মুজিব ইরম আমার প্রিয় কবি। অনেক আগে থেকেই তাঁর কবিতা আমি পড়েছি। আহমেদ সায়েমের সুনৃত পত্রিকায়। পড়েছি সরকার আশরাফের নিসর্গ পত্রিকায়। পড়েছি বরিশালের নদীর উপর ভেসে। তখনই মনে হয়েছে মুজিব ইরমের হাতে কবিতা আছে। তিনি হাত থেকে কবিতাকে অক্ষরে নামাতে পারেন। পড়ে মন কেমন করে।

ম গল্পও লেখেন। আমি গল্পের লোক। ইরমের গল্পের বই আছে। গল্পপাঠে তিনি গল্প দিয়েছেন। পড়ে দেখি গল্পগুলো কবিতারই সম্প্রসারিত রূপ। তার গদ্য মধুর। শব্দের মধ্যে লাবণ্য। বুঝতে পারি তিনি কবি। গল্পকার নন। তার গলপ থেকে গল্পও পাই--আবার কবিতাও পাই। সেটাও গল্পের একটি ভঙ্গি।

মুজিব ইরমের কবিতার বইগুলোর নাম অদ্ভুত--ইরম সংহিতা। মুজিব ইরম ভবে শুনে কাব্যজন। ইরম কথা--দুসরা পুস্তক, ইরম কথার পরের কথা--তেসরা পুস্তক। একটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে--নাম বার্কি। এই বইটিকে বলেছেন আউট বই। ক্লাশবইয়ের নিচে রেখে গোপনে পড়তে হয়। টিচার দেখে ফেললে বিপদ। কিন্তু না পড়লেও মনে শান্তি আসে না।  মুজিব ইরমের কবিতা--
এই নিঁদহীন রাতে করি অনুনয়
তুমি আও...
আমি তো তেমনি আছি
যেমনি রেখেছো তুমি
জল বিনা মীন যথা দশা...
এই রাত কান্নাভেজা
এই রাত শুধু আহাজারি
তুমি আও
আও তুমি...
তোমার দিদার দেখে ইরম ধরুক গীতি
হয়ে নিদ্রাহারা
বিছানায় বিছাইয়া দিমু আসমানেরই তারা...


আরেকটি কবিতার নাম জাতক। পড়ে মুগ্ধ হই--
'কতো না ঘুরেছি পথ ছদ্মবেশে, দেশে দেশে, নগরে নগরে...এই ভেক, এই মিছা আবরণ খুলে ফেলো...এই নামে ডাকো তুমি ডাকিবার ইচ্ছা যদি হয়...তুমি তো ডেকেছো কতো মায়াময় নামে...কতো রূপে হয়েছি হাজির...কতো নামে সাড়া দিতে হয়েছি অধীর...আমাকেও ডাকো তুমি নকলী অভিধায়...মনে লজ্জা পাই...আমাকেও দেখে কেউ বাস করি বৈদেশ নগর...আমাকেও দেয় খোটা- সোনা ছেড়ে খাদ বাছি, ছেড়ে আসি বাস্তুভিটা, ছেড়ে আসি ঘর...এতো এতো ডাকনাম, এতো এতো রূপে ডাকাডাকি...ইতা আমি লিখে রাখি তেমনি আবার- আর কোনো নাম নাই লেখা এই বুকে, আমিও সিলট্যা লোক জানে সর্বলোকে'!

এবার বইমেলায় কবি ইরমের আরেকটি বই বের হচ্ছে। নাম--বাওফোটা। এটা তাঁর প্রথম গল্পের বই। তিনি দেড় যুগ ধরে এই গল্পগুলো লিখেছেন। গল্প সংখ্যা ১০টি। প্রকাশ করেছেন ঢাকার প্রকাশক চৈতন্য।  বাওফোটা নামের মধ্যেই যাদু আছে।
মুজিব ইরম লন্ডনে থাকেন কিন্তু তিনি সিলেট্যা লোক। আমি দেশহীন। তাঁর কবিতা পড়ে গোপনে সিলেট্যা হয়ে পড়ি। এটাই ইরমের যাদু।