শনিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২০

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে'র গল্প : ক্যানারি পাখিটা একজনের জন্য

ভাষান্তর : সালেহা চৌধুরী 


রেলগাড়ি খুব তাড়াতাড়ি একটা বড় লাল ইঁটের বাড়ি, বাড়িটার একটা বাগান, বাগানে চারটে বিশাল পাম গাছ, আর সেই পাম গাছের নিচে সুদৃশ্য ছায়ায় পাতা টেবিল, পার হয়ে চলে গেল। সেই বাড়ির উল্টো দিকে ছিল সমুদ্র। কাদা ও লাল ইঁটের মাঝখান দিয়ে একটা সরু পথ চলে গেছে, আর সেই কারণে মাঝে মাঝে দেখতে পাওয়া যায় সমুদ্রকে।

আমি পাখিটাকে পালারমোতে কিনেছি। গাড়ির আমেরিকার মহিলা বললেন। -- সেখানে আমরা মাত্র এক ঘন্টা ছিলাম। আর দিনটা ছিল রবিবার। লোকটা বলেছিল পাখির দাম ডলারে দিতে হবে। আমি ওকে এক ডলার আর পঞ্চাশ ্সেন্ট দিয়েছিলাম। 

গাড়ির ভেতরে বেশ গরম। আর আলো জ্বালানো সালোন কমর্ম্পাটমেন্টে আরো বেশি গরম। খোলা জানালা দিয়ে এক ফোটাও বাতাস আসছে না। সেই আমেরিকার মহিলা জানালার ব্লাইন্ড বা বেতের পর্দাটা নামাতেই আর সমুদ্র দেখা যায়নি। মাঝে মধ্যেও নয়। গাড়ির অন্যদিকে কাচের জানালা। তারপর বড় করিডোর। তারপর আবার একটা জানালা। সে জানালা দিয়ে দেখতে পাওয়া যায় ধুলো ধুসরিত তেল ভরা রাস্তা। আর কখনো আঙুরের সমতল ভূমি। আর ওদের পেছনে ধূসর পাহাড়। 

কতগুলো লম্বা চিমনি থেকে ধোঁওয়া উঠছে। মার্সেলেসে আসতেই গাড়িটা আস্তে আস্তে চলতে শুরু করে। তারপর স্টেসনের অনেক গুলো লাইনের একটায় গাড়ি চলতে থাকে। মার্সেলেস স্টেসনে ট্রেন চব্বিশ ঘন্টা থামবে। সেই আমেরিকার মহিলা ডেলি মেল পত্রিকা কিনলেন এবং আধবোতল এভিয়ান মিনারাল ওয়াটার। মহিলা প্লাটফর্ম ধরে একটু হাঁটলেন। কিন্তু গাড়ির কামরা কাছেই ছিলেন তিনি, বেশি দূরে যাননি। একবার ক্যানসএ বারো মিনিট ট্রেন থেমে থাকার সময় তিনি একটু বেশি দূর চলে গিয়েছিলেন। ফলে গাড়ি শুনবার সিগন্যাল শুনতে পাননি। এই কারণে একেবারে শেষ মুহূর্তে ট্রেনে উঠতে পেরেছিলেন। আমেরিকার মহিলা কানে তেমন শোনেন না। তার ভয় সিগন্যাল দেওয়া হলে হয়তো তিনি শুনতে পাবেন না। 

মার্সেলেসে একসময় ট্রেন ছেড়ে দেয়। সেখানে নানা সব কারখানার ধোঁওয়া চোখে পড়ে। আর ভাল করে পেছনে তাকালে দেখা যায় মার্সেলেস শহর । আরো দেখা যায় পাথরে পাহাড়ের সঙ্গে লেগে থাকা সমুদ্রপোত। আর সূর্যের শেষ রশ্মি সমুদ্রে ঝরে পড়া। এখন চারপাশে অন্ধকার হয়ে আসছে। একটা ফার্ম হাউসের জ্বলন্ত চুলোর মত নানাসব আগুনের পাশ দিয়ে ট্রেন চলতে শুরু করেছে। রাস্তায় মোটর গাড়ি গুলো থেমে আছে। এ ছাড়া ফার্মহাউসের বিছানাপত্র এবং আর নানা সব জিনিসপত্র চোখে পড়ছে। মাঠের ভেতর সেগুলো বিছিয়ে রাখা হয়েছে। অনেকে সেই ফার্মহাউসের পোড়া দেখছে। আসলে আগুনটা ফার্মহাউসের পুড়ে যাবার আগুন। যখন ভালমত অন্ধকার ঘনালো ট্রেনটা আভিগনের পাশ দিয়ে যেতে শুরু করলো। গাড়ি কখনো থামছে। কেই নামছে, কেউ উঠছে। খবরের কাগজের দোকান থেকে ফরাসি লোকজন ফরাসি ভাষার কাগজ কিনছে। স্টেসনের প্লাটফর্মে নিগ্রো সৈন্যদের ভিড়। ওরা লম্বা আর ওদের মুখ অন্ধকারে স্পষ্ট। ওরা কেউ কেউ ইলেকট্রিক বাতির কাছে দাঁড়িয়ে আছে। এরপর ট্রেনটা এভিগন স্টেসন ছেড়ে যায়। ছেড়ে যায় নিগ্রো সৈন্যদের। নিগ্রাদের সঙ্গে ছিল একটা ছোটখাটো সাদা সার্জেন্ট। 

আলো জ্বালানো ট্রেনের কামরার ভেতরে পোর্টার দেয়াল থেকে টেনে বের করেছে তিনটা গাড়িতে ঘুমানোর বেড। ওরা সেই বিছানাকে ঠিকঠাক করছে যাত্রীদের ঘুমানোর জন্য। আমেরিকান মহিলা এখন খুব দ্রুত ছুটে চলা ট্রেনের ভেতরে জেগে আছেন। তার ভয় গাড়িটা একটা সংঘর্ষে পড়বে এবং ধবংস হবে। ওর বেড একেবারে জানালার কাছে। করিডোরে রাখা ক্যানারি পাখির খাঁচার উপর একটি কাপড় ঢাকা দেওয়া হয়েছে। কারণ বাইরের ঠান্ডা বাতাস থেকে রক্ষা পাওয়া। বাইরের ঠান্ডা বাতাস ঢুকে পড়ছে টেনের বাথরুমে। গাড়ির কামরার বাইরে একটি নীল বাতি জ্বালানো। সারারাত ঝড়ের মত ট্রেন ছুটে চলেছে। আমেরিকান মহিলা মোটেই ঘুমোতে পারেন না। ভয় তার এই বুঝি ট্রেনটায় সংঘর্ষ হবে এবং ট্রেনটা একটা ধ্বংস স্তুপে পরিণত হবে। 

সকালবেলা ট্রেন প্যারিসের কাছাকাছি চলে আসে। এরপর আমেরিকার মহিলা হাত মুখ ধুয়ে ফিরে আসেন বাথরুম থেকে। দেখতে বেশ গোলাগাল এবং চমৎকার সুস্বাস্থ্যে পরিপূর্ন। যদিও সারারাত ঘুমায়নি তবু তাকে দেখতে বেশ সজীব লাগছে সকালের আলোয়। মধ্যবয়স্ক মহিলা। পাখির খাঁচার কাপড় সরিয়ে সূর্যের আলো মাখতে দেন পাখির শরীরে। গাড়ির খাবারের কামরায় সকালের নাস্তা খাওয়ার জন্য এবার তিনি প্রবেশ করেন। তারপর মহিলা যখন আবার ফিরে আসেন দেয়ালের ভেতর ঠেলে দেওয়া হয়েছে সেই গাড়ির বিছানাপত্র। এগুলো সব বসবার সিটে রূপান্তরিত। সূর্যের আলোয় ক্যানারি পাখি তার পাখা ঝাড়তে শুরু করেছে। এরপর ট্রেনটা প্যারিসের খুব কাছে চলে আসে। 

ও সুর্য খুব ভালোবাসে। বলেন সেই আমেরিকান মহিলা। একটু পরেই দেখতে পাবে ও গান গাইতে শুরু করেছে। ক্যানারি পাখি পাখা মেলে দিয়ে ঠোকর মারছে পাখায়। বলেন সেই আমেরিকান মহিলা -- আমি চিরকাল পাখি ভালোবসি। আমি ওকে আমার মেয়ের কাছে বাড়িতে নিয়ে চলেছি। পাখিটা আমার মেয়ের জন্য। দেখ দেখ ও কেমন গান গাইতে শুরু করেছে। 

পাখিটা কিচ কিচ সুরে গান গাইছে। তার গলার কাছের পাখা ফুলে গেছে। এরপর নিজের লম্বা ঠোঁটে ও আবার পাখার পালক ঠোকরাতে শুরু করে। এরপর গাড়িটা একটা নদী ও স্বযত্নে সংরক্ষিত বন পার হয়। ট্রেনটা প্যারিসের নানা সব দৃশ্যের ভেতর দিয়ে চলেছে। সেখানে নানা সব গাড়ি। নানা সব বিজ্ঞাপন। বেলি জার্ডিনেয়ার, ডাবোনেট এবং পেনরোডের বিজ্ঞাপন। এমন করে বিজ্ঞাপন গুলো সেঁটে দেওয়া হয়েছে ট্রেন থেকে তা স্পস্ট দেখা যায়। অনেকক্ষণ আমি সেই আমেরিকান মহিলার কথাবার্তা শুনিনি। মহিলা আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন। 

তোমার স্বামীও কি আমেরিকান তোমার মত? সেই মহিলা আমার স্ত্রীকে প্রশ্ন করেন। 

হ্যাঁ। বলে আমার স্ত্রী। আমরা দুজনেই আমেরিকান। 

আমি ভেবেছিলাম তোমরা বোধহয় ইংরেজ। 

না না। তা নই আমরা। 

হয়তো আমি আমার ট্রাউজারের সঙ্গে ব্রেস লাগিয়ে নিয়েছি তাই এমন ধারণা হয়েছে ওঁর। আমি বলি। আসলে এটা ছিল সাসপেন্ডার বেল্ট পরে একে আমি ব্রেস বানিয়ে নিয়েছি। সাসপেন্ডার থেকে ব্রেস। হয়তো সেই কারণে ওঁর মনে হয়েছে আমি ইংরেজ। এটা ইংরেজ চরিত্রের বৈশিষ্ঠ্য। ওরা ট্রাউজারে ব্রেস লাগায়। কিন্তু আমার মন্তব্য আমেরিকান মহিলা শুনতে পাননি। কারণ তিনি কানে ভালোমত শুনতে পান না। মানুষ কথা বললে তার ঠোঁটের নড়াচড়া থেকে কথা বুঝতে চেষ্টা করেন। কথা বলবার সময় আমি আমেরিকান মহিলার দিকে তাকাইনি। আমি জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিলাম। সেই মহিলা কিন্তু আমার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেই চলেছেন। 

বেশ খুশী হলাম তোমরা আমেরিকান এ সংবাদে। আমি জানি আমেরিকান পুরুষ এই পৃথিবীর শ্রেষ্ট স্বামী হয়। আমেরিকান মহিলা বলেই চলেছেন -- এই কারণেই আমাদের ইউরোপ মহাদেশ ছাড়তে হয়েছিল। ভেভি শহরে আমার মেয়ে একজনের প্রেমে পড়ে। মহিলা একটু থামেন -- ওরা একেবারে পাগলের মত একে অন্যকে ভালবাসতো। আবার থামেন সেই মহিলা। বলেন এরপর -- এই কারণে আমি আমার মেয়েকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছি। 

ওকি এই ঘটনা ভুলতে পেরেছে। এই প্রেমের কথা? 

মনে হয় না। আমেরিকান মহিলা বলেন -- ও ঠিকমত খাওয়া দাওয়া করে না। ঠিকমত ঘুমায় না। কত ভাবেই না আমি ওকে ভোলাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু মনে হয় পৃথিবীর আর কিছুর জন্য ওর কোন প্রকার উৎসাহ বা জানার আগ্রহ নেই। কোন জিনিসপত্রের দিকে ওর নজর নেই। আমি কি করে পারি আমার আমেরিকান মেয়ে একজন ইউরোপের লোককে বিয়ে করে সেটা মেনে নিতে। আমার এক বিশেষ ভালো বন্ধু আমাকে উপদেশ দিয়েছিল -- ভুলেও এমন কাজ করবে না। মেয়েকে কখনো বাইরের লোকের সঙ্গে বিয়ে দেবে না। একজন বাইরের লোক আমেরিকার মেয়ের জন্য উপযুক্ত ও ভালো স্বামী হতে পারে না। 

হয়তো নয়। বলে আমার স্ত্রী। 

আমেরিকার মহিলা আমার স্ত্রীর গায়ের কোটের খুব প্রশংসা করেন। দেখা গেল আমেরিকার এই মহিলা আমার স্ত্রীর মত বিশ বছর হলো প্যারিসের একটি বিখ্যাত দোকান থেকে কাপড় কেনেন। রু সেন্ট হনোরে নামের বিখ্যাত দোকান। দোকানের লোকজন মহিলার শরীরের মাপ জানে। একজন সেলসম্যান সেই আমেরিকান মহিলার পছন্দও খুব ভালোমত জানে। তারপর ওরা মহিলার জন্য পোশাক পোস্ট করে নিউইয়র্কে পাঠায়। ও গুলো তার বাড়ির কাছের এক পোস্টঅফিসে আসে। -- আর ট্যাক্সও তেমন বেশি কিছু নয়। ওরা পোস্টঅফিসে পোশাকের প্যাকেট খুলে ফেলে ওখানেই তার দাম নির্ধারণ করে। আমার পোশাক দেখতে খুবই সাদাসিধা। কোন সোনার লেস বা কোনও ঝলমলে জরি বা সোনার কাজ করা থাকে না সেইসব পোশাকে। ফলে ট্যাক্সও কম হয়। 

এখন যে তাকে কাপড় পাঠায় তার আগে আর একজন ছিল সে এমন কাজ করতো। প্রথমে ছিল থেরেস তারপর আমেলি। কুড়ি বছরে এই দুইজন কাজ করেছে সেখানে। একই কুরিয়ার পাঠায় তার কাপড়চোপড়। এখন দাম একটু বেশি হয়েছে। তবে এক্সরেঞ্জ রেটও তো বেড়ে গেছে। এখন ওরা ওর মেয়ের শরীরের মাপ জানে। সে যথেষ্ট বড় হয়ে গেছে। এখন একই মাপের কাপড় পাঠাতে অসুবিধা নেই। কাপড়ের মাপ এখন একই রকম থাকবে। 

ট্রেনটা এবার প্যারিসের ভেতরে চলে এসেছে। দেয়াল দিয়ে জায়গা ঘেরা হলেও সেখানে এখনো ঘাস গজায়নি। গাড়ির লাইনে বেশ কিছু গাড়ির কামরা দাঁড়িয়ে। কোনটা বাদামি খাবার বগি। কোন কোন বগি তৈরী হয়ে আছে পাঁচটায় ইটালিতে পৌঁছাতে। যদি ঠিকসময় ট্রেন ছাড়ে। বগি গুলোতে লেখা আছে প্যারিস আর রোমের কথা। কোন কোন বগি আবার এমন যাদের ছাদের উপরে সিটপাতা। কখনো এই বগিগুলো শহরতলীতে নির্দিষ্ট সময়ে যাওয়া আসা করে। কেউ কেউ তখন গাড়ির ভেতরে আবার কেউ কেউ বসে ছাদে। এরপর অনেক বাড়ি পার হয়ে চলেছে আমাদের ট্রেন। সাদা বাড়ি, জানালা। আমরা কেউ ব্রেকফাস্ট খাইনি। 

আমেরিকার পুরুষ এই পৃথিবীর সবচাইতে ভালো স্বামী হয়। বললেন আবার সেই আমেরিকার মহিলা। আমি তখন ব্যাগ নামাতে ব্যস্ত। 

-- আমি বলবো যদি বিয়ে করতে হয় আমেরিকান লোক ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করা ঠিক হবে না। 

কতদিন আগে আপনি ভেভিতে ছিলেন? আমার স্ত্রী তাকে প্রশ্ন করে। 

দুই বছর আগে। শরতের সময়। ওর জন্যই। আমি এই পখিটা নিয়ে চলেছি। 

আপনার মেয়ে যাকে ভালোবেসেছিল সেকি সুইজারল্যান্ডের ছেলে? 

ঠিক তাই। ছেলেটা তখন পড়াশুনা করে ইঞ্জিনিয়ার হতে চেযেছিল। সেটাই পড়ছিল ছেলেটা। ভেভিতেই ওদের দেখা। দুজনে অনেকসময় ধরে হাঁটতে যেত। 

আমি ভেভি শহরকে জানি। আমরা ওখানেই আমাদের হানিমুন করেছি। 

সত্যি নাকি? আমেরিকান মহিলা বলেন-- বেশ চমৎকার সময় কেটেছে তাহলে তোমাদের দুজনের। এরপর একটু থেমে বলেন -- আমি বুঝতেই পারি না ওই ছেলেটাকে আমার মেয়ে এমন পাগলের মত ভালোবাসবে। 

জায়গাটা ভীষন মনোরম এক জায়গা। আমার স্ত্রী বলেন। 

তা জানি। সত্যিই কি জায়গাটা মনোরম নয়? তা তোমরা তখন ছিলে কোথায়? 

আমরা ট্রয়স করোনে ছিলাম। আমার স্ত্রী বলে। 

সত্যিই একেবারে চমৎকার একখানা হোটেল ট্রয়স করোনে। বলেন আমেরিকার মহিলা। 

শরতের সময় ছিলাম সেখানে আমরা। ভারী চমৎকার একখানা ঘর পেয়েছিলাম। 

তোমরা শরতে ওখানে ছিলে? 

হ্যাঁ। আমার স্ত্রী জবাব দিল। 

তখন আমরা তিনটা গাড়ির পাশ দিয়ে চলেছি যারা সংঘর্ষের কারণে দোমড়া মোচড়া অবস্থায় সেখানে। গাড়ির লোহা লক্কর বেরিয়ে গেছে। ছাদ খুলে গেছে। 

দেখতে পাচ্ছো। আমেরিকার মহিলা বলেন -- গাড়ির সংঘর্ষ? 

আমেরিকার মহিলা শেষ ভাঙ্গা বগিটা দেখতে পেয়েছেন -- এই ছিল আমার ভয় গতরাতে। আমি এসব জিনিস আগে থেকে বুঝতে পারি। রাতের বেলা এমন দূরন্ত জোরে ছুটে চলা গাড়িতে আমি আর উঠছি না। আমি এমন গাড়িতে উঠব যেটা এমন করে ছোটে না। যেখানে আমি নিরাপদ বোধ করতে পারি। 

এরপর গাড়িটা একটা ট্যানেলের ভেতর ঢুকে অন্ধকার পার হয়ে শেষপর্যন্ত স্টেসনে এসে থামে। গাড়ির পোর্টার আসে। জানালা দিয়ে আমি আমার সর্বপ্রকার ব্যাগ পত্র পোর্টারের হাতে তুলে দেই। তারপর দীর্ঘ প্লাটফর্ম দিয়ে মাল টানার গাড়ির পেছন পেছন হাঁটি। এরপর তিনজন সাহায্যকারীর একজন আমেরিকার মহিলার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে -- ম্যাডাম আপনি একটু দেরী করেন দেখি। আমি নামের লিস্টি থেকে আপনার নামটা খুঁজে বের করি। এরপর পোর্টার একটা ছোট মাল টানার গাড়ি এনে আমেরিকার মহিলার জিনিস পত্র তোলে। আমি মহিলাকে গুডবাই জানাই। আমার স্ত্রীও তাকে গুডবাই জানায়। একজন নানা সব টাইপ করা কাগজের ভেতর থেকে আমেরিকার মহিলার নাম উদ্ধার করতে পেরেছে। 

আমরা চলেছি মাল টানা ছোট গাড়ির পিছু পিছু। ট্রেনের পাশে যে দীর্ঘ চুন সুড়কির প্লাটফর্ম তা ধরে আমরা হাঁটছি। প্লাটফর্মের শেষে গেটের কাছে একজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে টিকিট নেবার জন্য। 

আমি আমেরিকান। আমরা প্যারিস চলেছি আমাদের বিচেছদের জীবনে যার যার মত বাড়ি খুঁজে নিতে, তারই ব্যবস্থা করতে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন