পাপড়ি রহমানের কয়েকটি গল্প


গল্পগুলির লিংকে ক্লিক করুন--

১০। কোষা


লেখক পরিচিতি
পাপড়ি রহমান

জন্ম: ১৯৬৫।
গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হিসেবে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। বিভিন্ন গবেষণা কর্মের সঙ্গেও যুক্ত আছেন।
গল্পগ্রন্থ: লখিন্দরের অদৃষ্টযাত্রা, হলুদ মেয়ের সীমান্ত, অষ্টরম্ভা, ধূলিচিত্রিত দৃশ্যাবলি।
উপন্যাস:  পোড়ানদীর স্বপ্নপুরাণ, বয়ন, মহুয়াপাখির পালক।
সম্পাদনা:  ধূলিচিত্র।
জীবনীগ্রন্থ:  ভাষাশহীদ আবুল বরকত।



পাপড়ি রহমানের গল্পে লোকমানুষ মুখ্য হয়ে ওঠে; এবং তার সর্বস্বের হাহাকার, ব্যাপক জীবনবিন্যাস, জীবনের মৌলিকত্ব প্রাপ্তির তাড়নায় তিনি যেন লিপ্ত থাকেন। গ্রাম আর শহরের জীবন যেমন আছে, একই জীবনের ভিতর নানামুখী প্রবণতা তিনি নির্ণয় করতে জানেন। লৌকিক জীবনের তীব্র প্রবণতা, স্বর, বলার মৌলিকত্বে তিনি বরাবরই রিয়েলিস্টিক ইমেজের প্রতি জোর দেন। তার চরিত্রসমূহ জীবনবাস্তবতার অংশ। তিনি নানান শ্লোক, মিথ, কথকতা তার গল্পে শব্দপ্রকৌশলে জারিত করেন। তিনি সেসব বিকশিত করতেও তৎপর। মানুষের মৌলিকত্ব তার নিজস্ব ভাষার ধরনে ভাস্বর হয়। তার গল্পে যাপিত জীবন, তলস্পর্শী গ্রামীণ জীবন, জীবনের কেদাক্ত তল নিবিড়ভাবে তুলে আনেন। প্রগতিশীল চেতনার প্রকাশ তার গল্পের অন্যতম দিক।পাপড়ি রহমানের লেখার সাথে আমার পরিচয় দীর্ঘদিনের। অনেক অনেক লোকঘনিষ্ঠ তার লেখা। মানুষকে ক্রমাগত পাঠ করেন। লোকঐতিহ্য, শ্লোক, নিবিড় জনজীবন তার গল্পের প্রধান বিষয়। তবে সবদিকেই তিনি তাকান, পাঠককে তাকাতে বাধ্য করেন। সমাজ-ব্যক্তি-বহু কথকতা তাতে নির্মিত হয়। তিনি আলাদা এক জগতের পিপাসাকাতর লেখক। তাকে আরও পাঠ করা দরকার!

--লেখক পরিচিতি লিখেছেন : কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

----------------------------------------------------------------------------------------
পাপড়ি রহমান

নাম পাপড়ি হলো কেনো মাঝে মাঝে কেউ হয়তো ভাবেন। বাবা তার এই নাম রাখেননি বলে বাবাও হয়তো কখনো এমন ভাবতেন!

পাপড়ি না হয়ে তার নাম ফুল হলে কি ভালো হতো? বকুল ফুল। বলা যেত ‘সকল বকুল ফুল শীতকালে ফোঁটে’।
কোন শীতকালে?
আমি শীতকালে থাকি। শীতের পাতার মতো ঝরে থাকি। তবু সকল বকুল ফুল শীতকালে নাই।

পাপড়ি বলেন, বকুল ফুল কবির শীতকালে ফোঁটে। মানুষের নয়। আহা, ‘মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত সারস উড়ে যায়’। কাঁদতে কাঁদতে সারসের পিছনে যতবার ছুটে যায় কেউ—ততবার পাপড়ি হাসতে হাসতে মানুষটিকে কলমের ডগায় তুলে নিয়ে ফিরে যান ঢোল সমুদ্দুরের পাড়ে। বৃক্ষের পাশে বসেন হাটু মুড়ে। মাথার উপরে চাঁদ। উলু খাওয়া। দূরে কে এক সবুজ বুড়ি রূপের কথার মতন পরণ কথা গাইছেন। আর তারি সহজ ছায়া বয়ন করছেন সকল বকুল ফুল। ঋতুর রহস্য বোঝা মুশকিল!
এইসব কথা যদি মনে আসে তাহলে মন ভার হয়ে ওঠে। কোনো এক কবির উঠোনে সারস পড়ে আছে। পালকগুলো ঝরে গেছে। উড়ে গেছে। বকুল ফুলের কাছে ফিরে গেছে। পাপড়ি রহমানের লেখা কি এই বকুল ফুল? বকুলের ফুল? ফুলের বকুল?
পাপড়ি রহমান আসলে লিখতে লিখতে তাকিয়ে থাকেন মানুষের মুখের দিকে। তাদের ছায়ার দিকে। গাছের দিকে আর তার সবুজ পাতার দিকে। কখনো নদীর দিকে, নদীর উজান জলের দিকে। বাদামি মাটির দিকে অথবা আকাশের দিকে। পালকের দিকে। আর সকল বকুল ফুলের দিকে।
…এরপর প্রতিরাতে আমার চোখের সামনে এক দিশা কাক উড়ে যায়। জলাধার কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে শীতকালে... কেন এই শীতকালে সকল বকুল ফুল ফোঁটে...!



পাপড়ি রহমানের লেখার আলাপ



পাপড়ি রহমানের 'পালাটিয়া'- উত্তরবঙ্গের উপন্যাস

পালাটিয়া, লেখক : পাপড়ি রহমান, ধরন : উপন্যাস, প্রচ্ছদ : শম্ভু আচার্য্যের পটচিত্র অবলম্বনে সব্যসাচী হাজরা, পৃষ্ঠা : ২০৮, দাম : ২৫০ টাকা, প্রকাশক : মাওলা ব্রাদার্স, প্রকাশকাল : ফেব্রুয়ারি, ২০১১[/b] পাপড়ি রহমান কি আগে থেকেই ঠিক করে রাখেন কেমন উপন্যাস তিনি লিখবেন? ভেবে রাখেন, কারা হবেন তার উপন্যাসের চরিত্র, কী হবে তাদের ভাষা, তারা আগাবে কোন পথে। তারপর বোধহয় তিনি লিখতে বসেন। লিখতে বসে উপন্যাসের চরিত্রদের মাঝে হারায়া যান, হারায়া গিয়া আর পথ খুঁইজা পান না। রাঢ়বঙ্গের মানুষেদের বেদনাতলে তিনি সিক্ত হন, যে ভার নিয়া উপন্যাস লিখতে বসছিলেন, তা আরো ভারী হয়া উঠে। রাঢ়বঙ্গের মানুষেরা তারে মোটেও স্বস্তি দেন না। (লিংক...)



পাপড়ি রহমানের উপন্যাস 'বয়ন' : জীবনশিল্পীদের ক্ষয়ে যাওয়া নকশা

পাপড়ি রহমান 'বয়ন' উপন্যাস ভালো লাগলো। তরুণ কোন বাঙালি লেখকের এতোবড় একটা উপন্যাস এবং তা জীবন ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছে, দার্শনিক বোধবুদ্ধির প্রচেষ্টা আছে, আছে জাদুবাস্তবতার খেল, ইলিয়াসের প্রভাব, তাঁতীদের ব্যবসার হিসাব, ক্ষরণ আর স্বপ্ন, অনেক কিছুই আছে। কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীরে নিয়া লেখা উপন্যাস একই সাথে সেই জনগোষ্ঠীর আওতাভুক্ত মানুষদের জীবন-যাপন বা আসলে যে বস্তুরে কেন্দ্র কইরা তাদের ঘরসংসার-ভিটাবাটি খাড়া হয়া থাকে আবার একই সাথে তাদের বস্তুরেও ছাড়ায়া গিয়া আধ্যাত্মিক মনোজগত সবকিছুরে ধরবার আকাঙ্ক্ষা পাপড়ি রহমানের আছে। (লিংক...)

২টি মন্তব্য: