বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২০

প্রতিভা সরকারের গল্প : সর্পগন্ধা

চাঁঁদের আলোয় চরাচর সেদিন এমন উথালপাথাল হয়েছিলো যে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে মীনার মাথাটা যেন ঝিমঝিম করতে লাগলো।

বহুদূর উঁচু উঁচু বাড়ির মাথাগুলো কুয়াশায় আবছা, জোছনায় জলকণা মিশে যেন বিশাল বিশাল ভারী সাদা ওড়না ঝুলছে ওদের পা অব্দি। শত হাওয়া দিলেও সেটি নড়বে না। আবার কখনো মনে হচ্ছে বিরাট কড়াইতে জ্বাল হচ্ছে ক্ষীরের মতো ঘন সাদা দুধ। আকাশ থেকে সোজাসুজি নেমে আসা আলোর বর্শা দিয়ে যেন কেউ ঘেঁটে দিচ্ছে অনবরত, উথলে পড়ে একটি ফোঁটাও যেন নষ্ট না হয়।

বাতাসে স্পষ্ট শোনা যায় একটা লি লি আওয়াজ, যেন অনেক দূর থেকে আবছা শিস দিয়ে কে কাকে ডাকছে। আর নীচের গাছপালায় অস্পষ্ট মোড়ামুড়ি করছে কে জানে সেই বাতাসই, নাকি অন্যকিছু ! 

মীনা হাই তোলে, হাত ভাঁজ করে আড়মোড়া ভাঙে, মাথার ভেতর সবসময়কার সেই ভোঁতা ব্যথাটা নিয়েই গ্রিল দেওয়া বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। রাত দেড়টায় আচমকা ঘুম ভাঙা মানে ব্যথাটা বাড়বে আর বাকি রাতটুকু তাকে জেগেই থাকতে হবে। তাহলে নাহয় একটু জোছনাই দেখা যাক। 

বাইপাসের দিক থেকে ছুটে আসা ঠান্ডা হাওয়ায় মীনার পাতলা নাইটি ফুলে ওঠে। কোমর থেকে ফুলে হাঁটুর ওপর উঠে যায়। কেউ দেখছে না জেনে নির্লজ্জের মতো দাঁড়িয়েই থাকে সে। বাড়ি তো ফাঁকা। প্রত্যেক শনিবার অফিস থেকেই স্টেশনমুখো হয় বৌদি। ঝাড়গ্রাম যায় দাদার কোয়ার্টার্সে। আবার সোমবার স্টেশন থেকেই সোজা অফিস। ফলে এই আড়াইদিন মীনা আর ওদের ল্যাব্রাডর ফুচকা একা থাকে নিউটাউনের এই চারতলার ওপরে। এই সময়টায় মীনা তেমন রাঁধেবাড়ে না, টিভি দেখে, ঘরবাড়ি সাফসুতরো করে, ফুচকাকে খেতে দেয়, নীচে নিয়ে যায় হাগুহিসি করাতে, বাকি সময় নিজের গাঁঘরের কথা ভাবে ঝিম হয়ে বসে থেকে। আর ঘুম আসে না বলে জোছনা রাত হলে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকে। 

নীচের ডালপাতার খসখসে আওয়াজটা যেন একটু পরিষ্কার হয়। এবার মনে হচ্ছে ঝরা পাতার স্তূপের ওপর কেউ গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। মীনা কৌতূহলে গ্রিলের ফাঁকে ঝুঁকে পড়ে। ঘুম আসছে না বলে এতো রাতে ঘনশ্যাম কি শুকনো পাতায় ঝাড়ু লাগাচ্ছে ! 

ঘনশ্যাম ওরফে ঘনা এ বাড়ির কেয়ারটেকার। মীনার থেকে বয়সে অনেক ছোট। নামে যেমন, চেহারাতেও এক কষ্টিপাথর খোদাই করা মূর্তি। দেখলে হঠাত আকাশের কোণে একটুকরো জমাট বাদুলে মেঘের কথা মনে হওয়া আশ্চর্য নয়। একমাথা তেল চকচকে কালো কোঁকড়া চুল। আলো পিছলানো পায়ের ডিম। হাফপ্যান্ট, গেঞ্জি আর কোমরে বাঁধা একখানা লাল টুকটুকে গামছা নিয়ে সে সারাদিন এই আটখানা ফ্ল্যাটের ফাইফরমাস খাটে, সাইকেল নিয়ে বাজারে যায়। ইলেক্ট্রিকের বিল জমা, টোটো ডেকে দেওয়া, প্লাম্বার ডাকা, সব কাজই সে হাসিমুখে করে থাকে। ফুচকা অব্দি ঘনশ্যামকে বেজায় ভালবাসে। ওর ঘরের সামনে গেলে এমন করতে থাকে যেন চেইন ছিঁড়ে বেরিয়ে যাবে। মীনা তাতে অস্বস্তি পায়, হোক ছোট, তবু একা বেটাছেলে তো ! 

আসলে রাজারহাট নিউটাউনের এই বড় বড় বাড়িগুলোতে মানুষ থাকে কম। অনেক অসুবিধে। বাজার হাট অনেক দূরে দূরে। বড় রাস্তায় যেতে হলে হয় টোটো, নয় সাইকেল। ডাক্তারবদ্যির আকাল। সেখানে কী করে যেন মীনাদের এই বাড়িটায় আটটা ফ্ল্যাটেই আটটা ফ্যামিলি থাকতে শুরু করে দিল। রজতদা বৌদি আর ফুচকার দেখভালের জন্য মথুরাপুর থেকে মীনাকে নিয়ে এসে নিশ্চিন্তে ঝাড়গ্রাম বদলি হয়ে গেল। 


জায়গাটা মীনারও পছন্দ। বড় বড় গাছের ছায়া পিচ-বাঁধানো রাস্তার ওপরে। একদিন যেন মথুরাপুরের মতো মতো গামার গাছ দেখলো সে একটা মোড়ে। বর্ষার ভেজা হাওয়ায় দুলছে অজস্র মঞ্জরি। ভিড়ভাট্টা নেই, গাড়িঘোড়ার উপদ্রব নেই। অনেক প্লট এখনো ফাঁকাই পড়ে আছে। এবাড়ির পাশের ফাঁকা জায়গাটাই যেমন। সেখানে ঘন ঝোপঝাড়, আসশেওড়ার গাছ, পাখির ডাকাডাকি। মীনার ভালো লাগে। শুধু ঘনশ্যাম একদিন বলেছিল ফুচকাকে বিকেলে ঘোরাতে নিয়ে গিয়ে যেন জঙ্গলে ঢুকতে না দেয়। খুব মোটা সাপ আছে। তাকে প্রায়ই দেখা দেয়। 

সবাই মীনাকে রজতদের কাজের লোক ভাবে। সেও গায়ে পড়ে ভুল ভাঙাতে যায় না। হাতখরচের নাম করে এরা তাকে যে টাকাটা দেয় তার পরিমাণ সবসময়ের লোককে দেওয়া মাইনের সমান, কিছু বেশিও হতে পারে। কলেজে ভর্তি হয়েও অর্থাভাবে ফার্স্ট ইয়ারের পর আর পড়া টানতে পারল না যে সম্পর্কিত খুড়তুতো বোন, তাকে এইভাবে এরা একরকম বাঁচিয়ে দিয়েছে। বাবার মৃত্যুর পর নাহলে সে যেতো কোথায় ! বরং তখন থেকে নতুন উপসর্গ যোগ হলো, হয় কথা নয় কথায় এই অসহ্য মাথার যন্ত্রণা। বাড়াবাড়ি হলে এখানে তাও ডাক্তারবদ্যি জোটে। গ্রামের মাটির বাড়িতে তেলচিটে বালিশে শুধু মুখ গুঁজে থাকা। ভবিষ্যতের কথা মীনা বেশি ভাবেনা আর। শুধু নিয়ম করে প্রত্যেক মাসে ব্যাঙ্কের পাসবই আপডেট করায়। দেখে হাত খরচ বা মাইনের টাকাটা গোটাগুটি জমা পড়েছে কিনা। 

গ্রিলের ফাঁকে ঝুঁকে সে দেখছিলো। হঠাত আধ মানুষ সমান পাঁচিলের ওপর হলদে টর্চের আলো, আর যেন একটা চাপা আর্তনাদ। যা চোখে এলো তাতে মীনার কন্ঠার ধুকপুকুনি বেড়ে গেল। পুরো পাঁচিলের দৈর্ঘ জুড়ে মাটি থেকে উঠে আসছে এক বিরাট সাপ। এবং তার অল্প পেছনে আর একটি। প্রায় পাশাপাশি বুকে উল্লম্ব হেঁটে ওরা কি ওপাশের পিচ রাস্তায় যাবে ? সেখানে জোছনা ছাড়াও পড়ে আছে ল্যাম্প পোস্টের হলুদ আলো। স্পষ্ট দেখা গেল ওদের চ্যাপ্টা তেকোণা মাথা, কালো হলুদ আঁশে কী নিপুণ আশ্চর্য চকরাবকরা সারা গায়ে। চন্দ্রবোড়া। গাঁয়ের মেয়ে হবার সুবাদে মীনা যে ক'টি সাপ চেনে তার মধ্যে সেরা সুন্দর এটি। এখন এই সাদাটে আলোয় স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে ওদের চকচকে হালকা হলুদ চামড়ার ওপর গাঢ় হলদে আর কালো দিয়ে আঁকা ছোট বড় ডিম্বাকৃতি নকশা। ডিম্বাকৃতি না বলে বিশাল কাজল পরা চোখের মত বলাই ভালো। চোখের মতই দুপাশে সরু হয়ে আসা ডিজাইন। শুধু মণিশূন্য। যেন অগুন্তি না ফোটা চোখ ওদের মসৃণ ত্বকের ওপর প্রলম্বিত হয়ে পড়ে আছে। দেখতে পারলে সরাসরি সেগুলো চাহনি ফেলতো মীনার চোখে। লাজুক, রাতচরা, মধ্যরাতের পর শিকারে বেরোনো সর্পদম্পতির ব্যস্ত চলনে তার ব্রহ্মতালু অব্দি শিরশির করে উঠল। 

ওরা হিলহিলিয়ে ওপরে উঠছিল, আর মনে হচ্ছিল অনন্ত দৈর্ঘ ওদের। এক দুই গুণে মীনা যখন পনের অব্দি পৌঁঁছেছে, তখন একটু ভোঁতা ল্যাজের শেষটুকু উঠে এল আধমানুষ পাঁচিলের পাঞ্জাসমান ছড়ানো ওপরটায়। কয়েক মূহুর্ত বাদে দুজনেই গিয়ে পড়ল সামনের রাস্তায়। ভারী দুটো শরীর আছড়ে পরলে যতটুকু শব্দ হওয়া উচিত তার থেকে অনেক কম শব্দ হলো। নীচে ঘনশ্যাম আর ওপরে মীনা বিস্ফারিত চোখে চেয়ে রইল।

এদের কথাই ঘনা বলেছিল তাহলে। ওরা ওপাশে পড়তেই সে টর্চ নিয়ে এগিয়ে এলো পাঁচিলের কাছে। মীনা ওপর থেকে দেখতে পাচ্ছিল ঘনার পুরুষালি কালো পিঠ, হাফ প্যান্টের নিচে বলিষ্ঠ লম্বা পায়ের আদল, বাবরি চুলে আলোছায়ার খেলা। চাঁদ হেলে যাওয়ায় পাঁচিলের সঙ্গে সমান্তরাল তার কালো লম্বা ছায়া। হঠাৎ দৃষ্টিবিভ্রম হয়, আর একটা সাপ নাকি !

জোছনায় কতোরকমের বিভ্রম হয় বলে মীনা চিরকাল শুনে এসেছে। দেখেওছে। গ্রামে থাকতে বাঁশঝাড়ে তক্ষক করুণ ডাকতো থেকে থেকে, আর বাঁশের নুয়ে পরা ডগা থেকে জোছনা ঝুললে ঠিক মনে হতো কোনো নতমুখী বধূ। নববিবাহের পর আত্মীয়বিচ্ছেদে ম্রিয়মাণ। এইরকম একটা রাতেই আকালু সাপুড়েকে উইঢিবি থেকে জোড়া কেউটে ধরতে দেখেছিল মীনা। কী জোরদার তার ঝিনুক আর কড়ি বসানো বীণের আওয়াজ ! এতো ফুলে যাচ্ছিল আকালুর গালদুটো, যেন বেলুনের মতো এখনি ফেটে যাবে। সুরের তালে তালে প্রবল মাথা নাড়া, মাঝে মাঝে দুভাগে ভাঙা এবং উঁচু হয়ে থাকা ডান হাটুতে চাপড় মেরে বাজখাঁই চিৎকার, 

--আঃ আঃ আঃ বক্কিলারে খা। মা বিষহরির দোহাই, তুই বক্কিলারে খা। 

কে বক্কিলা, কেনই বা তাকে খেতে হবে কিছুই বোঝা যায়নি, শুধু চাঁদের আলোয় দেখা গেছিল আকালু সরু শাবলে উই ঢিবি কিছুটা খুঁড়ে দুটো লম্বা কালো ছায়াকে লেজ ধরে চুবড়িতে ঢুকিয়ে দিল। ছায়াদুটোর কী প্রচন্ড গর্জন, যেন বেতের বোনা শক্তপোক্ত চুবড়ি ভেঙে বেরিয়ে আসবে তারা, ফিরে যাবে উইঢিবির নিরাপদ আশ্রয়ে। মীনা আকালুকে ঢিবি খুঁড়তে দেখেছিলো, কিন্তু তার বাবার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল বীণের সুরে মোহিত হয়ে কেউটে দুটো নাকি নিজেই সুরসুর করে চুবড়িতে ঢুকে পড়েছিল। মীনা বাবাকেও অবিশ্বাস করেনি, কারণ প্রান্তরে জোছনা ছড়িয়ে থাকলে ঠিক বেঠিক, সত্য মিথ্যের প্রভেদ করা খুব শক্ত হয়ে যায় এ সে চিরকাল দেখেছে। 

যেমন আজকে। পেছনে কাচের স্লাইডিং ডোর বন্ধ করে দিয়েছে মীনা। বেরোতে না পেরে ফুচকা থাবা তুলে ডেকে যাচ্ছে। আছড়ে পড়ছে কাচের গায়ে। যেন নীচ থেকে ওর প্রিয় মানুষের শরীরের গন্ধ আর সাপেদের কান্ডকারখানার আঁচ বন্ধ ঘরের ভেতরে ওর কাছে পৌঁছে গেছে।
ওদিকে নীচের রাস্তায় লেজে ভর দিয়ে প্রায় খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে দুই মহাসর্প। প্রচন্ড আশ্লেষে গলাগলি করছে দুটো শরীর, যেন একজন আর একজনকে ছাড়া এক মুহূর্তও থাকতে পারবে না। নিজেকে বন্ধনমুক্ত করে একজন যদি কিছুটা এগিয়ে গেল, অমনি ঝড়ের বেগে ছুটে গিয়ে তাকে প্যাঁচের পর প্যাঁচে জড়িয়ে ধরল অন্যজন। এর সঙ্গে অনবরত গর্জন আর বহুদূর থেকে ভেসে আসা সেই শান্ত আবছা শিসের মতো লি লি শব্দ। 

ঘনশ্যাম নীচে তখনও দাঁড়িয়ে কিনা মীনার খেয়াল নেই। ফুচকা ঘরের ভেতর উত্তেজনায় লাফিয়ে উঠছে বার বার সেটাও আর তাকে বিব্রত করছে না । তার অস্তিত্বের শেষ বিন্দু উজাড় করে মীনা সাপদুটোর নাচ দেখছিলো, কী তার অর্থ না বুঝেই। ওদের ছড়ানো মাথার পরেই যেখানে নমনীয় শরীর শুরু হয়েছে, প্রায় সেই লাবণ্যময় মোচড়ের জায়গাটি থেকে লেজের শেষ বিন্দুর কিছুটা আগে পর্যন্ত বাতাসে অনায়াসে ভাসিয়ে দিচ্ছে ওরা। এই সাদাটে আলোয় মনে হচ্ছে হাঁটু ভেঙে বসা দুই নর্তক নর্তকী, যাদের কোমরের ওপরের অংশ সর্বদা দোদুল্যমান। ওরা পরস্পরকে আলিঙ্গন করছে, কামড়াচ্ছে, দূরে সরে যাচ্ছে, আবার সরোষে ঢেউয়ের মতো আছড়ে পড়ছে পরস্পরের ওপর।

দেখতে দেখতে মীনাকে যেন ভুতে ভর করল। বাতাসের বেগ বেড়ে নাইটি কোথায় উড়ে যেতে চাইল, ঠান্ডা বাতাসে তার স্তনবৃন্ত পাথরের মতো শক্ত হয়ে উঠলো। বাড়ির নীচে জমা শুকনো দেবদারু পাতা বাতাসে উড়ে যাবার সরসরানি চন্দ্রবোড়াদের গর্জন ঢেকে দিল, আর দুরন্ত এক অজানা আকুলিবিকুলির মধ্যেই মীনার ডাইনে বাঁয়ে যেন ঝরে পড়তে লাগলো অজস্র ছোট বড় সাপ, কেউ বাদামি, কেউ সাদা, তো কেউ কুচকুচে কালো। কারো ফণা বড়, তো কারো ফণা ছোট, কারো লেজ ভোঁতা, কারো ছুঁচলো। ছাদ এবং গ্রিল ভেদ করে সোজা চাঁদের জিম্মা থেকে আসা সেইসব সাপেদের মধ্যে একটাই মিল। তাদের উজ্জ্বল ত্বকের ওপর কালো হলুদে আঁকা অজস্র দৃষ্টিহীন চোখ। 

মাথার যন্ত্রণাটা প্রচন্ড বেড়ে গেলে তারপর কী হলো মনে রাখা মুশকিল হয়ে পড়ে। শুধু একটা বুনো গন্ধ, তাতে গামার গাছের তলার উইঢিবি, ঢিবির ভেতরে অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা সাপেদের ঘ্রাণ। কী ভেবে গ্রীলের বাইরে মীনা উবুড় করে দিলো জোছনা ধোওয়া দুই নগ্ন হাতের পাতা। প্রায় অবশ আঙুলগুলির অতি কষ্টে ওঠানামায় পরিষ্কার হয়ে গেল সে কাউকে ডাকছে। নীচ থেকে কাউকে উঠে আসতে বলছে ছাদের সবচেয়ে কাছে নির্জন আর একা এই ব্যালকনিতে। 
হাতের মুদ্রায় মরণপণ আমন্ত্রণ পাঠাতে পাঠাতে মীনা হঠাত শিউরে উঠল, কারণ ওপরনীচ করা তার হাতের পাতাগুলোকে আবছা আলোয় দেখাচ্ছিল যেন অবিকল কালকেউটের প্রসারিত ফণা !

৪টি মন্তব্য:

  1. খুব ভাল লাগল,জাদুকরী লেখা। গল্পজুড়ে কেমন যেন একধরণের মায়াবী ছবি আঁকা,বর্ণিল সব তুলির আঁচড়। মাথা ঝিমঝিম করা,অলৌকিক মাধুরী মেশান বর্ণনা। অনেক ধন্যবাদ এমন একটা গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।

    উত্তর দিনমুছুন
  2. সর্পগন্ধা বানানে বাড়তি য-ফলা ব্যবহার হয়েছে। বানান বিভ্রাটে ব্লগ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

    উত্তর দিনমুছুন
  3. গল্পটির বিশেষত্ব এর চিত্রধর্মিতা। ঘটনা নয়, শুধু ম্যাজিক লন্ঠনের মতো দৃশ্যেরা আলো-অন্ধকারে পেরিয়ে যাচ্ছে ,
    রহস্যময়। ছবিগুলি যে মোহানাতে এসে মিলে গেলো, সেখানে শুরু হবে মানুষের গল্প। প্রাকৃত, নিয়তিতাড়িত রক্তমাংসের মানুষ। নিজেদের শিরার মধ্যে বহমান হিমোগ্লোবিনের মতো মানুষের কণা,

    জয় হোক ...

    উত্তর দিনমুছুন
  4. গল্পটিতে যে টেনশন তৈরি হয়েছে তা কিছুটা অনুভব করা গেল।

    ভালো গল্প। শেষের দিকটা অসামান্য।

    উত্তর দিনমুছুন