সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১

গল্পপাঠ।। আষাঢ়-শ্রাবণ।। ১৪২৮ বঙ্গাব্দ।। জুলাই-আগস্ট।। ২০২১ খ্রিস্টাব্দ।। সংখ্যা ৭৮

জীবনে আমার যত আনন্দ 

আমার এক বন্ধু সেদিন বললেন, “গল্পকারের কাজ হল জীবনের সঙ্কটকে মূর্ত করে তোলা।” প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবাদ করতে উদ্যত হয়েছিলাম, কিন্তু দ্বিতীয় মুহূর্তে তাঁর কথাটি আমাকে এক ভাবনায় নিক্ষেপ করল। যে সঙ্কটে পাঠক নিমজ্জিত সেই সঙ্কটকে লেখক মূর্ত করছেন, কার্যকারণ দর্শাচ্ছেন, কিন্তু সমাধানের পথ দিচ্ছেন না – সেটা কি পাঠককে এক গভীরতর অসুখে নিলীন করবে না? কিন্তু আমাদের সমস্ত স্তুতি জমা থাকে যা কিছু ট্র‍্যাজিক – অন্যায়, অবিচার, অসন্তোষ, বিশ্বাসঘতকতা, শ্রেণী-জেন্ডার-জাতি-ধর্ম-বয়স বৈষম্য, একক চরিত্রের অতলগামিতা কিংবা নিষ্ঠুর পরিহাসের পরিস্ফুটনে। সুখী, হাস্যময় বা আনন্দিত সাহিত্য গুরুত্বের মধ্যে পড়ে না।

আপনি বলবেন সুখ বা আনন্দের সংজ্ঞা কী? এটির ব্যাখ্যা দুস্পর্শ। কিন্তু জীবনসঙ্কট-মাঝে আনন্দে উত্তরণের পথ আছে, সেটির জন্য রবীন্দ্রনাথই যথেষ্ট, তবে সে আলাপে এখন যাচ্ছি না।

লেখক ভাবছেন, নির্ভুলতার চাইতে পাঠক জীবনের ভুলগুলি পড়তে বেশি আগ্রহী। আনন্দের মধ্যে উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, রহস্য, কামনা-বাসনা নেই, যাকে বলা যায় বোরিং। আনা কারেনিনার শুরুতে তলস্তয় লিখলেন – “সব সুখী পরিবার একই রকম, অসুখী পরিবার অসুখী যার যার নিজের মতন।” এমন যেন – সুখের কোনো বৈচিত্র‍্য নেই; বর্ণহীন, গন্ধহীন, আকার-অবয়বহীন এমন একটা জিনিস, তাকে নিয়ে লেখা বা পড়া দুটোই অর্থহীন। পার্সি শেলী লিখলেন, আমাদের মধুরতম গান হল সেগুলোই যা কিনা গায় বিষাদতম কথা, ইত্যাদি।

উরসুলা কে লেগুইনের একটি গল্প আছে ‘যারা ওমেলাস ছেড়ে চলে যায়’। নীল সমুদ্রের ধারে সবুজ পাহাড় দিয়ে ঘেরা ওমেলাস একটি মনোরম সাজানো গোছানো শহর, তার নাগরিকেরা সবাই সুখী, তারা উৎসব করে সমুদ্রের ধারের পার্কে বাদ্যযন্ত্রে, সঙ্গীতে, ঘোড়দৌড়ে, শিশুদের উচ্ছলিত হাসিতে। কিন্তু কোনো আনন্দই নির্দোষ নয়, কোনো আনন্দই বিনা মূল্যে অর্জিত হয় না। তাদের সুখের বিনিময়ে নাগরিকদের একটি চুক্তি করতে হয়েছিল। কার সঙ্গে সেই চুক্তিটি হয়েছে তা লেখক আমাদের জানান নি, কাহিনিটির জন্য সেটি গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই অঙ্গীকারে সুন্দর ওমেলাসের একটি বাড়ির মাটির নিচে একটি ঘরে একটি শিশুকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। শর্ত ছিল সেই শিশুটির প্রতিকোনো সহৃদয়তা দেখানো যাবে না, তার সঙ্গে কথা বলা যাবে না, তাকে পরিষ্কার করা যাবে না, তাকে শুধু খাবার দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা যাবে। এই শর্তের সামান্যতম খেলাপ হলে নাগরিকদের সমস্ত সুখ অন্তর্হিত হবে।শিশুটির অস্তিত্ব সম্পর্কে ওমেলাসের সব নাগরিকই জানত, পিতামাতারা তাদের সন্তানদের নিয়ে আসত শিশুটিকে দেখতে যাতে তাদের সন্তানেরা বোঝে তাদের আনন্দের উৎস হল এই শিশুটির চরম দুর্দশা। শিশুটি নির্বোধ হয়ে বড় হচ্ছিল, নিজের ময়লায় বসে তার চাপা কান্নানাগরিকদের হৃদয় বিদীর্ণ করে দিত, কিন্তু শিশুটিকে মুক্তি দিতে তারা ছিল নিরুপায়। একটি সত্তার দণ্ডের পরিবর্তে লক্ষ সত্তার আনন্দ অর্জিত হয়েছে – সুখের মোট পরিমাণই তো বিবেচ্য হওয়া দরকার!

তবে ওমেলাসের নাগরিকদের চিত্তের গভীরতা ছিল, তারা বুঝতে পেরেছিল তাদের সুখ কোনো মুক্ত, দায়িত্বহীন, বিলাসিতার সুখ নয়। শিশুটির ভয়াবহ অস্তিত্ব তাদের সহৃদয় করেছিল, ন্যায্যতার প্রতিভূ করেছিল, তারা তাদের শিশুদের প্রতি কোমল হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেও কিছু তরুণ, কিছু প্রৌঢ়, কিছু বৃদ্ধ – শিশুটিকে দেখার পর – হেঁটে ওমেলাস ছেড়ে চলে যায়। উরসুলা লেগুইন তাদের এই কাজের – ওমেলাস পরিত্যাগের – কোনো ব্যাখ্যা দেন নি, কিন্তু আমরা জানি এই মানুষগুলির পক্ষে একজনের দুর্দশার বিনিময়ে লক্ষজনের সুখ মেনে নেয়া সম্ভব হয়নি।

তাঁর এই গল্পে লেগুইন সুখের, আনন্দের একটি মডেল তৈরি করতে চেয়েছেন। তিনি বলছেন, কোনো সুখই মুক্ত নয়, আনন্দকে গ্রহণ কর দায়িত্ব সহকারে, অথবা বর্জন কর সেই দায়িত্ব থেকেই। মহৎ সাহিত্য জীবনের সঙ্কটকে মূর্ত করে ঠিকই, কিন্তু জীবনের রস নিংড়ে তাকে স্বাদহীন, গন্ধহীন করে দেয় না, বরং আনন্দ সৃষ্টি করে। উরসুলা লেগুইনের এই গল্পটি আমাকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে, আমি বহুজনকে এটি বর্ণনা করেছি, গল্পটি তাদের সাথে ভাগ করে নেবার প্রক্রিয়ায় সেটি আমার জীবনের আনন্দের উৎস হয়েছে।

গল্পপাঠের এবারের সংখ্যা ওয়াসি আহমেদের গল্প ও উপন্যাসের আলোচনায় সমৃদ্ধ। ওয়াসি আহমেদ আমাদের সময়ের এক গভীরতর কথাশিল্পী যিনি কাঠামো, আখ্যান ও দর্শনের সাযুজ্যে গল্প নির্মাণ করেন। অনেক বন্ধু মনে করেন তিনি দর্শনকে (যার মধ্যে মনস্তত্ত্ব রয়েছে)আখ্যানের ওপরে স্থান দেন, এতে অবশ্য দ্বিমতের অবকাশ রয়েছে। উরসুলা লেগুইনের গল্পের মতো ওয়াসি আহমেদের গল্পও বন্ধুমহলে ভাগ করে নেবার মত। তাঁর এক গল্পে ডলফিন গলির কুকুরদের চিৎকারে পাড়া ঘুমাতে পারত না। সেই কুকুরগুলিকে যখন ধরে নিয়ে যাওয়া হল (এবং মেরে ফেলা হল) অধিবাসীরা ভেবেছিল তারা এবার শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। কিন্তু কুকুরদের চিৎকারের অনুপস্থিতি তাদের ঘুমাতে দিল না। ওমেলাসের নাগরিকদের সেই হতভাগ্য শিশুটিকে বিস্মরণ হয়নি, ডলফিন গলির অধিবাসীদের অনুপস্থিত কুকুররা জাগিয়ে রাখল। শান্তির ক্রয়মূল্য অসহনীয় হতে পারে। সাহিত্যের এই যে বিশ্বজনীন রূপ তা আমাদের বিস্মিত করে, সেই বিস্ময়ের মধ্যে রয়েছে আনন্দ।

গল্পপাঠের এই সংখ্যার আর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে জাপানি গল্পের ডালি। অনুবাদে সময়, শ্রম ও মেধা দিয়েছেন আমাদের লেখক বন্ধুরা। তাঁদের সৃজনে স্থান পেয়েছেন আকুতাগাওয়া রিয়োনোসুকে, কেনজাবুরো ওয়ে, কাজুও ইশিগুরো, হারুকি মুরাকামি, সুনেও তোমিতা, তামিকি হারা, ইনেকো সাতা, মিয়েকো কাওয়াকামি, নিইমি নানকিচি, রিও মুরাকামি, ইয়োশিকি হায়ামা। জাপানি সাহিত্যে সামন্ততন্ত্র থেকে পুঁজিবাদ-উত্তর আধুনিকতায় উত্তরণ খুব দ্রুত হয়েছে(বাংলায় সেই পরিবর্তনটি এখনো চলমান)। তাই সমাজের পরিবর্তে একক ব্যক্তিসত্তার উপস্থিতি সেখানে জায়মান। এই উপস্থিতি এমনই দ্বান্দ্বিক যা বহু লেখকের জীবনাবসানের কারণ হয়ে দাঁড়ায় – বলা হয়ে থাকে পঞ্চাশজনের অধিক জাপানি গল্পকার আত্মহত্যা করেছেন, এর মধ্যে রয়েছেন আকুতাগাওয়া, তামিকি হারা, মিশিমা প্রমুখ। এও এক ধরণের বিস্ময়! সব বিস্ময় মনে হয় আনন্দের হয় না, কিন্তু তা আমাদের বোধকে গভীরতা দেয়। এই বোধের অন্যদিকে রয়েছেন আশাবাদে পরিপূর্ণ নোবেল বিজয়ী কেনজাবুরো ওয়ে। প্যারিস রিভ্যুয়ে প্রকাশিত কেনজাবুরো ওয়ের সাক্ষাৎকারটি অনুবাদ করেছেন শামীম মনোয়ার। ওয়ের অনেক গল্পই তাঁর মানসিক প্রতিবন্ধী বড় ছেলেকে নিয়ে যে শত বাধা সত্ত্বেও একজন সঙ্গীত সুরকার হয়েছে। পিতা–পুত্রের এই মিথস্ক্রিয়া যে কতখানি সৃজনশীল ও আনন্দের সেটি ওয়ের সৃষ্টি থেকে বোঝা যায়।

এছাড়া গল্পপাঠের এই ডালিতে রয়েছে নতুন-পুরোনো বহু সৃষ্টিশীল মানুষের কাজ, পাঠক তাঁদের পড়বেন, ভাববেন, ভাগ করে নেবেন বন্ধুদের সাথে। এই সময়টা মনে রাখবেন, আমরা যখন যেভাবে যে বয়সেই থাকি না, যে সঙ্কটেই থাকি না কেন আমরা সব সময়ই শিখি, সব সময়ই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাই। সেই পরিবর্তন হোক আনন্দের। ​
-- দীপেন ভট্টাচার্য
সম্পাদকীয় ছবিঃ অঙ্কিত ভদ্র
ছবি কৃতজ্ঞতাঃ কথাসাহিত্যিক অহনা বিশ্বাস  



 চিরায়ত গল্প:

ওয়াসি আহমেদ জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, জনপ্রিয়তার সাহিত্যিক নন। ওয়াসি আহমেদ আমাদের সময়ের এক গভীরতর কথাশিল্পী, যিনি কাঠামো, আখ্যান ও দর্শনের সাযুজ্যে গল্প নির্মাণ করেন। নির্লিপ্ত এবং অতিকথনের পথ এড়িয়ে কাহিনির আখ্যান গড়ানোর ক্ষেত্রে তিনি বিশেষ মুন্সিয়ানার সাক্ষর রাখতে সক্ষম। তাঁর রয়েছে নিজস্ব ভাষা শৈলী। তাঁর মননশীলতা পাঠকশ্রেণির কাছে আদৃত। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং যুক্তরাজ্যে তাঁর সাহিত্য মূলভাষায় এবং অনুবাদে সঙ্কলিত হয়েছে। তিনি দক্ষতার সাথে দক্ষিণ এশিয়ার ছোট গল্প সঙ্কলনের সহলেখক এবং সম্পাদনার কাজ করেছেন। 

ইতিমধ্যে তিনি কথাসাহিত্যে বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন। স্বভাবে তিনি নিভৃতচারী। বোদ্ধা পাঠকের কাছে একটা স্থান তৈরী করে ফেললেও সাধারণ পাঠকের কাছে তিনি অনেকটাই অচেনা।

গল্পপাঠ কথাসাহিত্যিক ওয়াসি আহমেদের বেশকিছু বই সংগ্রহ করে লেখক এবং বোদ্ধা পাঠকদের পড়তে দিয়েছিল। পড়া শেষে তারা তাদের পাঠপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেই পাঠ প্রতিক্রিয়াগুলো পাশাপাশি তাঁর কিছু গুরুত্বপূর্ণ লেখাও পুন:প্রকাশ করা হলো।


এছাড়া ওয়াসি আহমেদের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার নিয়েছে গল্পপাঠ টিম। 

গল্পপাঠ টিমের মৌসুমী কাদের, মোজাফফর হোসেন এবং নাহার তৃণা এই বিশেষ ক্রোড়পত্রটি সম্পাদনা করেছেন। 




মৌলিক গল্প

 
 


জাপানি গল্পের আয়োজন: 
জাপানি বিহ্বলতা!
দীপেন ভট্টাচার্য


কেনজাবুরো ওয়ে (জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯৩৫) – সমসাময়িক জাপানি সাহিত্যের অন্যতম নক্ষত্র। ওঁর উপন্যাস, ছোটগল্প এবং প্রবন্ধে ফরাসী এবং মার্কিন সাহিত্যের প্রভাব লক্ষণীয়। ১৯৯৪ সালে সাহিত্যে নোবেল প্রাইজ় পান। ওঁর উল্লেখযোগ্য রচনাঃ ‘এ পার্সোনাল ম্যাটার’, ‘দ্য সাইলেন্ট ক্রাই’।
কেনজাবুরো ওয়ে'কে নিয়ে লেখাপত্র:

অনুবাদ: শামীম মনোয়ার
সাক্ষাৎকারগ্রহীতা: মনজুরুল হক
ভাষান্তর : উৎপল দাশগুপ্ত


ভাষান্তর: সুদেষ্ণা দাশগুপ্ত
জাপানের খেলা জুডো নিয়ে এক আমেরিকান মুষ্টিযোদ্ধার উন্নাসিকতার মজাদার গল্প এটি। শেষমেশ কোন খেলা এবং খেলোয়াড়ের বিজয় হয়েছিল জানতে হলে গল্পটা আপনাকে পড়তে হবে পাঠক। পাঠ শেষে ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটবে সেটা হলফ করেই বলা যায়। পড়ুন তবে...
অনুবাদ: অমিতাভ চক্রবর্ত্তী

জাপানি বাবা-মায়ের সন্তান ব্রিটিশ নাগরিক কাজুও(ভিন্ন উচ্চারণে কাযুও) ইশিগুরো সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান ২০১৭ সালে। ইশিগুরোর বড় হয়ে ওঠা পুরোটাই ব্রিটেনে। কিন্তু খুব ছোট থেকে তার বাবা-মা তার চেতনায় জাপানের ছবি দৃঢ় ভাবে এঁকে দিয়েছিলেন। বাড়িতে যে পরিবেশে তিনি বড় হয়ে ওঠেন তার ভাষা জাপানি, মূল্যবোধ জাপানের। তার লেখাতেও সেই প্রভাব পড়ে। প্রথম দুটি উপন্যাসের পটভূমি বেছে নেন জাপান।

বর্তমান গল্পটি প্রথম ও দ্বিতীয় উপন্যাসের মাঝখানে প্রকাশিত। বস্তুত এটিকে দ্বিতীয় উপন্যাসের স্কেচ ধরা হয়। তার বেশিরভাগ লেখার মত এই গল্পটিও উত্তম পুরুষের জবানিতে বলা। বলছে সাত বছরের একটি বাচ্চা যে থাকতে এসেছে তার ঠাকুরদার বাড়িতে। গল্পে একই সাথে অনুপুঙ্খ বর্ণনা এবং সূক্ষ্ম আভাষের সহাবস্থান। ঠাকুরদা-নাতির কথাবার্তার মধ্যে এক বারের জন্যও মাঝের প্রজন্মের মানুষটির কথা আসে না কিন্তু খুব আলগোছে বলে যাওয়া বাক্যে সেই মানুষটিকে নিয়ে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ট্রাজেডির সংকেত দেওয়া থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের ফলে যুদ্ধের আগের প্রজন্ম তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নিজের মূল্যবোধ নিয়ে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়। এই চ্যালেঞ্জটাকেই ইশিগুরো এই গল্পে (এবং পরবর্তীকালে গল্প থেকে তৈরি হওয়া উপন্যাসটিতেও) ধরেছেন।

 

অনুবাদ: হারুন রশীদ
নতুন প্রযুক্তির আগমনে পুরোনো প্রযুক্তি অচল হয়ে যায়। যুগে যুগে এই সত্যটা চিরন্তন সত্য হিসেবে মেনে নিয়েছে লোকে। যারা মানতে পারে না তাদের কিছুটা ভোগান্তি হবেই। সেরকম ভোগান্তিতে পড়েছিল জাপানের এক লন্ঠন ব্যবসায়ী সেই গল্পটি লিখেছেন জাপানের হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান এণ্ডারসন নামে পরিচিত নানকিচি নিইমি।

  

অনুবাদ: বিপ্লব বিশ্বাস
জাপানের প্রাচীন রাজধানী কিয়োটোতে অবস্থিত পরিত্যক্ত রশোমন তোরণ এ গল্পের কেন্দ্রবিন্দু যাকে ঘিরে দুই অপরিচিত নারী - পুরুষের বেঁচে থাকার নীতিগত লড়াই। গল্পের পরতে পরতে ভয়ংকর সব ঘটনার বিপরীতধর্মী অপ্রত্যাশিত উপস্থাপনা পাঠককে শিহরিত করবে অবশ্যই।


বাংলা ভাষান্তর: মোস্তাক শরীফ

বিমানবন্দরে নিজেদের ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিল ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের দুই বন্ধু, অপেক্ষার ফাঁকে একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করল মেজাজ হারিয়ে কখনও কাউকে ঘুষি মেরেছে কিনা সে। যার কাছে জানতে চাওয়া তার নাম ওজাওয়া, এক শৌখিন বক্সার। জবাব দেয়ার ব্যাপারে প্রথমে খুব একটা আগ্রহী না হলেও একসময় ওজাওয়া জানায়, হ্যাঁ, একবার একজনকে ঘুষি মেরেছিল সে। গল্পের শুরু এভাবেই। আমরা পরিচিত হই আওকির সঙ্গে, স্কুলে ওজাওয়ার সহপাঠী ছিল যে। ওজাওয়া আর আওকির পারস্পরিক বৈরীতা, মাতসুমোতো নামে আরেক বন্ধুর আকস্মিক মৃত্যু এবং তার পরিণতিতে ওজাওয়া ও আওকির তিক্ত সম্পর্কে নতুন মোড়-আপাতসাধারণ এসব ঘটনা বর্ণনার ফাঁকে মানুষের মনোজগতের নানা অন্ধিসন্ধিতে আলো ফেলেন মুরাকামি। পরশ্রীকাতর আর সংকীর্ণমনাদের হীন আচরণ নাকি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নীরবতা আর মৌন সমর্থন–কোনটি বড় বিপদ, ওজাওয়ার সাথে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন পাঠকও।

‘নীরবতা’ (দ্য সাইলেন্স) গল্পটি হারুকি মুরাকামির ‘দ্য এলিফ্যান্ট ভ্যানিশেজ’ গল্প সংকলনের অংশ। সংকলনটির প্রকাশকাল ১৯৯৫। দ্য সাইলেন্স গল্পটির অনুবাদ করেছেন আলফ্রেড বার্নবম।
 
অনুবাদ: রঞ্জনা ব্যানার্জী
আমার ইচ্ছাপুর (Land of my heart’s desire) তামিকি হারার সর্বশেষ রচনা। বিক্ষিপ্ত অনুচ্ছেদে এই লেখা যেন তাঁর নিজের সঙ্গেনিজের কথা বলা। অনেকটা জার্নালের মতোই বিন্যাস। অনুচ্ছেদ্গুলি ভাবনার পরিসরে আঁটসাঁট জুড়ে না রইলেও একাকিত্ব, অবসাদ এবং পীড়নের সুর এদের গা ছুঁয়ে বেঁধে রেখেছে। তাঁর জীবনীসখানিক জেনে পড়লে এর শাঁস বোঝা যায় ভালো।

লেখাটি ১৯৫১ সনে তাঁর আত্মহত্যার (১৩ই মে ১৯৫১) প্রায় দুই মাস পরে প্রকাশিত হয়। ‘Land of my heart’s desire’ বা‘আমার ইচ্ছাপুর’ যেন নিজের সঙ্গে তাঁর শেষযাত্রার আগাম বোঝাপড়া।

গল্পপাঠের এই অনুবাদটি রিচার্ড এইচ মিনিয়রকৃত ইংরেজি অনুবাদের অনুসরণে করা করা হয়েছে। রিচার্ড ম্যাসাচ্যুসেটসইউনিভার্সিটির ইতিহাসের অধ্যাপক। এই অনুবাদটি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ প্রোগ্রাম ইন অ্যাসিয়ান স্টাডিস অকেশ্যানালপেপারস সিরিস নম্বর ১৪’ সংখ্যায় ১৯৮৯ সনে প্রকাশিত হয়।


হারুকি মুরাকামির গল্প: আয়না
অনুবাদ : শুভ চক্রবর্তী
আয়না ছাড়া সভ্য জগতে চলা বেশ মুশকিল। এ গল্পের কথক, যিনি আয়না ছাড়া দিব্যি কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের অনেকটা সময়। সেই মানুষ যখন ঘটনাচক্রে নিজের প্রতিবিম্ব দেখেন কেন তখন ভূত দেখার মতো চমকে ওঠেন? মানুষের নিজের রূপ কী এতটাই ভয়ঙ্কর যা দেখে চমকে উঠতে হবে?

অনুবাদ: ফারহানা আনন্দময়ী
নারুমি নামের কিশোরী জাপানী মেয়েটা দেখতে খুব সুন্দর আর সকলেই তার সুন্দর দেহের খুব প্রশংসা করতো। ওর মানুষী সত্তার চেয়ে শারীরিক সৌন্দর্যটা মূখ্য ছিল তাদের কাছে। একদিন স্কুল থেকে ফেরার পথে নারুমি শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়। এরপর থেকে ওর ভেতরে একটা গ্লানি কাজ করতে শুরু করে, সমাজ এবং পরিবার তাকে এই বোধটা দিতে শুরু করে যে, ধর্ষণের শিকার হওয়াটা ওর জন্য লজ্জার বিষয়। এই আত্মগ্লানি থেকে মুক্তি পেতে সে অনেক বেশি খেতে শুরু করলো। একটা সময়ে এসে বেঢপ আকারের একজন স্থুলদেহী নারীতে রূপান্তর করলো নিজেকে। নিজের সত্তা আর শরীরের মধ্যে সে একটা দূরত্ব নির্মাণ করতে চাইলো। লেখক কিয়েকো মাওয়াকামি ‘লজ্জা’ গল্পের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করতে চেয়েছেন, ধর্ষণের শিকার একজন নারীকে সমাজ কীভাবে প্রত্যাখ্যান করে এবং এই প্রত্যাখ্যান সেই নারীর জীবনযাপনকে কীভাবে বিষাদী করে তোলে।
অনুবাদ: মাজহার জীবন
গল্পটিতে একই পয়েন্ট অব ভিউ থেকে নানাজন নানাভাবে একই ঘটনার বর্ণনা করেছে কিন্তু কোনটা সঠিক তা বোঝা যাচ্ছে না। জাপানী পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া এই গল্প অবলম্বনে তাঁর বিখ্যাত চলচ্চিত্র “রশোমন” নির্মাণ করেন। জাপানী ভাষা থেকে গল্পটা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন তাকাশি কোজিমা।


অনুবাদ: দিলশাদ চৌধুরী
দ্যা লাস্ট পিকচার শো গল্পটির প্রেক্ষাপট টোকিও শহর যেখানে সদ্য তরুণ ইয়াজাকি তার কিছু বন্ধুদের সাথে আসে একটা ব্লু'জ ব্যান্ড হিসেবে নাম তৈরি করতে। যদিও ইয়াজাকির প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো বাবা মায়ের থেকে দূরে যাওয়া এবং ব্যান্ডের ব্যাপারে তার বিন্দুমাত্র আগ্রহ ছিলোনা, তবুও শুধুমাত্র বাসস্থানের স্বার্থে সে দ্বিমত পোষণ করেনি। ঘটনাচক্রে তার পরিচয় হয় তাতসুমির সাথে যে কিনা একটা মাফিয়া দলের সাথে যুক্ত এবং তাদের ওপরতলাতেই থাকে। তাতসুমি ইয়াজাকিকে যুক্ত করে তার কাজের সাথে। একসাথে কাজের সূত্রে ইয়াজাকি তাতসুমিকে একটা সিনেমা দেখাতে নিয়ে যায়, যা তাদের দুজনের মনোভাবেই এক অন্যরকম বদল আনে। কোপনস্বভাব তাতসুমির এক কোমল দিকের সন্ধান পায় ইয়াজাকি। কি সেই সিনেমা? তাতসুমির জীবনের চরম অনুভূতিই বা কি? কি হবে ভবিষ্যত নিয়ে ইয়াজাকির সিদ্ধান্ত? সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে রিও মুরাকামির গল্প দ্যা লাস্ট পিকচার শো তে।

অনুবাদ : বেগম জাহান আরা
‘রঙহীন ছবিগুলো’ গল্পে সাতা তাঁর বন্ধু K. এবং Y.-এর কথা বলছেন যারা দুজনেই নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমার তেজস্ক্রিয়তায় আক্রান্ত হয়েছিল। লেখক Y.-এর সাথে K.-এর আঁকা ছবি দেখছেন মিউজিয়ামে, বলছেন – “…K.-র ছবিগুলো বেশ শক্তিশালী মনে হতো, কারণ সে গুলো রঙহীন। রঙহীন হওয়ার কারণে তাঁর ভেতরের হিংস্র নাটকের সত্যিকার ভাব বোঝা যায়, যেটা তাঁর ভেতরে বাস করে। যেটা তাঁর পবিত্রতাকেই প্রকাশ করে। এটাই K.-র বৈশিষ্ট্য। ঠগবাজি বা চাতুরি সে করতেই পারতো না। একটাই পথ তার সামনে খোলা থাকতো, সেটা হলো ছবি থেকে রঙ বর্জন করা।” গল্পটি কিছুটা বিমূর্ত, কিন্তু নিবিড় পঠনে বাস্তবতা (নাগাসাকির বিভীষিকা) ও আর্টের মেলবন্ধনটি পাঠকের কাছে মূর্ত হবে।


  
অনুবাদ: সুমু হক
সহজ সরলরেখায় চলতে থাকা জীবনে অকস্মাৎ সাধারণ এক দম্পতির চেপে রাখা অপরাধবোধজাত মনস্তত্বের বাস্তবজীবনে ছলকে পড়া বিস্ফোরক প্রতিফলন এবং তার ফলাফল নিয়ে বাস্তব, পরাবাস্তব মিলিয়ে লেখা রিয়োনোসুকে আকুতাগাওয়ার "একটি অদ্ভুত গল্প"; গল্পের কাহিনী এবং চরিত্রগুলোর অব্যক্ত কামনাগুলো যেখানে এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে, এক চরিত্র থেকে অন্য চরিত্রের মানসে একজন লাল-টুপিধারী রহস্যময় ব্যক্তির কণ্ঠস্বরে ভর করে স্থান-কাল-বাস্তব-পরাবাস্তব-এমনকি সম্ভব-অসম্ভবের ঊর্ধে উঠে গিয়ে অনায়াসে যাওয়া-আসা করে এবং পাঠককেও নিয়ে যায়।

কত শত শ্রমিকের রক্ত ঘামে আর শ্রমে গড়ে ওঠে একেকটি নগর সভ্যতা। সেই সভ্যতার ইট পাথরের খাঁজে খাঁজে লুকোনো আছে কত কান্না, কত হাহাকার, কেউ তা জানে না। সেরকম এক অশ্রুতপূর্ব হাহাকার ভেসে উঠেছে(একদার) মেহনতি মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ সাহিত্যিক ইয়োশিকি হায়ামা'র এই গল্পটিতে। 

 
 

নতুন গল্পকারদের গল্প

আফ্রিকান গল্প
ধর্ম মানুষেরমনস্তত্ত্বের বিরাট একটি অংশ জুড়ে থাকে। এই উপষঙ্গের দ্বারা সে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়।ফরাসি দার্শনিক লুই আলথুসারের মতে, এটি অন্যতম আইডিয়োলোজিক্যাল স্টেট অ্যাপারেটাসও বটে। এই ধর্মের ঝাণ্ডা উড়িয়ে একসময় ঔপনিবেশিকতার বেনো জল পৃথিবীর নানান প্রান্তকে প্লাবিত করেছিল; শোষণ-নিপীড়নের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আর এখনও, উত্তর-ঔপনিবেশিক কালেও প্রাক্তন ঔপনিবেশিকদের স্বার্থের ধ্বজাধারী স্হানীয় শাসকরা তাদের দেখানো পথেই হাঁটছেন। এই অ্যাপারেটাস ব্যবহার করে শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার ধর্মায়ন করেন, মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করেন, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন। এমনই একটি ক্ষমতার ধর্মায়নের গল্প ব্যাঙ্গাত্মকভাবে হাজির করেছেন সোমালি লেখক সাইদা হ্যাগি-দিরি হেরজি। গল্পটিতে কীভাবে এবং কেন হালিমা নামের একটি গ্রাম্য মেয়ে, যার ওপর জ্বীনের আছড় আছে বলে একজন স্হানীয় ওঝা ঘোষণা করেন, দেশের শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতাকাঠামোর অপরিহার্য অংশ হয়ে ওঠে, তার একটি চমৎকার বয়ান হাজির করা হয়েছে অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে।
 
আমেরিকান গল্প:
হঠাৎ রহস্যময় এককোষী প্রাণীর আগমনে বিপর্যস্ত এক জনপদের গল্প। এই গল্পটি পড়তে পড়তে পাঠকের মনে চলমান অতিমারির প্রাসঙ্গিকতা হয়ত উঁকি দিয়ে যাবে।
    
পৃথিবীর মানচিত্রে ফিলিস্তিন দুঃখী এক ভূখণ্ডের নাম। সভ্যতা-শান্তির বিপরীতে দাঁড়ানো একালের রাবণের চিতা। এ অঞ্চলের অধিবাসীদের প্রাত্যহিক জীবনে বোমাবাজি, ধ্বংসযজ্ঞ, অপঘাত, কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন শব্দগুলো যেন ছায়াসঙ্গী হয়ে পায়ে পা মিলিয়ে চলে। এসবের ভেতরই তাদের জীবন-মৃত্যুর বৃত্ত পূর্ণতা পায়। দমবন্ধ এমন পরিস্হিতি বা প্রেক্ষাপটে রচিত চারটি গল্প। এমন গল্পপাঠ আমাদের অপরাধী করে তোলে-- সহজলোভ্য বিলাস-ব্যসনের মাঝখানে থেকে হাজারও অভিযোগে অভ্যস্ত আমাদের ভোতা বিবেকটাকে তুমুলভাবে নাড়া দেবার চেষ্টা চালায়।
   
বৃটিশ গল্প:
অনুবাদ: মনিজা রহমান
বিত্তশালীনী ও রূপবতী স্ত্রী পামেলাকে মনে প্রাণে ভালোবাসে আর্থার। সমস্যা একটাই পামেলার কথার ওপরে কোন কথা বলার অধিকার তার নেই। সপ্তাহান্তে অবকাশ কাটানোর জন্য স্নাপস দম্পতিকে দাওয়াত দিলেও পামেলা তাদের দুই চোখে দেখতে পারে না। শুধু ভালো ব্রিজ খেলতে পারার কারণেই তাদেরকে বাসায় আমন্ত্রণ জানিয়েছে সে। হঠাৎ করে পামেলা অতিথিদের রুমে একটি আড়িপাতার যন্ত্র লাগানোর জন্য আর্থারকে বলে। শুরুতে পামেলার প্রস্তাবে রাজী না হলেও ঝগড়া এড়ানোর জন্য আর্থার কাজটা করতে রাজী হয়। অতিথিদের সঙ্গে ব্রিজ খেলতে গিয়ে আর্থারের কাছে স্নাপস দম্পতিকে খুব ভদ্র ও চমৎকার মনে হয়। আড়িপাতার যন্ত্র বসানোর জন্য ওর মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে। কিন্তু যখন সেই যন্ত্রের মাধ্যমে স্নাপস দম্পতির প্রতারণা ফাঁস হয়ে যায়, তখন আর্থার বুঝতে পারে তার ধারণা কতখানি ভুল ছিল।
 ধারাবাহিক স্মৃতিকথা : তুচ্ছদিনের গান:পর্ব তিন 
  

আলী নূর পেশায় আইনজীবি। বই পড়া, গান শোনা, ফুল ফোটানো, নাটক কিংবা ওড়িশি নৃত্য অথবা উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত, যন্ত্রসঙ্গীত এইসব নিয়েই তাঁর আনন্দযাপন। তাঁর নানা শখের মধ্যে দেশভ্রমণ, ছবি আঁকা, ফটোগ্রাফি এবং সিনেমাটোগ্রাফি অন্যতম। তিনি জীবনযাপন নয় জীবন উদযাপনে বিশ্বাসী।ব্রিটিশ-ভারত, পাকিস্তান এবং স্বাধীন বাংলাদেশ এই তিন কাল তিনি দেখেছেন,দেখছেন। ‘তুচ্ছদিনের গান’ কেবল তাঁর জীবনের গল্প নয় বরং গল্পচ্ছলে ইতিহাসের পরিভ্রমণ।আলী নূর'এর --