জাকির তালুকদার
------------------------------------------------------------------------------------------------------------
জাকির তালুকদার এসময়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ গল্পকার। তিনি লেখেন অভিজ্ঞতা থেকে। এবং এই অভিজ্ঞতার জন্য তাকে গ্রামে যেতে হয়নি। তিনি গ্রামেরই মানুষ। এর সঙ্গে  মেল বন্ধন ঘটেছে তাঁর  বহুমূখী পড়াশুনার। তিনি শুরু থেকে সিরিয়াস গল্পকার। কোনো অর্থেই সখ করে লেখেন না। ফলে তাঁর পাঠকও তাঁর সঙ্গে হয়ে ওঠেন সিরিয়াস। সম্ভবত জাকির তালুকদারই সাহিত্যের সেই প্রাচীন বংশের নিঃশ্ব সন্তান যিনি সত্যি সত্যি লেখালেখির জন্য সব ছেড়েছেন। নিজেকে বাজী ধরেছেন। এবং  তাকে পড়া ছাড়া পাঠের পূণ্যি অসম্ভব।
গল্পের পাশাপাশি লিখছেন উপন্যাস ও প্রবন্ধ। প্রথম উপন্যাস কুরসিনামা। মুসলমানমঙ্গল উপন্যাসের মাধ্যমে পাঠকমহলে পরিচিতি পান। তার সর্বশেষ উপন্যাস পিতৃগণ সম্প্রতি জেমকন সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।
--গল্পপাঠ
------------------------------------------------------------------------------------------------------------

১. গল্প লিখতে শুরু করলেন কেন?

জাকির তালুকদার :  রাজনীতি করতে পারছিলাম না বলে লেখালেখিতে এসেছি। বেশ কিছুদিন রাজনীতির চত্বরে ঘোরাফেরা করেছি, ছাত্রজীবনের পুরোটাই। কিন্তু অন্তর থেকে বুঝতে পারছিলাম যে এটা, মানে রাজনীতি আমার লাইন না। আমি তথাকথিত বড় দলগুলি সম্পর্কে কোনোদিনই আগ্রহী ছিলাম না। সেসব দলের কথা মাথাতে আসেইনি। দেশ এবং জাতিকে রসাতলে নিয়ে যাওয়াই যে তাদের প্রধান কাজ, সেটি শুরুতেই বুঝতে পেরেছিলাম। কিন্তু বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়েও দেখলাম যে এখানেও তৈলমর্দন, নেতাকে চেহারা দেখানো, অমেধাবী পোর্টফোলিওধারীদের পেছনে ঘোরা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

ইনট্রাপার্টি স্ট্রাগলের নাম করে এ আসলে কোটারিদের গদ ধরে রাখা এবং পদ বণ্টন করা। তারপরে নব্বই দশকের শুরুতে দেখলাম সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সঙ্গে সঙ্গে কোনো আদর্শগত পর্যালোচনা ছাড়াই দলে দলে তথাকথিত ত্যাগী বামনেতারা ছুটছেন বড় দুই দলের ছোট ছোট পদ নিতে। তখন এককভাবে কী আর করা সম্ভব? যা একটু আধটু পারি, তা লেখালেখি। সেই লেখালেখিতেই মন দিলাম।

লেখার মাধ্যম হিসাবে গল্পই কেন? সে আরেক উপলব্ধির ব্যাপার। ছিলাম একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে। ইলেকট্রিসিটি গিয়ে পৌঁছায়নি এমন এলাকায়। সেখানে যে জীবন দেখলাম, মনে হলো তা কবিতা তো দূরের কথা, নাটক-প্রবন্ধেও জ্যান্ত তুলে আনা সম্বব নয়। তার পাশাপাশি দেখলাম যে কবিতা আমার ঠিক আসে না। গল্প লেখার চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলাম যে হচ্ছে মনে হয়। তাই গল্প বা কথাসাহিত্যকেই আঁকড়ে ধরা।


২. শুরুর লেখাগুলো কেমন ছিল?

জাকির তালুকদার : শুরুর আগেও তো অনেক শুরু থাকে। আমি এখনকার পর্যায়ের লেখালেখির সূত্রপাত ধরি ১৯৯৬ সালকে। তার আগে ছড়া লিখেছি, কবিতা লেখার চেষ্টা করেছি, কিশোরদের জন্য ২/১ টা গল্প লিখেছি, প্রবন্ধ-নিবন্ধ লিখেছি, এমনকি একটা মঞ্চনাটকও লিখেছি। সেগুলি তো পরিণত নয়। তবে ১৯৯৬ সালে যখন পাকাপাকি সিদ্ধান্ত নিলাম যে গল্প লেখাই হবে আমার প্রধান কাজ, তখন থেকে এক বা দেড় বছরের মধ্যে লিখে ফেললাম একের পর এক দাস পরম্পরা, সোলেমান পয়গম্বরের দেয়াল , তিন ভাগ জল , বিশ্বাসের আগুন। এই গল্পগুলিকে তো পাঠকরা ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।

৩. গল্প লেখার জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছেন? নিলে কেমন?

জাকির তালুকদার : প্রচুর গল্প পড়েছি। পাঠক হিসাবে আমি ছোটবেলা থেকেই পেটুক। কোনো বাছবিচার ছিল না। তবে যখন গল্প লিখতে শুরু করলাম, তখন বা তার আগে থেকেই সিরিয়াসলি গল্প পড়তে শুরু করলাম। একেবারে শুরুর বাংলাগল্প থেকে ধাপে ধাপে সর্বসাম্প্রতিক বাংলাগল্প পর্যন্ত। ১৩০০ গল্প পড়ার প্রমাণ আমার সেই সময়কার ডায়েরিতে আছে। প্রস্তুতি বললে বোধহয় এটাকেই বলা যায়।

৪. আপনি যে সিরিয়াসলি গল্প লেখার আগে ১৩০০ গল্প পড়ে ফেললেন, এই পড়ার মধ্যে আর আগেকার পড়ার মধ্যে পার্থক্য কি ছিল--যে কারণে আপনি বিশেষভাবে এই লেখাগুলোর উল্লেখ করলেন? সে সময়ে আপনার কি কি বিষয় খুঁজে বের করলেন বা নতুন করে পেলেন?


জাকির তালুকদার : আমি ১৩০০ গল্প পড়লাম এই জিনিসটা দেখার জন্য যে আমার জন্য গল্প লেখার কোনো অবকাশ আছে কি নেই। ব্যাপারটা অপরিপক্ক এবং হাস্যকর চিন্তার ফসল, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নাই। আমি চাইছিলাম পুনরাবৃত্তি না করতে। ঐ যে কেউ কেউ বলে না--রবীন্দ্রনাথ তো সবই লিখে গেছেন, আমি আর লেখার জিনিস খুঁজে পাচ্ছি না। এমন ভাবনা আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুর মধ্যে ছিল, আমার মধ্যেও কিছু পরিমাণে ছিল যে মানিক-তারাশঙ্কর-বিভূতি, সতীনাথ-জগদীশ-নরেন্দ্রনাথ-সুবোধ, কমলকুমার-অমিয়ভূষণ-হাসান-সন্দীপন-জ্যোতিপ্রকাশ-ইলিয়াসের পরে কি সত্যি সত্যিই কোনো মৌলিক কাজের অবকাশ রয়েছে? দেখা গেল যে আমার গল্প লেখার ব্যাপক অবকাশ আছে। যে কারো জন্যই আছে। কারণ পৃথিবীর যেমন প্রতিদিন বয়স বাড়ে, তেমনই প্রতিদিন সে নতুন হয়। ফলে নতুন নতুন দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। নতুন লেখা ছাড়া নতুন দ্বন্দ্বকে প্রকাশ করা যায় না। ১৩০০ গল্প পড়ে এটা বুঝতে হলো আমাকে। খুবই হাস্যকর মনে হয় এখন। কিন্তু সেই সময় এই ভয়মিশ্রিত চিন্তাটা বাস্তবিকই ছিল আমার মধ্যে।

দ্বিতীয় আর একটা কারণ ছিল। সেটি হচ্ছে আশির দশকে আমাদের এখানে যেসব কাগজ বেরুচ্ছিল, লিটল ম্যাগাজিনগুলো, সেগুলোতে যেসব গল্প ছাপা হচ্ছিল, বা যেসব ধরনের গল্পের প্রাধান্য ছিল, সেগুলি আমাকে ধন্ধে ফেলে দিয়েছিল। গল্প বলতে যদি এগুলোকেই বোঝানো হয়ে থাকে, তাহলে তো আমার দ্বারা গল্প লেখা হবে না। কারণ সেগুলি যতটা ছিল গল্প, তারচেয়ে বেশি ছিল কবজির সার্কাস। কিন্তু নিজে পড়ে থাকি মফস্বলে, বড় বড় লেখকদের কাছে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাদের কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চিনিও না, আমার সমসাময়িক তরুণদের সাথে দেখা হলে তারা সবাই ঐসব পত্রিকার লেখকদের নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে-- তখন তো বিভ্রম আরও বেড়েই চলে। তো তখন মনে হলো গল্প জিনিসটা যে আসলেই কী, তা জানার একমাত্র পথ হচ্ছে যাদের গল্প নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই, সেগুলি পড়ে ফেলা। তো আমার এই পঠনের সাথে সমকালীন মাঠদাপানো কারো গল্পই মিলল না। পরবর্তীতে আবশ্য তাদের দাপাদাপি পুরোপুরি মিলিয়ে গেছে। কেউ কেউ টিকে আছেন কাকবন্ধ্যা লেখক হিসাবে। কিন্তু তারা আমাকে পরিশ্রম করালেও এই উপকারটা করেছেন পরোক্ষে। 

৫. আপনার গল্প লেখার কেীশল বা ক্রাফট কি?

জাকির তালুকদার : সত্যি বলতে কী, আমার কোনো কৌশল জানা নেই। প্রতিটি গল্পই আমাকে নতুন ভাবে শুরু করতে হয়। জীবনের প্রথম গল্প লেখা শুরুর সময় যে অবস্থা ছিল, এখন ষাট বা সত্তরতম গল্প লিখতে বসলেও আমাকে সেই শূন্য থেকেই শুরু করতে হয়। আগের লেখা আমাকে কোনো সাহায্য করে না। কারণ প্রতিটি গল্পই তার বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ ভাষা এবং আঙ্গিক দাবি করে।

৬. নিজের গল্প বিষয়ে আপনার বিবেচনা কি কি?

জাকির তালুকদার : এমন ধরনের প্রশ্নের উত্তরে বিনয় প্রদর্শন করাই স্বাভাবিক রীতি। কিন্তু আমি বিনয় দেখাতে চাই না। সচেতন এবং সর্বভূক একজন পাঠক হিসাবে বলতে পারি যে গল্পলেখক জাকির তালুকদার অন্তত গোটা দশেক অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মানের গল্প লিখেছেন। সাহিত্যের অপরাজননীতি যদি পেছন থেকে হাত না খেলায়, তাহলে ২/১ টি গল্প অনেক দূর ভবিষ্যতের পাঠকও পড়বেন।

৭. আপনার আদর্শ গল্পকার কে কে? কেন তাদেরকে আদর্শ মনে করেন?

জাকির তালুকদার : আমার কোনো আদর্শ গল্পকার নাই। তবে আমার পূবসূরি, সমকালীন, এমনকি উত্তরসূরি গল্পলেখকদের কাছ থেকেও আমি শিখি। তাদের রচনার সফলতা থেকে যেমন শিখি, ব্যর্থতা থেকেও তেমনি শিখি।

৮. আপনার আদর্শের গল্পকার না থাকলেও কিছু কিছু প্রিয় গল্পকার তো আছেতাঁদের একটু উল্লেখ করুনতারা কেনো প্রিয় হয়ে উঠেছে সেগুলোও বিস্তারিত বলুন। তাদের রচনার সফলতাগুলো কি কি দেখতে পেয়েছেন? আবার তাদের ব্যার্থতাগুলোই বা কি ধরনের?


জাকির তালুকদার : প্রিয় গল্পকার বললে মনে হবে ঢালাও ভাবে সেই লেখকের সব গল্পের কথা বলছি। তেমন কেউ নেই, যার সব লেখাই আমার প্রিয়। কারো একটি-দুটি, কারো বা তার চেয়ে বেশি, কারো অনেকগুলি গল্প প্রিয় আমার। এভাবে বলতে গেলে তো কোনো ধারাবাহিকতা থাকবে না। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর নয়নচারা বা পরাজয় পছন্দের গল্প। অনেক পরে এসে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের উৎসব এবং খোঁয়ারি। সবার আগে বোধহয় বলা উচিত ছিল গোগোলের ওভারকোট গল্পের কথা। অমিয়ভূষণ মজুমদারের সাইমিয়া ক্যাসিয়া তো আমার মনে হয় বাংলাভাষায় লেখা চিরকালের গল্পের মধ্যে জায়গা পাবে। আবার আন্তন চেখভ-এর অনেকগুলি গল্প খুব প্রিয়। একই ভাবে প্রিয় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের স্নোজ অফ কিলিমানজারোর গল্পগুলি। মিলন মুখোপাধ্যায়ের একটিমাত্র গল্প পড়েছি আমি দেশ পত্রিকার পাতায়। গল্পটির নাম ছিল খগেন বাবুর ওড়াউড়ি। সেটি আমার খুব প্রিয় গল্প। মঈনুল হক সাবেরের বৃত্ত তো মধ্যবিত্ত নিয়ে লেখা অন্যতম শ্রেষ্ট গল্প। হাসান আজিজুল হকের আমৃত্যু আজীবন অসাধারণ। জ্যোতিপ্রকাশ দত্তের রংলাল ফেরে না, আবুবকর সিদ্দিকের মরে বাঁচার স্বাধীনতা, শহীদুল জহিরের ডুমুরখেকো মানুষ, রাহাত খানের কয়েকটি গল্প, সতীনাথ ভাদুড়ীর চখাচখি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অতিথি-- এগুলি প্রিয়। নাগিব মাহফুজের যাত্রী ছাউনির নিচে বইয়ের গল্পগুলিও অসাধারণ। বিভূতিভূষণের পুঁই মাচা তো কেবল বাংলাভাষাতেই লেখা সম্ভব। অ্যালান পো-র বিড়াল সর্বকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গল্প আমার কাছে। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হলুদ পোড়া শিখিয়েছে মনস্তত্ত্বের ব্যবহার কেমন করে করতে হয় ছোটগল্পে। তালিকা আরো অনেক অনেক বাড়বে। কিন্তু স্মৃতিশক্তির ওপর আর বেশি চাপ দিতে চাই না।
এইসব গল্প প্রিয় বিভিন্ন কারণে। কোনোটি শুধু আখ্যানের কারণেই। এতই শক্তিশালী আখ্যান যে তার নির্মানশৈলী নিয়ে চিন্তা করাটাও তখন অশ্লীল মনে হয়। কোনোটা আবার প্রিয় সেই নির্মাণ শৈলীর কারণেই। কোনোটি প্রিয় পরিমিতির কারণে। কোনোটা প্রিয় উপরিতলের বাস্তবতা যে আদৌ বাস্তবতা নয়, তা বুঝিয়ে দেবার কারণে। আবার কোনো কোনো গল্প প্রিয় হয়ে উঠেছে এই কারণে যে সেগুলোতে আবহমান বাংলার কথকতার ধারাবাহিকতা খুঁজে পাওয়া যায়।

আর ব্যর্থতার কথা? আমার কাছে ব্যর্থতার চূড়ান্ত দৃষ্টান্ত হচ্ছেন শহীদুল জহির। একটু বুঝিয়ে বলি। তার লেখা প্রথমটি পাঠ করার সময় পাঠক অসাধারণ এক নতুনত্বের স্বাদ পাবেন। দ্বিতীয়টি পাঠের সময় সেই স্বাদ অনেকটা কমে যাবে। তারপরে যত পড়তে থাকবেন, তত দেখতে পাবেন যে একঘেয়ে লাগছে। মনে হবে তিনি নিজের লেখা নিজেই কপি করছেন। অথবা মনে হবে যে তিনি প্রথমে একটা ছাঁচ তৈরি করেছেন, পরে সেই ছাঁচের মধ্যে শব্দ ঢেলে ঢেলে প্যারডি তৈরি করছেন, নিজের লেখার ভঙ্গি নিজেই নকল করছেন। এই যে একটা আঙ্গিক নির্মাণের পরে সেখানে বন্দি হয়ে থাকা, এটি যে কোনো বড় লেখকের জন্য অন্তরায়।  

৯.   কার জন্য গল্প লেখেন? আপনি কি পাঠকের কথা মাথায় রেখে লেখেন? আর যদি পাটকের কথা মনে না রেখে লেখেন তাহলে কেন পাঠককে মনে রাখেন না লেখার সময়?
জাকির তালুকদার :  লিখি ২৫ কোটি বাংলাভাষীর জন্য। স্বপ্ন দেখি তারা সবাই আমার লেখা পড়বেন।

তবে লেখার সময় কারও কথা মাথায় থাকে না। তখন লেখাটিই থাকে সচেতন এবং অবচেতন মনকে দখল করে। পাঠকের কথা ভেবে লিখতে গেলে তো লেখকের স্বাধীনতা আগেই খর্ব হয়ে বসে থাকে।

১০.. আপনি যখন অনুরুদ্ধ হয়ে লেখেন, বিশেষ করে ঈদ বা বিশেষ সংখ্যায়--সেটা তো এক ধরনের চাপের মধ্যে থেকেই লেখেনএই অনুরুদ্ধ লেখাগুলো আপনার লেখার মানকে দুর্বল করে?


জাকির তালুকদার :  অনুরুদ্ধ হয়ে বেশি লিখতে হয় লিটল ম্যাগাজিনে। বিশেষ করে যে সময় আমার লিখতে ইচ্ছা করছে না, বা পূর্ব পরিকল্পনা নাই-- সেই সময় লিটল ম্যাগাজিন থেকে হঠাৎ চাপ আসে। চাপের পর চাপ আসতে থাকে। আবার লিটল ম্যাগাজিন যেহেতু ভালোবাসার জায়গা, সেই কারণে লেখা তৈরি করার ইচ্ছাটা নিজের গরজেই জাগিয়ে তুলতে হয়। ফলে চাপটা দ্বিগুণ হয়ে যায়।


ঈদসংখ্যা নিয়ে কোনো চাপ তেমন অনুভব করি না। প্রথম কারণ, তারা এক বছর আগে থেকেই জানিয়ে রাখে। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, নিজের ওপর কোনো জোরজবরদস্তি করতে হয় না। লিখতে পারলে দেবো, না পারলে বলে দেবো পারছি না। যাকে দিতে পারলাম না, সে হয়তো পরে আমাকে বয়কট করবে, কিন্তু তাতে আমার কিছু আসে-যায় না। আমি লেখক। লেখার জোগানদার নই।


সাধারণভাবে অনরুদ্ধ লেখা নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারি না পুরোপুরি। তবে ন্যূনতম মান বজায় রাখার চেষ্টা করি সবসময়। আবার অনুরুদ্ধ হয়ে যেসব লেখা লিখেছি, সেগুলির মধ্যে কোনো-কোনোটা পরবর্তীতে আমার প্রিয় লেখা হয়ে উঠেছে, এমন উদাহরণও আছে।

১১. এখন কি লিখছেন?

জাকির তালুকদার : শাহবাগ উপন্যাস। তবে লেখাটা তেমন এগুচ্ছে না। আমি অবশ্য তাতে হতাশ নই। এমনটি আগেও অনেকবার হয়েছে। আসলে আমার এখন নানা বিষয়ে পড়তে খুব ভালো লাগছে। লেখায় ফাঁকি দিয়ে পড়ছি।


১২. লেখালেখি নিয়ে আপনার আগামী পরিকল্পনা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী ?

জাকির তালুকদার : তেমনভাবে কোনো ছক তৈরি করা নেই। তবে লিখে যাব যে কটা নিশ্বাস বাকি আছে, সবটা জুড়েই।