শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

সিলভিয়া প্লাথের গল্প : গৃহবধূদের গল্প

অনুবাদ: রোখসানা চৌধুরী

রোজ যখন পেছনের দরজা থেকে তাগাদা দিচ্ছিল তখনো এস্থার উপরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে।

‘এস্থার, তুমি এখনো রেডি হওনি?’

রোজ তার অবসরপ্রাপ্ত স্বামীর সঙ্গে এক বিশাল প্রাসাদোপম বাড়িতে বাস করত। এ বাড়ির সঙ্গেই ছিল এস্থারের মার্বেলের উঠানঅলা কাছারিঘর।


মার্বেলগুলো রাস্তাঘাটে পাওয়া যেনতেন পাথর ছিল না। তবুও চৌকোনা ধারগুলো অনেক বছরের জুতো আর খুরের আঘাতে মসৃণ হয়ে এসেছিল। মার্বেলগুলো গজাল বসানো মজবুত দরোজা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, তারপরেই বিশাল হলের সঙ্গে রান্নাঘর আর হেঁশেল। বৃদ্ধা ব্রমহেড পড়ে গিয়ে কোমরে আঘাত পেয়ে অচল হয়ে পড়া পর্যন্ত এইসব পরিষ্কারের কাজে নিয়োজিত ছিল। তার বয়স ছিল নব্বই, কাজে অচল হওয়ার সুবাদে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

ওক কাঠের দরজাটা মূলত ছিল খিড়কি দরজা। অনিয়মিত অতিথিরা এই দরজাটা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করত। সামনের দরজা ছিল হলুদ রঙা। দুই পাশে ঝাঁঝালো ঘাসের ঝোঁপ সামনের এক একর জায়গা জুড়ে, সূঁচালো বিছুটি বিছানো পথ। এ পথের মাথায় চার্চ অবস্থান করছিল। চারপাশ জুড়ে ঝিনুকের মতো পাথরে সুসজ্জিত ছিল সেই ধূসর স্বর্গ।

বাড়ির সামনের ফটকটি খুললে কবরখানা দেখা যায়। এস্থার তার মাথার পাগড়িটা বারবার খুলে কানের চারপাশে দিয়ে ঘুরিয়ে ঠিক করতে করতে গায়ের কাশ্মিরী শালটাও একটু ঢিলেঢালা করে নিচ্ছিল, যাতে তাকে মোটা দেখালেও অন্তত আট মাসের গর্ভবতী বলে মনে না হয়।

রোজ তাকে নাম ধরে ডেকেছিল অথচ কলিং বেল বাজাতে পারত। মনে মনে সে দেখতে পাচ্ছিল, উৎসুক দৃষ্টিতে রোজ ঘরে ঢুকে পড়েছে আর বসার ঘর থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত বাচ্চার খেলনা এলোপাতাড়ি ভাবে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এস্থার কখনো বেল বাজানো ছাড়া বাড়িতে ঢোকার পক্ষপাতি না। কিন্তু সব সময়ই ব্যাপারটা ঘটছে। পোস্টম্যান করছে, দোকানী, রাঁধুনী আর এখন কিনা রোজও -যে কিনা একজন ‘স্থায়ী লন্ডনবাসী’ যার এইসব ম্যানার্স অনেক বেশি ভালো জানার কথা।

​একদিন এস্থার তার স্বামী টমের সঙ্গে উচ্চস্বরে তর্ক করছিল,তাকে ঝগড়াই বলা যায় আর কি, ঠিক তখনই একগাদা চিঠিপত্র আর ম্যাগাজিন নিয়ে হাতে পোস্টম্যান এলো। পোস্টম্যানের ‘সুপ্রভাত’ চিৎকারটি ফ্যাকাশে হয়ে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল আর এস্থারের মনে হচ্ছিল যেন সে কোন গুপ্তচরের নজরবন্দী হয়ে আছে। এরপর কিছুদিনের জন্য সে ছিটকিনি লাগানোর নিয়ম করে দিয়েছিল। তবুও দেখা যেত-- মুদী অথবা ফেরিওয়ালা এসে অভ্যাসবশত খিড়কি দরজা খোলার জন্য ঝাঁকাতো। খোলা না পেয়ে বেল বাজিয়ে পুনর্বার সর্বশক্তি নিয়ে দরোজা ধাক্কাতে থাকত যতক্ষণ পর্যন্ত না দরোজা কেউ খুলতে আসে। এই দ্বিগুণ বিরক্তি সহ্য করতে না পেরে শেষে এস্থার পুরোনো নিয়মেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল। তবে এরপর টমের সঙ্গে তর্কযুদ্ধের সময় গলার স্বর যাতে বেশি ওপরে না ওঠে সেই চেষ্টা করে যেত।

​এস্থার যখন নেমে এল, রোজ তখন দরজার বাইরে অপেক্ষা করছিল, তার পরনে ছিল সাটিন কাপড়ের ল্যাভেন্ডার হ্যাট, চেক টুইডের কোট। তার পাশেই আরেকজন নারী দাঁড়িয়েছিল। তার সোনালী চুলের, উজ্জ্বল নীল চোখ। ভ্রু ছিল না। মুখটি বেশ কমনীয়। তার নাম মিসেস নোলান। সে হোয়াইট হার্টের বিখ্যাত মদের দোকানের মালিকের স্ত্রী। রোজ জানালো, মিসেস নোলান কখনোই মাতৃ সমিতির এই সভায় কখনো যায় নি। কারণ তার সঙ্গে যাওয়ার মতো কেউ নেই। তাই আজ রোজ তাকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে।

--‘রোজ’ প্লিজ কিছু মনে করো না। যদি দেরি হয় ফিরতে—এ কথাটা আমি একটু টমকে জানিয়ে আসি । এস্থার যখন দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালো তখন সে অনুভব করল রোজ পেছন থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে তার দস্তানা, চামড়ার হিল জুতো আর হ্যাট দেখছিল। এস্থার বাগানে গিয়ে দেখল ঘর্মাক্ত টম নতুন তৈরি করা মাটিতে বেরি ফলের চারা রোপণ করছে। অন্যদিকে তাদের শিশুকন্যাটি লাল মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর কোলে কতগুলো ময়লা মাটি নিয়ে বড় চামচ দিয়ে খেলছে। দূর থেকে এস্থার টমের খোঁচা খোঁচা দাড়ি ভরা মুখ নিয়ে বাগান করা আর বাচ্চার মাটি কাদায় গড়াগড়ি করার দৃশ্য দুটোর মধ্যে তার সমগ্র জীবনের দুর্দশার কারণ দেখতে পেল যেন। সে টমকে উচ্চস্বরে জিগ্যেস করলো তার যদি ফিরতে দেরি হয় তাহলে সে বাবুকে দুটো ডিম সিদ্ধ করে খাওয়াতে পারবে কিনা। টম কিছু একটা সম্মতিসূচক জানালো কিন্তু তা নভেম্বরের ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিলিয়ে গেল। শিশুটি মায়ের উচ্চকণ্ঠে আকৃষ্ট হয়ে এদিকে তাকালো, এস্থার তার দস্তানার কথা ভুলে গিয়ে মাটি মাখা বেড়ার গেট খুলে বাচ্চার হাত থেকে ময়লাগুলো দূরে ছুঁড়ে মারল।

​গেট বন্ধ করে দিয়ে তিনজন হাঁটা ধরল। রোজের কুকুরছানা দুটো এস্থার আর মিসেস নোলান বয়ে নিয়ে চলল। টলমল পায়ে তারা তাদের সাজ পোশাকের শোভা প্রদর্শন করতে করতে রোজের বাড়ির পাশ দিয়ে, তার পাশে এক বৃদ্ধের কুটিরের পাশ দিয়ে গেল। এ কুটিরে বৃদ্ধটি তার চিরকুমারী বোনের সঙ্গে বাস করতেন। এরকম অনেকের কৌতুহলী চোখের সামনে দিয়ে তারা পাথুরে পথ ধরে এগিয়ে চলল।

‘আমরা আজ চার্চে একটা মিটিং এ যোগ দেব।’ বলতে বলতে সে নিজে মুখের ভেতর একটা পেপারমিন্ট নিয়ে টিনের কৌটোটা বাকি দুজনের সামনে বাড়িয়ে ধরল। তারা কেউ নিল না অবশ্য।

‘কোন নতুন সদস্য যোগদানের সময় ছাড়া আমরা সব সময় চার্চে মিটিং করিনা’।

মিসেস নোলান তার ফ্যাকাশে চোখজোড়া আকাশের দিকে ফেরালো। সেখানে একটা চাপা আতঙ্ক, অথবা কী একটা যেন ছড়ানো ছিল, এস্থার ঠিক ভেবে পেল না।

‘তুমি কি এই শহরে নুতন?’ এস্থার জানতে চাইল।
মৃদু ফ্যাকাশে হাসির সঙ্গে মিসেস নোলান জানালো--‘আমি এখানে ছয় বছর হলো আছি।’

‘তাহলে তো তুমি এখানে সবাইকে চেনো।’

‘খুবই সামান্য।’ নিষ্কম্প কণ্ঠে সে বলল।

এস্থারের বিস্ময়ের সীমা রইলো না। মিসেস নোলানের মতো একজন দৃষ্টিনন্দন, শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা ইংরেজ নারী যে কিনা আবার পাব কিপারের স্ত্রী সে-ই যদি ডেভনে ছয় বছর থাকার পর নিজেকে বহিরাগত আগন্তক মনে করে, তাহলে তার মতো আমেরিকা থেকে আসা সত্যিকারের বহিরাগত কীভাবে এই সমাজে প্রবেশের আশা রাখতে পারে?

তিন মহিলা বাহুতে বাহু রেখে এগিয়ে যাচ্ছিল উঁচু নিচু পথ ধরে এস্থারের ঝোঁপের বেড়াওয়ালা সীমানা পার হয়ে। সেখানে দেয়ালের উপরে একটা লাল রাজহাঁস চুপচাপ বসেছিল। গীর্জার দেয়ালগুলোর উপর গম্বুজগুলোতে শ্যাওলা ধরে গেছে, বহুকালের ব্যবহারে জীর্ণ পেভমেন্ট আর রাস্তাগুলো নদীর ঢাল বেয়ে এঁকে বেঁকে বয়ে গিয়েছে।

কসাইরা তাদের দোকান খুলে মাংস সাজাচ্ছিল। কানাগলির মাথায় পুলিশ বক্স আর পাবলিক যানবাহনের স্টপেজ। এস্থার দেখতে পেল স্কুলের সামনে বাচ্চাদের মায়েরা জটলা করছে।তাদের কেউ কেউ একা হলেও বেশির ভাগই ছিল দলবেঁধে। তারা প্রত্যেকে উল বোনা আর সেলাইয়ের সরঞ্জামের ভারে নুয়ে পড়েছে। ব্যতিক্রম ছাড়া কর্কশ আর রুক্ষ বলে বয়স না হলেও সবাইকে বয়োবৃদ্ধ দেখাচ্ছিল।

​এস্থার আর মিসেস নোলান গেটে দাঁড়িয়ে পড়ল, রোজ তাদের ঠেলা দিয়ে ভেতরে নিয়ে গেল। সেখানে বেশ বড়সড় ভোজের আয়োজন চলছিল।

চার্চের ভেতরটা খুবই ছিমছামভাবে সজ্জিত। এস্থার সেই মুহূর্তে অনুভব করতে পারল, সে কখনোই রাতের প্রার্থনা সঙ্গীতে অংশগ্রহণ করতে ভেতরে ঢোকেনি। ইতোমধ্যে মহিলারা জমায়েত হয়ে অনেকগুলো দখল করে ফেলেছিল প্রায়। তারা হাসছিল, গুনগুন করছিল, --যে দিকে তাকানো যায় সেদিকে তাদের ঘন তরল গুঞ্জন ছড়ানো। রোজ সবাইকে নিয়ে একটা শূন্য আসনের অর্ধেকটা জুড়ে বসে পড়ল। রোজই শুধু হাঁটু গেড়ে বসেছিল। এস্থার চোখ বন্ধ করে মাথা নিচু করে ছিল। কিন্তু তার ভেতরটা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা শূন্য। তাই কিছুক্ষণ পর সে চোখ খুলল আর মাথা সোজা করে তাকিয়ে থাকল।

এই সমাবেশে সবার মাথায় হ্যাট ছিল। শুধু মিসেস নোলানের কোনো মাথায় হ্যাট ছিল না। এস্থার তার দৃষ্টি অনুসরণ করল, মিসেস নোলান তার ভ্রু উঁচু করে তাকালো, ভ্রু মানে যেখানে এক সময় ভ্রু ছিল আর কি। সে মৃদুকন্ঠে বলল, ‘আমি এখানে খুব কম এসেছি।’ এস্থার তার সঙ্গে হ্যান্ডশেক করে জানালো সে নিজেও তাই করবে। এই কথাটি একেবারেই সত্যি ছিল না। কারণে শহরে আসার এক মাসের মাথায় দেখা গেল সে প্রার্থনা সঙ্গীতগুলোতে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে ব্যতিক্রম না হলে। কিন্তু কিছুদিন কেটে যাবার পরই কেমন একটা অস্বস্তি শুরু হল। রবিবারের সকাল এমনকি বিকালেও। শহরের চারপাশ জুড়ে যখন গীর্জার ঘন্টাগুলো প্রবল উদ্দীপনায় নাছোরবান্দার মতো বাজতে শুরু করত তখন প্রায়ই এস্থারের পালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা জেগে উঠত।

কিছুদিন পর, তারা যখন সবেমাত্র বাড়িতে ফিরেছে টম তাকে জানালো কেউ তাকে ডাকছে, নিচের ড্রইংরুমে বসে আছে। এস্থার ঘরে ঢুকে দেখল প্যাকিং বাক্স থেকে বের করা এলোমেলো বইয়ের স্তুপের আড়ালে স্বয়ং গীর্জার যাজক মহোদয় (রেকটার) বসে আছেন।

তিনি ছোটখাট একজন মানুষ। তাঁর গায়ের রঙ বিবর্ণ ধূসর, কানগুলো খাড়া। পরনে পুরোহিতের পোশাক আর সদাহাস্যময় মুখ। আইরিশ উচ্চারণে তিনি বলে যাচ্ছিলেন তার কেনিয়ায় থাকার সময়কার গল্প। তার ছেলেমেয়েরা অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় আছে আর স্ত্রী ইংরেজ বংশোদ্ভূত।

এস্থার আশঙ্কা করছিল যে কোন মুহূর্তে যাজক মহোদয় গীর্জায় না যাওয়ার প্রসঙ্গটি উঠাবেন। কিন্তু না, তিনি এস্থারের শিশুটিকে কোলে হাঁটুর ওপরে নিয়ে দোলাচ্ছিলেন। গল্প শেষে তার ধূসর কালো অবয়বটি ধীরে ধীরে সামনের গেট দিয়ে মিলিয়ে গেল।

মাসখানেক পর, তখনো গীর্জার ঘন্টা একইভাবে তাকে প্রেততাড়িতের মতো ভীত সন্ত্রস্ত আর আতঙ্কিত করে তোলে। তখন এস্থার সিদ্ধান্ত নিল যাজক মহোদয়কে একটি চিঁঠি লিখবে। এস্থার মনের ক্ষোভকে চেপে রেখে সবিনয়ে এইসব ধর্মীয় প্রথার যৌক্তিক ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি লিখে ফেলল।

চিঠি পাঠানোর পর থেকেই সে খুব সতর্কতার সঙ্গে প্রতিদিন অপেক্ষা করত। রোজ বিকেলে টমের সঙ্গে চা কেক খাওয়া শেষ হলে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলত। তৃতীয় দিন, সে যখন বাচ্চার জামা সেলাই করছিল মোটামুটি নিশ্চিন্ত মনে তখনই দেখতে পেলো তাদের সামনের ঝোঁপ দিয়ে ঘেরা ফটকের সামনে কার ছায়া পড়ল। একটা শক্ত কালো অবয়ব ধীর পদবিক্ষেপে সূঁচালো বিছুটি মাড়িয়ে এগিয়ে আসছিল।

এস্থার কিছুটা বিস্ময় আর অবিশ্বাসের সঙ্গে যাজককে স্বাগত জানালো। সে খুব দ্রুত বলতে লাগল-- সে এখন ঈশ্বর বিশ্বাসী একত্ববাদী মানুষে পরিণত হতে পেরেছে। কিন্তু যাজক তাকে থামিয়ে দিয়ে জানালো, একজন খ্রিস্টান হিসেবে কাউকে কোন জোর জবরদস্তি খাটানোর প্রশ্নই আসে না, যে কেউই গীর্জায় আসতে পারে। প্রগলভতায় ফুলে ফেঁপে হঠাৎই এস্থার কিঞ্চিৎ দিশেহারাভাবে বেফাঁসে বলে ফেলল যে সে আগে নাস্তিকই ছিল কিন্তু সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। ধর্মীয় গ্রন্থের পাতা খুলে তিনি এগিয়ে ধরলেন। এস্থার ফ্যাকাশে কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে তা গ্রহণ করল।

যদিও বইয়ের সূচীতে ‘পবিত্র আত্মার পুনর্জাগরণ’ জাতীয় শব্দগুলো তার ভেতর প্রবল অস্বস্তি আর বিরক্তি সৃষ্টি করছিল। আর সে এটা বলেও ফেলল যে, ‘আত্মার পুনরুত্থান’ বিষয়ে তার আসলে কিঞ্চিৎ অবিশ্বাস রয়েছে (স্পষ্টভাবে সে বলতে পারল না যে আত্মা বিষয়টাতেই তার কোন বিশ্বাস নেই।)

তবুও যাজককে একটুও বিরক্ত বা ক্রুদ্ধ হতে দেখা গেল না। তিনি শুধু প্রার্থনার ফলপ্রসূতায় বিশ্বা রাখতে বলে গেলেন, আর কিছু না।

‘ওহ, হ্যাঁ, হ্যাঁ আমি নিশ্চয় করব, নিয়মিত প্রার্থনায় যাব এখন থেকে।’ বলতে বলতে তার চোখ ভিজে এসেছিল। এর মানে একটাই হতে পারে যে সে কতটা আবেগায়িত বোধ করছিল ‘বিশ্বাস’ বিষয়ে। অথচ কিছুক্ষণ পরেই বুঝল স্বর্গীয় বিশ্বাস আর নাস্তিক্যবোধের মাঝখানে তার অবস্থান অপরিবর্তনীয়। সে আসলে বিপন্ন বোধ করেছে এ কারণে যে, সে যাজক মহোদয়কে কোনভাবে মনে আঘাত দিতে চায়নি, সে তো আসলে এইসব বিশ্বাস অবিশ্বাসের তর্কে অনাস্থা স্থাপন করেছে সেই কলেজে পড়ার সময় কাল থেকেই, যখন তাদের তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব পড়তে হয়েছিল।

যাজক মশাই পরামর্শ দিয়ে গেল এরপর থেকে সে যেন তার স্ত্রীর সঙ্গে চার্চে যায়। এটা একদিকে এস্থারের জন্য ভালোই হলো। তার ফলে যাজক পত্মী সঙ্গে থাকলে প্রার্থনা সঙ্গীতের সময় নিজেকে ওখানে তার আগন্তক বলে মনে হবে না। রোজ আর সেসিলের মতো চার্চে যাওয়া আনুষ্ঠানিক মানুষদের কিঞ্চিৎ এড়িয়ে চলা যাবে। কথা শেষে যাজক মহোদয় যখন ধর্মগ্রন্থ আর হ্যাট তুলতে উদ্যত হলেন কেবল তখনই এস্থারের খেয়াল হলো যে সে পাদ্রী মশাইকে কোন আপ্যায়নের অনুরোধ করতেই ভুলে গেছে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। চার্চ পুরোপুরি লোকসমাগমে পূর্ণ হয়ে উঠেছিল। যাজক পত্নী মাতৃ সমিতি ইউনিয়নের পুস্তিকাগুলো সরবরাহ করছিল সবার মধ্যে। এস্থার অনুভব করছিল যেন গর্ভস্থ বাচ্চাটি নড়ছে আর ছোট ছোট লাথি দিচ্ছে। সমাহিত শান্ত চিত্তে এস্থার ভাবল, আমি একজন মা, আমার এখানেই থাকা উচিত। চার্চের মেঝের আদিম শীতলতা খুব দ্রুতই তাদের দৃঢ় পদক্ষেপে সরগরম হয়ে উঠতে শুরু করল। রোজ এলো, তারপরই যাজক মহাশয় পবিত্র ধীর পদক্ষেপে দুই সারির মাঝখান দিয়ে এলেন।

সমাবেশ প্রারম্ভিক প্রার্থনা সঙ্গীতের জন্য সুর ধরে ছিল, কিন্তু সমাবেশের আয়োজকরা সম্ভবত দক্ষ হয়ে উঠতে পারেনি তখনো। সঙ্গীতের সুর এলোমেলো হয়ে যাচ্ছিল বারংবার। এরপর যাজক তার নোট পাঠ করলেন। সেখানে তিনি একটা বিব্রতকর উপমা ব্যবহার করলেন ‘শারিরীক এবং মানসিক গর্ভপাত’ বিষয়ে। তিনি তাকেই উদ্দেশ্য করে বললেন কিনা বোঝা গেল না।

রোজ তার মুখে আরেকটা পিপারমেন্ট নিল, আর মিসেস নোলানকে দূর থেকে ঝকমকে পোশাকেও অসুখী দেখাচ্ছিল।

অবশেষে তিন ভদ্রমহিলা বেদীর কাছে হাঁটু গেড়ে বসে মাতৃ সমিতিতে যোগ দিলেন। আয়োজন চলছিল ভালোভাবেই। চারটার দিকে অনুষ্ঠান শেষে যাজক মহিলাদের যাওয়ার অনুমতি দিলেন। এস্থার মিসেস নোলানের সঙ্গে বিদায়ের উদ্যোগ নিল।

রোজ তার অন্য দুই বন্ধুর সঙ্গে রওনা দিল, একজন সবজি ব্যবসায়ীর স্ত্রী ব্রেন্ডা, অন্যজন ফ্যাশন দুরস্ত, এ্যালসেশিয়ান কোলে মিসেস হচকিস।

তুমি কি চায়ের জন্য অপেক্ষা করবে?

আমি তো এলামই সেজন্য, এক কাপ চায়ের আশা তো করতেই পারি, তাই না? --এস্থার মজা করে বলল। মিসেস নোলান জানতে চাইল,‘পরবর্তী বাচ্চা কবে নিচ্ছ?’ ‘যে-কোন মুহূর্তে’ --হাসতে হাসতে বলল এস্থার।

তারা পুলিশ বক্সের কাছাকাছি গলির মুখে এসে বিভক্ত হয়ে গেল। এস্থার আর মিসেস নোলান আলো-আঁধারি একটা ঘরের দিকে অন্য সবার সঙ্গে এগিয়ে গেল। কিন্তু সেখানেও একটা বন্ধ পড়ে থাকা পিয়ানো ছাড়া কোন চায়ের আসরের চিহ্ন চোখে পড়ল না। অন্য মহিলারা দমে না গিয়ে ইতস্তত ভঙ্গিতে এগিয়ে গেল আর পেয়ে গেল দুই পাল্লা বিশিষ্ট সুইং দরোজা। দরজা ঠেলে ঢুকতেই সেখানে উজ্জ্বল আলোর নিচে দেখা গেল সুদৃশ্য কভার সমেত টেবিলে চায়ের কেটলি, প্লেট ভর্তি কেক পেস্ট্রি, সাজানো ছিল ফুলদানিতে চন্দ্রমল্লিকা। কেকগুলো ক্রিম, চেরি, বাদাম আর চিনির কিউব দিয়ে দিয়ে নজরকাড়া ভাবে সাজানো ছিল। ইতোমধ্যে যাজক ও তার স্ত্রী টেবিলের দুই মাথায় অবস্থান নিয়েছিলেন।

​শহরের মহিলারা জমায়েত হয়ে গল্প আড্ডায় মেতে উঠেছিল। চারপাশে হাসি-আনন্দ-কলরব। রোজের গ্রুপের মেয়েরা যাজকের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে টেবিলের এক ধারে ঘন হয়ে বসেছিল। মিসেস নোলানকে অগত্যা যাজকের একদম মুখোমুখি চেয়ারে অস্বস্তিজনক ভাবে বসতে হয়েছিল। যাজক তার ডান পাশে থাকায় বাম পাশটা দেখা যাচ্ছিল না। মিসেস নোলান বেপরোয়া ভঙ্গিতে এস্থারের দিকে ঘুরে বলল ‘এখানে কী কাজ করো তুমি?’ এস্থার বলল, আমার একটা বাচ্চা আছে। বলে নিয়েই লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল, ‘আমি আমার স্বামীর কিছু লেখা টাইপ করে দিচ্ছি’।--একথার পরে রোজ মাঝখানে এসে যোগ করল ‘ওর স্বামী রেডিওর জন্য লেখে।’ মিসেস নোলান জানালো যে সে ছবি আঁকে। এস্থার শুনে বিস্মিত হলো। ‘মূলত তৈলচিত্র করি-- তবে আমি বিশেষ দক্ষ নই।’

‘কখনো জলরঙে চেষ্টা করেছ?’

‘ওহ হ্যাঁ, তবে আমার মনে হয় তোমার চেষ্টা করা উচিত। তুমি ভালো করবে।’

‘তুমি কি আঁকো? পোর্ট্রেট?’

‘না পোর্ট্রেটে আমি ততটা দক্ষ নই’।

‘আচ্ছা এখানে সিগারেট খাওয়া যাবে?’

কৌতুহলী সংকীর্ণ চেহারার মহিলারা চায়ের কাপকে ঘিরে রোজের কাছাকাছি বসেছিল। উসখুশ করতে করতে করতে রোজকে মিসেস নোলান আবার জিজ্ঞেস করল, ‘সিগারেট খাওয়া যাবে এখানে?’

‘মনে হয়না, প্রথম যখন এখানে আসি তখন খুব খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছে এই বিষয়ে।’

মিসেস নোলান তখন সরাসরি অন্য মহিলাদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘ধুমপান করতে পারি আমি?’

চার্চরুমে সিগারেট খাওয়ার বিরুদ্ধে সমস্বরে তারা প্রতিবাদ করে উঠল ।

এস্থার নিষ্পাপভাবে জানতে চাইল, ‘এটা কি অগ্নি নির্বাপক আইনের মধ্যে পড়ে-- নাকি ধর্মীয় এটা কোন বিধি নিষেধ?’

কেউ কোন উত্তর দিল না।

মিসেস নোলান এস্থারের দিকে ঘুরে তার ছেলে সম্পর্কে বলতে শুরু করল।

​হঠাৎ সুয়িং দরজাটা খুলে গেল আর একজন প্রাণবন্ত তরুণী ধূমায়িত ট্রে হাতে ‘সসেজ, সসেজ’ বলে আওয়াজ দিতে লাগল। ঘরের বিভিন্ন দিক থেকে অনুরোধসূচক ডাক আসতে লাগল। খিদের চোটে এস্থারের মাথা ঘুরছিল। মিসেস নোলান আর এস্থার গোগ্রাসে খেতে শুরু করল। খেতে খেতে মিসেস নোলান জানাল লিটল বেনেডিক্টের বাবার (যে কিনা তার দ্বিতীয় স্বামী) রাবার প্ল্যান্ট ছিল কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাড়িতে ফিরে আসতে হয়েছে। রোজ আর মিসেস হচকিসও ফ্রুট কেক আর তিন লেয়ারের চকলেট কেক নিয়ে ব্যস্ত ছিল। এস্থার জানতে চাইল, ‘কেকগুলো বানিয়েছে কে?’ রোজ জানালো ‘যাজক পত্নী বেকিং এর কাজ করে, সেই বানিয়েছে।’ মিসেস হচকিস তার দামী সুদৃশ্য হ্যাট নেড়ে বলল, যাজক মহোদয়ও তাকে এই কাজে সাহায্য করে থাকে। মিসেস নোলান সিগারেটের অভাবে দুই হাত দিয়ে টেবিলে টোকা দিতে দিতে বলল, ‘চলো, এখন ওঠা যাক।’ এস্থার বলল, ‘আমি তোমার সঙ্গে যাব, আমাকে আমার বাচ্চাটার জন্য ফিরতে হবে।’ কিন্তু এর মধ্যে সেই তরুণীটি আবার হাজির হল পটভর্তি গরম চা নিয়ে। দুটি টেবিলে মহিলারা আবার জড়ো হয়ে গেল পারিবারিক জমায়েতের মতো করে, কোন ধন্যবাদ জ্ঞাপন কিংবা ন্যূনতম অনুমতির ধার না ধরে। যাজক পত্নী মাতৃস্নেহে এস্থার আর নোলানের কাধেঁ হাত রেখে শুভেচ্ছা জানালো। এস্থার ভদ্রতাবশে ধন্যবাদ দিয়ে বলল, ‘কেকগুলো দারুণ ছিল, আপনি বানিয়েছেন না?’

‘আরে না, কেক তো বানায় মিসেস ওকেনডেন। তার নিজস্ব বেকারি আছে শহরে। চাইলে তার কাছ থেকে এখন থেকে পাউরুটি-কেক কিনেও নিতে পারবেন।’ তার এই আকস্মিক টাকাকড়ি বিষয়ক প্রস্তাব লুফে নেয়াটাকে এস্থার খুব দ্রুতই মিলিয়ে ফেলল কীভাবে চার্চ জনগণের পকেটের পয়সা, নানা ধরণের চাঁদা আর নৈবেদ্যের মাধ্যমে চলে। এইমাত্র প্রার্থনা সঙ্গীত শেষ করে আসা আবেগায়িত মনটাকে সে আর খুঁজে পেল না আর্শীবাদের বাক্স পর্যন্ত পৌঁছাতে পৌঁছাতে। যে বাক্সটি নিরেট কঠিন কাঠের তৈরি আর মানুষের দানের পয়সার জন্য রাখা থাকে পরবর্তী বছরের উৎসব আসা পর্যন্ত। তারপর চক্রাকারে এই পদ্ধতি বছরভর চলমান থাকে।

এস্থার হঠাৎই আতিশয্য সহকারে বলে উঠল, ‘আমি কেক-রুটি পছন্দ করি খুব।’

যাজক পত্নীতার চেয়ারে ফিরে গেলে সেখানে মধ্যবয়সী নারীদের মধ্যে পোশাক, স্কার্ট টপস হ্যাট বিষয়ক ঘন আলাপে মশগুল হয়ে গেল। অবশেষে যাজক পত্নীর আপ্যায়নের জন্য মহিলাদের মধ্যে ধন্যবাদ জানাতে রোজই দাঁড়িয়ে গেল । সেই বক্তৃতায় ছোট একটা পাদটীকা যুক্ত হয়েছিল স্বয়ং যাজক মহোদয়কে ধন্যবাদ প্রদানের জন্য, কারণ মিসেস হচকিসের বরাতে জানা গিয়েছিল এইসব আপ্যায়নের পেছনে তারও কিঞ্চিৎ অবদান রয়েছে। যাজক পত্নীও প্রচুর করতালির ভেতর দাঁড়িয়ে ফিরতি ধন্যবাদ জানালেন সবাইকে, বিশেষত এস্থার আর মিসেস নোলানের নাম উল্লেখ করে, তাদের মাতৃসমিতিতে যোগদানের জন্য বিশেষ ভাবে অভিনন্দিত করা হলো। এইসব হাসির হুল্লোড় আর খাবারের প্লেট আদান প্রদানের মধ্য থেকে যাজক মশাই সন্তর্পনে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে এসে মিসেস নোলানের পাশে বসতে গিয়ে এস্থারের দিকে তাকিয়ে মাথা ঝাঁকিয়ে এমনভাবে অভিবাদন জানালেন যেন এর মধ্যে তাদের মধ্যে কোন সমঝোতা চুক্তি হয়েছে, বাকিটার জন্য তিনি নোলানের পাশে বসে খুব মৃদুস্বরে কথা বলতে শুরু করলেন। এস্থার কোন ভদ্রতার ধার ধারে না। সে কান পেতে সব কথা শুনতে লাগল কেক পেস্ট্রির প্লেট নিয়ে ব্যস্ত থাকার অজুহাতে।

যাজক মশাই বেশ রসিকতার ভঙ্গিতে মিসেস নোলানের বিব্রত রঙ বদলে যাওয়া মুখের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে আলাপ করতে লাগলেন। আর সবশেষে বললেন তিনি মিসেস নোলানকে ডাকেননি কারণ তিনি তাকে বিব্রত করতে চাননি, যেহেতু মিসেস নোলান ইতোপূর্বে ডিভোর্সি ছিলেন।

​‘আরে না না, ঠিক আছে, ঠিক আছে। এটা আসলে কোন ব্যাপার না।’

বিড়বিড় করতে করতে মিসেস নোলান উঠে দাঁড়িয়ে নিজের পোশাক আর কলার ঠিক করতে লাগলেন। যাজক অবশ্য একইভাবে মৃদু স্বরে বিদায় অভিবাদন জানালেন যা এস্থার মিস করে গেল। সে শুধু ভীষণ দ্বিধান্বিত আর বিরক্ত হয়ে নোলানের এই বিপাকে পড়া দুর্দশার দিকে তাকিয়ে ছিল।

​‘আমার আসলে আসাই উচিত হয়নি। ডিভোর্সি মহিলাদের এখানে স্বাগত জানানো হয় না, আমি জানতাম না।’ ফিসফিস করে বলে যাচ্ছিল নোলান।

‘আরে আজব, এটা কোন কথা হলো নাকি?’ এস্থার এমনিতেই বিরক্ত হয়ে ছিল। এখন বলল, ‘চলো আমিও যাব। এক্ষুণি।’

রোজও নিজের কোটের বোতাম লাগাতে লাগাতে বলল, ‘চলো। আমিও যাব। সেসিলের এতক্ষণে চায়ের সময় হয়ে গেছে।’

এস্থার এক নজর খাবার ঘরের দিকে তাকালো, সেখানে যাজক পত্নী নতুনভাবে আরেক গ্রুপ মহিলাদের সঙ্গে আড্ডায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। টেবিল আবার খাবারে ভরে উঠেছে কিন্তু এস্থারকে আর সেগুলো টানল না এখন। সে বরং মি. ওকেনডেনকে বলল শনিবার তার কিছু রুটি ব্রেড দরকার হবে। মনে মনে এও ভাবল যাজক পত্নী এজন্য নিশ্চয়ই মোটা অংকের টাকা ধার্য করবে চার্চের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার নিমিত্তে।

​মিসেস নোলান সবার আগে বিদায় নিয়ে তার স্বামীর দোকানের দিকে রওনা দিল। নদীর ধারে ইতোমধ্যে নীল কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছিল। তার ভেতর দিয়ে মিসেস নোলানের অবয়ব মিলিয়ে গেল। এস্থার থাকতে না পেরে বলে উঠল, ‘আমি জানতাম না তারা বিবাহ বিচ্ছেদ বিষয়ে এতটা প্রতিক্রিয়াশীল।’

রোজ পকেট থেকে সিগারেট বের করে এগিয়ে দিতে গিয়ে বলল, ‘হুম। তারা এসব পছন্দ করেনা।’ মিসেস হচকিস জানালো, ‘মিসেস নোলান মাতৃ সমিতির সদস্য হতে পারবেন না, চাইলেও না। ভালো কথা তুমি কি একটা কুকুরের মালিক হতে চাও।?

‘কি?’

‘কুকুর, এ্যালসেশিয়ান।’

রোজ বলল, ‘মিসেস হচকিসের এটাই শেষ লট। সবগুলো কালো এ্যালসেশিয়ান বিক্রি হয়ে গেছে। শুধু ধূসরটা বাকি আছে।

‘টম কুকুর অপছন্দ করে , খুব।’

এস্থার নিজের কন্ঠে তীব্র আবেগ লক্ষ্য করে নিজেই অবাক হয়ে গেল।

রোজকে মনে হল খুশিই হয়েছে। বলল, আচ্ছা, আমি তাকে বলে দেব, আমার ধারণা এস্থার কুকুর-টুকুর পছন্দ করে না।

চার্চের দেয়ালের চূড়াগুলো , সবুজাভ কুয়াশায় রহস্যময় দেখাচ্ছিল যেন তাদের প্রাচীন জাদুকরি শক্তি মোহিত করে গ্রাস করে নিয়ে ফসফরাসের দ্যুতি ছড়াচ্ছে।

দুই নারী গীর্জার শেষে সমতোল পথ ধরে শীতল সন্ধ্যায় এগিয়ে চলল বাড়ির দিকে। একজন আরেকজনের বাহুতে বহু রেখে।






অনুবাদক পরিচিতি
রোখসানা চৌধুরী
কবি। প্রবন্ধকার। শিক্ষক।
বাংলাদেশের সুনামগঞ্জে থাকেন।

1 টি মন্তব্য:

  1. পড়লাম। চমৎকার গতিশীল অনুবাদ। কত কত গল্পও যে পৃথিবী জোড়া আছে যা একেবারে মনের কথাই মনকে ছিঁড়ে খুঁড়ে ইনিয়ে বিনিয়ে শুনিয়ে যায়। ধন্যবাদ আপনাকে। রসেবশে বাঁচুন ধুৎতরি বলে হাসুন আর লিখে যান। ভালোবাস জানবেন।

    উত্তরমুছুন