শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামকে নিয়ে গল্পপাঠ ওয়েবজিনের বিশেষ আয়োজন

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কথনশৈলী, ভাষা আর গল্পকাঠামোর নতুনত্ব প্রথাগত গল্প থেকে আলাদা । তাঁর লেখা অনেকটাই অপ্রচলিত ও নিরীক্ষাধর্মী। কেউ কেউ তাঁকে উত্তর আধুনিক লেখক হিসেবে শ্রেণিকরণ করেন। অ্যাকাডেমিক প্রবন্ধ ছাড়াও তিনি বাংলা ও ইংরেজীতে সমাজ, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্প বিষয়ে অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন। আশির দশকের শুরু থেকে ‘সংবাদ’ এর সাহিত্য বিভাগে তিনি ‘অলস দিনের হাওয়া’ নামে নিয়মিত কলাম লিখে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। গল্প, উপন্যাস ও নাটক লেখা ছাড়াও তিনি প্রচুর সাহিত্য অনুবাদ করেছেন। এমনকি চিত্রকলার উপরও তাঁর লেখা রয়েছে। বাংলা একাডেমী পুরষ্কারপ্রাপ্ত এই গল্পকারকে নিয়ে এ সংখ্যার গল্পপাঠে রয়েছে বিশেষ আয়োজন। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের  প্রতিকৃতি এঁকে দিয়েছেন শিল্পী তাজুল ইমাম। 
কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের  জন্ম ১৮ জানুয়ারি ১৯৫১ সিলেটে। ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রী লাভ করেন। পরে হেটিয়েসবার্গের ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন মিসিসিপি'তে ফুল্ব্রাইট স্কলার হিসেবেও পড়াশুনা করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদুয়ালয়ে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। অবসর নেওয়ার পরে বর্তমান ইউনিভার্সিটি অফ লিবারেল আর্টসে অধ্যাপনা করছেন। 

পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন শিক্ষকতা। সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কথনশৈলী, ভাষা আর গল্পকাঠামোর নতুনত্ব তাঁর রচনাকে পাঠকপ্রিয় করেছে এবং কথাসাহিত্যিক হিসেবে তাঁকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছে।  সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার পান ১৯৯৬ সালে। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক পেয়েছেন।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের উল্লেখযোগ্য বইয়ের তালিকা
------------
স্বনির্বাচিত শ্রেষ্ঠ গল্প 
থাকা না থাকার গল্প 
কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প 
প্রেম ও প্রার্থনার গল্প 
সুখদুঃখের গল্প
বেলা অবেলার গল্প
একাত্তর ও অন্যান্য গল্প 
তালপাতার সেপাই ও অন্যান্য গল্প
কয়লাতলা ও অন্যান্য গল্প
উপন্যাসসমূহ
------------------
আধখানা মানুষ্য
দিনরাত্রিগুলি
আজগুবি রাত
তিন পর্বের জীব
যোগাযোগের গভীর সমস্যা নিয়ে কয়েকজন একা একা লোক
 ( ব্রাত্য রাইসু সহযোগে কানাগলির মানুষেরা)

প্রবন্ধ ও গবেষণাগ্রন্থ 
------------------------------
নন্দনতত্ত্ব
কতিপয় প্রবন্ধ 
লেখাজোকার কারখানা
অলস দিনের হাওয়া
মোহাম্মদ কিবরিয়া (সুবীর চৌধুরীর সহযোগে)
রবীন্দ্রনাথের জ্যামিতি ও অন্যান্য শিল্পপ্রসঙ্গ
সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কয়েকটি গল্প
একজন লেখককে গভীরভাবে জানার জন্য একসঙ্গে বেশ কিছু লেখা পড়ার প্রয়োজন। দুএকটি লেখা পড়ে তাঁকে বিবেচনা যায় না। সেকারণে একসঙ্গে অনেকগুলো গল্প প্রকাশ করা হয়েছে। 
১. একটি অসমাপ্ত গল্প 
২. খড়ম
৩. পরকীয়া
৪. অপমৃত্যু 
৫. মহাজাগতিক 
৬.খোয়াব 
৭. ব্রিফকেস 
৮. গর্ত
৯. কাঠপোকা 
১০. একাত্তর 
১১. অল্টার ইগো
১২. পাতামৃগ  
১৩. স্নেহা
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম'এর প্রবন্ধ 
মানুষ ও মিনোটর : লাতিন আমেরিকার উপন্যাস

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সঙ্গে কুলদা রায়ের তিন বছর আগে ঘণ্টা দুয়েকের মতো আলাপ হয় নিউ ইয়র্কের হিলসাইড এভেনিউএ। সে আলাপের মধ্যে অধিকাংশটাই জুড়েই ছিল তাঁর লেখালেখি নিয়ে--লেখালেখির কলকব্জা বিষয়ে। এ প্রসঙ্গে বাংলা ভাষার কয়েকজন লেখকের লেখা নিয়েও আলোচনা হয়। হয় বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যের বর্তমান ধারার লেখালেখি নিয়ে কথাবার্তা।

সময় খুবই কম ছিল। সেজন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হওয়ার সুযোগ কম ছিল। তবুও এটা একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার। এবং লেখক ও মননশীল পাঠকের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার। মূলত সৈয়দ মনজুরুল ইসলামই কথা বলে গেছেন। তাঁকে খুব বেশি প্রশ্ন করার দরকার হয়নি। কুলদা রায় মাঝে মাঝে সূত্রধরের কাজ করেছেন মাত্র।

পড়ুন এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারটি--
--কুলদা রায়
আরো দুটি সাক্ষাৎকার পত্রস্থ হলো--
 সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের সাক্ষাৎকার :
--স্বকৃত নোমান
পাঠপ্রতিক্রিয়া

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের বইপত্র আমাদের কাছে খুব বেশি ছিল না। গল্পপাঠের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক মৌসুমী কাদের ঢাকা থেকে আসার সময়ে দুটি গল্পের বই ও একটি প্রবন্ধের বই নিয়ে আসেন। তাঁর অন্য বইগুলো বইয়ের দোকানে তিনি পাননি সে-সময়ে। পরে গল্পকার রুখসানা কাজল দুটি বই স্ক্যান করে আমাদেরকে পাঠান। রিটন খানের মাধ্যমেও দুএকটি বই সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলোই গল্পপাঠের বেশ কয়েকজন লেখক ও আলোচকের কাছে পাঠানো হয়। দুমাস সময় দেওয়া হয়েছিল। বইমেলার লেখার জন্য কেউ কেউ ব্যস্ত আছেন বলে কেউ কেউ লেখার সময় বের করতে পারেননি। কেউ কেউ অন্যান্য ব্যস্ততার কথাও বলেছেন। আবার কেউ কেউ দেবেন বলেছেন। এলেই সেগুলো গল্পপাঠে প্রকাশ করা হবে। 
অমর মিত্র
পুরুষোত্তম সিংহ পশ্চিম বঙ্গের তরুণ সমালোচক। এর আগে তিনি সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কোনো লেখাই পড়েননি। তাঁকে দুটো বই পাঠানো হয়েছিল। তাঁর পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখে পাঠিয়েছেন।
বদরুন নাহার, সাদিয়া সুলতানা এবং নাহার তৃণা গল্পকার। এবং তীক্ষ্ণ পাঠক। তারা আলোচনা করেছেন গল্পপাঠের দৃষ্টিতে। আরো কয়েকটি পাঠপ্রতিক্রিয়া আসবে। এলে সেগুলো এখানে জুড়ে দেওয়া হবে।

প্রবন্ধকার : পুরুষোত্তম সিংহ
বদরুন নাহার

সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের কয়েকটি গল্পপাঠ 
সাদিয়া সুলতানা
নাহার তৃণা
তরুণ গল্পকারদের কাছে আমরা পাঁচশত শব্দের মধ্যে সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের লেখার পাঠ-অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখার অনুরোধ করা হয়েছিল। দুঃখজনক হলো তারা সাড়া দেননি। লেখকরা যদি লেখকদের লেখা না পড়েন, পাঠ-অভিজ্ঞতা না প্রকাশ করতে চান--তবে সেটা সৃষ্টিশীল সাহিত্যের জন্য সুখবর নয়। এ বন্ধ্যাত্ব অচিরেই কাটবে বলে আমরা আশা করি।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন