেখে ঝোপের ভেতর থেকে এ দৃশ্য দেখ যাচ্ছে সুরুজ আলী। লুৎফার ওড়না ছাড়া সুঠোল বুকের দিকে চেয়ে থেকে শরীরে তাপ নিতে থাকে সে। কী মনে করে হঠাৎ আকাশের দিকে তাকায়। দেখে, একটি তারা খসে পড়ছে। আর অমনি লুৎফাকে ভোগ করার বাসনাটা চেয়ে নেয় মনে মনে। 

মাথার ওপর হা করা কালচে আকাশ। লুৎফার চোখ ওই দিকেই ভিঞ্চির মোনালিসার মতো স্থির। সন্ধ্যার পর মেয়ে মানুষের চুল খুলে রাখা অমঙ্গল— মায়ের এ কথায় গা করেনি লুৎফা। এমন সময় হঠাৎ তারাময় আকাশে খসে যাওয়া একটি তারা দেখে আনমনে হেসে ওঠে সে। রহস্যময় কণ্ঠে বলে উঠে— সুরুজ্জার চোখ দুইডা আমি ছেনি পুড়ইরা গাইল্যা দিয়াম। হারামির বাইচ্যা খালি আমারে দ্যাহে, খালি দ্যাহে আর দ্যাহে...।



লেখক পরিচিতি :
অঞ্জন আচার্য। 
কবি। গল্পকার। সাংবাদিক।
জন্ম ময়মনসিংহ শহরের প্রাণকেন্দ্র গাঙ্গিনারপাড়ের অধুনালুপ্ত লালালজে (স্থানীয় ভাষায় যা ‘লাইলিপট্টি’ নামে পরিচিত ছিল)। 
প্রকাশিত গ্রন্থ : জলের উপর জলছাপ (কাব্যগ্রন্থ, শুদ্ধস্বর), আবছায়া আলো-অন্ধকারময় নীল (কাব্যগ্রন্থ, বিজয় প্রকাশ), তুমুল কোলাহলে কুড়াই নৈঃশব্দ্য (কাব্যগ্রন্থ, অনুপ্রাণন প্রকাশন), স্বপ্নের চোখে ঘুম (কাব্যগ্রন্থ, বেহুলাবাংলা), ঊনমানুষের গল্প (গল্পগ্রন্থ, দেশ পাবলিকেশন্স), রবীন্দ্রনাথ : জীবনে মৃত্যুর ছায়া (গবেষণা-প্রবন্ধ, মূর্ধন্য), রবির জীবনে মৃত্যুশোক (গবেষণা-প্রবন্ধ, আত্মজা পাবলিশার্স, কলকাতা), মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় (জীবনীগ্রন্থ, কথাপ্রকাশ), আমিই অ্যালবার্ট আইনস্টাইন (জীবনীগ্রন্থ, উৎস প্রকাশন)।
 ইমেইল : anjon_acharya@yahoo.com









কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন