বুধবার, ১৭ মে, ২০১৭

সাহিত্যিক অরিন্দম বসু


বিশ্বজিৎ পাণ্ডা


এই সময়ের লেখকদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশিষ্ট নাম অরিন্দম বসু। প্রায় দু-দশক ধরে সাহিত্যচর্চা করছেন তিনি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি গল্প সংকলন প্রকাশিত হয়েছে। কয়েকটি উপন্যাসও।
মূলত শহর কলকাতার মানুষ হলেও অরিন্দমের শৈশব-কৈশোরের অনেকটা সময় কেটেছে অসম-বিহার-আসানসোলে। বিভিন্ন রকম পেশার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে মেলামেশা করেছেন। সব মিলিয়ে এই তরুণ লেখকের অভিজ্ঞতার পরিধি বেশ বড়। বস্তুত তাঁর গল্প-উপন্যাসের বিষয়ের পরিধিও কিছু কম নয়। বক্তব্য এবং বলার ভঙ্গি সাহিত্যিক অরিন্দম বসুকে প্রথম থেকেই আলাদা করে চিনিয়ে দিয়েছে। তাঁর লেখার বিষয় হয়ে উঠে আসে ছাপোষা, অসহায়, ম্লান, নিরীহ মানুষ, তাদের স্বপ্ন-স্বপ্নভঙ্গ-বিপন্নতা-বিষাদ। তাঁর লেখায় প্রকৃতি-পরিবেশও বড় মরমী। প্রবহমান জীবন, প্রবহমান সময় অদ্ভুত এক মেজাজে মূর্ত হয়ে ওঠে অরিন্দমের গল্পে-উপন্যাসে।

অরিন্দমের লেখার মধ্যে ঘটনার চাপ কম। নিটোল গল্প খুঁজে পাওয়া যায় না। কাহিনি একটা থাকে হয়তো, কিন্তু কাহিনি-সর্বস্ব গল্প বলা যাবে না তাকে। আঙ্গিক ভাষা বর্ণনাভঙ্গি অনেক বেশি করে গুরুত্ব পায় তাঁর লেখায়। পাঠকের ভাবনার জায়গাটাও বেশি থাকে সেখানে। প্রাসঙ্গিকভাবে একটি গল্পকে বেছে নিচ্ছি। তাঁর ‘খেলা’ গল্পটিতে সেই অর্থে নিটোল কোনও কাহিনি নেই। নিম্নবিত্ত সম্প্রদায়ের কয়েকজন কিশোরের গল্প। তাদের বেঁচে থাকার গল্প। অতি সামান্য সেই গল্প। কেউ বিড়ির ব্যবসায়ী, কেউ রিফিলের কারখানায় কাজ করে, আবার কেউ-বা মাস্তান হয়ে যায় বেঁচে থাকার তাগিদে। সচেতনভাবে বেছে নেয় মাস্তানির পেশা। তা নিয়ে স্বপ্নও থাকে কারও। রাজস্থান থেকে অটো করে দুবাই যাবে ভাবে। ইভটিজিংয়ের দায়ে পুলিশ ধরে নিয়ে যায় কাউকে। তখন মিডিয়ার সামনে মুখটা ঢাকারও প্রয়োজন মনে করে না সে। গল্পের কথক ছেলেটি শুধু মধ্যবিত্ত পরিবারের। সকলের থেকে একটু ভালো বাড়ির। সেই বলে সবার কথা।

এক সময় একসঙ্গে সকলে মাঠে ফুটবল খেলত। তারপর একে একে হারিয়ে যায় একে ওপরের থেকে। কারও সঙ্গে দেখা হবে না হয়তো। কিন্তু আচমকা আবার দেখা হয়ে যায়। মাঠে তারা মিলিত হয়। বর্ষার সন্ধে পেরিয়ে যাওয়ার মাঠ ফাঁকা। জল জমেছে। সকলে বসেছে একটা বেঞ্চিতে। বিশেষ কোনও কথা বলছে না কেউ। কেউই তারা সফল হয়নি জীবনে। টুকটাক কথা চলে। নিজেদের হেরে যাওয়ার কথা। যন্ত্রণার কথা। এরই মধ্যে খেলার কথা বলে একজন। বল নেই তাদের কাছে। কিন্তু বল আছে ভেবেই খেলছে তারা। সকলে জামা খুলে প্যান্ট গুটিয়ে নেমে পড়েছে। তাদের পায়ে বল। কিন্তু সেটা তারা ছাড়া আর কেউ দেখতে পাচ্ছে না।

দৌড়োচ্ছে। বল নিয়ে ড্রিবল করছে, পাশ বাড়াচ্ছে, ডজ করছে, সররা খেয়ে মাঠে পড়ছে। অকারণে চেঁচিয়ে জানান দিচ্ছে। সেই চিৎকারে চমকে উঠছে তল্লাট। কয়েকজন দাঁড়িয়ে পড়েছে খেলা দেখতে। কিন্তু বল দেখতে না পেয়ে কিছুই বুঝতে পারছে না। সেই খেলার বর্ণনা দিয়েছেন লেখক। শেষ পর্যন্ত ‘গো-ও-ও-ল’ বলে চেঁচিয়ে ওঠে তারা। সূর্য মাঠ ছেড়ে চলে যায়। বাকিরা হাত-পা ছড়িয়ে বসে থাকে মাঠে। হাঁফাচ্ছে। তাদের মাঝখানে থম মেরে পড়ে আছে সেই অদৃশ্য ফুটবল। গল্পটি শেষ হচ্ছে এভাবে—“সামনে মাটিতে তাকালাম। বলটা আস্তে আস্তে, একটু একটু করে মুছে যাচ্ছে। আর দেখতে পাচ্ছি না। আমি জানি, আমার বন্ধুরাও কেউ দেখতে পাচ্ছে না বলটাকে। শুধু তার কালো ছায়া পড়ে রয়েছে ঘাষের ওপরে।”

অস্তিত্ব-অনস্তিত্বের এক আশ্চর্য গল্প এটি। বল আর মানুষ একাকার হয়ে গেছে এখানে। একাকার হয়ে গেছে জীবন আর খেলা। বলের মতো মানুষগুলোও ক্রমশ অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে। অস্তিত্ব হারিয়ে যাচ্ছে আপাতভাবে। বাঁচা আর মরার মাঝের সময়টুকুতে যে খেলা চলে সেটাই অস্তিত্ব আমাদের। প্রত্যেকটি মানুষই একাকী, বিচ্ছিন্ন ছায়া মাত্র। সামাজিক যে পরিচয় আছে তার বাইরে ভিতরের মানুষটি শূন্যে ভাসমান। উদ্যমহীন, নিষ্ফল, পরাজিত।

এই গল্পে মাস্তানের প্রসঙ্গ একটু বেশি করে এসেছে। কথকের কাকা ছবি বানায়। সে সমাজ বিরোধীদের নিয়ে একটা সিনেমা বানাতে চায়। তার ধারণা সমাজের চাপেই সমাজ বিরোধী তৈরি হয়। এই অতি সরলীকৃত ধারণাকে লেখক মেনে নিতে পারেননি। গল্পের কথক তার কাকাকে বলেছে—“যা জানো না তাই নিয়ে ঘাঁটো কেন! তোমরা সব সোশ্যাল লোক। নাচ-গান-মারপিট-কান্নাফান্না দিয়ে ঝালমুড়ি মাখছ, মাখো না।”

রিয়্যালিটি দেখাতে গিয়ে আমরা সব কিছুকে মোটা দাগে সহজ সরল করে দেখি। মানুষের রিয়্যালিটি এত সোজা সরল নয়। কে কখন কেন মাস্তান হয় তা এত স্পষ্ট করে বলা যায় না। এখানেও অস্তিত্বের প্রসঙ্গ। এই যে মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে এত কথা তা এই সময়ের দাবী থেকেই তুলে ধরেন লেখক। কোনও মন্তব্য করেন না। স্পষ্ট করে কিছু বলেন না। স্পষ্ট করে বলার বিষয়ও নয়। শুধু কিছু ইঙ্গিত দেন। আর গল্পের পাঠ-ক্রিয়ায় সেই ইঙ্গিত থেকে অন্য এক সৃজনকর্মে মগ্ন হন পাঠক। আসলে প্রকৃত প্রস্তাবে লেখক পাঠকের চেতনায় কিছু প্রশ্ন তুলে ধরেন। সেই প্রশ্নগুলি সময় নিরপেক্ষ নয়। বিশেষ আর্থ-সামাজিক প্রতিবেশ থেকেই প্রশ্নগুলি উঠে আসে। লেখক সেগুলিকে আমাদের সামনে আলাদা করে চিহ্নিত করে দেন শুধু।

অরিন্দমের লেখায় নরনারীর প্রেম-ভালোবাসা তেমন গুরুত্ব পায়নি। প্রেম-যৌনতার প্রসঙ্গ ক্বচিৎ উঠে এলেও তা আসে আভাসে-ইঙ্গিতে। তাঁর লেখায় একটা পরিশীলিত রুচিবোধ থাকে। কোনও রকম বিকৃতি বিষয় হয়ে ওঠে না। কোনও লেখাই উচ্চকিত নয়। ধীর লয়ে উপস্থাপিত আখ্যানে কোনও তীর্যকতা বা শ্লেষ থাকে না। চমক থাকে না। কিন্তু এমন একটা বিশ্বাস থাকে যা পাঠককে অন্য এক অনুভূতির জগতে নিয়ে যায়। কখনও-বা পড়তে পড়তে মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু সেই মনখারাপের অনুরণনও অমোঘ হয়ে থাকে। এমন এক পরিবেশ রচনা করেন যাতে করে মনে হয় লেখক বড় বেশি নিঃস্পৃহ। কিন্তু এই নিঃস্পৃহতার আড়ালে থাকে কোনও মর্মস্পর্শী মুখ অথবা মুহুর্ত। তাঁর গল্পের মূল আকর্ষণ এটাই।

এখনও পর্যন্ত আটটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। কোনও উপন্যাসেই বস্তুনিষ্ঠ কাহিনি নেই। প্রতিটি উপন্যাসের আখ্যান এবং আঙ্গিক সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র।

যেমন তাঁর ‘মহাজাতক’ উপন্যাসটি। শহর কলকাতার পাঁচজন বন্ধু নতুন পথের সন্ধানে বেরিয়ে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত শরীরে পৌঁছোয় ওড়িষার রত্নগিরি বৌদ্ধ বিহারে। প্রান্তরের সেই ভগ্ন-বিহার তাদের অতীতচারী করে দেয়। শুরু হয় অতীত অভিযাত্রা। অরিন্দমের হাত ধরে পাঠক পৌঁছে যান সেই ঐতিহ্যবাহী অতীতে। ত্রয়োদশ শতকে। তুর্কি আক্রমণের ফলে এখানকার বৌদ্ধরা তখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পাহাড়ের গুহায় জঙ্গলের আড়াল নিচ্ছেন। প্রাণপণে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন বিভিন্ন পুঁথিপত্র। তিব্বতে পাচার করার চেষ্টা করছেন শেষ সম্বল। এই উপন্যাসে সেকথাও এসেছে। তিব্বত থেকে একজন এসে পুঁথি নকল করছেন। সংঘের শিল্পী চাইছেন ভবিষ্যৎ বুদ্ধের মৈত্রেয় মূর্তি গড়তে। কিন্তু সেই মূর্তির মুখে হাসি ফোটাতে পারছেন না তিনি।

একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি রয়েছে উপন্যাসের আখ্যানে। সময় একাকার হয়ে গেছে এখানে। নির্বান লাভের পর বুদ্ধ তাঁর প্রিয় পাঁচ শিষ্যকে উপদেশ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই শিষ্যরাও তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এখানে সেই শিষ্যরা এবং কলকাতার ভ্রমণ-পিপাসু পাঁচ বন্ধু একাকার হয়ে গেছে। লেখক আশ্চর্য মুনশিয়ানায় সময়কে ভেঙেছেন। প্রকৃত প্রস্তাবে প্রবহমান সময়কে ধরতে চেয়েছেন। আর সেই সময়ধারায় পাঁচ নবীন শিক্ষার্থীর মতো আমরাও দেখি দর্শন হেরে যাচ্ছে। জয়ী হচ্ছে ধর্মাচার। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ সংকট নিয়ে এমন কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে যা নাতিদীর্ঘ উপন্যাসটিকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি দিয়েছে। সময়ের ব্যাপ্তি এসেছে তাঁর অন্যান্য উপন্যাসেও।

অরিন্দমের ‘খেলাঘর’ উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে একটি বাড়ি। চারটি প্রজন্মের মানুষ জড়িয়ে আছে এই বাড়ির সঙ্গে। অনন্ত সময় ধারা আবর্তিত হচ্ছে এই বাড়ির মধ্যে। সেখানে দুঃখ-বেদনা আছে। কিন্তু তারই মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে হয়। এ বাড়িতে সকলে তাই আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করে। আনন্দ পাওয়ার সাধনা করে। বিধুভূষণের বাবা গৌরমোহনের মনে হয়—“ছাত্রদের আনন্দ শেখানোর দরকার। আনন্দে সব কাজ হয়।” বাবার বিধুভূষণ তার ছেলে দ্বিজেন্দ্রকে বলে “কাজে আনন্দ পাইবে। আনন্দেই সকল কার্য সমাধা হয়।” দ্বিজেন্দ্রও ভাবে—“গম্ভীর হয়ে দুখী দুখী ভাব করে জীবনকে দেখার কোনও দরকার নেই।” প্রবহমানকালের মধ্যে এই বাড়ি যেন তার অমোঘ শিকড় গেড়ে বসে আছে।

অভিজিৎ এক সময় দেখে মাটি থেকে একটা শিকড় অনেকটা জেগে রয়েছে। সে উবু হয়ে শিকড় ধরে টানতেই কিছুটা মাটি চড়চড় করে উঠে যায়। তার মনে হয় গোটা উঠোনময় শিকড় চারিয়ে গেছে। তাদের বাড়িটাই বুঝি গাছ হয়ে গেছে। এ যেন সেই বাড়িরই শিকড়। উপন্যাসের শুরুতে দেখি অভিজিৎ হাঁচড়ে পাঁচড়ে একটা নিমগাছের উপরে ওঠার চেষ্টা করছে। আর বারবার পিছলে নেমে আসছে। দাদু বিধুভূষণ জানেন তার নাতি এই গাছে উঠতে পারবে না। তবুও তিনি ছাড়েন না। তিনি বলেন— “গাছকে জড়িয়ে ধরতে শেখা বড় দরকার। ... গাছকে জড়িয়ে ধরুক না ছেলেটা।” গাছের অনুষঙ্গ বারবার এসেছে। খেজুরের মিষ্টি রস খেয়ে বিধুভূষণ বলেছেন— “জীবন যদি খেজুর গাছ হয়, তার ডগায় উঠে রসের হাঁড়ি বাঁধতে গেলে হাত পা ছড়বে। অনেকেই তা পারে না। পারলে মানুষ জিতে যেত।” নারয়ণ ঘোষ দ্বিজেন্দ্রকে বলে বট গাছের কাছে শিক্ষা নিতে। এই বাড়ির মানুষদের দিশা দেখায় গাছ। গাছ-বাড়ি-সময় একই সূত্রে ধরতে চেয়েছেন লেখক। মহাকাল এবং সমসময়কে অনায়াসে মিশিয়ে দিয়েছেন। অনাদি অনন্ত প্রবাহধারার শুরু নেই। শেষও নেই। উপন্যাসের আখ্যানেও এই সুর ধ্বনিত। শেষ পর্যন্ত একটি দার্শনিকতায় উন্নীত হয় এই আখ্যান।

‘অমল গুপ্তের গুপ্তজীবন’ উপন্যাসটি লেখা হয়েছে বাংলা সাহিত্যের একজন অতি বিশিষ্ট ও মান্য লেখককে নিয়ে। তাঁর বোধ-চেতনা-মেধা-দর্শন-অনুভূতি মূর্ত হয়ে উঠেছে প্রাত্যহিক যাপনের সূত্রে। এই লেখক এক জীবনের ভিতর স্বাদ পেতে চেয়েছেন বহু জীবনের। গ্রামীণ চাষি, পত্রিকা সম্পাদক, কর্তব্য পরায়ণ স্বামী; আবার অসম বয়সী প্রেমিকার দুরন্ত প্রেমিক। লেখকের এই গুপ্তজীবন বা জীবনের গুপ্তকথা এই আখ্যানে তুলে ধরেছেন পরের প্রজন্মের বন্ধু লেখক অরিন্দম বসু। অরিন্দম বলেছেন যে, যাঁকে নিয়ে এই উপন্যাস অর্থ্যাৎ লেখক অমল গুপ্ত, তাঁর আসল নাম তো অবশ্যই আছে। সে নাম বলার দরকার মনে করছি না। তবে এটা অবশ্যই বলা দরকার যে তিনিই আমাকে বলেছিলেন, আমি তো নিজেকে নিয়ে লিখতে পারব না, তুই আমাকে নিয়ে একটি উপন্যাস লিখতে পারিস। লিখলে তার নাম দিস— ‘অমল গুপ্তের গুপ্তজীবন’। অরিন্দম নাম না বললেও বাংলা সাহিত্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ষাট ছুঁই ছুঁই প্রৌঢ় লেখকটিকে পাঠক সহজেই চিনতে পারেন। সেই লেখক ছায়াসঙ্গী অরিন্দমকে বলেছিলেন— “শিল্পী হওয়া খুব কঠিন। যা ঘটে তাই শিল্প নয়, যা ঘটলেও ঘটতে পারে তাই শিল্প।” একজন লেখকের হয়ে ওঠার আখ্যানের পাশাপাশি পূর্বসূরীর প্রতি উত্তরসূরীর শ্রদ্ধা ও পরম স্বীকৃতি উপন্যাসটিকে সমহীম করে তুলেছে।

‘তিন্তিড়ি নগরের উপাখ্যান’-এ এসেছে আর এক লেখকের আখ্যান। সংস্কৃত পণ্ডিত পরিবারের ছেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় সাধু গদ্যে একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। ‘বঙ্গীয় সাধু গদ্য ও সাধু সঙ্গ পুনরুজ্জীবন সমাজ’ থেকে প্রকাশিত এই গ্রন্থের নাম ‘তিন্তিড়ি নগরের উপাখ্যান’। সেই প্রাচীন গ্রন্থটির পুনর্মুদ্রণ হচ্ছে। তারই সূত্রে উপন্যাসটি বিন্যস্ত হয়েছে।

এখনও পর্যন্ত অরিন্দমের প্রকাশিত গ্রন্থ— উপন্যাস --খেলাঘর, মহাজাতক, একটি প্রজাপতির জন্ম, তিন্তিড়ীনগরের উপাখ্যান, মি. ডিগবাজি, অমল গুপ্তর গুপ্তজীবন, শ্রীশ্রীখেয়ালখুশি, আবাসভূমি। গল্পগ্রন্থ ---পাখিসব, বসে আঁকো, নির্বাচিত পঁচিশ, রংকলের মাঠে। ছোটদের বই---মারকোপোলোর বন্ধু। ভ্রমণ কাহিনি--পূর্ণ পথের ধুলোয়।

অনন্ত সময় প্রবাহকে বিভিন্ন গল্পে-উপন্যাসে ভিন্ন মাত্রায় ভিন্ন রঙে ধরতে চান অরিন্দম। সময়-ইতিহাস-ঐতিহ্যকে নতুন করে উন্মোচিত করতে চান। সেই নব উন্মোচনে কখনও থাকে দার্শনিকতা, আবার কখনও-বা প্রগাঢ় অনুভূতি। মনন-নির্ভর রচনাগুলি উঠে আসে সূক্ষ্ম ও অনুপুঙ্খ বোধ থেকে। পরতে পরতে উন্মোচিত হয় বোধের এক একটি স্তর।

৩টি মন্তব্য:

  1. আমাদের মুন্না দা ( অরিন্দম বসু), আমাদের নাটকের পরিচালক, জীবন ও মূল্যবোধের পরিচালক আমাদের প্রিয় দাদা প্রিয় বন্ধু ভালো থেকো। - মুকুল

    উত্তরমুছুন
  2. SAHITYIK ARINDAM BASU'R CONTACT NUMBER DOKRKAR...KEU SAHAJYO KORBEN ANYGRAHO KORE ? AMAR NUMBER 9832031786

    উত্তরমুছুন